লিখেছেন চিন্তিত সৈকত
আজ বাংলাদেশের বৌদ্ধদের অন্যতম ধর্মীয় গুরু সাধনানন্দ মহাস্থবির (বনভান্তে) মৃত্যুবরণ করেছেন। ছোটবেলায় তাঁর নাম শুনলে খুব ভয় পেতাম, কারণ আমি তখন খুবই ধার্মিক ছিলাম। তাঁর সম্পর্কে একটি প্রচলিত ধারণা হচ্ছে, উনি বাংলাদেশের একমাত্র অরহথ ফল লাভকারী ভিক্ষু এবং মৃত্যর পর নির্বাণগামী হবেন। নিঃসন্দেহে তিনি একজন মহান, সফল ব্যক্তি কারণ বাংলাদেশের এমন কোনো বৌদ্ধ পরিবার পাবেন না, যে পরিবার তাঁর ভক্ত নয়। যে ব্যক্তিকে আমি ছোটবেলায় অতি শ্রদ্ধা করতাম, আজ তাঁর মৃত্যুতে তাঁর বইগুলাতে একটু হাত দিলাম। প্রথমে নিলাম “বনভান্তের দেশনা”- ৩য় খণ্ড । আর প্রথম থেকে দ্বিতীয় পৃষ্ঠায় আসতে আসতে হাসতে হাসতে পেট ব্যথা হয়ে গেল ।
বনভান্তের দেশনা, ৩য় খণ্ড, বইয়ের প্রথম অধ্যায়ে দ্বিতীয় পৃষ্ঠার নিম্মাংশে আছে:
পৃথিবীতে তোমরা যেমন তোমরা হিন্দু, বৌদ্ধ মুসলিম খৃষ্টান আছো তেমনি স্বর্গেও হিন্দু বৌদ্ধ মুসলিম খৃষ্টান দেবতা আছেন। তারা সৎকর্ম ও শীল পালন করে স্বর্গে গিয়েছেন। হিন্দু দেবতারা হিন্দুদেরকে, বৌদ্ধ দেবতারা বৌদ্ধ দেবতাদেরকে, মুসলিম দেবতারা মুসলিমদেরকে এবং খ্রিষ্টান দেবতারা খ্রিষ্টানদেরকে সাহায্য করে থাকে। কিন্তু বৌদ্ধ দেবতারা অন্যদের তুলনায় উজ্জ্বল ও শান্ত। তাদের নিকট অন্যন্য দেবতাদের চেয়ে অধিক ধন-সম্পদ থাকে । দেবতাদের ধন-সম্পদের তুলনায় মানুষের ধন-সম্পদ নগণ্য। মানুষ্য লোকে স্বর্গ ও ধর্মলোকে যা ধন-সম্পদ আছে, তদ অপেক্ষা ভগবান বুদ্ধের ধন সম্পদ অনেক বেশী।
এবার আলোচনায় আসা যাক:
পৃথিবীতে তোমরা যেমন- হিন্দু, বৌদ্ধ, মুসলিম, খৃষ্টান আছো তেমনি স্বর্গেও হিন্দু ,বৌদ্ধ ,মুসলিম, খৃষ্টান দেবতা আছেন।
তিনি একবাক্যে স্বীকার করে নিয়েছেন, অন্যন্য ধর্মগুলি সত্যি। তিনি আরো স্বীকার করছেন, বৌদ্ধধর্ম মতে, স্বর্গ আছে। তাহলে এই স্বর্গ বানালো কে? সেই স্বর্গের প্রধান কে? নিশ্চয় পুস্তকের মত অনুসারে দেবরাজ ইন্দ্র। দেবরাজ ইন্দ্র আবার হিন্দু ধর্মের স্বর্গের রাজা। তাহলে তাঁর মত মেনেই নিলাম হিন্দুধর্ম সত্যি। এবং যেহেতু হিন্দুধর্ম বৌদ্ধ ধর্মের পূর্বে এসেছে, তবে ধরা যায় বৌদ্ধধর্ম হিন্দুধর্মের বিবর্তিত রূপ ।
হিন্দু দেবতারা হিন্দুদেরকে, বৌদ্ধ দেবতারা বৌদ্ধ দেবতাদেরকে , মুসলিম দেবতারা মুসলিমদেরকে এবং খ্রিষ্টান দেবতারা খ্রিষ্টানদেরকে সাহায্য করে থাকে।
ইসলাম এবং খ্রিষ্টান ধর্ম সম্পর্কে ভালোভাবে যদি জানা থাকে, তবে সে অবশ্যই স্বীকার করে নিবে যে, ইসলাম ধর্ম খ্রিষ্টান ধর্মের ধার করা জ্ঞানের ওপর প্রতিষ্ঠিত। আর বৌদ্ধ এবং হিন্দুধর্মের মাঝে চিরাচরিত সম্পর্ক বিদ্যমান। ওপরের বাক্যে দেবতাদের মধ্যে কেমন জানি হিংসার গন্ধ পাচ্ছি। আমি বৌদ্ধ দেবতা আর সে বৌদ্ধ, তাই আমি তাকেই সাহায্য করবো। কিংবা সে মুসলমান আর আমি মুসলিম দেবতা, তাই আমি তাকে সাহায্য করবো । ও হ্যাঁ, ইসলামের দেবতা হবে না ইসলামের হবে জ্বীন
বৌদ্ধ দেবতারা অন্যদের তুলনায় উজ্জ্বল ও শান্ত। তাদের নিকট অন্যন্য দেবতাদের চেয়ে অধিক ধন-সম্পদ থাকে।
কেন? বৌদ্ধ দেবতারা অন্যান্য দেবতাদের থেকে শান্ত কেন? তারা কি বিশেষ কিছু দিয়ে তৈরি? আচ্ছা, এই দেবতাগুলোকে কে তৈরি করেছে? হিন্দু, মুসলিম, খ্রিষ্টান ধর্মে ঈশ্বর আছে। তাই ধরে নিলাম, তাদের ঈশ্বর তাদেরকে ধন দিলো, সম্পদ দিলো। কিন্তু বৌদ্ধ দেবতাদের দিল কে? বৌদ্ধ ধর্মে তো ঈশ্বর নেই।
মানুষ্য লোকে স্বর্গ ও ধর্মলোকে যা ধন-সম্পদ আছে তদ অপেক্ষা ভগবান বুদ্ধের ধন-সম্পদ অনেক বেশি।
হায় রে কপাল! এ তো দেখি টাকার খেলা শুরু হয়েছে
আমরা বৌদ্ধ দর্শনের ইতিহাস অনুসারে জানি, বুদ্ধ মহা-পরিনির্বাণ লাভ করেছেন। মহা-পরিনির্বাণ হলো আত্মার নিঃশেষ। অর্থাৎ একটি প্রদীপ নিভিয়ে দিলে তার আলো কোন দিকে যায় তার যেমন অস্তিত্ব পাওয়া যায় না তেমন নির্বাণ অনুরূপ। কিন্তু শ্রদ্ধেয় ভান্তে বলেছেন, “ভগবান বুদ্ধের ধন-সম্পদ অনেক বেশি।” এইখানে ভগবান বুদ্ধ আসলো কোথেকে? তাঁর আত্মা তো নিঃশেষ হয়েছে। ধরে নিলাম বুদ্ধ স্বর্গে থাকেন? কিন্তু তিনি এতো ধন-সম্পদ পেলেন কোথায়? কে দিয়েছে? নিশ্চয় ঈশ্বর?























