২৭ মে, ২০১২

নারীর সুরক্ষা নিশ্চিতকরণে বোরখার ভূমিকা

লিখেছেন কজমিক ডাস্ট

হিজাব বা পর্দা কি আসলেই নারীর সুরক্ষা নিশ্চিত করে? আমি জানি যে এই ছবিটি দেখতে অশোভনীয় তাই পাঠকদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। এটা পোস্ট করার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে যে, কয়েকদিন আগে আমি আরেকটি ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেছিলাম, যেখানে দু'জন পর্দানশীন নারীকে দেখে দুই যুবক লোলুপ দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল। সেখানে আমি উল্লেখ করেছিলাম যে, বোরখা নারীদেরকে কুদৃষ্টি থেকে বাঁচাতে পারবে না। কিন্তু তখন একটি গ্রুপের কিছু মুমিন আমাকে বলেছিলেন যে, "ওরা শুধু দেখতেই পারবে, কিন্তু ছুঁতে পারবে না"; তাই এবার ছোঁয়ার ছবিও আপলোড করলাম। 


মুমিনরা প্রায়ই হিজাবকে ইভ টিজিং ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষার জন্যে আল্লাহ্‌র দেওয়া ফর্মুলা বলে দাবী করেন। অথচ স্বয়ং মুহাম্মাদ কিন্তু কোথাও এটা দাবী করেননি। বরং মুক্তমনারা এই ধারণা করতেই পারে যে, ঈর্ষাপরায়ণ মুহাম্মাদ 'আমার বউ আমার সম্পত্তি কেউ নজর দিবা না' নীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন বলে পর্দার পক্ষে আয়াতটি বানিয়েছিলেন যার খেসারত ১৪০০ বছর ধরে মুসলিম নারীদের দিতে হয়েছে এবং আরও দিতে হবে।

ছবিতে একটা জিনিস লক্ষ্য করবেন যে, নির্যাতিত বোরখা পরিহিতা নারীর পাশে আরেকজন বিনা বোরখায় দাঁড়িয়ে আছে অথচ তাকে কিন্তু লোকটি ছোঁয়ার সাহস পায়নি কারণ তার পোশাক আশাক দেখে ধারণা করা যায় যে এই মেয়ে সহজে ছেড়ে দেবে না। হৈচৈ করে লোক জড় করবে অথবা পুলিশে রিপোর্ট করে জেলের ঘানি টানাবে। কিন্তু এই বোরখা পরিহিতা হয়তো কোন রক্ষণশীল পরিবারের মেয়ে যেখানে এই কথা প্রকাশ করলে উল্টা তাকেই বেহায়া বলা হবে অথবা চার সাক্ষী হাজির করতে বলা হবে। 

শালীনতা বিষয়টি পুরোপুরি আপেক্ষিক। যেসব ছবি দেখে 'ওড়না বুকে দে' জাতীয় পেজের ফ্যানদের কান দিয়ে ধোঁয়া বের হয়, সেগুলো পশ্চিমাদের কাছে পুরোপুরি স্বাভাবিক। আবার যেসব বাংলাদেশী নারী ঠিকমত মাথায় ওড়না দিয়ে রাখেন, তাদের মাথার সামনের এক গোছা চুল বের হয়ে থাকতে দেখলে আরবরা হয়তো "আস্তাগফিরুল্লাহ, কেয়ামত আয়া পড়লো" বলে চিৎকার দেবে। এ থেকেই বোঝা যায় যে, হিজাব আসলে ইভ টিজিং-এর বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ। এর জন্যে দরকার শিক্ষা, সচেতনতা ও নারীদের আত্মবিশ্বাস। শিশুদের ছোট থেকে যদি বোঝানো যেত যে, নারীরাও আরেকজন আলাদা মানুষ, কারও শস্যক্ষেত অথবা গবাদি পশু নয় তবে এরকমটি হত না।