৪ ফেব্রুয়ারী, ২০১৩

কুরানে বিগ্যান (পর্ব-২৫): মুহাম্মদের মোজেজা তত্ত্ব - তিন


লিখেছেন গোলাপ

পর্ব ১ > পর্ব ২ > পর্ব ৩ > পর্ব ৪ > পর্ব ৫ > পর্ব ৬ > পর্ব ৭ > পর্ব ৮ > পর্ব ৯ > পর্ব ১০ > পর্ব ১১ > পর্ব ১২ > পর্ব ১৩ > পর্ব ১৪ > পর্ব ১৫ > পর্ব ১৬ > পর্ব ১৭ > পর্ব ১৮ > পর্ব ১৯ > পর্ব ২০ > পর্ব ২১ > পর্ব ২২ > পর্ব ২৩ > পর্ব ২৪

প্রতিটি ইসলাম বিশ্বাসী দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ছিলেন অভূতপূর্ব অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী। এ বিশ্বাস যে শুধুই এক ভিত্তিহীন অসত্য অতিকথন (Only a Myth), তা অতি সহজেই প্রমাণিত হয় মুহাম্মদের ব্যক্তি-মানস-জীবনী (Psycho-biography) গ্রন্থের পর্যালোচনায়। ইসলামের ইতিহাসের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য দলিল হলো এই গ্রন্থটি (কুরান); এই সেই গ্রন্থ যে গ্রন্থের প্রণেতা ও প্রবক্তা স্বয়ং মুহাম্মদ (আল্লাহ) এবং সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য এই দলিলেরই আলোকে কুরাইশ/অবিশ্বাসীদের সম্পূর্ণ যৌক্তিক দাবি ও চ্যালেঞ্জের মোকাবেলায় মুহাম্মদের অপ্রাসঙ্গিক জবাব, হুমকি, শাসানী, তাচ্ছিল্য ও ভীতি প্রদর্শনের আংশিক আলোচনা গত পর্বে করা হয়েছে। কুরাইশ/অবিশ্বাসীরা মুহাম্মদের কাছে তার নবুয়তের সাক্ষ্য রূপে আরও যে সমস্ত প্রমাণ হাজির করার আহ্বান জানিয়েছিলেন তা ছিল নিম্নরূপ: 

(৪) আযাব ত্বরান্বিত করার আহ্বান 

২২:৪৭-৪৮ 
অবিশ্বাসীদের দাবী: 
“তারা আপনাকে আযাব ত্বরান্বিত করতে বলে।”

অপ্রাসঙ্গিক জবাব ও হুমকি/ভীতি প্রদর্শন: 
“অথচ আল্লাহ কখনও তাঁর ওয়াদা ভঙ্গ করেন না। আপনার পালনকর্তার কাছে একদিন তোমাদের গণনার এক হাজার বছরের সমান। -এবং আমি কত জনপদকে অবকাশ দিয়েছি এমতাবস্থায় যে, তারা গোনাহগার ছিল। এরপর তাদেরকে পাকড়াও করেছি এবং আমার কাছেই প্রত্যাবর্তন করতে হবে।” 

>>> আল্লাহ কখনও তাঁর ওয়াদা ভঙ্গ করেন কি করেন না, সে প্রশ্ন তো কুরাইশরা এখানে করেননি বা জানতেও চাননি। কুরাইশরা মুহাম্মদের নবুয়তের প্রমাণস্বরূপ তাঁর আল্লাহর "আযাব ত্বরান্বিত করতে" আহ্বান করেছিলেন। 

২৯:৫৪-৫৫ 
অবিশ্বাসীদের দাবী ও মুহাম্মদের অপ্রাসঙ্গিক জবাব ও হুমকি: 
“তারা আপনাকে আযাব ত্বরান্বিত করতে বলে; অথচ জাহান্নাম কাফেরদেরকে ঘেরাও করছে। যেদিন আযাব তাদেরকে ঘেরাও করবে মাথার উপর থেকে এবং পায়ের নীচ থেকে। আল্লাহ বললেন, তোমরা যা করতে, তার স্বাদ গ্রহণ কর।”

৮:৩১-৩৪ 
অবিশ্বাসীদের দাবী: 
“আর কেউ যখন তাদের নিকট আমার আয়াতসমূহ পাঠ করে তবে বলে, আমরা শুনেছি, ইচ্ছা করলে আমরাও এমন বলতে পারি; এ তো পূর্ববর্তী ইতিকথা ছাড়া আর কিছুই -- তাছাড়া তারা যখন বলতে আরম্ভ করে যে, ইয়া আল্লাহ, এই যদি তোমার পক্ষ থেকে (আগত) সত্য দ্বীন হয়ে থাকে, তবে আমাদের উপর আকাশ থেকে প্রস্তর বর্ষণ কর কিংবা আমাদের উপর বেদনাদায়ক আযাব নাযিল কর।”

মুহাম্মদের জবাব ও হুমকি: 
“অথচ আল্লাহ কখনই তাদের উপর আযাব নাযিল করবেন না যতক্ষণ আপনি তাদের মাঝে অবস্থান করবেন। তাছাড়া তারা যতক্ষণ ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকবে আল্লাহ কখনও তাদের উপর আযাব দেবেন না। আর তাদের মধ্যে এমন কি বিষয় রয়েছে, যার ফলে আল্লাহ তাদের উপর আযাব দান করবেন না। অথচ তারা মসজিদে-হারামে যেতে বাধাদান করে, অথচ তাদের সে অধিকার নেই। এর অধিকার তো তাদেরই রয়েছে যারা পরহেযগার। কিন্তু তাদের অধিকাংশই সে বিষয়ে অবহিত নয়।”

>>> "আল্লাহ কখনই তাদের উপর আযাব নাযিল করবেন না যতক্ষণ আপনি তাদের মাঝে অবস্থান করবেন" - যদি তাইই হয়, তবে কেন মুহাম্মদ অবিশ্বাসীদেরকে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস ও বছরের পর বছর ধরে অভিশাপ, হুমকি ও ভীতি প্রদর্শন করে চলেছেন? ইমাম বুখারীর ভাষ্য মতে উক্ত আয়াতের শানে নজুল হলো আবু জেহেলের এক উক্তি! (৬:৬০:১৭১) 
“আনাস বিন মালিক হতে উদ্ধৃত
আবু জেহেল বলেছিলেন, ‘হায় আল্লাহ! এই (কুরান) যদি তোমার সত্য ভাষণের নমুনা হয় তবে আকাশ থেকে আমাদের উপর পাথর-বৃষ্টি বর্ষণ কর অথবা পাঠাও কোন কঠিন যন্ত্রণাদায়ক আযাব।’ তাই আল্লাহ নাযিল করলেন’, --কিন্তু আল্লাহ কখনই তাদের উপর আযাব নাযিল করবেন না যতক্ষণ আপনি তাদের মাঝে অবস্থান করবেন, -- (৮:৩৩-৩৪) "
- অনুবাদ লেখক 
“Narrated Anas bin Malik: -- Abu Jahl said, "O Allah! If this (Quran) is indeed the Truth from You, then rain down on us a shower of stones from the sky or bring on us a painful torment." So Allah revealed:-- "But Allah would not punish them while you were amongst them --”. 
আল্লাহর নামে মুহাম্মদের উল্টা-পাল্টা, অবান্তর, উদ্ভট ও হাস্যকর বাণী যে কোনোভাবেই স্রষ্টাপ্রদত্ত হতে পারে না, এ ব্যাপারে আবু জেহেল ছিলেন একেবারেই নিশ্চিত। তাই তিনি মুহাম্মদের উদ্দেশে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছিলেন! এর পরের অংশটি, "যতক্ষণ তারা ক্ষমা প্রার্থনা করবে--" একেবারেই অপ্রাসঙ্গিক! প্রশ্নকারী মুহাম্মদের (আল্লাহ) কাছে ক্ষমা প্রার্থনা চাচ্ছেন, এমন আলামত কি কোথাও ব্যক্ত করেছেন? অবশ্যই নয়! তাহলে? এহেন উদ্ভট ও অপ্রাসঙ্গিক জবাবের হেতু যে অপারগতা ও অক্ষমতা, তা বোঝা যায় অতি সহজেই! 

“অথচ তারা মসজিদে-হারামে যেতে বাধাদান করে, অথচ তাদের সে অধিকার নেই" - মুহাম্মদ কুরাইশদের বিরুদ্ধে এ সমস্ত মিথ্যা অভিযোগ, বিষোদগার ও জ্বালাময়ী বক্তব্য শুরু করেছিলেন মদিনায় এসে। কীসের প্রয়োজনে? 
১) রাতের অন্ধকারে বাণিজ্যফেরত নিরীহ কুরাইশ কাফেলার ওপর মুহাম্মদ ও তার সন্ত্রাসী/ডাকাত বাহিনীর চোরাগুপ্তা হামলার মাধ্যমে কুরাইশদের সর্বস্ব লুট (ডাকাতি), আরোহীকে খুন অথবা বন্দী করে নিয়ে এসে তাদের আত্মীয়-পরিজনের কাছ থেকে মুক্তিপণের মাধ্যমে ছেড়ে দেয়ার যে লাভজনক “অনৈতিক জীবিকাবৃত্তি” মুহাম্মদ ও তাঁর সহচররা শুরু করেছিলেন, তারই "বৈধতা" দেয়ার প্রয়োজনে! 
২) তার সন্ত্রাসী/ডাকাত বাহিনীর এহেন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ কুরাইশদের সর্বপ্রথম প্রতিরক্ষা যুদ্ধে (বদর যুদ্ধ) মুহাম্মদ ও তাঁর বাহিনী তাদেরই একান্ত নিকটাত্মীয়, পরিবার-পরিজন, পাড়া-প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে যে বর্বর-অমানুষিক-নৃশংসতার চূড়ান্ত উদাহরণ রেখেছিলেন, তারই বৈধতা দেয়ার প্রয়োজনে! 
৩) তার মক্কাবাসী সহচরদের (মুহাজির) তাদেরই আত্মীয়স্বজনদের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তোলার প্রয়োজনে! 
৪) কুরাইশ/অবিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে মুহাম্মদের যাবতীয় সন্ত্রাসী হামলা-খুন ও রাহাজানিকে বৈধতা দেয়ার প্রয়োজনে! 
এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো আইয়ামে জাহিলিয়াত ও হিজরত তত্ত্বে। 

(৫) ফেরেশতাদেরকে দেখানোর দাবী 

৬: ৮-৯ 
অবিশ্বাসীদের দাবী: 
‘তারা আরও বলে যে, তাঁর কাছে কোন ফেরেশতা কেন প্রেরণ করা হল না?’ 

মুহাম্মদের হুমকি/ভীতি প্রদর্শন: 
‘যদি আমি কোন ফেরেশতা প্রেরণ করতাম, তবে গোটা ব্যাপারটাই শেষ হয়ে যেত। অতঃপর তাদেরকে সামান্যও অবকাশ দেওয়া হত না। যদি আমি কোন ফেরেশতাকে রসূল করে পাঠাতাম, তবে সে মানুষের আকারেই হত| এতেও ঐ সন্দেহই করত, যা এখন করছে।’ 


৬:১৫৮
অবিশ্বাসীদের দাবী:
‘তারা শুধু এ বিষয়ের দিকে চেয়ে আছে যে, তাদের কাছে ফেরেশতা আগমন করবে কিংবা আপনার পালনকর্তা আগমন করবেন অথবা আপনার পালনকর্তার কোন নির্দেশ আসবে।’ 

মুহাম্মদের ভীতি প্রদর্শন: 
“যেদিন আপনার পালনকর্তার কোন নিদর্শন আসবে, সেদিন এমন কোন ব্যক্তির বিশ্বাস স্খাপন তার জন্যে ফলপ্রসূ হবে না, যে পূর্ব থেকে বিশ্বাস স্খাপন করেনি কিংবা স্বীয় বিশ্বাস অনুযায়ী কোনরূপ সৎকর্ম করেনি। আপনি বলে দিন: তোমরা পথের দিকে চেয়ে থাক, আমরাও পথে দিকে তাকিয়ে রইলাম।” 

১৫:৭-৮ 
অবিশ্বাসীদের প্রশ্ন: 
“--যদি আপনি সত্যবাদী হন, তবে আমাদের কাছে ফেরেশতাদেরকে আনেন না কেন?” 

জবাবে ভীতি প্রদর্শন: 
“-– আমি ফেরেশতাদেরকে একমাত্র ফায়সালার জন্যেই নাযিল করি। তখন তাদেরকে অবকাশ দেয়া হবে না।’

অবিশ্বাসীদের দাবী: 
‘যারা আমার সাক্ষাৎ আশা করে না, তারা বলে, আমাদের কাছে ফেরেশতা অবতীর্ণ করা হল না কেন? অথবা আমরা আমাদের পালনকর্তাকে দেখি না কেন? 

মুহাম্মদের অপ্রাসঙ্গিক জবাব: 
“তারা নিজেদের অন্তরে অহংকার পোষণ করে এবং গুরুতর অবাধ্যতায় মেতে উঠেছে।” 

>>> অবিশ্বাসীদের দাবি ও প্রশ্ন ছিল সুনির্দিষ্ট। কিন্তু প্রবক্তা মুহাম্মদের সমস্ত জবাবই অপ্রাসঙ্গিক। এ সমস্ত উদ্ভট পাল্টা দাবি/জবাবের মাধ্যমে মুহাম্মদ যে তাঁর অপারগতা ও অক্ষমতাই প্রমাণ করেছিলেন, তা বোঝা যায় অতি সহজেই। 

(৬) আল্লাহ্ কোনো মানুষের প্রতি কোনো কিছু অবতীর্ণ করেননি

৬:৯১ 
অবিশ্বাসীদের বিশ্বাস: 
“তারা আল্লাহ্কে যথার্থ মূল্যায়ন করতে পারেনি, যখন তারা বলল: আল্লাহ্ কোন মানুষের প্রতি কোন কিছু অবতীর্ণ করেননি।” 

অপ্রাসঙ্গিক জবাব: 
“আপনি জিজ্ঞেস করুন: ঐ গ্রন্থ কে নাযিল করেছে, যা মূসা নিয়ে এসেছিল? যা জ্যোতিবিশেষ এবং মানব মন্ডলীর জন্যে হোদায়েতস্বরূপ, যা তোমরা বিক্ষিপ্তপত্রে রেখে লোকদের জন্যে প্রকাশ করছ এবং বহুলাংশকে গোপন করছ। তোমাদেরকে এমন অনেক বিষয় শিক্ষা দেয়া হয়েছে, যা তোমরা এবং তোমাদের পূর্বপুরুষরা জানতো না। আপনি বলে দিন: আল্লাহ্ নাযিল করেছেন। অত:পর তাদেরকে তাদের ক্রীড়ামূলক বৃত্তিতে ব্যাপৃত থাকতে দিন।” 

>>> মুসা মানুষ ছিলেন এবং কুরাইশরা (আয়াতটি মক্কায়) মুসার অনুসারী ছিলেন না। অবিশ্বাসীরা যেখানে সুনির্দিষ্ট ভাবে বলছেন যে,  “আল্লাহ মানুষের প্রতি কোনো কিছু অবতীর্ণ করেননি।” তার জবাবে, "ঐ গ্রন্থ কে নাযিল করেছে, যা মুসা নিয়ে এসেছিল" প্রশ্নটি একেবারেই অবান্তর। 

(৭) "প্রমাণ চাই, প্রমাণ!" 

৪৫:২৫-২৬ 
অবিশ্বাসীদের দাবী: 
“তাদের কাছে যখন আমার সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ পাঠ করা হয়, তখন একথা বলা ছাড়া তাদের কোন মুক্তিই থাকে না যে, তোমরা সত্যবাদী হলে আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে নিয়ে আস।” 

অপ্রাসঙ্গিক জবাব: 
“আপনি বলুন, আল্লাহই তোমাদেরকে জীবন দান করেন, অতঃপর মৃত্যু দেন, অতঃপর তোমাদেরকে কেয়ামতের দিন একত্রিত করবেন, যাতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ বোঝে না।” 

অবশেষে মুহাম্মদের স্বীকারোক্তি: 

৭:১৮৮
“আপনি বলে দিন, আমি আমার নিজের কল্যাণ সাধনের এবং অকল্যাণ সাধনের মালিক নই, কিন্তু যা আল্লাহ চান। আর আমি যদি গায়বের কথা জেনে নিতে পারতাম, তাহলে বহু মঙ্গল অর্জন করে নিতে পারতাম, ফলে আমার কোন অমঙ্গল কখনও হতে পারত না। আমি তো শুধুমাত্র একজন ভীতি প্রদর্শক ও সুসংবাদদাতা ঈমানদারদের জন্য।”

৬:৫৭
“আপনি বলে দিন: আমার কাছে প্রতিপালকের পক্ষ থেকে একটি প্রমাণ আছে এবং তোমরা তার প্রতি মিথ্যারোপ করেছ। তোমরা যে বস্তু শীঘ্র দাবী করছ, তা আমার কাছে নেই। আল্লাহ্ ছাড়া কারো নির্দেশ চলে না।”

এবং, "আঙুর ফল টক" ও আরও গালি/তাচ্ছিল্য! 

৬:১১১ 
“আমি যদি তাদের কাছে ফেরেশতাদেরকে অবতারণ করতাম এবং তাদের সাথে মৃতরা কথাবার্তা বলত এবং আমি সব বস্তুকে তাদের সামনে জীবিত করে দিতাম, তথাপি তারা কখনও বিশ্বাস স্খাপনকারী নয়; কিন্তু যদি আল্লাহ্ চান। কিন্তু তাদের অধিকাংশই মুর্খ।” 

>>> ওপরোক্ত আলোচনা ও পর্যালোচনায় যে বিষয়টি স্পষ্ট, তা হলো অবিশ্বাসীরা বহুবার বিভিন্নভাবে মুহাম্মদকে তার নবুয়তের প্রমাণ হাজির করতে আহ্বান জানিয়েছিলেন। আর মুহাম্মদ প্রতিবারেই প্রমাণ হাজির করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। আশ্চর্যজনক হলেও কুরানের আলোকে নিরপেক্ষ বিচারে এ সত্যটাই স্পষ্ট। কিন্তু সমস্ত মুসলিম সমাজ এ সত্য মানতে নারাজ। তারা মনে-প্রাণে বিশ্বাস করেন যে, মুহাম্মদ ছিলেন "সুপার-হিউম্যান।" যে কোনো মসজিদ এবং মুসলিম সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে “মুহাম্মদের অলৌকিকত্বের" উদাহরণ হিসাবে যে বয়ানগুলো বারংবার শোনানো হয়, তা হলো নিম্নরূপ: 

মক্কায় মুহাম্মদ (৫৭০-৬২২ সাল) 

মুহাম্মদের সশরীরে মুহূর্তে আকাশভ্রমণ (মেরাজ) আর চন্দ্র দ্বিখণ্ডিতকরণ! 

মেরাজ! 

১৭:১ – “পরম পবিত্র ও মহিমাময় সত্তা তিনি, যিনি স্বীয় বান্দাকে রাত্রি বেলায় ভ্রমণ করিয়েছিলেন মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসা পর্যন্ত - যার চার দিকে আমি পর্যাপ্ত বরকত দান করেছি যাতে আমি তাঁকে কুদরতের কিছু নিদর্শন দেখিয়ে দেই। নিশ্চয়ই তিনি পরম শ্রবণকারী ও দর্শনশীল।”

১৭:৬০ – “--স্মরণ করুন, আমি আপনাকে বলে দিয়েছিলাম যে, আপনার পালনকর্তা মানুষকে পরিবেষ্টন করে রেখেছেন এবং যে দৃশ্য আমি আপনাকে দেখিয়েছি তাও কোরআনে উল্লেখিত অভিশপ্ত বৃক্ষ কেবল মানুষের পরীক্ষার জন্যে। আমি তাদেরকে ভয় প্রদর্শন করি। কিন্তু এতে তাদের অবাধ্যতাই আরও বৃদ্ধি পায়।”

৫৩:১৩-১৮ – “নিশ্চয় সে তাকে আরেকবার দেখেছিল, সিদরাতুলমুন্তাহার নিকটে, যার কাছে অবস্থিত বসবাসের জান্নাত। যখন বৃক্ষটি দ্বারা আচ্ছন্ন হওয়ার, তদ্দ্বারা আচ্ছন্ন ছিল।তাঁর দৃষ্টিবিভ্রম হয় নি এবং সীমালংঘনও করেনি। নিশ্চয় সে তার পালনকর্তার মহান নিদর্শনাবলী অবলোকন করেছে।”

>>> একবিংশ শতাব্দীর বিজ্ঞানের (Evidenced based knowledge) এই স্বর্ণযুগে, যখন মানুষ ১৪ কোটি মাইল দূরবর্তী মঙ্গল গ্রহে মহাকাশযান পাঠাচ্ছেন; কোটি কোটি আলোকবর্ষ দূরবর্তী গ্রহ/নক্ষত্র/গ্যালাক্সির খুঁটিনাটির কিনারা করছেন; এই চমকপ্রদ (magnificent) মহাবিশ্ব উৎপত্তির একদম আদিতে কী ঘটেছিল এবং পরবর্তী ১৩৫০ কোটি বছরে কী রূপে তার বিকাশ ঘটেছে - ইত্যাদি বিষয়ের চুলচেরা বিচার-বিশ্লেষণ করছেন; সেই একই যুগে অবস্থান করে যখন একদল মানুষের সাথে “১৪০০ বছর আগের এক আরব বেদুইন আলোর ধ্রুব গতিকে (speed of light is constant = 1,86,000 miles/second) কাঁচকলা দেখিয়ে স্ব-শরীরে কোটি কোটি আলোকবর্ষ দূরবর্তী স্থানে ‘মুহূর্তের মধ্যে’ পরিভ্রমণ শেষে আবার সশরীরে পৃথিবীতে ফিরে এসেছিলেন কি না, কিংবা সেই একই ব্যক্তির অঙ্গুলি হেলনে চন্দ্র বিদীর্ণ হয়েছিল কি না - তা নিয়ে বিতর্কে নামতে হয়, তখন তা হয় অতীব লজ্জাকর এক পরিস্থিতি! বিশ্বাস (perception with no evidence) মানব মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিচার-বিবেচনা ও বিশ্লেষণ শক্তিকে যে কী পরিমাণ "ভোঁতা" করতে পারে, তা অতি সহজেই উপলব্ধি করা যায়! 

একবিংশ শতাব্দীর এই যুগে, মস্তকের চুল থকে শুরু করে পায়ের তালু এবং শৌচাগার থেকে শুরু করে মহাশূন্য পর্যন্ত বিজ্ঞানের যাবতীয় সুবিধা ভোগ করেও যে সকল সুবিধাবাদী ধর্মবাজরা বিজ্ঞানের অবমাননা ও শ্লীলতাহানি করে কুযুক্তির মাধ্যমে ৭ম শতাব্দীর এক মানব সন্তানের যাবতীয় বাণী ও উদ্ভট দাবীর "বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা" হাজির করে প্রতিনিয়ত সাধারণ ধর্মপ্রাণ অজ্ঞ লোকদের বিভ্রান্ত করে চলেছেন; তাদের এই কুৎসিত কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানাবার ভাষা আমার জানা নেই। ধর্ম বিষয় বিতর্কে এই অধ্যায়টিতে আমি চরম বিরক্তি বোধ করি। হতাশা বোধ করি। সপ্তম শতাব্দীর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাবঞ্চিত এক আরব বেদুইনের উদ্ভট দাবিকে একবিংশ শতাব্দীর বিজ্ঞানের আলোকে যাচাই না করে আমি তাঁর দাবিকে তাঁরই সময় ও পরিবেশের আলোকে বিচার করাকেই শ্রেয় ও যথার্থ মনে করি। 

কুরানের আলোকে যে বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্ট, তা হলো প্রবক্তা মুহাম্মদের ঘোষণা অনুযায়ী এই অলৌকিক ঘটনাটি ঘটেছিল "রাত্রি বেলায়।" অবিশ্বাসীরা তো নয়ই, কোনো প্রত্যক্ষদর্শী মুহাম্মদ অনুসারীও সেখানে ছিলেন না। মুহাম্মদের এই অলৌকিকত্বের দাবিদার মুহাম্মদ, সাক্ষীও সেই একই ব্যক্তি মুহাম্মদ বিন আবদ-আল্লাহ! ঘটনাটি ৬২১ সালের। হিজরতের অল্প কিছু দিন আগে। প্রশ্ন হলো, যে মুহাম্মদ সুদীর্ঘ ১২ বছরে (৬১০-৬২১) কুরাইশ/অবিশ্বাসীদের বারংবার তাগাদা সত্বেও একটি প্রমাণও (মোজেজা) হাজির করতে পারেননি; যে মুহাম্মদ দিনের পরে দিন, মাসের পরে মাস, বছরের পরে বছর যাবত প্রমাণের পরিবর্তে যাদেরকে শুনিয়েছেন অপ্রাসঙ্গিক জবাব;  যে মুহাম্মদ সুদীর্ঘ এক যুগ অবধি কুরাইশ ও তাদের পূর্বপুরুষ/পূজনীয় দেবদেবীকে করেছেন উপহাস ও তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য, দিয়েছেন হুমকি, করেছেন ভীতি প্রদর্শন (বিস্তারিত পরবর্তী পর্বে); যে জনগোষ্ঠী মুহাম্মদ ইবনে আবদ-আল্লাহকে (আবদুল্লাহ) চিনে এসেছেন এক মিথ্যাবাদী, প্রতারক ও জালিয়াত হিসাবে; সেই একই জনগোষ্ঠী কোনো প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য ছাড়া রাতের অন্ধকারে চুপি চুপি মুহাম্মদের আকাশ ভ্রমণ (মেরাজ)-এর এহেন উদ্ভট ও হাস্যকর দাবিকে কী কারণে বিশ্বাস করবেন? এহেন সর্বজনবিদিত মিথ্যাবাদী-ভণ্ড-প্রতারকের দাবি তো নয়ই, কোনো চরম সত্যবাদী মানুষেরও এহেন উদ্ভট দাবিকে কি কোনো সুস্থ-বিবেকবান মুক্তচিন্তার মানুষ বিশ্বাস করতে পারেন? এহেন উদ্ভট 'কিসসা কাহিনীর' অবতারণা করে কুরাইশ/অবিশ্বাসীদেরকে তা বিশ্বাস করার আহ্বান জানানোকে  "সীমাহীন তামাসা” বলে আখ্যায়িত করা কি আদৌ অযৌক্তিক? মুহাম্মদের কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ কুরাইশরা কেন তাঁকে "উন্মাদ" রূপে আখ্যায়িত করেছিলেন, তা অতি সহজেই উপলব্ধি করা যায় এহেন উদ্ভট, অবাস্তব, বাস্তবতাবর্জিত কর্মকাণ্ডের মাধ্যমেই! 

"মেরাজ" নিয়ে মুক্তমনায় বেশ কিছু সমৃদ্ধ লেখা আছে। উৎসাহী পাঠকরা সে সমস্ত লেখা থেকে মেরাজের দাবির অসারতার অনেক প্রমাণ অনায়াসেই জানতে পারবেন। 

চন্দ্র দ্বিখণ্ডিতকরণ! 

৫৪:১ - কেয়ামত আসন্ন, চন্দ্র বিদীর্ণ হয়েছে। 

ব্যস! কুরানের এই "একটি মাত্র আয়াত।” এই একটি মাত্র বাক্যকে মনের মাধুরী মিশিয়ে ইসলামী চিন্তাবিদরা গত ১৪০০ বছর ধরে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে এমন উচ্চ স্তরে পৌঁছিয়েছেন যে, পৃথিবীতে এমন একজন মুসলমানও বোধ করি পাওয়া যাবে না (ও ছিল না), যে মুহাম্মদের এই 'অলৌকিক ঘটনার' কথা শোনেনি। কিন্তু বর্তমান বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের মানদণ্ডে চন্দ্র দ্বিখণ্ডিতের ঘটনাটি এতই অবাস্তব যে “বুদ্ধিমান” তাফসীরকারদের অনেকেই এ ঘটনাটি আদৌ বাস্তবে কখনো ঘটেছিল বলে মনে করেন না। তারা মনে করেন কেয়ামতের আগে এ ঘটনাটি ঘটবে!

মদীনায় (৬২২-৬৩২ সাল) 

স্বচক্ষে ‘তাদেরকে’ দ্বিগুন দেখছিল! আসমান থেকে ঘোড়ার পিঠে ফেরেশতা বাহিনী প্রেরণ! 

৩:১৩ – “নিশ্চয়ই দুটো দলের মোকাবিলার মধ্যে তোমাদের জন্য নিদর্শন ছিল। একটি দল আল্লাহর রাহে যুদ্ধ করে। আর অপর দল ছিল কাফেরদের এরা স্বচক্ষে তাদেরকে দ্বিগুণ দেখছিল। আর আল্লাহ যাকে নিজের সাহায্যের মাধ্যমে শক্তি দান করেন। এরই মধ্যে শিক্ষনীয় রয়েছে দৃষ্টি সম্পন্নদের জন্য।” 

৮:৪৩-৮:৪৪ – “ আল্লাহ্ যখন তোমাকে স্বপ্নে সেসব কাফেরের পরিমাণ অল্প করে দেখালেন; বেশী করে দেখালে তোমরা কাপুরুষতা অবলম্বন করতে এবং কাজের বেলায় বিপদ সৃষ্টি করতে। কিন্তু আল্লাহ্ বাঁচিয়ে দিয়েছেন। তিনি অতি উত্তমভাবেই জানেন; যা কিছু অন্তরে রয়েছে। আর যখন তোমাদেরকে দেখালেন সে সৈন্যদল মোকাবেলার সময় তোমাদের চোখে অল্প এবং তোমাদেরকে দেখালেন তাদের চোখে বেশী, যাতে আল্লাহ্ সে কাজ করে নিতে পারেন যা ছিল নির্ধারিত। আর সব কাজই আল্লাহর নিকট গিয়ে পৌঁছায়।” 

>>> সাক্ষী কে? আবার সেই একই কিচ্ছা! দাবিদার ও সাক্ষী একই ব্যক্তি! মুহাম্মদের এহেন দাবিকে অবিশ্বাসীদের বিশ্বাস করার কোনোই হেতু নেই! 

৩:১২৪-৩:১২৫ - “আপনি যখন বলতে লাগলেন মুমিনগণকে-তোমাদের জন্য কি যথেষ্ট নয় যে, তোমাদের সাহায্যার্থে তোমাদের পালনকর্তা আসমান থেকে অবতীর্ণ তিন হাজার ফেরেশ্তা পাঠাবেন। -অবশ্য তোমরা যদি সবর কর এবং বিরত থাক আর তারা যদি তখনই তোমাদের উপর চড়াও হয়, তাহলে তোমাদের পালনকর্তা চিহ্নিত ঘোড়ার উপর পাঁচ হাজার ফেরেশতা তোমাদের সাহায্যে পাঠাতে পারেন।

৯:২৬ – “ তারপর আল্লাহ নাযিল করেন নিজের পক্ষ থেকে সান্ত্বনা, তাঁর রসূল ও মুমিনদের প্রতি এবং অবতীর্ণ করেন এমন সেনাবাহিনী যাদের তোমরা দেখতে পাওনি। আর শাস্তি প্রদান করেন কাফেরদের এবং এটি হল কাফেরদের কর্মফল।” 

>>> এক দিকে মুহাম্মদের দাবি: আল্লাহ “হও বললেই তৎক্ষণাৎ তা হয়ে যায়![‘কুন ফা ইয়া কুন’(৩৬:৮২)], অন্য দিকে তাঁর আরেক দাবী: আল্লাহ আকাশ থেকে কাফের নিধনের জন্য "খুনি ক্যাডার বাহিনী" প্রেরণ করেন! কেন? "হও" তে কি আর কাজ হয় না! এই খুনি ক্যাডার বাহিনী ছাড়া কি আজরাইল (যমদূত) কাফেরদের জান কবজ করতে বিফলকাম হয়েছিলেন? সে কারণেই কি যমদূতকে সাহায্যের জন্য একটি বা দু'টি নয়, ৩০০০-৫০০০ ফেরেশতাকে মাঠে নামাতে হয়েছিল? তামাসার শেষ সীমা! আগের মতই মদিনার এসব অলৌকিকত্বের দাবীদার স্বয়ং মুহাম্মদ। সাক্ষীও তিনি। কোনো অবিশ্বাসী ও সাধারণ জনগণ এ ঘটনাগুলোর প্রত্যক্ষদর্শী কখনোই ছিলেন না। 

মুহাম্মদের সমসাময়িক মানুষগুলো মুহাম্মদকে নবী হিসাবে গ্রহণ না করার সপক্ষে আরও যে সমস্ত যুক্তির অবতারণা করেছিলেন তা ছিল নিম্নরূপ: 

৪৫:৩২ – “- যখন বলা হত, আল্লাহর ওয়াদা সত্য এবং কেয়ামতে কোন সন্দেহ নেই, তখন তোমরা বলতে আমরা জানি না কেয়ামত কি? আমরা কেবল ধারণাই করি এবং এ বিষয়ে আমরা নিশ্চিত নই।”

>>> “আমরা কেবল ধারণাই করি, এ বিষয়ে আমরা নিশ্চিত নই”- এর চেয়ে বড় সত্য আর কি কিছু হতে পারে? 

৪৫:২৪ - “তারা বলে, আমাদের পার্থিব জীবনই তো শেষ; আমরা মরি ও বাঁচি মহাকালই আমাদেরকে ধ্বংস করে। তাদের কাছে এ ব্যাপারে কোন জ্ঞান নেই। তারা কেবল অনুমান করে কথা বলে।” 

>>> এতে কী কোনো সন্দেহ আছে? অমোঘ মহাকালকে কে অতিক্রম করতে পারে? 

৪৩:২০ - “তারা বলে, রহমান আল্লাহ ইচছা না করলে আমরা ওদের পূজা করতাম না।” 

>>> মুহাম্মদ অসংখ্যবার দাবি করেছেন যে, তাঁর আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া কোনো কিছুই সাধিত হয় না (পর্ব-২০)! তাঁর আল্লাহ যা ইচ্ছা তা-ই করেন! তাঁর সে দাবীর পরিপ্রেক্ষিতে কুরাইশদের জবাব কি আদৌ অযৌক্তিক? 

৪৩:২২ - “বরং তারা বলে, আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে পেয়েছি এক পথের পথিক এবং আমরা তাদেরই পদাংক অনুসরণ করে পথপ্রাপ্ত।”

>>> পৃথিবীর প্রায় সকল মানুষই তার পৈতৃক ধর্মকেই অকাট্য জ্ঞান করে! কুরাইশরাও তাই করেছিলেন। 

স্বাভাবিক পরিবেশ ও পরিস্থিতিতে ধর্মান্তরিতের সংখ্যা অত্যন্ত নগণ্য। 

মুহাম্মদের মোজেজা তত্বের সংক্ষিপ্তসার: 

১) অবিশ্বাসীরা বহুবার বিভিন্নভাবে মুহাম্মদকে তাঁর নবুয়তের প্রমাণ হাজির করতে বলেছিলেন। তাঁদের প্রশ্ন ও দাবি ছিল সম্পূর্ণ যৌক্তিক। বিনা প্রমাণে কেন তাঁরা মুহাম্মদকে নবী হিসাবে মেনে নেবেন? বিশেষ করে যখন মুহাম্মদের প্রচারে তাঁরা কোনো নতুনত্বই খুঁজে পাননি ('পুরাকালের উপকথা'!)? 

২) প্রবক্তা মুহাম্মদের সমস্ত জবাবই ছিল অপ্রাসঙ্গিক বাক্য বিনিময়। মুহাম্মদ তাঁর নবুয়তের সপক্ষে শুধু যে কোনো প্রমাণই হাজির করতে পারেননি, তাইই নয়, তাঁর জবাবে ছিল তাচ্ছিল্য, হুমকি ও ভীতি প্রদর্শন। ফলস্বরূপ মক্কার সুদীর্ঘ ১২-১৩ বছরের নবী জীবনে ১২০-১৩০ জনের বেশি মানুষকে তাঁর অনুসারী করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। আর সেই অনুসারীদের প্রায় সবাই ছিলেন সমাজের নিম্নশ্রেণীর। কিছু ছিল তার পরিবার সদস্য। কিছু তার আত্মীয়-স্বজন। আবু বকর ও ওমর ছাড়া আর কোনো বিশিষ্ট কুরাইশই সে তালিকায় ছিলেন না। একমাত্র খাদিজা বিনতে খুয়ালিদ (স্ত্রী) এবং হামজা ইবনে আবদ-আল মুত্তালিব (চাচা, মুহাম্মদের সমবয়েসী) ছাড়া তাঁর পরিবারের কোনো ঘনিষ্ঠ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ তাঁকে নবী হিসাবে স্বীকার করার কোনো কারণই খুঁজে পাননি। ইসলাম গ্রহণকালে আলী ছিলেন মুহাম্মদেরই পোষ্য, নয় বছর বয়েসী অপ্রাপ্ত বয়ষ্ক বালক! 

৩) ইসলামী এমন একটি মাধ্যমও খুঁজে পাওয়া যাবে না, যেখানে অবিশ্বাসীদের জনজীবন, শিক্ষা-সংস্কৃতি, আচার-ব্যবহার ইত্যাদি বিষয়কে অত্যন্ত অশ্রদ্ধায় হেয় প্রতিপন্ন করা না হয়। বিশেষ করে মুহাম্মদের সমকালীন সমাজের লোকদের। তাচ্ছিল্যভরে তাদেরকে বলা হয় 'আইয়ামে জাহেলিয়্যাত' (অন্ধকারের যুগ)। 'আইয়্যামে জাহেলিয়্যাত' অপবাদ দিয়ে মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা তাঁদের যতই হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করুন না কেন, সত্য হচ্ছে কুরাইশ/অবিশ্বাসীদের প্রশ্ন, দাবি ও যুক্তিগুলো ছিল সম্পূর্ণ যৌক্তিক। তাঁরা নির্বোধ ছিলেন না। 

৪) মুহাম্মদ পূর্ববর্তী নবীদের অনুরূপ [যা সকলেই দেখতে পায় যেমন মুসার লাঠি সাপ হয়ে বিচরণ বা পাথরের থেকে বারটি প্রস্রবণ অথবা ঈসার কাদামাটি দিয়ে তৈরি পাখিকে জীবন দান ও জন্মান্ধ/কুষ্টরোগী নিরাময়! যা সকলেই শুনতে পায় যেমন মাটির বাছুরের হাম্বা-হাম্বা শব্দ! যা সকলেই খেতে পায় (মান্না-সালওয়া) - ইত্যাদি (পর্ব -২৩)] "অলৌকিকত্ব" কখনোই হাজির করতে পারেননি। 

মুহাম্মদের যাবতীয় "মোজেজার কিসসা" ইসলামের হাজারো মিথ্যাচারের একটি। সত্য হলো, কুরাইশ/অবিশ্বাসীদের বারংবার আহ্বান সত্বেও মুহাম্মদ তাঁর নবুয়তের সপক্ষে একটি প্রমাণও হাজির করতে পারেননি! Not a single one! 

[কুরানের উদ্ধৃতিগুলো সৌদি আরবের বাদশাহ ফাহাদ বিন আবদুল আজিজ (হেরেম শরীফের খাদেম) কর্তৃক বিতরণকৃত বাংলা তরজমা থেকে নেয়া; অনুবাদে ত্রুটি-বিচ্যুতির দায় অনুবাদকারীর। কুরানের ছয়জন বিশিষ্ট অনুবাদকারীর পাশাপাশি অনুবাদ এখানে।]

(চলবে)

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন