৬ অক্টোবর, ২০১২

নূরানী চাপা শরীফ - ১৩


লিখেছেন থাবা বাবা

চাপা - ০১৯
(মোহাম্মকের সফেদ লুঙ্গি)

একদা মোহাম্মক তাহার সাহাবাদিগকে লইয়া বনি আল ইয়ালি গোত্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাইতেছিল। অনেক দূরের পথ... কয়েক দিন লাগিয়া যাইবে। আর আরবের অবস্থা তখন ভয়ানক খারাপ... সাহারা খাতুন যেহেতু তাহাদিগের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের দায়িত্ব লওয়ার নিমিত্তে জন্মগ্রহণ করে নাই, তাই আরবের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও শান্ত ও নিস্তরঙ্গ ছিল না। এক ঘন্টা পথ যাইতে দ্বাদশ বার তস্করের সম্মুখীন হইতে হইতো। আর মোহাম্মক তখনো আল্লার বান্ধা বান্দা হিসাবে খ্যাতি লাভ করে নাই, তদুপরি কাফের তস্করেরা তাহাকে চিনিলেও মানিবে কেন? তাই তাহারা মোহাম্মক ও তাহার সাহাবীদিগের কনভয়কে মুহুর্মুহু আক্রমণ করিয়া নাজেহাল করিয়া ছাড়িল। ছোট খাট তস্করদলকে পাত্তা দিবার কোনো হেতু নাই, তবে গোল বাধে বৃহৎ কোনো দল সম্মুখে পড়িলে। দূরে কোনো বৃহৎ তস্করের দল গোচরীভূত হইলে আল্লা জেব্রাইলকে পাঠাইয়া মোহাম্মককে সতর্ক করিয়া দেয়। মোহাম্মক তখন সাহাবী বকরীকে তুরন্ত তাহার লাল লুঙ্গি ও পিরান আনিয়া দিবার জন্য তাড়া লাগায়। খোকাবাবু থুক্কু মোহাম্মক তাহার সবুজ পোষাক বদলাইয়া লাল লুঙ্গি-পিরান পরিধান করিয়া যুদ্ধ করে। প্রতিবারই যুদ্ধের পূর্বে মোহাম্মকের রক্তবর্ণের লুঙ্গি ও পিরানে যুদ্ধে মোজেজা কী, তাহা লইয়া কানা-ঘুষা আরম্ভ হইলো সাহাবাদিগের মধ্যে। বনী ইয়ালি গোত্রের মরুদ্যানের নিকটবর্তী হইয়া সন্দেশ পাওয়া গেল যে গোত্রের সমস্ত পুরুষ মোহাম্মকের প্রতিরোধাক্রমনেই নিকেশ হইয়াছে, মরুদ্যানে কেবল নারী ও শিশুরাই রহিয়াছে। তৎক্ষণাৎ সেখানেই শিবির স্থাপনের সিদ্ধান্ত হইলো। গেরাম খালি, তাই তাড়াহুড়া করার কোনো কারণ নাই। শিবির স্থাপন করিয়া রাত্তিরে জম্পেশ করিয়া উষ্ট্রী ও দুম্বার বারবিকিউ খাইতে বসিয়া সাহাবীরা মোহাম্মকের নিকট তাহাদের কৌতূহল পেশ করিল। মোহাম্মক তখন সাড়ম্বরে বয়ান শুরু করিল!

“আমিই তিনি, যাহাকে আল্লাপাদ নবী করিয়া পাঠাইয়াছে, আমিই তোমাদিগের নেতা স্বরূপ। আমি সকল ঘ্যান ও ভিদ্যার উৎস। কিন্তু আল্লাপাদ আমাকে পাঠাইয়াছেন মানুষের রূপে, যাহাতে তোমরা আমার দ্বারা প্রেরিত বাণী সহজে অনুধাবন করিতে পার ও আল্লার অপার মহিমা দেখিয়া আপ্লুত হইতে পার। কিন্তু মানবরূপী আল্লার রাসুলও তো যুদ্ধে জখম হইতে পারে, কারণ সে তো সাধারন মানুষের রূপ ধরিয়া রহিয়াছে। কিন্তু রাসুল যুদ্ধে জখম হইলে তাহার সাহাবীদিগের মনোবলে চিড় ধরিবে। সেই জন্যই তোমরা যাহাতে আল্লার রাসুল জখম হইলেও তাহা দেখিয়া মনোবল না হারাও তাই আমি লাল লুঙ্গি ও পিরান পরিশান করিয়া যুদ্ধ করি, কারণ নিশ্চই লাল পোষাক লক্তের দাগ ঢাকিয়া দেয় এবং নিশ্চই আল্লা সর্বঘ্যানী।”

সাহাবাদিগের আল্লাদ দেখে কে... তাহাদিগের মধ্যে সত্বর মোহাম্মকের খেজুরীয় বাণী শ্রবণ করিয়া স্বীয় বস্ত্র বিসর্জন করতঃ মোহাম্মক যেই বর্ণের পোষাক পরিধান করিয়া ছিল সেই বর্ণের পোষাক পরিবার ধুম পরিয়া গেল।

হই হুল্লোড় হইতেছিল ভালই, কিন্তু ইহার মধ্যে বনি ইয়ালি গোত্রের অতিবৃদ্ধা এক দূতী আসিয়া হাজির হইলো। বৃদ্ধাকে সরাসরি নবীর সম্মুখে হাজির করা হইলো, তবে যথাযথ পর্দা সহযোগে, কারণ তাহার নাতিশয় কদাকার আর কদাকার সুরত দেখিলে মোহাম্মকের বুকের গোবরগুলা ঘুটে হইয়া যায়। বৃদ্ধা একখানা শান্তি চুক্তি করিতে আসিয়াছে। তবে মোহাম্মকও সন্তু লারমার ন্যায় ধৈর্যশীল, সে বুড়ির প্রস্তাব শুনিল... বৃদ্ধা যাহা বলিল তাহা হইলো আপাতত গেরাম হইতে নাতিশয় খুপসুরত তিনখান লরকী সে নবীর খেদমতে দিয়া যাইবেক, কিন্তু বিনিময়ে নবীর বাহিনী প্রাতঃক্কালে শান্তিপূর্ণ ভাবে মরুদ্যানে প্রবেশ পূর্বক কাতারবদ্ধ হইয়া গনিমতের মাল ভক্ষণ করিতে হইবেক। নবী বাহিনী দেখিল ইহা তো মন্দ নহে... ইহা যে উষ্ট্র না চাইতেই মূত্র! আর কী চাই, নবী অঙ্গীকার করিলেন “তাহাই হইবেক”! আর আল্লার নবী মোহাম্মক ভঙ্গ করেন না অঙ্গীকার!

বৃদ্ধা তাহার পর তিন সুন্দরীকে সভামধ্যে হাজির করিল। তাহাদের অঙ্গে স্বচ্ছ মসলিনের পোষাক। দেখিয়া সকল ইমানদাদের ইমানী হালত খারাপ হইবার যোগাড়! মোহাম্মকের অবস্থাও তথৈবচ। তাহার ইমানী হালত শুধু খারাপই না, সাথে অকাল পতন ধরিয়া রাখাও দুরূহ হইয়া যাইতেছিল। পাছে কেউ কিছু টের পায়, তাই কোনো রকমে বকরীকে দিয়া তাহার সফেদ লুঙ্গি আর সাদা পিরান আনাইয়া পরিধান করিয়া তাহার অকাল পতনের লজ্জা ঢাকিল, আর সে-ই তো শ্রেষ্ঠ মুসলিম যে তাহার লজ্জা ঢাকিয়া রাখে!

আসল কাহিনী ছিল: বৃদ্ধা যে-তিনজন সুন্দরী দিয়া গেল, তাহারা হইলো আমাদিগের অতি পরিচিত চার্লিজ এঞ্জেলস। তাহাদিগকে চিক্রেট মিশন দিয়া ভবিষ্যত হইতে পাঠানো হইয়াছে। তাহাদিগের মিশন হইলো - নবী ব্যতীত যতোজন পারে সাহাবী স্রেফ ভায়াগ্রার ওভারডোজ খাওয়াইয়া হত্যা করা। তাই প্রাতঃকালে বকরী আসিয়া যখন নাস্তার তশতরিতে সন্দেশ দিল যে, ১০০ জনে মধ্যে ৭২ জন সাহাবী মালে গনিমত ভক্ষণ করিয়া শহীদ হইয়াছে, শুনিয়া মোহাম্মকের ‘আক্কেল ঘচাং’ হইয়া গেল। মোহাম্মক সরেজমিনে তদন্তে যাইয়া যাহা দেখিল, তাহা হইলো তাহার আল-শহীদ সাহাবিগন চিৎ হইয়া শুইয়া শহীদ হইয়াছে, এবং তাহাদিগের লুঙ্গী তাম্বুপ্রাপ্ত হইয়াছে। সাহাবীরা মোহাম্মকের দেখাদেখি সফেদ লুঙ্গী পরিধান করিয়াছিল বলিয়া মোহাম্মকও টের পাইলো না যে তাহাদিগেরও অনুপ্রবেশ ব্যাতীতই উদ্গীরন হইয়াছিল, আর সেই অগ্নুৎপাতেই তাহারা শহীদ হইয়াছিল।

সেই যে সাহাবীরা অকাল পতনের লজ্জা লুকাইতে সফেদ লুঙ্গী ও পিরান পরিধান করিয়াছিল, সেই স্মৃতি রক্ষার্থে আজও মোহাম্মকের উম্মকেরা মৃতের দেহে সফেদ লুঙ্গী ও পিরান (সেনা-বন্দ এবং তাহ-বন্দ) পরিধান করাইয়া মাটিচাপা দেয়!

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন