২৯ ফেব্রুয়ারী, ২০১২

বিজ্ঞানময় কিতাব


লিখেছেন হযরত নালায়েক 

হালের ইসলামের সাত সাগরের মাঝি, লোডশেডিং-এ হ্যারিকেন যাকির নায়েকের ভক্তকুল নেহায়েত কম না। অনেকেই উনার দেখায় নিজ নিজ ধর্মের পাঞ্জেরী হওয়ার চেষ্টা চালাইতে গিয়া নিজেই পথের দিশা হারাইয়া ফেলেন। সেই সকল ধর্মপ্রাণ ভাইদের জন্য আমার এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। কীভাবে ধর্মগ্রন্থ হইতে বিজ্ঞান লেবুর রসের মত চাপিয়া বের করিতে হয়, সেই নিমিত্তেই এই টিউটোরিয়ালখানা: 

শুরুতেই আপনাকে নির্বাচন করতে হবে টপিক। খুব সুচরুতার সাথে এই কাজটি সম্পাদন করতে হবে। ভুল টপিক নির্বাচনে হিতে বিপরীত হতে পারে। এমন টপিক নির্বাচন করতে হবে যেটাকে ইংরেজীতে বলে বাজওয়ার্ড (দুঃখিত, বাংলাটা জানা নেই) । যেমন ধরুন, আপনি টপিক নির্বাচন করলেন, পানি কত ডিগ্রি তাপমাত্রায় বরফ হয় কিংবা বাষ্প হয়। আপনার ধর্মগ্রন্থে সেটা পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করাও আছে। আপনি দাবি করতে চান, বিজ্ঞান আবিষ্কার করার ১৪০০ বছর আগেই সেটা আপনার ধর্মগ্রন্থে লিখা ছিল। এরকম টপিকগুলা সাধারণত ভাত পায় না। যেগুলো রিসেন্ট আবিষ্কার, নাম মোটামুটি সবার জানা কিন্তু জিনিসটা আসলে কী, সেটা সম্পর্কে খুব মানুষের ধারণা নেই, সেগুলো টপিক হিসেবে উত্কৃষ্ট। যেমন ধরুন, ব্ল্যাক হোল কিংবা বিগ ব্যাং। এই নামগুলো সবার মোটামুটি জানা থাকলেও প্রকৃতপক্ষে বিগ ব্যাং কিংবা ব্ল্যাক হোল কী, সেটা খুব কম মানুষই জানে। 

এবার আসুন কিতাব থেকে বাণী খুঁজে বের করার কাজে। আগে এই কাজটি কঠিন হলেও আধুনিক বিজ্ঞানের কল্যাণে সেটা পানির মত সহজ। সুবিধাজনক ২-৪টি আয়াত খুজে বের করুন। 

এখন আপনাকে হাত দিতে হবে সেটাকে বাংলা তর্জমা করার কাজে। এটা খুব ক্রিয়েটিভ একটা কাজ। এখানেই আপনার সাফল্য অনেকখানি নির্ভর করছে। উদাহরন দিয়ে বলি। ধরুন, আপনি যে আয়াতটি নির্বাচন করলেন সেটার বাংলা অনুবাদ হচ্ছে: “অবিশ্বাসীরা কি দেখে না কিভাবে সূর্য্যের আলো পৃথিবীতে আসে।” আপনাকে এখন সেটাকে কিঞ্চিৱৎত পরিবর্তন করে অনুবাদ করতে হবে এরকমভাবে: “অবিশ্বাসীরা কি দেখে না কিভাবে সূর্য্য থেকে বিকিরিত রশ্মি পৃথিবীতে আসে।” ব্যস, কেল্লা ফতে। আলোও এক ধরনের বিকিরিত রশ্মি, তাই আপনার অনুবাদে কিন্তু ভুল নেই।

এর পরের কাজ খুবই সোজা, উইকিপিডিয়া থেকে রেডিয়েশান, উত্তপ্ত বস্তুর তাপ বিকিরণ, ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশান, রেডিও থেরাপি থেকে শুরু করে রেডিওঅ্যাক্টিভিটি পর্যন্ত সবকিছু কিতাবের বাণীর সঙ্গে মিলিয়ে ফেলুন। সাথে খুব উচ্চমার্গীয় ডায়াগ্রাম এবং খুব কাঠ-খোট্টা ইংরেজি লাইন উদ্ধৃত করতে ভুলবেন না, তাতে আপনার প্রতি ভক্তদের শ্রদ্ধা কয়েকগুণ বেড়ে যাবে। 

এবার ব্লগে পোস্ট করে দিন। কিন্তু এখানেই কাজ শেষ সেটা ভাববেন না। আপনি পোস্ট করা মাত্রই অবিশ্বাসীর দল আপনার পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়াবে। তাদেরকে সামলাতে পারলেই কাজ উদ্ধার। প্রথমেই প্রশ্ন আসবে, যদি কিতাবে লিখাই থাকে এতোদিন কেন আবিষ্কার করা গেল না? তখন বলতে হবে, এতোদিন এরকম জিনিস বোঝার মত জ্ঞান মানুষের ছিল না, তাই চোখের সামনে থেকেও কেউ ধরতে পারেনি। এভাবে পিছলামী করে সরে যেতে হবে। কিন্তু কিছু ত্যাঁদোড় নাস্তিক থাকবে, যারা তারপরেও পিছু ছাড়বে না। তাদেরকে তোরা ব্যাটা বিশ্বাস করছিস বান্দর থেকে মানুষ আসছে, তোদের চিন্তা আর কত দূরই বা যাবে! এভাবে বোল্ড করে আপনাকে ফিরে আসতে হবে। 

তো এবার শুরু করে দিন, বলা যায় না আপনিই হয়ে যেতে পারেন আরেক যাকির নায়েক।

বিশ্বাসমদন



রিচার্ড ডকিন্সের অংশগ্রহণে একটি বিতর্ক


গত ২৪ তারিখে অনুষ্ঠিত রিচার্ড ডকিন্সের সঙ্গে Archbishop of Canterbury রোওয়ান উইলিয়ামসের বিতর্ক। বিষয়: Human Beings & Ultimate Origin.

দেড় ঘণ্টার ভিডিও। দেখার সময় পাইনি বলে কোনও মন্তব্য করতে পারছি না।

ডাকাতের রকমফের


পাঠিয়েছেন হযরত নালায়েক


নিঃসীম নূরানী অন্ধকারে - ০১


লিখেছেন তামান্না ঝুমু 

১.
খাদিজা মারা যাবার পর মুহাম্মদ ১৩ বছর বেঁচে ছিলেন। ১৩ বছরে তিনি ১৩ খানা বিবাহ করেছেন মাশাল্লাহ। তিনি আরো কয়েক বছর বেঁচে থাকলে পৃথিবীর অনেক উপকার করতে পারতেন। আরও কয়েক ডজন কন্যাদায়গ্রস্ত পিতাদের কন্যাদেরকে বিবাহ করে তাদেরকে মহাবিপদ থেকে উদ্ধার করতে পারতেন। 

২.
ধর্মব্যবসায়ীরা কেউ কেউ পরমহংস,
কেউ কেউ পরমবক।

৩. 
জীবাণু যেমন ফসলের জন্য ক্ষতিকর, ধর্মও তেমনি মানুষের জীবনের জন্য ক্ষতিকর। স্বাস্থ্যবান ফসল পেতে হলে যেমন জীবাণু কাম্য নয়, তেমনি সুস্থ্য সুন্দর সমাজ ও জীবনগঠনেও ধর্ম কাম্য নয়।

৪. 
গতকাল রাতে তাহাজ্জুদের নামাজ শেষ করে ঘুম আসছিলো না। ভাবলাম, একবারে ফজর পড়েই ঘুমোতে যাবো। তসবিহ হাতে পায়চারি করার জন্য ব্যালকনিতে গিয়ে দাঁড়িয়েছি। দেখি, আকাশে পূর্ণিমার চাঁদ হাসছে। চাঁদের দিকে তাকাতেই চোখে পড়লো ধবল জোছনা কেটে ধলা রঙের একটা ধেনুর পিঠে সওয়ার হয়ে হিজাব-নিকাব পরা ডিজিটালা নবী তামান্না ঝুমু ঊর্ধ্ব আকাশপানে ছুটে চলেছেন। এখন বুঝলাম এই তপস্বিনী মিরাজে গিয়েছিলেন। এই অলৌকিক ঘটনার আমি একজন চাক্ষুস সাক্ষী। আশা করছি, মুমিন এই বান্দার সত্যভাষণের পরে নবী তামান্না ঝুমুর মিরাজে সন্দেহ পোষণেরই লোক পাওয়া যাবে না, মিথ্যা প্রমাণ তো অনেক দূরের কথা। 

৫.
যে কোনো ধর্মগুরুর জীবনীর সাথে অধার্মিক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জীবনী তুলনা করলেই বিশ্বাসের ভয়াবহতা ও অবিশ্বাসের উদারতা সম্পর্কে বুঝতে পারা যেতে পারে। 

নিত্য নবীরে স্মরি – ৫২


এই খোমাসুন্দর ছবি আঁকার 'অপরাধ' মমিনরা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবে না?


২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০১২

বলদ ইব্রাহিম উৎপাদিত বল্দার্গু


ইংরেজিতে বলে 'আব্রাহামিক রেলিজিয়নস', আমি সেটার বাংলা করেছি - আব্রাহাম্মক ধর্মগুলো।

বদ্ধোন্মাদ/ভণ্ড ইব্রাহিম নবীর পুত্রহত্যার উদ্যোগের কাহিনী নিয়ে আরও একটি মজাদার ভিডিও। মাত্র আড়াই মিনিটের।

ছহীহ ইছলামী কিবোর্ড


বানিয়ে পাঠিয়েছেন Mohammad Mockerof Islam

ইসলামি কিবোর্ড লে-আউট। আইডিয়াটা হল: ধর্মছাগুরা বাঁধাধরা শব্দ নেটে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে ব্যবহার করে বলে অক্ষরের বদলে কিবোর্ডে সেই বহুল ব্যবহৃত শব্দগুলো বসিয়ে মজা করা। কাগু মোস্তফা জব্বারকে নিয়েও ফান করার চেষ্টা ছিল। সেই কারনে নবীর সাথে নাম মিলিয়ে টাইটেল দিয়েছি "বিজয় মোস্তাফা"!

ছবিতে ক্লিক করে পূর্ণকারে উপভোগ করুন

বৌদ্ধধর্ম: আধ্যাত্মবাদী বিরিঞ্চিবাবাদের অনুৎপাদনশীল ফ্যান্টাসির উৎস


লিখেছেন আল্লাচালাইনা

বৌদ্ধধর্মের প্রতি সবারই রয়েছে একটা উষ্ণ-নরম, কসুম-গরম সহানুভূতি; কেননা এই ধর্মটা রক্ত-টক্ত তেমন একটা ঝরানোর সুযোগ পায়নি মানুষের, উপরন্তু ‘হগলে বনে যাওগা, গিয়া তপস্যা করো’ মার্কা বাস্তবতা বিবর্জিত সেক্সি-সেক্সি কথাবার্তা বলে আমাদের দুধ-মাখনের ওয়্যাকি নিউএইজ আধ্যাত্মবাদী বিরিঞ্চিবাবাদের অনুৎপাদনশীল ফ্যান্টাসির অন্তর্বাস রেখেছে সর্বদাই ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে!

আমি ব্যাপারটাকে অন্যভাবে দেখি। আমি মনে করি ধর্ম এমন একটি সিস্টেম, যেটির সবচেয়ে স্টেইবল স্টেইট হচ্ছে - লংরানে সমাজে সবচেয়ে বেশী অশান্তি উৎপাদন করতে সক্ষম থাকাটা, প্রত্যেকটি ধর্মই। খ্রিষ্টধর্মের অশান্তি উৎপাদন করার ক্ষমতাটা নিউট্রালাইজ করে রাখা হয়েছে সক্রিয়ভাবে শক্তি প্রয়োগ করে; এই ধর্মের ডেমোগ্রাফির ভেতর পরে যেইসব মানুষ, তাদের তুলনামুলকভাবে বেশী শিক্ষিত হওয়া, অর্থনৈতিকভাবে বেশী স্বচ্ছল হওয়া, একটি উন্নত কালচার এবং মূল্যবোধ সমুন্নতকারী হওয়ার মধ্য দিয়ে। মুসলমানরা উৎপাত করে পৃথিবী অতিষ্ঠ করে রাখছে, একসময় এদেরও হয়তো শক্তি হবে শিক্ষিত হবার এবং সভ্য হবার; তখন হয়তো ইসলামের উৎপাতও আর গা করার মতো কোন হুমকি হিসেবে গণ্য হবেনা। 

বৌদ্ধধর্ম কিন্তু এইসব কোর্স অফ ইভেন্টসের ভেতর দিয়ে যাবার সুযোগই পায়নি কোনো। চুল গজানোর পূর্বেই এই ধর্মটির হেয়ার ফলিকল কোষসমেত চামড়ার সম্পূর্ণ উপরিভাগটিই উৎপাটন করে নিয়েছে হিন্দুধর্ম। বিষফোঁড়া হয়ে ওঠার পুর্বে প্রত্যেকটি ধর্মই থাকে এসিম্পটোটিক; এইসময় তারা শান্তির বাণী প্রচার করে, একগালে চড় খেয়ে অপর গাল বাড়িয়ে দেয় পরম বিনম্রতায়। দীর্ঘ সময় পরে এই এসিম্পটোটিক অবস্থার অবসান ঘটিয়ে ধর্ম বিষফোঁড়া হয়ে ওঠে, যখন কোনো না কোনোভাবে একটা রাজা কিনা সেই ধর্মে দীক্ষিত হয়; রাজা দীক্ষিত হয়ে মন্ত্রীকে দেয় কষে প্যাঁদানী ‘তুই-ও এই ধর্মে দীক্ষিত হচ্ছিস না কেন’ বলে; মন্ত্রীও অতপর সেই ধর্মে দীক্ষিত হয়ে আমাত্যদেরকে দেয় প্যাঁদানী একই কথা বলে; আমাত্য প্যাঁদায় তাদের সাবজেক্টদেরকে; এইভাবে সম্পূর্ণ রাষ্ট্রটাই শরীয়াভিত্তিক ইছলামী রাষ্টে পরিণত হয় এক সময়। অতপর রাষ্ট্র দেয় তার পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রকে প্যাঁদানী, বলে ‘এইবার তোরাও এই ধর্মের ছায়ায় আয়’, ধর্ম ছড়িয়ে পড়ে।

হাওএভার, প্যাঁদানোর এই হায়ারার্কিকাল চেইন যদি কোনো না কোনো পর্যায়ে ব্যর্থ হয়, তবে হয় ধর্মটিকে এক পা বা কয়েক পা পিছিয়ে গিয়ে নতুন করে শুরু করতে হয়, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই হয়তো আপাদমস্তক বিলুপ্তই হয়ে যেতে হয়! বৌদ্ধধর্মের ক্ষেত্রে তাদের প্যাঁদানীর চেইন খুবই খুবই প্রাথমিক অবস্থায় ব্যর্থ হয়েছে, কিন্তু সৌভাগ্যবশত বিলুপ্ত হয়ে যেতে হয়নি ধর্মটিকে, বরঞ্চ নন-ভাইরুলেন্ট একটি অবস্থায় এটি টিকে গিয়েছে কালের যাত্রায়। তবে ভাইরুলেন্ট হয়ে ওঠার যথেষ্ট মালমসলাই যে এতে ছিলো, তার প্রমাণ কিছু আছে। এই যেমন, গল্প ফেঁদে মেয়ে মানুষকে দুই টুকরা করে ফেলার কাহিনী আছে এতে; বাস্তবে ক্ষমতা লাভ করলে যে কয় টুকরা করতো, সেটার সম্পর্কে কিছু অনুমান আমরা করতে পারি।

গৌতম বুদ্ধ বলে নানাবিধ টেনশন থেকে রক্ষার একটি ইফেক্টিভ উপায় হিসেবে বৌ-বাচ্চা পরিত্যাগপুর্বক চোরের মতো একরাতে রাজপ্রাসাদ থেকে বের হয়ে অনুদ্দেশ্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। প্রথম কথা হচ্ছে, ছেলেটা মস্তবড় একটা কাওয়ার্ড, সে রাজার ছেলে বলে ব্যতিক্রম কিন্তু একটা অস্বচ্ছল ঘরের কোন ছেলে এভাবে বৌ-সংসার ত্যাগ করলে পরে অনেকগুলো জীবনের উপর সে অবর্ণনীয় অশান্তিই নামিয়ে নিয়ে আসবে; কিন্তু সেইটা সমস্যা না। সমস্যা শুরু হয় যখন কিনা সে কোন শ্যাওড়া তলায় ধ্যানে বসলে পরে তাকে গাছে বসবাসরত পেত্নী এসে ধরে। পেত্নীর আছড়ে পড়ে যেই হোকাস-পোকাস গল্পগুলো তিনি ফেঁদেছিলেন, হযরত মুহাম্মদের নিম্নমানের হাস্যকর গাঁজাখুরী মেরাজের গল্পের সাথে কি সেটার কোন পার্থক্য আছে? আধ্যাত্মবাদরে কইষা গদাম, ফিজিকাল এভিডেন্সবিহীন দাবীকে বাস্তব বলে প্রতিষ্ঠা করার জন্য শ্রম ব্যয় করে এমন প্রত্যেকটি মতাদর্শকেই কইষা গদাম। গৌতম বুদ্ধের প্রতি আমি একফোঁটাও শ্রদ্ধাশীল নই, যেমন আমি শ্রদ্ধাশীল নই কার্লমার্ক্স বা ফ্রেডরিখ নিটশের প্রতি। সেক্সি সাউন্ডিং হোকাস-পোকাস কথা বলতে কোনো স্কিল লাগে না, কোনো মেধা লাগে না। 

সাচ্চা মমিন হতে গেলে



ইয়োরোপে ইসলামী ইতরামি


ইয়োরোপ জুড়ে ইসলামী জঙ্গিদের সাম্প্রতিক ইতরামির একটি সংক্ষিপ্ত সারাংশ শুনুন ব্রিটিশ লেখক ও সাংবাদিক ডগলাসে মারে'র সাত মিনিটের বক্তৃতায়। 

ঈশ্বরের স্বরূপ


ছবির ওপরে ক্লিক করে পূর্ণাকারে দেখুন

২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০১২

হ্রস্বরসবাক্যবাণ – ৩৩


১. 
বদ্ধমস্তিষ্কের লোকগুলো কেন যে বদ্ধমুখ হয় না!

২. 
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রার্থনার স্থান নেই, উপাসনালয়ে যেমন নেই যুক্তি-তথ্যের স্থান।

৩.
না, ধর্ম পচে যায়নি। তার গন্ধটাই ওরকম। 

ব্যর্থ নামকরণ



স্পিরিচুয়াল ননসেন্স-এর জঙ্গি জবাব


ব্রিটিশ টেলিগ্রাফ পত্রিকার মহিলা সাংবাদিকটি যখন বলেন, তিনি কুমারী মাতার গর্ভে যিশুর জন্মসহ নানাবিধ অলৌকিক ঘটনায় বিশ্বাস করেন, তখন পুরনো সেই অমোঘ সত্যটি মূর্তমান হয়ে ওঠে: কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পাশ করে ডিগ্রি লাভ করলেই তাকে শিক্ষিত বলা যায় না।

মহিলার স্পিরিচুয়াল ননসেন্স-এর উত্তরে জঙ্গি নাস্তিক রিচার্ড ডকিন্স কী বললেন, শুনে দেখুন। বিবিসি-র এক টক শো থেকে নেয়া দু'মিনিটের একটি অংশ।

আপডেট: পুরো অনুষ্ঠানের ভিডিওও এমবেড করা হলো।

সহীহ সুখী পরিবার




হা-হা-হাদিস – ২৮



হে ঈমান্দার বান্দাসকল, তোমাদের জন্য অজস্র রসময় কথা গুপ্ত রহিয়াছে হাদিস শরিফে।
- সহীহ আল-ধর্মকারী
হে নাস্তিকগন! তোমাদিগের জ্ঞাতার্থে জানানো যাইতেছে যে, বীর্যস্খলনের বিশ্বাসস্খলনের অপরাধে কিয়ামতের দিবসে তোমাদিগের প্রত্যেকের "হাতে হারিকেন, পাছায় বাঁশ" দেওয়া না হইলেও পাছার পেছন দিকে একটি পতাকা স্থাপন করা থাকিবে। 

সহীহ মুসলিম হাদিস থেকে উদ্ধৃতি:
It is narrated on the authority of Abu Sa'id that the Messenger of Allah (may peace be upon him) said: On the Day of Judgment there will be a flag fixed behind the buttocks of every person guilty of the breach of faith.
Book 019, Number 4309

নাস্তিক-জুজু



২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০১২

বাধ্যতামূলক ভালোবাসার বিধান


টুইটারে নবীজির জন্মদিনে তার উদ্দেশে কয়েকটি "অপমানজনক" বাক্য লেখার কারণে এক সৌদি লেখকের মৃত্যুদণ্ড, খুব সম্ভব, অনিবার্য। এই খবরটি অনেকেই পড়া আছে নিশ্চয়ই। কী লিখেছিলেন তিনি টুইটারে? এই দেখুন: 
তোমার কিছু জিনিস আমি পছন্দ করেছি, কিছু জিনিস ঘৃণা করেছি, এবং তোমার অনেক কিছু আমি বুঝতে পারি না। আমি তোমার জন্যে প্রার্থনা করবো না।
তাঁর মৃত্যদণ্ডের দাবিতে ফেসবুকে একটি পেইজ খোলা হয়েছে। সেখানে ইতোমধ্যে সাড়ে ছাব্বিশ হাজার শান্তিকামী (peace fucker) মুসলিম এই দাবি সমর্থন করে অসংখ্য  লিখে চলেছে শান্তির বাণী। এই চুদির্ভাইয়েরা বোঝে না, ভালোবাসা জোর করে আদায় করা যায় না; সেটা অর্জন করে নিতে হয়।

একটা ভিডিওতে দেখুন, এক শেখ কাঁদতে কাঁদতে (আক্ষরিক অর্থেই) লেখকের মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছে।

বিজ্ঞান দুরূহ মনে হলে



এই ধরনের টি-শার্ট বিক্রিও হচ্ছে অনলাইনে: এক, দুই, তিন

বাইবেলীয় বল্দার্গু


লিখেছেন অশোভন 

ড: লরা শ্লেসেনগার (Laura Schlessinger) হলেন আমেরিকার একজন বেতার-ব্যক্তিত্ব। তাঁর শো-তে যাঁরা ফোন করেন, তিনি তাঁদের বিনি পয়সায় জ্ঞান বিতরণ করেন, মাঝেমধ্যে ধমক-ধামকও দেন। সম্প্রতি তিনি দাবি করেছেন যে Leviticus 18:22 অনুযায়ি একজন ছহি ইহুদির কাছে সমকামিতা হলো একটি ঘৃণ্য ও ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। 

প্রতিক্রিয়ায় জনৈক ব্যক্তি তাকে একটি চরম বিনোদনী খোলা চিঠি লেখেন এবং ইন্টারনেটেও পোস্ট করেন। আসুন চিঠিটি পড়া যাক:

প্রিয় ডঃ লরা,

সকলকে ঈশ্বরের আইন সম্বন্ধে অবহিত করার জন্য অশেষ ধন্যবাদ। আপনার শো থেকে আমি যারপরনাই জ্ঞান লাভ করে চলেছি এবং সেই অমূল্য জ্ঞান অন্যদের মধ্যে বিতরণ করতেও সর্বদা সচেষ্ট থাকি। কেউ সমকামিতাকে সমর্থন করলে Leviticus 18:22 আউড়ে আমি তাদের মুখ বন্ধ করে দিই। (বাইবেলের সব কথাই তো হুবহু মানা উচিত তাই না?)

কিন্ত বাইবেলের কিছু কিছু অনুশাসন নিয়ে একটু সমস্যায় পড়েছি। এগুলি কীভাবে পালন করা যায়, সে ব্যাপারে আপনার সুচিন্তিত মতামত জানালে বাধিত থাকবো।
১) উত্সর্গীকৃত ষাঁড়ের পোড়া গন্ধ প্রভুর নাসিকায় সুমিষ্ট লাগলেও (Lev. 1:9) আমার প্রতিবেশীরা ঝামেলা পাকায়। এই পাপিষ্ঠগুলোকে কচুকাটা করা যায় না?
২) আমার কন্যাটিকে ক্রীতদাসী করে বেচে দেওয়ার ইচ্ছে ছিল। Exodus 21:7 এ বলা আছে না? সঠিক বাজারদরটা আমার জানা নেই। আপনার জানা থাকলে জানাবেন।
৩) ঋতু চলাকালীন মহিলাদের ছোঁয়াচ বাঁচিয়ে চলা তো সবার কর্তব্য (Lev. 15:19-24), তাই না? কিন্তু কোনো মহিলা ঋতুমতী কি না জানার উপায় কী? জিগাইলে ওনারা আবার গোঁসা করেন যে!
৪) Lev. 25:44 অনুসারে যে কোনো প্রতিবেশী দেশ থেকে দাস-দাসী কেনা যেতে পারে।| কিন্তু আবার শুনতে পাই যে মেক্সিকো থেকে কেনা যেতে পারে কিন্তু কানাডা থেকে নয়।| বলি ব্যাপারডা কী? কেন আমি কানাডিয়ান ক্রীতদাস রাখার সুখ হইতে বঞ্চিত হবো?
৫) আমার প্রতিবেশী সাবাথ এর দিন বিশ্রাম না নিয়ে কাজ করেG Exodus 35:2 অনুসারে তার তো মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্য। তাকে নিজের হাতে সেই শাস্তি দেওয়া কি আমার কি নৈতিক দায়িত্ব নয়?
৬) আমার এক বন্ধুর মতে, শেল-ফিস (shellfish) খাওয়া যদিও ঘৃণ্য কাজ (Lev. 11:10), কিন্তু তা সমকামিতার থেকে ভালো। কিন্তু আমার তা মনে হয় না। আপনি ব্যাপারটার ফয়সালা করুন।
৭) Lev. 21:20 অনুযায়ী চোখে কোনো খুঁত থাকলে ঈশ্বরের বেদীর দিকে যাওয়া নিষেধ। আমি তো আবার চশমা পরি। ২০/২০ দৃষ্টিশক্তি না থাকলেই কি নয়? এইখানে গলে যাওয়ার জন্য আইনের কোনো ফাঁক নেই?
৮ ) Lev. 11:6-8 অনুযায়ী মৃত শুকরের চামড়া স্পর্শ করলে অপবিত্র হতে হয়। তাহলে কি সবার দস্তানা পরে ফুটবল (আমেরিকান) খেলা উচিত নয়?
৯) আমার কাকা একই জমিতে দুইরকম ফসল চাষ করে আর কাকি দুইরকম সুতোয় (সুতি ও পলিস্টার ) তৈরি জামাকাপড় পরে যা Lev. 19:19 মোতাবেক নিষিদ্ধ। এর ওপর তারা আবার শাপশাপান্ত ও করে। আমরা সবাই মিলে ওদের পাথর ছুড়ে (Lev.24:10-16) বা পুড়িয়ে মারতে পারি তো (Lev. 20:14)?
নিশ্চই আপনি এই বিষয়ে মহাজ্ঞানী এবং আমায় উপদেশ দানে বাধিত করবেন। ঈশ্বরের চিরন্তন বাণী আমাদের স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য আবারও আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ |

ইতি 
আপনার একনিষ্ঠ ভক্ত ...

ঈশ্বরের মেরিরমণ রহস্য



স্ত্রী-প্রহারের ইসলামী তরিকাগুচ্ছ


স্বামীকে স্ত্রী-প্রহারের অধিকার দেয়া কোরানের আয়াতটি নিয়ে ইসলামবিদরা বরাবরই নাজুক অবস্থায় থাকে। তাই নানাবিধ জবড়জং যুক্তি, কাঁচুমাঁচু কৈফিয়ত ও বিবমিষা-উদ্রেককারী বিশ্লেষণের আশ্রয় নিতে বাধ্য হয় তারা। ফলে একজন ইসলামবাজের বক্তব্যের সঙ্গে অন্য একজনের বক্তব্যের ব্যাপক বৈসাদৃশ্য হাস্যরসের অবতারণা করে শুধু।

আল্লাহর ভাষাজ্ঞান সম্পর্কে রীতিমতো সংশয় আমার মনে। তার মতো সর্বক্ষমতাবান ও সর্বজ্ঞের ভাষা ধোঁয়াটে বা বহু-অর্থবোধক হবে কেন? তার ব্যবহার করা শব্দ বা বাক্যের চোদ্দরকম অর্থ করার সুযোগ কেন থাকবে? স্পষ্ট ও নির্দিষ্টভাবে ভাবপ্রকাশের ক্ষমতা আল্লাহর নেই? বা ছিলো না? প্রকাশিত লেখার ভুল বা অস্পষ্টতা চোখে পড়লে তা এডিট করার সুযোগ তুচ্ছ ব্লগারেরও আছে, অথচ সর্বশক্তিমান আল্লাহ কেন তাঁর ক্ষমতা প্রয়োগ করছে না? নাকি এই সুযোগ থেকে সে বঞ্চিত?

এবার ইসলামে স্ত্রী-প্রহারের নিয়মাবলী সম্পর্কে নয়জন ইসলামবাজের নয়টি তরিকা জেনে নিন। 

তরিকা ১.
মুখে বা শরীরের অন্যান্য অনুভূতিপ্রবণ অঙ্গে প্রহার নিষেধ, রক্তপাত ঘটানো বা হাড় ভাঙা চলবে না, শরীরে যেন আঘাতের চিহ্ন না থাকে (পুলিশ-আর্মি এই পদ্ধতি ভালো জানে)। 

আবার বলা হচ্ছে, স্ত্রী আঘাতপ্রাপ্ত হলে নাকি স্বামীকে আল্লাহ শাস্তি দেবেন! হাহাহা...

চৌদি আজবে শিশুধর্ষণ ও সমকামিতা


নাউজুবিল্লাহ! আস্তাগফিরুল্লাহ! এইসব কী শুনলাম! নবীজির জন্ম যেই দেশে, যেই দেশ ইসলামের আঁতুরঘর, লক্ষ-লক্ষ মমিনের আরাধ্য তীর্থস্থান যেই দেশে, সেই চৌদি আজবে এইসব কী হইতেসে!

২০০৮ সালের ডিসেম্বর মাসে al-Hurra চ্যানেলে প্রচারিত Misawa নামের অনুষ্ঠান থেকে জানা যাচ্ছে, সেই দেশের প্রায় এক-চতুর্থাংশ শিশু ধর্ষণের স্বীকার হয় এবং ছাত্রদের মধ্যে শতকরা ৪৬ জন সমকামী।

ভিডিও ইংরেজি সাবটাইটেলসহ। সঙ্গে ট্র্যান্সক্রিপ্টও দেয়া হলো।

প্রার্থনার কার্যকারিতা



২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০১২

নবী মোর করুণাময়


লিখেছেন বরুণ দাস

নবী মোহাম্মদ তার মৃত্যুর পর তার স্ত্রীদের বিবাহ নিষিদ্ধ করেছিলেন। নিজে জীবিত থাকতে বহু নারীর সাথে থেকেছেন, অথচ তার মৃত্যুর পর তার স্ত্রীরা অন্য পুরুষের সাথে সংসার করবে এটা তার সহ্য হয়নি। এমন স্বার্থপর একজন নাকি আবার নারীদের অনেক সম্মান দিয়েছেন। তার এই নীতির ফলে তার কতজন স্ত্রীর কত বছর নিঃসঙ্গ থাকতে হয়েছে তার একটি তালিকা দেখুন:

সওদা: মৃত্যুবরণ করেন ৫৩ হিজরীতে। মানে ৪২ বছর সঙ্গীহীন কাটিয়েছেন।

আয়শা: ১১ হিজরীতে বয়স ১৬ বছর। মৃত্যুবরণ করেন ৫৮ হিজরীতে ৬৩ বছর বয়সে। মানে বিধবা অবস্থায় কাটান ৪৭ বছর।

হাফসা: ১১ হিজরীতে বয়স ২৭ বছর। মৃত্যবরণ করেন ৪৫ হিজরীতে ৬১ বছর বয়সে। মানে ৩৪ বছর বিধবা অবস্থায় কাটিয়েছেন।

সালমা: ১১ হিজরীতে বয়স ৩৫, মৃত্যুবরণ করেন ৬১ হিজরীতে ৮৫ বছর বয়সে। মানে বিধবা অবস্থায় সঙ্গীহীন কাটাতে হয়েছে ৫০ বছর।

যয়নব: ১১ হিজরীতে বয়স ৪০, মৃত্যুবরণ করেন ২০ হিজরীতে ৫০ বছর বয়সে। মানে সঙ্গীহীন থাকেন ১০ বছর।

জুহারিআ: ১১ হিজরীতে বয়স ২৬ বছর, মৃত্যুবরণ করেন ৫০ হিজরীতে ৬৫ বছর বয়সে। মানে বিধবা অবস্থায় কাটান ৩৯ বছর।

হাবিবা: ১১ হিজরীতে বয়স ৩৯ বছর। মৃত্যুবরণ করেন ৪৪ হিজরীতে ৭২ বছর বয়সে। মানে ৩৩ বছর সঙ্গীহীন কাটান।

সাফিয়া: ১১ হিজরীতে বয়স ২১ বছর। মৃত্যুবরণ করেন ৫০ হিজরীতে ৬০ বছর বয়সে। মানে বিধবা অবস্থায় কাটান ৩৯ বছর।

মায়মুনা: ১১ হিজরীতে বয়স ছিল ৪০ এবং ৮০ বছর বয়সে ৫১ হিজরীতে মারা যান, তার মানে বিধবা অবস্থায় ৪০ বছর একা কাটিয়েছেন।

চার্চ কেন ভ্রূণরক্ষার পক্ষে



ডাস্টির দুষ্টকথন


নাস্তিকদেরকে "শয়তানের পূজারি" বলে শান্তি পায় আস্তিকেরা। এটা বলার পেছনে তাদের না আছে কোনও যুক্তি (আস্তিকদের কাছে যুক্তি আশা করাটা কতোটা যুক্তিযুক্ত, সেটাও অবশ্য ভেবে দেখা দরকার), না আছে কোনও ভিত্তি (অবশ্য অন্যান্য বিশ্বাসের ভিত্তির প্রয়োজনীয়তাও তাদের নেই); অনেকটা ধর্মের সঙ্গে নাস্তিক্যবাদের বেকুবীয় তুলনার মতো। আমরা বিশ্বাস করি ঈশ্বরে, তোমরা - শয়তানে।

যারা ঈশ্বরের অস্তিত্বে বিশ্বাস করে না, তারা কোন যুক্তিতে শয়তানে (যে কি না সেই অস্ত্বিত্বহীন ঈশ্বরের সৃষ্টি) বিশ্বাস করবে, এবং তার পূজা করবে, যা কি না নাস্তিকদের স্বভাবেই নেই?

প্রিয় ইউটিউবার CultOfDusty এক কীর্তি করেছেন। বাইবেল ঘেঁটে বের করেছেন, কার্যত খ্রিষ্টানরাই শয়তানের পূজা করে। ভিডিও শেষ করলেন তিনি এই কথা বলে: 
The atheist community will like to invite all of you religious people over here to the side of reality. You have no idea how beautiful it feels to be free of this horseshit (bible)... reminding you that 
you really need this book (bible) of ancient fairy tales that teach you not to rape, you modern people, chances are youo're probably a giant piece of shit anyway. Seriously.
এঁকে পছন্দ না করে পারি!

প্রচারে বিঘ্ন – ২৫



নাস্তিক্যবাদ ধর্ম নয় কেন


লিখেছেন ধর্মপ্রাণ প্লেবয়

বহু মানুষের মতে নাস্তিকতা একটি ধর্ম। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ধার্মিকরা ধর্ম দ্বারা এতই প্রভাবিত যে, কোনোপ্রকার ধর্মবিশ্বাসহীন একজন মানুষ কল্পনা করা তাদের বোধশক্তির বাইরে। যারা নাস্তিক্যবাদকে ধর্ম বলে দাবী করে, তাদের নাস্তিক্যবাদ সম্পর্কে কোনো ধারণাই নেই এবং যখন ধর্মের সংজ্ঞা দ্বারা এটিকে সংজ্ঞায়িত করার চেষ্টা করা হয়, তখন সেটি একটি হাস্যকর চেষ্টা হয়ে দাঁড়ায়। 

নাস্তিক্যবাদ কোনো কাঠামোবদ্ধ বিষয় নয়। সাধারণভাবে বলা যায় স্রষ্টা, দেবতা বা অতিপ্রাকৃত কোনো কিছুতে অবিশ্বাসই নাস্তিক্যবাদ। নাস্তিক্যবাদ সব ক্ষেত্রে এক রকম নয় এবং এটা কোনো জীবনদর্শন ও নয়। কারো ইউনিকর্নে অবিশ্বাস যেমন জীবনদর্শন নয়, তেমনি স্রষ্টায় অবিশ্বাসও জীবনদর্শন হতে পারেনা। নাস্তিক্যবাদ আস্তিক্যবাদের মত কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়ম ও নির্দেশের সমাবেশ নয়। একজন নাস্তিকের দর্শন যে আঙ্গিকেই হোক না কেন, ঈশ্বরে অবিশ্বাস করলেই সে নাস্তিক্যবাদের আওতাভুক্ত। এটি আস্তিক্যবাদের মত প্রমাণ ছাড়া কিছু বিশ্বাস করতে বলে না, এখানে যে কোনো বিষয়ে প্রশ্ন করা যায়, প্রমাণ চাওয়া যায়। 

আস্তিক্যবাদ ও নাস্তিক্যবাদের মধ্যে কিছু তুলনামূলক বৈশিষ্ট্য ও পার্থক্যসমূহ:

১. আস্তিকরা স্রষ্টা/দেবতা ও অতিপ্রাকৃত বিষয় ও ঘটনাবলিতে বিশ্বাস করে, কিন্তু নাস্তিকরা এ ধরনের কোনো কিছুতে বিশ্বাস করে না। 

২. ধর্মগুলোয় কিছু অন্ধবিশ্বাসের বিষয় থাকে, যে-ব্যাপারগুলো সম্পর্কে প্রশ্ন করা নিষিদ্ধ, কিন্তু নাস্তিক্যবাদে এমন কোনো অন্ধবিশ্বাসের স্থান নেই। 

৩. ধর্মগুলোয় 'পবিত্র' ও 'অভিশপ্ত' এ দুই ভাগে বস্তুসমূহ ও প্রাণিজগৎকে ভাগ করা হয়, কিন্তু নাস্তিক্যবাদে এমন কিছু নেই। 

৪. ধর্মগুলোয় স্রষ্টার উদ্দেশ্যে নিত্যপালনীয় কিছু কাজ থাকে, যা নাস্তিক্যবাদে অনুপস্থিত। 

৫. নাস্তিকরা যৌক্তিক চিন্তা ও বৈজ্ঞানিক তথ্য দ্বারা ধর্মের অযৌক্তিক বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তা করতে ও তা তুলে ধরতে পারে, কিন্তু আস্তিকরা ঈশ্বরের অস্তিত্বের প্রমাণ খোঁজার ব্যর্থ চেষ্টায় প্রাণপাত করে থাকে। 

৬. আস্তিকরা বিশ্বাস করে, তাদের প্রধান কাজ - স্রষ্টার উপাসনা করা, কিন্তু নাস্তিকরা এ ধরনের বিশ্বাস থেকে মুক্ত। 

৭. আস্তিকরা অস্বাভাবিক ঘটনায় স্রষ্টার প্রভাব খুঁজে পায়, আর নাস্তিকরা খুঁজে পায় বাস্তব কারণ। 

৮. নাস্তিকরা আস্তিকদের মত কোনো বইকে ঈশ্বরপ্রদত্ত ও সম্পূর্ণ নির্ভুল দাবী করে না। 

৯. আস্তিকদের নির্দিষ্ট উপাসনার স্থান ও ধর্মীয় সঙ্গীত/প্রার্থনাবাণী থাকে, থাকে পবিত্র তীর্থস্থান, যা নাস্তিকদের জন্য অবান্তর। 

১০. আস্তিকদের নির্দিষ্ট ধর্মগুরু (পাদ্রী, ইমাম, পুরোহিত ইত্যাদি) থাকে। কিন্তু নাস্তিকদের এমন কেউ নেই, যার মত বা বাণী তাদের জন্য শিরোধার্য। অবশ্য যদি অন্যদের সাথে নিজমত বিনিময় করলে তাকে প্রচারক বলা হয়, তবে প্রত্যেক নাস্তিকই প্রচারক। কিন্তু প্রকৃত অর্থে তাদেরকে ধর্মপ্রচারকদের সাথে তুলনা করা যায় না। কারণ ধর্মপ্রচারকরা সুনির্দিষ্ট একটি মত প্রচার করে যেখানে ভিন্ন মতের কোন মূল্য নেই,কিন্তু নাস্তিকরা শুধুমাত্র নিজ মত অন্যদের সাথে বিনিময় করে, ধার্মিকদের মত অন্যের ওপর নির্দিষ্ট মত চাপিয়ে দেয় না। 

১১. আস্তিকদের বাধ্যতামূলকভাবে ধর্ম সম্পর্কিত কিছু অতিপ্রাকৃত ঘটনা বিশ্বাস করতে হয়, কিন্তু নাস্তিকদের এমন কিছু বিশ্বাস করতে হয় না। 

১২. আস্তিকরা তাদের কল্পিত স্রষ্টার সাথে যোগাযোগের জন্য বিভিন্ন রীতি-নীতি পালন করে, কিন্তু নাস্তিকরা যেহেতু স্রষ্টায় বিশ্বাসই করে না, সেহেতু এমন যোগাযোগের চেষ্টার প্রশ্নও নেই। 

১৩. নির্দিষ্ট ধর্মে সকল ভৌগোলিক অঞ্চলের জন্য একই এবং সুনির্দিষ্ট সংস্কৃতি পালন করতে বলা হয়। কিন্তু নাস্তিক্যবাদ ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকে গড়ে ওঠে এবং সে অঞ্চলের সভ্যতা ও সংস্কৃতিকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করে,ধর্মের মত একটি নির্দিষ্ট সংস্কৃতিকে সর্বজনীন বলে জোর করে চাপিয়ে দেয় না। 

সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে নাস্তিক্যবাদ ধর্মের সবকটি বৈশিষ্ট্যকে অমান্য করে। কাজেই নাস্তিক্যবাদকে কোনোভাবেই ধর্ম বলা যায় না। আস্তিক্যবাদ ও নাস্তিক্যবাদ সম্পূর্ণ ভিন্ন শ্রেণীর, ভিন্ন প্রকৃতির ও বস্তুত বিপরীতমুখী। নাস্তিক্যবাদ হল একটি নির্দিষ্ট বিষয়কে (স্রষ্টা ও অতিপ্রাকৃত বিষয়) অবিশ্বাস, যেখানে আস্তিক্যবাদ হল কিছু রীতিনীতি, প্রাচীন কিছু ঘটনাবলির কাল্পনিক রূপ ও ঈশ্বরবিশ্বাসের সংমিশ্রণ। এদের মধ্যে সামান্যতম মিলও নেই। প্রকৃতপক্ষে আস্তিকদের অজ্ঞতা ও ধর্ম বিষয়ে ধারণার অভাবই নাস্তিক্যবাদকে ধর্ম হিসাবে দাবী করার কারণ। 

(পাঠকদের কেউ ধর্মের সঙ্গে নাস্তিক্যবাদের আমূল পার্থক্য বিষয়ে আরও কিছু যুক্তির অবতারণা করতে পারলে সেসবও এই পোস্টে সংযোজন করা হবে)

প্রাসঙ্গিক আরেকটি পোস্ট। 

যার যেমন বোমা



২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০১২

ঈশ্বরের অস্তিত্বহীনতার প্রমাণ


ঈশ্বর নেই, সেটা প্রমাণ করে দেখান দেখি! ঈশ্বরের অস্তিত্ব প্রমাণ করতে নিদারুণভাবে অক্ষম আস্তিকেরা অসহায় হয় এমন কুযুক্তির আশ্রয় নেয়। যদিও কেউ কিছু দাবি করলে সেটা প্রমাণের দায় দাবিদারের ওপরেই বর্তায়।

দেখিয়া শুনিয়া ক্ষেপিয়া গিয়া ইউটিউবে নাস্তিক্যবাদী হট চিক হিসেবে পরিচিত ক্রিস্টি (রুমানিয়ার মেয়ে) উদ্যোগ নিয়েছেন ঈশ্বরের অস্তিত্বহীনতা প্রমাণের উদ্যোগ নিয়েছেন। এবং তিনি সফলও বটে।

পোপ এলো টোপ নিয়ে, পালাই, পালাই...



রহমতুল্লিল আলামীন


লিখেছেন তামান্না ঝুমু

হে রহমতুল্লিল আলামীন prophet,
আপনি সত্যিই greatest of the great.
বুড়ো বয়েসে আপনাকে ধরেছিল ভীমরতি,
মিটাইতে আপনার কুরতি
আল্লার দোহায় দিয়ে অবুঝ শিশুকে করেছিলেন rape.
মরুভূমির বালুতে পেতেছিলেন
নিজের মনগড়া নষ্টামির trap.
দেড় হাজার বছর পরেও
পৃথিবী হতে মুছে যায়নি
আপনার সেই কুকীর্তির প্রলেপ।

নিজের বানোয়াট বুলিতে করেছিলেন shout,
ধোঁকাবাজিতে মানুষকে বানিয়েছিলেন বোকা
সেই ব্যাপারে নেই কোন doubt.
অলৌকিকের দোহায় দিয়ে
লুটতরাজের বাণিজ্য পেতেছিলেন চমৎকার।
লোভ আর ভোগের তাড়নায় তাড়িত হয়ে
অগণিত বিবি, গনিমত ও দাসী সম্ভোগ করেও
কুরিপু মেটেনি আপনার।
জীবন সায়াহ্নেও আরো ভোগের জন্য করেছেন
করেছেন শিৎকার।

আপনার কৃত কুকর্মের
জন্য, মানবজাতির কাছ থেকে
সমবেত ঘৃণা আর ধিক্কার
ছাড়া আর কী-ই বা আছে আপনার পাবার?

আপনিই মহাপয়গাম্বার.
নবী মানেই cheater.
মহাপয়গাম্বর মানে cheatest of the cheater.
এই কথা আজি বাকী নেই জানার
যে, আপনিই কোরানের author.

হারাম-হালাল


এঁকেছেন ইঁদুর


খ্রিষ্টান-তাবলিগ



২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০১২

ধর্মের মধ্যে বিজ্ঞান থাকলেই কি ঈশ্বরের অস্তিত্ব প্রমাণিত হয়?


লিখেছেন জুপিটার জয়প্রকাশ 

আসুন এইবারে তালগাচ কেটে ফেলি।

ধর্মের মধ্যে বিজ্ঞান নিয়ে এখন দুনিয়া গরম। ফল কিন্তু ভালই। ধর্মের মধ্যে বিজ্ঞান বেশ কিছু আছে। তবুও যে প্রশ্নটা থেকে যায় তা হল সেই বিজ্ঞানগুলি কি মানুষের গবেষণার ফল? নাকি অলৌকিক কোনো উৎস থেকে আসা? এটা বুঝতে গেলে যেসব তথ্য ধর্মে পাওয়া যায় সেগুলোকে নেড়েচেড়ে দেখতে হবে যে তাতে ভুল কিছু আছে কি না। ভুল থাকলে বোঝা যাবে যে সেটি কোনো “সর্বজ্ঞ” কারো কাছ থেকে আসেনি।

সেই সঙ্গে এটাও পরিষ্কার যে, কোনো ধর্ম যদি প্রমাণ চাওয়াকে অন্যায় বলে দাবী করে, প্রমাণ না থাকা তত্বকে চরম সত্য বলে প্রচার করে তাহলে তাকে এক কথায় অবৈজ্ঞানিক বলে দেওয়া যায়। বিজ্ঞানেও কিছু তত্ত্ব আছে যেগুলি নিঃসংশয়ে প্রমাণিত নয়। কিন্তু সেগুলিকে কোনো বিজ্ঞানী কখনোই চরম সত্য বলে দাবী করেন না। সেগুলি বিনা প্রশ্নে মেনে না নিলে শাস্তি দেবার ভয়ও দেখান না। এমনকি যেসব তত্ত্ব প্রমাণিত হয়েই গেছে, সেগুলি যাচাই করাও বিজ্ঞানে অন্যায় বলে ধরা হয় না। যে ধর্মে এই গুণগুলি নাই তাকে বৈজ্ঞানিক ধর্ম বলা যায় না।

দুনিয়ার প্রধান চারটা ধর্ম থেকে হিন্দুধর্মকেই পেলাম যেটার মধ্যে ভিন্ন মত প্রচার করার অনুমতি আছে। ঈশ্বরের অস্তিত্বে বিশ্বাস করার পরেও তাকে উপাসনা না করার অধিকার আছে। এমনকি ঈশ্বরে বিশ্বাস করার আগে প্রমাণ চাইবার অধিকার আছে। সেইটার মধ্যে বিজ্ঞান খুঁজতে গিয়ে দেখি সাংঘাতিক সব কাণ্ড। সবচেয়ে মারাত্মক ব্যাপার হল, বায়ুপুরাণ বইটাতে দেখলাম পরমাণুর সাইজ বলা আছে। সেই বিবরণ অনুসারে পরমাণুর ব্যাস মোটামুটি 7 x 10^-9 মিটার বা 70 Angstrom. এখনকার পরিমাপ অনুসারে পরমানুর গড় ব্যাস মোটামুটি হয় 1.8 Angstrom সেই সময়ের হিসাবে বিরাট গবেষণা বলতে হবে। মাপে ভুল থাকা এটাই বোঝায় যে এই তথ্য কোনো সর্বজ্ঞের কাছ থেকে আসেনি। মানুষের গণনাতেই বের হয়েছে। গণনায় ভুল থাকাটা বড় কথা নয়, বড় কথা হল তাঁরা গাঞ্জা টেনে বসে ছিলেন না। যথেষ্ট ভালোই হিসাব একটা করেছিলেন।

এমন বৈজ্ঞানিক জ্ঞান দেখে বইটি নিয়ে আরো খবর নিলাম। দেখা গেল সম্রাট হর্ষবর্ধনের জীবনীকে (হর্ষচরিত)  লেখক নিজেই বায়ুপুরাণ এর সঙ্গে তুলনা করেছেন। হর্ষচরিত একটি মূল্যবান ইতিহাস বলেই বর্তমান যুগের ঐতিহাসিকেরা মনে করেন। অন্য সব শাস্ত্রের মধ্যে থেকে এটার কথা বলার পিছনে এটা অন্যতম কারণ। 

বইটির মধ্যে আরো একটা জিনিস পাওয়া গেল যা বৈজ্ঞানিক ছাড়া অন্যদের মাথায় আসার কথা না। 
সুতরাং ঈশ্বরদের আচরণে দোষ দেখা গেলেও তার যুক্তিযুক্ত বিচার করা ঠিক না। ......... পরীক্ষা না করে গ্রহণ, বিপর্যয় করে গ্রহণ, পূর্বশ্রুতিতে দৃঢ় বিশ্বাস, ও লৌকিক প্রবাদ ইত্যাদি কারণে জনগণ প্রকৃত তত্ব জানতে পারে না। আগে এক প্রকার বিশ্বাস করে, কালান্তরে সেই বিষয় অন্য প্রকার হতে দেখে দ্বেষবশে তা গ্রহণ করতে পারে না।
কী কী কারণে মানুষ সত্য গ্রহণ করে না তা বলা হয়েছে। সেই সাথে পরিষ্কার ভাবে ঈশ্বরদের বৈজ্ঞানিক বিচারের বাইরে রাখা হয়েছে এবং এটাও বলা হচ্ছে যে ঈশ্বর একাধিক। (৬৬ অধ্যায়)

এবারে আরো কিছু নমুনা দেখাই।

স্বর্গলিক্স: নাস্তিক আসিফের ফেসবুক কর্মকাণ্ড - ০১


বানিয়েছেন আসিফ মহিউদ্দীন


বাঙালি মুসলমানের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট: একটি গবেষণা


লিখেছেন শুভজিৎ ভৌমিক (ভৌমিক দা) 

আসিফ মহিউদ্দীন ভাইয়ের এই পোস্টে অমিয় উজ্জ্বল একটি মন্তব্য করেছিলেন, মন্তব্যটা পরে ধর্মকারী ব্লগে আলাদা পোস্ট হিসেবে দেয়া হয়। সেখানে আমরা দেখেছিলাম:

আসলে বাঙালি মুসলমানের মন বড় অদ্ভুত। সে একই সাথে অনেক কিছু চায়। 
  • সে লিবারেলিজম চায়, আবার ইসলামও চায়। 
  • সে ইংরেজি চায়, আবার মাদ্রাসাও চায়। 
  • নারী চায়, হেজাবও চায়। 
  • সুদ চায়, আবার ইসলামিক ব্যাংকিং চায়।
  • ঘুষ চায়, হজ্ব চায়। 
  • গীতবিতান, আমপারা, কোরান শরীফ, হারমোনিয়াম সবই তার ড্রইংরুমে চায়। 
  • তরুণী-মুখো পাখাওয়ালা বোরাক, কাবাঘর, তীরবিদ্ধ দুলদুল, শাহরুখ, মাধুরী, সালমান শাহ সব ছবিরই তার কাছে সমান কদর। 
  • মক্কা চায়, মুম্বাইও চায়। 
  • পিস টিভি চায়, স্টার প্লাস চায়, এইচবিও-ও চায়। 
  • লাদেনকে বাহবা দেয়, গাদ্দাফিকে বাঘের বাচ্চা বলে, তবে পাত্র খোঁজে আমেরিকান গ্রীনকার্ডধারী। 
  • “দেশি মডেল” “হটি জোকস” পেইজে লাইক দেয় আবার “ইসলামিক লাইফ” পেইজেও লাইক দেয়। 
  • ১৮ প্লাস পোস্ট এবং নবীজির স্মৃতি বিজড়িত স্থান সমূহের ছবি সম্বলিত পোস্ট দুটোতেই সমান হুমড়ি খায়। 
তো এই পোস্টের মতই ফেসবুকে আরও কিছু পোস্ট এসেছে। বাঙালি মুসলমানের মন বিশ্লেষণ করতে গেলে আসলে খুব বেশি কিছুর দরকার পড়বে না আপনার, শুধু নিচের পোস্টগুলো একটু সময় নিয়ে পড়তে হবে। 


ধর্মকারীর পোস্টটিতে পাঠকদের কাছ থেকে আরও কিছু উদাহরণ আহবান করা হয়েছিলো। সেখানে অবর্ণন রাইমস বলেছিলেন:
শোকেসে কোরান উন্মুক্ত, আর বালিশের নিচে রসময় গুপ্ত। 
এই লেখার সূচনা এই লাইনটা থেকেই হচ্ছে। 

নির্ভীক নাস্তিক স্কুলবালিকা


স্কুলে ঝুলন্ত সংবিধানবিরুদ্ধ প্রার্থনাবোর্ড সরানোর দাবিতে আদালতের আশ্রয় নিয়ে সফলকাম হয়ে বিশ্বাসবাজদের ঘৃণা অর্জন করতে পেরেছে আমেরিকার এক নাস্তিক স্কুলবালিকা। তাকে মৃত্যুহুমকিও দেয়া হয়েছে। অথচ দৃঢ়চেতা, নির্ভীক এই খুদে বালিকা যেভাবে এসবের মুখোমুখি হয়েছে এবং হচ্ছে, তা রীতিমতো মুগ্ধতাজাগানিয়া ও অনুকরণীয়। 

সিএনএন-এ প্রচারিত হয়েছে এই evil little thing-এর সাক্ষাৎকার। 

পিস টিভি ও তার দর্শকেরা



ইসলাম নারীকে দিয়েছে সর্বোচ্চ সুরক্ষা



২২ ফেব্রুয়ারী, ২০১২

বাইবেলীয় বিবাহের বিবিধ বিভ্রাট


বাইবেলের (Leviticus) বিধান অনুসরণ করে বিয়ে করার উদ্যোগ নিলে ব্যাপারটা কেমন হতে পারতো, দেখুন চার মিনিটের হাহাপগে ভিডিওতে। 

কৃষ্ণের খোমাখাতা


ছবিতে ক্লিক করে পূর্ণাকারে দেখুন

নবী মোর চোষণকারী


Muhammad sucks! আক্ষরিক অর্থেও!

ইসলামের নারীবাজ ও শিশুকামী পয়গম্বরের আরও একটি কাহিনী শুনুন। তিনি বালক-বালিকাদের জিভ লেহন করতেন। অবিশ্বাস্য? নাস্তিকদের অপপ্রচার? জ্বী না, মমিন ভাইয়েরা। হাদিসসহ কমপক্ষে কুড়িটি ইসলামী সূত্র থেকে এই তথ্য আহরিত। 

স্লাইড শো দেখুন অথবা পিডিএফ (৫.৭৩ মেগাবাইট) ডাউনলোড করে নিন। মূল আরবি ভার্শন এবং প্রয়োজনীয় সূত্র উল্লেখ করা আছে। 

মিতকথন


লিখেছেন মাওলানা দুরের পাখি

একটি দম্ভপূর্ণ, রুঢ় এবং হামবড়া বিবৃতি: এই সুবিশাল মহাবিশ্বের একটি অত্যন্ত সাধারণ কোণায় একটা সাদামাটা সৌরজগতে কোন এক চান্সে কাদাপানি থেকে পাওয়া জীবনের অতিধীর অতি অগোছালো কিছু উন্নয়নের মধ্য দিয়ে স্রেফ ভাগ্যের জোরে এই জীবন। আমাদের জ্ঞান আর সামর্থ্যের সীমা এত ছোট যে, এখনো জানি না আমরা কেন এইখানে, কীভাবে এলাম, এই ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন মাইলব্যাপী মহাবিশ্বই বা কীভাবে এলো। আমাদের ছাড়াও এই সবকিছু কোটি কোটি বছর ধরে ছিলো। আমাদের তুচ্ছ জীবন শেষ হওয়ারও কোটি কোটি বছর পর পর্যন্ত সব এইভাবেই থাকবে।

একটি বিনয়পূর্ণ, নিরহংকার এবং মাটির মানুষীয় বিবৃতি: এই ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন মাইলব্যাপী মহাবিশ্ব আর তার ভিতরের ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন নক্ষত্র, গ্রহ , গ্যাস যা কিছু আছে, তার সবই আমাদের জন্য তৈরী। এই সুবিশাল মহাবিশ্ব এবং আরো অনেক কিছু যিনি কেবল উচ্চারণের মাধ্যমে নিমিষেই তৈরী করে ফেলতে পারেন, সেই অকল্পনীয় শক্তিশালী সৃষ্টিকর্তা ব্যক্তিগতভাবে আমাদের একেকজনের প্রাত্যাহিক কার্যাবলীর হিসাব রাখেন। পেটের কষা থেকে শুরু করে বিবাহ, সন্তান এই সমস্ত যাবতীয় ঘটনায় তিনি ব্যক্তিগতভাবে আমাদের প্রত্যেকের বরাদ্দ পর্যালোচনা করেন। এমনকি তিনি আমার আবেদনের প্রেক্ষিতে তার নিজস্ব মতামত পরিবর্তন পরিমার্জন করে আমার চাওয়া অনুযায়ী জিনিস আমাকে দান করেন। এই পৃথিবী , গ্রহ-নক্ষত্র সব ধ্বংস হয়ে যাবে, কিন্তু আমি আমার শরীর সহ অনন্তকাল ধরে থাকবো, খাবো দাবো, অসংখ্য অনিন্দ্য সুন্দরীর সাথে লাগাবো আর লাগাবো। যারা আমার মতের বিরুদ্ধে বলে, তাদেরকে সৃষ্টিকর্তা ব্যক্তিউদ্যোগে অনন্তকাল ধরে আগুনে পোড়াবেন, ছুরিতে কাটবেন আর আমি স্বর্গ থেকে সেসব দেখে দেখে হাসবো।


লিখেছেন শুভজিৎ ভৌমিক (ভৌমিক দা)

ঘটনা ১: হারিকেন-কুপিবাত্তি দিয়া গানের শিল্পী খোঁজার প্রতিভা অন্বেষণ অনুষ্ঠান। গান গাওয়া শেষে প্রতিযোগী বলছেন, "প্লিজ প্লিজ প্লিজ আমার জন্য ভোট করুন।" গান কেমন লাগলো সেটা ফ্যাক্টর না, ভোট দেয়াটাই ফ্যাক্টর। এই ভোটের চোটে অতি অখাদ্য শিল্পীও এক পর্যায়ে হয়ে ওঠে জনপ্রিয় শিল্পী। আর শিল্প পচতে থাকতে ভাগাড়ে, অন্ধকার ঘরের কোণায়। 

ঘটনা ২: ফেসবুকের জনপ্রিয় একটি পেইজ। পেইজ অ্যাডমিন পোস্ট দেয়া শেষে নিচে লিখে দেন, "আপনারা লাইক বাটনে কোপ দেন। মজা লাগলে লাইক দিতে ভুলবেন না, শেয়ার করুন যতখুশি।" ফেসবুক জুড়ে শুরু হয়েছে লাইকের ব্যবসা। গুণগত মান কার কেমন, সেটা ফ্যাক্টর না, যে পোস্টে যত বেশি লাইক, সেই পোস্ট তত হিট পোস্ট। লাইকের চোটে আগু, মাগু, কাগু, ছাগু জাতীয় ফালতু পেইজও হয়ে ওঠে জনপ্রিয়। আর ভালো পেইজগুলোর অ্যাডমিন হতাশায় অ্যাকটিভিটি কমিয়ে দেন, বা বন্ধ করে দেন তার পেইজ। 

ঘটনা ৩: গায়িকা ইভা রহমান গান গাইতে উঠেছেন স্টেজে। উঠেই সবাইকে বলছেন, "হাত তালি দেন, নাহলে গান গাইবো না।" পাবলিকের করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে স্টেডিয়াম। তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলে বেসুরো গলায় গাইতে থাকেন টাকার কুমিরের প্রাক্তন শালী, বর্তমান স্ত্রী। 

ঘটনা ৪: আস্তিক-নাস্তিক ক্যাচাল। আস্তিক চিল্লাইতে চিল্লাতে গলা ফাটায়ে ফেলছে যে, তার পালিত ধর্মকে নাস্তিকের সম্মান দিতেই হবে, সকলের চিন্তাধারার প্রতি নাকি সম্মান রাখাটা কর্তব্য। সকল ধর্মকে সম্মান দিতে গিয়ে আমরা "সম্মান" নামক শব্দটারই অসম্মান করতে থাকি, আর ধার্মিকেরা কুড়িয়ে পাওয়া সম্মান পকেটে ভরতে ভরতে আলহামদুলিল্লাহ বলেন। . . . হে মহান ঈশ্বর! এরা জানে না যে, এরা কী করছে। এরা জানে না যে, হাততালি, লাইক, সম্মান... এগুলো চেয়ে চেয়ে পাওয়া যায় না, নিজগুণে অর্জন করে নিতে হয়। হে মহান ঈশ্বর! এদের ক্ষমা করো, এদের জ্ঞান দাও !

শস্যক্ষেত্রের পরিচর্যা



আবালীয় "পুণ্যকর্ম"


ইহুদি-খ্রিষ্ট-ইসলাম ধর্মে নবী হিসেবে স্বীকৃত ইব্রাহিম নামের এক আবালের কারণে পৃথিবীতে দু'টি ধর্মীয় বর্বরতা পুণ্যকর্ম হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে আজও অব্দি: কোরবানি ও খতনা। এই শালা ছিলো, অন্য যে কোনও নবী-রসুলের মতোই, হয় মানসিকবিকারগ্রস্ত, নয়তো ধুরন্ধর ভণ্ড।

ইব্রাহিম-পচান্তিস আড়াই মিনিটের মজাদার ভিডিও দেখুন। ইউটিউবে এ ভিডিওর নিচে করা একটি মন্তব্য বেজায় পছন্দ হলো: 
Crazy people in the ancient world who heard voices = prophets
Crazy people today who hear voices = people that you avoid sitting next to on the bus

যৌনইঙ্গিতবাহী চার্চ সাইন - ০৪


না, উদ্দেশ্যমূলকভাবে যৌনইঙ্গিত এসবে দেয়া হয়নি। তবে তা খুঁজে পাওয়া দুঃসাধ্য নয় একেবারেই। সর্বমোট চারখানা ছবি।

১.

২.

ইসলামী ইতরামি: উপলক্ষ - একুশে


মডারেট মুসলিম ভাইদের অবস্থান কী এই বিষয়ে, জানতে মঞ্চায়।


টাঙ্গাইল, ফেব্রুয়ারি ২১ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- টাঙ্গাইলের সখিপুরে ‘নারায়ে তাকবির’ স্লোগান তুলে এক দল লোক একুশের অনুষ্ঠানে হামলা চালিয়েছে। 

ভাষা শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে সখীপুর উপজেলা পরিষদ সন্ধ্যায় ডাক বাংলো চত্বরে অনুষ্ঠান আয়োজন করেছিল। 

মাগরিবের নামাজের পর সন্ধ্যা ৭টার দিকে নৃত্য প্রতিযোগিতা চলার সময় অনুষ্ঠানে হামলা হয়। 

অনুষ্ঠান আয়োজনে গঠিত কমিটির সাংস্কৃতিক উপকমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক আলীম মাহমুদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “নারায়ে তাকবির ধ্বনি তুলে ৩০-৪০ জন অতর্কিত হামলা করে। তারা অনুষ্ঠানস্থলের চেয়ার, মাইক ও সাউন্ড বক্স ভাংচুর করে।” 

ভাষা শহীদ দিবস উপলক্ষে ডাকবাংলো চত্বরে আলোচনা, কবিতা আবৃত্তি, গান ও নাচের প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। মঙ্গলবার ছিল অনুষ্ঠানের প্রথম দিন। 

উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শওকত শিকদার বলেন, অনুষ্ঠানে হামলার ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনকে আইনগত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

সখীপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, এই ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক জন জানিয়েছেন, মাগরিবের নামাজের সময় অনুষ্ঠানস্থলের মাইকে গান বাজছিল। এতে কাছের জামে মসজিদে নামাজে সমস্যা হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে একদল মুসল্লি উত্তেজিত হয়ে নামাজ শেষে অনুষ্ঠানে হামলা চালায়। 

বরগুনায় শহীদ মিনার ভাংচুর 

একুশে ফেব্রুয়ারিতে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পাথরঘাটায় একটি মাদ্রাসায় নির্মিত শহীদ মিনার ভেঙে ফেলা হয়েছে। 

স্থানীয় যুবকদের উদ্যোগে পাথরঘাটা আদর্শ দাখিল মাদ্রাসা মাঠে সোমবার শহীদ মিনারটি নির্মিত হয়। ভেঙে ফেলার পর পুলিশের উদ্যোগে পুনর্নির্মাণ করে তাতে একুশের প্রথম প্রহরে ফুল দেওয়া হয়েছে। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদ্রাসার সুপার স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী শাহাদাত হোসেন শহীদ মিনারটি ভেঙে ফেলেন। 

তবে শাহাদাত সাংবাদিকদের বলেছেন, শহীদ মিনার নির্মাণের সময় তিনি নিষেধ করলেও ভাঙার সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

পাথরঘাটা থানার ওসি উজ্জল কুমার দে জানান, রাত ১১টার দিকে অস্থায়ী শহীদ মিনারটি ভেঙে ফেলা হলেও সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ গিয়ে তা পুনর্নির্মাণ করে। 

একুশের প্রথম প্রহরে ওই শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়, বলেন তিনি।

২১ ফেব্রুয়ারী, ২০১২

স্বপ্নভঙ্গ



জাতক নং ২৭৩ — কচ্ছপ-জাতক


বৌদ্ধধর্ম নিয়ে বেহুদা রোমান্টিকতাক্রান্তদের জন্য অবশ্যপাঠ্য। 

লিখেছেন কৌস্তুভ

জাতকের ৫৪৭টি কাহিনীর মধ্যে এই একটি কাহিনী বিশেষ ‘সম্মানের’ অধিকারী। অনুবাদকালে এই একটিমাত্র গল্প ঈশানচন্দ্র (১৯২৩) বাংলার বদলে অনুবাদ করেছেন সংস্কৃতে। E. B. Cowell (১৮৯৫) জাতকের ইংরাজি অনুবাদের সময় এই একটিমাত্র কাহিনী অনুবাদ করেছেন ল্যাটিনে । ঘটনা কী? সবাই এই কাহিনীটিকে এড়িয়ে যাচ্ছেন কেন?

কারণ, আপনারা যা অনুমান করতে পারছেন তাই-ই – এই গল্পটি কিঞ্চিৎ আদিরসাত্মক। আবার ঠিক প্রচলিত অর্থের আদিরসও নয়, তবে ‘নটি’ বলা চলে নিঃসন্দেহে।

(সম্ভবত) এটি ইংরিজিতে সর্বপ্রথম অনুবাদ করেন John Garrett Jones, তাঁর জাতকের উপর Tales and Teachings of the Buddha বইটি লিখতে গিয়ে। সম্প্রতি আরেকজন ইন্টারনেটচারী বৌদ্ধ ভিক্ষু জোনসের অনুবাদের কথা না জেনে এটি তাঁর ব্লগে অনুবাদ করেছিলেন। এক হিসাবে, সেটি হয়ত ইন্টারনেটে প্রাপ্য এই কাহিনীর একমাত্র ইংরাজি অনুবাদ।

এই ইন্টারেস্টিং, মজাদার, বিনোদনী ও দুষ্টু গল্পখানা – যা আবারও প্রমাণ করে, কোনো ধর্মই বলদার্গু-মুক্ত নয় – বাঙালি পাঠকের অধরা থেকে যাবে, এটা ভাবতে খারাপ লাগল। ঈশানচন্দ্রের সময় অধিকাংশ উচ্চশিক্ষিত বাঙালিই সংস্কৃত জানতেন, তাই নাবালকের অবোধ্য কিন্তু প্রাপ্তবয়স্কের বোধ্য সংস্কৃতে গল্পটি রেখে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু সংস্কৃতের সেই সুদিন আর নেই কিনা। তবে আমি পালি-অজ্ঞ, তাই ওই দুটি ইংরাজি অনুবাদ আর সংস্কৃত অনুবাদটি মিলিয়ে এই কাহিনীর সম্ভবত প্রথম বাংলা অনুবাদটি খাড়া করলাম (অনুবাদের নিচে গল্পের বিশদ ব্যাখ্যা পাবেন)।

ভগবানেশ্বরাল্লাহ ও দেবতা-দেবীরা


মানবমস্তিষ্ক হাজার হাজার ভগবানেশ্বরাল্লাহ ও দেবতা-দেবীর জন্ম দিয়েছে। এর পরেও সুস্থ চিন্তাক্ষম কেউ নির্দিষ্ট কোনও একটির ওপরে বিশ্বাস স্থাপন করে কিসের ভিত্তিতে, জানতে বড়ো সাধ হয়। 

মানবজাতির ইতিহাসে পরিচিতি পাওয়া তেমন কয়েকজনকে নিয়ে চার মিনিটের ভিডিও। তবে আরও বিশদ তালিকা দেখতে এখানে ক্লিক করুন। 

লাভ অ্যাট হজ্ব


পাঠিয়েছেন থাবা বাবা


ঈশ্বর নেই, ওয়াইফাই আছে




খাঁটি খ্রিষ্টান ও তথাকথিতরা


ব্রিটেনে যারা নিজেদেরকে খ্রিষ্টান বলে পরিচয় দেয়, তারা আসলে কতোটা খ্রিষ্টান? এ বিষয়ে রিচার্ড ডকিন্স ফাউন্ডেশনের করা জরিপ ও গবেষণার কৌতূহলোদ্দীপক ফলাফল জানাচ্ছেন রিচার্ড ডকিন্স নিজে। 

২০ ফেব্রুয়ারী, ২০১২

নাস্তিক হস্ত



লিংকিন পার্ক - ৪০


১.
ভেড়ার পাল আছে বলেই মেষপালকেরাও আছে। ভারতের মন্দিরে এক বছরে ভক্তদের দান ৩৬ কেজি সোনা ও, ৪০১ কোটি রুপি!

২.
ইতালীয় সরকার ভ্যাটিকানের বাণিজ্যিক সম্পত্তির ওপরে ট্যাক্স বসানোর পরিকল্পনা করছে। করাই উচিত। ধর্মের নামে এমনিতেই তারা করমুক্ত ডলার কামাচ্ছে বিলিয়ন-বিলিয়ন, তাই বলে ব্যবসা করেও ট্যাক্স দেবে না, সে কেমন কথা! 

৩.

৪.
এমন ঘটনা ঘটানো নাস্তিকদের পক্ষে বাই ডিফল্ট সম্ভব নয়। এক খ্রিষ্টান ধর্মযাজক ও তার স্ত্রী তাদের তিন সন্তানকে দিনের পর দিন অভুক্ত রেখেছে এবং পিটিয়েছে বেল্ট দিয়ে। এটা ছিলো সন্তানদের ভেতরে গেঁড়ে বসা অশুভ শক্তি দূর করার পদ্ধতি। এক সময় তিনজনই মারা যায়। 

৫. 
২০ বছর আগে ইছলামীদের মৃত্যুর হুমকি উপেক্ষা করে অলিম্পিকে অংশ নিয়ে আলজেরীয় এই নারী স্বর্ণপদক অর্জন করেছিলেন।

৬. 
মডেলিং কি ইছলামসম্মত? পৃথিবীর প্রথম হালাল মডেল এজেন্সি খোলা হয়েছে নিউ ইয়র্কে।

৭. 
ধর্ম সব সময়ই প্রগতিবিরোধী। বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রায় বাধা সৃষ্টিতে তা অপ্রতিদ্বন্দ্বী। যুগে যুগে ধর্মের হাতে নিগৃহীত হয়েছে প্রগতিবাদীরা, বিজ্ঞানীরা। এমন একজনের কাহিনী: এক মহান নাস্তিকের মৃত্যু দিবসে।

৮. 
চিকিৎসা ও ওষুধগ্রহণের ফলস্বরূপ রোগমুক্তি ঘটলেও আস্তিকেরা ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানায়। যেন, ঈশ্বর চেয়েছে বলেই আরোগ্যলাভ সম্ভব হয়েছে। প্রশ্ন জাগে, তা-ই যদি হবে, তাহলে চিকিৎসা ও ওষুধের ঝামেলা ও খরচে যাওয়ার প্রয়োজন কী! বিনামূল্যের প্রার্থনাপদ্ধতিতেই তো কাজ হবার কথা। ঈশ্বর যদি আপনাকে ভালোইবাসে, তাহলে ওষুধ খাওয়া কেন নামের একটি নিবন্ধ।

কার্টুন ও বাস্তবতা




তোমায় হেরি যথাতথা


আল্যাফাকের অস্তিত্বের জুতসই প্রমাণ না থাকায় আস্তিকেরা আরবিতে খোদাই করা তার নাম খুঁজে পায় ইতিউতি, স্থানে-অস্থানে, পাত্রে-অপাত্রে। ইস্ক্রা রহমান এমন একটি 'প্রমাণের' ছবি ও তাতে নাস্তিকদের কিছু মন্তব্যের স্ক্রিনশট (মনে হচ্ছে, বলা উচিত ছিলো 'ইস্ক্রিনশট' ) পাঠিয়েছেন। 

একটি শিশুর কানের অস্বাভাবিকত্বকে মমিন ভাই-বোনেরা নিশ্চয়ই আল্যা প্রেরিত ইঙ্গিত বলে ধরে নিয়ে উল্লসিত হয়ে তার বন্দনায় মশগুল হয়ে উঠেছে অন্য কোনও লিংকে। তবে বর্তমান ছবিতে Masoom Sarkar-এর হাহাপগে মন্তব্যটি দ্রষ্টব্য। 


মজার ব্যাপার হচ্ছে এই যে, নিজস্ব মতবাদের সমর্থনসূচক ইঙ্গিত নাস্তিকেরাও পেয়ে থাকে। একেবারেই ক্ল্যাসিক এক ভিডিওতে দেখুন, এক নাস্তিক একটা তরমুজ কেটে... না, বাকিটা বলবো না। শুধু জানিয়ে রাখি: মাত্র দু'মিনিটের পরম পচান্তিস ভিডিও। রিপোস্ট।

সরল সমীকরণ



১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০১২

হিজাবরঙ্গ



নিচের ছবিটি পাঠিয়েছেন থাবা বাবা


সৃষ্টিরহস্য: ধর্মীয় ছাইভস্ম


এ বিশ্বচরাচর ও মানবজাতির উৎপত্তি বিষয়ে বাইবেল আর কোরানের বিশদ বর্ণনায় পার্থক্য থাকলেও মূল ভাবধারাটি অভিন্ন। এবং সেটা হলো এরকম: আল্যাফাকে কইলো 'কুন', অমনি সব হইয়া গেল। 

সংক্ষেপে এইটারেই কয় সৃষ্টিতত্ত্ববাদ। এর মানে ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, ভুগোল, বায়োলজি, অ্যাস্ট্রোনমি সব বাদ! এইসব পড়লে হুদাই টাইম লস!

সৃষ্টিতত্ত্ববাদ-পচানি আরও একখান ভিডিও। চার মিনিটের। 

তোমরা যা বলো তাই বলো, আমার লাগে না মনে...


বাইবেলের জায়গায় যে কোনও ঐশী কিতাব বসিয়ে দিন, ফলাফল একই হবে...


ঈশ্বর শয়তান ভালোবাসা


- ভালোবাসে।
- বাসে না।
- বাসে।
- বললাম তো, বাসে না! - বলে শয়তান জিভ বের করে ভ্যাংচালো ঈশ্বরকে।
- তোমার এমন ধারণার কারণ? - ঈশ্বর জানতে চাইলো। - কেন তোমার মনে হয়, জোভ আমাকে ভালোবাসে না? সে তো বিধান মেনেই জীবনযাপন করছে, পাপকর্ম থেকে দূরে রেখেছে নিজেকে। আমার প্রতি কোনও অভিযোগও নেই তার।
শয়তান হেসে বললো:
- অভিযোগ সে করবেই বা কেন! তার আছে সাত হাজার ভেড়া, উট প্রায় হাজার তিনেক, আরও আছে অসংখ্য গরু, গাধা... তুমি নিজেই ভেবে দ্যাখো, অভিযোগ করার কোনও কারণ তার আছে কি?

কোনও যুক্তি দেখাতে পারলো না ঈশ্বর।
- আমার সামনে থেকে দূর হও তো, শয়তান! - ঈশ্বর বললো চিৎকার করে।
- হবো না! তুমি তো স্পষ্টই জানো, আমি সত্যি কথা বলেছি।
- ঠিক আছে, মেনে নিচ্ছি। - বললো ঈশ্বর। - তাহলে এখন দ্যাখো!
জোভের সমস্ত সম্পদ ঈশ্বর পুড়িয়ে ফেললো।

তবু কোনও অভিযোগ করলো না জোভ। শুধু বললো:
- ঈশ্বর দিয়েছিল, ঈশ্বরই নিয়ে গেছে।
লজ্জায় পড়ে গেলে শয়তান, বললো:
- তুমি জিতেছো। আমার কাছে তোমার পাওনা রইলো।
- না, তুমি আরও দ্যাখো। - বললো উৎফুল্ল ঈশ্বর।
তারপর হত্যা করলো জোভের পরিবারের সবাইকে।
- ঈশ্বর দিয়েছিল, ঈশ্বরই নিয়ে গেছে, - বললো ঈশ্বরঅন্তপ্রাণ জোভ।
- আরও দ্যাখো, - বলে ঈশ্বর সম্ভাব্য সমস্ত রোগে আক্রান্ত করলো জোভকে।

- যথেষ্ট হয়েছে, থামো, - ঝরঝর করে কেঁদে ফেললো শয়তান। - তোমাকে সে ভালোবাসে। সত্যিই ভালোবাসে, কারণ সে নির্বোধ।

(বিদেশী গল্প অবলম্বনে)

ধর্ম মানেই... - ০১


দাঁড়িপাল্লা'র উদ্যোগে নতুন উদ্যোগে একটি নতুন সিরিজ চালু করা হলো। এই সিরিজে যে কেউ অবদান রাখতে পারেন পোস্টার-কার্টুন-লেখা পাঠিয়ে। 

আজকের পোস্টারটি উদ্যোক্তারই বানানো।


Born to Fuck


ঐশী কিতাবের বিধান অমান্য করে জীবনকে নানাভাবে উপভোগ করেও যারা প্রিয় গ্রন্থ হিসেবে উল্লেখ করে কোরান-বাইবেলের নাম, তাদের ভণ্ডামি প্রশ্নাতীত। 

এ বিষয়ে CultOfDusty-র একাধারে যুক্তিযুক্ত ও অতীব উপভোগ্য বক্তব্য শুনুন। ভিডিওর নাম: born to fuck  

একটি ছাগলের রচনা (উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণীর জন্য প্রযোজ্য)


লিখেছেন Mockerof Islam 

ছাগল মূলত একটি চতুষ্পদ প্রাণী। কারণ দিনে অন্তত ৫ বার এদেরকে চার পা/হাতের উপর ভর করে উপুড় হয়ে থাকতে দেখা যায়। বাকী সময় এরা মনুষ্য প্রজাতির অনুকরণে দুই পায়ের উপর ভর করে চলাফেরার চেষ্টা করে, বিশেষতঃ স্ত্রী লিঙ্গের মনুষ্য প্রজাতির গতিবিধি পর্যবেক্ষণকালে। পুরুষ ছাগলের মাথার লোম এবং দাড়ি সাধারণত মেহেদী রঙের হয়। স্ত্রী ছাগলেরা জন্মের পর বিভিন্ন আকর্ষণীয় রংবিশিষ্ট হয়ে থাকে কিন্তু বয়স ৮ বছর হলে এদের শরীরের সমস্ত লোম পুরুষ ছাগলের সবল উপস্থিতির কারণে কাল রং ধারন করে।

পুরুষ ছাগলের মাথায় বয়োসন্ধির পরপরই একজোড়া শিং গজায় যার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় তারা মনুষ্য প্রজাতির আচরণ পছন্দ না হলেই যত্রতত্র গুঁতানো শুরু করে। এই হিংস্র স্বভাব লুকানোর জন্যে তারা সাধারণত সাদা রঙের এক টুকরো গোলাকার কাপড় মাথায় দিয়ে শিং ঢেকে রাখার চেষ্টা করে। বিশেষ প্রজাতির কিছু জংলী ছাগলের পায়ে ক্ষুরের মতন ধারাল খুর থাকে যা ব্যবহার করে এরা নিরীহ মনুষ্য প্রজাতির হাত ও পায়ের রগ কেটে থাকে। 

সকল প্রজাতির ছাগলের পশ্চাৎ দেশে ছোট আকৃতির লেজ দেখা যায় যেটা তারা লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করে তবে মনুষ্য প্রজাতির মুখোমুখি হলে শেষ পর্যন্ত তার প্রকৃত পরিচয় বেরিয়ে পড়ে। অবশ্য অবস্থা বেগতিক দেখলে এরা কুকুরের মত পায়ের আড়ালে লেজ গুটিয়ে পালিয়ে যায়। তালগাছের ছায়া এদের বিশেষ প্রিয়, চ্যালেঞ্জ-এর মুখোমুখি হলেই এরা তালগাছ আঁকড়ে পড়ে থাকে। 

ছাগল সাধারনত সামনে যা পায় তা-ই খায়, বিশেষ করে মোড়কে যদি 'হালাল' শব্দটি লেখা থাকে, তা স্বজাতির মাংসই হোক আর সাবানই হোক। তবে ছাগলের প্রিয় খাদ্য হল কাঠাল পাতা এবং ডিমসেদ্ধ। বছরের একটি বিশেষ মাসে ছাগলেরা দিনের বেলা খাদ্য গ্রহণ করে না, অন্যকে খেতে দেখলেও তেঁড়ে গুতা মারতে আসে। কিন্তু সূর্য ডোবার পর তারা সারা দিনের উপোস গাদা গাদা খোরমা-খেজুর ও ছোলা খাওয়ার মাধ্যমে পুষিয়ে দেয়। এই মাসে পাড়ার মাঠে, আস্তাবলে বড় দাড়িওয়ালা রাম-ছাগলদের নিয়মিত উপস্থিতিতে ছাগলের জীবনাচরণ সম্পর্কে অনেক কিছু জানা যায় বলে এই মাসকে 'রাম-জান' বলা হয়। 

এই রাম-জান মাস ছাড়া সারা বছর জুড়েই ছাগলের প্রজনন মৌসুম চলে। একটি পুরুষ ছাগল একসাথে ৪ টি মাদি ছাগলকে মিলনসঙ্গী হিসাবে গ্রহণ করে থাকে তবে তাতে তাদের ক্ষুধা মেটে না। সেই কারণে স্ত্রী লিঙ্গের মনুষ্য প্রজাতিকে মানসিকভাবে বলাৎকার করার জন্যে তারা প্রতিটি মূহুর্ত গোপনে লালায়িত হয়ে থাকে এবং ছাগলাঙ্গের আকস্মিক বিস্তার ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে তাদেরকে কালো কাপড়ে সারা শরীর ঢেকে চলাফেরার জন্যে অন্যায় আবদার ধরে থাকে। কিন্তু তাদের খোয়াড়ের কোনো মাদি ছাগল অন্য কোন খোয়াড়ের পুরুষ ছাগলের সাথে একটি লোম বিনিময় করলেও তারা জোট বেঁধে দু'জনকেই খুঁটিতে বেধে লাদি নিক্ষেপ করে হত্যা করে থাকে। একে পশুবিজ্ঞানীরা 'অজ-অনার' বা সংক্ষেপে 'জানোয়ার কিলিং' বলে থাকেন। 

পুরুষ ছাগল সাধারণত ছানার জন্যে সংরক্ষিত স্ত্রী ছাগলের সব দুধ খেয়ে ফেলে, সেই কারণে সব ছাগলের ছানা তাদের বাপের থেকে আরো কম বুদ্ধি নিয়ে বড় হয়। ছাগলের যৌনক্রিয়াকে 'ছহবত' (ছাগলের হোগায় বীর্যপাতের তরিকা) বলা হয়ে থাকে। প্রতিটি মাদি ছাগল বছরে একটি করে ছাগল ছানার জন্ম দিয়ে থাকে তবে অন্তত একটি পুরুষ ছাগল ছানার জন্ম না দেয়া পর্যন্ত তারা বিয়োতেই থাকে। 

অপাত্রে কৃতিত্ব


পাঠিয়েছেন Fallen Angel

ডাক্তাররা ঘণ্টার পর ঘণ্টা এত কষ্ট করে চিকিৎসা করে আর মানুষ ধন্যবাদ দেয় আল্যাফাককে...