২৯ ফেব্রুয়ারী, ২০১২

বিজ্ঞানময় কিতাব


লিখেছেন হযরত নালায়েক 

হালের ইসলামের সাত সাগরের মাঝি, লোডশেডিং-এ হ্যারিকেন যাকির নায়েকের ভক্তকুল নেহায়েত কম না। অনেকেই উনার দেখায় নিজ নিজ ধর্মের পাঞ্জেরী হওয়ার চেষ্টা চালাইতে গিয়া নিজেই পথের দিশা হারাইয়া ফেলেন। সেই সকল ধর্মপ্রাণ ভাইদের জন্য আমার এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। কীভাবে ধর্মগ্রন্থ হইতে বিজ্ঞান লেবুর রসের মত চাপিয়া বের করিতে হয়, সেই নিমিত্তেই এই টিউটোরিয়ালখানা: 

শুরুতেই আপনাকে নির্বাচন করতে হবে টপিক। খুব সুচরুতার সাথে এই কাজটি সম্পাদন করতে হবে। ভুল টপিক নির্বাচনে হিতে বিপরীত হতে পারে। এমন টপিক নির্বাচন করতে হবে যেটাকে ইংরেজীতে বলে বাজওয়ার্ড (দুঃখিত, বাংলাটা জানা নেই) । যেমন ধরুন, আপনি টপিক নির্বাচন করলেন, পানি কত ডিগ্রি তাপমাত্রায় বরফ হয় কিংবা বাষ্প হয়। আপনার ধর্মগ্রন্থে সেটা পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করাও আছে। আপনি দাবি করতে চান, বিজ্ঞান আবিষ্কার করার ১৪০০ বছর আগেই সেটা আপনার ধর্মগ্রন্থে লিখা ছিল। এরকম টপিকগুলা সাধারণত ভাত পায় না। যেগুলো রিসেন্ট আবিষ্কার, নাম মোটামুটি সবার জানা কিন্তু জিনিসটা আসলে কী, সেটা সম্পর্কে খুব মানুষের ধারণা নেই, সেগুলো টপিক হিসেবে উত্কৃষ্ট। যেমন ধরুন, ব্ল্যাক হোল কিংবা বিগ ব্যাং। এই নামগুলো সবার মোটামুটি জানা থাকলেও প্রকৃতপক্ষে বিগ ব্যাং কিংবা ব্ল্যাক হোল কী, সেটা খুব কম মানুষই জানে। 

এবার আসুন কিতাব থেকে বাণী খুঁজে বের করার কাজে। আগে এই কাজটি কঠিন হলেও আধুনিক বিজ্ঞানের কল্যাণে সেটা পানির মত সহজ। সুবিধাজনক ২-৪টি আয়াত খুজে বের করুন। 

এখন আপনাকে হাত দিতে হবে সেটাকে বাংলা তর্জমা করার কাজে। এটা খুব ক্রিয়েটিভ একটা কাজ। এখানেই আপনার সাফল্য অনেকখানি নির্ভর করছে। উদাহরন দিয়ে বলি। ধরুন, আপনি যে আয়াতটি নির্বাচন করলেন সেটার বাংলা অনুবাদ হচ্ছে: “অবিশ্বাসীরা কি দেখে না কিভাবে সূর্য্যের আলো পৃথিবীতে আসে।” আপনাকে এখন সেটাকে কিঞ্চিৱৎত পরিবর্তন করে অনুবাদ করতে হবে এরকমভাবে: “অবিশ্বাসীরা কি দেখে না কিভাবে সূর্য্য থেকে বিকিরিত রশ্মি পৃথিবীতে আসে।” ব্যস, কেল্লা ফতে। আলোও এক ধরনের বিকিরিত রশ্মি, তাই আপনার অনুবাদে কিন্তু ভুল নেই।

এর পরের কাজ খুবই সোজা, উইকিপিডিয়া থেকে রেডিয়েশান, উত্তপ্ত বস্তুর তাপ বিকিরণ, ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশান, রেডিও থেরাপি থেকে শুরু করে রেডিওঅ্যাক্টিভিটি পর্যন্ত সবকিছু কিতাবের বাণীর সঙ্গে মিলিয়ে ফেলুন। সাথে খুব উচ্চমার্গীয় ডায়াগ্রাম এবং খুব কাঠ-খোট্টা ইংরেজি লাইন উদ্ধৃত করতে ভুলবেন না, তাতে আপনার প্রতি ভক্তদের শ্রদ্ধা কয়েকগুণ বেড়ে যাবে। 

এবার ব্লগে পোস্ট করে দিন। কিন্তু এখানেই কাজ শেষ সেটা ভাববেন না। আপনি পোস্ট করা মাত্রই অবিশ্বাসীর দল আপনার পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়াবে। তাদেরকে সামলাতে পারলেই কাজ উদ্ধার। প্রথমেই প্রশ্ন আসবে, যদি কিতাবে লিখাই থাকে এতোদিন কেন আবিষ্কার করা গেল না? তখন বলতে হবে, এতোদিন এরকম জিনিস বোঝার মত জ্ঞান মানুষের ছিল না, তাই চোখের সামনে থেকেও কেউ ধরতে পারেনি। এভাবে পিছলামী করে সরে যেতে হবে। কিন্তু কিছু ত্যাঁদোড় নাস্তিক থাকবে, যারা তারপরেও পিছু ছাড়বে না। তাদেরকে তোরা ব্যাটা বিশ্বাস করছিস বান্দর থেকে মানুষ আসছে, তোদের চিন্তা আর কত দূরই বা যাবে! এভাবে বোল্ড করে আপনাকে ফিরে আসতে হবে। 

তো এবার শুরু করে দিন, বলা যায় না আপনিই হয়ে যেতে পারেন আরেক যাকির নায়েক।

বিশ্বাসমদন



রিচার্ড ডকিন্সের অংশগ্রহণে একটি বিতর্ক


গত ২৪ তারিখে অনুষ্ঠিত রিচার্ড ডকিন্সের সঙ্গে Archbishop of Canterbury রোওয়ান উইলিয়ামসের বিতর্ক। বিষয়: Human Beings & Ultimate Origin.

দেড় ঘণ্টার ভিডিও। দেখার সময় পাইনি বলে কোনও মন্তব্য করতে পারছি না।


ডাকাতের রকমফের


পাঠিয়েছেন হযরত নালায়েক


নিঃসীম নূরানী অন্ধকারে - ০১


লিখেছেন তামান্না ঝুমু 

১.
খাদিজা মারা যাবার পর মুহাম্মদ ১৩ বছর বেঁচে ছিলেন। ১৩ বছরে তিনি ১৩ খানা বিবাহ করেছেন মাশাল্লাহ। তিনি আরো কয়েক বছর বেঁচে থাকলে পৃথিবীর অনেক উপকার করতে পারতেন। আরও কয়েক ডজন কন্যাদায়গ্রস্ত পিতাদের কন্যাদেরকে বিবাহ করে তাদেরকে মহাবিপদ থেকে উদ্ধার করতে পারতেন। 

২.
ধর্মব্যবসায়ীরা কেউ কেউ পরমহংস,
কেউ কেউ পরমবক।

৩. 
জীবাণু যেমন ফসলের জন্য ক্ষতিকর, ধর্মও তেমনি মানুষের জীবনের জন্য ক্ষতিকর। স্বাস্থ্যবান ফসল পেতে হলে যেমন জীবাণু কাম্য নয়, তেমনি সুস্থ্য সুন্দর সমাজ ও জীবনগঠনেও ধর্ম কাম্য নয়।

৪. 
গতকাল রাতে তাহাজ্জুদের নামাজ শেষ করে ঘুম আসছিলো না। ভাবলাম, একবারে ফজর পড়েই ঘুমোতে যাবো। তসবিহ হাতে পায়চারি করার জন্য ব্যালকনিতে গিয়ে দাঁড়িয়েছি। দেখি, আকাশে পূর্ণিমার চাঁদ হাসছে। চাঁদের দিকে তাকাতেই চোখে পড়লো ধবল জোছনা কেটে ধলা রঙের একটা ধেনুর পিঠে সওয়ার হয়ে হিজাব-নিকাব পরা ডিজিটালা নবী তামান্না ঝুমু ঊর্ধ্ব আকাশপানে ছুটে চলেছেন। এখন বুঝলাম এই তপস্বিনী মিরাজে গিয়েছিলেন। এই অলৌকিক ঘটনার আমি একজন চাক্ষুস সাক্ষী। আশা করছি, মুমিন এই বান্দার সত্যভাষণের পরে নবী তামান্না ঝুমুর মিরাজে সন্দেহ পোষণেরই লোক পাওয়া যাবে না, মিথ্যা প্রমাণ তো অনেক দূরের কথা। 

৫.
যে কোনো ধর্মগুরুর জীবনীর সাথে অধার্মিক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জীবনী তুলনা করলেই বিশ্বাসের ভয়াবহতা ও অবিশ্বাসের উদারতা সম্পর্কে বুঝতে পারা যেতে পারে। 

নিত্য নবীরে স্মরি – ৫২


এই খোমাসুন্দর ছবি আঁকার 'অপরাধ' মমিনরা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবে না?


২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০১২

বলদ ইব্রাহিম উৎপাদিত বল্দার্গু


ইংরেজিতে বলে 'আব্রাহামিক রেলিজিয়নস', আমি সেটার বাংলা করেছি - আব্রাহাম্মক ধর্মগুলো।

বদ্ধোন্মাদ/ভণ্ড ইব্রাহিম নবীর পুত্রহত্যার উদ্যোগের কাহিনী নিয়ে আরও একটি মজাদার ভিডিও। মাত্র আড়াই মিনিটের।


ছহীহ ইছলামী কিবোর্ড


বানিয়ে পাঠিয়েছেন Mohammad Mockerof Islam

ইসলামি কিবোর্ড লে-আউট। আইডিয়াটা হল: ধর্মছাগুরা বাঁধাধরা শব্দ নেটে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে ব্যবহার করে বলে অক্ষরের বদলে কিবোর্ডে সেই বহুল ব্যবহৃত শব্দগুলো বসিয়ে মজা করা। কাগু মোস্তফা জব্বারকে নিয়েও ফান করার চেষ্টা ছিল। সেই কারনে নবীর সাথে নাম মিলিয়ে টাইটেল দিয়েছি "বিজয় মোস্তাফা"!

ছবিতে ক্লিক করে পূর্ণকারে উপভোগ করুন

বৌদ্ধধর্ম: আধ্যাত্মবাদী বিরিঞ্চিবাবাদের অনুৎপাদনশীল ফ্যান্টাসির উৎস


লিখেছেন আল্লাচালাইনা

বৌদ্ধধর্মের প্রতি সবারই রয়েছে একটা উষ্ণ-নরম, কসুম-গরম সহানুভূতি; কেননা এই ধর্মটা রক্ত-টক্ত তেমন একটা ঝরানোর সুযোগ পায়নি মানুষের, উপরন্তু ‘হগলে বনে যাওগা, গিয়া তপস্যা করো’ মার্কা বাস্তবতা বিবর্জিত সেক্সি-সেক্সি কথাবার্তা বলে আমাদের দুধ-মাখনের ওয়্যাকি নিউএইজ আধ্যাত্মবাদী বিরিঞ্চিবাবাদের অনুৎপাদনশীল ফ্যান্টাসির অন্তর্বাস রেখেছে সর্বদাই ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে!

আমি ব্যাপারটাকে অন্যভাবে দেখি। আমি মনে করি ধর্ম এমন একটি সিস্টেম, যেটির সবচেয়ে স্টেইবল স্টেইট হচ্ছে - লংরানে সমাজে সবচেয়ে বেশী অশান্তি উৎপাদন করতে সক্ষম থাকাটা, প্রত্যেকটি ধর্মই। খ্রিষ্টধর্মের অশান্তি উৎপাদন করার ক্ষমতাটা নিউট্রালাইজ করে রাখা হয়েছে সক্রিয়ভাবে শক্তি প্রয়োগ করে; এই ধর্মের ডেমোগ্রাফির ভেতর পরে যেইসব মানুষ, তাদের তুলনামুলকভাবে বেশী শিক্ষিত হওয়া, অর্থনৈতিকভাবে বেশী স্বচ্ছল হওয়া, একটি উন্নত কালচার এবং মূল্যবোধ সমুন্নতকারী হওয়ার মধ্য দিয়ে। মুসলমানরা উৎপাত করে পৃথিবী অতিষ্ঠ করে রাখছে, একসময় এদেরও হয়তো শক্তি হবে শিক্ষিত হবার এবং সভ্য হবার; তখন হয়তো ইসলামের উৎপাতও আর গা করার মতো কোন হুমকি হিসেবে গণ্য হবেনা। 

বৌদ্ধধর্ম কিন্তু এইসব কোর্স অফ ইভেন্টসের ভেতর দিয়ে যাবার সুযোগই পায়নি কোনো। চুল গজানোর পূর্বেই এই ধর্মটির হেয়ার ফলিকল কোষসমেত চামড়ার সম্পূর্ণ উপরিভাগটিই উৎপাটন করে নিয়েছে হিন্দুধর্ম। বিষফোঁড়া হয়ে ওঠার পুর্বে প্রত্যেকটি ধর্মই থাকে এসিম্পটোটিক; এইসময় তারা শান্তির বাণী প্রচার করে, একগালে চড় খেয়ে অপর গাল বাড়িয়ে দেয় পরম বিনম্রতায়। দীর্ঘ সময় পরে এই এসিম্পটোটিক অবস্থার অবসান ঘটিয়ে ধর্ম বিষফোঁড়া হয়ে ওঠে, যখন কোনো না কোনোভাবে একটা রাজা কিনা সেই ধর্মে দীক্ষিত হয়; রাজা দীক্ষিত হয়ে মন্ত্রীকে দেয় কষে প্যাঁদানী ‘তুই-ও এই ধর্মে দীক্ষিত হচ্ছিস না কেন’ বলে; মন্ত্রীও অতপর সেই ধর্মে দীক্ষিত হয়ে আমাত্যদেরকে দেয় প্যাঁদানী একই কথা বলে; আমাত্য প্যাঁদায় তাদের সাবজেক্টদেরকে; এইভাবে সম্পূর্ণ রাষ্ট্রটাই শরীয়াভিত্তিক ইছলামী রাষ্টে পরিণত হয় এক সময়। অতপর রাষ্ট্র দেয় তার পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রকে প্যাঁদানী, বলে ‘এইবার তোরাও এই ধর্মের ছায়ায় আয়’, ধর্ম ছড়িয়ে পড়ে।

হাওএভার, প্যাঁদানোর এই হায়ারার্কিকাল চেইন যদি কোনো না কোনো পর্যায়ে ব্যর্থ হয়, তবে হয় ধর্মটিকে এক পা বা কয়েক পা পিছিয়ে গিয়ে নতুন করে শুরু করতে হয়, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই হয়তো আপাদমস্তক বিলুপ্তই হয়ে যেতে হয়! বৌদ্ধধর্মের ক্ষেত্রে তাদের প্যাঁদানীর চেইন খুবই খুবই প্রাথমিক অবস্থায় ব্যর্থ হয়েছে, কিন্তু সৌভাগ্যবশত বিলুপ্ত হয়ে যেতে হয়নি ধর্মটিকে, বরঞ্চ নন-ভাইরুলেন্ট একটি অবস্থায় এটি টিকে গিয়েছে কালের যাত্রায়। তবে ভাইরুলেন্ট হয়ে ওঠার যথেষ্ট মালমসলাই যে এতে ছিলো, তার প্রমাণ কিছু আছে। এই যেমন, গল্প ফেঁদে মেয়ে মানুষকে দুই টুকরা করে ফেলার কাহিনী আছে এতে; বাস্তবে ক্ষমতা লাভ করলে যে কয় টুকরা করতো, সেটার সম্পর্কে কিছু অনুমান আমরা করতে পারি।

গৌতম বুদ্ধ বলে নানাবিধ টেনশন থেকে রক্ষার একটি ইফেক্টিভ উপায় হিসেবে বৌ-বাচ্চা পরিত্যাগপুর্বক চোরের মতো একরাতে রাজপ্রাসাদ থেকে বের হয়ে অনুদ্দেশ্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। প্রথম কথা হচ্ছে, ছেলেটা মস্তবড় একটা কাওয়ার্ড, সে রাজার ছেলে বলে ব্যতিক্রম কিন্তু একটা অস্বচ্ছল ঘরের কোন ছেলে এভাবে বৌ-সংসার ত্যাগ করলে পরে অনেকগুলো জীবনের উপর সে অবর্ণনীয় অশান্তিই নামিয়ে নিয়ে আসবে; কিন্তু সেইটা সমস্যা না। সমস্যা শুরু হয় যখন কিনা সে কোন শ্যাওড়া তলায় ধ্যানে বসলে পরে তাকে গাছে বসবাসরত পেত্নী এসে ধরে। পেত্নীর আছড়ে পড়ে যেই হোকাস-পোকাস গল্পগুলো তিনি ফেঁদেছিলেন, হযরত মুহাম্মদের নিম্নমানের হাস্যকর গাঁজাখুরী মেরাজের গল্পের সাথে কি সেটার কোন পার্থক্য আছে? আধ্যাত্মবাদরে কইষা গদাম, ফিজিকাল এভিডেন্সবিহীন দাবীকে বাস্তব বলে প্রতিষ্ঠা করার জন্য শ্রম ব্যয় করে এমন প্রত্যেকটি মতাদর্শকেই কইষা গদাম। গৌতম বুদ্ধের প্রতি আমি একফোঁটাও শ্রদ্ধাশীল নই, যেমন আমি শ্রদ্ধাশীল নই কার্লমার্ক্স বা ফ্রেডরিখ নিটশের প্রতি। সেক্সি সাউন্ডিং হোকাস-পোকাস কথা বলতে কোনো স্কিল লাগে না, কোনো মেধা লাগে না। 

সাচ্চা মমিন হতে গেলে



ইয়োরোপে ইসলামী ইতরামি


ইয়োরোপ জুড়ে ইসলামী জঙ্গিদের সাম্প্রতিক ইতরামির একটি সংক্ষিপ্ত সারাংশ শুনুন ব্রিটিশ লেখক ও সাংবাদিক ডগলাসে মারে'র সাত মিনিটের বক্তৃতায়। 


ঈশ্বরের স্বরূপ


ছবির ওপরে ক্লিক করে পূর্ণাকারে দেখুন

২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০১২

হ্রস্বরসবাক্যবাণ – ৩৩


১. 
বদ্ধমস্তিষ্কের লোকগুলো কেন যে বদ্ধমুখ হয় না!

২. 
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রার্থনার স্থান নেই, উপাসনালয়ে যেমন নেই যুক্তি-তথ্যের স্থান।

৩.
না, ধর্ম পচে যায়নি। তার গন্ধটাই ওরকম। 

ব্যর্থ নামকরণ



স্পিরিচুয়াল ননসেন্স-এর জঙ্গি জবাব


ব্রিটিশ টেলিগ্রাফ পত্রিকার মহিলা সাংবাদিকটি যখন বলেন, তিনি কুমারী মাতার গর্ভে যিশুর জন্মসহ নানাবিধ অলৌকিক ঘটনায় বিশ্বাস করেন, তখন পুরনো সেই অমোঘ সত্যটি মূর্তমান হয়ে ওঠে: কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পাশ করে ডিগ্রি লাভ করলেই তাকে শিক্ষিত বলা যায় না।

মহিলার স্পিরিচুয়াল ননসেন্স-এর উত্তরে জঙ্গি নাস্তিক রিচার্ড ডকিন্স কী বললেন, শুনে দেখুন। বিবিসি-র এক টক শো থেকে নেয়া দু'মিনিটের একটি অংশ।

আপডেট: পুরো অনুষ্ঠানের ভিডিওও এমবেড করা হলো।


এখানে পুরো অনুষ্ঠানের প্লেলিস্ট (প্রায় তেত্রিশ মিনিট): 


সহীহ সুখী পরিবার




হা-হা-হাদিস – ২৮



হে ঈমান্দার বান্দাসকল, তোমাদের জন্য অজস্র রসময় কথা গুপ্ত রহিয়াছে হাদিস শরিফে।
- সহীহ আল-ধর্মকারী
হে নাস্তিকগন! তোমাদিগের জ্ঞাতার্থে জানানো যাইতেছে যে, বীর্যস্খলনের বিশ্বাসস্খলনের অপরাধে কিয়ামতের দিবসে তোমাদিগের প্রত্যেকের "হাতে হারিকেন, পাছায় বাঁশ" দেওয়া না হইলেও পাছার পেছন দিকে একটি পতাকা স্থাপন করা থাকিবে। 

সহীহ মুসলিম হাদিস থেকে উদ্ধৃতি:
It is narrated on the authority of Abu Sa'id that the Messenger of Allah (may peace be upon him) said: On the Day of Judgment there will be a flag fixed behind the buttocks of every person guilty of the breach of faith.
Book 019, Number 4309

নাস্তিক-জুজু



২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০১২

বাধ্যতামূলক ভালোবাসার বিধান


টুইটারে নবীজির জন্মদিনে তার উদ্দেশে কয়েকটি "অপমানজনক" বাক্য লেখার কারণে এক সৌদি লেখকের মৃত্যুদণ্ড, খুব সম্ভব, অনিবার্য। এই খবরটি অনেকেই পড়া আছে নিশ্চয়ই। কী লিখেছিলেন তিনি টুইটারে? এই দেখুন: 
তোমার কিছু জিনিস আমি পছন্দ করেছি, কিছু জিনিস ঘৃণা করেছি, এবং তোমার অনেক কিছু আমি বুঝতে পারি না। আমি তোমার জন্যে প্রার্থনা করবো না।
তাঁর মৃত্যদণ্ডের দাবিতে ফেসবুকে একটি পেইজ খোলা হয়েছে। সেখানে ইতোমধ্যে সাড়ে ছাব্বিশ হাজার শান্তিকামী (peace fucker) মুসলিম এই দাবি সমর্থন করে অসংখ্য  লিখে চলেছে শান্তির বাণী। এই চুদির্ভাইয়েরা বোঝে না, ভালোবাসা জোর করে আদায় করা যায় না; সেটা অর্জন করে নিতে হয়।

একটা ভিডিওতে দেখুন, এক শেখ কাঁদতে কাঁদতে (আক্ষরিক অর্থেই) লেখকের মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছে।


বিজ্ঞান দুরূহ মনে হলে



এই ধরনের টি-শার্ট বিক্রিও হচ্ছে অনলাইনে: এক, দুই, তিন

বাইবেলীয় বল্দার্গু


লিখেছেন অশোভন 

ড: লরা শ্লেসেনগার (Laura Schlessinger) হলেন আমেরিকার একজন বেতার-ব্যক্তিত্ব। তাঁর শো-তে যাঁরা ফোন করেন, তিনি তাঁদের বিনি পয়সায় জ্ঞান বিতরণ করেন, মাঝেমধ্যে ধমক-ধামকও দেন। সম্প্রতি তিনি দাবি করেছেন যে Leviticus 18:22 অনুযায়ি একজন ছহি ইহুদির কাছে সমকামিতা হলো একটি ঘৃণ্য ও ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। 

প্রতিক্রিয়ায় জনৈক ব্যক্তি তাকে একটি চরম বিনোদনী খোলা চিঠি লেখেন এবং ইন্টারনেটেও পোস্ট করেন। আসুন চিঠিটি পড়া যাক:

প্রিয় ডঃ লরা,

সকলকে ঈশ্বরের আইন সম্বন্ধে অবহিত করার জন্য অশেষ ধন্যবাদ। আপনার শো থেকে আমি যারপরনাই জ্ঞান লাভ করে চলেছি এবং সেই অমূল্য জ্ঞান অন্যদের মধ্যে বিতরণ করতেও সর্বদা সচেষ্ট থাকি। কেউ সমকামিতাকে সমর্থন করলে Leviticus 18:22 আউড়ে আমি তাদের মুখ বন্ধ করে দিই। (বাইবেলের সব কথাই তো হুবহু মানা উচিত তাই না?)

কিন্ত বাইবেলের কিছু কিছু অনুশাসন নিয়ে একটু সমস্যায় পড়েছি। এগুলি কীভাবে পালন করা যায়, সে ব্যাপারে আপনার সুচিন্তিত মতামত জানালে বাধিত থাকবো।
১) উত্সর্গীকৃত ষাঁড়ের পোড়া গন্ধ প্রভুর নাসিকায় সুমিষ্ট লাগলেও (Lev. 1:9) আমার প্রতিবেশীরা ঝামেলা পাকায়। এই পাপিষ্ঠগুলোকে কচুকাটা করা যায় না?
২) আমার কন্যাটিকে ক্রীতদাসী করে বেচে দেওয়ার ইচ্ছে ছিল। Exodus 21:7 এ বলা আছে না? সঠিক বাজারদরটা আমার জানা নেই। আপনার জানা থাকলে জানাবেন।
৩) ঋতু চলাকালীন মহিলাদের ছোঁয়াচ বাঁচিয়ে চলা তো সবার কর্তব্য (Lev. 15:19-24), তাই না? কিন্তু কোনো মহিলা ঋতুমতী কি না জানার উপায় কী? জিগাইলে ওনারা আবার গোঁসা করেন যে!
৪) Lev. 25:44 অনুসারে যে কোনো প্রতিবেশী দেশ থেকে দাস-দাসী কেনা যেতে পারে।| কিন্তু আবার শুনতে পাই যে মেক্সিকো থেকে কেনা যেতে পারে কিন্তু কানাডা থেকে নয়।| বলি ব্যাপারডা কী? কেন আমি কানাডিয়ান ক্রীতদাস রাখার সুখ হইতে বঞ্চিত হবো?
৫) আমার প্রতিবেশী সাবাথ এর দিন বিশ্রাম না নিয়ে কাজ করেG Exodus 35:2 অনুসারে তার তো মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্য। তাকে নিজের হাতে সেই শাস্তি দেওয়া কি আমার কি নৈতিক দায়িত্ব নয়?
৬) আমার এক বন্ধুর মতে, শেল-ফিস (shellfish) খাওয়া যদিও ঘৃণ্য কাজ (Lev. 11:10), কিন্তু তা সমকামিতার থেকে ভালো। কিন্তু আমার তা মনে হয় না। আপনি ব্যাপারটার ফয়সালা করুন।
৭) Lev. 21:20 অনুযায়ী চোখে কোনো খুঁত থাকলে ঈশ্বরের বেদীর দিকে যাওয়া নিষেধ। আমি তো আবার চশমা পরি। ২০/২০ দৃষ্টিশক্তি না থাকলেই কি নয়? এইখানে গলে যাওয়ার জন্য আইনের কোনো ফাঁক নেই?
৮ ) Lev. 11:6-8 অনুযায়ী মৃত শুকরের চামড়া স্পর্শ করলে অপবিত্র হতে হয়। তাহলে কি সবার দস্তানা পরে ফুটবল (আমেরিকান) খেলা উচিত নয়?
৯) আমার কাকা একই জমিতে দুইরকম ফসল চাষ করে আর কাকি দুইরকম সুতোয় (সুতি ও পলিস্টার ) তৈরি জামাকাপড় পরে যা Lev. 19:19 মোতাবেক নিষিদ্ধ। এর ওপর তারা আবার শাপশাপান্ত ও করে। আমরা সবাই মিলে ওদের পাথর ছুড়ে (Lev.24:10-16) বা পুড়িয়ে মারতে পারি তো (Lev. 20:14)?
নিশ্চই আপনি এই বিষয়ে মহাজ্ঞানী এবং আমায় উপদেশ দানে বাধিত করবেন। ঈশ্বরের চিরন্তন বাণী আমাদের স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য আবারও আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ |

ইতি 
আপনার একনিষ্ঠ ভক্ত ...

ঈশ্বরের মেরিরমণ রহস্য



স্ত্রী-প্রহারের ইসলামী তরিকাগুচ্ছ


স্বামীকে স্ত্রী-প্রহারের অধিকার দেয়া কোরানের আয়াতটি নিয়ে ইসলামবিদরা বরাবরই নাজুক অবস্থায় থাকে। তাই নানাবিধ জবড়জং যুক্তি, কাঁচুমাঁচু কৈফিয়ত ও বিবমিষা-উদ্রেককারী বিশ্লেষণের আশ্রয় নিতে বাধ্য হয় তারা। ফলে একজন ইসলামবাজের বক্তব্যের সঙ্গে অন্য একজনের বক্তব্যের ব্যাপক বৈসাদৃশ্য হাস্যরসের অবতারণা করে শুধু।

আল্লাহর ভাষাজ্ঞান সম্পর্কে রীতিমতো সংশয় আমার মনে। তার মতো সর্বক্ষমতাবান ও সর্বজ্ঞের ভাষা ধোঁয়াটে বা বহু-অর্থবোধক হবে কেন? তার ব্যবহার করা শব্দ বা বাক্যের চোদ্দরকম অর্থ করার সুযোগ কেন থাকবে? নিউটনের সূত্রের বিবিধ তাফসির অসম্ভব হলে আল্লাহর বাণী ঘোলাটে হবে কেন? স্পষ্ট ও নির্দিষ্টভাবে ভাবপ্রকাশের ক্ষমতা তার নেই? বা ছিলো না? প্রকাশিত লেখার ভুল বা অস্পষ্টতা চোখে পড়লে তা এডিট করার সুযোগ  আছে তুচ্ছ ব্লগারেরও, অথচ সর্বশক্তিমান আল্লাহর তা নেই। বা থাকলেও সেই ক্ষমতা প্রয়োগে সে অনীহ বা অক্ষম। 

এবার ইসলামে স্ত্রী-প্রহারের নিয়মাবলী সম্পর্কে নয়জন ইসলামবাজের নয়টি তরিকা জেনে নিন। 

তরিকা ১.
মুখে বা শরীরের অন্যান্য অনুভূতিপ্রবণ অঙ্গে প্রহার নিষেধ, রক্তপাত ঘটানো বা হাড় ভাঙা চলবে না, শরীরে যেন আঘাতের চিহ্ন না থাকে (পুলিশ-আর্মি এই পদ্ধতি ভালো জানে)। 

আবার বলা হচ্ছে, স্ত্রী আঘাতপ্রাপ্ত হলে স্বামীকে নাকি আল্লাহ শাস্তি দেবেন! হাহাহা...



তরিকা ২.
অনেক ইসলামবিদ কোরানে স্ত্রী-প্রহারের অনুমতির কথাটি অস্বীকার করার চেষ্টা করে নানান 'যুক্তি' দেখিয়ে। তবে এই মোল্লা সরাসরি বলছে, "এ-কথা কারুর অস্বীকার করা উচিত নয়, কারণ সৃষ্টিকর্তা অনুমতি দিয়েছেন।" সে আরও বলছে, "তিন ধরনের মহিলা আছে, যাদের সাথে বাস করতে গেলে প্রহার ছাড়া গতি নেই।" তাই "কাঁধে ডাণ্ডা নিয়ে ঘোরা" ছাড়া উপায় নেই স্বামীর। ডাণ্ডাই প্রকৃত সমাধান - বারবার বলছে এই ইসলামবিদ।


তরিকা ৩.
বাংলাদেশের পুলিশ যেমন জনতাকে মৃদু লাঠিচার্জ করে থাকে, মনে হয়, ঠিক সেভাবেই স্ত্রীকে হালকা প্রহারের তরিকা বাতলাচ্ছে আরেক ইসলামবাজ। এক পর্যায়ে সে বললো, অবাধ্য জীবজন্তুর মুখেও আমরা প্রহার করি না, এবং সেটা প্রযোজ্যে স্ত্রী-প্রহারের ক্ষেত্রেও। কারণ, মুখ যেন বিকৃত না হয়! মারতে হবে সেই সব অঙ্গে, যেখানে মারের কোনও চিহ্ন থাকবে না। কী ভীষণ মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি! শেষে সে বললো, "জন্তু- বা শিশুপ্রহারের (হ্যাঁ, শিশুপ্রহার!) মতো করে স্ত্রীকে প্রহার করা উচিত নয় স্বামীর।"


তরিকা ৪.
এই বিজ্ঞ ইসলামবাজ স্ত্রীকে তুলনা করছে কোনও দেশের জনতার সঙ্গে, যেখানে স্বামী হচ্ছে রাষ্ট্রযন্ত্র, যার অধিকার আছে অবাধ্য জনতাকে পেটানোর। 

এই ভিডিওর এমবেড অপশন নেই। 

তরিকা ৫.
হাসি চেপে রাখা অসম্ভব! স্ত্রীকে পেটাতে হবে টুথপিক দিয়ে! এবং দশ আঘাতের বেশি নয়...



তরিকা ৬.
স্ত্রী-প্রহারের ব্যাপারটি নারীর সাংস্কৃতিক অবস্থানের বিভিন্নতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে জানাচ্ছে এই ইসলামবাজ। তাঁর বিশ্লেষণে একটি কথাই স্পষ্ট হয়ে ওঠে, ইসলাম কী ভীষণ আঞ্চলিক! কী ভীষণ অসর্বজনীন!


তরিকা ৭. 
স্বামীকে মনে রাখতে হবে, সে স্ত্রীর সঙ্গে কারাতে বা বক্সিং ক্লাবে অবস্থান করছে না। তবে স্ত্রী-প্রহারের প্রয়োজনীয়তা ও অপরিহার্যতার কথা নিশ্চিত করছে আরেক ইসলামবাজ।



তরিকা ৮.
চৌদি আজবের ডাক্তার বললো, স্ত্রী-প্রহারের মানে হচ্ছে, কাপড়ের প্রান্ত দিয়ে বা টুথপিক আঘাত করার মতো। অথচ অনেক মুসলমান নাকি এই বিধান ভুল বুঝে স্ত্রীর হাড়গোড় পর্যন্ত ভেঙে ফেলে। 



তরিকা ৯.
আরেক ইসলামবাজ জানাচ্ছে, প্রহারের মাধ্যমে শাস্তিপ্রদানের বিধান দিয়ে আল্লাহপাক স্ত্রীদের সম্মানিত করেছেন... মহানুভব নবীজি স্ত্রীর মুখে আঘাত করতে বারণ করেছে... স্ত্রীর বুকের নিম্নবর্তী অংশে আঘাত করা যাবে... এটাই প্রহারের আদবকায়দা (beating etiquette)... ছোট ডাণ্ডা দিয়ে পেটানো যেতে পারে, থেমে থেমে এবং গায়ে দাগ যেন না পড়ে... সবচেয়ে বড়ো কথা, স্বামীর যৌনাকাঙ্ক্ষা পূরণে কোনও কারণে অস্বীকৃতি জানালেই তাকে পেটানো যাবে। 



চৌদি আজবে শিশুধর্ষণ ও সমকামিতা


নাউজুবিল্লাহ! আস্তাগফিরুল্লাহ! এইসব কী শুনলাম! নবীজির জন্ম যেই দেশে, যেই দেশ ইসলামের আঁতুরঘর, লক্ষ-লক্ষ মমিনের আরাধ্য তীর্থস্থান যেই দেশে, সেই চৌদি আজবে এইসব কী হইতেসে!

২০০৮ সালের ডিসেম্বর মাসে al-Hurra চ্যানেলে প্রচারিত Misawa নামের অনুষ্ঠান থেকে জানা যাচ্ছে, সেই দেশের প্রায় এক-চতুর্থাংশ শিশু ধর্ষণের স্বীকার হয় এবং ছাত্রদের মধ্যে শতকরা ৪৬ জন সমকামী।

ভিডিও ইংরেজি সাবটাইটেলসহ। সঙ্গে ট্র্যান্সক্রিপ্টও দেয়া হলো।


Guest: More than 23% of children in Saudi society have been raped. 

Host: So about a quarter of Saudi children have been-- 

Guest: About a quarter of Saudi children have been raped. Sixty-two percent of those people— 

Host: Those children. 

Guest: No, I’m sorry, the study was directed at university students. Twenty-three percent had been raped during their childhood. For 62% of those, the rape was never reported. This was because it was one of the victim’s relatives. In the study, it was mentioned that more than 16% of the rapists were relatives, specifically 5% were siblings, 2% were teachers, and 1% were parents. In another study, which was conducted by Dr. In’am (al-Rabu’i), who is the president of children’s studies at the Armed Forces Hospital in Jeddah, she mentioned, or warned, that in the coming years we will suffer as a society from extremely widespread cases of homosexuality. The reason for this is the increase in the cases of sexual assault of children (brought) to the hospital, as well as the societal violence inflicted on children. She also mentioned that the hospital had on average three sexual assault cases per week. 

Host: How large of an area did the study cover? 

Guest: I don’t know, this is just what she mentioned on behalf of the Saudi nation. It was published on behalf of the nation, and can be considered very reliable. In addition to that, there is a study from the Office of Societal Supervision, which is also very serious. This study reported that 46% of students in the city of Riyadh suffer from homosexuality. Twenty-five percent of students in Jeddah suffer from homosexuality. We must be aware of this in order to combat these numbers quickly. The society has become fragmented. When we have a percentage of students—children or teenagers—who are gay, this is a catastrophe, a true catastrophe. I mean, we don’t have a strong society. We should really look at this more seriously. 

Host: This is a new thing in Saudi Arabia for newspapers to write articles on this subject. The studies which you mentioned, are they saying this is something new? 

Guest: No, it’s not new.

প্রার্থনার কার্যকারিতা



২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০১২

নবী মোর করুণাময়


লিখেছেন বরুণ দাস

নবী মোহাম্মদ তার মৃত্যুর পর তার স্ত্রীদের বিবাহ নিষিদ্ধ করেছিলেন। নিজে জীবিত থাকতে বহু নারীর সাথে থেকেছেন, অথচ তার মৃত্যুর পর তার স্ত্রীরা অন্য পুরুষের সাথে সংসার করবে এটা তার সহ্য হয়নি। এমন স্বার্থপর একজন নাকি আবার নারীদের অনেক সম্মান দিয়েছেন। তার এই নীতির ফলে তার কতজন স্ত্রীর কত বছর নিঃসঙ্গ থাকতে হয়েছে তার একটি তালিকা দেখুন:

সওদা: মৃত্যুবরণ করেন ৫৩ হিজরীতে। মানে ৪২ বছর সঙ্গীহীন কাটিয়েছেন।

আয়শা: ১১ হিজরীতে বয়স ১৬ বছর। মৃত্যুবরণ করেন ৫৮ হিজরীতে ৬৩ বছর বয়সে। মানে বিধবা অবস্থায় কাটান ৪৭ বছর।

হাফসা: ১১ হিজরীতে বয়স ২৭ বছর। মৃত্যবরণ করেন ৪৫ হিজরীতে ৬১ বছর বয়সে। মানে ৩৪ বছর বিধবা অবস্থায় কাটিয়েছেন।

সালমা: ১১ হিজরীতে বয়স ৩৫, মৃত্যুবরণ করেন ৬১ হিজরীতে ৮৫ বছর বয়সে। মানে বিধবা অবস্থায় সঙ্গীহীন কাটাতে হয়েছে ৫০ বছর।

যয়নব: ১১ হিজরীতে বয়স ৪০, মৃত্যুবরণ করেন ২০ হিজরীতে ৫০ বছর বয়সে। মানে সঙ্গীহীন থাকেন ১০ বছর।

জুহারিআ: ১১ হিজরীতে বয়স ২৬ বছর, মৃত্যুবরণ করেন ৫০ হিজরীতে ৬৫ বছর বয়সে। মানে বিধবা অবস্থায় কাটান ৩৯ বছর।

হাবিবা: ১১ হিজরীতে বয়স ৩৯ বছর। মৃত্যুবরণ করেন ৪৪ হিজরীতে ৭২ বছর বয়সে। মানে ৩৩ বছর সঙ্গীহীন কাটান।

সাফিয়া: ১১ হিজরীতে বয়স ২১ বছর। মৃত্যুবরণ করেন ৫০ হিজরীতে ৬০ বছর বয়সে। মানে বিধবা অবস্থায় কাটান ৩৯ বছর।

মায়মুনা: ১১ হিজরীতে বয়স ছিল ৪০ এবং ৮০ বছর বয়সে ৫১ হিজরীতে মারা যান, তার মানে বিধবা অবস্থায় ৪০ বছর একা কাটিয়েছেন।

চার্চ কেন ভ্রূণরক্ষার পক্ষে



ডাস্টির দুষ্টকথন


নাস্তিকদেরকে "শয়তানের পূজারি" বলে শান্তি পায় আস্তিকেরা। এটা বলার পেছনে তাদের না আছে কোনও যুক্তি (আস্তিকদের কাছে যুক্তি আশা করাটা কতোটা যুক্তিযুক্ত, সেটাও অবশ্য ভেবে দেখা দরকার), না আছে কোনও ভিত্তি (অবশ্য অন্যান্য বিশ্বাসের ভিত্তির প্রয়োজনীয়তাও তাদের নেই); অনেকটা ধর্মের সঙ্গে নাস্তিক্যবাদের বেকুবীয় তুলনার মতো। আমরা বিশ্বাস করি ঈশ্বরে, তোমরা - শয়তানে।

যারা ঈশ্বরের অস্তিত্বে বিশ্বাস করে না, তারা কোন যুক্তিতে শয়তানে (যে কি না সেই অস্ত্বিত্বহীন ঈশ্বরের সৃষ্টি) বিশ্বাস করবে, এবং তার পূজা করবে, যা কি না নাস্তিকদের স্বভাবেই নেই?

প্রিয় ইউটিউবার CultOfDusty এক কীর্তি করেছেন। বাইবেল ঘেঁটে বের করেছেন, কার্যত খ্রিষ্টানরাই শয়তানের পূজা করে। ভিডিও শেষ করলেন তিনি এই কথা বলে: 
The atheist community will like to invite all of you religious people over here to the side of reality. You have no idea how beautiful it feels to be free of this horseshit (bible)... reminding you that 
you really need this book (bible) of ancient fairy tales that teach you not to rape, you modern people, chances are youo're probably a giant piece of shit anyway. Seriously.
এঁকে পছন্দ না করে পারি!



প্রচারে বিঘ্ন – ২৫



নাস্তিক্যবাদ ধর্ম নয় কেন


লিখেছেন ধর্মপ্রাণ প্লেবয়

বহু মানুষের মতে নাস্তিকতা একটি ধর্ম। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ধার্মিকরা ধর্ম দ্বারা এতই প্রভাবিত যে, কোনোপ্রকার ধর্মবিশ্বাসহীন একজন মানুষ কল্পনা করা তাদের বোধশক্তির বাইরে। যারা নাস্তিক্যবাদকে ধর্ম বলে দাবী করে, তাদের নাস্তিক্যবাদ সম্পর্কে কোনো ধারণাই নেই এবং যখন ধর্মের সংজ্ঞা দ্বারা এটিকে সংজ্ঞায়িত করার চেষ্টা করা হয়, তখন সেটি একটি হাস্যকর চেষ্টা হয়ে দাঁড়ায়। 

নাস্তিক্যবাদ কোনো কাঠামোবদ্ধ বিষয় নয়। সাধারণভাবে বলা যায় স্রষ্টা, দেবতা বা অতিপ্রাকৃত কোনো কিছুতে অবিশ্বাসই নাস্তিক্যবাদ। নাস্তিক্যবাদ সব ক্ষেত্রে এক রকম নয় এবং এটা কোনো জীবনদর্শন ও নয়। কারো ইউনিকর্নে অবিশ্বাস যেমন জীবনদর্শন নয়, তেমনি স্রষ্টায় অবিশ্বাসও জীবনদর্শন হতে পারেনা। নাস্তিক্যবাদ আস্তিক্যবাদের মত কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়ম ও নির্দেশের সমাবেশ নয়। একজন নাস্তিকের দর্শন যে আঙ্গিকেই হোক না কেন, ঈশ্বরে অবিশ্বাস করলেই সে নাস্তিক্যবাদের আওতাভুক্ত। এটি আস্তিক্যবাদের মত প্রমাণ ছাড়া কিছু বিশ্বাস করতে বলে না, এখানে যে কোনো বিষয়ে প্রশ্ন করা যায়, প্রমাণ চাওয়া যায়। 

আস্তিক্যবাদ ও নাস্তিক্যবাদের মধ্যে কিছু তুলনামূলক বৈশিষ্ট্য ও পার্থক্যসমূহ:

১. আস্তিকরা স্রষ্টা/দেবতা ও অতিপ্রাকৃত বিষয় ও ঘটনাবলিতে বিশ্বাস করে, কিন্তু নাস্তিকরা এ ধরনের কোনো কিছুতে বিশ্বাস করে না। 

২. ধর্মগুলোয় কিছু অন্ধবিশ্বাসের বিষয় থাকে, যে-ব্যাপারগুলো সম্পর্কে প্রশ্ন করা নিষিদ্ধ, কিন্তু নাস্তিক্যবাদে এমন কোনো অন্ধবিশ্বাসের স্থান নেই। 

৩. ধর্মগুলোয় 'পবিত্র' ও 'অভিশপ্ত' এ দুই ভাগে বস্তুসমূহ ও প্রাণিজগৎকে ভাগ করা হয়, কিন্তু নাস্তিক্যবাদে এমন কিছু নেই। 

৪. ধর্মগুলোয় স্রষ্টার উদ্দেশ্যে নিত্যপালনীয় কিছু কাজ থাকে, যা নাস্তিক্যবাদে অনুপস্থিত। 

৫. নাস্তিকরা যৌক্তিক চিন্তা ও বৈজ্ঞানিক তথ্য দ্বারা ধর্মের অযৌক্তিক বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তা করতে ও তা তুলে ধরতে পারে, কিন্তু আস্তিকরা ঈশ্বরের অস্তিত্বের প্রমাণ খোঁজার ব্যর্থ চেষ্টায় প্রাণপাত করে থাকে। 

৬. আস্তিকরা বিশ্বাস করে, তাদের প্রধান কাজ - স্রষ্টার উপাসনা করা, কিন্তু নাস্তিকরা এ ধরনের বিশ্বাস থেকে মুক্ত। 

৭. আস্তিকরা অস্বাভাবিক ঘটনায় স্রষ্টার প্রভাব খুঁজে পায়, আর নাস্তিকরা খুঁজে পায় বাস্তব কারণ। 

৮. নাস্তিকরা আস্তিকদের মত কোনো বইকে ঈশ্বরপ্রদত্ত ও সম্পূর্ণ নির্ভুল দাবী করে না। 

৯. আস্তিকদের নির্দিষ্ট উপাসনার স্থান ও ধর্মীয় সঙ্গীত/প্রার্থনাবাণী থাকে, থাকে পবিত্র তীর্থস্থান, যা নাস্তিকদের জন্য অবান্তর। 

১০. আস্তিকদের নির্দিষ্ট ধর্মগুরু (পাদ্রী, ইমাম, পুরোহিত ইত্যাদি) থাকে। কিন্তু নাস্তিকদের এমন কেউ নেই, যার মত বা বাণী তাদের জন্য শিরোধার্য। অবশ্য যদি অন্যদের সাথে নিজমত বিনিময় করলে তাকে প্রচারক বলা হয়, তবে প্রত্যেক নাস্তিকই প্রচারক। কিন্তু প্রকৃত অর্থে তাদেরকে ধর্মপ্রচারকদের সাথে তুলনা করা যায় না। কারণ ধর্মপ্রচারকরা সুনির্দিষ্ট একটি মত প্রচার করে যেখানে ভিন্ন মতের কোন মূল্য নেই,কিন্তু নাস্তিকরা শুধুমাত্র নিজ মত অন্যদের সাথে বিনিময় করে, ধার্মিকদের মত অন্যের ওপর নির্দিষ্ট মত চাপিয়ে দেয় না। 

১১. আস্তিকদের বাধ্যতামূলকভাবে ধর্ম সম্পর্কিত কিছু অতিপ্রাকৃত ঘটনা বিশ্বাস করতে হয়, কিন্তু নাস্তিকদের এমন কিছু বিশ্বাস করতে হয় না। 

১২. আস্তিকরা তাদের কল্পিত স্রষ্টার সাথে যোগাযোগের জন্য বিভিন্ন রীতি-নীতি পালন করে, কিন্তু নাস্তিকরা যেহেতু স্রষ্টায় বিশ্বাসই করে না, সেহেতু এমন যোগাযোগের চেষ্টার প্রশ্নও নেই। 

১৩. নির্দিষ্ট ধর্মে সকল ভৌগোলিক অঞ্চলের জন্য একই এবং সুনির্দিষ্ট সংস্কৃতি পালন করতে বলা হয়। কিন্তু নাস্তিক্যবাদ ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকে গড়ে ওঠে এবং সে অঞ্চলের সভ্যতা ও সংস্কৃতিকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করে,ধর্মের মত একটি নির্দিষ্ট সংস্কৃতিকে সর্বজনীন বলে জোর করে চাপিয়ে দেয় না। 

সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে নাস্তিক্যবাদ ধর্মের সবকটি বৈশিষ্ট্যকে অমান্য করে। কাজেই নাস্তিক্যবাদকে কোনোভাবেই ধর্ম বলা যায় না। আস্তিক্যবাদ ও নাস্তিক্যবাদ সম্পূর্ণ ভিন্ন শ্রেণীর, ভিন্ন প্রকৃতির ও বস্তুত বিপরীতমুখী। নাস্তিক্যবাদ হল একটি নির্দিষ্ট বিষয়কে (স্রষ্টা ও অতিপ্রাকৃত বিষয়) অবিশ্বাস, যেখানে আস্তিক্যবাদ হল কিছু রীতিনীতি, প্রাচীন কিছু ঘটনাবলির কাল্পনিক রূপ ও ঈশ্বরবিশ্বাসের সংমিশ্রণ। এদের মধ্যে সামান্যতম মিলও নেই। প্রকৃতপক্ষে আস্তিকদের অজ্ঞতা ও ধর্ম বিষয়ে ধারণার অভাবই নাস্তিক্যবাদকে ধর্ম হিসাবে দাবী করার কারণ। 

(পাঠকদের কেউ ধর্মের সঙ্গে নাস্তিক্যবাদের আমূল পার্থক্য বিষয়ে আরও কিছু যুক্তির অবতারণা করতে পারলে সেসবও এই পোস্টে সংযোজন করা হবে)

প্রাসঙ্গিক আরেকটি পোস্ট। 

যার যেমন বোমা



২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০১২

ঈশ্বরের অস্তিত্বহীনতার প্রমাণ


ঈশ্বর নেই, সেটা প্রমাণ করে দেখান দেখি! ঈশ্বরের অস্তিত্ব প্রমাণ করতে নিদারুণভাবে অক্ষম আস্তিকেরা অসহায় হয় এমন কুযুক্তির আশ্রয় নেয়। যদিও কেউ কিছু দাবি করলে সেটা প্রমাণের দায় দাবিদারের ওপরেই বর্তায়।

দেখিয়া শুনিয়া ক্ষেপিয়া গিয়া ইউটিউবে নাস্তিক্যবাদী হট চিক হিসেবে পরিচিত ক্রিস্টি (রুমানিয়ার মেয়ে) উদ্যোগ নিয়েছেন ঈশ্বরের অস্তিত্বহীনতা প্রমাণের উদ্যোগ নিয়েছেন। এবং তিনি সফলও বটে।

পোপ এলো টোপ নিয়ে, পালাই, পালাই...



রহমতুল্লিল আলামীন


লিখেছেন তামান্না ঝুমু

হে রহমতুল্লিল আলামীন prophet,
আপনি সত্যিই greatest of the great.
বুড়ো বয়েসে আপনাকে ধরেছিল ভীমরতি,
মিটাইতে আপনার কুরতি
আল্লার দোহায় দিয়ে অবুঝ শিশুকে করেছিলেন rape.
মরুভূমির বালুতে পেতেছিলেন
নিজের মনগড়া নষ্টামির trap.
দেড় হাজার বছর পরেও
পৃথিবী হতে মুছে যায়নি
আপনার সেই কুকীর্তির প্রলেপ।

নিজের বানোয়াট বুলিতে করেছিলেন shout,
ধোঁকাবাজিতে মানুষকে বানিয়েছিলেন বোকা
সেই ব্যাপারে নেই কোন doubt.
অলৌকিকের দোহায় দিয়ে
লুটতরাজের বাণিজ্য পেতেছিলেন চমৎকার।
লোভ আর ভোগের তাড়নায় তাড়িত হয়ে
অগণিত বিবি, গনিমত ও দাসী সম্ভোগ করেও
কুরিপু মেটেনি আপনার।
জীবন সায়াহ্নেও আরো ভোগের জন্য করেছেন
করেছেন শিৎকার।

আপনার কৃত কুকর্মের
জন্য, মানবজাতির কাছ থেকে
সমবেত ঘৃণা আর ধিক্কার
ছাড়া আর কী-ই বা আছে আপনার পাবার?

আপনিই মহাপয়গাম্বার.
নবী মানেই cheater.
মহাপয়গাম্বর মানে cheatest of the cheater.
এই কথা আজি বাকী নেই জানার
যে, আপনিই কোরানের author.

হারাম-হালাল


এঁকেছেন ইঁদুর


খ্রিষ্টান-তাবলিগ



২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০১২

ধর্মের মধ্যে বিজ্ঞান থাকলেই কি ঈশ্বরের অস্তিত্ব প্রমাণিত হয়?


লিখেছেন জুপিটার জয়প্রকাশ 

আসুন এইবারে তালগাচ কেটে ফেলি।

ধর্মের মধ্যে বিজ্ঞান নিয়ে এখন দুনিয়া গরম। ফল কিন্তু ভালই। ধর্মের মধ্যে বিজ্ঞান বেশ কিছু আছে। তবুও যে প্রশ্নটা থেকে যায় তা হল সেই বিজ্ঞানগুলি কি মানুষের গবেষণার ফল? নাকি অলৌকিক কোনো উৎস থেকে আসা? এটা বুঝতে গেলে যেসব তথ্য ধর্মে পাওয়া যায় সেগুলোকে নেড়েচেড়ে দেখতে হবে যে তাতে ভুল কিছু আছে কি না। ভুল থাকলে বোঝা যাবে যে সেটি কোনো “সর্বজ্ঞ” কারো কাছ থেকে আসেনি।

সেই সঙ্গে এটাও পরিষ্কার যে, কোনো ধর্ম যদি প্রমাণ চাওয়াকে অন্যায় বলে দাবী করে, প্রমাণ না থাকা তত্বকে চরম সত্য বলে প্রচার করে তাহলে তাকে এক কথায় অবৈজ্ঞানিক বলে দেওয়া যায়। বিজ্ঞানেও কিছু তত্ত্ব আছে যেগুলি নিঃসংশয়ে প্রমাণিত নয়। কিন্তু সেগুলিকে কোনো বিজ্ঞানী কখনোই চরম সত্য বলে দাবী করেন না। সেগুলি বিনা প্রশ্নে মেনে না নিলে শাস্তি দেবার ভয়ও দেখান না। এমনকি যেসব তত্ত্ব প্রমাণিত হয়েই গেছে, সেগুলি যাচাই করাও বিজ্ঞানে অন্যায় বলে ধরা হয় না। যে ধর্মে এই গুণগুলি নাই তাকে বৈজ্ঞানিক ধর্ম বলা যায় না।

দুনিয়ার প্রধান চারটা ধর্ম থেকে হিন্দুধর্মকেই পেলাম যেটার মধ্যে ভিন্ন মত প্রচার করার অনুমতি আছে। ঈশ্বরের অস্তিত্বে বিশ্বাস করার পরেও তাকে উপাসনা না করার অধিকার আছে। এমনকি ঈশ্বরে বিশ্বাস করার আগে প্রমাণ চাইবার অধিকার আছে। সেইটার মধ্যে বিজ্ঞান খুঁজতে গিয়ে দেখি সাংঘাতিক সব কাণ্ড। সবচেয়ে মারাত্মক ব্যাপার হল, বায়ুপুরাণ বইটাতে দেখলাম পরমাণুর সাইজ বলা আছে। সেই বিবরণ অনুসারে পরমাণুর ব্যাস মোটামুটি 7 x 10^-9 মিটার বা 70 Angstrom. এখনকার পরিমাপ অনুসারে পরমানুর গড় ব্যাস মোটামুটি হয় 1.8 Angstrom সেই সময়ের হিসাবে বিরাট গবেষণা বলতে হবে। মাপে ভুল থাকা এটাই বোঝায় যে এই তথ্য কোনো সর্বজ্ঞের কাছ থেকে আসেনি। মানুষের গণনাতেই বের হয়েছে। গণনায় ভুল থাকাটা বড় কথা নয়, বড় কথা হল তাঁরা গাঞ্জা টেনে বসে ছিলেন না। যথেষ্ট ভালোই হিসাব একটা করেছিলেন।

এমন বৈজ্ঞানিক জ্ঞান দেখে বইটি নিয়ে আরো খবর নিলাম। দেখা গেল সম্রাট হর্ষবর্ধনের জীবনীকে (হর্ষচরিত)  লেখক নিজেই বায়ুপুরাণ এর সঙ্গে তুলনা করেছেন। হর্ষচরিত একটি মূল্যবান ইতিহাস বলেই বর্তমান যুগের ঐতিহাসিকেরা মনে করেন। অন্য সব শাস্ত্রের মধ্যে থেকে এটার কথা বলার পিছনে এটা অন্যতম কারণ। 

বইটির মধ্যে আরো একটা জিনিস পাওয়া গেল যা বৈজ্ঞানিক ছাড়া অন্যদের মাথায় আসার কথা না। 
সুতরাং ঈশ্বরদের আচরণে দোষ দেখা গেলেও তার যুক্তিযুক্ত বিচার করা ঠিক না। ......... পরীক্ষা না করে গ্রহণ, বিপর্যয় করে গ্রহণ, পূর্বশ্রুতিতে দৃঢ় বিশ্বাস, ও লৌকিক প্রবাদ ইত্যাদি কারণে জনগণ প্রকৃত তত্ব জানতে পারে না। আগে এক প্রকার বিশ্বাস করে, কালান্তরে সেই বিষয় অন্য প্রকার হতে দেখে দ্বেষবশে তা গ্রহণ করতে পারে না।
কী কী কারণে মানুষ সত্য গ্রহণ করে না তা বলা হয়েছে। সেই সাথে পরিষ্কার ভাবে ঈশ্বরদের বৈজ্ঞানিক বিচারের বাইরে রাখা হয়েছে এবং এটাও বলা হচ্ছে যে ঈশ্বর একাধিক। (৬৬ অধ্যায়)

এবারে আরো কিছু নমুনা দেখাই।

১) মহীমণ্ডলের সুমেরুর পরিমাণ কিছুটা কমে যেতে দেখা যায়। কেননা চতুরস্র পরিমানকে বৃত্তাকারে ধরলে এর চার কোন থেকে কিছু পরিমাণ হ্রাস পায় বলে এর পরিমাণগত ন্যুণতা নিশ্চিত। (৬৪ অধ্যায়) (কথার ভাব থেকেই পরিষ্কার যে এটা হিসাব কষে বের করা। পৃথিবীর উত্তর মেরু যে একটু চাপা, এটা তাঁরা হিসাব করে বের করেছিলেন।

২) জ্যোতিষ্কমন্ডলী ধ্রুবেরই অধিকৃত; সূর্য এদের নিজ তেজে আবরণ করেন মাত্র। তিনিই প্রদীপ্ত কিরণ হয়ে কালাগ্নি নামে পরিচিত হন। সূর্য এইরূপ পরিবর্তনক্রমে বায়ুযুক্ত কিরণ দিয়ে দিকগুলো আলোড়িত করে জগতের জলরাশি শোষন করেন। ............ জলরাশি এভাবেই একবার ওপরে উঠে আবার মাটিতে পড়ে। কিন্তু এর নাশ হয় নাপরিবর্তনই হয়ে থাকে। (৫০ অধ্যায়)

সর্বভূতের শরীরেই জল আছে। স্থাবর জঙ্গম যখন পুড়ে যায় তখন সেই জল ধোঁয়া হয়ে বেরিয়ে যায়। এতেই অভ্রের (মেঘের) উৎপত্তি। সূর্যের তাপ বাতাসের সাহায্যে সর্বভূত থেকে বিশেষ করে সমুদ্র থেকে জলরাশি আকর্ষণ করে থাকে। (৫০ অধ্যায়)
(বৃষ্টিপাতের পদ্ধতি বর্ণনা করা হয়েছে।)

৩) মর্ত্যজনেরা আবহমান কাল অন্ন দিয়েই জীবিত থাকে। সেই অন্ন সূর্যকিরণেই পুষ্ট হয়। এই সবিতা ভ্রমণ করে রশ্মি দিয়ে জগতের জল শুষে নেন। আবার বিসর্গকালে সেই জল বর্ষণ করে চরাচরের জীবন পোষণ করেন। (৫২ অধ্যায়)

৪) আমি সূর্যের যে হাজার রশ্মির কথ বলছি তার মধ্যে সাতটি প্রধান। (৫৩ অধ্যায়)
(বলা হইল ঐ সাতটি ছাড়াও সূর্যের আরো আরো অনেক রশ্মি আছে। দৃষ্টিসীমার বাইরের রশ্মির কথাও তাঁদের জানা ছিল।)

সমস্ত দেবতারা এই সমস্ত জায়গায় প্রবেশ করে থাকেন। সমস্ত মন্বন্তরেই তাঁরা চাঁদ সূর্য গ্রহের আশ্রয়ে থেকে প্রকাশমান হন। তাঁদের সেই আশ্রয়স্থানকেই দেবগৃহ বলে। সূর্য সৌরস্থান, সোম সৌম্যস্থান, শুক্র শৌক্রস্থান, বৃহষ্পতি বৃহৎ স্থান, মঙ্গল লোহিতস্থান, এবং শনৈশ্চর শানৈশ্চরস্থান আশ্রয় করে থাকেন। সেই সমস্ত স্থান আদিত্যরশ্মি সংযোগে সুপ্রকাশ। (৫৩ অধ্যায়) (বলা হচ্ছে চাঁদ, সূর্য এবং গ্রহ গুলি সবাই সূর্যের আলোয় আলোকিত। যে কয়টা গ্রহের তাঁরা খবর জানতেন আর কি। বুধ যে দেবতাদেরও বাস করার অযোগ্য সেটাও বোঝা যায় দেবগৃহ দের মধ্যে তার নাম নাই।)
এর সাথেই আছে: 
পৃথিবীর ছায়া দিয়ে সেই মন্ডলাকৃতি রাহু নির্মিত। এর বিরাট স্থান তমোময়। রাহু পূর্ণিমা দিনে আদিত্য থেকে সোমে প্রবেশ করে এবং অমাবস্যার দিনে সোম থেকে আবার আদিত্যে প্রবেশ করে। (৫৩ অধ্যায়) (রাহু যে গ্রহণের কারণ তা সবাই জানেন। সেই সময়েই তাঁরা জানতেন যে সেইটা কোনো দানব নয়। নেহাতই পৃথিবীর ছায়া দিয়ে তৈরী।)

------------------------------------- 
------------------------------------- 
এইবারে দেখা যাক যেই ধর্মে এত্ত বিজ্ঞান আছে তার উপর ভরসা রাখা যায় কিনা। ভরসা রাখতে পারলে আর সন্দেহ না করে বাকি কথাগুলা বিশ্বাস করে নেওয়া যেতে পারে। 
এই বই থেকেই একটি উদাহরণ দিই। সব দিতে গেলে পোস্ট এর সাইজ বেড়ে যাবে। যেটা দিলাম সেইটা সব পুরাণে পাওয়া যায়।

সূর্য যখন দক্ষিণায়ন পথবর্তী হন তখন তিনি সব গ্রহের নিম্নচারী। তার উপরে বিস্তীর্ণমন্ডল চাঁদ, তার উপরে নক্ষত্রমন্ডল, তার উপরে বুধ, তার উপরে বৃহষ্পতি এবং তদূর্ধে শনৈশ্চর, তার উপরে সপ্তর্ষিমন্ডল। তার উপরে ধ্রূব। (৫৩ অধ্যায়) এছাড়া সূর্য চাঁদ গ্রহ ইত্যাদিকে দেবতা বানিয়ে তাদের ঘোড়া, রথ ইত্যাদির বর্ণনা ত আছেই। ------------------------------------ এর পরেও কি বুঝতে বাকি থাকে যে ৫৩ অধ্যায়ের এত্তগুলা বৈজ্ঞানিক তথ্য যাঁর দেওয়া তিনি এই আজগুবি কথা বলতেই পারেন না? তাহলে এমন বিটকেল কথা এইখানে এল কিভাবে? 
এল কারণ ধর্মটিতে যেমন জ্ঞানী গবেষক ছিলেন তেমনি গাঞ্জাখোর কিছু কম ছিলনা। একদিকে কিছু মানুষ খেটেখুটে সত্য আবিষ্কার করতে আর অন্যদিকে গাঁজাখোরেরা তার উপরে রঙ ফলিয়ে পন্ডিতি করত। তারা বসে বসে গাঞ্জা টেনে পৃথিবীর আর আকাশের যা ভূগোল দিয়ে গেছেন তা দেখলেই তাদের বিদ্যের দৌড় বোঝা যায়। আর সেই সাথে ধান্দাবাজ ত গুণে শেষ করা যায় না। তারা কেবল পরের পকেট সাফ করার আর মানুষকে মুরগি বানিয়ে নাচানোর বুলি ছুটিয়ে ধম্মের একেবারে চুড়ান্ত করে ছেড়েছে। তাদের আবার চেষ্টা ছিল যেভাবে হোক প্রশ্ন তোলার অধিকারটিকে হিন্দুধর্ম থেকে বাদ দেওয়ার। তাদের সফল হওয়ার মুখেই বৌদ্ধধর্ম এসে সব গোলমাল করে দেয়। এর পরে তারা ভালোমত সফল হয়েছিল মুসলমান শাষনের সময়। 

তাদের এই সফলতার ফল কি দাঁড়িয়েছিল তার উদাহরণ দিই, হিন্দু সন্ন্যাসী স্বামী বিবেকানন্দের একটি চিঠির থেকে।

“যে দেশের বড় বড় মাথাগুলো আজ দু হাজার বৎসর খালি বিচার করছে- ডান হাতে খাব, কি বাম হাতে; ডান দিক থেকে জল নেব, নাকি বাঁ দিক থেকে। এবং ফট ফট স্বাহা, ক্রাং ক্রুং হুম করে তাদের অধোগতি হবে না তো কার হবে?” 
“যে দেশে কোটি কোটি মানুষ মহুয়ার ফুল খেয়ে থাকে আর দশ-বিশ লাখ সাধু আর ক্রোর দশেক ব্রাহ্মণ তাদের রক্ত চুষে খায় আর তাদের উন্নতির কোনো চেষ্টা করেনা, সে কি দেশ না নরক?”

========================= 
========================= 
আপাততঃ এখানেই শেষ। তার আগে দুটি কথাঃ-
১) বায়ুপুরাণে পাওয়া বৈজ্ঞানিক তত্বের মধ্যে কোথাও ঈশ্বর নিয়ে কোনো যুক্তি-প্রমাণ এর কথা নেই। বরং পরিষ্কার বলা আছে যে ঈশ্বরদের (বহুবচন) যুক্তির বাইরে রাখতে। কাজেই ঈশ্বরের অস্তিত্বের বৈজ্ঞানিক আলোচনা কিম্বা কোনো প্রমাণ পাওয়ার আশা নাই। 

২)যে ধর্মে ঈশ্বরের পর্যন্ত খোলা সমালোচনার অধিকার স্বীকার করা হয় সেখানেই এই রকম গাঞ্জার আর ধান্দাবাজির চাষ চললে যেখানে বিশ্বাস না করলে কল্লা নেওয়া কিম্বা জ্যান্ত পোড়ানোর ব্যবস্থা আছে সেইসব ধর্মগুলোর কি অবস্থা নিশ্চয় বুঝতে পারবেন। সবই দু-আনা চার-আনা বিজ্ঞানের সাথে প্রাণ ভরে চালবাজি আর ধান্দাবাজির মিশেল ছাড়া কিছুই না। 

দু আনা বিজ্ঞান পেলে দু আনাই মানা যায়। সেইটুকু বিজ্ঞানের গন্ধ শুঁকে বাকিটা মেনে নেওয়া যায় না।

(রেফারেন্স: 
কিতাব: "বায়ুপুরাণ" বাংলা অনুবাদ।
প্রধান সম্পাদক: ডঃ গৌরীনাথ শাস্ত্রী
সম্পাদক: ডঃ অশোক চট্টোপাধ্যায়
ভাষান্তর: ইন্দ্রানী চক্রবর্তী
প্রকাশ: ১৯৮৬
প্রকাশক: নবপত্র প্রকাশন। ৬ বঙ্কিম চ্যাটার্জী স্ট্রীট, কলিকাতা ৭০০০৭৩
মূল্য: ৬০ টাকা (ভারতীয় টাকায়।)

-----------------
(বাংলা অনুবাদ ভুলভাল মনে হইলে আওয়াজ দিয়েন। সব মানুষেই ভুল অনুবাদ করতে পারে। তবে কিনা ইয়াদের সব ক'টাই ব্রাহ্মণ। ভুল কম হওনেরই কথা। )

স্বর্গলিক্স: নাস্তিক আসিফের ফেসবুক কর্মকাণ্ড - ০১


বানিয়েছেন আসিফ মহিউদ্দীন


বাঙালি মুসলমানের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট: একটি গবেষণা


লিখেছেন শুভজিৎ ভৌমিক (ভৌমিক দা) 

আসিফ মহিউদ্দীন ভাইয়ের এই পোস্টে অমিয় উজ্জ্বল একটি মন্তব্য করেছিলেন, মন্তব্যটা পরে ধর্মকারী ব্লগে আলাদা পোস্ট হিসেবে দেয়া হয়। সেখানে আমরা দেখেছিলাম:

আসলে বাঙালি মুসলমানের মন বড় অদ্ভুত। সে একই সাথে অনেক কিছু চায়। 
  • সে লিবারেলিজম চায়, আবার ইসলামও চায়। 
  • সে ইংরেজি চায়, আবার মাদ্রাসাও চায়। 
  • নারী চায়, হেজাবও চায়। 
  • সুদ চায়, আবার ইসলামিক ব্যাংকিং চায়।
  • ঘুষ চায়, হজ্ব চায়। 
  • গীতবিতান, আমপারা, কোরান শরীফ, হারমোনিয়াম সবই তার ড্রইংরুমে চায়। 
  • তরুণী-মুখো পাখাওয়ালা বোরাক, কাবাঘর, তীরবিদ্ধ দুলদুল, শাহরুখ, মাধুরী, সালমান শাহ সব ছবিরই তার কাছে সমান কদর। 
  • মক্কা চায়, মুম্বাইও চায়। 
  • পিস টিভি চায়, স্টার প্লাস চায়, এইচবিও-ও চায়। 
  • লাদেনকে বাহবা দেয়, গাদ্দাফিকে বাঘের বাচ্চা বলে, তবে পাত্র খোঁজে আমেরিকান গ্রীনকার্ডধারী। 
  • “দেশি মডেল” “হটি জোকস” পেইজে লাইক দেয় আবার “ইসলামিক লাইফ” পেইজেও লাইক দেয়। 
  • ১৮ প্লাস পোস্ট এবং নবীজির স্মৃতি বিজড়িত স্থান সমূহের ছবি সম্বলিত পোস্ট দুটোতেই সমান হুমড়ি খায়। 
তো এই পোস্টের মতই ফেসবুকে আরও কিছু পোস্ট এসেছে। বাঙালি মুসলমানের মন বিশ্লেষণ করতে গেলে আসলে খুব বেশি কিছুর দরকার পড়বে না আপনার, শুধু নিচের পোস্টগুলো একটু সময় নিয়ে পড়তে হবে। 


ধর্মকারীর পোস্টটিতে পাঠকদের কাছ থেকে আরও কিছু উদাহরণ আহবান করা হয়েছিলো। সেখানে অবর্ণন রাইমস বলেছিলেন:
শোকেসে কোরান উন্মুক্ত, আর বালিশের নিচে রসময় গুপ্ত। 
এই লেখার সূচনা এই লাইনটা থেকেই হচ্ছে। 

আমি ফেসবুকে কারো ফ্রেন্ড রিকোয়েস্টই ইগনোর করি না। আজকে সকালে কোনও কাজ না থাকায় ভাবতেছিলাম, ফ্রেন্ডলিস্টে কারা কারা ছাগু আছেন, বাংলাদেশ ইসলামিক আন্দোলনের সেইসব কাণ্ডারিদের নিয়ে আরেকবার গবেষণা করা যাক। গবেষণা করতে গিয়ে কেঁচো খুঁড়তে রীতিমত গডজিলা পায়া গেলাম। গবেষণা হয়েছে নিম্নরূপ:

প্রথমেই আমি গেলাম ফেসবুকে গোলাম আজমের ফ্যান পেইজে। দেখা গেলো, আমার তিনজন ফ্রেন্ড পেইজটা লাইক করেছেন। তাঁরা হচ্ছেন: 

১. শামসুল আলম সাজিদী উদাসকবি (আলহামদুলিল্লাহ! নাম বটে একখান! ইনি নিঃসন্দেহে জামাত-শিবির কর্মী। প্রোফাইল ঘুরলেই প্রমাণ পাওয়া যায়। আওয়ামী লীগের দুর্নাম করা আর ইসলাম প্রচারই মূলত অনলাইন ছাগুদের কাজ। এর চেয়েও বড় প্রমাণ, সাম্প্রতিক ফেসবুকে খুবই তৎপর চিহ্নিত জামাত-শিবির কর্মী Tomsom Bagom এর প্রোফাইলের ছবিগুলোতে তার লাইক ও কমেন্ট।) 

২. মুন্না হক (এনার প্রোফাইল ঘুরে বুঝতে পারলাম ইনি ছাগু নন সম্ভবত, গোলাম আজমের পেইজে মন্তব্য করার জন্যই লাইক করেছিলেন।) 


স্ক্রিনশটে তৃতীয়জনের নাম দেখা যাচ্ছে, আবু জাফারি। এই আবু জাফারি যে জামাত-শিবিরের লোক, সেটা শিওর হওয়া গেলো আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর ফেসবুক ফ্যান পেইজে গিয়ে, সেখানেও তার লাইক: 


শুরু করলাম আবু জাফারির প্রোফাইল বিশ্লেষণ। তার ওয়াল ফটোজ অ্যালবামে দেখা গেলো, তিনি মনে করেন ইভ-টিজিং পর্দা ব্যতীত রোধ করা সম্ভব নয়। খুবই ভালো কথা। কিন্তু বোনাস হিসেবে একই অ্যালবামে তিনি যেসব পর্দানশীল নারী দেখালেন, তাতে করে আমার ঈমান তো আর জায়গায় থাকলো না ! 

এনিওয়ে, শয়তানের ওয়াছ-ওয়াছায় পইড়া এই আবু জাফারির প্রোফাইলের পর্দানশীল নারীদের ছবি দেখা শুরু করলাম। 


ছবিতে দেখা যাচ্ছে, হট অ্যান্ড সেক্সি রিলেশনশিপের জন্য তিনি অলটাইম রেডি আছেন। ওয়াও! খুবই সুখবর! আরেকজন ভাইকে দেখা যাচ্ছে, তিনিও একই ধরনের সম্পর্কের জন্য রেডি আছেন। ভাইজানের নাম আরাফাত উল্লাহ। 

গেলাম আরাফাত উল্লাহ সাহেবের প্রোফাইলে। গিয়া যা পাওয়া গেলো, তার স্ক্রিনশটগুলো নিম্নরূপ:



সম্প্রতি ফেসবুকে একজন জামাত-শিবির কর্মী খুবই তৎপর হয়েছেন, অনেকেই দেখে থাকবেন। তার নাম Tomsom Bagom। গেলাম তমসম বেগম সাহেবার প্রোফাইলে। হঠাৎ খেয়াল করলাম তার ই-মেইল আইডিটা:


ই-মেইল আইডি হচ্ছে কারিতাস মনিকা নামের এক মেয়ের! মারহাবা! কেয়াব্বাৎ! পাঠক, দুইয়ে দুইয়ে চার মেলাতে পারছেন কি ? 

যারা আমার ফেসবুকীয় হুরপরীগণ ও ছাগুদের স্তন্যপ্রীতি লেখাটা পড়েছিলেন, তাদের ভুলে যাওয়ার কথা নয়, মুক্তমনাদের প্রোফাইলে ছাগু সমাজের প্রবেশের প্রসেসটা। তারা বিভিন্ন মেয়েদের খোলামেলা ছবি দিয়ে প্রোফাইল খুলে মুক্তমনাদের ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠায়। এক্সেপ্ট করলেই তারা নাম পালটে হয়ে যায় ইসলামের একেকজন কান্ডারি ! 

যাই হোক, এই তমসম বেগমের একটা পোস্টে দেখতে পেলাম বেশ কিছু মোমিন ভাই কমেন্ট করেছেন। তাদের কয়েকজনের আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবর ধ্বনি আমার হৃদয়কেও ছুঁয়ে গেলো। দেখা শুরু করলাম ভাইদের প্রোফাইল।

১. নাসির লস্কর নামে একজন মোমিন ভাইয়ের সাবস্ক্রিপশন লিস্ট:


২. আব্দুর রাহিম নামে একজন জিহাদি ভাইয়ের সাবস্ক্রিপশন লিস্ট। সাবস্ক্রিপশন লিস্ট দেখার পাশাপাশি প্রোফাইলে গিয়ে তার চেহারাটা দেইখা আসা সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ। এক্কারে খাঁটি নূরানী চেহারা। নূর বায়া বায়া পড়তাছে। 


৩। আতা খান নামের একজন নব্য ধার্মিকের সাবস্ক্রিপশন লিস্ট:


৪. আব্দু রাহমান নামক একজন চৌদি আজব প্রবাসী মোমিন ভাইয়ের প্রোফাইল: 


তার সাবস্ক্রিপশন লিস্ট:


কি পাঠক? টায়ার্ড হয়ে গেলেন নাকি? নারীলোভেরও মাত্রা থাকে, কিন্তু মোমিন ভাই এবং জামাত-শিবির ছাগু সমাজের নারীলোভ মাত্রাহীন। কারণ, তাদের ঈমানি দণ্ড সর্বদাই খাড়া হয়ে থাকার দৃপ্ত প্রত্যয়ে নিয়োজিত। 

সত্যের সেনানীরা নেবে নাকো বিশ্রাম, 
তাদের জিহাদ চলবেই অবিরাম ! 

আসুন আমরা জামাত-শিবিরের ঈমানি দণ্ড আগামীতেও একইরকমভাবে খাড়া রাখিবার নিয়তে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে মোনাজাত ধরি। 


নির্ভীক নাস্তিক স্কুলবালিকা


স্কুলে ঝুলন্ত সংবিধানবিরুদ্ধ প্রার্থনাবোর্ড সরানোর দাবিতে আদালতের আশ্রয় নিয়ে সফলকাম হয়ে বিশ্বাসবাজদের ঘৃণা অর্জন করতে পেরেছে আমেরিকার এক নাস্তিক স্কুলবালিকা। তাকে মৃত্যুহুমকিও দেয়া হয়েছে। অথচ দৃঢ়চেতা, নির্ভীক এই খুদে বালিকা যেভাবে এসবের মুখোমুখি হয়েছে এবং হচ্ছে, তা রীতিমতো মুগ্ধতাজাগানিয়া ও অনুকরণীয়। 

সিএনএন-এ প্রচারিত হয়েছে এই evil little thing-এর সাক্ষাৎকার। 


পিস টিভি ও তার দর্শকেরা



ইসলাম নারীকে দিয়েছে সর্বোচ্চ সুরক্ষা



২২ ফেব্রুয়ারী, ২০১২

বাইবেলীয় বিবাহের বিবিধ বিভ্রাট


বাইবেলের (Leviticus) বিধান অনুসরণ করে বিয়ে করার উদ্যোগ নিলে ব্যাপারটা কেমন হতে পারতো, দেখুন চার মিনিটের হাহাপগে ভিডিওতে। 


কৃষ্ণের খোমাখাতা


ছবিতে ক্লিক করে পূর্ণাকারে দেখুন

নবী মোর চোষণকারী


Muhammad sucks! আক্ষরিক অর্থেও!

ইসলামের নারীবাজ ও শিশুকামী পয়গম্বরের আরও একটি কাহিনী শুনুন। তিনি বালক-বালিকাদের জিভ লেহন করতেন। অবিশ্বাস্য? নাস্তিকদের অপপ্রচার? জ্বী না, মমিন ভাইয়েরা। হাদিসসহ কমপক্ষে কুড়িটি ইসলামী সূত্র থেকে এই তথ্য আহরিত। 

স্লাইড শো দেখুন অথবা পিডিএফ (৫.৭৩ মেগাবাইট) ডাউনলোড করে নিন। মূল আরবি ভার্শন এবং প্রয়োজনীয় সূত্র উল্লেখ করা আছে। 


মিতকথন


লিখেছেন মাওলানা দুরের পাখি

একটি দম্ভপূর্ণ, রুঢ় এবং হামবড়া বিবৃতি: এই সুবিশাল মহাবিশ্বের একটি অত্যন্ত সাধারণ কোণায় একটা সাদামাটা সৌরজগতে কোন এক চান্সে কাদাপানি থেকে পাওয়া জীবনের অতিধীর অতি অগোছালো কিছু উন্নয়নের মধ্য দিয়ে স্রেফ ভাগ্যের জোরে এই জীবন। আমাদের জ্ঞান আর সামর্থ্যের সীমা এত ছোট যে, এখনো জানি না আমরা কেন এইখানে, কীভাবে এলাম, এই ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন মাইলব্যাপী মহাবিশ্বই বা কীভাবে এলো। আমাদের ছাড়াও এই সবকিছু কোটি কোটি বছর ধরে ছিলো। আমাদের তুচ্ছ জীবন শেষ হওয়ারও কোটি কোটি বছর পর পর্যন্ত সব এইভাবেই থাকবে।

একটি বিনয়পূর্ণ, নিরহংকার এবং মাটির মানুষীয় বিবৃতি: এই ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন মাইলব্যাপী মহাবিশ্ব আর তার ভিতরের ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন নক্ষত্র, গ্রহ , গ্যাস যা কিছু আছে, তার সবই আমাদের জন্য তৈরী। এই সুবিশাল মহাবিশ্ব এবং আরো অনেক কিছু যিনি কেবল উচ্চারণের মাধ্যমে নিমিষেই তৈরী করে ফেলতে পারেন, সেই অকল্পনীয় শক্তিশালী সৃষ্টিকর্তা ব্যক্তিগতভাবে আমাদের একেকজনের প্রাত্যাহিক কার্যাবলীর হিসাব রাখেন। পেটের কষা থেকে শুরু করে বিবাহ, সন্তান এই সমস্ত যাবতীয় ঘটনায় তিনি ব্যক্তিগতভাবে আমাদের প্রত্যেকের বরাদ্দ পর্যালোচনা করেন। এমনকি তিনি আমার আবেদনের প্রেক্ষিতে তার নিজস্ব মতামত পরিবর্তন পরিমার্জন করে আমার চাওয়া অনুযায়ী জিনিস আমাকে দান করেন। এই পৃথিবী , গ্রহ-নক্ষত্র সব ধ্বংস হয়ে যাবে, কিন্তু আমি আমার শরীর সহ অনন্তকাল ধরে থাকবো, খাবো দাবো, অসংখ্য অনিন্দ্য সুন্দরীর সাথে লাগাবো আর লাগাবো। যারা আমার মতের বিরুদ্ধে বলে, তাদেরকে সৃষ্টিকর্তা ব্যক্তিউদ্যোগে অনন্তকাল ধরে আগুনে পোড়াবেন, ছুরিতে কাটবেন আর আমি স্বর্গ থেকে সেসব দেখে দেখে হাসবো।


লিখেছেন শুভজিৎ ভৌমিক (ভৌমিক দা)

ঘটনা ১: হারিকেন-কুপিবাত্তি দিয়া গানের শিল্পী খোঁজার প্রতিভা অন্বেষণ অনুষ্ঠান। গান গাওয়া শেষে প্রতিযোগী বলছেন, "প্লিজ প্লিজ প্লিজ আমার জন্য ভোট করুন।" গান কেমন লাগলো সেটা ফ্যাক্টর না, ভোট দেয়াটাই ফ্যাক্টর। এই ভোটের চোটে অতি অখাদ্য শিল্পীও এক পর্যায়ে হয়ে ওঠে জনপ্রিয় শিল্পী। আর শিল্প পচতে থাকতে ভাগাড়ে, অন্ধকার ঘরের কোণায়। 

ঘটনা ২: ফেসবুকের জনপ্রিয় একটি পেইজ। পেইজ অ্যাডমিন পোস্ট দেয়া শেষে নিচে লিখে দেন, "আপনারা লাইক বাটনে কোপ দেন। মজা লাগলে লাইক দিতে ভুলবেন না, শেয়ার করুন যতখুশি।" ফেসবুক জুড়ে শুরু হয়েছে লাইকের ব্যবসা। গুণগত মান কার কেমন, সেটা ফ্যাক্টর না, যে পোস্টে যত বেশি লাইক, সেই পোস্ট তত হিট পোস্ট। লাইকের চোটে আগু, মাগু, কাগু, ছাগু জাতীয় ফালতু পেইজও হয়ে ওঠে জনপ্রিয়। আর ভালো পেইজগুলোর অ্যাডমিন হতাশায় অ্যাকটিভিটি কমিয়ে দেন, বা বন্ধ করে দেন তার পেইজ। 

ঘটনা ৩: গায়িকা ইভা রহমান গান গাইতে উঠেছেন স্টেজে। উঠেই সবাইকে বলছেন, "হাত তালি দেন, নাহলে গান গাইবো না।" পাবলিকের করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে স্টেডিয়াম। তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলে বেসুরো গলায় গাইতে থাকেন টাকার কুমিরের প্রাক্তন শালী, বর্তমান স্ত্রী। 

ঘটনা ৪: আস্তিক-নাস্তিক ক্যাচাল। আস্তিক চিল্লাইতে চিল্লাতে গলা ফাটায়ে ফেলছে যে, তার পালিত ধর্মকে নাস্তিকের সম্মান দিতেই হবে, সকলের চিন্তাধারার প্রতি নাকি সম্মান রাখাটা কর্তব্য। সকল ধর্মকে সম্মান দিতে গিয়ে আমরা "সম্মান" নামক শব্দটারই অসম্মান করতে থাকি, আর ধার্মিকেরা কুড়িয়ে পাওয়া সম্মান পকেটে ভরতে ভরতে আলহামদুলিল্লাহ বলেন। . . . হে মহান ঈশ্বর! এরা জানে না যে, এরা কী করছে। এরা জানে না যে, হাততালি, লাইক, সম্মান... এগুলো চেয়ে চেয়ে পাওয়া যায় না, নিজগুণে অর্জন করে নিতে হয়। হে মহান ঈশ্বর! এদের ক্ষমা করো, এদের জ্ঞান দাও !

শস্যক্ষেত্রের পরিচর্যা



আবালীয় "পুণ্যকর্ম"


ইহুদি-খ্রিষ্ট-ইসলাম ধর্মে নবী হিসেবে স্বীকৃত ইব্রাহিম নামের এক আবালের কারণে পৃথিবীতে দু'টি ধর্মীয় বর্বরতা পুণ্যকর্ম হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে আজও অব্দি: কোরবানি ও খতনা। এই শালা ছিলো, অন্য যে কোনও নবী-রসুলের মতোই, হয় মানসিকবিকারগ্রস্ত, নয়তো ধুরন্ধর ভণ্ড।

ইব্রাহিম-পচান্তিস আড়াই মিনিটের মজাদার ভিডিও দেখুন। ইউটিউবে এ ভিডিওর নিচে করা একটি মন্তব্য বেজায় পছন্দ হলো: 
Crazy people in the ancient world who heard voices = prophets
Crazy people today who hear voices = people that you avoid sitting next to on the bus

যৌনইঙ্গিতবাহী চার্চ সাইন - ০৪


না, উদ্দেশ্যমূলকভাবে যৌনইঙ্গিত এসবে দেয়া হয়নি। তবে তা খুঁজে পাওয়া দুঃসাধ্য নয় একেবারেই। সর্বমোট চারখানা ছবি।

১.

২.

৩.

৪.


ইসলামী ইতরামি: উপলক্ষ - একুশে


মডারেট মুসলিম ভাইদের অবস্থান কী এই বিষয়ে, জানতে মঞ্চায়।


টাঙ্গাইল, ফেব্রুয়ারি ২১ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- টাঙ্গাইলের সখিপুরে ‘নারায়ে তাকবির’ স্লোগান তুলে এক দল লোক একুশের অনুষ্ঠানে হামলা চালিয়েছে। 

ভাষা শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে সখীপুর উপজেলা পরিষদ সন্ধ্যায় ডাক বাংলো চত্বরে অনুষ্ঠান আয়োজন করেছিল। 

মাগরিবের নামাজের পর সন্ধ্যা ৭টার দিকে নৃত্য প্রতিযোগিতা চলার সময় অনুষ্ঠানে হামলা হয়। 

অনুষ্ঠান আয়োজনে গঠিত কমিটির সাংস্কৃতিক উপকমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক আলীম মাহমুদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “নারায়ে তাকবির ধ্বনি তুলে ৩০-৪০ জন অতর্কিত হামলা করে। তারা অনুষ্ঠানস্থলের চেয়ার, মাইক ও সাউন্ড বক্স ভাংচুর করে।” 

ভাষা শহীদ দিবস উপলক্ষে ডাকবাংলো চত্বরে আলোচনা, কবিতা আবৃত্তি, গান ও নাচের প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। মঙ্গলবার ছিল অনুষ্ঠানের প্রথম দিন। 

উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শওকত শিকদার বলেন, অনুষ্ঠানে হামলার ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনকে আইনগত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

সখীপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, এই ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক জন জানিয়েছেন, মাগরিবের নামাজের সময় অনুষ্ঠানস্থলের মাইকে গান বাজছিল। এতে কাছের জামে মসজিদে নামাজে সমস্যা হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে একদল মুসল্লি উত্তেজিত হয়ে নামাজ শেষে অনুষ্ঠানে হামলা চালায়। 

বরগুনায় শহীদ মিনার ভাংচুর 

একুশে ফেব্রুয়ারিতে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পাথরঘাটায় একটি মাদ্রাসায় নির্মিত শহীদ মিনার ভেঙে ফেলা হয়েছে। 

স্থানীয় যুবকদের উদ্যোগে পাথরঘাটা আদর্শ দাখিল মাদ্রাসা মাঠে সোমবার শহীদ মিনারটি নির্মিত হয়। ভেঙে ফেলার পর পুলিশের উদ্যোগে পুনর্নির্মাণ করে তাতে একুশের প্রথম প্রহরে ফুল দেওয়া হয়েছে। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদ্রাসার সুপার স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী শাহাদাত হোসেন শহীদ মিনারটি ভেঙে ফেলেন। 

তবে শাহাদাত সাংবাদিকদের বলেছেন, শহীদ মিনার নির্মাণের সময় তিনি নিষেধ করলেও ভাঙার সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

পাথরঘাটা থানার ওসি উজ্জল কুমার দে জানান, রাত ১১টার দিকে অস্থায়ী শহীদ মিনারটি ভেঙে ফেলা হলেও সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ গিয়ে তা পুনর্নির্মাণ করে। 

একুশের প্রথম প্রহরে ওই শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়, বলেন তিনি।

২১ ফেব্রুয়ারী, ২০১২

স্বপ্নভঙ্গ



জাতক নং ২৭৩ — কচ্ছপ-জাতক


বৌদ্ধধর্ম নিয়ে বেহুদা রোমান্টিকতাক্রান্তদের জন্য অবশ্যপাঠ্য। 

লিখেছেন কৌস্তুভ

জাতকের ৫৪৭টি কাহিনীর মধ্যে এই একটি কাহিনী বিশেষ ‘সম্মানের’ অধিকারী। অনুবাদকালে এই একটিমাত্র গল্প ঈশানচন্দ্র (১৯২৩) বাংলার বদলে অনুবাদ করেছেন সংস্কৃতে। E. B. Cowell (১৮৯৫) জাতকের ইংরাজি অনুবাদের সময় এই একটিমাত্র কাহিনী অনুবাদ করেছেন ল্যাটিনে । ঘটনা কী? সবাই এই কাহিনীটিকে এড়িয়ে যাচ্ছেন কেন?

কারণ, আপনারা যা অনুমান করতে পারছেন তাই-ই – এই গল্পটি কিঞ্চিৎ আদিরসাত্মক। আবার ঠিক প্রচলিত অর্থের আদিরসও নয়, তবে ‘নটি’ বলা চলে নিঃসন্দেহে।

(সম্ভবত) এটি ইংরিজিতে সর্বপ্রথম অনুবাদ করেন John Garrett Jones, তাঁর জাতকের উপর Tales and Teachings of the Buddha বইটি লিখতে গিয়ে। সম্প্রতি আরেকজন ইন্টারনেটচারী বৌদ্ধ ভিক্ষু জোনসের অনুবাদের কথা না জেনে এটি তাঁর ব্লগে অনুবাদ করেছিলেন। এক হিসাবে, সেটি হয়ত ইন্টারনেটে প্রাপ্য এই কাহিনীর একমাত্র ইংরাজি অনুবাদ।

এই ইন্টারেস্টিং, মজাদার, বিনোদনী ও দুষ্টু গল্পখানা – যা আবারও প্রমাণ করে, কোনো ধর্মই বলদার্গু-মুক্ত নয় – বাঙালি পাঠকের অধরা থেকে যাবে, এটা ভাবতে খারাপ লাগল। ঈশানচন্দ্রের সময় অধিকাংশ উচ্চশিক্ষিত বাঙালিই সংস্কৃত জানতেন, তাই নাবালকের অবোধ্য কিন্তু প্রাপ্তবয়স্কের বোধ্য সংস্কৃতে গল্পটি রেখে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু সংস্কৃতের সেই সুদিন আর নেই কিনা। তবে আমি পালি-অজ্ঞ, তাই ওই দুটি ইংরাজি অনুবাদ আর সংস্কৃত অনুবাদটি মিলিয়ে এই কাহিনীর সম্ভবত প্রথম বাংলা অনুবাদটি খাড়া করলাম (অনুবাদের নিচে গল্পের বিশদ ব্যাখ্যা পাবেন)।

************************************************************

২৭৩ — কচ্ছপ-জাতক

[কোশল-রাজের দুইজন মহামাত্রের বিবাদভঞ্জন হইয়াছিল। তদুপলক্ষে শাস্তা জেতবনে অবস্থিতি-কালে এই কথা বলিয়াছিলেন। ইহার অতীত বস্তু দ্বিনিপাতে – উরগ-জাতক (১৫৪) এবং নকুল-জাতক (১৬৫) – বলা হইয়াছে।]

——————————————— 

পুরাকালে বারাণসী নগরে ব্রহ্মদত্ত নামে এক রাজা ছিলেন। তাঁহার সময়ে বোধিসত্ত্ব কাশী রাজ্যে কোনো এক ব্রাহ্মণকূলে জন্মগ্রহণ করিয়াছিলেন। বয়সপ্রাপ্ত হইলে তিনি তক্ষশীলায় গমন করিয়া বহুবিধ শাস্ত্র অধ্যয়ন করিলেন। অনন্তর বীতকাম হইয়া তিনি প্রব্রজ্যা গ্রহণ করিয়া হিমবৎ প্রদেশে গঙ্গাতীরে এক আশ্রম নির্মাণ করিয়া তথা ধ্যানে লিপ্ত হইলেন। এই জন্মে বোধিসত্ত্ব সমুদয় জ্ঞানের মধ্যে স্থৈর্য বা উপেক্ষায় বিশেষভাবে পারদর্শী হইয়াছিলেন।

ধ্যানকালে বোধিসত্ত্ব যখন পর্ণকুটীরের দ্বারপ্রান্তে অবস্থান করিতেন, তখন একটি দুঃশীল, প্রগল্ভ মর্কট তথায় সমাগত হইয়া তাঁহার কর্ণকুহরে নিজ মেহন প্রবিষ্ট করাইয়া রেতঃপাত করিত। স্থৈর্যে পরম শীলিত বোধিসত্ত্ব ইহা নিবারণের জন্য কোনরূপ প্রয়াস করিতেন না।

একদা একটি কচ্ছপ জল হইতে রোদ পোহাইবার নিমিত্ত উত্থিত হইয়া গঙ্গাতটে মুখব্যাদান করিয়া নিদ্রাগত হইয়া পড়িয়াছিল। তাহাকে দেখিয়া ওই লালসাগ্রস্ত বানর তাহার মুখবিবরেও মেহন প্রবেশ করাইয়া দিল। কিন্তু রেতঃ নিক্ষিপ্ত হইলে নিদ্রাভঙ্গ হওয়াতে কচ্ছপ জাগিয়া উঠিয়া সেই মেহন দংশন করিয়া বসিল। প্রবল বেদনা জাগ্রত হইলে ওই মর্কট চিন্তিত হইল, এমন কে আছেন যিনি আমাকে এই দুঃখ হইতে পরিত্রাণ করিতে পারেন, যাঁহার কাছে গিয়া আমি শান্তিলাভ করিতে পারি? এমন বিচার করিয়া সে দুই হাত দিয়ে কচ্ছপটিকে উত্তোলন করিয়া সে অবস্থায় বোধিসত্ত্বের নিকট উপস্থিত হইল।

বোধিসত্ত্ব এই দুষ্ট মর্কটকে এমন পরিস্থিতিতে দেখিয়া তাহাকে পরিহাসপূর্ব্বক প্রথম গাথাটি বলিলেন:

অন্নভাণ্ড হস্তে লইয়া কোন ব্রাহ্মণ ফেরে?
ভিক্ষা পাইলে কোনোখানে? নাকি ফিরিছ শ্রাদ্ধ সেরে?

ইহা শুনিয়া সেই বানর বলিল,

মূর্খ একটি মর্কট আমি,
দয়া করি মোরে ক্ষমা কর স্বামী–
স্পর্শ-যোগ্য নয় যাহা, তাহা ছুঁইয়া করেছি ভ্রান্তি–
লভিলে মুক্তি, ফিরি পর্ব্বতে; কৃপা করি দাও শান্তি।

অতঃপর বোধিসত্ত্ব কচ্ছপকে উদ্দেশ্য করিয়া তৃতীয় গাথাটি শোনাইলেন:

কাশ্যপ-গোত্র এ কচ্ছপ, জানিও;
মর্কট গোত্রে যে কৌণ্ডিন্য;
কচ্ছপ, করহ মোচন উহাকে–
হ’ল তব মৈথুন সম্পন্ন।

বোধিসত্ত্বের বচন শুনিয়া প্রসন্ন চিত্তে কচ্ছপটি মর্কটের মেহন মুখ হইতে মুক্ত করিয়া দিল। মুক্তি পাইবামাত্র সে বানর বোধিসত্ত্বকে প্রণাম করিয়া সত্বর পলায়ন করিল; পুনর্বার ফিরিয়াও তাকাইল না। কচ্ছপও তাঁহাকে নমস্কার করিয়া যথাস্থানে গমন করিল। বোধিসত্ত্ব নির্বিঘ্নে ধ্যানে নিমজ্জিত হইয়া যথাসময় ব্রহ্মলোক প্রাপ্ত করিলেন।

——————————————— 

[কথান্তে শাস্তা সত্যসমূহ ব্যাখ্যা করিলেন। সমবধান – এই মহামাত্রদ্বয় ছিলেন সেই কচ্ছপ ও বানর এবং আমি ছিলাম সেই তাপস।]

************************************************************ 

টীকা: 

মহামাত্র – অমাত্য, পারিষদ

বিবাদভঞ্জন – ঝগড়া মিটমাট

শাস্তা – বুদ্ধদেব, বোধিসত্ত্ব

জেতবন – রাজা জেত এই উদ্যানটি বুদ্ধদেবের সংঘ তৈরির জন্য দান করেন। বুদ্ধদেব সেই আশ্রমে প্রায়ই অবস্থান করতেন।

দ্বিনিপাত – জাতকের যে সব গল্পে দুটো করে গাথা(কবিতা) থাকে সেগুলো দ্বিনিপাত বলে; এইটায় তিনটে গাথা আছে বলে এটা ত্রিনিপাত-এর মধ্যে পড়বে। আরো স্পষ্ট করে বললে, দ্বিনিপাত হচ্ছে দুটো গাথা-ওয়ালা সব জাতকের সংগ্রহ।

তক্ষশীলা – প্রাচীন বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়

বীতকাম – কামনা-বাসনা ত্যাগ করা

প্রব্রজ্যা – সন্ন্যাস

হিমবৎ প্রদেশ – হিমালয়ের কাছাকাছি কোনো অঞ্চল

পর্ণকুটীর – পাতার কুঁড়েঘর

প্রগল্ভ – ফাজিল

মেহন – শিশ্ন

রেতঃপাত – বীর্যপাত

শীলিত – অনেক অনুশীলন/চর্চা করেছে যে

মুখব্যাদান – মুখ হাঁ করা

গাথা – কবিতা/শ্লোক

অন্নভাণ্ড – ভাতের (খাবারের) পাত্র

ব্রহ্মলোক – স্বর্গলোক, তপস্যার ফলে প্রাপ্ত পরম ধাম

সমবধান – জাতক-কাহিনীর শেষের ব্যাখ্যা, যেখানে আগের কাহিনীর সঙ্গে বর্তমানের (যার সূত্রেই ওই কাহিনী বলা শুরু) সম্পর্ক বোঝানো হয়। 

************************************************************

আমার ব্যাখ্যা: উরগ-জাতকে শুরুতে যে ঘটনা বলা আছে, তা এইরকম – কোশলদেশের রাজার দুই মহামাত্র অর্থাৎ অমাত্য পরষ্পরের খুব বিদ্বেষী ছিলেন। কিন্তু বুদ্ধ বুঝতে পারেন যে এঁরা দুজনেই ভবিষ্যতে পরম জ্ঞান লাভ করবেন। তখন তিনি ভিক্ষাচ্ছলে একজনের বাড়িতে গিয়ে উপস্থিত হলেন। ঐ ব্যক্তিও বুদ্ধর হাত থেকে ভিক্ষাপাত্র নিয়ে সমাদরে ভেতরে এনে বসালেন, সেবাযত্ন করলেন। বুদ্ধও খুশি হয়ে তাঁকে শাস্ত্রকথা শুনিয়ে পরম জ্ঞান দান করলেন। তারপর তাঁকে নিয়ে দ্বিতীয় অমাত্যের কাছে গেলেন। সেই অমাত্যও বুদ্ধকে দেখে সমাদরে প্রথম অমাত্য সহ-ই বাড়িতে এনে বসালেন। তারপর বুদ্ধ এঁকেও পরম জ্ঞান দান করলেন। তখন দুজনেই পরষ্পরের কাছে ক্ষমা চেয়ে বন্ধু হয়ে গেলেন। 

জাতকের গল্পের যে ছন্দ, সেই অনুযায়ী এই গল্পেও এরপর বুদ্ধ তাঁর শিষ্যদের বলেন, যে পূর্বজন্মেও আমি এভাবে এদের বিরোধ মিটিয়েছিলাম। বলে এই কাহিনী শুরু করেন। 

জাতকের এই গল্পটায় ওই দুই মহামাত্রের কচ্ছপ আর বানর হিসাবে পূর্বজন্মের কথা বলা হয়েছে। মোটামুটি মিল রাখার চেষ্টা হয়েছে, ওই অমাত্যের হাতে নেওয়া বুদ্ধের ভিক্ষাপাত্রর সাথে এখানে বানরের হাতে নেওয়া ভিক্ষাপাত্র-আকারের কচ্ছপ (যেটা প্রথম কবিতাটায় উল্লেখও করা হয়েছে), ইত্যাদি। এখানে দুজনের একজন কাশ্যপ আর আরেকজন কৌণ্ডিন্য নামক গোত্রভুক্ত বলে জানানো হয়েছে, ঠিক কেন সেটা স্পষ্ট নয়। তবে যৌনক্রিয়া-প্রধান এই গল্পটায় শেষ কবিতাটায় বুদ্ধ মিলন শব্দটা একাধারে দুটো অর্থে ব্যবহার করেছেন, এক সন্ধি অর্থে, যেহেতু তিনি ওই শত্রুভাবাপন্ন দুজনের ভাব করিয়ে দিচ্ছেন, আর দুই, (বৈবাহিক) সম্পর্কস্থাপন অর্থে, যেহেতু রতি বা সঙ্গম ব্যাপারটা নিয়েই কথা হচ্ছে, এবং সেখানেই সম্ভবত গোত্রের প্রসঙ্গটা আসে, কারণ সনাতন ধর্মের রীতি অনুযায়ী এক গোত্রের মধ্যে বিয়ে হয় না। 

গল্পটায় ঠিক কী ঘটছে, তা নিশ্চয়ই বুঝতে কারো সমস্যা হয় নি। এবং সরল নিরক্ষর গ্রামবাসীদের ধর্মশিক্ষা দিতে এমন আদিরসাত্মক সরস গল্প মন্দও হয় না। তবে সে গল্পে বুদ্ধের নাম জড়িয়ে, পশুযোনিতে পূর্বজন্ম – বানরের যৌনব্যাভিচার – পশুদের ধর্মশিক্ষা ইত্যাদি অবান্তর কথা তাঁকে দিয়ে সিরিয়াসলি প্রচার করিয়ে, শেষমেষ রূপকথার ক্ষেত্র অতিক্রম করে এ কাহিনী একটি নিছক বলদার্গুতেই পরিণত হয়।