৩১ অক্টোবর, ২০১২

কুইঞ্চেন দেহি



ধর্মাতুল কৌতুকিম – ৫০


১৪২.
ধর্মশিক্ষার ক্লাস। শিক্ষক বলছেন:
- যিশুকে ক্রুশে বিদ্ধ করা হয়েছিল পেরেক দিয়ে। কিন্তু তিনি কিছু প্রার্থনাবাণী আউড়ে ক্রুশ ছেড়ে স্বর্গে পৌঁছে যান। 
এক বালক উঠে দাঁড়িয়ে বললো:
- আমার মনে হয়, স্যার, পেরেকের বদলে স্ক্রু ব্যবহার করার প্রয়োজন ছিলো। 

১৪৩.
ক্যাথলিক ধর্মযাজক যাচ্ছিলো গাড়ি চালিয়ে। ট্র্যাফিক পুলিশ থামালো তাকে। জানালার কাচ নামাতেই অ্যালকোহলের গন্ধ পেলো সে। 
- মদ খেয়েছেন? 
- অসম্ভব! - সকাল থেকে পানি ছাড়া আর কিছুই খাইনি। এই দেখুন বোতল। 
সে একটি বোতল বাড়িয়ে দিলে ট্র্যাফিক পুলিশের দিকে। 
- এটা তো মতের বোতল!
দু'হাত ওপরে তুলে ধর্মযাজক বললো:
- ঈশ্বর, তুমি আবার অলৌকিক ঘটনা ঘটালে, পানিকে বানালে মদ! 

১৪৪.
পুলিশে অফিসে ফোন।
- হ্যালো, জলদি মহিলামঠে (Women's Monastery) আসুন! রেইপ কেইস!
- সব্বোনাশ! - পুলিশ অফিসার বললো। - কে রেইপড হয়েছে?
- ডাকপিওন।

চিত্রপঞ্চক - ২৪


'মার ঝাড়ু মার ঝাড়ু মেরে ঝেঁটিয়ে বিদেয় কর...' 

'বিশ্বাসে মিলায় বস্তু...' - কী বস্তু এদের মিলেছে, জানতে সাধ হয়। (পাঠিয়েছেন: RTPICCHI)

নিঃসীম নূরানী অন্ধকারে - ৪২


লিখেছেন তামান্না ঝুমু

২০৬.
আল্লা বলেছেন, প্রিয়তম প্রাণ তাঁর উদ্দেশ্যে খুন করতে। তাহলে তিনি খুব খুশি হবেন। হাট থেকে কিনে আনা অপরিচিত একটি পশু কেমন করে কারো প্রিয়তম হতে পারে, বুঝি না!

২০৭.
আমি অনেক স্বঘোষিত নাস্তিক, অজ্ঞেয়বাদী ও সংশয়বাদীকে দেখেছি জুম্মার নামাজ পড়তে, পূজা করতে, ঈদের নামাজ পড়তে এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি পালন করতে। তারা বলে থাকে, এসব তারা সামাজিকতা হিসেবে করে; ধর্ম পালন হিসেবে নয়। আমি বুঝি না, প্রার্থনার অভিনয় কীভাবে সামাজিকতার অংশ হয়! এটা তো ধর্মের সাথেও প্রতারণা, আবার নিজের সাথেও। তেমনি অনেক নাস্তিকই ধুমধাম করে পশু জবাই করে উল্লাস করে। জানি না, হত্যাকাণ্ডে তাদের এত আনন্দ আসে কীভাবে। 

২০৮.
আল্লাহ ওদের হৃদয় ও কর্ণে মোহর মেরে দিয়েছেন এবং ওদের রয়েছে চক্ষু পরিপর্দা, ওদের জন্য আছে শক্ত শাস্তি। (কুরান ২:৭)
যাদেরকে মোহর মেরে শ্রবণ-প্রতিবন্ধী করে রাখা হয়েছে, দোষ কি তাদের? নাকি যে এই জঘন্য অপরাধ করেছে, তার? শক্ত শাস্তি কার প্রাপ্য, অপরাধকারীর নাকি ভিকটিমের?

২০৯.
অবশ্যই স্রষ্টা আছেন। নাহলে সৃষ্টি এলো কোত্থেকে? সেই স্রষ্টার স্রষ্টার স্রষ্টার স্রষ্টার ... ... ... স্রষ্টারও স্রষ্টা আছেন। না হলে তাঁরা এলেন কোত্থেকে?

২১০,
খাদিজা যদি মুহাম্মদের পরে মারা যেত, তবে ইসলামের ইতিহাস অন্যরকম হত।

ভূত-কিম্ভুত



ইসলামে কাম ও কামকেলি - ৪৪ (শেষ পর্ব)


মূল রচনা: আবুল কাশেম (সেক্স এন্ড সেক্সুয়ালিটি ইন ইসলাম)
অনুবাদ: খেলারাম পাঠক

(সতর্কতা: নরনারীর যৌনাচার নিয়ে এই প্রবন্ধ। স্বাভাবিকভাবেই কামসম্পর্কিত নানাবিধ টার্ম ব্যবহার করতে হয়েছে প্রবন্ধে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যবহৃত ভাষার মধ্যেও তাই অশালীনতার গন্ধ পাওয়া যেতে পারে। কাম সম্পর্কে যাদের শুচিবাই আছে, এই প্রবন্ধ পাঠে আহত হতে পারেন তারা। এই শ্রেনীর পাঠকদের তাই প্রবন্ধটি পাঠ করা থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করা যাচ্ছে। পূর্ব সতর্কতা সত্বেও যদি কেউ এটি পাঠ করে আহত বোধ করেন, সেজন্যে কোনভাবেই লেখককে দায়ী করা চলবে না।)

পর্ব ০১ > পর্ব ০২ > পর্ব ০৩ > পর্ব ০৪ > পর্ব ০৫ > পর্ব ০৬ > পর্ব ০৭ > পর্ব ০৮ > পর্ব ০৯ > পর্ব ১০ > পর্ব ১১ > পর্ব ১২ > পর্ব ১৩ > পর্ব ১৪ > পর্ব ১৫ > পর্ব ১৬ > পর্ব ১৭ > পর্ব ১৮ > পর্ব ১৯ > পর্ব ২০ > পর্ব ২১ > পর্ব ২২ > পর্ব ২৩ > পর্ব ২৪ > পর্ব ২৫ > পর্ব ২৬ > পর্ব ২৭ > পর্ব ২৮ > পর্ব ২৯ > পর্ব ৩০ > পর্ব ৩১ > পর্ব ৩২ > পর্ব ৩৩ > পর্ব ৩৪ > পর্ব ৩৫ > পর্ব ৩৬ > পর্ব ৩৭ > পর্ব ৩৮ > পর্ব ৩৯ > পর্ব ৪০ > পর্ব ৪১ > পর্ব ৪২ > পর্ব ৪৩

ইসলামপূর্ব এবং ইসলাম-পরবর্তী আমলে অমানবিক যৌনদাসত্ব প্রথা প্রচলিত ছিল। এই প্রথাকে ইসলাম সমর্থন করে এবং ইসলামের মহামনীষীরা তাদের জীবনে তা নিষ্ঠার সাথে পালন করে গেছেন। কিন্তু মুশকিল হলো এই যে, আধুনিক ইসলামপন্থীরা এই সত্যটা স্বীকার করতে চান না। তারা খোঁড়া যুক্তি দেখিয়ে প্রমাণ করতে চান যে, ইসলাম দাসীদের সাথে সহবাসের অনুমতি দিয়েছে ঠিকই, তবে সহবাসের আগে দাসীটিকে বিয়ে করে নিতে হবে। তাদের এই যুক্তি যে নেহায়েতই খোঁড়া যুক্তি এবং আসল সত্যকে আড়াল করার অপপ্রয়াস, আশা করি ইসলামী শাস্ত্র ঘেটে আমি এতক্ষণে তা প্রমাণ করতে পেরেছি। 

ক্রীতদাসী এবং স্ত্রী যে সম্পুর্ণ ভিন্ন ভিন্ন দুটি প্রজাতি, আশা করি পাঠক-পাঠিকরা তা ভালভাবেই অনুধাবন করতে পেরেছেন। আমি এখন শেষ তথ্যটি পেশ করে প্রসঙ্গটির এখানেই ইতি টানতে চাই। আসল সত্য এই যে, একজন মুসলমান বাজার থেকে ক্রীতদাসী ক্রয় করে তার সাথে যৌনমিলন ঘটাতে পারে, তবে তাকে বিয়ে করতে পারে না! নিজের ক্রীতদাসীকে বিয়ে করা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ! বিশ্বাস হচ্ছে না তো? তাহলে হেদাইয়া বর্ণিত নীচের আইনটি পড়ে নিন।

নিজের ক্রীতদাসীর সাথে বিবাহ নিষিদ্ধ, তবে সেক্স করা জায়েজ---(প্রাগুক্ত-পৃ-৩১৭)।
আইনের দৃষ্টিতে বিবাহের অযোগ্যতা:
বিবাহের ক্ষেত্রে নয়টি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, যথা:-
...
(৮) এমন স্ত্রীলোক যে সম্পত্তি হিসেবে বিবেচিত (prohibited by reason property), তার সাথে বিবাহ নিষিদ্ধ। যথা - নিজের ক্রীতদাসীর সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া অবৈধ (অপরের মালিকানাধীন দাসীকে বিবাহ করা বৈধ)।

রেফারেন্সসমুহ:

১. দ্য হলি কোরান; অনুবাদ- আঃ ইউসুফ আলী, পিক্থল, শাকির।
২. সহি বুখারি; অনুবাদ- ডঃ মোহম্মদ মহসিন খান।
৩. সহি মুসলিম; অনুবাদ- আব্দুর রহমান সিদ্দিকী।
৪. সুনান আবু দাউদ; অনুবাদ- প্রফেসর আহম্মদ হাসান।
৫. ইমাম মালিক রচিত মুয়াত্তা; অনুবাদ- আ’শা আব্দুর রহমান এবং ইয়াকুব জনসন।
৬. ডিকসনারি অব ইসলাম-১৯৯৪, গ্রন্থকার- টি.পি.হাফস।
৭. ইমাম গাজ্জালির ইয়াহ্ আল উলুমেদ্দিন (আব্দেল সালাম হারুন কর্তৃক সংক্ষেপিত-১৯৯৭); ডঃ আহম্মদ এ. জিদান কর্তৃক সংশোধিত এবং অনুদিত।
৮. রিলাইয়ান্স অব দ্য ট্র্যাভেলার (সংক্ষিপ্ত সংস্করণ)-১৯৯৯, গ্রন্থকার- আহম্মদ ইবনে নাগিব আল মিসরি, সংকলক- নুহ হা মিম কেলার।
৯. শারিয়া দ্য ইসলামিক ল’-১৯৯৮, গ্রন্থকার-আব্দুর রহমান ই. ডই।
১০. ইবনে ইসহাকের সিরাত রাসুলুল্লাহ, অনুবাদ- এ. গুইলম, ১৫তম সংস্করণ।
১১. দ্য হেদাইয়া কমেন্টারি অন দ্য ইসলামিক ল’স-(পুণর্মুদ্রন-১৯৯৪); অনুবাদ- চার্লস হ্যামিল্টন।

(শেষ)

৩০ অক্টোবর, ২০১২

কুরানে বিগ্যান (পঞ্চদশ পর্ব): কুরানের ফজিলত!


লিখেছেন গোলাপ


আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) তাঁর আল্লাহর উদ্ধৃতি দিয়ে ঘোষণা করেছেন যে, তাঁকে বিশ্বাস ও মান্য করে তাঁর বাণীকে (কুরান) অনুসরণের ফজিলত (উপকারিতা) বহুবিধ! অল্প কিছু উদাহরণ: 

২:২ - এ সেই কিতাব যাতে কোনই সন্দেহ নেই। পথ প্রদর্শনকারী পরহেযগারদের জন্য 

১৬:৬৪ - আমি আপনার প্রতি এ জন্যেই গ্রন্থ নাযিল করেছি, যাতে আপনি সরল পথ প্রদর্শনের জন্যে তাদের কে পরিষ্কার বর্ণনা করে দেন, যে বিষয়ে তারা মতবিরোধ করছে এবং ঈমানদারকে ক্ষমা করার জন্যে। 

১৮:২ - একে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন যা আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি ভীষণ বিপদের ভয় প্রদর্শন করে এবং মুমিনদেরকে যারা সৎকর্ম সম্পাদন করে-তাদেরকে সুসংবাদ দান করে যে, তাদের জন্যে উত্তম প্রতিদান রয়েছে। 

>>> অর্থাৎ, যারা মুহাম্মদকে (আল্লাহ) বিশ্বাস করে তার হুকুম তামিল করবে, শুধু তারাই হবে, "(সত্য) পথ-প্রাপ্ত, ক্ষমা-প্রাপ্ত, উত্তম প্রতিদান-প্রাপ্ত এবং রহমত-প্রাপ্ত (১৭:৮২)"; কিন্তু যারা মুহাম্মদ ও তার কথাকে বিশ্বাস করবে না, তার কথামত চলবে না, তাদের কী হবে? তাদের জন্য শুধু ক্ষতি আর ক্ষতি! তাদের ক্ষতি বাড়তেই থাকবে! মুহাম্মদের ভাষায়: 

আমাদের আত্মীয়েরা – ৫৪




হরর হাদিস - ০২


নবীজি ছিলো দয়ার আধার। মাঝেমধ্যে তাকে কঠিন হতে হতো, কিন্তু তখনও মানবতাবোধ তাকে ছেড়ে যেতো না।

মানবতার দৃষ্টান্ত নম্বর এক: 
একদিন এক মহিলা নবীজির কাছে এসে বললো, আমি পাপ করেছি। আমি পরপুরুষ গমন করেছি। আমাকে পাপমুক্ত করুন। পরনারীগমন ও বিবাহবহির্ভুত সম্পর্কস্থাপনপটু নবীজি তাকে ক্ষমা করলো না। পরদিন মহিলা এসে জানালো, আমি গর্ভধারণ করেছি। নবী তখন বললো, তাহলে তুমি সন্তানজন্মদান পর্যন্ত অপেক্ষা করো। 

মানবতার দৃষ্টান্ত নম্বর দুই:
সন্তানের জন্ম হবার পর তাকে পুরনো ছিন্ন কাপড়ে জড়িয়ে মহিলা এলো নবীজির কাছে। নবীজি তাকে বললো, এখন চলে যাও, তাকে বুকের দুধ খাওয়াতে থাকো। বুকের দুধ খাওয়ার অভ্যাস যখন তার থাকবে না, তখন আমার কাছে এসো। 

মানবতার দৃষ্টান্ত নম্বর তিন:
সন্তান মাতৃদুগ্ধের অভ্যেস ত্যাগ করলে মহিলাটি আবার দেখা করলো নবীজির সঙ্গে। সন্তানের হাতে ছিলো তখন এক টুকরো রুটি। সেটি দেখিয়ে মহিলা জানালো, শিশুটি বুকের দুধ খাবার অভ্যেস ত্যাগ করেছে। এখন সে খাদ্য খেতে পারে। নবীজি তখন শিশুটির দায়িত্ব দিলো বিশ্বস্ত এক ব্যক্তিকে। 

মানবতার দৃষ্টান্ত নম্বর চার:
এর পর নবীজি মহিলাটির শাস্তি ঘোষণা করলো। তাকে বুক পর্যন্ত মাটিতে পুঁতে তার প্রতি পাথর নিক্ষেপ করে হত্যার হুকুম দিলো নবীজি। খালিদ নামের এক ব্যক্তি মহিলাটিকে লক্ষ্য করে এক খণ্ড পাথর সবেগে ছুঁড়ে মারলে রক্ত ছিটকে এসে পড়লো তার নিজের মুখে। তখন সে মহিলাকে গালিগালাজ করতে শুরু করলো। সেটা শুনে মানবতাবাদী নবী বললো, খালিদ, তার সঙ্গে ভদ্র ব্যবহার করো। 

মানবতার দৃষ্টান্ত নম্বর পাঁচ:
পাথর ছুঁড়ে মহিলাটিকে হত্যা করার পর নবীজি তার জন্য প্রার্থনা করলো আল্লাহপাকের কাছে ও তাকে সমাধিস্থ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করলো। 

ওপরোক্ত ঘটনা থেকে প্রমাণিত হয়, নবীর মোর দয়ার খনি। 

সূত্র: Sahih Muslim Book 017, Hadith Number 4206

নির্ধার্মিক মনীষীরা – ৭৫



আমার বোরখা-ফেটিশ – ৫৯




কীভাবে বুঝিবো তারে


এক ক্যান্সারাক্রান্ত মহিলার স্বামী মাসের পর মাস নিয়মিতভাবে যিশুর আকৃতি সম্বলিত এক ক্রুশের সামনে দাঁড়িয়ে তার স্ত্রীর রোগমুক্তি কামনা করে প্রার্থনা করতো। এক সময় তার স্ত্রী সত্যিই সুস্থ হয়ে উঠলে সে নিশ্চিত হয়, আরোগ্যলাভের জন্য সমস্ত প্রশংসা প্রাপ্য এই ক্রুশের। কৃতজ্ঞতার ঋণ শোধ করতে সে সেই ক্রুশ ধোয়ামোছার দায়িত্ব নিতে চার্চের কাছে আবেদন করে। এক সময় চার্চ তাকে অনুমতি দেয়। একদিন সেই ক্রুশ ভেঙে পড়ে তাকে আহত করে প্রচণ্ডভাবে এবং তার পা কেটে ফেলতে হয়ে অপারেশনের মাধ্যমে। 

বিস্তারিত খবর এখানে। উৎসাহীরা দেখে নিতে পারেন পোনে দু'মিনিটের ভিডিও-রিপোর্ট। 

লক্ষ্য করুন:
ইউটিউব ব্লকড থাকলে:
১. http://www.youtube.com/...-এর বদলে https://www.youtube.com/... ব্যবহার করলে কাজ হচ্ছে বলে অনেকে জানিয়েছেন।
২. কাজ না হলে নিচে দেয়া ভিডিও লিংকটি (অথবা ইউটিউবের যে কোনও লিংক) এই ঠিকানায় গিয়ে তালার ছবির ডানপাশের বক্সে বসিয়ে সরকারী সিদ্ধান্তকে কাঁচকলা দেখিয়ে অবলীলায় ভিডিও দেখতে থাকুন।

২৯ অক্টোবর, ২০১২

ধর্মঘাতক জীবাশ্ম



লুক্স লিখিত সুসমাচার - ০৭


লিখেছেন লুক্স

৫৬.
ধর্ম আর ধর্মগ্রন্থগুলো যে মধ্যযুগীও, বর্বর আর হিংস্র মানুষের তৈরি, ধার্মিকরা তা প্রতি পদে পদে প্রমাণ করে। তালেবানরা একটু বেশিই করে। কারণ তালেবানরাই সবচেয়ে খাঁটি মুসলমান, তারাই সবচেয়ে বেশি কোরান আর সুন্নাহ অনুসরণ করে।

৫৭.
যে জাতি যত বেশি অশিক্ষিত, অনুন্নত ও দুর্নীতিবাজ, সে জাতির ধর্মানুভূতি ততো বেশি।

৫৮.
ধর্মে বিশ্বাসীরা অনেক সময় প্রশ্ন করেন, ধর্মে বিশ্বাস রেখেও কি মুক্তমনা হওয়া যায় না? সোজা এবং সরাসরি উত্তর হলো, হওয়া যায় না। মুক্তমন বলতে চিন্তার স্বাধীনতা বোঝায়, আর ধর্ম হলো চিন্তার পরাধীনতা - চিন্তার দাসত্ব। দুটোর সহাবস্থান কোনোভাবেই সম্ভব নয়। ধার্মিকের দেহ-মন, আশা-আকাংখা, ইচ্ছা-অনিচ্ছা, সুখ-দুঃখ, অর্থবিত্ত, মান-সম্মান, বর্তমান ও ভবিষ্যতের নিয়ন্ত্রক ও মালিক একমাত্র ঈশ্বর। দু'জন মুক্তমনা নর-নারী বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ না হয়েও ঘর-সংসার করতে পারে, দু'জন ধর্মবিশ্বাসী নর-নারীর মনে চাইলেও তা করতে পারবে না। জীবদ্দশায় ইচ্ছা থাকলেও তাদের দেহের কোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ মৃত্যুর পরে কাউকে দিতে পারবে না। এসব করতে চাইলে তাদের রেশম কোমল ‘ঈমান’ নষ্ট হয়ে যেতে পারে!

৫৯.
চুরি করার আগে বিসমিল্লাহ, পাবলিকরে ভোদাই বানাইতে ইনশাল্লাহ, ফটোশপ দেইখ্যা সুবাহানাল্লাহ আর কাউরে কাইট্যা ফালাইবার সময় আল্লাহু আকবার পড়া মুসলমানের জন্য উত্তম। 

৬০. 
Facebook-এ সুন্দর সুন্দর মসজিদের ছবি share করে কি আর আল্লার অস্তিত্ব প্রমাণ করা যায়?

৬১. 
বিজ্ঞানের সব গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারই প্রথমে ইসলামে হারাম থাকে। পরে তা হালাল হয়ে যায়। চলচ্চিত্রও ইসলামে একসময় হারাম ছিল, এখন তা হালাল। সৌদি আরবও তাদের প্রথম চলচ্চিত্রটি বানিয়ে ফেলেছে কিছুদিন আগেই। আমি বলতে চাচ্ছি, মুসলমানরা চলচ্চিত্র দ্যাখে। খুব দ্যাখে। যে চলচ্চিত্রটি যত বেশি নিষিদ্ধ বা বিতর্কিত, সেটা আরো বেশি করে দ্যাখে। যেহেতু তারা মাতৃভাষায় কোরান পড়ার চেয়ে চলচ্চিত্র দেখতে বেশী আগ্রহী, তাই ইসলামের ইতিহাস নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণে তাদের এতো আপত্তি কেন? ইসলামের ইতিহাস নিয়ে ভালো ও সিরিয়াস চলচ্চিত্র নির্মান খুবই সময়োপযোগী ও প্রয়োজনীয়। ১৪০০ বছর পরও মুসলমানরা ইসলামের সঠিক ইতিহাস জানবে না, এটা হতে পারে না।

৬২. 
যে ধর্মগ্রন্থ পুরুষের জন্য যুদ্ধ ফরজ করে; বহু বিবাহ, শিশু বিবাহ, বউ পিটানো, দাসী ভোগ, যুন্ধবন্দী নারী ভোগ, ইসলাম ত্যাগীকে হত্যায় উৎসাহিত করে, সে গ্রন্থ সমস্ত মানব জাতির জন্য হয় কীভাবে?

৬৩.
যখন আপনি আপনার যুক্তিকে শিকেয় তুলে অযৌক্তিক জিনিসে বিশ্বাস করা শুরু করেন, তখন আপনি যে কোনো কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারেন। একবার যখন আপনি নিজেকে বোকা বানিয়েছেন, তখন সারাজীবন বোকা হবার জন্য আপনাকে প্রস্তুত থাকতে হবে, কারণ বোকামির শেষ নেই। এমন ক’জন আছেন যারা ৫৪ বছরের এক বুড়োর সাথে ৯ বছরের একটা বাচ্চা মেয়েকে শুতে দেবে? এর জন্য দরকার চুড়ান্ত গাধামী। আর এই গাধামী শুধুমাত্র অন্ধ বিশ্বাসের মাধ্যমেই সম্ভব হতে পারে।

৬৪.
পৃথিবীতে ১০,০০০ এর ও বেশি ধর্ম আছে।প্রতিটা ধর্ম সম্পর্কে বিশদভাবে জানা আর তার ভুল ধরে সমালোচনা করা আমার একার পক্ষে সম্ভব নয়। যে ধর্মগুলো সমাজে বা রাষ্ট্রে বেশি সমস্যা আর অশান্তি সৃষ্টি করে, আগে সেই ধর্মের সমালোচনা করাই জরুরি। অসুখ যেখানে বেশি, ওষুধও সেখানে বেশী দিতে হয়।

৬৫.
ছাগলরে সাবান দিয়া গোসল করাইলে ছাগলের চামড়ার ক্ষতি হয় আর সাবানেরও অপচয় হয়।

সৌদি নারীদের ভোটাধিকার



* ২০১৫ সালের নির্বাচনে সৌদি নারীরা প্রথমবারের মতো ভোট দিতে পারবেন।

বৌদ্ধধর্মীয় বল্দার্গু


লিখেছেন চিন্তিত সৈকত

বৌদ্ধধর্ম নিয়ে সম্প্রতি কিছু বই পড়াশুনা করতে গিয়ে দেখলাম, কিছু লেখক বৌদ্ধধর্মে পরিপূর্ণ বিজ্ঞান খুঁজে পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন হচ্ছে ড. দীজেন বড়ুয়া। দীজেন সাহেব তাঁর “বৌদ্ধধর্মের মতবাদ ও ধর্মদর্শন” বইতে ‘বৌদ্ধধর্ম এবং আধুনিক বিজ্ঞান’ নামক অধ্যায়ে দাবী করেছেন: “বৌদ্ধধর্মের পক্ষে বর্তমান প্রাণীবিজ্ঞান প্রদত্ত সৃষ্টির ক্রম বিবর্তনবাদ গ্রহণ করতে কোন অসুবিধা নেই।” যদিও একটু চমকে উঠলাম, তবুও এই প্রশ্নের উত্তর উইকিতে খুঁজতে গিয়ে দেখলাম, “Buddhists tacitly accept the theory of evolution.” বা চমৎকার বৌদ্ধধর্ম বিবর্তনতত্ত্ব গ্রহণ করেছে!

কিন্তু মুশকিল হল, ৪৪৭ টি জাতক, চরতিমালা, সূত্রপিটক, অভিধর্মপিটক, বিনয়পিটক কোথাও বুদ্ধ কি বিবর্তনের কথা সরাসরি বলেছেন? বুঝতে পেরেছি বুদ্ধকে মারে এই সুকর্ম থেকে দূরে রেখেছিলেন! বুদ্ধ যদি একবার বলে যেতেন বিবর্তনের কথা, তাহলে দাড়িওয়ালা ডারউইনকে দ্বীপে দ্বীপে ঘুরতে হত না বিবর্তন বিষয়ক প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে। বুদ্ধের এতগুলো জাতক পড়ে পেলাম না ডাইনাসরের কথা, কোনো জায়গায় পেলাম না এপ-প্রজাতির কথা। শুনেছি কৈশোরে বুদ্ধ খুব ভালো অশ্বারোহী ছিলেন। বুদ্ধের কি জানা ছিল ছয় কোটি বছর আগে এনিকুস পর্বের ঘোড়ার কথা? আটাশ বুদ্ধের জীবনী পড়ে জীবনী পড়ে বুঝলাম, বৌদ্ধধর্মের মিথলজি বেশ চমৎকার। বলা যায়, কোনো অংশে হিন্দু বা ইসলাম থেকে কম না। বৌদ্ধধর্মের স্বর্গ-নরকের বিবরণ পড়লে তো হাসতে হাসতে পটল তোলার সম্ভাবনা আছে। আসলে অস্বীকার করাও যাবে না, আজ থেকে আড়াই হাজার বছর আগে মানুষ এইসব বিশ্বাস করবে না-ই বা কেন? মানুষের ছিলো না কোনো উন্নত প্রযুক্তি, তাই বুদ্ধের সব গল্প বিশ্বাস করতে হত। 

আটাশ জন বুদ্ধের মধ্যে অনেকের বয়স শুনলে আপনি হয়তো আকাশ থেকে পড়বেন। প্রসঙ্গত নিচ্ছি কাশ্যপ বুদ্ধের কথা। কাশ্যপ ছিল বিশ হাত লম্বা! চিন্তা করে দেখুন কত বড় লম্বা মানুষ, একটা জিরাপও এত বড় লম্বা হয় না, অনেক সময় বাঁশও এত্ত বড় হয় না। আরও মজার হচ্ছে ক্যাসপ বুদ্ধ আড়াই হাজার বছর জীবিত ছিলেন। বিপাস্যি বুদ্ধ যিনি ছয় তলা বিল্ডিংয়ের মত আশি হাত লম্বা ছিলেন। ইস দশ হাতের জন্য হযরত আদমের সমান হতে পারলো না। এই মহান দৈত্ত্যটি অর্থাৎ বিপাস্যি বুদ্ধ আট হাজার বছর জীবিত ছিলেন। বৌদ্ধরা এইসব মনে প্রাণে বিশ্বাস করে, কিন্তু বিশ্বাস করতে পারে না, হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী - আদম নব্বই ফুট লম্বা ছিল। বিশ্বাস হয় না, আদিম যুগের কাহিনীতে অর্ধেক মানুষ অর্ধেক ঘোড়ার Centaurs অদ্ভুত প্রাণী ছিল, তিন মাথার Cerberus, নামের এক দৈত্য ছিল। Harpies নামের একটি পাখি ছিল, যার মস্তিস্ক ছিল নারীর মত। একই রোগ হিন্দুধর্মবিশ্বাসীদের মধ্যেও আছে, তারা রাম-লক্ষণ-সীতার, দুর্গা-অসুর-হনূমানের গল্পসহ নানাকিছু বিশ্বাস করে, তবে অন্য ধর্মের কিছুই বিশ্বাস করে না।

আবারও চলুন মূল আলোচনায়। বিবর্তন নিয়ে যেসব বৈজ্ঞানিক নিবন্ধ বা বই আমরা পড়েছি, মনে তো হচ্ছে না এই ধরনের উদ্ভট কোনো কথা সেসবে ছিল। যেখানে একজন মানুষ হাজার বছর বাঁচতে পারে কিংবা দশ হাতের বেশী লম্বা হতে পারে। কর্মবাদী বুদ্ধদের মধ্যে যারা বৌদ্ধধর্মে বিবর্তন খোঁজেন, তাঁদের একটু ঠ্যাং-ভাঙ্গা জাবাব দিয়েছেন অভিজিৎ রায়  তাঁর ‘আত্মা নিয়ে ইতং বিতং’ প্রবন্ধে: 
বিবর্তনতত্ত্ব মানতে গেলে তো আত্মার অস্তিত্ব এবং পুনর্জন্মকে ভালমতই প্রশ্নবিদ্ধ করতে হয়। বিজ্ঞান আজ প্রমাণ করেছে জড় থেকেই জীবের উদ্ভব ঘটেছিল পৃথিবীর বিশেষ ভৌত অবস্থায় নানারকম রাসায়নিক বিক্রিয়ার জটিল সংশ্লেষের মধ্য দিয়ে আর তারপর বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভব ঘটেছে জৈববিবর্তনের বন্ধুর পথে। এই প্রাণের উদ্ভব এবং পরে প্রজাতির উদ্ভবের পেছনে কোন মন বা আত্মার অস্তিত্ব ছিল না। প্রাণের উদ্ভবের পর কোটি কোটি বছর কেটে গেছে, আর আধুনিক মানুষ তো এল –এই সেদিন – মাত্র পচিশ থেকে ত্রিশ হাজার বছর আগে। তাহলে এখন প্রশ্ন হতে পারে ত্রিশ বছর আগে মানুষের আত্মারা কোথায় ছিল? জীবজন্তু কিংবা কীটপতঙ্গ হয়ে? কোন পাপে তাহলে আত্মারা কীটপতঙ্গ হল? পূর্বজন্মের কোন কর্মফলে এমনটি হল? পূর্বজন্ম পূর্বজন্ম করে পেছাতে থাকলে যে প্রাণীতে আত্মার প্রথম জন্মটি হয়েছিল সেটি কবে হয়েছিল? হলে নিশ্চয়ই এককোষী সরল প্রাণ হিসেবেই জন্ম নিয়েছিল। এককোষী প্রাণের জন্ম হয়েছিল কোন জন্মের কর্মফলে? 
বৌদ্ধধর্ম অনুসারে, মানবজন্ম দুর্লভ জন্ম। আমরা জানি, আজ পৃথিবীর মানুষ সাতশো কোটি। কোনো গবেষণা ছাড়া ধরে নিচ্ছি, আজ থেকে আড়াই হাজার বছর আগে বুদ্ধের সময় মানুষ হতে পারে একশ কোটি। আড়াই বছর পর আজ পার্থক্য ছয়শ কোটি। মানুষ কি তাহলে এখন বেশী পুণ্য করচ্ছে, তাই বেশী মানুষ জন্ম নিচ্ছে। আবার যদি পৃথিবীর সকল মানুষ জন্মনিয়ন্ত্রণ প্রদ্ধতি ব্যবহার করে বিশ্বে জনসংখ্যা কমিয়ে ফেলে, তাহলে যাদের মানবকুলে জন্ম নেওয়ার কথা ছিল তারা জন্ম নিবে কীভাবে? বৌদ্ধ ধর্মমতে নারী জন্ম হয় পাপের ফলে। প্রশ্ন রইল বর্তমানে লিঙ্গ পরিবর্তন করে পুরুষকে নারী বানানো যায়। এক্ষেত্রে কর্মফলের বিচার কীভাবে হবে? বর্তমানে সন্তান জন্ম নিতে না চাইলে গর্ভধারণের পরেও অ্যাবোরশন করা যায়। তাহলে যার জন্ম নেওয়ার কথা ছিল, যে গর্ভে এসেছিল, সে তো জন্ম নিতে পারলো না। এখানে কর্মফল কীভাবে বিচার করা হবে? 

জাতকে পড়েছি, কেউ কোনো প্রাণীকে হত্যা করলে তাকেও পরজন্মে একইভাবে হত্যা করা হবে বা কর্মফল ভোগ করতে হবে। আমরা জানি, বিশ্বে পান্ডার সংখ্যা প্রাণী জগতে সব চেয়ে কমের তালিকায়। ধরলাম, আপনি একটা পান্ডা হত্যা করলেন। এইবার আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিশ্বের সব পান্ডা হত্যা করে ফেলে হলো। তাহলে আপনি এইবার পান্ডাকুলে জন্ম নেবেন কীভাবে? বিশ্বের সব পান্ডা তো ধ্বংস হয়ে গেছে। তাহলে আপনার কর্মফলের কী হবে? আপনি কি ওই কর্মের জন্য আর জন্ম নেবেন না? 

(চলবে)

এক জোড়া পোস্টার - ১৭


Ricky Gervais - খ্যাতনামা ব্রিটিশ স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ান। নাস্তিক।


মহাজাগতিক ধূলিকণা - ০১


লিখেছেন কজমিক ডাস্ট 

০১.
মোহাম্মাদ আরবে না এসে ভারতবর্ষে এলে বলতো, সব দেবদেবী ভুয়া আর কৃষ্ণই একমাত্র ভগবান আর সে তার নতুন অবতার। তারপর শিবলিঙ্গ নিয়ে তার চারপাশে চক্কর দিত। ইসলাম যেমন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তৎকালীন আরবের ইহুদী ও পৌত্তলিকদের ধর্মবিশ্বাস থেকে চোথা মেরে, তেমনি ভারতবর্ষেও ইসলাম তৈরি হত বৈদিক ধর্ম, জৈন ধর্ম আর বৌদ্ধ ধর্ম থেকে চোথা মেরে।

০২.
ইসলাম আসার আগের যুগটিকে মুসলমানেরা বলে জাহেলিয়াতের যুগ। ইসলাম এসে নাকি মানুষকে সভ্য করে তুলেছে। নামাজের সময় পেছন দিক ওপরে তুলে মাটিতে মাথা ঠেকানোর সাথে হাজার হাজার বছর আগেকার মানুষদের একই কায়দায় উপাসনা করার সাথে কী পার্থক্য আছে? গহীন বনের উপজাতিরা তাদের দেবতার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে বলি দেয়, আর মুসলমানেরাও আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টির আশায় দেয় কোরবানি। শামানরা মন্ত্র বিড়বিড় করে চিকিৎসা করে, তো মুমিনরাও ঝাড়ফুঁক করে চিকিৎসা করে। নেটিভ অ্যামেরিকানরা আগুনের চারপাশে চক্কর দেয়, তো মুসলমানেরাও কাবার চারপাশে চক্কর দেয়। হজে সাফা মারওয়া পাহাড়ে দৌড়াদৌড়ি আর একটা পিলারে শয়তান বাঁধা আছে মনে করে তাতে পাথর নিক্ষেপ করা আফ্রিকান উপজাতিগুলির ধর্মীয় প্রথাগুলির চেয়ে কতটা সভ্য?

০৩.
মুমিনরা তাদের সকল দুর্দশার জন্যে দায়ী করে ইসলামী খিলাফত না থাকাকে। তাদের ধারণা, একবার ইসলামী খিলাফত প্রতিষ্ঠা হয়ে গেলেই তারা বিশ্ব জয় করে ফেলবে এবং তাদেরকে আর কেউ হারাতে পারবে না। আচ্ছা, খিলাফত যদি মুসলমানদেরকে এতটাই শক্তিশালী করে ফেলে, তাহলে ইসলামের শেষ খিলাফত অটোম্যান সাম্রাজ্যের পতন হল কীভাবে ৮০ বছর আগে? প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অটোম্যান সাম্রাজ্য গোহারা হেরেছিল নাছারা ইউরোপিয়ানদের কাছে।

২৮ অক্টোবর, ২০১২

ধর্মপোন্দনের তিনটি বছর


সুদূরপ্রসারী বিশেষ পরিকল্পনা ছিলো না, ছিলো না সাইট বানানো বা চালানোর কোনও অভিজ্ঞতাও। তবে একটি লক্ষ্য ছিলো নিশ্চিতভাবেই - ধর্মপোন্দন। এবং তা রঙ্গ-ব্যঙ্গ-কৌতুক-বিদ্রূপের মাধ্যমে। ঠিক তিন বছর আগে অক্টোবরের চব্বিশ তারিখে অনেকটা খেলার ছলেই গুগলের ব্লগস্পটে জন্ম হয়েছিল ধর্মকারী নামের ব্লগটির।

কয়েকদিন আগে শুভজিৎ ভৌমিক ওরফে ভৌমিকদা' এই দিনটির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বিশেষ একটা কিছু করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। আমি তখন সম্মতি দিইনি। কারণ জন্মদিন ও নানাবিধ বার্ষিকী উদযাপন আমার একেবারেই পছন্দের ব্যাপার নয়। আর এসবে লৌকিকতামণ্ডিত অভিনন্দনবাণী অধিকাংশ ক্ষেত্রে শূন্যগর্ভই হয়ে থাকে। আমি এসব এড়িয়ে চলি ব্যক্তিগত জীবনেও। 

কিন্তু আমার এক নাছোড়বান্দা বান্ধবীর বিরামহীন তাগাদা ও উপর্যুপরি উপরোধ উপেক্ষা করা গেল না। শেষে অনেক ভেবেচিন্তে স্থির করলাম, এ উপলক্ষে পাঠকদের কাছ থেকে জানতে চাইবো গত তিন বছরে ধর্মকারীর কর্মফলের কথা। তবে শুভেচ্ছা, অভিনন্দন বা প্রশংসার বাণী শুনতে আমি সত্যিই চাই না। 

পাঠকদের কয়েকটি প্রশ্ন করি: বিনোদনী ব্লগ হলেও ধর্মকারী আপনাদের কারুর চিন্তাজগতে কোনওভাবে প্রভাব ফেলতে পেরেছে কি? দিয়েছে কি নতুন কোনও উপলব্ধি? দূর করতে পেরেছে কোনও অস্পষ্টতা? কাটাতে পেরেছে ব্যক্তিগত ধর্মান্ধকার? এমন ধর্মকারী-আসক্তি কারুর হয়েছে কি যে, একদিন ঢুঁ না দিলে প্রাণ আঁইঢাঁই করে? 

ধর্মকারীর পাঠকেরা মন্তব্যবিমুখ, তবু আশা করবো, তাঁরা স্বল্প পরিসরে বা বিশদভাবে মন্তব্য-আকারে বা পোস্টের মাধ্যমে ওপরের প্রশ্নগুলোর আন্তরিক উত্তর দেবেন। পোস্ট হিসেবে প্রকাশ করতে চাইলে তা dhormockeryঅ্যাটgmailডটcom ঠিকানায় পাঠিয়ে দিন। 

পরিশেষে একটি ঘোষণা: আল্যার রহমতে ধর্মপোন্দন বহাল থাকবে ইনশাল্যাহ। আপনারা দোয়া রাখবেন।

ভবদীয়, 
ধর্মপচারক

নিত্য নবীরে স্মরি – ৯৩


পাঠিয়েছেন কজমিক ডাস্ট


মহাউন্মাদ নামের পেইজ থেকে

উৎকট উৎসর্গ


নাস্তিকদের কাছে সব ধর্মই রঙ্গরসের অসীম আধার। উদ্ভটতম বল্দার্গুও বিশ্বাসীরা সত্য বলে মেনে নেয়। নাস্তিকেরা এ নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করলে তারা দিলে চোট পায়। এই যেমন, খ্রিষ্টধর্মে বলা হয়: যিশু নিজের জীবন উৎসর্গ করেছে তোমার জন্যে, তোমার পাপের জন্য। আপাদমস্তক অযৌক্তিক এই দাবিই খ্রিষ্টধর্মের ভিত্তি। তবে নিজ মস্তিষ্ক ব্যবহারে অনীহ ও অক্ষম খ্রিষ্টানেরা এই বাণীকেই করেছে জীবনের ধ্রুবতারা।

খ্যাপা ইউটিউবার ডাস্টি স্মিথের চার মিনিট দীর্ঘ বিশ্লেষণ। একই সঙ্গে যুক্তিনিষ্ঠ ও উপভোগ্য। 

লক্ষ্য করুন:
ইউটিউব ব্লকড থাকলে:
১. http://www.youtube.com/...-এর বদলে https://www.youtube.com/... ব্যবহার করলে কাজ হচ্ছে বলে অনেকে জানিয়েছেন।
২. কাজ না হলে নিচে দেয়া ভিডিও লিংকটি (অথবা ইউটিউবের যে কোনও লিংক) এই ঠিকানায় গিয়ে তালার ছবির ডানপাশের বক্সে বসিয়ে সরকারী সিদ্ধান্তকে কাঁচকলা দেখিয়ে অবলীলায় ভিডিও দেখতে থাকুন।

'মুহাম্মদ' নাম জপিলে



সহজ প্রশ্নের ছহি ধর্মীয় সমাধান - ০১


লিখেছেন দ্রাক্ষা রস

- জীবন দুঃখময়। দুঃখমুক্তির উপায় কী? 
- ঘর-সংসার ত্যাগ করে বনে চলে যান। 

- যৌনশক্তিতে ভাটা পড়লে কী কর্তব্য? 
- পরিধান করুন গেরুয়া বস্ত্র। ভাব নিন মহান সাধকের। 

- মেয়েদের দেখলে ভয় হয়; অতি সংবেদনশীল - কী করি, বলুন তো? 
- দয়া করে মাথা মুড়িয়ে মন্দিরে জায়গা করে নিন। সেখানে প্রচুর অভাগা পুরুষ আছে। 

- পিতা-মাতা-পরিবার-পরিজন খুব ইরিটেটিং। কী উপায়? 
- সব কিছু ছেড়ে রাতের আঁধারে চোরের মত পালান। মহাপুরুষ হোন। 

- নারীরা কেমন - বুঝতে হলে কী করতে হবে? 
- বৌদ্ধ ধর্মীয় জাতক পড়ুন নিশ্চিন্তে। 

অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে চাইলে কীভাবে করা উচিত? 
- মার খেলেও চুপ করে থাকবেন। ধর্মে বলা আছে। 

- সকল নৈরাজ্য আর হতাশা থেকে মুক্তি পথ কী? 
- ভরা যৌবন জলাঞ্জলি দিয়ে নির্বাণ-এর পথ খুঁজুন।

গরুপূজারি গাধাগুলো - ২৬




Astrology is Still Bullshit নামের ফেসবুক পেজ থেকে।

মুসলমানচিত্তে মনুষ্যত্ববোধ ও ইমোশোনাল সেন্সিটিভিটি


লিখেছেন অর্ণব

যদিও আমি গ্রামের ছেলে নই, তথাপিও গ্রাম সম্পর্কে আমার রয়েছে একটি বিশেষ ফ্যাসিনেশন। বাংলাদেশে থাকাকালীন বছরের অন্তত চার-পাঁচদিন গ্রামে থাকা হতো আমার, বিশেষত স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা শেষে। ষষ্ঠ কিংবা সপ্তম শ্রেণীতে পড়াকালীন গ্রামে পার করা কয়েকটি দিনের ছুটি আমার জীবনে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। গ্রামের সকল ঘরেই মুরগী-গরু-ছাগল থেকে থাকে, আমাদেরও ছিল। সেইসময় একটি গাভী বাচ্চা দেয়। বাচ্চাটির বয়স একমাসও হয়নি সম্ভবত। সকল ম্যামাল শিশুই খুবই খুবই সুন্দর; নির্দোষ অভিব্যক্তি, কৌতূহলী চোখ আর অপেক্ষাকৃত বৃহৎ হেড টু বডি রেইশিয়ো প্রায় প্রত্যেকটি ম্যামাল শিশুকেই মানুষের কাছে করেছে মোটামুটি আদরণীয়। 

সেই বাছুরটিও এর ব্যতিক্রম ছিলো না, ধবধবে সাদা শরীর আর কুচকুচে কালো ক্ষুর, আর ইভেন টোঅড ওঙ্গুলেটসদের চোখ হয় খুবই মায়াকাড়া, এটা কে না জানে! ইন ফ্যাক্ট কবি সাহিত্যিকেরা সুন্দর চোখকে নাকি হরিণের চোখের সাথেই তুলনা করে! বাছুরটির বেশিরভাগ সময়ই কাটতো দৌড়াদৌড়ি লাফালাফি করে, মায়ের কাছেই থাকতো বেশি; আর মা-টিও ছিলো খুবই ডিফেন্সিভ ও অ্যাগ্রেসিভ - অন্যান্য আর সকল গর্ভবতী বা সদ্য সন্তান জন্মদানকারী ম্যামাল মায়ের মতোই। আমি বাছুরটিকে একদিন অ্যাপ্রোচ করি, তাকে দেখে আমার ইচ্ছা করেছিলো শরীরে হাত বোলাতে। দিন দুয়েকের মধ্যেই সেটা আমার বেশ পোষ মানে, আমাকে দেখে আর আগেরমতো দৌড়ে পালিয়ে যেতো না, বরং কাছাকাছি আসতো। শরীরে হাত বোলালে চোখ বন্ধ করে দিতো। প্যাটিং ক্রেইভও করতো গলা উঁচু করে। তার মুখাবয়বে ছিলো সুস্পষ্ট প্রকাশ যে, সে এইটা এনজয় করছে। সকল ম্যামালই সঙ্গ এনজয় করে রিলায়েবল কোম্পানী হতে। বাছুরের মা-টিও কিছুদিন পর আমি তাদের অ্যাপ্রোচ করলে আর আমার দিকে তেড়ে আসতো না; আমি সমর্থ হয়েছিলাম তাদের ট্রাস্ট অর্জন করতে।

আমার খুবই ভালো লাগতো বাছুরটির সাথে সময় কাটাতে, আমিও তার সঙ্গ উপভোগ করতাম, আমাদের মধ্যে স্থাপিত হয়েছিলো একটি সত্যিকারের বন্ধুত্বপূর্ণ-সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক। তার মনোভাব আমি স্পষ্টতই বুঝতে পারতাম, হয়তো সেও পারতো আমার মনোভাব। আমার জানতে ইচ্ছে হয়েছিলো, কেন আমরা দুটি প্রজাতি এতো একইরকম, কতোটা সিমিলার আমাদের আবেগ, আমাদের অ্যাপ্রোচ, আমাদের আচরণ, অনুভূতি? তখনও আমি জানতাম না যে, এই সাদৃশ্য বাস্তবতা লিখে দিয়েছে আমাদের কোষে কোষে ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিয়োটাইডের অক্ষরে, বেঁধে দিয়েছে আমাদের অলঙ্ঘণীয় আত্নীয়তার সূত্রে।

ছুটি শেষ হলে আমি চলে আসি, বাছুরটির কথাও ভুলে যাই। আরও পরে আবার গ্রামে গিয়ে দেখি, সেটি অনেক বড়ো হয়ে গিয়েছে, আগের মতো অ্যাডোরেবল শিশু আর নেই, ফলশ্রুতিতে তার প্রতি ইন্টারেস্টও আমার হারিয়ে যায়। কী পরিণতি হয়েছিলো তার? হয়তোবা জবাই হয়ে গিয়েছিলো কোনো এক কোরবানী ঈদে, শ্বাসনালী আর খাদ্যনালী কেটে হত্যা করা হয় তাকে রান্না করা হয়েছিল। আফটার অল কেটল তো আমরা রেইস করি মাংসের জন্যই, নারী হলে যতোদিন পারা যায় দুধ আদায় করি, অতঃপর জবাই করে পরিণত করি মাংসে। যদিও কোনো প্রকার রিসার্ভেশন ছাড়াই আমি কাটাচামচে কেটে মুখে পুড়েছি রম্প স্টেইক বহুবার, তথাপিও বড় হয়ে এই অনুধাবনটা কেন যেন আমাকে হতাশ বোধ করাতো, হেল্পলেস বোধ করাতো। তবে এটা মেনে নিয়েছি যে, এটাই বাস্তবতা, আমাদের বেঁচে থাকার জন্য বধ করতে হবে অন্য প্রজাতি, যে প্রজাতি কিনা আমাদের খুবই খুবই নিকটাত্মীয়, কতোটা নিকটাত্মীয় যে, এরা এটা অনুধাবন করলে অন্তত এক নিমিষের জন্য হলেও শিউরে ওঠাটা আমাদের পক্ষে অলঙ্ঘণীয়।

কোরবানীর বিরোধিতা আমি করি এই কারণেই যে, অত্যাবশ্যকীয় হত্যাকে একটি উৎসবে রূপদান করে এই শিউরে উঠাটার গলাই চেপে ধরে প্রস্তরযুগীয় নিম্নজীবী মানুষের রিটার্ডেড মূল্যবোধ। আমি কি এই আচারটির বিরোধিতা করি যে, খাদ্যের জন্য আমাদের হত্যা করতে হচ্ছে? উত্তর হচ্ছে - না, আমি বরং বিরোধিতা করি এই প্র্যাকটিসটার কথা চিন্তা করে শিউরে ওঠা ও উৎকন্ঠিত হয়ে ওঠার অতি স্বাভাবিক একটি মানবিক রেসপন্সকে ধ্বংস করার আচারটির। 

কী হয় কোরবানীর ইদে? বিজাতীয় ভাষায় মন্ত্র পাঠ করতে মানুষ মানুষ নামায পড়তে যায়, নামায পড়ে এসে হাসিমুখে হাতে ছুরি তুলে নিয়ে প্রবৃত্ত হয় হত্যার উৎসবে। একটি ফেলো ম্যামালের সামনে হত্যা করা হয় আরেকটিকে, দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখে একটি গরু আরেকটি গরুর মৃত্যু ও অপেক্ষা করে নিজের টার্নের জন্য। আর বাচ্চারা গোল হয়ে দাঁড়িয়ে হাততালি দেয়, প্রেমিক-প্রেমিকা সাজগোজ করে যায় প্রমোদভ্রমনে যখন কিনা শহরের রাস্তা রঞ্জিত রক্তে, মানুষের রক্তের মতোই লাল যেই রক্তের রঙ; বাতাস ভরে ওঠে যন্ত্রনা আর আর্তনাদে, আর্ত মানুষের চিৎকারের সাথে যার কিনা ভয়াবহ ও ভীতিকর সাদৃশ্য। আমি পরাজিত বোধ করি, যখন কিনা দেখি যে, এই দৃশ্য যারা দেখে তাদের কারোরই মুখে অভিব্যক্তিতে আসছে না কোনো পরিবর্তন, মিইয়ে যাচ্ছে না তাদের মুখের হাসি একফোঁটাও। এটাই কি কারণ যে, মুসলমানচিত্তে মনুষ্যত্ববোধ ও ইমোশোনাল সেন্সিটিভিটি সাধারণত হয়ে থাকে প্রায় অনুপস্থিতই? কে জানে? এটাই কি কারণ যে, চোর ধরা পড়লে তাদের পিটিয়ে মেরে ফেলতে কোন সমস্যাই হয় না? সমস্যা হয় না আরেকজনের গলায়ও ছুরি চালাতে?

মানুষের মনকে করাপ্ট করা খুবই সোজা, মনকে ডিসেন্সিটাইজ করার মাধ্যমে। এবং মনকে করাপ্ট করতে পারলে করাপ্ট করা সম্ভব সকলকিছুই। এবং করাপ্ট জাতি কখনই কিছু করতে পারে নাই। মুসলমানরাও এ পর্যন্ত খুব বেশি একটা কিছু করতে সমর্থ হয়নি, সুপিরিয়র জাতির লাথি-গুঁতো খেয়ে সেগুলো হজম করতেই ব্যয় হয়েছে তাদের পাকস্থলীর সকল পাকশক্তি। বাচ্চারদের প্রত্যক্ষ করতে দিলে জীবন্তের আর্তনাদ, এটার ওপর আরোপ করলে একটি সুপারফিশিয়াল মহত্ববোধ, এটাকে ত্যাগ উৎসর্গ প্রভৃতি হাস্যকর জাইঙ্গা-ফোলানো নাম দিলে এবং দাবী করলে যে, এ কাজটি করলে পরে মহাকাশে একজন সর্বশক্তিমান স্কাইড্যাডি আছে, সে খুব খুশি হতে যাচ্ছে - অনেক বড়ো পরাজয় মেনে নেওয়া হয়।

গতবছর সংবাদে দেখেছিলাম কোরবানী দেখে এক শিশু আত্মহত্যা করেছিলো। আমি শিশুবয়সে কোরবানী দেখে বমি করেছিলাম একবার। বস্তুত সেই সময় থেকেই আমি সর্বপ্রথম ভাবতে শুরু করি যে, হাও এবাউট মানুষের ধর্ম, ধার্মিকতা, ভূত-ফেরেস্তা-পরজীবন-হাশর-নশর ইত্যাদি কমপ্লিট বুলশীট? পরবর্তী কোরবানী আমি ক্লাস টেনে ওঠার আগে দেখিনি। 

যাই হোক, ভালো লাগল দেখে যে, বাংলা ইন্টারনেটে এই প্রস্তরযুগীর কুসংস্কারাচ্ছন্ন লোকাচারের বিরুদ্ধে স্ট্রং ভয়েস আবির্ভূত হয়েছে। এই ভয়েস ছড়িয়ে দিতে পারলে আমি নিশ্চিত আমাদের জীবদ্দশাতেই আমাদেরকে আর বছরের একটি দিনে রক্তাক্ত রাস্তা, রক্তাক্ত শহর দেখতে হবে না। আফটার অল নিম্নজীবী মূল্যবোধকে আমরা যদি আস্তাকুঁড়ে ছুঁড়ে ফেলতে না জানি, কীভাবে আমরা সামনে এগুনোর স্বপ্ন দেখতে পারি, প্রভাইডেড দ্যাট সামনে এগুতে হলে অনেক কিছুই ছুঁড়ে ফেলতে জানতে হয়??

২৭ অক্টোবর, ২০১২

বিশ্বাসের যুক্তিভীতি



ধর্ম থাকতে বিজ্ঞান কেনু?


পিচ্চি পোলাপানগোরে ইংরাজি শিখাইয়া কুনো লাভ নাই! দরকার নাই বিজ্ঞান সম্পর্কে ধারণা দেওয়ারও। ধর্মশিক্ষাই আসল। তাই ইংরাজি-বিজ্ঞান প্রাইমারি স্কুল থিকা বাদ দিয়া ধর্মশিক্ষা আর জাতীয়তাবাদ বিষয়ক ক্লাস চালু করা হবে। এইটা হইলো ইন্দোনেশিয়ার সরকারের চিন্তা। মারহাবা! আলহামদুলিল্লাহ! আরও ভালো হয় স্কুলগুলারে মাদ্রাসা বানাইয়া ফালাইলে। আল-জাজিরার সোয়া দুই মিনিটের রিপোর্ট। 

লক্ষ্য করুন:
ইউটিউব ব্লকড থাকলে:
১. http://www.youtube.com/...-এর বদলে https://www.youtube.com/... ব্যবহার করলে কাজ হচ্ছে বলে অনেকে জানিয়েছেন।
২. কাজ না হলে নিচে দেয়া ভিডিও লিংকটি (অথবা ইউটিউবের যে কোনও লিংক) এই ঠিকানায় গিয়ে তালার ছবির ডানপাশের বক্সে বসিয়ে সরকারী সিদ্ধান্তকে কাঁচকলা দেখিয়ে অবলীলায় ভিডিও দেখতে থাকুন।

শরিয়াসম্মত হ্যালোউইন পোশাক



MEAT মোবারক


রিপোস্ট

লিখেছেন থাবা বাবা

১.
আল্লার নামে জান কুরবান
আল্লাই নেকি করবেন দান,
এটাই খোদার ধর্ম!

গরুর চক্ষু জল টলমল
মানুষের তাই খুশি ঝলমল,
ছিলিবে গরুর চর্ম!

উল্লাস করে বকরি জবাই
রক্তে দু'হাত রাঙাবে সবাই,
এটাই ঈদের মর্ম!

২.
ভোরের রোদে
ঊর্ধ্ব পোঁদে
নামাজ পরে বান্দা!

ছুরির ধারে
বকরি মারে
মাংস হবে রান্ধা!

৩.
ভোর হলো দোর খোল
মুমিনেরা ওঠো রে,
দল বেঁধে একসাথে
ঈদগাহে ছোটো রে!

কষে দড়ি হাতে ছুরি
মোল্লা যে চলল,
গরুটাকে চেপে ধরে
খোদা নাম বললো!

মেখে খুন ওরে শোন
খোদা ওই চাইল,
ঘরে গিয়ে দেখ ত্বরা
মাংস কে খাইল!!!


একটি কৌতুক:

- মনের পশুবৃত্তি ত্যাগ করার উপায় কী? 
- একটি ছহীহ তরিকা: কোরবানির নামে নিরীহ পশুহত্যার মাধ্যমে সহর্ষ উৎসব করতে হবে ও খেতে হবে নিহত পশুর লাশের মাংস।

(* জাকির হোসেনের একটি স্ট্যাটাস অনুসরণে)

ত্যাগের শিক্ষা বীভৎসতায়?


লিখেছেন সোহেল চৌধুরী

কোরবানী যে আমাদের ত্যাগের শিক্ষা দেয়, এই কথাটা ধর্মের আরো দশটা কথার মত ১০০% ফাঁকা বুলি। একটু ধৈর্য নিয়ে আমার যুক্তিগুলো দেখুন।

প্রথমতঃ ত্যাগের অনুভুতি কী রকম? ত্যাগের অনুভুতি কারো অজানা থাকার কথা না। নিজের খুব পছন্দের একটা জিনিস অন্য কাউকে দিয়ে দেয়ার অনুভূতি, নিজের পোষা কোনো প্রাণী থাকলে সেটাকে বাধ্য হয়ে অন্য কাউকে দিয়ে দেয়ার অনুভুতি, সদ্য বিবাহিত স্বামী-স্ত্রীর একে অন্যকে দীর্ঘ দিনের জন্য অনিচ্ছায় ছেড়ে যাওয়ার অনুভূতি, কিংবা কোনো বিশেষ অপারগতার জন্য বাধ্য হয়ে প্রেমিক বা প্রেমিকার বিয়ে সহ্য করার অনুভূতি ইত্যাদির অধিকাংশের সাথে আমাদের পরিচয় আছে। সুতরাং, ত্যাগের অনুভূতি কী, সেটা নতুন করে বলার প্রয়োজন নেই। ত্যাগের অনুভূতি অনেকটা বিরহের অনুভূতির সমতুল্য।

এখন প্রশ্ন করেন নিজেকে, কোরবানী ঈদের দিন এরকম কোন অনুভূতি বা এর ধারেকাছের কোনু অনুভূতি কি মনে তৈরি হয়? যদি উত্তর হয় 'হ্যাঁ', তবে আমি বলব, মনোরোগ চিকিৎসক দেখান। আর যদি উত্তর হয় 'না', তবে আরেকটা প্রশ্ন, কোরবানীর ঈদের দিন আসলে কী রকম অনুভূতি হয় আমাদের? আমি আমারটা বলি।

ছোটবেলায় যখন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তাম, তাবলিগ জামাতের বয়ান শুনতাম, তখনকার যে কোনো কোরবানী ঈদের দিন সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর মনে হত, আজ একটা বিশেষ দিন। ঠিক যে রকম মনে হয় ভোটের দিন, কিংবা পরীক্ষার রেজাল্ট বের হওয়ার দিন। অর্থাৎ একটা উৎসবের অনুভূতি হত। তারপর সবার সাথে ঈদের নামাজে যাওয়া, নামাজ পড়া, নামাজ শেষে কোলাকুলি এসবই সে উৎসবের অনুভূতিকে রিইনফোর্স করত। আর যখন কোরবানী দেয়া হত, তখন আমার মনে আসলে যে অনুভুতিগুলো তৈরী হত, সেগুলো হচ্ছে ঐ নিরীহ প্রাণীটির প্রতি করুণা, তার অবধারিত বিভীষিকাকে অনুভব করে ভয়, আর সর্বোপরি প্রাণীটিকে কোরবানী দেয়ার একটা বীভৎস দায়িত্ববোধ। কখনোই আমার মনে ঐ প্রাণীর জন্য ত্যাগ বা বিরহের অনুভূতি তৈরি হয়নি। কোরবানীর পর প্রাণীটা যখন একটা পরিচিত জীবের আদল থেকে আস্তে আস্তে বাজার থেকে কিনে আনা মাংসের আদল নিত, তখন সেসব অনুভুতি আর থাকত না, জন্ম নিত সুস্বাদু মাংস খাওয়া সংক্রান্ত কিছু অনুভূতি। ব্যস, এই আমার অনুভূতির তালিকা। এখন আপনার নিজের প্রতি সৎ হয়ে নিজের অনুভূতিগুলোকে বিচার করার পালা। ধার্মিকদের জন্য ধর্মের প্রতি বায়াস এড়িয়ে নিজের প্রতি সৎ হয়ে নিজের অনুভূতি বিচার করা খুবই কঠিন।

ছবি সৌজন্য: লুক্স

মোট কথা, কোরবানী কখনই আমাদের ত্যাগের শিক্ষা দেয় না। আমার প্রেক্ষিত বিচারে রেখে বলা যায়, কোরবানী আমাদের করুণা, বীভৎসতা, ভয়, আর বীভৎস একটা কাজ করার দায়িত্ববোধ এর সাথে পরিচয় করায় এবং সেগুলোকে সহ্য করা শেখায়। একটা বাচ্চার সুস্থ ভবিষ্যৎ মানসিক অবস্থার জন্য এসব অত্যন্ত ভয়ানক বলে আমি মনে করি। একবার ভাবুন, একজন কসাই আর একজন কবির মধ্যে কে সহজে একটা খুন করতে পারবে? তাই শিশুদের মানসিক ভাবে কসাই হওয়া থেকে বাঁচান। কোরবানীর আয়োজন থেকে তাদের দূরে রাখুন।

আল্লাহর নিদ্রাহীনতা ও কোরবানি


পাঠিয়েছেন কজমিক ডাস্ট


২৬ অক্টোবর, ২০১২

হা-হা-হাদিস – ৬৩


হে ঈমান্দার বান্দাসকল, তোমাদের জন্য অজস্র রসময় কথা গুপ্ত রহিয়াছে হাদিস শরিফে।
- সহীহ আল-ধর্মকারী
তিরিশ পুরুষের যৌনশক্তিসম্পন্ন নবীজির বীর্যমাখা কাপড় আয়েশা নিজ হাতে ধুতো। সেই কাপড় পরে নবীজি যখন নামাজে যেতো, তখনও পানির দাগ লেগে থাকতো কাপড়ে।

Narated By 'Aisha : 
I used to wash the traces of Janaba (semen) from the clothes of the Prophet and he used to go for prayers while traces of water were still on it (water spots were still visible).

স্বর্গে নরকের চেয়ে বেশি গরম


নিচের পোস্টারে বাইবেলের বাণীকে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক (বৈগ্যানিক নয়) পদ্ধতিতে বিশ্লেষণ করে দেখানো হয়েছে, স্বর্গে গড় তাপমাত্রা ৫২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর নরকে - ৪৪৫


সাপ-কুকুরও হালাল


কোরবানির ঝড়টা পুরোপুরিইা যায় গরু-ছাগল-ভেড়া-উট-দুম্বার ওপর দিয়ে। এই তালিকায় কি কুকুর যোগ হতে পারতো? অবাক হবেন না। এক সুন্নী ইছলামবাজ বলেছে, ইছলামে সাপ-কুকুরসহ আরও অনেক প্রাণীই হালাল। দুই মিনিটের ভিডিও দেখে নিশ্চিত হোন। 

লক্ষ্য করুন:
ইউটিউব ব্লকড থাকলে:
১. http://www.youtube.com/...-এর বদলে https://www.youtube.com/... ব্যবহার করলে কাজ হচ্ছে বলে অনেকে জানিয়েছেন।
২. কাজ না হলে নিচে দেয়া ভিডিও লিংকটি (অথবা ইউটিউবের যে কোনও লিংক) এই ঠিকানায় গিয়ে তালার ছবির ডানপাশের বক্সে বসিয়ে সরকারী সিদ্ধান্তকে কাঁচকলা দেখিয়ে অবলীলায় ভিডিও দেখতে থাকুন।

ছহীহ মমিনীয় যুক্তিবিদ্যা


পাঠিয়েছেন সাব্বির শওকত শাওন


- কোরআন যে সঠিক, জানলি কীভাবে? 

- মুহাম্মদ বলসে। 

- মুহাম্মাদ যে সত্যি বলসে, বুঝলি কীভাবে? 

- কোরানে লিখা আছে, আল্লাহ বলসে। 

- আল্লাহ যে আছে, বুঝলি কীভাবে?

- মুহাম্মাদ বলসে। আল্লাহ কোরানে লিখসে, যে উনি আছেন।

আমার বোরখা-ফেটিশ – ৫৮




২৫ অক্টোবর, ২০১২

ইছলামসম্মত শাদী মোবারক ও ছহীহ নারী-অধিকার


হে মুমিনগণ, আরফিন রুমিকে কেউ গালি দিও না, তাতে নবীর কলিজা ছিদ্র হইতে পারে। আরফিন রুমি দুইটি বিয়ে করেছে, এতে দোষের কিছু নেই। ইহা পরিপূর্ণ ইসলামসম্মত বিধান। হাদিস-কোরান পড়ুন, জানার চেষ্টা করুন। নাস্তিকদের মত উদ্ভট আচরণ করবেন না! আল্লাহ পাকের পথে আসুন, বিয়ে করুন, যৌনদাসী রাখুন, নিয়মিত নামাজ পড়ুন। পালন করুন সীলমোহরযুক্ত নবীর খাঁটি ইসলাম। এবার আসুন রুমির বিয়ে নিয়ে ইসলামসম্মত আলোচনায়। 

কোরানের সূরা নিসায় আল্লাহ পাক বলেছেন: “মেয়েদের মধ্যে থেকে যাদের ভাল লাগে তাদের বিয়ে করে নাও দুই, তিন, কিংবা চারটি পর্যন্ত।” 

অতএব প্রথমেই তওবা করে নিন আরফিন রুমিকে গালি দেওয়ার জন্য। আপনারা রুমির বিরোধিতা করছেন, অথচ হাদিসে আছে: "পুরুষের অধিক বিবাহের ব্যাপারে বাধা দেওয়া উচিত নয়" (Sahih Bukhari 8:77:598) 

হে অধম মুমিন্স, আপনারা কি পেয়ারা নবীর জীবনী পড়েননি? আমাদের নবী গুনে গুনে এক-দুই-তিন করে তেরটি বিয়ে করেছিলেন! সুবানাল্লাহ! এ ছাড়া বাইশ’জন নারীর সাথে যৌন সম্পর্ক করেছেন বলে আমাদের জানা আছে। তাহলে কিসের ভিত্তিতে রুমির বিরোধিতা করেন? রুমির তো মাত্র দুইটা বউ। হাদিস মতে: নারীরা হচ্ছে কুকুরের সমতুল্য [Sahih Bukhari 1:9:490, 1:9:493] কুকুরকে এতো দাম দেওয়ার দরকার কী? আরফিন রুমি বিবেকবান মানুষ, তিনি ঘরে একটি কুকুর রেখে নতুন কুকুর এনেছেন, এতে দোষের কিছুই নেই। 

কথাগুলো শুনতে আপনার খারাপ লাগলে বুঝবো আপনে কাফের নাস্তিক। প্লিজ, আর যা-ই হোন, নাস্তিক হয়েন না। নাস্তিকরা নারীবাদের কথা বলে, কিন্তু তাঁদের নারীবাদ ইসলামসম্মত নয়। এখন চেষ্টা করবো আপনাকে ইসলামের নারীবাদের বোঝানোর, আপনি নীরবে পড়ে যান। 

চলুন মূল আলোচনায়। বলছিলাম ইসলামের যৌনদাসীদের অর্থাৎ নারীদের কথা। সহি বুখারিতে আছে: “রসূল বলেছেন নারীরা ভালোবাসার অযোগ্য" [সহি বুখারি 7:62:17 ] এই কথার আমরা প্রমাণ পেয়েছি নবীজীর তের বিয়ের ইতিহাস থেকে। বিষয়টি আমাদের একটু গভীরে বুঝতে হবে অর্থাৎ এক মাল কিছু দিন পরেই তিতা হয়ে যায়। তাই নতুন যৌনদাসী অর্থাৎ বউ প্রয়োজন। বুঝতে হবে, নবীজি বোঝাতে চেয়েছেন নতুন বিয়ের কথা। আরফিন রুমি ইসলামের পথের পথিক, তাই তিনি ঘরে নতুন যৌনদাসী বা কুকুর এনেছেন।


কোরানের সূরা আল বাকারা ২৮২ নং এবং নিসার ১১ নং আয়াত পড়ে আমরা জানতে পেরেছি: “নারীদের মর্যাদা পুরুষের অর্ধেক।” এর থেকে আমরা বুঝতে পারি, আরফিন রুমি ঘরের পাল্লা সমান করতে চেয়েছেন। অর্থাৎ দুই বউ মিলে এখন আরফিন রুমির সমান হয়েছে। এতে রুমির পরিষ্কার ইসলামী নারীবাদী এবং সাম্যবাদী মন ফুটে উঠেছে। সহি বুখারির হাদিস অনুসারে: নারীরা পুরুষের অর্ধেক সম্পত্তি পাবে। আরফিন রুমি বেচারা গান গেয়ে কয় পয়সা কামায়। সে চায় বউয়ের পিতার সম্পত্তি। আরফিন রুমির দুই বিয়ে করায় এখন অধিক সম্পত্তি পাবে। তাছাড়া আমরা হাদিসে পড়েছি: নারী পুরুষের জন্যে বয়ে আনে খারাপ ভাগ্য। হয়তো রুমির প্রথম স্ত্রী রুমির খারাপ ভাগ্যের কারণ। আবার দেখুন না, দ্বিতীয় স্ত্রী থাকে আমেরিকা, সুতরাং রুমিও আমেরিকার গ্রিন কার্ড পাবে। তাই বলা যায়, রসুল ঠিক বলেছে, কিছু নারী পুরুষের জন্য খারাপ ভাগ্য বয়ে আনে। (Sahih Bukhari 7:62:30-32, 4:52:110-111 Sahih Muslim 36:6603-6604) সুতরাং আরফিন রুমির দ্বিতীয় বিবাহ যুক্তিসঙ্গত। 

রুমি অনেক ভালো ছেলে, সে চাইলে তার প্রথম স্ত্রীকে বন্ধক দিতে পারতো। ইসলাম বলছে: স্ত্রী বন্ধক রাখা যায় (Sahih Bukhari 5:59:369) কিন্তু আল্লাহ পাকের দয়ায় রুমি সে কাজ করেনি। কিংবা যদি রুমির প্রথম স্ত্রী যদি তাঁকে তালাক দিত, তবে কী হত? এরও ইসলাম সম্মত উত্তর আছে; হাদিস মতে: “স্বামিকে তালাক দিতে চাইলে প্রাপ্ত সকল দেনমোহর ফেরত দিতে হবে" (Sahih Muslim 7:63:197-19) বেচারি কোত্থেকে স্বামীর দেনমোহর ফেরত দেবে? ফেরত দিলে ওই মেয়ে চলবে কেমনে? তাই রুমি তার প্রথম বউকে যে তার সাথে রেখেছে, এটাই বেশি। বোঝাই যাচ্ছে, রুমি বাস্তবে দরদী মনের মানুষ। কোরান অনুসারে: নারী পুরুষের চাষযোগ্য ক্ষেত্র (কোরান-2:223) এখন স্ত্রী দোষে রুমি যদি ঠিক মত তার জমিতে লাঙ্গল চালাতে না পারে, তবে তার কী করা উচিত? উত্তর হবে, অবশ্যই দ্বিতীয় বিয়ে। ইসলাম মতে: স্বামীর যৌনআকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে নারী বাধ্য (Sahih Muslim 8:3368) আমরা জানি আমাদের নবী করিমের প্রিয় স্ত্রী ছিল আয়েশা, কারণ তিনি আয়েশার ওপর নবীজি ভালো মত লাঙ্গল চালাতে পারতেন। এটাও আরফিন রুমির পক্ষের যুক্তি। 

আজ আধুনিক বিজ্ঞান প্রমাণ করছে, পুরুষের যৌনচাহিদা একটু বেশি। হাদিস পড়ে আমরা জেনেছি: আমাদের নবীর ছিল সাধারণ মানুষের তুলনায় ত্রিশগুন বেশি যৌনশক্তিসম্পন্ন। পুরুষ যে কোনো মুহূর্তে কামে আসক্ত হতে পারে। আবার সহবাস ছাড়াও উপায় নেই, কারণ হস্তমৈথুন ইসলামসম্মত নয়। রসূল বলেছেন: “নারী শয়তানের প্রতিরূপ, যাদের দেখার সাথেই স্ত্রীর সাথে এসে যৌন সংসর্গ ক্রয়া উচিত" [Sahih Muslim 8:3240, 3242]” আহা, কী মধুর বাণী! কিন্তু কোরানের সূরা বাকারা ২২২ নং আয়াত এবং হাদিস মতে: “নারী রজ্বচক্র চলাকালীন তারা অপবিত্র।” ইসলাম আবার অপবিত্রতা গ্রহণ করে না। এই ধরনের মুহূর্তে আরফিন রুমির কী করা উচিত, যদি তার একমাত্র স্ত্রী অপবিত্র থাকে? সুতরাং রুমির দ্বিতীয় বিবাহ যুক্তিসঙ্গত। এখন সে যে কোনো মুহূর্তে নারী-শস্যক্ষেত্রে লাঙ্গল চালাতে পারবে। 

হাদিসে আছে: “নারীতে নিহিত আছে যাবতীয় খারাপ" (Sahih Bukhari 4:52:110, 4:52:111) তাই আমাদের উচিত এই খারাপের মধ্যে ভালো বের করা। রুমির প্রথম স্ত্রীর মধ্যে হয়তো তেমন কোন ভালো ছিল না, তাই রুমি দ্বিতীয় বিবাহে বাধ্য হয়েছেন। আমরা হাদিস পড়েছি আমরা জানি, "নারীরা বিশ্বাস ঘাতক" (Sahih Bukhari 4:55:547), "তাঁরা পুরুষের জন্যে ক্ষতিকারক" (Sahih Bukhari 7:62:33) কিন্তু তবুও পুরুষরা কেন নারী-অধিকারের কথা বলে রুমির বউয়ের পক্ষে নিচ্ছে, বুঝি না! রুমি তো চাইলে বউকে তালাক দিতে পারতো। এজন্য রুমির কোর্টে যাওয়ারও দরকার নেই। কারণ ইসলামে আছে, “যেকোন সময় শুধু মুখের কথায় তালাকের অধিকার রয়েছে শুধু পুরুষেরই (Quran 2:228-232 Sahih Bukhari 8:4871-82 Sahih Muslim 9:3493) রুমি চাইলে বউ পিটাতে পারতো কিন্তু তাও করে নি। তবে ইসলামে স্ত্রীর গায়ে হাত তোলার অধিকার আছে পুরুষের (Quran 4:34 Sahih Muslim 4:2127 Abu Dawud 11:2141) স্ত্রী-প্রহারকারী স্বামীদের কাছে কোনো জবাব চাওয়া হবে না (Abu Dawud 11:2142) তবে বেশি মারা যাবে না, যেহেতু রাত্রিকালীন প্রয়োজন মেটাবে তারা (Sahih Bukhari 7:62:132) এখানে রুমির বিশাল মানবিক গুণ ফুটে উঠেছে। 

ইসলামী পণ্ডিত গাজালি তাঁর বই ‘গাজালি দ্বিতীয় খণ্ডে’ বলেছেন: “সব সময় নারীদের বিরোধী অবস্থান নিতে হবে, তাতে আছে পুরস্কার” কিন্তু তবুও অনেকে বলেছে রুমি খারাপ, আরে রুমি খারাপ না রুমির বউ খারাপ। ইসলাম বলে: নারী খারাপ, নারী নিকৃষ্ট (Sahih Bukhari 9:88:219), নারী অকৃতজ্ঞ (Sahih Bukhari 1:2:28), নারী খেলার পুতুল (Al-Musanaf Vol.1 Part 2 p.263), নারীতে নিহিত আছে যাবতীয় খারাপ (Sahih Bukhari 4:52:110, 4:52:111) 

জানি, এত কিছুর পর আপনারা আর রুমির বিপক্ষে যাবেন না, কারণ ইসলাম তা-ই বলে। তবে যারা এখনও নারীবাদী, তাঁদের নিয়ে রসূল বলেছেন “নারীবাদী এবং নারীরা বুদ্ধিহীন (Sahih Bukhari 2:24:541) তাই তাঁরা এইসব বলার দুঃসাহস করে। যারা নারীর পক্ষে কথা বলে এবং নারী তাঁরা সব দোজখে যাবে (Sahih Muslim 36:6596, 36:6597 ) তাই নারীবাদী নাস্তিক থেকে দূরে থাকুন। 

শেষ পর্যায়ে বলবো, আপনারা গুজবে কান দেবেন না, সীলমোহর যুক্ত নবীর ইসলাম বেছে নিন। আর রুমির প্রথম বউকে বলবো, তার সতিনের সাথে স্বামীর যৌন সম্পর্কের আগে যেন রুমিকে তৈরি করে দেওয়া হয়। কারণ হাদিসে আছে: "অন্য স্ত্রীর সাথে যৌনসংসর্গের পুর্বে স্বামীকে প্রস্তুত করে দেওয়া সুন্নত" (Sahih Bukhari 1:5:270) এছাড়া নারীদের কাজই বা কি? হাদিসে আছে: “তাদের একমাত্র কাজ পুরুষের সেবা করা।” রুমির দুই বউকে বলবো, “আপনারা সব সময় তৈরি থাকুন স্বামীর সাথে যৌন সম্পর্কের জন্য। মনে রাখবেন, হাদিসে আছে, ‘যৌনাঙ্গ যেকোন সময়ের জন্যে স্বামীর উদ্দেশ্যে প্রস্তুত রাখা বাধ্যতামুলক (Sahih Bukhari 4:54:460, 7:62:81) 

মাথায় রাখবেন, সহি ইসলাম কী। ইসলামের পথে আসুন, দ্বীনের আলো প্রচার করুন। 

* ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

চিত্রপঞ্চক - ২৩


WTF! 

জেগে উঠুক আরবের নারীরা (ইংরেজিতে লেখা: I'm with the uprising of women in the Arab world because for 20 years I wasn't allowed to feel the wind in my hair and my body)

নির্ধার্মিক মনীষীরা – ৭৪



কৃতজ্ঞতা: অভিজিৎ রায়

iPriest - আইফোনের নতুন অ্যাপস


মাত্র সাতাশ সেকেন্ডের প্রভূত আনন্দদায়ী 'বিজ্ঞাপন'।

লক্ষ্য করুন:
ইউটিউব ব্লকড থাকলে:
১. http://www.youtube.com/...-এর বদলে https://www.youtube.com/... ব্যবহার করলে কাজ হচ্ছে বলে অনেকে জানিয়েছেন।
২. কাজ না হলে নিচে দেয়া ভিডিও লিংকটি (অথবা ইউটিউবের যে কোনও লিংক) এই ঠিকানায় গিয়ে তালার ছবির ডানপাশের বক্সে বসিয়ে সরকারী সিদ্ধান্তকে কাঁচকলা দেখিয়ে অবলীলায় ভিডিও দেখতে থাকুন।

কার্যকারণ ও ফলাফল


ফলাফল ১

ফলাফল ২

কার্যকারণ

২৪ অক্টোবর, ২০১২

মহাভারতের কথা


পাঠিয়েছেন দিগম্বর পয়গম্বর


এবং কজমিক ডাস্ট-এর বিজয়া দশমী চিন্তা:

চারিদিকে শুধু মা দুর্গার বিসর্জনের স্ট্যাটাস দেখতে পাচ্ছি। দেখে আমারও শখ জেগেছে, আমিও বিসর্জন দেব দেবীকে। দেবীর ছোট্ট একটা পুতুল নিয়ে কমোডে ফেলে ফ্লাশ টেনে দেব।

লুক্স লিখিত সুসমাচার - ০৬


লিখেছেন লুক্স

৪৬.
আব্রাহাম স্বপ্ন দেখলো নিজের পোলারে আর আল্লাহ একটা দুম্বা আইন্যা গোঁজামিল দিয়া স্বপ্নপূরণ করলো। দুম্বা আর নিজের পোলা কি এক হইলো? মুসলমানরা স্বপ্ন দেখতেও জানে না, আর যা দেখে তাও পূরণ হয় না। সব স্বপ্নই দুম্বা হইয়া যায়। 

৪৭.
কোরান-হাদিস নিয়ে তর্ক করার সময় মুমিনরা প্রায়ই একটা কথা বলে: আল্লাহ নাকি আমাকে কোরান বোঝার ক্ষমতা দেন নাই। কোরান বুঝার জন্য কী এমন ক্ষমতা দরকার, যা আল্লাহ বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান সহ পৃথিবীর অন্যান্য মুসলিম দেশের কোটি কোটি অশিক্ষিত মানুষ যারা লিখতে পড়তেই জানে না, তাদেরকে দিলেন আর আমাকে দিলেন না?

৪৮.
ইসলাম অমুসলমানদের সাথে এবং নারী-পুরুষের বন্ধুত্বের অনুমোদন দেয় না। তবে অমুলমানদেরকে হত্যা ও ধর্ষণের অনুমোদন দেয়।

৪৯.
একটা Message আমি প্রায়ই পাই। অনেক মুসলমান বন্ধু আমাকে একটাই প্রশ্ন করে Message পাঠায়। ''আচ্ছা ভাই, আপনি কি মুসলমান না?'' ধর্মের সমালোচনা করি বলেই এই প্রশ্ন। আপনাদের কাছে আমার প্রশ্ন: মুসলমান হলেই কি সত্য কথা বলা যাবে না? মুসলমান হলেই কি মিথ্যাকে স্বীকার করে নিতে হবে? মুসলমান হলেই কি জিহাদ করতে হবে? মুসলমান হলেই কি অবৈজ্ঞানিক আর উদ্ভট কথায় বিশ্বাস করতে হবে? মুসলমান হলেই কি অন্য ধর্মকে শত্রু ভাবতে হবে? মুসলমান হলেই কি আমাকে ১৪০০ বছর আগে ফিরে যেতে হবে? মুসলমান হলেই কি আমার মানবিক গুনাবলি বিসর্জন দিতে হবে? মুসলমান হলেই কি আমি আর মানুষ হতে পারবো না? পৃথিবীতে ১০ হাজারেরও বেশী ধর্ম আছে। আল্লার ইচ্ছা ছাড়া একটি ধর্মও আসেনি। আর এর সবকটি ধর্মই যে সত্য, তার অসংখ্য প্রমাণ আছে প্রত্যেকটি ধর্মের বিশ্বাসীদের কাছে।

৫০.
পৃথিবীর ইতিহাসে বড় বড় নবী রসুলরা হয় নিরক্ষর ছিলেন, নয়তো মেষপালক ছিলেন। সক্রেটিসের মতো জ্ঞানী লোকেরা কখনো নবুয়্যাত পাননি। ঈশ্বর জ্ঞানীদের পছন্দ করেন না।

৫১.
সত্যি, মুসলিম বিশ্বের দিকে তাকালে অবাকই লাগে। মনে হয় এইসব দেশে বিজ্ঞানশিক্ষা দেওয়া হয় আল্লার অস্তিত্ব প্রমাণ করতে। দেশে থাকতে দেখেছি, এখন বিদেশেও দেখছি,- মুসলমানরা অসুখ থেকে সুস্থ হবার পর তার ডাক্তারকে ধন্যবাদ দেয় না, আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে। চিকিৎসা করে ডাক্তার, আর রোগমুক্তি নাকি আল্লাহর হাতে!

৫২.
সন্ত্রাসের বীজ ধর্মগ্রন্থেই আছে। অস্বীকার করতে পারবেন?

৫৩.
বিশ্বাস একটা একান্ত ব্যক্তিগত অনুভুতি। বিশ্বাস মানুষ তখনি করে, যখন সে প্রমাণ করতে পারে না বা প্রমাণ করতে চায় না। এই বিশ্বাস শব্দটাই প্রমাণ করে যে, তাদের কাছে কোনো প্রমাণ নেই এবং এই বিশ্বাসটা সত্যি না হওয়ারও একটা সম্ভাবনা সব সময়ই আছে। এই ফাঁকির সম্ভাবনাটা গ্রহণ করার অক্ষমতাটার কারণেই বিশ্বাস হয়ে যায় অন্ধবিশ্বাস। আর এই অন্ধবিশ্বাস তাদের বানিয়ে দেয় ধর্মান্ধ।

৫৪.
যারা কোরানে বিজ্ঞান খোঁজে, তাদের বিরুদ্ধে বিজ্ঞান ও শিক্ষাকে দূষিত করার অপরাধে আদালতে মামলা হওয়া উচিত।

৫৫.
মোহাম্মদ আমাদের বাংলাদেশের নোয়াখালী অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করলে কোরান রচিত হতো নোয়াখালী ভাষায় আর পরবর্তীতে এ নোয়াখাইল্যা ভাষাটাই হতো বাংলাদেশের সরকারী বা বিশুদ্ধ দাপ্তরিক এবং পবিত্রতম ভাষা।

ঈদ-উল-আজহা: জান্তব জশনে জুলুছে – ০৬


বানিয়েছেন অবর্ণন রাইমস


পূর্ণাকারে দেখতে ছবির ওপরে ক্লিক করুন। কাজ না হলে রাইট ক্লিক > ওপেন ইন নিউ ট্যাব/উইন্ডো

রক্তস্নাত উৎসব


ঢাকায় একটি গতানুগতিক কোরবানি দিবস। পোনে পাঁচ মিনিটের ভিডিও, তবে নার্ভ শক্ত না হলে না দেখাই শ্রেয়। আমি কিছুদূর পর্যন্ত দেখে বন্ধ করে দিয়েছি। 

ভিডিও ইউটিউবের নয়। 

নিত্য নবীরে স্মরি – ৯২




কোরবানি নামের পৈশাচিকতা


লিখেছেন সোহেল চৌধুরী

চলে এল কোরবানির ঈদ। আমার মতে কোরবানি, বলি এসব ধর্মীয় আচার আসলে সাধারণ মানুষের পৈশাচিকতা চর্চার একেকটা উপায়। একটা নিরীহ প্রাণীকে হত্যা উপলক্ষে যে উৎসবের আমেজ উপভোগ করা হয়, সেটা যে কোনো বিচারে অত্যন্ত অরুচিকর পৈশাচিকতা বটে।

মানুষ স্বভাবগতভাবে যে কোনো পৈশাচিকতা, নিষ্ঠুরতা ইত্যাদির বিরোধী। মানুষ সাধারণ অবস্থায় খুনি হতে পারে না। সে একমাত্র তখনই হাতে রক্ত মাখে, যখন তার সামনে বৃহত্তর একটা উদ্দেশ্য হত্যার নির্মমতাকে পর্দার আড়াল করে ফেলে। হতে পারে সেটা বেঁচে থাকার জন্য ক্ষুধা নিবৃত্তি, আত্মরক্ষা, কিংবা ধর্ম, জাতি, দেশ বা বিপরীত লিঙ্গের প্রতি প্রেম - এরকম গুরুত্বপূর্ণ কিছু। আদিম মানুষ এরকম প্রয়োজনেই শিকার করত। কিন্ত সে শিকারের মধ্যে পৈশাচিক আনন্দের উপাদান ছিল না, ছিল ক্ষুধার অথবা আত্মরক্ষার তাড়না। আমার মনে হয়, পরবর্তীতে পশু হত্যার সাথে যখন রিচুয়াল যুক্ত হয়, তখন থেকে এ পৈশাচিকতা চর্চার শুরু।

তবে, এই চর্চার কিছু সামাজিক ও রাজনৈতিক উপাদান বিশেষ বিবেচ্য। যেমন, ইসলাম আবির্ভাবের সময় একটা যুদ্ধবাজ আগ্রাসী কমিউনিটির জন্য এই পৈশাচিকতার বিশেষ উপযোগিতা ছিল। তখনকার আরবের প্রত্যেকটা শিশুকে ভবিষ্যতের জন্য দক্ষ, দৃঢ়, ও নির্মম যোদ্ধা হিসাবে গড়ে তুলতে এরকম বাৎসরিক হত্যা অনুশীলন বেশ কার্যকরী একটা উপায় বলে মনে হয়। প্রত্যেক বছর কোরবানির "বৃহত্তর উদ্দেশ্য"-কে মনে ধারণ করে এবং কোরবানীর পৈশাচিকতার প্রতি নির্বিকার থাকার অনুশীলন করে ধীরে ধীরে একটা শিশু এ রকম পৈশাচিকতার বিপরীতে এক ধরণের স্বভাববিরুদ্ধ ইমিউনিটি ডেভলাপ করে, যা যোদ্ধা হিসেবে তার দক্ষতা অনেকগুন বাড়িয়ে দেওয়ার কথা। আর এরই ধারাবাহিকতায় আমরা এখনো দেখি যেসব কমিউনিটির মধ্যে কোরবানী, বলি এসবের চর্চা আছে, তারা তুলনামূলক ভাবে শত্রুর প্রতি অনেক নির্মম, দয়ামায়াহীন। শত্রুপক্ষের কারো জন্য মানবতাবোধ তাদের মনে সহজে রাস্তা খুঁজে পায় না।

২৩ অক্টোবর, ২০১২

ইছলামী বিগ্যান



কোরানের নানাবিধ আয়াত স্পষ্টভাবেই নির্দেশ করে (এক, দুই, তিন, চার), পৃথিবী সমতল। অতএব মমিন ভাইয়েরা, আপনারা কি কোরানে বিশ্বাস করবেন না? 

তথ্যসূত্র।

হরর হাদিস - ০১


কথায় কথায় জ্বালাও-পোড়াও-হত্যা করো জাতীয় মুসলিম ঐতিহ্যকে অনেকেই 'ইহা ছহীহ ইছলাম নহে' বলে এড়িয়ে চলতে ব্যগ্র। তাহলে দেখা যাক, ইছলামের নবীর জঙ্গিত্ব কতোটা, কতোটা সে উগ্রবাদী। 

আমরা সকলেই জানি, ইছলামে জোরাজুরির স্থান নেই। আর তাই শান্তির ধর্মের শান্তিকামী নবী শান্তির বাণী বর্ষণ করে বলেছে, যারা নামাজে আসেনি, তাদের পুড়িয়ে মারো, আগুন জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দাও তাদের বাড়িঘর। 
Narated By Abu Huraira: 
The Prophet said, "No prayer is harder for the hypocrites than the Fajr and the 'Isha' prayers and if they knew the reward for these prayers at their respective times, they would certainly present themselves (in the mosques) even if they had to crawl." The Prophet added, "Certainly I decided to order the Mu'adh-dhin (call-maker) to pronounce Iqama and order a man to lead the prayer and then take a fire flame to burn all those who had not left their houses so far for the prayer along with their houses."

কুরবানিপ্রথা প্রচলনের নেপথ্যে



বালছাল চটি কাহিনী সমাচার


লিখেছেন পাগলা পানি

নানান ধর্মীয় পুস্তকে উল্লেখিত অজস্র কাহিনী ঠাকুরমার ঝুলিকে হার মানিয়ে দেয় অনেক ক্ষেত্রেই। ধর্মবইগুলো একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করে লিখেছে বলেই মনে হয়। কোরান, বেদ, বাইবেল পড়লেই বোঝা যায় সবগুলোই আজগুবি বালছালে ভরা! মনের মাধুরী মিশিয়ে লেখা। বাইবেল-এর আদি পুস্তকে ঈশ্বরের আত্মার পানিতে হেঁটে বেড়ানোর কথা লেখা আছে! তিনি দিন-রাত সব কিছু সৃষ্টি করলেন। তখন আল্লাহ এবং ব্রহ্মা কী করছিলেন? তাঁরা কি একান্ত ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত ছিলেন? সনাতন ধর্মে আছে মেদিনী সৃষ্টির আশ্চর্যরকম গাঁজাখুরি কাহিনী। আর আল্লাহ নিরাকার হয়ে কীভাবে পুরো দুনিয়ার আকার-বিকার-চিৎকার-শীৎকার তৈরি করলেন, সেটা আরেক চিরন্তন মিথ্যা ! সেরকম হলে ধরনী তিনবার সৃষ্টি হয়েছে, তিনভাবে (আজিব এক খেলা!!) এবং প্রত্যেকের দাবি করা দুনিয়ার একক মালিক ঈশ্বর তাহলে একজন না, সেখানেও তিনজন আছে! তাহলে কোন ধর্ম বই সত্য লিখেছে? এক ধর্মের দৃষ্টিতে আরেক ধর্ম মিথ্যা, চটিকাহিনী তুল্য। বৌদ্ধধর্ম পাগলের ধর্ম। এসব কনফিউজিং বিষয়ে মাথা না খাটিয়ে মহাপুরুষ হবার প্রতি দৃষ্টি ছিল গৌতমের । সে বুদ্ধ না হলে আজকের দুনিয়ায় বউ-পোলা ছেড়ে যাবার অপরাধে গণপিটুনি বা নারী নির্যাতন মামলায় জেলের ভাত খেতো, সে ব্যাপারে নিশ্চিত।

আল্লাহ সব সৃষ্টি করলেন, ঈশ্বর সব সৃষ্টি করলেন, মহা ব্রহ্মা সব সৃষ্টি করলেন। তারা কি যৌথ প্রযোজনা চালিয়েছিলেন? একসাথে সকল ধর্মগ্রন্থ সত্য হতে পারেনা। তাহলে সত্যের বাণী দিয়ে সৃষ্টি করা প্রতিটা ধর্মবই, মানুষকে সত্য পথের শিক্ষা দেওয়া ধর্মের বই, পরম পূজার শ্রদ্ধার ধর্মের বই, যেখানে আস্তিকদের অগাধ বিশ্বাস সেই বইগুলো কি মিথ্যা জ্ঞান দিয়ে যাচ্ছে না যুগের পর যুগ? প্রত্যেকে নিজ নিজ ধর্মকে সত্য ও শ্রেষ্ঠ দাবি করার সুস্পষ্ট অর্থই হল, অন্য ধর্মের প্রতি তীব্র অবজ্ঞা এবং অশ্রদ্ধা। কারণ একজন বিশ্বাসী কখনোই নিজের ধর্মের বাইরে অন্য ধর্মকে সত্য এবং শাশ্বত মানতে পারে না। নিজের ধর্মের গুণগানে ব্যস্ত থাকে, নিজের ধর্মের শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে আত্মতৃপ্তিতে ভোগে। তাই ধার্মিক (মানে নিজ ধর্মের পাঁড় ভক্ত) যারা, তারা কখনোই ভালবাসতে পারে না সকল ধর্মের-বর্ণের-জাতির মানুষকে! যে ধর্মে স্পষ্ট বলা হয় জাত-পাতের কথা, যে ধর্মে বলা হয় মূর্তিপূজকদের ঠ্যাঙানোর কথা, যে ধর্মে বলা হয় ঈশ্বরের জারজ সন্তানের স্বীকৃতির কথা পক্ষান্তরে নারীদেরকে তীব্রভাবে অপদস্থ করা অপমানজনক দৈববানী, সেসব ধর্মকে চার্চ, মন্দির, মসজিদে গিয়ে পালনকারী আস্তিকের দল কতটুকু ভালবাসে মানুষকে, মানবতাকে, সেটা স্পষ্টতই অনুমেয়। 

স্রষ্টা, ধর্মবই এবং ধর্মের বাণী প্রচারকারী মহাপুরুষেরা যুগে যুগে কালে কালে মানুষের মাঝে বুনে দিয়েছে অধর্মের বীজ। ধর্মের নামে ধ্বংস করেছে মানুষের মনুষ্যত্ব, আরোপ করেছে নিজেদের চিন্তা, বিশ্বাস এবং গাঁজাখুরি কাহিনীর ধর্মবই নামধারী চটি। ধর্ম দেখিয়েছে স্বর্গের লোভ (ছিঃ! প্রতারণার একটা সীমা থাকে!!), নরকের ভয়, হুরপরীর লোভ (ইহজীবনে নিজের যৌনাঙ্গকে নিয়ন্ত্রণ করে পরকালে সঙ্গমের অবাধ স্বাধীনতা প্রদান!) কিংবা সুখে থাকার, খাওয়া-দাওয়ার সুব্যবস্থা (এতো ফল থাকতে দ্রাক্ষা বাগান কেনু?) এবং উন্নতবক্ষাদের সাথে বিনোদন (এর নাম কি তাহলে সেভেন্টি থ্রীসাম? পবিত্র পায়খানা!!!)।

ঈশ্বর, আল্লাহ, কিংবা ভগবান এতো শক্তিমান, মহাক্ষমতাধর, মহাবিচারক, পরম করুণাময় তকমাধারী হলে প্রতিদানের আশায় কেন বসে থাকেন নিজেদের স্তুতি শোনার জন্য? কিংবা কেন বেঁচে থাকতে যেসব ভোগ করলে পাপ বলে নিজের দুর্বলতা ঢাকলেন, আবার স্বর্গে কিংবা বেহেশতে সেসেই জায়েজ করে লোভ দেখালেন? প্রার্থনা কিংবা নামাজের জন্য কেন আলাদা ভাষা সৃষ্টি করেলন? তিনি এতো কিছু জানেন, পারেন, আলু-কচু বোঝেন, বাংলা বোঝেন না? এতোবড় প্রপঞ্চককে মানুষ কীভাবে চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করে? 

মুমিনদের ধর্মের কাহিনী আরবি, পালি-ছালি, সংস্কৃত পর্যন্তই ফাক পবিত্র। বাংলা অনুবাদ করলেই বোধগম্য হয় হাজার বছর আগের প্রচলিত কথা এই যুগে কতটা অচল এবং ব্যাকডেটেড! আর এসব কথা মেনে চলে আজকের আধুনিক যুগের আবাল মানুষ। ধর্মের বাণী মেনে নেয় অনায়াসে, বিজ্ঞান-প্রযুক্তির উপযোগ উপভোগ করে ষোলো আনা, কিন্তু বিবর্তন কিংবা বিগ-ব্যাং এর কথা শুনলে লাফ দিয়ে উঠে ধর্মীয় অনুভূতি!! 

তথাকথিত মহাপুরুষরা মানুষের চরিত্রের এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়েই কল্পনার সব রঙ মিশিয়ে টাইট দেওয়ার জন্য রেখে গেছেন তাদের আবাল দর্শনের লিখিত রূপ - ধর্মীয় চটি। এসব নিয়ে অনেকবার অনেকেই অনেককিছু বলছেন, কিন্তু আস্তিকদের কখনোই সেসব পছন্দ হয়নি। অদেখা-অচেনা-নিরাকারকে এক এবং অভিন্ন মেনে কিংবা অবিশ্বাস্য কাহিনীকে সত্য মনে করে দিনের পর দিন স্তুতি গেয়েছে ওপরওয়ালা নামক প্রশংসাপ্রিয় প্রাণীর। তিনি নিজের জন্য সব সৃষ্টি করেছেন, তিনি শয়তান সৃষ্টি করেছেন মানুষকে বিভ্রান্ত করতে কিংবা নরক বা দোযখ তৈরি করেছেন মানুষকে শাস্তি স্বরূপ গ্রিল করতে। 

ভাবছি, আল্লাহ কাফেরদের বিচার করলে মহা ব্রহ্মা মাইন্ড করবেন না? তিনি কি তখন অবসর নেবেন? ম্লেচ্ছদের বিচার যদি ব্রহ্মা করেন, আল্লাহ কি চুপ করে তামাশা দেখবেন? (সেখানে আরেকটা ঐশী দাঙ্গা হবে আল্লাহ-ঈশ্বর-ব্রহ্মার মধ্যে! যে স্বর্গে যেতে মানুষ উন্মুখ, সেই স্বর্গেও গ্যাঞ্জামের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায়না!!) বেহেশতে যেতে পারবে শুধুমাত্র মুমিন মুসলিম! এমনকি একজন ধার্মিক মালাউনের বেহেস্তে প্রবেশের অধিকার নেই! এসব মালাউনের বাচ্চাকে পিটিয়ে-খেদিয়ে-পোন্দিয়ে যদি ইসলামে ঢোকানো যায়, তাহলে অন্তত সে বেহেস্তে তার কর্তিত লিঙ্গ হুরির যোনীতে প্রবেশ করাতে পারবে! এ তো মুমিনের নির্দোষ চাওয়া। এতে অধর্মের কী আছে! ম্লেচ্ছরা ছুঁলে যদি স্বর্গের পথ বাধাগ্রস্থ হয়, সেক্ষেত্রে একপাতে খেতে ঘৃণা করতেই পারে ধার্মিক হিন্দু একজন মানুষ। একদল ব্যস্ত জ্বালাও-পোড়াও নীতিতে, অপরদল মানুষকে নিচু জাত, ম্লেচ্ছ কিংবা অস্পৃশ্য নাম দিয়ে মানসিকভাবে বিধ্বস্ত করার তালে! ধার্মিকদেরই রূপ এসব। যাদের মানবতা-ভালবাসা কিংবা ধ্যান-জ্ঞান সীমাবদ্ধ নিজ সম্প্রদায়ের ভেতর। তীব্র বিদ্বেষ অন্য সব ধর্মের জন্য। 

কোনো ধর্মই বিতর্কের ঊর্ধ্বে নয়। কোনো ধর্মই শ্রেষ্ঠ নয়। কোন ধর্মগ্রন্থের বাণীই নির্ভুল নয়। যারা নিজেদের ধর্মের শ্রেষ্ঠত্বের মোহে মানুষ ও মানবতা ভুলে মেতে থাকে ঈশ্বরস্তুতিতে, তাদের জীবন কেটে যায় ধার্মিকরূপে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে, স্রষ্টাকে পটাতে। এরাই সময় এবং সুযোগ বুঝে ঝাঁপিয়ে পড়ে নিজের ধর্মের শ্রেষ্ঠত্বের কিচ্ছা-কাহিনী প্রচার এবং প্রসারে। এভাবে আর কতকাল ভণ্ডামি চলবে? কবে এরা সব ভুলে বরণ করবে মানবতাকে, মানবধর্মকে?