বুধবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১২

কুরানে বিগ্যান (চতুর্দশ পর্ব): কুরান কার বাণী?


লিখেছেন গোলাপ

পর্ব ১ > পর্ব ২ > পর্ব ৩ > পর্ব ৪ > পর্ব ৫ > পর্ব ৬ > পর্ব ৭ > পর্ব ৮ > পর্ব ৯ > পর্ব ১০ > পর্ব ১১ > পর্ব ১২ > পর্ব ১৩

কুরান কিতাবটি আসলে কী?

কোনো ইসলাম বিশ্বাসীকে যদি এ প্রশ্নটি করা হয়, তবে তার দ্বিধাহীন জবাব হবে, "এটি আল্লাহর কথা। বিশ্ব-ব্রহ্মাণ্ডের মালিকের কথা। যা হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর ওপর জিবরাইল মারফত নাজিল হয়েছে।” তাঁরা আরও দাবী করবেন, “যেহেতু এই গ্রন্থের প্রতিটি বাক্য বিশ্বস্রষ্টার, তাই এ কিতাবে কোনো ভুল থাকতে পারে না।" মুসলিমদের যে কোনো ধর্মীয় আলোচনা শুরুর প্রায় সঙ্গে সঙ্গে যে বাক্যটি সবার আগে উদ্ধৃত হয় তা হলো, "আল্লাহ পাক (বিশ্বস্রষ্টা) কুরানে ইরশাদ ফরমাইয়াছেন...। কেন তারা এমনটি বলেন? তাদের এ দাবীর উৎস কী? 

উৎস হলো মুহাম্মদ!

আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর দাবী, স্বয়ং "বিশ্বস্রষ্টা" ফেরেশতা জিবরাইল মারফত তাঁর কাছে বার্তা প্রেরণ করেছেন। জিবরাইল তাঁর শরীরে ভর করে তাঁর মুখ দিয়ে কথা বলিয়েছেন। আর জিবরাইলের আছরে যা কিছু তিনি বলেছেন, তা তাঁর নিজের কথা নয়! কথাগুলো স্বয়ং বিশ্বস্রষ্টার! মুহাম্মদের অনুসারীরা তাঁকে বিশ্বাস করে বলেই ঘোষণা দেন, "কুরান আল্লাহর (বিশ্বস্রষ্টার) বাণী"। মুহাম্মদের ভাষায়:
৬৯:৪৩ - এটা বিশ্বপালনকর্তার কাছ থেকে অবতীর্ণ।  
৫৬:৭৭-৮০ - নিশ্চয় এটা সম্মানিত কোরআন, যা আছে এক গোপন কিতাবে, --। এটা বিশ্ব-পালনকর্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।
৮০:১৩-১৫ -এটা লিখিত আছে সম্মানিত, উচ্চ পবিত্র পত্রসমূহে, লিপিকারের হস্তে
বর্তমান পৃথিবীর প্রায় ৭০০ কোটি জনসংখ্যার প্রতি ১০০ জনের ৭৬ জনই ইসলাম ধর্মাম্বলী নন। তাঁরা অমুসলিম। অমুসলিমরা কখনোই কুরানের বাণীকে 'বিশ্বস্রষ্টার' বাণী এবং মুহাম্মদক 'বিশ্বস্রষ্টার' বাণী-প্রাপ্ত মহাপুরুষ হিসাবে বিশ্বাস করেন না। তাহলে সত্য কোনটি? শতকরা ৭৬ জন লোক যা বিশ্বাস করেন না, সেটি? নাকি শতকরা ২৪ জন মানুষ যা বিশ্বাস করেন, সেটি? সত্য কোনো ভোটাভুটি বা সংখ্যাগরিষ্ঠের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয় না। এই দু'-দলের যে কোনো একদল 'সত্য' এবং স্বাভাবিকভাবেই অন্য দল "মিথ্যা"। দু'-দল একই সাথে কখনোই "সত্য" হতে পারে না। সত্যকে জানার জন্যই প্রয়োজন বস্তুনিস্ঠ পর্যালোচনা (Objective analysis)। এর কোন বিকল্প নেই!

আজ আমরা নিশ্চিতরূপে জানি যে, আমাদের এই নিবাস পৃথিবীটি অত্যন্ত ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র একটি স্থান। এ স্থানটি সূর্যের তুলনায় ১৩ লক্ষ গুন ক্ষুদ্রতর। আমাদের এই ক্ষুদ্র নিবাসটি জীবন ও আলো দানকারী সূর্য থেকে ৯ কোটি ৩০ লক্ষ মাইল দূরবর্তী। আলোর গতি ধ্রুব (Constant) - প্রতি সেকেন্ডে ১৮৬,০০০ মাইল (এক আলোক-সেকেন্ড); অর্থাৎ প্রতি সেকেন্ডে সাড়ে সাত বার পৃথিবী প্রদক্ষিণ। প্রতি দিনে (এক আলোক-দিন) ১৮০০ কোটি মাইল। প্রতি বছরে (এক আলোকবর্ষ) ৬০০ হাজার কোটি (৬ ট্রিলিয়ন) মাইল। এই গতিবেগে সূর্য থেকে পৃথিবীতে আসতে আলোর সময় লাগে মাত্র ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড। আমাদের এই মিল্কি-ওয়ে গ্যালাক্সিটি এক লক্ষ আলোকবর্ষ পরিবৃত একটি স্থান। মিল্কি-ওয়ে গ্যালাক্সিটি মহাবিশ্বের প্রায় ৮,০০০ কোটি (৮০ বিলিয়ন) অনুরূপ গ্যালাক্সির একটি। আমাদের সবচেয়ে কাছের প্রতিবেশী গ্যালাক্সিটি (এ্যন্ড্রোমেডা) ২৫ লক্ষ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। অর্থাৎ এ্যন্ড্রোমেডার যে অলোক-রশ্মি আজকে পৃথিবীতে পড়েছে, তা সেখান থেকে ২৫ লক্ষ বছর আগে যাত্রা শুরু করেছিল! 

তুলনায়, আধুনিক মানুষের উদ্ভব হয়েছে মাত্রদুই লক্ষ বছর আগে! আমাদের এই মহা-বিশ্বটি প্রায় ৯,৩০০ কোটি (৯৩ বিলিয়ন) আলোকবর্ষ পরিবৃত একটি স্থান। যে স্থানে পৃথিবীর তুলনায় ১৩ লক্ষ গুন বিশাল সূর্যের অবস্থান পৃথিবীর একটি ধূলিকণার চেয়েও ক্ষুদ্রতর। দৃশ্যমান জগতের এ সমস্ত "সংখ্যা" যে কোনো সুস্থ-চিন্তাশীল মানুষের কল্পনা শক্তিকে অবশ করে দেয়। মানুষকে নতজানু হতে শেখায়। ভাবতে শেখায়। পুরাতন সবকিছুকে ভুলে নতুন জ্ঞানের আলোকে যাবতীয় অন্ধবিশ্বাসকে ঝেড়ে ফেলে সত্যিকার চিন্তাশীল মানুষ হতে স্পৃহা যোগায়!

আজ আমরা নিশ্চিতরূপে জানি যে, আমাদের এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের উদ্ভব হয়েছে প্রায় ১৩৫০ কোটি বছর আগে। তার প্রায় ৯০০ কোটি বছর পরে সৃষ্টি হয়েছে আমাদের এই পৃথিবী। প্রায় ৪৫০ কোটি বছর আগে। পৃথিবী সৃষ্টি হওয়ার আরও ১০০ কোটি বছর পরে পৃথিবীতে "প্রাণের (Life) উদ্ভব হয়েছে।" প্রায় ৩৫০ কোটি বছর আগে। সেই আদি থেকে এখন পর্যন্ত পৃথিবীতে যত প্রজাতির (Species) উদ্ভব হয়েছে তার ৯৯ শতাংশেরও বেশী নিশ্চিহ্ন/বিলুপ্ত (Extinct) হয়ে গিয়েছে। মাত্র এক শতাংশ অবলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। যার বর্তমান পরিমাণ আনুমানিক ১৭ লক্ষ। বর্তমান পৃথিবীর এই ১৭ লক্ষ প্রজাতির একটি হলাম আমরা - Homo sapiens. এই মহাবিশ্বের কোনো স্রষ্টা আছে, এমন কোনো প্রমাণ নাই।

আধুনিক বিজ্ঞানের আলোকে উপরোক্ত ৬৯:৪৩, ৫৬:৭৭-৮০ এবং ৮০-১৩-১৫ বাণীসমষ্টিকে একটু মনোযোগের সাথে যদি আমরা পর্যালোচনা করি, তাহলে দেখতে পাই, উক্ত বাক্যগুলো দিয়ে মুহাম্মদ দাবী করছেন:

১) কুরান বিশ্ব-স্রষ্টার (আল্লাহ) বাণী। "সেই" বিশ্বস্রষ্টা তা লিখে রেখেছেন, 'সম্মানিত, উচ্চ পবিত্র পত্রসমূহে’ (৮০:১৩-১৫)প্রায় ১৩৫০ কোটি বছর আগে তিনি এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টি করেন। তারপর,   

২) তিনি “৯০০ কোটি বছর অপেক্ষা” করে 'পৃথিবী' নামক অতিশয় ক্ষুদ্রাতি-ক্ষুদ্র স্থানকে সৃষ্টি করেন। তারপর,

৩) তিনি “আরও ১০০ কোটি বছর অপেক্ষা” করে পৃথিবীতে প্রাণ (Life) সৃষ্টি করেন।

৪) তারপর, “আরও ৩৫০ কোটি বছর অপেক্ষা” করেন। অপেক্ষার এই সময়টি তে তিনি পৃথিবীর প্রায় ৯৯ শতাংশ প্রজাতিকে (species) নিশ্চিহ্ন/অবলুপ্ত করে দেন! মাত্র এক শতাংশকে অবলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করেন, যার বর্তমান পরিমাণ আনুমানিক ১৭ লক্ষ।

৫) তারপর. এই ১৭ লক্ষ প্রজাতির মধ্য থেকে মানুষ প্রজাতিকে বাছাই করেন!

৬) তারপর এই মানুষ প্রজাতির কোটি কোটি মানুষের মধ্য থেকে একজনকে 'আখেরি নবী হিসাবে' নির্বাচিত (Select) করেন। কাকে? মুহাম্মদের দাবী (স্বঘোষিত), সৃষ্টিকর্তার মনোনীত সেই ব্যক্তিটিই হচ্ছেন ‘তিনি’! মুহাম্মদ বিন আবেদ-আল্লাহ বিন আবদুল মুত্তালেব বিন হাশিম বিন আবেদে মানাফ বিন কুসে বিন কিলাব!  কিসের ভিত্তিতে এই নির্বাচন? মুহাম্মদের দাবী, "প্রণয়ের (ভালবাসা) ভিত্তিতে!" তার দাবী, তিনি হলেন ‘সেই’ সৃষ্টিকর্তার সবচেয়ে প্রিয় পাত্র! তারপর,

৭) সেই সৃষ্টিকর্তা “আরও চল্লিশ বছর অপেক্ষা” করেন। অতঃপর, শৈশব-কৈশোর ও যৌবন অতিক্রান্ত চল্লিশ বছর বয়সী মুহা্ম্মদের উপর 'সেই বাণী' জিবরাইল মারফত মক্কায় হেরা পর্বতের গুহায় ৬১০ খৃষ্টাব্দের কোনো এক সময়ে নাজিল করা শুরু করেন। তারপর,

৮) সেই সৃষ্টিকর্তা ১৩৫০ কোটি বছর আগে লিখিত-গচ্ছিত তার বাণীগুলো (কুরান) মুহাম্মদের জীবনের বিভিন্ন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে একটু একটু করে জিবরাইল মারফত সরবরাহ করতে লাগলেন। ঘোষণা দিলেন যে, এই বাণীগুলোই (কুরান) হলো জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে “সর্বকালের সকল মানুষের জন্য একমাত্র সহি" জীবন বিধান।

কিন্তু

৯) মুহাম্মদ ও তার সেই পরাক্রমশালী-সর্বজ্ঞানী-সর্বজ্ঞ সৃষ্টিকর্তার সর্বাত্মক আপ্রাণ চেষ্টা সত্ত্বেও দীর্ঘ ১২-১৩ বছরে (৬১০-৬২২ খৃষ্টাব্দ) সমাজের নিম্নশ্রেণীর মাত্র ১২০-১৩০ জন এর বেশি মানুষকে তার তাদের দলে সামিল করাতে পারলেন না! আফসোস! তারপর,

১০) অবস্থা আরও বেগতিক হলে মুহাম্মদ তার অনুসারীদের আদেশ জারি করলেন “নির্বাসন” নিতে। প্রথমে আবিসিনিয়ায় ও পরে মদিনায়। নিজেও রাতের অন্ধকারে চুপি চুপি “স্বেচ্ছা নির্বাসন (হিজরত)” নিলেন মদিনায় (সেপ্টেম্বর, ৬২২)!  

ইসলামী জাহানের বহুল প্রচলিত ও প্রচারিত বিশ্বাস এই যে, কুরাইশদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে, মৃত্যুহুমকির বশবর্তী হয়ে, প্রাণরক্ষার তাগিদে মুহাম্মদ ও তাঁর সাহাবীরা মদিনায় হিজরত করেছিলেন। বনি কুরাইজাকে অপরাধী সাব্যস্ত করার মতই এ দাবীটিও একটি "সহি ইসলামী-মিথ্যা অপ-প্রচারণা"! কুরাইশদের অত্যাচার বা মৃত্যু হুমকির কারণে নয়, "ইসলাম রক্ষার" প্রয়োজনেই মুহাম্মদ স্বেচ্ছা নির্বাসন নিয়েছিলেন। কুরাইশরা নয়, মুহাম্মদই তার অনুসারীদের তাদের অমুসলিম পিতা-মাতা-প্রিয়জনের কাছ থেকে লোভ, হুমকি-শাসানী-ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে (জোরপূর্বক) হিজরতে বাধ্য করেছিলেন। কারণ তাঁর অনুসারীদের অনেকেই তখন তাদের পিতৃপুরুষদের ধর্মে প্রত্যাবর্তন করে তাদের পিতা-মাতা ও আত্মীয় স্বজনদের কাছে ফিরে যাচ্ছিল। এ পরিস্থিতিকে সামাল দিতেই মুহাম্মদ হিজরতের আশ্রয় নিয়েছিলেন। এ ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করবো "হিজরত পর্বে"।

অত:পর

১১) মুহাম্মদ ও তার হিজরতকারী অনুসারীরা শুরু করলেন আনসার (মদিনার সাহায্যকারী) মুখাপেক্ষী নতুন জীবন। কতদিন আর অপরের মুখাপেক্ষী থাকা যায়? বেকার জীবন? জীবিকা জুটবে কোথা থেকে? "সেই" সৃষ্টিকর্তাটি যদি অলৌকিক উপায়ে মুহাম্মদ ও তার মক্কাবাসী হিজরতকারী অনুসারীদের (মুহাজের) খাদ্য-পরিধেয়-বাসস্থানের ব্যবস্থা করতেন, তাহলে তো কোনো চিন্তাই ছিল না! তা যখন নেই, অর্থ উপার্জনের একটা পথ তো বের করতেই হবে! উপায়? হিজরতের মাস সাতেক পরেই জীবিকার প্রয়োজনে মুহাম্মদ শুরু করলেন নতুন অভিযান। রাতের অন্ধকারে বাণিজ্য ফেরত নিরীহ কুরাইশ ফাফেলার উপর হামলা (ডাকাতি), যুদ্ধ-খুনাখুনি আর জোরপূর্বক অপরের জান-মাল স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি আত্মসাৎ! সর্বপ্রথম মুহাম্মদ যে হামলাকারী দলটি পাঠান, তা ছিল তার চাচা হামজার নেতৃত্বে। সিফ-আলবদর (মার্চ, ৬২৩)। 
(সূত্র: 
১. ‘Sirat Rasul Allah’ – By Ibne Ishaq (704-768 CE), (compilation: Ibn Hisham, died 833 CE) - Page 423-27 
২. ‘Ketab Al Maghazi’ – By Al Waqidi (747-823 CE), Page 13-19
৩. ‘Tarikh Al Rasul Waal Muluk’ – By Al Tabari (839-923 CE) , Vol-7, Page 1273-79)

১২) মক্কার ১৩ বছরের চরম ব্যর্থতার পর মদিনায় পরবর্তী ১০ বছর (৬২২-৬৩২) অন্যের সম্পত্তি লুট ও গণিমতের মালের ভাগে জীবিকা-বৃত্তি! রক্তের হোলী-খেলা ও নৃশংসতার বিনিময়ে অর্জিত সফলতা! দশ হাজারেরও অধিক অনুসারীদের নিয়ে 'মক্কা আক্রমণ' ও বিজয়।

১৩) তারপর ১৩৫০ কোটি বছরের গচ্ছিত সে সকল বাণী পৃথিবীতে আগমনের মাত্র ২২-২৩ বছরের মাথায় সৃষ্টিকর্তা তাঁকে মৃত্যুর পথযাত্রী করলেন (জুন, ৬৩২)!

১৪) মৃত্যুর আগে মুহাম্মাদ তার অনুসারীদের আদেশ দিলেন, তারা যেন পৌত্তলিকদের আরব ভূখণ্ড থেকে বিতাড়িত করে। (সহি বুখারী: ভলিউম-, বই-৫৯, নং-৭১৬)

Narrated Ibn Abbas:
(অংশ বিশেষ) ---The Prophet said, "Leave me, for my present state is better than what you call me for." Then he ordered them to do three things. He said, "Turn the pagans out of the 'Arabian Peninsula; respect and give gifts to the foreign delegations as you have seen me dealing with them." (Said bin Jubair, the sub-narrator said that Ibn Abbas kept quiet as rewards the third order, or he said, "I forgot it.") (See Hadith No. 116 Vol. 1)
তারপর

১৫) মুহাম্মদের নিবেদিতপ্রাণ অনুসারীদের মাধ্যমে সেই সৃষ্টিকর্তার রচিত সর্বকালের সকল মানুষের "একমাত্র জীবনবিধান" প্রচার ও প্রতিষ্ঠার প্রতিযোগিতা! গত ১৪০০ বছরে ২৭০ মিলিয়ন কাফের ও অজ্ঞাত পরিমাণ মুসলমান (নিজেদের মধ্যে খুনা-খুনি করে) নিধনের বিনিময়ে অর্জন পৃথিবীর মাত্র ২৪ শতাংশ লোককে ইসলামের পতাকাতলে সামিল! ১৪০০ বছরেও মুহাম্মদের "সেই" সৃষ্টিকর্তা তার ফেরেশতা ও অনুসারী মানবকুলের সক্রিয় সাহায্য নিয়েও পৃথিবীর ৭৬ শতাংশ লোককে তার দলে সামিল করতে পারেনি! বিফলতার এ এক চূড়ান্ত রূপ! এই সৃষ্টিকর্তাকেই মুহাম্মদ সর্বজ্ঞ ও সর্বশক্তিমান আল্লাহ নামে আখ্যায়িত করেছেন।

যে কথা মানতেই হবে তা হলো, এই সুবিশাল চমকপ্রদ বিশ্ব-ব্রহ্মাণ্ডের যদি কোনো স্রষ্টা থাকেন, আর যদি সেই স্রষ্টা মানুষের জন্য কোনো বার্তা বা বাণী পাঠান, তবে সেই বার্তায় কোনোরূপ অসামঞ্জস্য বা উদ্ভট-অবৈজ্ঞানিক কোনো তথ্য কখনোই থাকতে পারে না। কোনোক্রমেই কোনোরূপ অযৌক্তিকতা, ভুল বা অসামঞ্জস্যতা থাকতে পারে না। শুধু “একটি মাত্র” ভুল, অবাস্তবতা অথবা অসামঞ্জস্য থাকলেই ১০০% সুনিশ্চিতভাবেই বলা যাবে যে এটা 'বিশ্বস্রষ্টার বাণী’ হতে পারে না। কারণ “স্রস্টা" কোনো ভুল করতে পারেন না। কুরান যে 'বিশ্বস্রষ্টার বাণী' এই দাবী মুহাম্মদের। তাঁর অনুসারীরা "তাঁর বিশ্বাসে" বিশ্বাসী মাত্র। মুহাম্মদ তার দাবীর সপক্ষে আরও ঘোষণা দিয়েছেন:
৪:৮২ - এরা  কি লক্ষ্য করে না কোরআনের প্রতি? পক্ষান্তরে এটা যদি আল্লাহ্ ব্যতীত অপর কারও পক্ষ থেকে হত, তবে এতে অবশ্যই বহু বৈপরিত্য দেখতে পেত
গত তেরোটি পর্বের আলোচনায় "এতে অবশ্যই বহু বৈপরীত্য” আমরা নিশ্চিতরূপেই প্রত্যক্ষ করেছি। সুতরাং, সুনিশ্চিতভাবে বলা যায় যে, কুরান বিশ্বস্রষ্টার (যদি থাকেন) বাণী নয়! যে কোনো মুক্তবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষই জানেন যে বিশ্বস্রষ্টা (যদি থাকেন) কোনো কিছুই কুরানে ইরশাদ করেন নাই। ইরশাদ করেছেন মুহাম্মদ। তারপর দাবী করেছেন যে, যা তিনি বলেছেন, তা আসলে তিনি বলেননি। যেমন করে অনেক পীর-ফকির-কামেল- গুরু-বাবাজী জাতীয় লোকেরা দাবী করে যে, তাদের শরীরে জ্বিন, আত্মা বা অশরীরী শক্তির ভর হয়! ভরপ্রাপ্ত অবস্থায় তারা যা বলে, তা আসলে তাদের কথা নয়! দাবী করে যে, তাদের সে কথাগুলো প্রকৃতপক্ষে তাদের শরীরে ভর করা অশরীরী শক্তির! তেমনি মুহাম্মদও দাবী করেছেন যে, কুরানের বাণী তাঁর নয়। 

ঐ সব পীর-ফকির-কামেল-গুরু-বাবাজীদের সাথে মুহাম্মদের বিশেষ পার্থক্য এই যে তাঁদের তুলনায় মুহাম্মদ অনেক অনেক “বেশী সফল"! ঐসব পীর-ফকির-গুরু-বাবাজীদের অনুসারীর সংখ্যা বিশ্ব জনসংখ্যার অনুপাতে খুবই নগণ্য। আর মুহাম্মদের অনুসারীদের সংখ্যা পৃথিবীব্যাপী। ১৬ কোটি! তাদের শরীরে ভর হয় জ্বিন, আত্মা, অশরীরী শক্তি বা দেবতা। আর মুহাম্মদের শরীরে ভর হয় স্বয়ং স্রষ্টার দূত জিবরাইল! সমাজের বহু লোক এ সকল কামেল-পীর-ফকির-গুরু-বাবাজীদের বিশ্বাস ও ভক্তি করেন। তাদেরকে অনুসরণ করেন, সমীহ করেন! কিন্তু একবিংশ শতাব্দীর এই বিজ্ঞান যুগে বিজ্ঞানমনস্ক মুক্তচিন্তার কোনো মানুষই এ সকল তথাকথিত কামেল-পীর-ফকির-গুরু-বাবাজীদের আর বিশ্বাস করেন না। তাদের জারিজুরি যে প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়, ব্যাপারে বিজ্ঞান আজ নিশ্চিত। এসমস্ত মানুষদের ঠক-প্রতারক অন্ধবিশ্বাস ব্যবসায়ী রূপে আখ্যায়িত করা হয়।

আজকের কামেল-পীর-ফকির-গুরু-বাবাজীরা যে কারণে অশরীরী শক্তির অস্তিত্ব অনুভব করেন, মুহাম্মদও সেই একই কারণে জিবরাইল নামক অশরীরী শক্তির অস্তিত্ব অনুভব করেছিলেন। কী সে কারণ? কারণটি হলো "গুরুর প্রয়োজন"! ভক্তকে প্রভাবিত করার প্রয়োজন! নিবেদিত ভক্তকুলকে গুরুর ইচ্ছামত চালিত করার প্রয়োজন। ভক্তের কাছ থেকে সুবিধা আদায়ের প্রয়োজন! মুহাম্মদের উদ্ধৃত এহেন দুর্বল, অবিবেচক, পক্ষপাতদুষ্ট, নৃশংস, নীতি-হীন সৃষ্টিকর্তাটি আর যে-ই হোন, মহাবিশ্বের স্রষ্টা নন! মুহাম্মদ তাঁর প্রয়োজনের হাতিয়ার হিসাবেই "আল্লাহকে সৃষ্টি করেছিলেন"! এ সত্যকে ইসলাম বিশ্বাসীরা যত তাড়াতাড়ি অনুধাবন করতে পারবেন, তত দ্রুতই তাদের মুক্তি মিলবে।

ইসলাম বিশ্বাসীদের কাছে স্বভাবতই এ সত্যটি গ্রহণ করা সহজ নয়। কারণ, শিশুকালের অনুশাসন (childhood Indoctrination) এবং পরিপার্শ্বিক সমাজ ও সংস্কারের সর্বদা ক্রিয়াশীল অবিরাম মগজ ধোলাই-এব প্রভাব সুদূরপ্রসারী। এর প্রভাব থেকে মুক্তি সহজ নয়! Freedom Is Not Free!  

[কুরানের উদ্ধৃতিগুলো সৌদি আরবের বাদশাহ ফাহাদ বিন আবদুল আজিজ (হেরেম শরীফের খাদেম) কর্তৃক বিতরণকৃত বাংলা তরজমা থেকে নেয়া; অনুবাদে ত্রুটি-বিচ্যুতির দায় অনুবাদকারীর। কুরানের ছয়জন বিশিষ্ট অনুবাদকারীর পাশাপাশি অনুবাদ এখানে।]

(চলবে)

blog comments powered by Disqus