৩১ ডিসেম্বর, ২০১২

ইসলামী ইতরামি: ঊনিশ-বিশ নেই


প্রথমে ইছলামীদের ক্রিসমাস 'উদযাপনের' কয়েকটি খবর:

১.

২.
ঈদ বা অন্য কোনও ইছলামী উৎসবের দিন মসজিদের পাশে গিয়ে ভিন্ন ধর্মের প্রচার করতে শুরু করলে কী ফলাফলটা কী হবে, তা তো সহজেই অনুমেয়। তবে ক্রিসমাসের প্রাক্কালে ইংল্যান্ডের সেইন্ট পল ক্যাথিড্রালের সামনে গিয়ে ইছলামীরা দিব্যি ধর্মপ্রচার করলো। ১.৪ মিনিটের ভিডিও।

৩.
চৌদি আজবে ঘরোয়াভাবে ক্রিসমাস পালনের প্রস্তুতি নিয়েছিল বিদেশীরা, কিন্তু আল্লাহর রহমতে তারা কামিয়াব হতে পারেনি। তাদেরকে আটক করা হয়েছে। 

৪.
শ'খানেক খ্রিষ্টান নির্মিতব্য চার্চের জন্য নির্ধারিত এলাকায় একত্র হয়েছিল ক্রিসমাস উদযাপনের লক্ষ্যে। সেখানে শ'দুয়েক মুছলিম হাজির হয়ে খ্রিষ্টানদের লক্ষ্য করে পচা ডিম ছুঁড়তে শুরু করে। অনেক জেনানাও তাতে অংশ নেয়। 

৫.
ইজরাইলে ক্রিসমাসের সময় এক দল মুছলিম চার্চে ঢুকে পড়ে খ্রিষ্টানদের লক্ষ্য করে ডিম ছুঁড়তে থাকে। বিশদ সংবাদ গুগল-অনুবাদে। 

৬. 
ইছলামবিরোধী চলচ্চিত্রের প্রতিবাদে যেমন প্রতিক্রিয়া হয় মুছলিমদের, 'মেরি ক্রিসমাস' শুনে তাদের প্রতিক্রিয়া হওয়া উচিত তার চেয়েও বেশি এক্সট্রিম। ৩.৩৩ মিনিটের ভিডিও।

৭. 
অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড়ো মসজিদ থেকে ফতোয়া জারি করা হয়েছিল: কাউকে 'মেরি ক্রিসমাস' বলে অভিনন্দন জানানো গুনাহর কাজ। পরে অবশ্য মসজিদের সাইট থেকে ফতোয়াটি সরিয়ে নেয়া হয়। 
(লিংকম্যান: সুকান্ত বিশ্বাস)

ওপরের ঘটনাগুলোর কোনও একটি যদি ঘটানো হতো ইছলামী উৎসবের সময়, সেটার পরিণতি কী হতে পারতো, কল্পনা করে নিন। এবারে অন্যান্য সংবাদ: 

৮.
একটি কার্টুন: মেঘের ওপরে আপেল গাছের তলে দাঁড়িয়ে আছে আদম আর হাওয়া। তাদের সামনে ফেরেশতার পাখা ও জ্যোতিশ্চক্র সম্বলিত এক মিসরীয় তাদেরকে বলছে, 'গণভোটের পক্ষে ভোট দিলে তাদেরকে কখনওই বেহেশত থেকে বহিষ্কার করা হতো না।' এই কার্টুনে আহত ধর্মানুনুভূতির ধারকেরা মামলা দায়ের করেছে কার্টুনিস্টের বিরুদ্ধে। 

৯.
ইসলাম ধর্ম সংশোধনের পরামর্শ দিয়ে টুইট করার অভিযোগে চৌদি আজবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এক বুদ্ধিজীবীকে। 

১০.
ইছলামী শিক্ষার পরিপন্থী বলে বিল্ট-ইন ক্যামরা সম্বলিত মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ইছলামী যোদ্ধাদের গ্রুপ তালিবান। 

১১.
স্কুলের ড্রেস-কোড সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত থাকা সত্ত্বেও গ্রিসে একটি মুছলিম পরিবার স্কুলের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা করেছে, কারণ স্কুল তার মেয়েকে হিজাব পরতে দিচ্ছে না। বুঝি না, এরা মেয়েকে মাদ্রাসায় না পাঠিয়ে কাফেরদের স্কুলে পাঠায় কেন? 

১২.
চৌদি আজবে ইছলামকে অপমান করার অভিযোগে এক ওয়েব পোর্টালের সম্পাদকের মৃত্যুদণ্ড হতে পারে।

১৩.
'আল্লাহপাক ইহুদিদের বংশবৃদ্ধি রোধ করতে চান এবং তিনি ইহুদি নারীদের সন্তানজন্মদানঅক্ষম (sterilized) বানিয়ে দেয়াটা সমর্থন করেন' - টিভিতে বললো তিউনিসিয়ার ইমাম। 

১৪.
এশিয়া-আফ্রিকার লক্ষ-কোটি মুসলিম অনাহারে-অর্ধাহারে দিনযাপন করে, তবে মুছলিমরা বিশ্বব্যাপী মিলিয়ন-মিলিয়ন ডলারের মসজিদ বানাতে ব্যগ্র। এবার তারা এক বিলিয়ন (হ্যাঁ, বিলিয়ন) ডলার ব্যয় করবে নবীজিকে নিয়ে সাতটি মুভির একটি সিরিজ বানানোর পেছনে। কাফেরদের বানানো সেই বিতর্কিত ছবির উত্তর হিসেবে। অবস্থাদৃষ্টে এটাই প্রতীয়মান হয়ে ওঠে, অনাহারকিল্ষ্ট মানুষের চেয়ে নবীর ন্যাংটো পশ্চাদ্দেশ তাদেরকে অনেক বেশি পীড়িত করে।

১৫.
মিসরবাসী খ্রিষ্টানদের উদ্দেশে শান্তিকামী ও সহনশীল মুছলিম আহ্বান: "যে কোনও একটি বেছে নাও: হয় ইছলাম, নয় মৃত্যু।" আটচল্লিশ সেকেন্ডর ভিডিও। 

১৬.
'আমরা প্রয়োজনে ভীতি প্রদর্শন করে বিধর্মীদের নিয়ে আসবো ইছলামের পথে। তবে আমাদের কাউকে অন্য ধর্মে দীক্ষিত করলে তোমাদের খবরাছে!' মুছলিমকে ধর্মান্তরিত করার অভিযোগে খ্রিষ্টান ধর্মযাজক গ্রেপ্তার। 

১৭.
ফেসবুকে ইশ্বরের অস্তিত্ব বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে স্ট্যাটাস দেয়ার 'অপরাধে' ইন্দোনেশীয় একজনের জেল হলো আড়াই বছরের। আবার সেই দেশেই মুছলিম মোল্লারা একাধিক শিশুকে যৌন নির্যাতন করলেও তাদের আটক পর্যন্ত করা হয় না। ইছলামী দেশ বলে কথা! 

নিচের খবর দুটো ঠিক ইতরামি নয়, বলা যায় - ইছলামী বিনুদুন। 

১৮.

১৯.
আজানের সময় বিমান উড্ডয়ন নিষিদ্ধ করেছে ইরান। এ ব্যাপারে ধর্মকারীর লেখক লুক্স মন্তব্য করেছেন: শরিয়া আইন বেশিদিন থাকলে মানুষ পাগল হইতে বাধ্য।

চিত্রপঞ্চক - ৩৮

শেষের ছবিটা একটু ইয়ে-টাইপ। অতএব ইমোটা খিয়াল কৈরা! 

পাঠিয়েছেন টোস্টার
(ছবি দেখা না গেলে বিকল্প লিংক) 

(ছবি দেখা না গেলে বিকল্প লিংক)

ইসলামে বর্বরতা: নারী-অধ্যায় - ১৪


লিখেছেন আবুল কাশেম

পর্ব ১ > পর্ব ২ > পর্ব ৩ > পর্ব ৪ > পর্ব ৫ > পর্ব ৬ > পর্ব ৭ > পর্ব ৮ > পর্ব ৯ > পর্ব ১০ > পর্ব ১১ > পর্ব ১২ > পর্ব ১৩

হিল্লা বিবাহ

এবার আমরা দৃষ্টি দেব ইসলামের আরও একটি বর্বর বিবাহপ্রথার ওপর। অনেকেই হয়ত এ ব্যাপারে কিছু না কিছু জেনে থাকবেন - কারণ গ্রামবাংলায় এই নির্মম ইসলামী প্রথাটি এখনও এই একবিংশ শতাব্দীতেও বহাল তবিয়তে আছে এবং অনেক পরিবারে অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যাপারটা হচ্ছে এই প্রকার:

যখন স্বামী তার স্ত্রীকে ইসলামী পন্থায় স্থায়ী (অর্থাৎ তিন তালাক) দিয়ে দিলো, তারপর সেই স্ত্রী তার ভূতপূর্ব স্বামীর জন্য সম্পূর্ণ হারাম হয়ে যাবে। স্বামী আর কিছুতেই সেই স্ত্রীর সাথে পুনরায় স্বাভাবিক সম্পর্ক স্থাপন করতে পারবে না; এমনকি সেই স্ত্রীকে বিবাহও করতে পারবে না। তবে এর মাঝে হেরফের আছে। তা হচ্ছে এই যে, ঐ তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীকে অন্য কোনো পুরুষের সাথে বিবাহে বসতে হবে। তারপর তাদের মাঝে যৌনসঙ্গম হতে হবে। এরপর এই দ্বিতীয় অস্থায়ী স্বামী মহিলাটিকে তিন তালাক দেবে। মহিলাটি তিন মাসের ইদ্দত করবে এবং যদি সে গর্ভবতী না হয়, তখনই তার ভূতপূর্ব স্বামী তাকে আবার বিবাহ করতে পারবে। যদি মহিলাটি অস্থায়ী স্বামী দ্বারা গর্ভবতী হয়ে পড়ে, তবে এব্যাপারে ইসলামী কায়দা পালন করতে হবে, যা আগেই লেখা হয়েছে। অনেক ইসলামীই এ ব্যাপারে খুব উৎফুল্লতা প্রকাশ করেন এই বলে যে: দেখুন, ইসলাম কতনা ন্যায় বিচার করছে। এই হিল্লা প্রথা মহিলাকে আরও একটি সুযোগ দিল অন্য স্বামীর ঘর করার। ইসলামীরা এও বলেন যে, এই হিল্লা প্রথার জন্যই পুরুষেরা যত্রতত্র তালাক দেওয়া থেকে বিরত থাকবে।

কিন্তু ইসলামীদের এই সব আবোলতাবোল কতই না হাস্যকর। স্বামী দিল স্ত্রীকে তালাক, কিন্তু তার ভুক্তভোগী স্ত্রীকে কেন আবার বিবাহ করতে হবে এক বেগানা পুরুষকে যদি তার ভূতপূর্ব স্বামী চায় তার পূর্বের স্ত্রীর সাথে একটা সমঝোতা করে নিতে? কিসের বাধা এতে? কেনই বা ভূতপূর্ব স্ত্রীকে আবার যৌনসম্পর্ক স্থাপন করতে হবে অন্য এক পুরুষের সাথে? এটা কি স্ত্রীকে সাজা দেওয়া হল না? এই সাজা তো স্বামীরই পাওয়া উচিত ছিল। কারণ সেই তো তালাক দিয়েছিল।

যাই হোক, আমরা এখন দেখব কোরান ও হাদিস কী বলছে হিল্লা বিবাহ সম্পর্কে।
কোরান সুরা বাকারা আয়াত ২৩০ (২:২৩০):
তারপর যদি সে স্ত্রীকে (তৃতীয় বার) তালাক দেয়া হয়, তবে সে স্ত্রী যে পর্যন্ত তাকে ছাড়া অপর কোন স্বামীর সাথে বিয়ে করে না নেবে, তার জন্য হালাল নয়। অতঃপর যদি দ্বিতীয় স্বামী তালাক দিয়ে দেয়, তাহলে তাদের উভয়ের জন্যই পরস্পরকে পুনরায় বিয়ে করতে কোন পাপ নেই, যদি আল্লাহ্‌র হুকুম বজায় রাখার ইচ্ছা থাকে। আর এই হল আল্লাহ্‌ কর্তৃক নির্ধারিত সীমা, যারা উপলব্ধি করে তাদের জন্য এসব বর্ণনা করা হয়।
এখানে উল্লেখযোগ্য ব্যাপার হল যে, হিল্লা বিবাহে অস্থায়ী স্বামীর সাথে মহিলাকে যৌনসঙ্গমে লিপ্ত হতেই হবে। তা না হলে এই হিল্লা বিবাহ সহিহ হবে না। যদি নামকা ওয়াস্তে এই হিল্লা বিবাহ, যা সাধারণত মসজিদের ইমাম অথবা কর্মচারীর সাথে হয়ে থাকে, তবে তা মোটেই সিদ্ধ হবে না। এই আইন যেহেতু কোরানে লিখিত, তাই বিশ্বের কারও সাধ্যি নাই যে এই আইনের রদবদল করে। এর রদের জন্য দুনিয়ার সমগ্র মুসলিম নারীরা জীবন দিয়ে ফেললেও কারও কিছু করার নেই। এটা হচ্ছে এমনই পরিস্থিতি, যেমন হচ্ছে ইসলামী উত্তরাধিকারী আইন—যথা মেয়ে পাবে ছেলের অর্ধেক। এই আইনও চিরকালের। বিশ্বের কোন শক্তি নেই আল্লাহ্‌র এই আইনের পরিবর্তন করতে পারে।

হিল্লা বিবাহের ব্যাপারে দেখা যাক একটি হাদিস।
মালিকের মুয়াত্তা: হাদিস ২৮. ৭. ১৮
ইয়াহিয়া—মালিক—ইয়াহিয়া ইবনে সাইদ—আল কাশিম ইবনে মুহাম্মদ থেকে। ইয়াহিয়া বললেন রসুলুল্লাহর স্ত্রী আয়েশা (রঃ) কে বলা হল: এক স্বামী তার স্ত্রীকে স্থায়ীভাবে তালাক দিয়েছে। সেই স্ত্রী অন্য এক পুরুষকে বিবাহ করল। সেই পুরুষ মহিলাকে তালাক দিয়ে দিল। মহিলাটির আগের স্বামী তার তালাক দেওয়া স্ত্রীকে পুনরায় বিবাহ করতে পারবে কি না? বিবি আয়েশা উত্তর দিলেন ততক্ষণ হবে না যতক্ষণ না সে মহিলাটি ঐ পুরুষটির সাথে যৌন সঙ্গমের মিষ্টি স্বাদ উপভোগ করেছে।
এই হচ্ছে হিল্লা বিবাহের মর্মকথা।

মুসলিম নারীদের যৌনসঙ্গম উপভোগ করার অধিকার আছে কি?

আশ্চর্যের ব্যাপার হল, ইসলাম স্বীকার করে নিয়েছে যে, অন্যান্য নারীদের মত মুসলিম নারীদেরও যৌনক্ষুধা রয়েছে এবং সেই ক্ষুধার নিবৃত্তির প্রয়োজন। কিন্তু এ ব্যাপারে আল্লাহ্‌ বড়ই সজাগ এবং অতিশয় কৃপণ। ইসলাম কোনোমতেই চায় না যে, মুসলিম নারীদের দমিত রাখা যৌনক্ষুধা বিস্ফোরিত হোক। তাই তো মুসলিম নারীদের যৌনাঙ্গ ও শরীরের প্রতি এত তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দিতে হচ্ছে। এই জন্যই মুসলিম নারীর যৌনতার ব্যাপারে এত ঢাক ঢাক গুঢ় গুঢ় - যেন কোনোক্রমেই একজন মুসলিম নারী তার ইচ্ছেমত তার যৌনতা উপভোগ করতে না পারে। সেই জন্যেই না করা হয়েছে কত অমানুষিক বর্বর শারিয়া আইনকানুন, যার একমাত্র কারণ - যেমন করেই হোক, নারীর এই দুর্নিবার ক্ষুধাকে চেপে রাখতেই হবে।

কিন্তু অন্যায় যে আরও ব্যাপক। আমরা দেখেছি, শারিয়া আইন বলছে চাহিবামাত্র স্ত্রীকে তার দেহদান করতে হবে স্বামীকে। কিন্তু এই নিয়মটা স্ত্রী তার স্বামীর ওপর প্রয়োগ করতে পারবে না। একজন মুসলিম স্ত্রীকে অপেক্ষা করতে হবে, কখন তার স্বামী তার (স্ত্রীর) যৌনক্ষুধা মেটাতে প্রস্তুত - অর্থাৎ স্ত্রী চাইলেই স্বামীর কাছে যৌনসঙ্গম আশা করতে পারবে না। স্ত্রীর তীব্র যৌনক্ষুধা জাগলেও সে তা মুখ ফুটে স্বামীকে জানাতে পারবে না। যৌনউপভোগের একমাত্র নায়ক ও পরিচালক হচ্ছে স্বামী। স্ত্রী হচ্ছে মেঝেতে পড়ে থাকা চাটাই। স্বামী সেই চাটাইয়ে বীর্যপাত করলেই যৌনসঙ্গম সমাপ্ত হয়ে গেল। মোটামুটি এইই হল ইসলামী যৌনসঙ্গম। এখানে নারীর ভূমিকা নিতান্তই নগণ্য - একেবারেই নেই বলা চলে। যেখানে স্বামীকে যৌনসঙ্গমের কত ব্যবস্থাই ইসলাম দিয়েছে, যথা এক সাথে চার স্ত্রী, অসংখ্য যৌনদাসী, অগণিত যুদ্ধবন্দিনী…ইত্যাদি; সেখানে স্ত্রীকে সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করতে হচ্ছে মাত্র একজন পুরুষের ওপর - তার স্বামী, আর কারও ওপর নয়। কোনো মুসলিম নারীর কি এমন বুকের পাটা আছে যে, শারীয়া আইন অমান্য করে তার ইচ্ছামত যৌনক্ষুধা মেটাবে? এই কাজ করলে যে তাকে পাথর মেরে হত্যা করা হবে!

আসুন আমরা এখন দেখি শারিয়া আইন কি বলছে মুসলিম নারীদের যৌন ক্ষুধা নিয়ে।
শারিয়া আইন এম ৫.২ (উমদাত আল সালিক, পৃঃ ৫২৫, ইমাম গাজ্জালী হতে):
স্বামী তার স্ত্রীর সাথে সঙ্গম করবে চার রাতে এক বার। কেননা স্বামীর হয়ত চার বিবি থাকতে পারে। স্ত্রীকে এর জন্য এই দীর্ঘ অপেক্ষা করতেই হবে। যদি সম্ভব হয় তবে স্বামী এর চাইতে অধিক অথবা কম সঙ্গমও করতে পারে। এমন ভাবে স্ত্রীর সঙ্গমের চাহিদা মিটাতে হবে যেন স্ত্রী চরিত্রবতী থাকে, তার যৌন ক্ষুধা আর না জাগে। এর কারণ এই যে, স্বামীর জন্য এটা বাধ্যতামূলক যে তার স্ত্রী যেন সর্বদা চরিত্রাবতী থাকে।
(চলবে)

আমার বোরখা-ফেটিশ – ৭১


(ছবি দেখা না গেলে বিকল্প লিংক)

ফ্যাশনদুরস্ত বোরখা: পাঠিয়েছেন সাদিয়া সুমি
(ছবি দেখা না গেলে বিকল্প লিংক)

যুক্তির কাঠগড়ায় কুরান-হাদিস - ০২


লিখেছেন রাইট হার্ট

যুক্তি – ৩ 

ইসলামে বর্ণিত সৃষ্টিকর্তা ‘আল্লাহ’ কর্তৃক প্রেরিত কুরানের দু'টি আয়াত দেখুন ~
So blessed is Allah, the best of creators.
এ সবই আল্লাহর আশীর্বাদ, যিনি সৃষ্টিকর্তাদের মাঝে অন্যতম।
(Quran 23:14) 
Do you call upon Ba'l and leave the best of creators – 
তোমরা কি বা’আল দেবতার এবাদত করবে এবং সর্বোত্তম স্রষ্টাকে পরিত্যাগ করবে।
(Quran 37:125) 
উক্ত আয়াতদ্বয়ে ব্যবহৃত আরবি শব্দ l-khāliqīna এর ইংলিশ প্রতিশব্দ Creators অর্থাৎ সৃষ্টিকর্তার বহুবচন। এখানে আল্লাহ নিজেই নিজেকে অন্যান্য সৃষ্টিকর্তা থেকে শ্রেষ্ঠ বা অন্যতম বলে স্বীকার করে নিচ্ছেন। প্রশ্ন হল, সৃষ্টিকর্তা আসলে কতজন? নাকি ‘আল্লাহ’ খ্রিষ্টানদের ‘গড’ বা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ‘কৃষ্ণ’-র অস্তিত্বও স্বীকার করে নিচ্ছেন? বিষয়টার সহজ ব্যাখ্যা মেলে যদি ধরে নেই, মুহম্মদ তার সৃষ্ট চরিত্র ‘আল্লাহ’-কে তৎকালীন মূর্তিপূজক সমাজে প্রতিষ্ঠা পাবার জন্য আল্লাহকে দিয়েই নিজের বাণী আনিয়েছেন যে উক্ত ‘আল্লাহ’ চরিত্র অন্যান্য পূজিত দেবতা বা ঈশ্বর থেকে শ্রেষ্ঠ, অন্যতম! 

যুক্তি - ৪ 
যারা প্রার্থনা করে, তাদের প্রার্থনা কবুল করে নেই, যখন আমার কাছে প্রার্থনা করে। কাজেই আমার হুকুম মান্য করা এবং আমার প্রতি নিঃসংশয়ে বিশ্বাস করা তাদের একান্ত কর্তব্য।
(Quran 2:186) 
উক্ত আয়াত অনুসারে, আল্লাহ বলেছেন যে, তাঁর কাছে কোনো বিষয়ে প্রার্থনা করলে তা তিনি কবুল করে নেন। ধরে নিতে পারি, ইসলামে বর্ণিত সৃষ্টিকর্তা ‘আল্লাহ’ মিথ্যা বলেন না, ফলে কুরানের বাণীতেও তিনি কিছুই মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন না! শর্ত শুধু একটাই যে, তাঁর উপর পূর্ণ বিশ্বাস স্থাপনসহ তাঁর নির্দেশিত কুরানের বাণী মেনে চলা। এখন কথা হল, আল্লাহ কি তাঁর এই প্রতিশ্রুতি রাখতে প্রকৃতপক্ষেই সক্ষম? কেউ যদি শর্ত পূরণ করে ৩০০ বছর বেঁচে থাকার প্রার্থনা করে তবে কি তা মঞ্জুর হবে? আল্লাহর প্রিয় নবী মুহম্মদের কথাই ধরুন, যিনি মারা গিয়েছেন কোন পুত্রসন্তান না রেখেই, আপনার কি মনে হয় তিনি সন্তানের জন্যে আল্লাহর কাছে আর্জি জানান নি? আল্লাহর প্রিয় হয়েও যখন তাঁর প্রার্থনা পূরণ হয়নি, তখন আপনি কি করে ধরে নিচ্ছেন, আল্লাহ তাঁর প্রতিশ্রুতি রাখতে সক্ষম ! বস্তুত দেখা যাচ্ছে আল্লাহ এক মিথ্যাবাদী চরিত্র! 

যুক্তি - ৫ 

আল্লাহ দাবি করেছেন যে, পৃথিবীতে যত প্রাণী রয়েছে, প্রত্যেকেই মানুষের মতন একেকটি কমিউনিটি শ্রেণীবদ্ধভাবে বাস করে । আয়াতটি দেখুন ~ 
And there is no creature on [or within] the earth or bird that flies with its wings except [that they are] communities like you. (umamun means ‘communities) 
আর যত প্রকার প্রাণী পৃথিবীতে বিচরণশীল রয়েছে এবং যত প্রকার পাখী দু’ ডানাযোগে উড়ে বেড়ায় তারা সবাই তোমাদের মতই একেকটি শ্রেণীবদ্ধ জীব । 
(Quran 6:38) 
হাস্যকর বিষয় হচ্ছে, একজন সৃষ্টিকর্তার কাছে জাগুয়ার (jaguar), লেপার্ড (leopard) বা মাকড়সাদের (spiders) ব্যাপারে কোনো তথ্যই ছিল না। ফলে তিনি জানতেন না যে বহু প্রাণী আছে, যারা শ্রেণী বা দলবদ্ধভাবে থাকতে পছন্দ করে না। এ ধরনের মিথ্যা উদ্ধৃতি থেকেই প্রতীয়মান হয় কুরান রচয়িতা মুহম্মদের অজ্ঞতা। কেননা এটা আশা করাই যায়, একজন সৃষ্টিকর্তা, যিনি এত নিখুঁত (আপাত দৃষ্টিতে) সৃষ্টি করতে সক্ষম, তিনি এমন প্রাইমারি লেভেলের জ্ঞান নিয়ে কথা বলবেন না!

ক্রিসমাসের পরে খুঁজে পাওয়া


 (ছবি দেখা না গেলে বিকল্প লিংক)

(ছবি দেখা না গেলে বিকল্প লিংক)

খাপখোলা ভাবনা - ০২


লিখেছেন সাইদুল আল্লাবাপ

৪.
মুছলমান নামের উত্পত্তি মুছল আর হেমান নামক দুটি আরবি শব্দ থেকে। এইখানে মুছল মানে হচ্ছে গদা বা লাঠি আর হেমান মানে হচ্ছে বোকা জন্তু। তত্কালীন আরবীরা ব্যবসা করতে পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় যাযাবরের মত ঘুরত। চরিত্রগত সমস্যা আরবিদের এখন যেমন আছে, তেমনি আগেও ছিল। নিজের বউ দেশে রেখে বউহীন আরবরা বিভিন্ন দেশে কাঁচ,আতর,পুথির মালা ইত্যাদি সওদা করত যে সবের ক্রেতা ছিল মহিলারা। নিজেকে সংযত করতে না পারা আরবরা প্রায়ই ক্রেতা মহিলাদের সাথে কাম সম্পর্ক সৃষ্টি করতে চাইত অনৈতিকভাবে। ফলশ্রুতিতে প্রায়শই আরবীয়রা ক্রেতা মহিলাদের স্বামীদ্বারা মুছল বা লাঠির পেটা খেত হেমান বা বোকা জন্তুর মত। আরব দেশের প্রায় সকল পুরুষ শরীরে বয়ে বেড়াত সেই মুছলের পেটার দাগ আর দগদগে ক্ষত। সবদিক বিবেচনা করে একাধারে লেখক, কবিরাজ, যুদ্ধবাজ, চোদনবাজ হজরত মুহাম্মদ সিদ্ধান্ত নিলেন যে, নিজেদের ঐতিহ্য বজায় রাখার এবং মুছল ও হেমান দুই শব্দের চমত্কার সংমিশ্রন দিয়ে তৈরি করলেন দ্বীন ইছলাম অনুসারীদের জাতির নাম মুছলমান। সবাই বলেন খাউজুবিল্লাহ...

৫.
"যে ব্যক্তি কিবলা মুখী হয়ে আল্লাহর নামে আলেম ওলামা কর্তৃক ধর্ষিত হয়ে পায়ুপথে রক্ত ঝরালো, তার জন্যে রয়েছে জান্নাত-ই -গেলমান এবং নুনুকাটা শুভেচ্ছা।" (সুরা আল শিরিষ , আয়াত ৪২০)

৬.
- মুমিনের শরীরে আঁকা উল্কি কত প্রকার ও কী কী?
- কোনো অতিবাল মুমিন (অতীব আল-মুমিন) যদি তার নিজের শরীরে কিংবা গোপন অঙ্গে উল্কি আঁকে, তবে তা হারাম। তবে এর মধ্যে হালাল উল্কিও আছে। যেমন সানি লিওনের যৌনাঙ্গের উল্কি মুমিন শরীরে আঁকলে তা চরম হারাম। আর আল্লাহর অতি ছুট্ট কোকড়ানো বাল সমেত আল্লাহ চাবি থুক্কু আল্লাহ তালার যৌনাঙ্গ (যেহেতু আল্লাহ নারী নাকি পুরুষ, তা কেউ জানে না, তাই উভয়লিঙ্গ ধরাটাকে নিরাপদ মনে করি) অথবা মহাকামী এবং সমকামী হজরত মুহাম্মদের নাম সমেত হেরা পর্বতের গুহা সদৃশ্য গুয়ার উল্কি আঁকা ১০০% হালাল।... নারায়ে ফাক বীর (মহা রতিকর্ম বাজ ) আল্লাহ ফাক বার (শুক্রবার)।

৩০ ডিসেম্বর, ২০১২

নিত্য নবীরে স্মরি – ১০৭


(ছবি দেখা না গেলে বিকল্প লিংক

(ছবি দেখা না গেলে বিকল্প লিংক)

হা-হা-হাদিস – ৭৪


হে ঈমান্দার বান্দাসকল, তোমাদের জন্য অজস্র রসময় কথা গুপ্ত রহিয়াছে হাদিস শরিফে।
- সহীহ আল-ধর্মকারী
শুনেছি (সত্য-মিথ্যা সম্পর্কে নিশ্চিত নেই), ট্রেন চলাচল বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের একটি নিয়ম আছে: কোনও স্টেশনে যে ট্রেনটি পরে এলো, সেটি আগে আসা ট্রেনটির আগে ছাড়বে অর্থাৎ লাস্ট ইন ফার্স্ট আউট। মনে হয়, ইছলামের নবী এই নিয়মটির প্রবর্তক। কীভাবে? 

আমরা সকলেই জানি, ইছলাম - মানুষের পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান। তাই পা নামের অঙ্গটির কথাও ইছলাম ভোলেনি। নবীজি জুতা পরিধানের ছহীহ নীতিমালাও জারি করে গেছে। যে পায়ের জুতো প্রথমে পরবেন (অর্থাৎ ডান পায়ের), সেই জুতো খুলবেন বাম পায়ের জুতো খোলার পর। হায়রে! প্রত্যেক মানুষের জুতা পরা ও খোলা নিয়েও আল্যার এতো মাথাব্যথা! 

Narrated By Abu Huraira: Allah's Apostle said, "If you want to put on your shoes, put on the right shoe first; and if you want to take them off, take the left one first. Let the right shoe be the first to be put on and the last to be taken off."

ঈশ্বর অপেক্ষা বিস্কুট শ্রেয় ও জনপ্রিয়ও বটে


(ছবি দেখা না গেলে বিকল্প লিংক)

ইসলাম ও শাশ্বত প্রেম


লিখেছেন লুক্স

সাঈদীর প্রেমালাপ শুনে লজ্জা পেয়েছি, কিন্তু মোটেও অবাক হইনি। অবাক হওয়ার আসলেই কিছু নেই। সাঈদীর মতো ইসলামের একজন মৌলবাদী নেতা মাত্রই তার জীবনে অনেকগুলো যৌন কেলেংকারী থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। কারণ প্রেম, পরকীয়া এবং বহুবিবাহ ইসলামে সুন্নত। 

ইসলামের প্রবর্তক মোহাম্মদও এর কোনটি থেকেই দূরে ছিলেন না। সাঈদী বা যে কোনো একজন ক্ষমতাবান মুসলমান মানেই মোহাম্মদের ব্যক্তিগত জীবন অনুসরণ করবেন এবং ইসলামে অনুমদিত নারী ভোগের সুবিধাগুলো ভোগ করবেন, এটাই স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে সাঈদীও মোহাম্মদকে অনুসরণ করেছেন বা সুন্নত পালন করেছেন মাত্র।

ইসলামে যুদ্ধবন্দী নারীকে ভোগ করা অনুমোদিত। মোহাম্মদ নিজেও এর সুবিধা ভোগ করেছিলেন। একইভাবে ১৯৭১-এ মুক্তিযুদ্ধের সময় সাঈদী সহ অন্যান্য রাজাকাররা বাংলাদেশের অসংখ্য নারীকে ধর্ষণ করে মোহাম্মদের প্রদর্শিত পথই অনুসরণ করেছিলেন মাত্র। 

উম্মে হানির সাথে মোহাম্মদের পরকীয়া প্রেমের ঘটনা ইসলামের ইতিহাস থেকে আমরা সবাই জানি। সাঈদী আর তার স্ত্রীর মধ্যকার কথোপকথনে সাঈদীর পরনারীর সাথে সম্পর্কের সত্যতা প্রমান হয়। ঠিক যেভাবে মোহাম্মদ হাফসা এবং আয়শার কাছে ধরা পড়েছিলেন, দাসীদের সাথে অবৈধ সম্পর্ক ও পরকীয়া প্রেমের ব্যাপারে। তেমনি সাঈদীও ধরা পড়েছেন তার সহজ সরল স্ত্রীর কাছে।

সাঈদীর ফাঁস হওয়া সবচেয়ে আলোচিত অডিও পর্বটি হচ্ছে তার নাতনীর সাথে টেলিফোনে যৌনবিষয়ক প্রেমালাপ। সাঈদী আর তার নাতনীর রোমাঞ্চকর প্রেমালাপ যখন শুনছিলাম, মনে হচ্ছিল ঠিক যেন মোহাম্মদ আর ৬ বছরের আয়শার মধ্যে প্রেমালাপ শুনছি। কী শাশ্বত এই মিল। ঠিক মোহাম্মদ যেভাবে চালাকি এবং প্রেমের অভিনয় করে শিশু আয়েশাকে বিয়ে করতে সমর্থ হয়েছিলেন, সাঈদীও যেন মোহাম্মদ হয়ে তার নাতনীর উপর ভর করেছেন। 

পাঠকদের কারো কারো কাছে সাঈদীর নিজের নাতনীর সাথে প্রেমকে অনৈতিক মনে হতে পারে। তেমন মনে হবার আসলে কোন কারণ নেই। কারণ, মোহাম্মদ তার নিজের পুত্রবধু জয়নবকেও বিয়ে করেছিলেন। 

প্রেম শাশ্বত আর প্রেমের ধর্ম ইসলাম। ইসলাম ও মানব জাতির ইতিহাসে সব ধরণের প্রেমের এক জলন্ত উদাহরণ হচ্ছেন স্বয়ং মোহাম্মদ। একজন মুমিন মুসলমান হয়ে আপনি মোহাম্মদের জীবনি ও আদর্শ অনুসরণ করবেন আর সব ধরণের প্রেমের স্বাদ নেবেন না, তাহলে আপনি কেমন মুসলমান। সাঈদী মোহাম্মদের আদর্শে অনুসারী একজন সাচ্চা মুসলমান।

সবচেয়ে আলোচিত তিনটি অডিও এমবেড করলাম নিচে: ১. স্ত্রীর সঙ্গে সাঈদীর কথোপকথন, ২. নাতনির সঙ্গে সাঈদীর ফোন-সেক্স - এক, ৩. নাতনির সঙ্গে সাঈদীর ফোন-সেক্স - দুই। 

অডিও ডাউনলোড লিংকও যোগ করা হয়েছে।

প্রশ্নাতঙ্কগ্রস্ত ধর্মগুলো


(ছবি দেখা না গেলে বিকল্প লিংক)

জেহাদ প্রসঙ্গে


লিখেছেন মহসিনা খাতুন 

কিন্তু জিহাদ সম্পর্কে নতুন আর কী বলার থাকতে পারে, তাই ভাবছেন? ভাবছেন, যে বিষয় নিয়ে সারা বিশ্বে এত চর্চা, সেই প্রসঙ্গে চর্বিতচর্বণ ছাড়া আর কি হতে পারে? আসলে আমার মনে হয়, জেহাদ শব্দটি নিয়ে খানিকটা ধোঁয়াশা তো রয়েছেই। ধোঁয়াশা এই কারণে যে, এই শব্দটির এক রকম ব্যাখ্যা জঙ্গি মুসলিম, অমুসলিম এবং সেক্যুলারিস্টরা করে তো অন্যরকম ব্যাখ্যা করে উদারপন্থী মুসলিমরা। তাই কিছু বলার আগে আমরা জেহাদ শব্দটির অর্থ নিয়ে একটু আলোচনা করে নেব। ‘জেহাদ’ শব্দটি এসেছে আরবী শব্দ “জাহাদাহ্‌” থেকে , যার অর্থ উদ্যমী হওয়া। জেহাদ শব্দটির অর্থ হল - অসৎ-এর বিরুদ্ধে সর্ব শক্তি দিয়ে লড়াই করা। এই যুদ্ধ হল আসলে অন্যায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ। 

এতদূর পর্যন্ত দুই পক্ষেরই কোনও সমস্যা নেই। উভয়পক্ষই মেনে নেয় জেহাদের এই অর্থ। কিন্তু এরপরই শুরু হয় যত গোলযোগ, যত মতান্তর। জঙ্গি মুসলিম,অমুসলিম এবং সেক্যুলারিস্টরা মনে করে, ইসলাম অনুযায়ী ‘অসৎ’ হল অমুসলিম এবং ইসলাম বিরোধীরা। তা সে যে-ই হোক, যেমনই হোক। যতক্ষণ অমুসলিম ও ইসলাম বিরোধী মানুষরা থাকবে, ততক্ষণই ইসলামের বিপদ। যতক্ষণ না ইসলাম সারা বিশ্বে প্রসারিত হচ্ছে, ততক্ষণ এদের বিরুদ্ধে চালিয়ে যেতে হবে সংগ্রাম। আধুনিক জঙ্গিবাদী মুসলিমরাও এ কথাই মানে। সমসাময়িক কালে গ্রেফতার হওয়ার পর কাসাব নামক জঙ্গির জবানবন্দী এ কথাই প্রমাণ করে। এ কথা নাস্তিক, খ্রিস্টান ও হিন্দুসহ ইসলামত্যাগী মানুষেরাও বোঝে। কিন্তু উদারপন্থী সাধারণ মুসলিমরা মনে করে যে, মনের মধ্যেকার অসৎ প্রবৃত্তিকে ধ্বংস করতে সংগ্রামই আসলে আল্লাহর পথে সংগ্রাম। ইসলাম- ও মুসলিমবিরোধীরা ইসলামকে কলঙ্কিত করতে জেহাদের অর্থের অপব্যাখ্যা করে, তেমনি অমুসলিমরা এই ব্যাপারটাকে না বুঝে তাদের ফাঁদে পা দেয়। কিন্তু প্রশ্ন হল, এই পরস্প বিরোধী দুটি অর্থের মধ্যে কোনটি ঠিক? জেহাদ শব্দটির সঠিক অর্থ সম্পর্কে কাদের বক্তব্য আমরা মেনে নেব? 

আসলে, কিছু মানুষ মিথ্যা প্রচার ও ব্যাখ্যা করে জেহাদ সম্পর্কে মানুষের স্পষ্ট ধারণাকে গুলিয়ে দিচ্ছে খুব উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে। যেমন, জাকির নায়েকের মতে, “যদি কোনও চাকুরীজীবী মনিবকে খুশি করার জন্য চেষ্টা করে, পরিশ্রম করে, তা সে ভাল কাজ দিয়েই হোক বা খারাপ কাজ দিয়েই হোক, তা হলেই তা জেহাদ।” আচ্ছা, জাকির নায়েকের দেওয়া অর্থে কোরআনে বা হাদিসে কোথাও জেহাদের উল্লেখ আছে? নেই। বাস্তবে, সংগ্রাম বা লড়াই করার জন্য সবার আগে প্রয়োজন একটি প্রতিপক্ষ। কিন্তু জাকিরের এই উদাহরণে কোন প্রতিপক্ষ নেই। সুতরাং তাকে লড়াই বলা যায় না। তাই তাকে জেহাদও আখ্যায়িত করা যায় না। 

তাহলে বোঝা গেলো যে, একটি স্পষ্ট প্রতিপক্ষ ছাড়া জেহাদ সম্ভব নয়। কিন্তু প্রশ্ন হল, জেহাদের ক্ষেত্রে প্রতিপক্ষ কে? উত্তরে বলা যায়, বিধর্মীরা আর ইসলাম বিরোধীরা। ডঃ ওসমান গনী সাহেব-এর মহানবী গ্রন্থেও একটি অধ্যায় আছে: ‘মহানবী তার জীবনে কতগুলি জেহাদ পরিচালনা করেছেন?’ পরিষ্কার বোঝানো আছে যে, জেহাদ হল আল্লাহ্‌-র পথে (ইসলাম প্রসারের জন্য) বিধর্মীদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম। জাকিরের “সন্ত্রাসবাদ ও জিহাদ” বইটিতে উপরিউক্ত উদাহরণটি দেওয়ার পরে পুরো বইটি জুড়েই যুদ্ধের কথা বলা আছে। অর্থাৎ তিনি পরোক্ষভাবে স্পষ্ট করে দিচ্ছেন যে জেহাদের অর্থ আল্লাহর পথে সংগ্রাম। কোরআনেও দেখা যায় জিহাদ শব্দটি পারিভাষিক অর্থে গৃহীত, যার অর্থ হল ‘জিহাদ ফী সাবিলিল্লাহ’ অর্থাৎ আল্লাহর পথে সংগ্রাম। এবং কোরআনে এই কথা উল্লিখিত আছে:
“হে নবী! কাফের ও মুনাফেকদের বিরুদ্ধে জেহাদ করো এবং তাদের প্রতি কঠোর হন তাদের ঠিকানা জাহান্নাম”। (আত তাহরিম: ৯) 
“অবিশ্বাসীগণ ( কোরআন আল্লাহ্‌ ও নবীতে) তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু”! ( নিসা: ১১১) 
“তোমরা ততক্ষণ তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে যতক্ষণ না আল্লাহ-র ধর্ম সামগ্রিক ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়”। (আনফাল: ৩৮) 
এই বক্তব্য তো স্পষ্ট ও প্রাঞ্জল। তাহলে উদারপন্থীদের মনে ধোঁয়াশা তৈরি হওয়ার কারণ কী? আসলে হজরত মোহাম্মদ যে জেহাদ তত্ত্ব চালু করে গিয়েছিলেন, তা সারা বিশ্বে স্থায়ী অশান্তি তৈরি করেছে। মুহম্মদের পরবর্তী সময়ে ইসলামী বাহিনী যখন পারস্য বিজয় করে, তখন পারস্যের বহু পণ্ডিত ইসলাম গ্রহণে বাধ্য হয়। এবং প্রায় দু'শো বছর আরবের সরাসরি অধীনে থাকে। কিন্তু নবম শতাব্দীর শেষের দিকে আরব পারস্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ কায়েম রাখতে ব্যর্থ হয়। কিন্তু ততদিনে প্রায় সকল পার্সি ইসলাম গ্রহণ করে ফেলেছে। এরা কোনোদিনই ইসলামের মূল ধারার সাথে পুরো একমত হতে পারেনি। একটু স্বাধীনতা পেয়েই তারা ইসলাম নিয়ে নতুন করে আলোচনা ও গ্রন্থ লেখা শুরু করে। এরা জেহাদ তত্ত্বের ভয়াবহতা দেখে ইসলামের জেহাদ-তত্ত্বকে আপাদমস্তক পাল্টে তার আধ্যাত্মিক রূপদানের চেষ্টা করে। ‘চলিত ইসলামী শব্দকোষ’ নামক গ্রন্থে বলা হয়েছে, “মোহম্মদ পরবর্তী সময়ে জেহাদের ভয়ানক অপব্যবহার দেখে উদার মুসলিম ধর্মতাত্ত্বিক এবং পণ্ডিতরা নবম এবং দশম শতকে জেহাদের একটি আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা দেন। তারা বলেন, আল্লাহর সঠিক পথের অন্বেষণে ব্যক্তির আধ্যাত্মিক প্রচেষ্টাই জেহাদ।’’ 

এইসব উদারপন্থী ও মরমিয়া সাধকদের মতে, জেহাদ দুই প্রকার। বড় জেহাদ আর ছোট জেহাদ। ভেতরের শত্রুকে পর্যুদস্ত করতে আল্লাহর পথে আধ্যাত্মিক লড়াই হল বড় জেহাদ। অন্যদিকে অস্ত্র হাতে বাইরের যুদ্ধ হল ছোট জেহাদ। “তবে এ সবই মোহম্মদ পরবর্তী যুগের ভাবনা-চিন্তা। কারণ কোরআন বা হাদিসে এর কোনও অনুমোদন মেলে না।” 

পরবর্তী কালে সূফীদের হাতে পড়ে জেহাদ তত্ত্ব আরও ব্যাপক রূপ পায়। সূফী সন্তরা পাঁচপ্রকার জেহাদের কথা বলেন: 

১. আত্মার জেহাদ: মনের ভিতরের রিপু রূপ শয়তানকে ধ্বংস করা অন্তরের সংগ্রাম ‘তৌহিদ’-এর মাধ্যমে। 

২. বাচনিক জেহাদ: খুতবা, জলসা ইত্যাদির মাধ্যমে সামাজিক শত্রু ও শয়তানদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করা। 

৩. কলমের জেহাদ: ইসলামবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে ইজতিহাদ বা ইসলামী জ্ঞানের চর্চা এবং প্রচারের মাধ্যমে সংগ্রাম করা। 

৪. হাতের জেহাদ: নিজের অর্জিত সম্পদের মাধ্যমে অর্থাৎ আপন অর্থ ও অন্য সম্পদ দানের মাধ্যমে ইসলাম প্রসারের কাজে অন্য মুজাহিদদের সাহায্য করা। 

৫. তলোয়ারের মাধ্যমে: অস্ত্রশস্ত্রের দ্বারা ইসলামবিরোধী শক্তিকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া। 

এর মধ্যে চতুর্থ ও পঞ্চম প্রকারের জেহাদ বর্তমান বিশ্বের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইসলামী ধনী দেশগুলি থেকে জেহাদের উদ্দেশ্যে অর্থ সরবরাহ হচ্ছে দরিদ্র মুসলিম দেশগুলিতে। উদ্দেশ্য হল - অমুসলিমদের ইসলামে নিয়ে আসা। এবং কোনও মিশনারি কাজের মাধ্যমে নয়, বরং কোরআনের ভাষায় “তাদের মনে ভীতি সঞ্চার করে।” অর্থাৎ আতঙ্কের মাধ্যমে। কোনও সন্দেহ নেই যে, এটাই জেহাদের প্রকৃত অর্থ। 

বর্তমানের উদার এবং শিক্ষিত মুসলিম-বিশ্বের মানুষের কাছে জিহাদ একই সাথে আতঙ্ক, লজ্জা ও আশার নাম। তারা বোঝে যে, এই জগতে নিজেকে টিকিয়ে রাখাটাই সবচেয়ে বড় সংগ্রাম; তারা বোঝে, বর্তমানে কোরআন আওড়ানোর চেয়ে কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন পড়া কাজের। তারা কোরআন হাদিসকে শুধুমাত্র ধর্মগ্রন্থের বেশি আর কিছু বলে মনে করে না। এইসব নামেমাত্র মুসলিমরা দিনরাত দেখে যে, জেহাদ কীভাবে বর্তমান বিশ্বকে সন্ত্রস্ত করে রেখেছে। এমনকি মুসলিম দেশগুলিও সন্ত্রাসের বাইরে থাকছে না। বিভিন্ন ইসলামী গোষ্ঠীর প্রত্যেকটিই মনে করছে, অপর গোষ্ঠী হল তাদের ইসলামের বিরোধী। ফলস্বরূপ একে অপরের ওপর সন্ত্রাসবাদী আক্রমণ এবং প্রাণহানী। ভাবতে পারেন, বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্র ধ্বংসের পর থেকে আজ পর্যন্ত কুড়ি হাজারের ওপর সন্ত্রাসী আক্রমণ হয়েছে! হতাহতের সংখ্যা বেশ কয়েক লক্ষ। অমুসলিমরা তো এর শিকার হচ্ছেই, মুসলিমরা শিকার হচ্ছে আরও বেশি। কী মনে হয়, এরা মনে মনে উপলব্ধি করতে পারে না সত্যিটা? পারে। 

এর ওপর অন্যধর্মী মানুষদের সাথে তাদের একত্র থাকতে হয়। তাদের মধ্যে মধ্যযুগীয় বর্বরতার লেশমাত্র না থাকলেও রোজকার জেহাদি কার্যকলাপ তাদের প্রতিনিয়ত অস্বস্তিকর প্রশ্নের মুখে ফেলে। রোজ একটা বোমা বিস্ফোরণ হয় কোথাও না কোথাও, আর রোজ অন্যের সন্দেহ ও ঘৃণার পাত্র হতে হয় সাধারণ মুসলিমকে, সারা বিশ্বজুড়ে। কী করতে পারে তারা? না পারে নিজের ধর্ম ত্যাগ করতে, যে ধর্মীয় সংস্কৃতিতে তারা জন্মেছে, বড় হয়েছে, যাকে পবিত্র বলে এতদিন মেনে এসেছে, যাকে খারাপ বললে তাদের বুকে আঘাত লাগে; না পারে ইসলামের ধর্মীয় সহিষ্ণুতা-হীন কদর্যতাকে বিনা বিচারে সমর্থন করতে, যার প্রায়োগিক রূপ পৃথিবীকে সন্ত্রস্ত করে রেখেছে ইসলামের জন্মের সময় থেকেই। বিশ্ববিখ্যাত দার্শনিক জাঁ পল সার্ত্রের অস্তিত্ববাদী দর্শন খুব স্পষ্ট ভাবেই দেখিয়েছে যে, উদ্বেগ এবং হতাশায় পরিপূর্ণ স্বাধীন জীবনই মানুষের যথার্থ অস্তিত্বকে সূচিত করে। কিন্তু বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা যেহেতু মানুষের মধ্যে উদ্বেগের জন্ম দেয় ,তাই উদ্বেগ থেকে মুক্তি পেতে অধিকাংশ মানুষই আশ্রয় নেয় ‘মিথ্যা বিশ্বাস’-এর (false belief)। এক্ষেত্রেও ঠিক তা-ই ঘটে। তাকে আশ্রয় নিতে হয় অদ্ভুত এক মিথ্যা বিশ্বাসের, জেহাদের উদারপন্থী তত্ত্বের, যা কোরআন-হাদিস সমর্থিত নয়। সযত্নে লালিত আদর্শ ও কঠিন বাস্তবের সংঘাতে আজ এদের অন্তর জর্জরিত। 

২৯ ডিসেম্বর, ২০১২

কুরানে বিগ্যান (পর্ব-২১): কানে-চোখে-মনে সিলমোহর তত্ত্ব


লিখেছেন গোলাপ


সংকলিত কুরানের সর্বপ্রথম বোধগম্য প্রথম চারটি (২:২-৫) বাক্যের পরের দু'টি বাক্যেই মুহাম্মদ আরও দাবি করেছেন যে, বিশ্বস্রষ্টা অবিশ্বাসীদের কানে, চোখে ও মনে "সিল-মোহর" মেরে বিশ্বাসী হওয়ার পথ রুদ্ধ করে দেন! বশ্যতা অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে এই প্রতিহিংসাপরায়ণ পৈশাচিক কর্মকাণ্ডকে মুহাম্মদ স্রষ্টার বাণী বলে প্রচার করেছিলেন! মুহাম্মদের ভাষায়: 
২:৬-৭ – “নিশ্চিতই যারা কাফের হয়েছে তাদেরকে আপনি ভয় প্রদর্শন করুন আর নাই করুন তাতে কিছুই আসে যায় না, তারা ঈমান আনবে না। আল্লাহ তাদের অন্তঃকরণ এবং তাদের কানসমূহ বন্ধ করে দিয়েছেন, আর তাদের চোখসমূহ পর্দায় ঢেকে দিয়েছেন। আর তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি।"

নির্ধার্মিক মনীষীরা – ৮০


(ছবি দেখা না গেলে বিকল্প লিংক)

স্পর্ধামেশা স্পষ্টভাষণ - ০১


লিখেছেন Audacity ImPossible Mission

১.
কুরানে কইছে, শুকর খাওয়া নিষেধ। মুসলমানেরা শুকর খায় না।
কুরানে কইছে, ইহুদী-খ্রিষ্টানদের সাথে বন্ধুত্ব করবা না। কিন্তু মুসলমানেরা ঠিকই ইহুদী-খ্রিষ্টানদের সাথে বন্ধুত্ব না কইরা থাকতে পারে না! লোল!!
অনুসিদ্ধান্ত: মুসলমানেরা সুবিধা মত ধর্মের দোহাই কাজে লাগায়।

২.
আমার প্রাণ প্রিয় মুসলমান ভাই ও বোনেরা,

যখন এক ইহুদী আমেরিকান নাগরিক "ইনোসেন্স অফ মুসলিম" তৈরি করল, তখন তো বেশ লাফাইছিলেন, লাফালাফি কইরা কোনোমতে নবীর জাগাইন্না লুঙ্গি নোয়াইয়া নবীর মান ইজ্জত রাখার ব্যর্থ চেষ্টা করেছিলেন। নবী বিপদে পড়ছে, আপনারা উম্মতেরা লাফাইছেন, নবীরে রক্ষা করার চেষ্টা করেছেন। এখন তো আপনারা বিপদে পড়ছেন, কই, আপনাদের নবী কই? আপনাদের আল্লা? পারলে রক্ষা করুক তারা! সারাদিন আল্লা-বিল্লা করেন আর ইহুদী-নাসারদের গাইলান, মাগার যখন বিপদে পড়েন, তখন ঠিকই ইহুদী, নাসারা, মার্কিন, ব্রিটিশদের দ্বারস্থ হন।

আবারও প্রমাণিত: আল্লায় আপনাদের রক্ষা করে না, বরাবর আপনারাই আল্লারে রক্ষা করেন।

৩. 
যার ইচ্ছা, সে নামাজ পড়বে, কিন্তু যার ইচ্ছা নাই, তাকেও পরাইতে হইবে, এইডাই হইল মুসলমানদের চিন্তাভাবনা। আর এখানেই আজানের প্রয়োজনীয়তা!

ভাইরে, ভালো জিনিস করতে মাইনষেরে ডাকতে হয় না। মানুষ এমনিই আসে। নামাজ পড়া আজাইরা কাম দেইক্ষাই নামাজ পড়তে প্রত্যেক বেলায় মানুষকে আজান দিয়া ডাকতে হয়!

আরে ব্যাটা, আজান তো মনে মনে দিলেও চলে! হুদাই গোটা দশেক মাইক দিয়া, মাইনষেরে ডিস্টার্ব কইরা, শব্দদুষণ কইরা, চিল্লাইয়া চিল্লাইয়া আল্লাহুয়াকবর কওন মারান লাগে ক্যা? আস্তে কতা কি আল্লায় হুনে না? তগর আল্লায় কি বয়রা, কানা, লুলা?

গরুপূজারি গাধাগুলো - ৩৯


 (পূর্ণাকারে দেখতে বা ছবি দেখা না গেলে বিকল্প লিংক)

(পূর্ণাকারে দেখতে বা ছবি দেখা না গেলে বিকল্প লিংক)

Astrology is Still Bullshit নামের ফেসবুক পেজ থেকে।

বিবিধ শান্তি ও মানবতা


লিখেছেন Aroz Ali Matubbor (ফেসবুক নিক)

ইসলাম মানেই শান্তি, মুসলিম মানেই মানবতা।

ধর্মের নামে নিজের দেশের সম্পদ ধ্বংস করায় আছে নিরবচ্ছিন্ন শান্তি
মাদ্রাসার কচি ছাত্রদের বলাৎকার করার মাঝে আছে জান্নাতে ফেরদাউসের শান্তি
বাঁদরদের কার্যকলাপ নকল করে ব্যভিচারিণীকে পাথর মেরে হত্যা করায় আছে বরবরিয়া শান্তি
ধর্মের নামে ভণ্ড রাজনীতি করায় আছে অমৃত শান্তি
কচি শিশুদের ধর্মের হুরপরির লালসা দিয়ে জঙ্গি হিসেবে গড়ে তলার মাঝেই আছে চুল্কানিয়া শান্তি
অসহায় মানুষদের আখিরাতের কাঁঠাল দেখিয়ে শুয়ে শুয়ে খাওয়ার মাঝেই আছে প্রকৃত শান্তি

চোরের হাত কাটার মধ্যে আছে জল্লাদিয়া মানবতা
১৩ টা বিয়ে করার মধ্যে আছে লুচ্চামিয়া মানবতা
৫১ বছরে ৬ বছরের শিশুকে বিয়ে করার মধ্যে আছে শিশুকামিয়া মানবতা
নিজের ছেলের বউকে বিয়ে করার মধ্যে আছে সমাজ সংস্কারক মানবতা
যুদ্ধবন্দিনীদের জোর করে ধর্ষণ করায় আছে পবিত্র গনিমতিয়া মানবতা
ব্যবসা করতে আসা বণিকদের সম্পদ লুটপাট করার মাঝেই আছে ডাকাতিয়া মানবতা

ভাবছি আজ থেকে মহা উন্মাদের মতো মানবতা লালন করবো
আর মুসলিমদের মতো শান্তি পালন করবো
দয়া করে কেউ আমাকে থামাবেন না
কারণ ওপরোক্ত সব ক'টি কাজ করতে পারলেই এই ভণ্ডের অন্ধ সমাজে মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারব...

জয় বাবা মহাউন্মাদ।

ছহীহ ইছলামী ওয়েডিং কেক



(ছবি দেখা না গেলে বিকল্প লিংক)

নিঃসীম নূরানী অন্ধকারে - ৫৩


লিখেছেন তামান্না ঝুমু

২৬১.
- দস্যু কাকে বলে, কত প্রকার ও কী কী? সংক্ষেপে আলোচনা করো।
- যারা লুণ্ঠনের নিমিত্তে হত্যা, ধর্ষণ ইত্যাদি অপকর্ম করে থাকে, তাদেরকে দস্যু বলা হয়। আমার জানা মতে, বর্তমান পৃথিবীতে চার প্রকারের দস্যু আছে। যথা: জলদস্যু, স্থলদস্যু, মরুদস্যু ও আকাশদস্যু। কিছু কিছু প্রাচীন মরুদস্যুর অনুসারীরা বর্তমানকালে আকাশদস্যুতে বিবর্তিত হয়েছে। এরা আকাশপথে গণহত্যা করে।

২৬২.
পবিত্র গ্রন্থগুলি পড়ার পরে ওজু করা বাঞ্ছনীয়। বইগুলি নাপাক কথাবার্তায় ভরপুর তো, তাই।

২৬৩. 
জ্বীনেরা দৃশ্যমান আগুনের তৈরি, তবে ওরা নিজেরা অদৃশ্যমান। এটাই হল আল্লার কুদরত। আগুনদেহী জ্বীন সম্প্রদায় কোথায় থাকে, কেউ জানেনে কি? ওরা থাকে মরা গাছের ডালে। এ জন্য অনেকে মাঝে মাঝে তালগাছ, বটগাছ, অশ্বথগাছে জ্বীন ভূত দেখতে পায়। সাধারণ মানুষেরা সাধারণত দেখতে পায় না তাদের। তবে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও গাছের ডালে জ্বীন দেখেছিলেন। তাই তো তিনি লিখেছেন, "যতসব মরা গাছের ডালে ডালে নাচে জ্বীন (আগুন) রে।" মাঝে মাঝে বনভূমিতে দাবানল সৃষ্টি হতে দেখা যায়। এটা আসলে দাবানল নয়, জ্বীনানল। জ্বীনেরা মানুষের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে বনে জ্বীন লাগিয়ে দেয়।

২৬৪.
স্রষ্টাগণ কয়েকখানা পুস্তক রচনা করেছিলেন। অতি জঘন্য মানের হয়েছিল প্রতিটি স্রষ্টা রচিত প্রতিটি পুস্তকই। নিজেদের লেখার হাত অত্যন্ত নিম্নমানের, এই সত্য তাঁরা অনুধাবন করতে পেরে লেখালেখির কাজ চিরতরে ছেড়ে দিয়েছেন। বহুদিন যাবত তাদেরকে বই-পুস্তক রচনা করতে দেখা যায় না।

২৬৫.
নির্বোধেরা বলবে, কিসে তাদের ফিরিয়ে দিল তাদের পূর্ব কিবলা হতে, যার উপর তারা ছিল; তোমরা বল, পূর্ব ও পশ্চিম আল্লাহরই জন্য; ২:১৪২
আল্লাহ বলেছেন, পূর্ব ও পশ্চিম তার জন্য। বাকি দিকগুলি (উত্তর, দক্ষিণ, ঈশান, বায়ু, অগ্নি, নরি, ঊর্ধ্ব, অধ) আল্লাহর নয়।

২৮ ডিসেম্বর, ২০১২

স্ক্রিনশট সংকলন - ০৪


 পাঠিয়েছেন সুনন্দ পাত্র
(ছবি দেখা না গেলে বিকল্প লিংক)
(ছবি দেখা না গেলে বিকল্প লিংক) 

(ছবি দেখা না গেলে বিকল্প লিংক)

(ছবি দেখা না গেলে বিকল্প লিংক) 

(ছবি দেখা না গেলে বিকল্প লিংক)

ধর্ম ও কনডম


(ছবি দেখা না গেলে বিকল্প লিংক)

দুর্বচন - ০৩


লিখেছেন সাদিয়া সুমি

১১.
বউ পিটানো হালাল আর ড্রাম পিটানো হারাম।

১২.
তোমরা অভিযানে বের হয়ে পড়ো, সামান্য কিংবা প্রচুর রসদ নিয়ে, এবং জিহাদ করো আল্লাহর পথে নিজেদের মাল দিয়ে ও নিজেদের জান দিয়ে। ... যদি তোমরা অভিযানে বের না হও, তবে আল্লাহ তোমাদের যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি দেবেন। 
(আল কোরআন ৯:৪০-৪১)
কে বলেছে ইসলাম শান্তির ধর্ম? যেই ধর্মে স্বয়ং আল্লাহ তার বান্দাদের যুদ্ধ করতে নির্দেশ দিচ্ছেন, সেটা শান্তির ধর্ম হয় কেমন করে?

১৩.
আল্লাহপাকের ৯৯টা নাম কে রেখেছে? তার পিতামাতা? নাকি মানুষ? ভদ্রলোকদের একটি নাম থাকে বলে জানি।

১৪.
আমি তা করেছি আরবী ভাষায় কোরআন, যাতে তোমরা বুঝতে পার।
(আল কোরআন ৪৩:৩)
আল্লাহ পাক মনে করেন, মানবজাতির একটিই ভাষা, আর সেটা হচ্ছে আরবী! তারা যে হাজারটা ভাষায় কথা বলে নিশ্চয় তিনি তা মোটেও জানতেন না!
এইবার বুঝুন, তার জানার দৌড় কতদূর!

১৫.
বেহেশতে গেলে একজন মেয়েকে তার স্বামীর সাথে থাকতে দেয়া হবে। কিন্তু একজন ছেলেকে স্ত্রী ছাড়াও ৭২টি হুর দেয়া হবে। আল্লাহর কেন এই লিঙ্গবৈষম্য? 
আর যেসব মেয়ের বিয়ে হয়নি, তারা বেহেশতে গেলে কার সাথে শোবে?

ধর্মের চাকা গায়ের জোরে


(ছবি দেখা না গেলে বিকল্প লিংক)

কোরান কুইজ – ২৬


নিশ্চয়ই মোমিন মুসলমানগণ কোরান সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান রাখেন। বেয়াড়া নাস্তিকগনও নিজেদেরকে কোরান-অজ্ঞ বলেন না কখনও। তাই মুসলিম-নাস্তিক নির্বিশেষে সকলেই অংশ নিতে পারেন কোরানের আয়াতভিত্তিক এই ধাঁধা প্রতিযোগিতায়। এই সিরিজের মাধ্যমেই তাঁরা নিজেদের কোরান-জ্ঞান যাচাই করে নিতে পারবেন।

প্রশ্ন ৩৩. মদ্যপান সম্পর্কে কোরান কী বলে?  
ক) মদ্যপান করা যায়
খ) নেশাগ্রস্ত অবস্থায় নামাজ নিষিদ্ধ
গ) মদ জিনিসটাই খারাপ
ঘ) মদ্যপানে গুনাহ হয় 

(স্ক্রল করে নিচে উত্তর দেখুন)

২৭ ডিসেম্বর, ২০১২

নামাজনামা – ২১


(ছবি দেখা না গেলে বিকল্প লিংক)

অসম্ভবে অবিশ্বাস


লিখেছেন অর্ণব

মনে করেন আপনার কোনো বন্ধু আপনাকে এসে বললো যে, সে একটি ২৫ পয়সার মুদ্রা কুড়িবার আকাশে টস করে প্রত্যেকবারই 'শাপলা' পেয়েছে এবং একবারও 'বাঘের মাথা' পায়নি - আপনার কি তার এই কথাটা বিশ্বাস করা উচিত? মনে করে নিন যে, ঐ বন্ধু খুবই ভালো, সত্যবাদী এবং পরহেজগার একজন মানুষ; তাকে কখনও আপনি মিথ্যা বলতে দেখেননি জীবনে একবারও, তথাপিও তার ওপরোক্ত কথাটি কি আপনার বিশ্বাস করা উচিত? 

এখানে লক্ষ্য করুন, প্রশ্ন কিন্তু আমার নয় যে, আপনার বন্ধুটি বাস্তবিকই সত্য বলছে নাকি মিথ্যা বলছে, প্রশ্নটি হচ্ছে আমার বরং: তার ওপরোক্ত দাবীটি কি আপনার বিশ্বাস করা উচিত কি উচিত নয়? সত্য-মিথ্যা আপনি গণিতের সাহায্যে নির্ণয় করতে পারেন না হয়তো, তবে ঔচিত্য এবং অনৌচিত্য নির্ণয় করতে কিন্তু ঠিকই পারেন! 

যেমন: প্রবাব্লিটি থিয়োরি অনুসারে একটি মুদ্রা কুড়িবার আকাশে টস করে প্রত্যেকবার 'শাপলা' পাবার সম্ভাবনা হবে ১/২^২০ বা প্রতি এক মিলিয়নে এক! অর্থাৎ এক মিলিয়নবার চেষ্টা করলে আপনি গড়ে পর পর বিশটি টসে অব্যহতভাবে 'শাপলা' পেতে পারেন একবারও 'বাঘের মাথা' না পেয়ে। একবার টস করতে যদি ২ সেকেণ্ড লাগে, তাহলে এক মিলিয়ন গুনন দশ বার বা দশ মিলিয়ন বার টস করতে আপনার লাগবে প্রায় ১১৬ দিন এবং এই ১১৬ দিন আপনাকে টানা মুদ্রা টস করে যেতে হবে গড়ে অন্তত একবার পরপর বিশটি 'শাপলা' পেতে হলে! ইটা একটি অসম্ভব ঘটনা, গণিত বলছে, এটি একটি অসম্ভব ঘটনা এবং এই ব্যাপারটার ওপর আপনি ১০০% আস্থা রাখতে পারেন যে, গণিত আপনার পরহেজগার বন্ধুটির অপেক্ষা একটু বেশি সত্যবাদী, কেননা গণিতের মিথ্যা বলার সামর্থ্যই নেই।

এই সত্যের আলোকে তাহলে বলা যায় যে, আপনার সত্যবাদী বন্ধুটির দাবী কোনোভাবেই আপনার বিশ্বাস করে নেওয়া উচিত হবে না যে, সে একটি মুদ্রা কুড়িবার আকাশে টস করে প্রত্যেকবারই 'শাপলা' পেয়েছে। সম্ভাব্যতা এবং অসম্ভাব্যতা একটি খুবই নির্ণয়যোগ্য এবং গণনাযোগ্য বিষয়। কিন্তু দুঃখের ব্যাপার হচ্ছে, তথাপিও আমরা নানা ধরনের আচানক অসম্ভব জিনিষপত্রে বিশ্বাস করি। কেউ আমরা বিশ্বাস করি জিনে-ভুতে, কেউ বিশ্বাস করি দৈত্য-দানবে, কেউবা বিশ্বাস করি হোমিওপ্যাথিতে-টেলিপ্যাথিতে... যেসবের কোনো বিশ্বাসই ১%ও এভিডেন্স ভিত্তিক নয়।

চিত্রপঞ্চক - ৩৭

শেষের ছবিটা একটু ইয়ে-টাইপ। অতএব ইমোটা খিয়াল কৈরা! 

"এখানে প্রবেশ করার আগে বুদ্ধিমত্তা বাইরে রেখে এসো" - অনুবাদসহ পাঠিয়েছেন মোকাম্মেল
(ছবি দেখা না গেলে বিকল্প লিংক)

"পায়ুকাম ও মুখকাম বিয়ের আগ পর্যন্ত আপনার কুমারীত্ব বজায় রাখবে" -  অনুবাদসহ পাঠিয়েছেন মোকাম্মেল
(ছবি দেখা না গেলে বিকল্প লিংক)

ইসলামে বর্বরতা: নারী-অধ্যায় - ১৩


লিখেছেন আবুল কাশেম


স্ত্রী কর্তৃক স্বামীকে তালাক দেবার অধিকার


ইসলামীরা প্রায়শঃ গলা ফাটিয়ে বলেন যে, ইসলাম নারীকে দিয়েছে তালাকের অধিকার। কী নিদারুণ মিথ্যাই না তাঁরা প্রচার করে যাচ্ছেন। কথা হচ্ছে, এক মুসলিম স্ত্রী কোনোভাবেই তার স্বামীকে তালাক দিতে পারবে না, যেভাবে স্বামী তার স্ত্রীকে তালাক দেয়। অর্থাৎ একজন স্ত্রী ইচ্ছে করলেই তার অপব্যবহারমূলক স্বামীর হাত থেকে উদ্ধার পাবে না। তার মুক্তি নির্ভর করবে তার স্বামীর মেজাজের ওপর। একজন স্ত্রী তার কুলাঙ্গার স্বামীকে হাতে-পায়ে ধরে অথবা ইসলামী আদালতে গিয়ে টাকা পয়সা দিয়ে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটাতে পারে। এই ব্যবস্থাকে খুল বলা হয়, তালাক নয়। অন্যায় হচ্ছে এই যে, স্বামীর অবাধ অধিকার আছে স্ত্রীকে কোনো কারণ ছাড়াই যে কোনো মুহূর্তে তালাক দিতে পারে, স্ত্রী তা পারবে না। 

এখন কোনো স্বামী যদি স্ত্রীকে বেদম পেটায়, তবুও স্ত্রী পারবে না ঐ অত্যাচারী, বদমেজাজি স্বামীর হাত থেকে মুক্তি পেতে। এমতাবস্থায় পীড়িত স্ত্রীকে ইসলামী আদালতে গিয়ে প্রমাণ করতে হবে যে, তার স্বামী তাকে এমন ভাবে পিটিয়েছে যা ইসলামী পিট্টির বাইরে পড়ে। অর্থাৎ পেটানো হয়েছে এমনভাবে যে, মহিলাটির হাড় ভেঙ্গে গেছে অথবা প্রচুর রক্তপাত ঘটেছে। এমতাবস্থায় আদালত চাইলে তাদের বিবাহ ভেঙ্গে দিতে পারে। কিন্তু শর্ত হবে এই যে, মহিলাকে তার স্বামী যা দিয়েছে (মোহরানা), তা ফেরত দিতে হবে।

মারহাবা! এরই নাম হচ্ছে ইসলামী ন্যায় বিচার। যে ভুক্তভোগী তাকেই জরিমানা দিতে হবে। আর অপরাধী সম্পূর্ণ খালাস। শুধু তা-ই নয় সে পুরস্কৃত হচ্ছে। কী অপূর্ব বিচার! এখন এর সাথে তুলনা করুন আধুনিক বিচার ব্যবস্থার।

দেখা যাক কিছু হাদিস এই খুল সম্পর্কে।
মালিকের মুয়াত্তা ২৯. ১০. ৩২:
ইয়াহিয়া-মালিক-নাফী-সাফিয়া বিনতে আবি ওবায়দের মাওলা থেকে। ইয়াহিয়া বললেন সাফিয়া বিনতে ওবায়েদ তাঁর যা কিছু ছিল সবই তাঁর স্বামীকে দিয়ে দিলেন। এ ছিল তাঁর স্বামী থেকে তালাক পাবার জন্যে ক্ষতিপূরণ বাবদ। আবদুল্লাহ ইবনে ওমর এতে কোনো আপত্তি জানালেন না।
মালিক বলেছেন, যে স্ত্রী নিজেকে স্বামীর কাছে জিম্মি করে রাখে, সেই স্ত্রীর খুল অনুমোদন করা হয়। এ ব্যবস্থা তখনই নেওয়া হয়, যখন প্রমাণিত হয় যে, স্ত্রীর স্বামী তার জন্যে ক্ষতিকর এবং সে স্ত্রীর ওপর অত্যাচার চালায়। এই সব ব্যাপার প্রমাণ হলেই স্বামীকে তার স্ত্রীর সম্পত্তি ফেরত দিতে হবে।
মালিক বললেন: এমতাবস্থায় স্ত্রী নিজেকে জিম্মি রেখে (অর্থাৎ স্বামীকে টাকা পয়সা দিয়ে) খুল করে নিতে পারে। এই পরিস্থিতিতে স্ত্রী স্বামীর কাছে যা পেয়েছে, তার চাইতেও বেশি দিতে পারবে।
সহজ কথায়, ইসলামী আইনে বলা হচ্ছে যে, স্ত্রী তার বেয়াড়া স্বামী হতে মুক্তি পেতে চাইলে সবচাইতে সহজ পথ হচ্ছে স্বামীকে প্রচুর টাকা পয়সা উৎকোচ দিয়ে তার থেকে তালাক দাবী করা।

এখন পড়া যাক আরও একটি হাদিস।
সুনান আবু দাউদ বই ১২, হাদিস ২২২০:

উম্মুল মুমিনিন আয়েশা বললেন:

সাহলের কন্যা হাবিবার স্বামী ছিল সাবিত ইবনে কায়েস শিম্মা। সে হাবিবাকে মারধোর করে তার হাড়গোড় ভেঙ্গে দিল। হাবিবা নবীজির (সাঃ) কাছে এ ব্যাপারে স্বামীর বিরুদ্ধে নালিশ করল। নবীজি সাবিত ইবনে কায়েসকে ডেকে পাঠালেন এবং বললেন: তুমি তোমার স্ত্রীর কিছু জমি জায়গা নিয়ে নাও এবং তার থেকে দূরে থাক। সাবিত বলল: এটা কি ন্যায় সঙ্গত হবে, আল্লাহর রসুল? নবীজি বললেন: হ্যাঁ, তা হবে। তখন সাবিত বলল: আমি স্ত্রীকে দু’টি বাগান দিয়েছি মোহরানা হিসাবে। এই দুই বাগান এখন তার অধিকারে। নবীজি (সা:) বললেন: তুমি ঐ বাগান দু’টি নিয়ে নাও ও তোমার স্ত্রী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাও।
কী অপূর্ব ন্যায় বিচারই না করলেন নবীজি! এর থেকে আমরা বুঝলাম যে, স্বামীর অবাধ অধিকার থাকছে স্ত্রীকে তালাক দেবার। স্ত্রীর স্বামীকে তালাক দেবার কোনো অবাধ অধিকার নেই। খুল কোনো অধিকার নয়, খুল হচ্ছে একটি বিশেষ সুবিধামাত্র।

এই ব্যাপারে দেখা যাক কিছু শারিয়া আইন।
শারিয়া আইন এম ১১.৩ (উমদাত আল সালিক, পৃঃ ৫৪৬):
বিবাহ বিচ্ছেদের জন্যে স্ত্রীকে আদালতের বিচারকের শরণাপন্ন হতে হবে।
স্বামী যদি স্ত্রীর জন্য বাধ্য ভরণপোষণ বহন করতে না পারে তখন স্ত্রী বিবাহ বিচ্ছেদের ব্যবস্থা নিতে পারে। এমতাবস্থায় স্ত্রী চাইলে স্বামীর সাথে থাকতে পারে (স্ত্রী নিজের খরচ নিজেই বহন করবে) । স্ত্রী যা খরচ করবে তা স্বামীর দেনা হয়ে থাকবে। স্ত্রী যদি স্বামীর অস্বচ্ছলতা সইতে না পারে, তখনও সে নিজেই বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটাতে পারবে না। স্ত্রীকে ইসলামী আদালতে প্রমাণ করতে হবে যে তার স্বামী তার ভরণপোষণ দেয় না। ইসলামী বিচারক যদি স্ত্রীর প্রমাণ গ্রহণ করেন তখনই উনি বিবাহ বিচ্ছেদ (খুল) দিতে পারেন—কেননা এ ব্যাপারে বিচারকই একমাত্র সিদ্ধান্ত দিতে পারেন। ইসলামী বিচারক না পাওয়া গেলে স্ত্রী তার বিষয়টা দুজন লোকের (অবশ্যই পুরুষ) হাতে তুলে দিতে পারে।
এখানে অনেক কিন্তু আছে - স্বামী যদি স্ত্রীকে তার মৌলিক খাবার, বাসস্থানের ব্যবস্থা দেয়, তবে স্ত্রী বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করতে পারবে না। এই আইনটি লেখা হয়েছে এভাবে।
শারিয়া আইন এম ১১.৪ (ঐ বই পৃঃ ৫৪৭):
স্বামী স্ত্রীকে মৌলিক খাবারের ব্যবস্থা দিয়ে থাকলে স্ত্রী বিবাহ বিচ্ছেদের পথ নিতে পারবে না। স্বামী যদি প্রধান খাবার দিতে পারে কিন্তু অন্য আনুষঙ্গিক খাবার না দেয়, অথবা চাকর বাকর না দেয় তখনও স্ত্রী পারবেনা বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটাতে। এই ব্যাপারটা সম্পূর্ণ নির্ভর করবে স্বামীর সচ্ছলতার উপর।
মজার ব্যাপার হচ্ছে, ইসলামী আদালতে গেলে স্ত্রীর সাথে যৌনকর্মের ব্যাপারে আদালত স্বামীর ভাষ্য গ্রহণ করবে, স্ত্রীর ভাষ্য নয়।
শারিয়া আইন ১১.১১ (ঐ বই পৃঃ ৫৪৬):

আদালত যৌন সংগম উপভোগের ব্যাপারে স্বামীর সাক্ষ্য, প্রমাণ গ্রহণ করবে।

আদালতে যদি প্রমাণ না করা যায় যে স্বামী স্ত্রীর ভাতা দিতে ব্যর্থ—তখন স্ত্রী যা বলবে এই ব্যাপারে তাই গ্রহণ করা হবে। স্বামী স্ত্রী যদি যৌন উপভোগের ব্যাপারে একমত না হয় তখন স্বামী এ ব্যাপারে যাই বলবে আদালত তাই সত্য বলে মেনে নিবে। অর্থাৎ স্বামী যদি বলে যে স্ত্রী তার দেহদান করতে অপারগ, তখন স্বামীর ভাষ্যই সত্যি বলে গৃহীত হবে। এমন যদি হয় স্বামী স্বীকার করে নিলো যে প্রথমে স্ত্রী তার দেহদান করতে রাজী হল, কিন্তু পরে তার দেহ সমর্পণ করল না তখন স্বামীর ভাষ্য আদালত অগ্রাহ্য করতে পারে।
ওপরের ঐ সব আজগুবি ইসলামী আইন থেকে আমরা সত্যি বলতে পারি যে, একজন স্বামী বিবাহের মাধ্যমে কত সহজেই না নারীদের আর্থিকভাবে ব্যবহার করতে পারে। বিয়ে করার পর স্বামী স্ত্রীর ওপর অত্যাচার শুরু করল, মারধোর করল। যখন এসব অসহ্য হয়ে উঠলো, তখন স্ত্রী স্বামীর পায়ে ধরল তালাকের জন্য - টাকা-পয়সার বিনিময়ে। স্বামী টাকা নিলো এবং স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দিল। কী চমৎকার ইসলামী ব্যবস্থা! এই ভাবে সেই স্বামী চালাতে থাকবে তার ব্যবসা। নারীদেহও উপভোগ হচ্ছে, আবার টাকাও পাওয়া যাচ্ছে - এর চাইতে আর ভাল কী হতে পারে?

(চলবে)

আমার বোরখা-ফেটিশ – ৭০


(ছবি দেখা না গেলে বিকল্প লিংক

(পূর্ণাকারে দেখতে বা ছবি দেখা না গেলে বিকল্প লিংক)

আকিকার ফাঁকি কার ভাগে


লিখেছেন N.c. Neel

আকিকা শব্দের অভিধানিক অর্থ খাটি বাংলায় করলে আসে - জবাই করা পশু। সন্তান ভূমিষ্ঠ হলে যে প্রাণীকে জবাই করা হয় তাকে আকিকা বলে। ইসলামের পরিভাষায় আকীকার تعريف العقيقة অর্থ: সন্তান জন্মগ্রহণ করার পর আল্লাহর শুকরিয়া ও আনন্দের বহিঃপ্রকাশ হিসাবে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য যে পশু জবাই করা হয়, তাকে আকীকা বলা হয়। এর মাধ্যমে সন্তানের বালা-মুসিবত দূর হয় এবং যাবতীয় আপদ-বিপদ থেকে নিরাপদ থাকে।

এভাবে আমরা জানলাম যে, এক প্রাণীর জন্মগ্রহণে তার নাম রাখার জন্য অন্য প্রাণী অপ্রয়োজনে হত্যা করা হল আকিকা। যাঁরা তাদের সন্তানকে আকিকা করানোর কথা ভাবছেন, তাঁদের বলছি, নবীজিও ছোট থাকতে আকিকা করেন নি। যখন তিনি নবুয়াত লাভ করেন, তখন তিনি নিজের আকিকা নিজেই করেন। এ বিষয়ে হাদিসটি নিম্নে দিচ্ছি। আনাছ (রাঃ) হতে বর্ণিত:
(أن النبي صلى الله عليه وسلم عق نفسه بعد البعثة)
“ নবী (সাঃ) নবুওয়াত পাওয়ার পর নিজের আকীকা নিজে করেছেন”। (বায়হাকী) তাই আপনার শিশুকে বড় হতে দেন, সে তার নিজের নাম নিজে আকিকা দিয়ে রাখলে গুনাহ হবার কিছু নেই বরং সুন্নত হবে।
ইসলাম যেহেতু নারী-পুরুষের সমান অধিকারে বিশ্বাস করে (), তাই আকিকার ক্ষেত্রেও নারী ও পুরুষের অধিকার একেবারেই সমান। আকীকার ক্ষেত্রে সুন্নাত হলো, ছেলে সন্তান হলে দু‘টি দুম্বা বা ছাগল, আর মেয়ে সন্তান হলে একটি দুম্বা বা ছাগল দিয়ে আকীকা করতে হবে। কেননা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন:
(عن الغلام شاتان مكافئتان وعن الجارية شاة)
“ছেলে সন্তানের পক্ষ থেকে দু‘টি সমবয়সের ছাগল এবং মেয়ে সন্তানের পক্ষ থেকে একটি ছাগল দিয়ে আকীকা দিতে হবে। (আহমাদ ও তিরমিজী) 
আবার ছেলের ক্ষেত্রে আপনি একটি উট, দুম্বা বা গরু দিয়েও আকিকা করতে পারেন, কিন্তু মেয়ে সন্তানদের বেলায় এটি প্রযোজ্য নয়। এ বিষয়ে একটি হাদিস পেলাম ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত:
(أن رسول الله صلى الله عليه وسلم عق عن الحسن والحسين كبشا كبشا)
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) হাসান এবং হুসাইসের পক্ষ হতে একটি করে দুম্বা আকীকা করেছেন। (আবু দাউদ) 
তবে যে কেউ কোরবানির সময় আকিকা করতে পারেন। এক্ষেত্রেও ইসলাম নারী-পুরুষের সমতা বিধান করে। ইসলাম বিধান মতে - কোরবানীর গরুর মধ্যে ছেলের জন্য দুই অংশ এবং মেয়ের জন্য এক অংশ লইবে।

এবার বলুন, ইসলাম ছাড়া নারী-পুরুষের এই রকম সমান অধিকার কি কখনও সম্ভব?

২৬ ডিসেম্বর, ২০১২

ইসলামে কাম ও কামকেলি: একটি ধর্মকারী কুফরী কিতাব


আমার এক বিদেশী নাস্তিক বন্ধু একবার বলেছিল, তাকে যদি কোনও একটি ধর্ম বেছে নিতে বাধ্য করা হয়, সে ইসলাম বেছে নেবে দ্বিতীয়বার না ভেবে। আমার অবাক দৃষ্টি দেখে সে তার বক্তব্যের ন্যায্যতা প্রমাণ করলো এভাবে: পুরুষের জন্য এমন বৈধ ইন্দ্রিপরায়ণ জীবনযাপনের সুযোগ আর কোন ধর্মে আছে? 

তার কথার সত্যতা না মেনে উপায় নেই। অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাঙালি লেখক আবুল কাশেম-এর 'ইসলামে কাম ও কামকেলি' নামের গবেষণামূলক দীর্ঘ রচনা পড়ে অনেক নাস্তিক পুরুষই ইসলাম গ্রহণে প্রলুব্ধ হতে পারে  

সেই রচনাটিকে ইবুক আকারে প্রকাশ করা হলো। ইবুকটি বানিয়ে দিয়েছেন কৌস্তুভ - ধর্মকারীর নিবেদিতপ্রাণ স্বেচ্ছাসেবক, যিনি ঘোর ব্যস্ততা সত্ত্বেও বইটি বানানোর ইচ্ছে প্রকাশ করে নিজ উদ্যোগে যোগাযোগ করেছিলেন আমার সঙ্গে।

ফরম্যাট: পিডিএফ
সাইজ: ১.০৯ মেগাবাইট
ডাউনলোড লিংক
(লিংকের পাতায় গিয়ে ওপরে বামদিকে নিম্নমুখী তীরচিহ্নে ক্লিক করে ফাইলটি ডাউনলোড করুন)

পানপূজা


পাঠিয়েছেন দীপঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়


হুইস্কি পানে বিষ্ণুকে পাই
রম-এ তে শ্রীরাম,
ব্র্যান্ডি পানেই ব্রহ্ম মেলে
'দেশী'-টায় হুনুমান।
কাকেই বা ত্যাগ করি, সবের 
ভেতর ভগবান। 

* ছবি দেখা না গেলে বিকল্প লিংক

ভিডিও লিংকিন পার্ক - ১২


১.
যিশুর জন্ম হয়েছিল আসলে কবে? বাইবেলও এই প্রশ্নের নিশ্চিত উত্তর দিতে পারে না। 'লুক লিখিত সুসমাচার' ও 'ম্যাথিউ লিখিত সুসমাচার' থেকে পাওয়া যায় পরস্পরবিরোধী তথ্য। আরও মজার কথা এই যে, 'লুক লিখিত সুসমাচার'-এর ভেতরেও স্ববিরোধিতা আছে। বস্তুত যিশু বলে কেউ কখনও ছিলো, সেটার বাইবেল-বহির্ভূত কোনও প্রমাণ আজ অব্দি মেলেনি। অতি চমৎকার ভিডিও।
(৬.২৪ মিনিট)

২.
১৮৯৭ সালে আট বছর বয়সী এক বালিকা স্যান্টা ক্লজ নামে সত্যিই কেউ আছে কি না জানতে চেয়ে একটা চিঠি লিখেছিল নিউ ইয়র্ক সান পত্রিকায়। তার সেই চিঠির জবাবে তাকে স্যান্টার অস্তিত্ব সম্পর্কে আশ্বাস দেয়া হয়েছিল। না, সেই পত্রিকার উত্তর নিয়ে কোনও আপত্তি নেই। তবে উত্তরটি কীভাবে দেয়া যেতে পারতো, তার একটি অনবদ্য নমুনা দেখুন।
(৪.০৮ মিনিট)

৩.
American Atheists-এর সভাপতি ডেভিড সিলভারম্যানের সাক্ষাৎকার আমি আগ্রহ সহকারে দেখে থাকি। তবে সমস্যা হলো, খ্রিষ্টীয় চ্যানেলগুলো তাঁকে ডাকে বটে, তবে কথা বলার সুযোগ দিতে চায় না। সাক্ষাৎকারদাতার চেয়ে বেশি কথা বলে সাক্ষাৎকারগ্রহীতা। তবু ক্রিসমাসের আগে প্রচারিত এই ভিডিওর শেষ ১৬ সেকেন্ডের জন্য সিলভারম্যানকে বাহবা দিতেই হয়।
(৬.৩৬ মিনিট)

৪. 
গত বছর ক্রিসমাসের আগে পাঁড় খ্রিষ্টীয় চ্যানেলে ডেভিড সিলভারম্যানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। অনুষ্ঠানে তাঁর প্রতিপক্ষ ছিলো চারজন! কিন্তু কী অবলীলায় তিনি চারজনকে ধরাশায়ী (আক্ষরিক অর্থে নয়) করলেন! ভিডিওটি ধর্মকারীতে আগে প্রকাশিত 'একা এবং কয়েকজন' নামে। 
(১০.৪০ মিনিট)

৫.
ঘণ্টায় একশো মাইল গতিতে গাড়ি চালাচ্ছিল এক মহিলা, হর্ন বাজাচ্ছিল থেকে থেকেই। কারণ হিসেবে সে বললো, তাকে গাইড করছিল ঈশ্বরের স্পিরিট এবং ঈশ্বরই তাকে হর্ন বাজাতে বলছিল। 
(৩.০৬)

৬.
নতুন পোপের সম্বর্ধনা অনুষ্ঠান। ভিডিও-গেমের আদলে বানানো। পরম বিনোদনী।
(২.৪২ মিনিট)

৭.
ধর্ম হচ্ছে ব্যর্থ বিজ্ঞান। বলেছেন স্যাম হ্যারিস। আরও একটি দারুণ কথা বলেছে তিনি: সব ধর্মকে এক কাতারে ফেলা যায় না। খেলাখুলোয় যেমন ব্যাডমিন্টন এবং বক্সিং সমান ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ নয়, ধর্মগুলোর মধ্যেও সেই রকম তারতম্য বিদ্যমান। 
(৪.৪৯ মিনিট)

লক্ষ্য করুন:
ইউটিউব ব্লকড থাকলে:
১. http://www.youtube.com/...-এর বদলে https://www.youtube.com/... ব্যবহার করলে কাজ হচ্ছে বলে অনেকে জানিয়েছেন।
২. কাজ না হলে ভিডিও লিংকটি (অথবা ইউটিউবের যে কোনও লিংক) এই ঠিকানায় গিয়ে তালার ছবির ডানপাশের বক্সে বসিয়ে সরকারী সিদ্ধান্তকে কাঁচকলা দেখিয়ে অবলীলায় ভিডিও দেখতে থাকুন।

নিত্য নবীরে স্মরি – ১০৬


(পূর্ণাকারে দেখতে বা ছবি দেখা না গেলে বিকল্প লিংক

পাঠিয়েছেন কজমিক ডাস্ট
(পূর্ণাকারে দেখতে বা ছবি দেখা না গেলে বিকল্প লিংক)

লুক্স লিখিত সুসমাচার - ২০


লিখেছেন লুক্স

১৮৬.
২০টি শক্তিশালী রয়েল বেঙ্গল টাইগারকে হত্যা করার জন্য একজন আত্মঘাতী তালেবানই যথেষ্ট।

১৮৭.
দুইটা ব্যাপারে আমার খুব মেজাজ খারাপ হয়: একজন নারী যখন ইসলামের পক্ষে কথা বলে, আর একজন মুসলমান যখন কাফেরদের দেশে বাস করে ইসলামকে ডিফেন্ড করতে চায়। শুধু তা-ই নয়, ইসলামকে একমাত্র সত্য ধর্ম দাবী এবং প্রচার করে, আর মোহাম্মদের জীবনী না জেনেই তার জীবনাদর্শ অনুসরণ করার কথা বলে।

১৮৮.
মুসলিম হতে হলে কোরান-হাদিস পড়তে হয় না। অন্ধবিশ্বাসই (ঈমান) যথেষ্ট। আদম, ঈসা, মুসা - এরা কোরান-হাদিস না পড়েই মুসলিম ছিলেন।

১৮৯.
হিন্দুরা ভগবান ডেকে যাকে পুজো করেন – সেই ভগবান ব্যাপারটাই অশ্লীল। ‘ভগবান’ বলতে ঈশ্বরকে বোঝানো হলেও এটি আসলে হচ্ছে দেবরাজ ইন্দ্রের একটি কুখ্যাত উপাধি। তিনি তার গুরুপত্নী অহল্যার সতীত্ব নষ্ট করায় গুরুর অভিশাপে তার সর্বাঙ্গে একহাজার ‘ভগ’ (স্ত্রী যোনি) উৎপন্ন হয় এবং তাতে ইন্দ্রের নাম ‘ভগবান’ (ভগযুক্ত) হয়। ‘ভগবান' শব্দটি তাই ইন্দ্রের ব্যভিচারের একটি স্মারকলিপি, নিন্দনীয় বিশেষণ।

১৯০.
শুধুমাত্র পোষাকের জন্য মানুষ নষ্ট হয়ে যায় - এমন উদ্ভট ধারণা আমার বহু আগেই ভেঙেছে।

১৯১.
ইসলামের সমালোচনা মানেই কি অন্য কোন ধর্মকে প্রমোট করা? আজ হিন্দুধর্মের কোন পণ্ডিত এসে সতীদাহ বা বর্ণবাদের পক্ষে সাফাই গাইলেও একইভাবেই সমালোচনা করা হবে, কেউই ছাড়া পাবে না। অন্য ধর্মের সমালোচনা করা যাবে, আর ইসলামের করা যাবে না? অন্য ধর্মের লোকেরা বহু আগেই তাদের ধর্মের কালো কালাকানুন যেগুলি এ যুগে বাতিল বুঝতে পেরেছে, তাই তারা সেগুলি নিয়ে বাড়াবাড়ি করে না। বৈদিক বা বিবলিক্যাল সমাজ গঠনের দাবী তোলে না। তাদের কৃতিত্ব তো এ ক্ষেত্রে দিতেই হবে।

১৯২.
এই দায়িত্ব অবশ্যই আল্লাহকে নিতে হবে - তার ভুলে ভরা কোরান, তার সাম্প্রদায়িক বান্দা, আর মানুষের ১৪০০ বছরের অপব্যবহার।

১৯৩.
কোরানে কাফেরদেরকে “অকৃতজ্ঞ”, “অবাধ্য”, “জঘন্য” বিশেষণে বিশেষিত করা হয়েছে। বইটি পড়ে আমি শিখলাম যে, আমার সাথে কারও মতবিরোধ থাকলে তাকে মনে-প্রাণে ঘৃণা করা উচিত। আরো বলা হয়েছে যে, শিরক ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ, তবে কোনো মুশরিক নিবেদিত প্রাণে ক্ষমা প্রার্থনা করলে এবং আল্লাহর সুমতি হলে আল্লাহ এই পাপ ক্ষমা করে দিতে পারেন। এখানে আমি “ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ” অংশটির ওপর গুরুত্ব আরোপ করছি। এ থেকে আমরা খুব সহজেই বুঝতে পারি, হিন্দু ও অন্য সব পৌত্তলিকদের ব্যাপারে একজন আদর্শ মুসলমানের দৃষ্টিভঙ্গি কীরকম হওয়া উচিত।

১৯৪. 
পেট্রোল ডিজেল ব্যবহারকারী গাড়ির থেকে উট যানবাহন হিসেবে অনেক বেশি পরিবেশবান্ধব ছিল, তাই বলে আপনি এখন গাড়ি ফেলে উটের পিঠে চড়ে বসবেন?

১৯৫.
উমর এতই ন্যায়পরায়ণ ছিলেন যে, তিনি মদ্যপানের অপরাধে তাঁর পুত্র আবু শাহমাকে কঠোর শাস্তি দিয়েছিলেন। 
কাজী নজরুলের “ওমর ফারুক” কবিতা থেকে আমরা জানতে পারি, তিনি আবু শাহমাকে চাবুক মারতে মারতে মেরেই ফেলেছিলেন। (কবি নজরুল এর মধ্যে ওমরের “ন্যায়পরায়নতা” দেখতে পেয়েছিলেন।) 

নাম দেখি তার অগ্রে ও পশ্চাতে


মমিনেরা গাছে, ডালে, মাছে, মাংসে, পাতায়, মূলে আরবি ভাষায় খচিত আল্লাহর নাম খুঁজে পায়, এমন ছবি আপনারা অসংখ্যবার দেখেছেন। ভালোভাবে লক্ষ্য করলে কিন্তু অনেক বেমক্কা জায়গাতেও আল্যাফাকের নাম দেখতে পাওয়া যায়। 

ঐতিহ্যবিরোধী 'আল্লাহ-দর্শনের' পাঁচটি ছবির ছোট্ট সংকলন।

(ছবি দেখা না গেলে বিকল্প লিংক)

সৌজন্য: শয়তানের চ্যালাকৌস্তুভ
(ছবি দেখা না গেলে বিকল্প লিংক)

যুক্তির কাঠগড়ায় কুরান-হাদিস - ০১


লিখেছেন রাইট হার্ট

যুক্তি - ১

ইসলামে বর্ণিত সৃষ্টিকর্তা, যিনি কুরআনে নিজেকে 'আল্লাহ' নামে পরিচিত করেছেন, তিনি তাঁর ধর্মে মানুষকে দীক্ষিত করতে প্রলুব্ধ করেছেন বিধর্মীদের মালামাল লুটের প্রতিশ্রুতি দিয়ে । নিচে আয়াত দেখুন ~
আল্লাহ তোমাদেরকে বিপুল পরিমাণ যুদ্ধলব্ধ সম্পদের ওয়াদা দিয়েছেন, যা তোমরা লাভ করবে। তিনি তা তোমাদের জন্যে ত্বরান্বিত করবেন । (কোরান ৪৮:২০) 
এভাবে বিধর্মীদের সাথে পরিচালিত ধর্মের নামে যুদ্ধে প্রাপ্ত মালামালের বন্টনের ব্যবস্থাও সেই অসীম শক্তিশালী আল্লাহ করে দিয়েছেন। এতে প্রাপ্ত মালের পাঁচ ভাগের এক ভাগ আল্লাহর এবং তার প্রাণপ্রিয় স্বেচ্ছাসেবী মুহম্মদের, যিনি নিজ উদ্যোগে আল্লাহর মনোনীত ধর্ম প্রচারে নিজেকে সঁপে দিয়েছিলেন। নিচে আয়াত দেখুন ~
কোন বস্তু-সামগ্রীর মধ্য থেকে যা কিছু তোমরা গনীমত হিসাবে পাবে, তার এক পঞ্চমাংশ হল আল্লাহর জন্য, রসূলের জন্য, তাঁর নিকটাত্নীয়-স্বজনের জন্য। (কোরান ৮:৪১) 
এ ছাড়াও আল্লাহ তাঁর শান্তির পথে ছুটে আসা পুরুষ সমাজের বিনোদনের জন্যে বিধর্মী স্ত্রী-কন্যাদের যৌনাঙ্গ তথা সম্ভ্রম ভোগের অনুমোদন দিয়ে রেখেছেন। এতে করে শান্তির পথে থাকা আল্লাহর বান্দারা ধর্মযুদ্ধে নিজেদের পুরুষাঙ্গের জ্বালা মেটাতে বন্দি রমণীদের ইচ্ছেমত ভোগ করতে ও বিক্রি করে কিছু আয় করতে পারবেন। আয়াত দু'টি দেখুন ~
এবং নারীদের মধ্যে তাদের ছাড়া সকল সধবা স্ত্রীলোক তোমাদের জন্যে নিষিদ্ধ; তোমাদের দক্ষিণ হস্ত যাদের মালিক হয়ে যায়-এটা তোমাদের জন্য আল্লাহর হুকুম। (কোরান ৪:২৪)
হে নবী! আপনার জন্য আপনার স্ত্রীগণকে হালাল করেছি, যাদেরকে আপনি মোহরানা প্রদান করেন। আর দাসীদেরকে হালাল করেছি, যাদেরকে আল্লাহ আপনার করায়ত্ব করে দেন। (কোরান ৩৩:৫০)
সুতরাং দেখা যাচ্ছে, আল্লাহ নামক সৃষ্টিকর্তার শান্তির ধর্ম একজন পুরুষকে দিতে পারে স্বার্থ উদ্ধারের এক মহান পথের সন্ধান, যেখানে পকেট ভর্তি + পুরুষাঙ্গ তৃপ্তি দুটোরই নিশ্চয়তা দিচ্ছেন সেই মহান কারিগর।

যুক্তি - ২

কোরান ৪৯:১৬ অনুসারে আল্লাহ সর্বজ্ঞ অর্থাৎ তিনি 'কী ঘটছে' বা 'কী ঘটবে' সে বিষয়ে জ্ঞাত রয়েছেন। আবার কোরান ২:১৫৫ অনুসারে আল্লাহ তার বান্দাদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরীক্ষা করে দেখবেন, সে বিষয়ে জানাচ্ছেন। 

কিন্তু প্রশ্ন হল, যিনি সর্বজ্ঞ আছেন, তিনি কোন উদ্দেশ্যে পরীক্ষার কথা উল্লেখ করবেন, কেননা ফলাফল তো তাঁর জানা থাকার কথা! এখন আপনি যদি দাবি করেন, মানুষ তার কাজের দ্বারা ফলাফল পরিবর্তন করতে পারে, তাতে আবার অন্য এক প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। যদি মানুষের এমন ক্ষমতা থেকে থাকেই, তাহলে বলা যায়, আল্লাহ সর্বজ্ঞ নন, যেহেতু তিনি পরিবর্তন হওয়া ফলাফল সম্বন্ধে জ্ঞাত নন! তাহলে দেখা যাচ্ছে যে, কুরানের উল্লেখিত দুই আয়াত পারস্পরিক সাংঘর্ষিক! এক আয়াত সত্য ধরলে অন্য আয়াত এখানে মিথ্যা প্রমাণিত হচ্ছে।

কোরান ১০:১০০ অনুসারে আল্লাহর ইচ্ছে ব্যতিত কারো সাধ্য নেই তাঁর ওপর বিশ্বাস নিয়ে আসে। আবার কোরান ৪:৮৮ অনুসারে আল্লাহই তাদেরকে ভুল পথে অর্থাৎ খারাপ কাজে বা অবিশ্বাসি হওয়ার পথে চালিত করেন। 

প্রশ্ন হল, মানুষের খারাপ কাজ বা অবিশ্বাসী হওয়ার মূলে যদি সেই আল্লাহই থেকে থাকেন, তবে এমন বান্দাদের জাহান্নামের আগুনে পোড়ানো বা তাদেরকে ধরে ধরে হত্যা করো জাতীয় নির্দেশনা দেওয়ার অর্থ কী হতে পারে? এক্ষেত্রে 'আল্লাহ' নামক সৃষ্টিকর্তাকে শয়তান বলে বোধ হয়, যে নিজেই একজন মানুষকে ভুল পথে চালিত করে উক্ত ভুলের জন্যে সাজা নির্ধারণ করে রেখেছে!