শুক্রবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১২

কুরানে বিগ্যান (একাদশ পর্ব): অভিশাপ তত্ত্ব


লিখেছেন গোলাপ

পর্ব ১ > পর্ব ২ > পর্ব ৩ > পর্ব ৪ > পর্ব ৫ > পর্ব ৬ > পর্ব ৭ > পর্ব ৮ > পর্ব ৯ > পর্ব ১০

করুণাময় আল্লাহ! 

স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) দাবী করেছেন যে, আল্লাহ স্বয়ং মানুষকে অভিশাপ দেন। কিছু উদাহরণ: 

স্বয়ং আল্লাহর অভিসম্পাত 

২:৮৮ - তারা বলে, আমাদের হৃদয় অর্ধাবৃত| এবং তাদের কুফরের কারণে আল্লাহ্ অভিসম্পাত করেছেন| ফলে তারা অল্পই ঈমান আনে| 

৪:৪৬- কোন কোন ইহুদী তার লক্ষ্য থেকে কথার মোড় ঘুড়িয়ে নেয় এবং বলে, আমরা শুনেছি কিন্তু অমান্য করছি| তারা আরো বলে, শোন, না শোনার মত| মুখ বাঁকিয়ে দ্বীনের প্রতি তাচ্ছিল্য প্রদর্শনের উদ্দেশে বলে, রায়েনা’ (আমাদের রাখাল)| অথচ যদি তারা বলত যে, আমরা শুনেছি ও মান্য করেছি এবং (যদি বলত, ) শোন এবং আমাদের প্রতি লক্ষ্য রাখ, তবে তাই ছিল তাদের জন্য উত্তম্ আর সেটাই ছিল যথার্থ ও সঠিক| কিন্তু আল্লাহ তাদের প্রতি অভিসম্পাত করেছেন তাদের কুফরীর দরুন। অতএব, তারা ঈমান আনছে না, কিন্তু অতি অল্পসংখ্যক| 

৪:৪৭ - হে আসমানী গ্রন্থের অধিকারীবৃন্দ! যা কিছু আমি অবতীর্ণ করেছি তার উপর বিশ্বাস স্খাপন কর, যা সে গ্রন্থের সত্যায়ন করে এবং যা তোমাদের নিকট রয়েছে পূর্ব থেকে| (বিশ্বাস স্খাপন কর) এমন হওয়ার আগেই যে, আমি মুছে দেব অনেক চেহারাকে এবং অত:পর সেগুলোকে ঘুরিয়ে দেব পশ্চাৎ দিকে কিংবা অভিসম্পাত করব তাদের প্রতি যেমন করে অভিসম্পাত করেছি আছহাবে-সাবতের উপর| আর আল্লাহ্র নির্দেশ অবশ্যই কার্যকর হবে| 

৪:৫১-৫২ - তুমি কি তাদেরকে দেখনি, যারা কিতাবের কিছু অংশ প্রাপ্ত হয়েছে, যারা মান্য করে প্রতিমা ও শয়তানকে এবং কাফেরদেরকে বলে যে, এরা মুসলমানদের তুলনায় অধিকতর সরল সঠিক পথে রয়েছে| এরা হলো সে সমস্ত লোক, যাদের উপর লা’নত করেছেন আল্লাহ্ তা’আলা স্বয়ং| বস্তুত: আল্লাহ্ যার উপর লা’নত করেন তুমি তার কোন সাহায্যকারী খুঁজে পাবে না| 

৫:১৩ - অতএব, তাদের অঙ্গীকার ভঙ্গের দরুন আমি তাদের উপর অভিসম্পাত করেছি এবং তাদের অন্তরকে কঠোর করে দিয়েছি| ---- 

৫:৬০ -বলুন: আমি তোমাদেরকে বলি, তাদের মধ্যে কার মন্দ প্রতিফল রয়েছে আল্লাহ্র কাছে? যাদের প্রতি আল্লাহ্ অভিসম্পাত করেছেন, যাদের প্রতি তিনি ক্রোধাম্বিত হয়েছেন, যাদের কতককে বানর ও শুকরে রূপান্তরিত করে দিয়েছেন এবং যারা শয়তানের আরাধনা করেছে, তারাই মর্যাদার দিক দিয়ে নিকৃষ্টতর এবং সত্যপথ থেকেও অনেক দূরে| 

৫:৬৪ -আর ইহুদীরা বলে: আল্লাহ্র হাত বন্ধ হয়ে গেছে| তাদেরই হাত বন্ধ হোক| একথা বলার জন্যে তাদের প্রতি অভিসম্পাত| বরং তাঁর উভয় হস্ত উম্মুক্ত| তিনি যেরূপ ইচ্ছা ব্যয় করেন| আপনার প্রতি পলনকর্তার পক্ষ থেকে যে কালাম অবর্তীণ হয়েছে, তার কারণে তাদের অনেকের অবাধ্যতা ও কুফর পরিবর্ধিত হবে| --- 

৩৩:৬৪ - নিশ্চয় আল্লাহ কাফেরদেরকে অভিসম্পাত করেছেন এবং তাদের জন্যে জ্বলন্ত অগ্নি প্রস্তুত রেখেছেন।  

১১:১৮ - আর তাদের চেয়ে বড় যালেম কে হতে পারে, যারা আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ করে। এসব লোককে তাদের পালনকর্তার সাক্ষাত সম্মূখীন করা হবে আর সাক্ষিগণ বলতে থাকবে, এরাই ঐসব লোক, যারা তাদের পালনকর্তার প্রতি মিথ্যারোপ করেছিল। শুনে রাখ, যালেমদের উপর আল্লাহর অভিসম্পাত রয়েছে। 

২৮:৪১-৪২ - আমি তাদেরকে নেতা করেছিলাম। তারা জাহান্নামের দিকে আহবান করত। কেয়ামতের দিন তারা সাহায্য প্রাপ্ত হবে না। আমি এই পৃথিবীতে অভিশাপকে তাদের (ফেরাউন ও তার বাহিনী) পশ্চাতে লাগিয়ে দিয়েছি এবং কেয়ামতের দিন তারা হবে দুর্দশাগ্রস্ত। 

প্রতীয়মান হয় যে, প্রবক্তা মুহাম্মদ "স্বয়ং আল্লাহর" অভিশাপকে যথেষ্ট মনে করেন নাই! 
ফেরেশতাবৃন্দ ও সমগ্র মানুষকুলকেও আল্লাহর অভিশাপের সাথে সামিল করেছেন। যেমন:

আল্লাহ্, ফেরেশতাগণ এবং মানুষ সকলেরই অভিসম্পাত 

২:১৬১ - নিশ্চয় যারা কুফরী করে এবং কাফের অবস্খায়ই মৃত্যুবরণ করে, সে সমস্ত লোকের প্রতি আল্লাহর ফেরেশতাগনের এবং সমগ্র মানুষের লা’নত 

৩:৮৭ - এমন লোকের শাস্তি হলো আল্লাহ্, ফেরেশতাগণ এবং মানুষ সকলেরই অভিসম্পাত

এখানেই শেষ নয়! আল্লাহর উদ্ধৃতি দিয়ে মহানবী হুযুরে পাক (সা:) ঘোষণা দিয়েছেন যে, সত্য-মিথ্যা যাচাইয়ের কার্যকারী পন্থা হলো ‘অভিশাপ আসর’| তিনি দাবী করেছেন যে, আল্লাহ সকল বিশ্বাসী, অবিশ্বাসী এবং তাদের পরিবারবর্গকে অভিশাপের আসর বসানোর আহ্বান জানান। যেন সে আসরে অংশগ্রহণকারী সদস্য-সদস্যারা একে অপরকে অভিশাপে জর্জরিত করে সঠিক সত্য উদঘাটন করতে পারে! মুহাম্মদের ভাষায়:

সকল বিশ্বাসী ও অবিশ্বাসী মিলে অভিশাপের আসর

৩:৬১ - অত:পর তোমার নিকট সত্য সংবাদ এসে যাওয়ার পর যদি এই কাহিনী সম্পর্কে তোমার সাথে কেউ বিবাদ করে, তাহলে বল-এসো, আমরা ডেকে নেই আমাদের পুত্রদের এবং তোমাদের পুত্রদের এবং আমাদের স্ত্রীদের ও তোমাদের স্ত্রীদের এবং আমাদের নিজেদের ও তোমাদের নিজেদের আর তারপর চল আমরা সবাই মিলে প্রার্থনা করি এবং তাদের প্রতি আল্লাহর অভিসম্পাত করি যারা মিথ্যাবাদী

মুহাম্মদের দাবীর সারসংক্ষেপ: 

“বিশ্ব-ব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ স্বয়ং মানুষকে অভিশাপ দেন। তিনি তার ফেরেশতা বাহিনী ও সমগ্র মানুষকুলকে ও সেই অভিশাপে সামিল করেন। মহা জ্ঞানী আল্লাহ মানুষকে শিখিয়েছেন সত্য-মিথ্যা যাচাইয়ের কার্যকারী পন্থা হলো "অভিশাপ আসর"| যেন তারা সে আসরে এক পক্ষ অপর পক্ষকে অভিশাপে জর্জরিত করে কোন পক্ষ সত্যবাদী আর কোন পক্ষ মিথ্যেবাদী তা বের করতে পারে। আসল সত্যের সন্ধান লাভ করতে পারে। আল্লাহ পাক সমগ্র মানুষ জাতিকে (বিশ্বাসী/অবিশ্বাসী সবাই মিলে প্রার্থনা-কুরানের বিধান জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সর্বকালের মানুষের জন্য প্রযোজ্য)সত্য-মিথ্যা যাচাইয়ের এই প্রতিযোগিতামূলক অভিশাপ আসরে অংশ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন!” 

Wow! পাঠক, আপনারা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন যে, মুহাম্মদ (আল্লাহ) শুধু কসমেই 'চ্যাম্পিয়ন' নন (অষ্টম পর্ব), অভিশাপেও তিনি 'চ্যাম্পিয়ন'| জগতের কোনো মানুষ কি কল্পনা করতে পারেন যে, একে অপরকে "অভিশাপ প্রদান"-এর মাধ্যমে আসল সত্যের সন্ধান পাওয়া যায় (৩:৬১)মুহাম্মদের কথিত আল্লাহ যে মহাজ্ঞানী, এতে কি এখনও সন্দেহ পোষণ করছেন? আর এই মহাজ্ঞানী সত্ত্বাই যে সৃষ্টিকর্তা, সে বিষয়ে সন্দেহের অবকাশ থাকলে জানবেন, "এই সেই কিতাব যাহাতে কোনই সন্দেহ নাই (২:২)"| এর পরেও যদি ঈমানে দুর্বলতার কারণে সন্দেহের উদ্রেক হয়, তবে সন্দেহকারীদের জন্যে দুনিয়া ও আখিরাতে কী পরিমাণ ভয়াবহ শাস্তি যে অপেক্ষা করছে, তা বারংবার স্মরণ করুন! মুহাম্মদ (আল্লাহ) "অত্যন্ত স্পষ্ট" ভাষায় তা বর্ণনা করেছেন কুরানের অসংখ্য বাণীতে। তত্ত্ব কথার মত অস্পষ্টতার ছিটে ফোটাও সে বাণীগুলোতে খুঁজে পাবেন না। এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানবেন "হুমকি-শাসানী-ভীতি' পর্বে। সমগ্র কুরানে মোটামুটি ৬২৩৬ টি বাণী আছে। এর ৫০০ টিরও বেশী শুধু-মাত্র হুমকি, শাসানী, ভীতি প্রদর্শন, অসম্মান ও দোষারোপ সম্পর্কিত! মহানবী মুহাম্মদ অবিশ্বাসীদের উদ্দেশে এসকল বাণী বর্ষণ করেছেন সুদীর্ঘ ২৩ বছর (৬১০-৬৩২)! তার ইন্তেকালের পর মুমিন বান্দারা দিনে কমপক্ষে বাধ্যতামূলক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে সুললিত কণ্ঠে এসকল অভিশাপ-হুমকি-শাসানী-ভীতি-অসম্মান ও দোষারোপের বাণী তেলাওয়াত করে অশেষ সওয়াবের অধিকারী হয়ে থাকেন! যতদিন "ইসলাম" বেঁচে থাকবে, মুহাম্মদের আদর্শের লোকেরা বুঝে বা না বুঝে (আরবি না জানার কারণে) পরম একাগ্রতা ও পবিত্র জ্ঞানে পৃথিবীর সকল অবিশ্বাসীদেরকে অভিসম্পাত ও তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেই যাবেন! এ থেকে তাদের কোনই পরিত্রাণ নেই! "কেন নেই" তার আলোচনা দশম পর্বে করা হয়েছে! 

দুটি অতি সাধারণ প্রশ্ন:

১. "অভিশাপ" বিষয়টি আসলে কী? 

সহজ উত্তর: "মনে-প্রাণে অপরের অনিষ্ট কামনা (প্রার্থনা ) করা”| আল্লাহর শক্তিমত্তার ধারা বিবরণীতে অন্যত্র মুহাম্মদ দাবী করেছেন, 'তিনি (আল্লাহ) যখন কোনো কিছু করতে ইচ্ছা করেন, তখন তাকে কেবল বলে দেন, ‘হও’ তখনই তা হয়ে যায় (৩৬:৮২)|' কুরানের এই বাণীটি বহুল প্রচলিত ও প্রচারিত, "কুন ফা ইয়া কুন”। ৩৬:৮২ সত্য হলে সৃষ্টিকর্তা কোনোভাবেই 'অভিশাপকারী' হতে পারেন না। কারণ, ইচ্ছা (Wish) করার সঙ্গে সঙ্গেই যদি ঘটনাটি ঘটে যায়, তখন তা হয় 'কর্ম' (Physical Act)| "ইচ্ছাশক্তি" সেখানে হাত-পা-মুখ-জিহ্বা ইত্যাদি শারীরিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মত প্রাত্যহিক কর্ম সম্পাদনের বাহন হিসাবে কাজ করে। সুতরাং সেক্ষেত্রে সংজ্ঞা অনুযায়ী 'ইচ্ছা" করার সঙ্গে সঙ্গেই সে ইচ্ছাটি 'কর্মে' পরিণত হবার কারণে “অনিষ্ট (অভিশাপ) কামনা নিয়ে অপেক্ষা” অসম্ভব, অবান্তর ও অপ্রয়োজনীয়! কারণ 'ইচ্ছা = কর্ম'।

তাহলে? প্রয়োজনটি কার? নিঃসন্দেহে মুহাম্মদের। মুহাম্মদ কি "কুন ফা ইয়া কুন (৩৬:৮২)" ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন? অবশ্যই না। প্রয়োজন আছে কিন্তু ক্ষমতা নেই এমন ব্যক্তি কি রুষ্ট হয়ে তার প্রতিপক্ষের অনিষ্ট কামনা (অভিশাপ) করতে পারেন? অবশ্যই হ্যাঁ। সুতরাং নিঃসন্দেহে কুরানের যাবতীয় "বিষোদগার" মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহর। সৃষ্টিকর্তার সাথে এর কোনোই সংস্রব নেই। 

২. মানুষ কি কারণে অভিশাপ দেয়? 

ক) ব্যর্থ হলে 
প্রতিপক্ষের কথায় ও কাজে কোনো রুষ্ট ব্যক্তি যখন বিষয়টির প্রতিকার করতে "ব্যর্থ হন" তখনই সে ব্যক্তি 'অভিশাপের আশ্রয়' নেন। প্রতিকারের ক্ষমতা থাকলে বিষয়টির নিষ্পত্তি তিনি করবেন তার সেই ক্ষমতাবলে। বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টিকর্তা নিশ্চয়ই "অক্ষম নন"! তাই তার "অভিশাপের আশ্রয়" নেয়ার কোনোই প্রয়োজন নেই। 

খ) লাভ-ক্ষতির প্রয়োজনে 
নিজের কোনো ক্ষতি-বৃদ্ধির কারণ না হলে কোনো সাধারণ মানুষও অন্যের "অনিষ্ট কামনা" করে না।" একমাত্র নিম্ন-প্রকৃতির লোকেরাই নিজের কোনো ক্ষতি-বৃদ্ধির কারণ ছাড়াই অপরের অনিষ্ট কামনা করে। সৃষ্টিকর্তার ক্ষতি-বৃদ্ধি করার ক্ষমতা কি মানুষের আছে? অবশ্যই "না"| তাহলে? সৃষ্টিকর্তা কেন মানুষকে অভিশাপ দেবেন? একজন সাধারণ মানুষও যা করেন না, সেই কাজটি "সৃষ্টিকর্তা" করেন, তা কি আদৌ বিশ্বাসযোগ্য? কোনো সুস্থচিন্তার মানুষ সৃষ্টিকর্তাকে কখনোই "নিম্ন-প্রকৃতির লোকের চরিত্রে" কল্পনাও করতে পারেন না। কিন্তু মুহাম্মদ তাঁর আল্লাহর উদ্ধৃতি দিয়ে যে অসংখ্যবার অভিশাপ দিয়েছেন, তার সাক্ষ্য হয়ে আছে উপরের বাণীগুলো! 

মুহাম্মদ কী চরিত্রের লোক ছিলেন? 

সুতরাং কসম-তত্ত্বের মত আবারও যে প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তা হলো মুহাম্মদ কী চরিত্রের লোক ছিলেন? বিশ্বের প্রতিটি ইসলামবিশ্বাসী বিশ্বাস করেন যে, মুহাম্মদের চরিত্রে কোনো কালিমা নেই। দাবী করেন, মুহাম্মদ ছিলেন নিঃস্বার্থ, নির্লোভ, মহানুভব--ইত্যাদি ইত্যাদি যাবতীয় গুনের অধিকারী। তাদের এ সকল দাবীর পেছনে সত্যতা কোথায়? 

কুরানের যাবতীয় অভিশাপ মুহাম্মদের। সৃষ্টিকর্তার সাথে এর কোনোই সম্পর্ক নেই। নিঃস্বার্থ ও নির্লোভ ব্যক্তি কি অন্যের অনিষ্ট কামনা করেন? নিজের কোনো ক্ষতিবৃদ্ধির কারণ না হলে কোনো সাধারণ মানুষও যেখানে অন্যের অনিষ্ট কামনা করেন না, সেখানে মুহাম্মদ কী কারণে অসংখ্যবার তার প্রতিপক্ষের অনিষ্ট কামনা করেছিলেন? নিজের ক্ষতি-বৃদ্ধির সম্ভাবনা না থাকা সত্ত্বেও যে-ব্যক্তি অপরের অনিষ্ট কামনা করে, সে ব্যক্তিটি যে একজন সাধারণ মানুষের চেয়েও "নিম্ন-প্রকৃতির", এ সত্যকে কি অস্বীকার করা যায়? 

যারা আঘাতকারীকে ক্ষমা করেন, তাঁরা সৎ লোক। যারা আঘাতকারীর সুফল কামনা করেন, তারা মহামানব। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, মুহাম্মদ ও তার অনুসারীরাই ছিলেন আগ্রাসী (অষ্টম পর্ব)| আক্রান্ত জনগোষ্ঠী করেছেন তাদের জান-মাল হেফাজতের চেষ্টা। আঘাতকারী ছিলেন মুহাম্মদ! অভিশাপকারীও তিনিই! হুমকি, অসম্মান, ভীতি প্রদর্শন ও তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যকারীও সেই একই ব্যক্তি! মুহাম্মদের নিজের জবানবন্দীই (কুরান) এ সাক্ষ্য ধারণ করে আছে। যুগে যুগে যাঁরাই এ সত্যকে উন্মোচন করার চেষ্টা করেছেন, তাঁদেরকেই প্রচণ্ড নিষ্ঠুরতায় দমন করা হয়েছে। যে শিক্ষার প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপ্যাল মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ! বিশ্বাসীরা তার "অনুসারী" মাত্র। আজ ইন্টারনেট ও তথ্য প্রযুক্তির যুগে যে কোন সত্য উন্মোচনের পথ অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি নিরাপদ। ইসলামকে সঠিকভাবে বুঝতে হলে মুহাম্মদকে সঠিকভাবে জানতেই হবে। এর কোনো বিকল্প নেই! তাকে জানার সবচেয়ে উত্তম মাধ্যম তিনি নিজেই রচনা করে রেখেছেন। আসুন, আমরা নির্মোহ মানসিকতা নিয়ে "মুহাম্মদের জবানবন্দী" পাঠের মাধ্যমে তাকে ও ইসলামকে জানার চেষ্টা করি। 

[কুরানের উদ্ধৃতিগুলো সৌদি আরবের বাদশাহ ফাহাদ বিন আবদুল আজিজ (হেরেম শরীফের খাদেম) কর্তৃক বিতরণকৃত বাংলা তরজমা থেকে নেয়া; অনুবাদে ত্রুটি-বিচ্যুতির দায় অনুবাদকারীর। কুরানের ছয়জন বিশিষ্ট অনুবাদকারীর পাশাপাশি অনুবাদ এখানে 

(চলবে)
blog comments powered by Disqus