২৩ আগস্ট, ২০১২

কুরানে বিগ্যান (নবম পর্ব): পানি-চক্র তত্ত্ব



করুণাময় আল্লাহ! 

আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)মহা জ্ঞানী আল্লাহর উদ্ধৃতি দিয়ে কুরানে “মেঘ-বৃষ্টি-বায়ু” সংক্রান্ত এমন কিছু বাণী বর্ষণ করেছেন, যেগুলোকে ইসলামী পণ্ডিতরা আধুনিক বিজ্ঞানের 'পানি-চক্রের' নিখুঁত বর্ণনা বলে অভিহিত করেন। কী সেই বাণী? কিছু উদাহরণ:

১) আকাশ থেকে পানি বর্ষণ: অতঃপর সেই পানিতে,

ক) মৃত্ যমীন হয় সজীব 

২:১৬৪ - নিশ্চয়ই আসমান ও যমীনের সৃষ্টিতে, রাত ও দিনের বিবর্তনে এবং নদীতে নৌকাসমূহের চলাচলে মানুষের জন্য কল্যাণ রয়েছে। আর আল্লাহ তা’ আলা আকাশ থেকে যে পানি নাযিল করেছেন, তদ্দ্বারা মৃত যমীনকে সজীব করে তুলেছেন এবং তাতে ছড়িয়ে দিয়েছেন সবরকম জীব-জন্তু। আর আবহাওয়া পরিবর্তনে এবং মেঘমালার যা তাঁরই হুকুমের অধীনে আসমান ও যমীনের মাঝে বিচরণ করে, নিশ্চয়ই সে সমস্ত বিষয়ের মাঝে নিদর্শন রয়েছে বুদ্ধিমান সম্প্রদায়ের জন্যে।

৩৫:৯ - আল্লাহই বায়ু প্রেরণ করেন, অতঃপর সে বায়ু মেঘমালা সঞ্চারিত করে। অতঃপর আমি তা মৃত ভূ-খন্ডের দিকে পরিচালিত করি, অতঃপর তদ্বারা সে ভূ-খন্ডকে তার মৃত্যুর পর সঞ্জীবিত করে দেই। এমনিভাবে হবে পুনরুত্থান।

৪৫:৫ - দিবারাত্রির পরিবর্তনে, আল্লাহ আকাশ থেকে যে রিযিক (বৃষ্টি) বর্ষণ করেন অতঃপর পৃথিবীকে তার মৃত্যুর পর পুনরুজ্জীবিত করেন, তাতে এবং বায়ুর পরিবর্তনে বুদ্ধিমানদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে।

খ) উৎপন্ন হয় উদ্ভিদ, সবুজ ফসল ও ফল:

৬:৯৯ - তিনিই আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন অতঃপর আমি এর দ্বারা সর্বপ্রকার উদ্ভিদ উৎপন্ন করেছি, অতঃপর আমি এ থেকে সবুজ ফসল নির্গত করেছি, যা থেকে যুগ্ম বীজ উৎপন্ন করি। খেজুরের কাঁদি থেকে গুচ্ছ বের করি, যা নুয়ে থাকে এবং আঙ্গুরের বাগান, যয়তুন, আনার পরস্পর সাদৃশ্যযুক্ত এবং সাদৃশ্যহীন। বিভিন্ন গাছের ফলের প্রতি লক্ষ্য কর যখন সেগুলো ফলন্ত হয় এবং তার পরিপক্কতার প্রতি লক্ষ্য কর। নিশ্চয় এ গুলোতে নিদর্শন রয়েছে ঈমানদারদের জন্যে।

৫০:৯-১১ - আমি আকাশ থেকে কল্যাণময় বৃষ্টি বর্ষণ করি এবং তদ্বারা বাগান ও শস্য উদগত করি, যেগুলোর ফসল আহরণ করা হয়। এবং লম্বমান খর্জুর বৃক্ষ, যাতে আছে গুচ্ছ গুচ্ছ খর্জুর, বান্দাদের জীবিকাস্বরূপ এবং বৃষ্টি দ্বারা আমি মৃত জনপদকে সঞ্জীবিত করি। এমনিভাবে পুনরুত্থান ঘটবে।

গ) জমিনে সংরক্ষণ ও অপসারণ 

২৩:১৮-১৯ - আমি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করে থাকি পরিমাণ মত অতঃপর আমি জমিনে সংরক্ষণ করি এবং আমি তা অপসারণও করতে সক্ষম। অতঃপর আমি তা দ্বারা তোমাদের জন্যে খেজুর ও আঙ্গুরের বাগান সৃষ্টি করেছি। তোমাদের জন্যে এতে প্রচুর ফল আছে এবং তোমরা তা থেকে আহার করে থাক।

গ) ঝর্ণাসমূহ প্রবাহিত 

৩৯:২১ - তুমি কি দেখনি যে, আল্লাহ আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন, অতঃপর সে পানি যমীনের ঝর্ণাসমূহে প্রবাহিত করেছেন, এরপর তদ্দ্বারা বিভিন্ন রঙের ফসল উৎপন্ন করেন, অতঃপর তা শুকিয়ে যায়, ফলে তোমরা তা পীতবর্ণ দেখতে পাও। এরপর আল্লাহ তাকে খড়-কুটায় পরিণত করে দেন। নিশ্চয় এতে বুদ্ধিমানদের জন্যে উপদেশ রয়েছে।

ঘ) স্রোতধারা প্রবাহিত যা ‘ফেনারাশি’ উপরে নিয়ে আসে 

১৩:১৭ - তিনি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন। অতঃপর স্রোতধারা প্রবাহিত হতে থাকে নিজ নিজ পরিমাণ অনুযায়ী। অতঃপর স্রোতধারা স্ফীত ফেনারাশি উপরে নিয়ে আসে। এবং অলঙ্কার অথবা তৈজসপত্রের জন্যে যে বস্তুকে আগুনে উত্তপ্ত করে, তাতেও তেমনি ফেনারাশি থাকে। এমনি ভাবে আল্লাহ সত্য ও অসত্যের দৃষ্টান্ত প্রদান করেন। অতএব, ফেনা তো শুকিয়ে খতম হয়ে যায় এবং যা মানুষের উপকারে আসে, তা জমিতে অবশিষ্ট থাকে। আল্লাহ এমনিভাবে দৃষ্টান্তসমূহ বর্ণনা করেন

ঙ) "তোমরা কর পান”

১৫:২২ - আমি বৃষ্টিগর্ভ বায়ু পরিচালনা করি অতঃপর আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করি, এরপর তোমাদেরকে তা পান করাই। বস্তুতঃ তোমাদের কাছে এর ভান্ডার নেই। 

৫৬:৬৮-৭০ - তোমরা যে পানি পান কর, সে সম্পর্কে ভেবে দেখেছ কি? তোমরা তা মেঘ থেকে নামিয়ে আন, না আমি বর্ষন করি? আমি ইচ্ছা করলে তাকে লোনা করে দিতে পারি, অতঃপর তোমরা কেন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর না?

২) বায়ুরাশি মেঘমালা বয়ে আনে: অতঃপর,

ক) “মেঘমালা” পুঞ্জীভূত হয় স্তরে স্তরে, 

৩০:৪৮ - তিনি আল্লাহ, যিনি বায়ু প্রেরণ করেন, অতঃপর তা মেঘমালাকে সঞ্চারিত করে। অতঃপর তিনি মেঘমালাকে যেভাবে ইচ্ছা আকাশে ছড়িয়ে দেন এবং তাকে স্তরে স্তরে রাখেন। এরপর তুমি দেখতে পাও তার মধ্য থেকে নির্গত হয় বৃষ্টিধারা। তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাদেরকে ইচ্ছা পৌঁছান; তখন তারা আনন্দিত হয়। 

খ) সেখান থেকে হয় শিলা বর্ষণ 

২৪:৪৩ - তুমি কি দেখ না যে, আল্লাহ মেঘমালাকে সঞ্চালিত করেন, অতঃপর তাকে পুঞ্জীভূত করেন, অতঃপর তাকে স্তরে স্তরে রাখেন; অতঃপর তুমি দেখ যে, তার মধ্য থেকে বারিধারা নির্গত হয়। তিনি আকাশস্থিত শিলাস্তুপ থেকে শিলাবর্ষণ করেন এবং তা দ্বারা যাকে ইচ্ছা আঘাত করেন এবং যার কাছ থেকে ইচ্ছা, তা অন্যদিকে ফিরিয়ে দেন। তার বিদ্যুৎঝলক দৃষ্টিশক্তি যেন বিলীন করে দিতে চায়।

গ) বায়ু ও বৃষ্টি বর্ষণ 

৭:৫৭ - তিনিই বৃষ্টির পূর্বে সুসংবাদবাহী বায়ু পাঠিয়ে দেন। এমনকি যখন বায়ুরাশি পানিপূর্ন মেঘমালা বয়ে আনে, তখন আমি এ মেঘমালাকে একটি মৃত শহরের দিকে হাঁকিয়ে দেই। অতঃপর এ মেঘ থেকে বৃষ্টি ধারা বর্ষণ করি। অতঃপর পানি দ্বারা সব রকমের ফল উৎপন্ন করি। এমনি ভাবে মৃতদেরকে বের করব-যাতে তোমরা চিন্তা কর।

ঘ) এবং চমকায় বিদ্যুৎ

৩০:২৪ - তাঁর আরও নিদর্শনঃ তিনি তোমাদেরকে দেখান বিদ্যুৎ, ভয় ও ভরসার জন্যে এবং আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন, অতঃপর তদ্দ্বারা ভূমির মৃত্যুর পর তাকে পুনরুজ্জীবিত করেন। নিশ্চয় এতে বুদ্ধিমান লোকদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে।

মুহাম্মদের “পানি-চক্র” তত্বের সংক্ষিপ্তসার:

১) মেঘমালা স্তরে স্তরে আসমান ও যমীনের মাঝে বিচরণ করে। বাতাসের প্রকোপে তা ছড়িয়ে পড়ে আকাশে। মেঘ থেকে হয় বৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি ও বিদ্যুৎ চমক।

২) বৃষ্টির পানি জমিনে হয় সংরক্ষণ, প্রবাহিত করে ঝর্ণাধারা ও ফেনায়িত স্রোতধারা। তদ্বারা আমরা পান করি, সজীব হয় শুষ্ক জমিন, উৎপন্ন হয় ফসল-ফল ও উদ্ভিদ।

পাঠক, একটু মনোযোগের সাথে ওপরের বর্ণনাগুলো খেয়াল করুন। এখানে এমন কোনো নতুন "তথ্য" কি আপনি খুঁজে পাচ্ছেন, যা আপনি জানতেন না, দেখেন নি কিংবা শোনেন নি?

মুহাম্মদের এ বর্ণনা সাধারণ মানুষের খালি চোখে প্রাত্যহিক পর্যবেক্ষণলব্ধ জ্ঞানের আলোকে “মেঘ-বৃষ্টি-ঝড় ও বৃষ্টি পরবর্তী প্রকৃতির বর্ণনা” ছাড়া আর কিছুই নয়। এখানে কোনো "তত্ত্বকথা" লুকিয়ে নেই! নেই কোনো নতুন "জ্ঞান কিংবা তথ্য"! জগতের প্রথম 'বৃষ্টিপাত' কি মুহাম্মদের সময়কাল থেকেই শুরু হয়েছে? মেঘ যে আসমান ও যমীনের মাঝখানে স্তরে স্তরে থাকে তা কার অজানা? বায়ুপ্রবাহ মেঘকে আকাশের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বয়ে নিয়ে যায়, তা একমাত্র জন্মান্ধরা ছাড়া আর কে দেখে নি? কিংবা দেখে নি মেঘ থেকে বৃষ্টিপাত, শিলাবৃষ্টি ও বিদ্যুৎ চমক? অথবা বৃষ্টিপাতের আগে বাতাসের আবির্ভাব? বৃষ্টির পানিতে যমীন হয় সজীব, ফসল-ফুল ও ফলে ভরে ওঠে মাঠ, এ তথ্য কি নতুন? নিশ্চয়ই নয়। এমন কোনো তথ্য এখানে নেই, যা অনাদিকাল থেকে পৃথিবীর প্রতিটি চক্ষুষ্মান মানুষ অহরহ প্রত্যক্ষ করে না! জগতের প্রতিটি মানুষ ভূমিষ্ঠ হবার পর থেকে মৃত্যুকাল অবধি "প্রকৃতির এ রূপ" অহরহ প্রত্যক্ষ করে আসছেন। “মহা জ্ঞানী বক্তা মশায়" নিদেনপক্ষে এটুকুও যদি জানাতেন, 

১) মেঘের পানির আদি উৎসটি কী? মানব জাতি আলোকিত হতো বাষ্পের অস্তিত্ব ও বাষ্পীভবন (Evaporation) পদ্ধতির জ্ঞানপ্রাপ্তিতে। 

অথবা জানাতেন, 

২) মেঘটা আসলে কী এবং কেমনে তা 'পানি-পূর্ণ'"? আমরা কৃতার্থ হতাম ঘনীভবন (Condensation) পদ্ধতির সন্ধান জেনে। 

না। মুহাম্মদের বর্ণনায় এমন কোনোকিছুর "অস্তিত্ব" নেই। তথাপি ইসলামী পণ্ডিতরা "এর" মধ্যেই আধুনিক বিজ্ঞানের "পানি-চক্র (Water cycle)" আবিষ্কার করে ফেলেছেন! পানি চক্র সম্বন্ধে সামান্যতম ধারণা থাকা ব্যক্তি মাত্রই জানেন যে, পানি চক্রের অত্যাবশ্যকীয় (absolutely fundamental) দু'টি উপাদান হচ্ছে "সূর্য ও সমুদ্র"। পানি চক্রের প্রধান চালিকা শক্তি হচ্ছে 'সূর্য (Solar radiation')। এই চক্রের নব্বই শতাংশ বাষ্পীভূত পানির (evaporated water) উৎস হচ্ছে "সমুদ্র"। মুহাম্মদের 'মেঘ-বৃষ্টির' বর্ণনায় এই দুটি 'অত্যাবশ্যকীয় উপাদানের" কোনো উল্লেখই নেই! উল্লেখ নেই পানি চক্রের অত্যাবশ্যকীয় "বাষ্পীভবন-ঘনীভবন" সহ অন্যান্য প্রক্রিয়ার (নিচের ছবি) সামান্যতম আভাস! 

কেন নেই? কারণ, বাষ্প খালি চোকে দেখা যায় না। পুকুর-ডোবা, খাল-বিল, নদী-নালা-সমুদ্র থেকে অনবরত পানি বাষ্প হয়ে বায়ু-মণ্ডলে জমা হচ্ছে। তা কি কেউ দেখতে পান কিংবা অনুভব করেন? মুহাম্মদেরও তা জানা ছিল না। আর তখন তা আবিষ্কৃতও হয় নি। মুহাম্মদ তা উল্লেখ করবেন কী করে? 

যে কারণে "ভ্রূণ-তত্বে" বীর্য আছে, ডিম্বাণু নেই; সেই একই কারণে মুহাম্মদের এ বর্ণনায় মেঘ-বৃষ্টি-বিদ্যুৎ-বায়ু সহ যা কিছু খালি চোখে দেখা ও অনুভব করা যায় তার সবই আছে, "বাষ্প নেই"! আর সূর্য? বৃষ্টিপাতের সময়ে যে সূর্যকে দেখায় যায় না, সেই সূর্যই যে "মেঘ-বৃষ্টি-বায়ু চক্রের" অত্যাবশ্যকীয় চালিকা শক্তি তা সে সময়ে কারও পক্ষে "কল্পনাতে" আনাও সম্ভব ছিল না। "কুরানের বক্তাও" তার ব্যতিক্রম নয়, তা তার বর্ণনায় স্পষ্ট। সূর্য আলো দেয়, তাপ বিতরণ করে। দিনের বেলায় তাকে দেখা যায়, রাতের বেলা তাকে দেখা যায় না। দিন রাত্রির মধ্যে আর রাত্রি দিনের মধ্যে ঢুকে যায়- এ সমস্ত সর্বজনবিদিত "খেজুরে বাক্যালাপ" কুরানে বহুবার বহুভাবে ইনিয়ে বিনিয়ে বলা হয়েছে। 

কিন্তু মুহাম্মদের সময়ে অনাবিষ্কৃত এবং খালি চোখে অদৃষ্ট এমন কোনোকিছুর উল্লেখ কুরানের কোথাও নেই।কারণ "অজ্ঞতা"। যা জানা নাই, তা বলা যায় না। কুরানের বক্তা মশায় যখনি এ সকল "অজানা তথ্য" বলতে গেছেন, তখনই বেধেছে "গোল"। আকাশের বর্ণনায় এসেছে "মজবুত ছাদ, ফুটা ও ফাটল, উল্কা-পিণ্ড শয়তান মারার যন্ত্র"। পৃথিবীর বর্ণনায় এসেছে, "উত্তমরূপে বিছানো বিছানা আর পাহাড়ের পেরেকে তাকে স্থির রাখার ব্যবস্থা"। "গোবর মিশ্রিত দুধ" - ইত্যাদি, ইত্যাদি, ইত্যাদি। সর্বজনবিদিত সাধারণ জ্ঞানের সাথে "আল্লাহ" অনুষঙ্গটি জায়গা মত জুড়ে দিয়ে “ঐশী ধুম্রজাল" তৈরি করে বিশ্বাসীদের বিভ্রান্ত করা যায়। জ্ঞানের কোনো উন্নতি হয় না। 

এতদসত্বেও ইসলামী পণ্ডিতরা মুহাম্মদের এই সরল 'মেঘ-বৃষ্টির' বর্ণনায় "পানি চক্র" স্পষ্ট অনুভব করেন (Delusion)। যে সকল পণ্ডিত মশায় শুক্রাণু-ডিম্বাণুর মিলনের (Fertilization) উপস্থিতি ছাড়ায় শুক্রাণুকে জমাট রক্তে পরিবর্তন করেও "ভ্রূণ-তত্ব(Embryology)" আবিষ্কার করতে পারেন (ষষ্ঠ পর্ব), আকাশে ফাটল ও ছিদ্র নিয়েও "আকাশ-তত্ব (Cosmology)" আবিষ্কার করেন (১ম ও ২য় পর্ব), তাদের জন্য সূর্য ও সমুদ্রের উপস্থিতি ছাড়াই "পানি চক্র" আবিষ্কার যে অত্যন্ত সহজ, তা বলাই বাহুল্য। প্রয়োজন চাপাবাজি, চতুরতা আর প্রয়োজনীয় "cut and paste" এর ব্যবহার। "সূর্য ও সমুদ্রের" উল্লেখ নেই, তো কী হয়েছে? কুরানের যেখানেই 'সূর্য ও সমুদ্রের" বর্ণনা আছে সেখান থাকে প্রয়োজনীয় অংশটা "Cut" করে এখানে জায়গা মত "paste" করে দিলেই হলো! তামাসার শেষ সীমা! সাধারণ মুসলমানদের কুরান ও বিজ্ঞানের অজ্ঞতাকে পুঁজি করে এ খেলা তারা খেলে আসছেন শতাব্দীর পর শতাব্দী। যারাই তাদের এ খেলায় বাধ সেধেছে, যুগে যুগে সে মুক্তমনাদের "চরম মূল্য" দিতে হয়েছে। আজও তা অব্যাহত আছে বহাল তবিয়তে! 

প্রশ্ন হচ্ছে, এই তামাসাগুলো তারা কেন করেন এবং কীভাবে করেন? এ বিষয়ে আলোকপাত করবো পরবর্তী পর্ব “জ্ঞানতত্ত্বে"।

আধুনিক বিজ্ঞান

১) সূর্যের তাপে প্রতিনিয়ত পৃথিবীর পানি পর্যায়ক্রমে স্থান (আবহাওয়া মণ্ডল, পৃথিবী-পৃষ্ঠ ও ভূগর্ভস্থ) ও দশা (তরল-কঠিন-বাষ্প) পরিবর্তন করে। পানি বাষ্প হয়ে বায়ুমণ্ডলে মিশে যায়। সেখানে ঘনীভূত হয়ে তুষারপাত, মেঘ ও মেঘ থেকে বৃষ্টি-শিলাবৃষ্টি হয়ে আবার ভূ-পৃষ্টে ফিরে আসে।

২) পানি চক্রের প্রধান চালিকা "শক্তি হচ্ছে 'সূর্য-তাপ (Solar Radiation)”আর "উৎস হলো সমুদ্র"

ক) পৃথিবীর মোট পানির পরিমাণ আনুমানিক প্রায় ৩৩ কোটি ২৫ লক্ষ ঘন মাইল। যার ৩২ কোটি ১০ লক্ষ ঘন মাইলই (৯৭%) সমুদ্রে অবস্থিত। মাত্র ৩% পৃথিবীর অন্যান্য স্থানে।

খ) পানি-চক্রে অবস্থিত বাষ্পের ৯০ শতাংশই আসে "সমুদ্র" থেকে। বাকি ১০ শতাংশ উদ্ভিদ (plants) ও অন্যান্য অবস্থান থেকে।

গ) প্রতি বছর বাষ্পীভবন পদ্ধতিতে (Evapotranspiration) বাষ্পীভূত মোট পানির পরিমাণ ১২১,০০০ ঘন-মাইল। যার ১০৪,০০০ ঘন-মাইলই আসে সমুদ্র থেকে। 

ঘ) প্রতি বছর অধক্ষেপ পদ্ধতিতে (precipitation) বৃষ্টি-শিলাবৃষ্টি-তুষারপাত-কুয়াশায় আনুমানিক ১২১,০০০ ঘন-মাইল পানি ভূপৃষ্ঠে পতিত হয়। যার ৯৫,০০০ ঘন-মাইলই পতিত হয় সমুদ্রে।



সৌজন্যে: http://cnx.org/content/m40542/latest/


[কুরানের উদ্ধৃতিগুলো সৌদি আরবের বাদশাহ ফাহাদ বিন আবদুল আজিজ (হেরেম শরীফের খাদেম) কর্তৃক বিতরণকৃত বাংলা তরজমা থেকে নেয়া; অনুবাদে ত্রুটি-বিচ্যুতির দায় অনুবাদকারীর। কুরানের ছয়জন বিশিষ্ট অনুবাদকারীর পাশাপাশি অনুবাদ এখানে।

(চলবে)

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন