২০ ডিসেম্বর, ২০১২

কুরানে বিগ্যান (পর্ব- ২০): অবিশ্বাসী পরহেযগার ও স্বেচ্ছাচারীর স্বেচ্ছাচার তত্ত্ব


লিখেছেন গোলাপ

পর্ব ১ > পর্ব ২ > পর্ব ৩ > পর্ব ৪ > পর্ব ৫ > পর্ব ৬ > পর্ব ৭ > পর্ব ৮ > পর্ব ৯ > পর্ব ১০ > পর্ব ১১ > পর্ব ১২ > পর্ব ১৩ > পর্ব ১৪ > পর্ব ১৫ > পর্ব ১৬ > পর্ব ১৭ > পর্ব ১৮ > পর্ব ১৯

সংকলিত কুরানের বোধগম্য সর্বপ্রথম বাণী ‘এ সেই কিতাব যাতে কোনই সন্দেহ নেই’ দাবীটির যে আদৌ কোনো ভিত্তি নেই, তার বিশদ আলোচনা আগের তিনটি পর্বে করা হয়েছে। সেই একই বাক্যের পরবর্তী অংশ এবং তার পরের তিনটি বাক্যে স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)আরও দাবী করেছেন:
এ সেই কিতাব যাতে কোনই সন্দেহ নেই। পথ প্রদর্শনকারী পরহেযগারদের জন্য,  যারা অদেখা বিষয়ের উপর বিশ্বাস স্থাপন করে এবং নামায প্রতিষ্ঠা করে। আর আমি তাদেরকে যে রুযী দান করেছি তা থেকে ব্যয় করে এবং যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে সেসব বিষয়ের উপর যা কিছু তোমার প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে এবং সেসব বিষয়ের উপর যা তোমার পূর্ববর্তীদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে। আর আখেরাতকে যারা নিশ্চিত বলে বিশ্বাস করে। তারাই নিজেদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে সুপথ প্রাপ্ত, আর তারাই যথার্থ সফলকাম (২:২-৫)"
অর্থাৎ, যারা মুহাম্মদ ও তার বাণীকে বিশ্বাস করে তার আদেশ-নিষেধ পালন করবে, তারাই হলেন পরহেযগার! আর, শুধু পরহেযগারদের জন্যই এই কিতাবটি 'পথ প্রদর্শনকারী'। কিন্তু যারা অবিশ্বাসী, তাদের জন্য কী? কীভাবেই বা তাঁরা অবিশ্বাসী হলেন? তাদের অবিশ্বাসের পেছনে প্রকৃতপক্ষে দায়ী কে?  অবিশ্বাসীরা এই কিতাবটি থেকে কী আশা করতে পারেন? আর কারাই বা এই 'বিশ্বাসী পরহেজগার'? কীভাবেই বা তারা বিশ্বাসী হলেন? এ সকল নানা প্রশ্নের জবাব আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) তার কল্পিত সৃষ্টিকর্তার (আল্লাহ) উদ্ধৃতি দিয়ে সমগ্র মানুষকুলকে অবহিত করেছেন। এ বিষয়ে তার দাবীর সার সংক্ষেপ:
১) শয়তানের যাবতীয় কর্মকাণ্ডের পেছনের মদদদাতা “স্বয়ং আল্লাহ”!২) আল্লাহর অনুমতি ছাড়া শয়তানের "কিচ্ছু" করার ক্ষমতা নেই!
৩) “স্বয়ং আল্লাহই” অবিশ্বাসীদেরকে বিপথগামী ও পথভ্রষ্ট করেন!
৪) নিশ্চয়ই আল্লাহ অবিশ্বাসীদের সৎপথ প্রদর্শন করেন না!৫) আল্লাহ “যাকে ইচ্ছা” সরল পথে চালান।
৬) আল্লাহ “যাকে ইচ্ছা” পথভ্রষ্ট করেন!৭) আল্লাহ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন, যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেন!৮) বিপথগামী করেন "যিনি", শাস্তিও দেবেন "তিনিই"!৯) আল্লাহর "ইচ্ছা নয়" যে, সবাই সুপথ প্রাপ্ত হোক! কারণ?
১০) কারণ, “তিনি” জিন ও মানবকে দিয়ে অবশ্যই জাহান্নাম পূর্ণ করবেন।
মুহাম্মদ তাঁর জবানবন্দীতে বার বার ঘোষণা করেছেন যে, মানুষের অবিশ্বাসের পেছনে আল্লাহরই ইচ্ছা জড়িত। অর্থাৎ, মানুষকে বিভ্রান্ত করার পেছনে প্রকৃতপক্ষে যে সত্ত্বাটি দায়ী, তিনি হলেন স্বয়ং আল্লাহ! শয়তানের কোনোই শক্তি নেই মানুষকে বিভ্রান্ত করার!

এখন প্রতিটি পয়েন্ট বিশ্লেষণ করা যাক।

১) শয়তানের যাবতীয় কর্মকাণ্ডের পেছনের মদদদাতা “স্বয়ং আল্লাহ”!

মুহাম্মদের ভাষায়: 
১৯:৮৩ - আপনি কি লক্ষ্য করেননি যে, আমি কাফেরদের উপর শয়তানদেরকে ছেড়ে দিয়েছি। তারা তাদেরকে বিশেষভাবে (মন্দকর্মে) উৎসাহিত করে।
৪১:২৫ - আমি তাদের পেছনে সঙ্গী লাগিয়ে দিয়েছিলাম, অতঃপর সঙ্গীরা তাদের অগ্র-পশ্চাতের আমল তাদের দৃষ্টিতে শোভনীয় করে দিয়েছিল। তাদের ব্যাপারেও শাস্তির আদেশ বাস্তবায়িত হল, যা বাস্তবায়িত হয়েছিল তাদের পূর্ববতী জিন ও মানুষের ব্যাপারে। নিশ্চয় তারা ক্ষতিগ্রস্ত।
৪৩:৩৬
- যে ব্যক্তি দয়াময় আল্লাহর স্মরণ থেকে চোখ ফিরিয়ে নেয়, আমি তার জন্যে এক শয়তান নিয়োজিত করে দেই, অতঃপর সে-ই হয় তার সঙ্গী।
২) আল্লাহর অনুমতি ছাড়া শয়তানের "কিচ্ছু" করার ক্ষমতা নেই!
৫৮:১০ - এই কানাঘুষা তো শয়তানের কাজ; মুমিনদেরকে দুঃখ দেয়ার জন্যে। তবে আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত সে তাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না। মুমিনদের উচিত আল্লাহর উপর ভরসা করা
>>> শয়তানের যাবতীয় অপকর্মের পেছনে যে সৃষ্টিকর্তাই দায়ী, তা কি জগতের কোনো সুস্থ চিন্তার মানুষ কখনো কল্পনা করতে পারেন? এমত দাবীদার ও তার দাবীকে বিশ্বাস করে জগতের কোনো বিবেকবান মানুষই কি হুকুম পালনকারী শয়তানকে ঘৃণিত-অভিশপ্ত এবং তার গডফাদার আল্লাহকে নিষ্পাপ-পুত-পবিত্র জ্ঞান করতে পারেন? এহেন উদ্ভট দাবীকে বৈধতা দিতে নিবেদিতপ্রাণ ইসলাম বিশ্বাসীরা যখন এর চেয়েও বেশী উদ্ভট কু-যুক্তির অবতারণা করেন, তখন আবারও প্রমাণ হয় যে, বিশ্বাস মানুষের স্বাভাবিক বিচার-বুদ্ধি-বিশ্লেষণ ক্ষমতা অবশ করে দেয়।

৩) “স্বয়ং আল্লাহই” অবিশ্বাসীদেরকে বিপথগামী ও পথভ্রষ্ট করেন!  

মুহাম্মদ আরও ঘোষণা দিয়েছেন: 
৪:৮৮ - অত:পর তোমাদের কি হল যে, মুনাফিকদের সম্পর্কে তোমরা দু’দল হয়ে গেলে? অথচ আল্লাহ্ তা’আলা তাদেরকে ঘুরিয়ে দিয়েছেন তাদের মন্দ কাজের কারনে! তোমরা কি তাদেরকে পথ প্রদর্শন করতে চাও, যাদেরকে আল্লাহ্ পথভ্রষ্ট করেছেন? আল্লাহ্ যাকে পথভ্রান্ত করেন, তুমি তার জন্য কোন পথ পাবে না|
৭:১৮৬ - আল্লাহ্ যাকে পথভ্রষ্ট করেন| তার কোন পথপ্রদর্শক নেই| আর আল্লাহ্ তাদেরকে তাদের দুষ্টামীতে মত্ত অবস্তায় ছেড়ে দিয়ে রাখেন|
১৬:৩৭ - আপনি তাদেরকে সুপথে আনতে আগ্রহী হলেও আল্লাহ যাকে বিপথগামী করেন তিনি তাকে পথ দেখান না এবং তাদের কোন সাহায্যকারী ও নেই।
৩০:২৯
- বরং যারা যে-ইনসাফ, তারা অজ্ঞানতাবশতঃ তাদের খেয়াল-খূশীর অনুসরণ করে থাকে। অতএব, আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তাকে কে বোঝাবে? তাদের কোন সাহায্যকারী নেই।  
অনুরূপ বাণী:  ২:২৬, ৪:১১৫, ১৪:২৭, ৩০:২৯, ৪০:৩৩, ৪২:৪৪, ৪২:৪৬, ইত্যাদি।

৪) “নিশ্চয়ই আল্লাহ” অবিশ্বাসীদের সৎপথ প্রদর্শন করেন না!

প্রবক্তা মুহাম্মদ ঘোষণা দিয়েছেন:
:৬৭ - হে রসূল, পৌছে দিন আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে| আর যদি আপনি এরূপ না করেন, তবে আপনি তাঁর পয়গাম কিছুই পৌছালেন না| আল্লাহ আপনাকে মানুষের কাছ থেকে রক্ষা করবেন| নিশ্চয় আল্লাহ্ কাফেরদেরকে পথ প্রদর্শন করেন না|  
:১৪৪--- অতএব সে ব্যক্তি অপেক্ষা বেশী অত্যচারী কে, যে আল্লাহ্ সম্পর্কে মিথ্যা ধারণা পোষন করে যাতে করে মানুষকে বিনা প্রমাণে পথভ্রষ্ট করতে পারে? নিশ্চয় আল্লাহ্ অত্যাচারী সম্প্রদায়কে পথপ্রদর্শন করেন না|
৬১: - যে ব্যক্তি ইসলামের দিকে আহুত হয়েও আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা বলে; তার চাইতে অধিক যালেম আর কে? আল্লাহ যালেম সম্প্রদায়কে পথ প্রদর্শন করেন না।
 
অনুরূপ বাণী:  ২:২৫৮, ২:২৬৪, ৭:১৪৬, ২৮:৫০, ইত্যাদি।  

ইসলামী পরিভাষা
ইসলামকে সঠিকভাবে বুঝতে হলে ইসলামী পরিভাষা সঠিকভাবে আয়ত্ত করতেই হবে। তা না হলে সুবিধাবাদী ইসলামীস্টদের কুরান-হাদিসের উদ্ধৃতিতে বিভ্রান্ত হওয়ার গ্যারান্টি শতভাগ! "অত্যাচারী, জালেম, পথভ্রষ্ট, বিপথগামী, অসৎ, অভিশপ্ত, অনাচারী, অন্যায়কারী, সীমা লঙ্ঘনকারী, নির্বোধ, মূর্খ, মিথ্যাবাদী, মূক ও বধির" ইত্যাদি যাবতীয় বিশেষণের অর্থ (Meaning) সাধারণ জ্ঞান ও সর্বসম্মত পরিভাষায় যা সর্বজনবিদিত, ইসলামী পরিভাষায় তার অর্থ সম্পূর্ন ভিন্ন! শুধু অমুসলিমরাই নয়, কুরান-সীরাত-হাদিসে অনভিজ্ঞ সাধারণ মুসলিমরা ও এ সকল ইসলামী পরিভাষার কারসাজী খুব সামান্যই অবগত। তারা পদে পদে বিভ্রান্ত হন ইসলামী পরিভাষার এ সকল মারপ্যাঁচে! ইসলামী পণ্ডিতরা সাফল্যের সঙ্গে এ সকল প্রচলিত শব্দ-মালার ‘যেখানে যেমন - সেখানে তেমন’ ব্যাখ্যা হাজির করে অমুসলিম ও সাধারণ মুসলমানদের বিভ্রান্ত করে আসছেন শতাব্দীর পর শতাব্দী!

মুহাম্মদের দাবী, 'তিনি বিশ্ব-স্রষ্টার মনোনীত শেষ নবী! তাঁর দাবী, তিনি যা বলেন, তা বিশ্বস্রষ্টারই বাণী। ইসলামের প্রাথমিক সংজ্ঞা অনুযায়ী - পৃথিবীর সকল মানুষেরই অবশ্য কর্তব্য হলো মুহাম্মদের (আল্লাহ) বশ্যতা স্বীকার করে শুধু তারই হুকুম-আদেশ-নিষেধ তামিল করা! যে ব্যক্তি বা গোষ্ঠী মুহাম্মদের জবানবন্দীর (কুরান) যে কোনো "একটি" দাবী-আদেশ-নিষেধকে অস্বীকার করবেন, অবাধ্য হবেন, প্রশ্ন তুলবেন, প্রতিরোধ করবেন, জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে তাদেরকেই ওপরোক্ত বিশেষণে আখ্যায়িত করা ইসলামী বিধান। তাঁরাই হলেন "সেই" কাফের, অবিশ্বাসী, অত্যাচারী, জালেম, পথভ্রষ্ট, বিপথগামী, অসৎ, অভিশপ্ত, অনাচারী, অন্যায়কারী, সীমা লঙ্ঘনকারী, নির্বোধ, মূর্খ, মিথ্যাবাদী, মূক ও বধির সম্প্রদায়! বিভ্রান্ত হতে না চাইলে ইসলামের যে কোনো আলোচনায় ইসলামী পরিভাষার এই “প্রাথমিক পাঠ" পাঠকদের সর্বদাই সর্বান্তকরণে মনে রাখার অনুরোধ করছি। পৃথিবীর সকল অবিশ্বাসীদের "শায়েস্তা" করার পূর্ণ ইসলামী তরিকা ('হুমকি-শাসানী, ভীতি-অসম্মান, দোষারোপ, ত্রাস-হত্যা-হামলা ও সম্পর্কচ্ছেদের আদেশ) মুহাম্মদের ব্যক্তি-মানস-জবানী গ্রন্থের পাতায় পাতায় বর্ণিত আছে!  

৫) আল্লাহ “যাকে ইচ্ছা” সরল পথে চালান!

সংকলিত কুরানের সর্বপ্রথম বোধগম্য বাক্যের দ্বিতীয় অংশে মুহাম্মদ (আল্লাহ) দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা দিচ্ছেন যে, এই কিতাব "শুধু" পরহেযগারদের জন্যই পথ-প্রদর্শক। কারা এই পরহেযগার? কী যোগ্যতায় তারা 'পরহেযগার' হলেন? মহানবী মুহাম্মদের ঘোষণা, এই পরহেযগারদের "নিযুক্ত করেছেন" স্বয়ং আল্লাহ। কিসের ভিত্তিতে? "ইচ্ছার" ভিত্তিতে! আল্লাহর ইচ্ছা!
:১৪২-এখন নির্বোধেরা বলবে, কিসে মুসলমানদের ফিরিয়ে দিল তাদের কেবলা থেকে, যার উপর তারা ছিল? আপনি বলুন: পূর্ব পশ্চিম আল্লাহ্রইতিনি যাকে ইচ্ছা সরল পথে চালান|:৪৯ -তুমি কি তাদেকে দেখনি, যারা নিজেদেরকে পূত-পবিত্র বলে থাকে অথচ পবিত্র করেন আল্লাহ্ যাকে ইচ্ছা তাকেই?  বস্তুত: তাদের উপর সুতা পরিমাণ অন্যায়ও হবে না|২২:১৬ - এমনিভাবে আমি সুস্পষ্ট আয়াত রূপে কোরআন নাযিল করেছি এবং আল্লাহ- যাকে ইচ্ছা হেদায়েত করেন।  
৬) আল্লাহ “যাকে ইচ্ছা” পথভ্রষ্ট করেন!
:৩৯-যারা আমার নিদর্শনসমূহকে মিথ্যা বলে, তারা অন্ধকারের মধ্যে মূক বধিরআল্লাহ্ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা সরল পথে পরিচালিত করেন|
১৪: - আমি সব পয়গম্বরকেই তাদের স্বজাতির ভাষাভাষী করেই প্রেরণ করেছি, যাতে তাদেরকে পরিষ্কার বোঝাতে পারে। অতঃপর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা, পথঃভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা সৎপথ প্রদর্শন করেন।৩৫: - যাকে মন্দকর্ম শোভনীয় করে দেখানো হয়, সে তাকে উত্তম মনে করে, সে কি সমান যে মন্দকে মন্দ মনে করে। নিশ্চয় আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচছা সৎপথ প্রদর্শন করেন। সুতরাং আপনি তাদের জন্যে অনুতাপ করে নিজেকে ধ্বংস করবেন না। নিশ্চয়ই আল্লাহ জানেন তারা যা করে।
 
অনুরূপ বাণী: ২:১০৫, ২: ২১৩, ২:২৭২, ৬:৮৮, ৬:১২৫, ৭:১৭৮,   ১০:১০০,  ১৬:৯৩, ১৭:৯৭১৮:১৭, ২৮:৫৬, ৩৯:২৩, ৩৯:৩৬-৩৭, ইত্যাদি।

৭) আল্লাহ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন, যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেন!

শুধু কি তাই? মুহাম্মদ ঘোষণা দিয়েছেন যে, তার আল্লাহ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন, যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেন।
৫:৪০-তুমি কি জান না যে আল্লাহর নিমিত্তেই নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের আধিপত্য| তিনি যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেন এবং যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন| আল্লাহ্ সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান|
১৭:৫৪ - তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের সম্পর্কে ভালভাবে জ্ঞাত আছেন। তিনি যদি চান, তোমাদের প্রতি রহমত করবেন কিংবা যদি চান, তোমাদের আযাব দিবেন। আমি আপনাকে ওদের সবার তত্ত্বাবধায়ক রূপে প্রেরণ করিনি।
২৯:২১
- তিনি যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেন এবং যার প্রতি ইচ্ছা রহমত করেন। তাঁরই দিকে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।
অনুরূপ বাণী:  ২:২৮৪, ৩:১২৮-১২৯, ৫:১৮, ইত্যাদি।

৮) আল্লাহর "ইচ্ছা নয়" যে সবাই সুপথ প্রাপ্ত হোক!
৬:১০৭ - যদি আল্লাহ্ চাইতেন তবে তারা শেরক করত না| আমি আপনাকে তাদের সংরক্ষক করিনি এবং আপনি তাদের কার্যনির্বাহী নন|  ৬:১১২ -এমনিভাবে আমি প্রত্যেক নবীর জন্যে শত্রু করেছি শয়তান, মানব ও জিনকে| তারা ধোঁকা দেয়ার জন্যে একে অপরকে কারুকার্যখচিত কথাবার্তা শিক্ষা দেয়| যদি আপনার পালনকর্তা চাইতেন, তবে তারা এ কাজ করত না|
১০:৯৯ - আর তোমার পরওয়ারদেগার যদি চাইতেন, তবে পৃথিবীর বুকে যারা রয়েছে, তাদের সবাই ঈমান নিয়ে আসতে সমবেতভাবে। তুমি কি মানুষের উপর জবরদস্তী করবে ঈমান আনার জন্য?
৭৪:৫৫-৫৬
- অতএব, যার ইচ্ছা, সে একে স্মরণ করুক। তারা স্মরণ করবে না, কিন্তু যদি আল্লাহ চান। তিনিই ভয়ের যোগ্য এবং ক্ষমার অধিকারী।
অনুরূপ বানী:  ৬:৩৫, ৬:১৩৭, ১৬:৯ ইত্যাদি।

>>> পাঠক, মনোযোগের সঙ্গে খেয়াল করুন! এ সমস্ত বাণী মক্কায় মুহাম্মদের। “আপনাকে তাদের সংরক্ষক করিনি” (৬:১০৭), “তুমি কি মানুষের উপর জবরদস্তী করবে ঈমান আনার জন্য?” (১০:৯৯), “যার ইচ্ছা, সে একে স্মরণ করুক (৭৪:৫৫) - ইত্যাদি আপাত সহনশীল বাণীগুলো "মক্কায়" মুহাম্মদের। যখন তার কোনো শক্তিই ছিল না অবিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার। "মদিনায়" শক্তিমান মুহাম্মদের বাণী সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির। অবিশ্বাসীদের ওপর তাঁর কল্পিত আল্লাহর 'গজব' তিনি দুনিয়াতেই প্রতিষ্ঠা করেছিলেন!

৯) বিপথগামী করেন "যিনি", শাস্তিও দেবেন "তিনিই"!

মুহাম্মদ ঘোষণা করছেন যে, তাঁর আল্লাহ ইচ্ছা করলেই সবাইকে বিশ্বাসী বানাতে পারতেন! সবাই হত সরল পথপ্রাপ্ত। কিন্তু সে ইচ্ছা তিনি করেন না। কেন? কারণ, তিনি অবিশ্বাসীদের ‘শাস্তি’ দিতে চান।  তিনি জ্বিন ও মানব সকলকে দিয়ে অবশ্যই জাহান্নাম পূর্ণ করবেন!
:৪৯-আর আমি আদেশ করছি যে, আপনি তাদের পারýপরিক ব্যাপারাদিতে আল্লাহ্ যা নাযিল করেছেন তদনুযায়ী ফয়সালা করুন; তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করবেন না এবং তাদের থেকে সতর্ক থাকুন-যেন তারা আপনাকে এমন কোন নির্দেশ থেকে বিচ্যুত না করে, যা আল্লাহ্ আপনার প্রতি নাযিল করেছেন| অনন্তর যদি তার মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে জেনে নিন, আল্লাহ তাদেরকে তাদের গোনাহের কিছু শাস্তি দিতেই চেয়েছেন| মানুষের মধ্যে অনেকেই নাফরমান|
 ২২:১৮ - -- আবার অনেকের  উপর  অবধারিত হয়েছে শাস্তি।  আল্লাহ যাকে ইচ্ছা লাঞ্ছিত করেন, তাকে কেউ সম্মান দিতে পারে না।  আল্লাহ যা ইচ্ছা তাই করেন।
১০) আল্লাহ দৃঢ় প্রতিজ্ঞ-“তিনি” জিন ও মানবকে দিয়ে অবশ্যই জাহান্নাম পূর্ণ করবেন
৩২:১৩-১৪ - আমি ইচ্ছা করলে প্রত্যেককে সঠিক দিক নির্দেশ দিতাম; কিন্তু আমার এ উক্তি অবধারিত সত্য যে, আমি জিন ও মানব সকলকে দিয়ে অবশ্যই জাহান্নাম পূর্ণ করব। অতএব এ দিবসকে ভূলে যাওয়ার কারণে তোমরা মজা আস্বাদন কর। ---
>>> সুতরাং, সংকলিত কুরানের প্রথম বোধগম্য বাক্যটির পরবর্তী অংশের পর্যালোচনায় আমরা জানছি,  এই পরহেজগাররা হলেন আল্লাহর “বিশেষ অনুগ্রহপ্রাপ্ত”! আর অবিশ্বাসীরা হলেন আল্লাহর “বিশেষ অভিশপ্ত।" আল্লাহ এই অভিশপ্ত অবিশ্বাসীদের শুধু যে পথ প্রদর্শন করেন না, তা-ই শুধু নয়; তিনি বিরোধীপক্ষকে শায়েস্তা করার মানসে কুচক্রী মানুষের মত তাদের পেছনে "শয়তান" নিযুক্ত করেন! একনায়ক স্বেচ্ছাচারী মানুষের মত যাকে ইচ্ছা অনুগ্রহ করেন, যাকে ইচ্ছা করেন অনুগ্রহবঞ্চিত/অভিশপ্ত! যাকে ইচ্ছা বিশ্বাসী বানান, যাকে ইচ্ছা বানান অবিশ্বাসী। যাকে ইচ্ছা সরল পথে চালান, যাকে ইচ্ছা চালান বিপথে! যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন, যাকে ইচ্ছা দেন শাস্তি। তিনি যা ইচ্ছা তা-ই করেন।

অর্থাৎ মুহাম্মদের কল্পিত স্রষ্টা এক নীতিহীন, কুচক্রী, স্বেচ্ছাচারী একনায়কত্বের আদর্শ রূপ। স্রষ্টার (যদি থাকে) সাথে মুহাম্মদের এহেন উদ্ভট দাবীর যে আদৌ কোনো সম্পৃক্ততা থাকতে পারে না, তা যে কোনো সুস্থচিন্তার মানুষ অতি সহজেই অনুধাবন করতে পারেন! ওপরোক্ত দাবী একান্তই মুহাম্মদের। তারই মনস্তত্বের প্রকৃত চিত্র! কোনো বিবেকবান সভ্য মানুষই জ্ঞাতসারে এহেন স্বেচ্ছাচারীর সমর্থক হতে পারেন না। 

[কুরানের উদ্ধৃতিগুলো সৌদি আরবের বাদশাহ ফাহাদ বিন আবদুল আজিজ (হেরেম শরীফের খাদেম) কর্তৃক বিতরণকৃত বাংলা তরজমা থেকে নেয়া; অনুবাদে ত্রুটি-বিচ্যুতির দায় অনুবাদকারীর। কুরানের ছয়জন বিশিষ্ট অনুবাদকারীর পাশাপাশি অনুবাদ এখানে।]

(চলবে)

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন