২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০১১

ঈদে মিলাদুন্নবি ও অসময়ে আমার কোরবানিকথন


লিখেছেন সৈকত চৌধুরী

ঈদে মিলাদুন্নবিতে সুলেমান কাকা গরু শিরনির আয়োজন করিলেন। সে এক এলাহি কারবার। ভোর হইতে মানুষ গমগম করিতেছে। সারারাত হুজুরদের গলা ফাটাইয়া দরুদ পাঠ আর ওয়াজের ঠেলায় একটুও ঘুমাইতে পারি নাই, এদিকে সকাল হইতে না হইতেই এই কাণ্ড। শান্তিতে যে একটু বসিব, তাহারও জো নাই। এদিকে সুলেমান কাকার আশেপাশে না থাকিলে তিনি বড় রকমের শাস্তির ব্যবস্থাও করিতে পারেন ভাবিয়া মনটা থামিয়া থামিয়া কান্দিয়া উঠিতে থাকিল। 

ঘটনা হইল, তাঁহার পিত্তথলিতে টিউমার হইয়াছিল। বহু পানি-পড়া, তাবিজ-কবচ করিয়া যখন ব্যর্থ হইলেন তখন সৈয়দপুরের বড় হুজুর বলিলেন, বড়সড় দেখিয়া একটা গরু মান্নত করিতে। তিনি আল্যা-রচুলের নাম লইয়া তাহাই করিলেন। কিন্তু রোগ তো আর সারে না। শেষ পর্যন্ত ইহুদি-খ্রিস্টানদের শিক্ষায় শিক্ষিত বে-ঈমান ডাক্তারদের শরণাপন্ন হইলে তাঁহাকে অপারেশন করানোর জন্য বলা হইল। তিনি প্রথমে রাজি না হইলেও আমাদের সবার অনুরোধে ঢেঁকি গিলিলেন। তাঁহার অপারেশন হইল এবং রীতিমত তিনি সুস্থ হইয়া উঠিলেন। তাঁহার স্মরণ হইল, মান্নতের কথা। তিনি বলিয়া বেড়াইতে লাগিলেন, ডাক্তাররা তাঁহার পিত্ত কাটিয়া ফেলিয়াছে আর বড় হুজুরের দোয়ায় ও গরু-শিরনির বদৌলতে তিনি আরোগ্য লাভ করিয়াছেন। গরু শিরনির মান্নতের কারণে আল্যা খুশি হইয়া তাঁহার রোগ দূর করিয়া দিয়াছে। শুভ দিন দেখিয়া আজ ঈদে-মিলাদুন্নবিতে তাই তাঁহার এ আয়োজন। 

অনেক মুচলমান মুহাম্মদের জন্ম ও মৃত্যু ঐ একদিনে ঘটিয়াছিল ধরিয়া নিয়া এইদিন মহা-আড়ম্বরে ঈদে-মিলাদুন্নবি পালন করিয়া থাকেন। কিন্তু আমি বিস্তর কিতাব ঘাঁটিয়া কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র পাইলাম না - হজরত ঠিক কোন দিন জন্মিয়াছিলেন বা মরিয়াছিলেন, স্যরি, ওফাত করিয়াছিলেন; চার-পাঁচটা তারিখ লইয়া হাতড়িয়া বেড়াইতে থাকিলাম- এদিকে মুমিন-মচলমানরা ঈমানের সহিত ওই দিন ঈদ পালন করিয়াই চলিয়াছেন। ঈমান থাকিলে আর ঘিলুর দরকার কী? 

এই যে পশু উৎসর্গের ব্যাপারটা তাহা নিয়া কথা বলিতে গেলে কোরবানির কথা স্মরণ হইয়া যায়। এই জন্যই অসময়ে আমার এই কোরবানিকথন। 

কোরবানি মানে হল উৎসর্গ করা। আমরা মুমিন-মসলমানরা আল্যাফাকের নামে কোরবানি দেই - প্রতি বছর কোরবানির ঈদ এলেই পশু জবাই করে রক্তে ভাসিয়ে দিয়ে প্রমাণ করি, কতটা ভয়াবহ ঈমান আমাদের রয়েছে। যাই হোক, এই যে পশু উৎসর্গ করার ব্যাপারটা,  এটি কিন্তু মূলত পৌত্তলিকদের ব্যাপারস্যাপার। তাদের কাছ থেকে ইব্রাহিম, মহাউন্মাদ সবাই ধার করেছেন। 

ইচলামে শুধু পশু কোরবানি নয়, আরো অনেক প্যাগান উপাসনা রীতি অব্যাহত রয়েছে। কাবা ঘরের চারদিকে ইচলাম পূর্ব যুগের পৌত্তলিকেরা উলঙ্গ হয়ে ঘুরত- এটা অনুসরণ করে মুচলিম বন্ধুরা কাবার চারদিকে চক্কর দেন। 

পাথর পূজার প্রচলন ছিল ইচলামপূর্ব যুগে, একে অনুকরণ করে পাথরকে চুম্বন করেন। এছাড়া শয়তানকে ঢিল ছোড়ার মত জিহাদি কাজ করতে গিয়ে ঈমানের ঠেলায় পদপিষ্ট হয়ে মারা যাওয়ার ব্যাপারটা হিসাবে নাই বা আনলাম (২০০৪ সালে ২৫০ ও ২০০৬ সালে ৩৬০ জন মারা গেছে এই কাজে। বুঝলেন, ঈমানের জোর কতটা মজবুত হতে পারে?)।

পৌত্তলিকেরা তাদের দেব দেবীর নামে, তাদেরকে সন্তুষ্ট করার লক্ষ্যে কোরবানি দিত। বিশ্বের নানা জায়গায় দেব-দেবীর উদ্দেশ্যে এই পশু-কোরবানির রীতি প্রচলিত ছিল, এমনকি এখনো আছে পুরোদমে। পৌত্তলিক গর্দভরা ভাবত, দেবতার নামে পশু-কোরবানি করলে উনি সন্তুষ্ট হয়ে যাবেন। কিন্তু মুমিন-মুচলমানরা নাকি এতটা গর্দভ না। তাদের আল্যার নাকি কল্লা না থাকতে পারে, তবে ঘিলু আছে। কিন্তু একটা বিষয় বুঝি না, আল্যা যদি সন্তুষ্ট হতে চায়, তবে তার ব্যান্দাগো দিয়া পশু কোরবানি করাইয়া, এক মাস উপবাস রাইখা বা তাগোরে মসজিদে নিয়া মাটির মধ্যে কপাল ঠুকাইয়া সন্তুষ্ট হবেন কেন? তার সন্তুষ্ট হওয়ার এত শখ থাকলে তিনি তো ইচ্ছে করলে নিজে নিজে কোনো কারণ ছাড়াই সন্তুষ্ট হইয়া নিজ আরশে তাহার ফেরেশতাগো লইয়া ইচ্ছামতন মৌজ করতে পারেন। তারে কে বাধা দেয়? 

আমি ভাবতে পারি, আল্যাফাকের ইচ্ছা হইল, তিনি সন্তুষ্ট হইবেন তার বান্দাদের উপর। রাম-রহিম মিল্ল্যা আল্যারে এমন গালি দিল, যা কেউ জনমেও শোনে নাই। আর আল্যাও তাতে এমন সন্তুষ্ট হইলেন যে, উদ্বাহু নৃত্যে আরশ ভাঙ্গিয়া ফালাইলেন। কেন, কারো গালিতেও তো ইচ্ছে করলেই উনি আনন্দিত হতে পারেন, আবার যেমনটি বলেছি বিনা কারণেই ইচ্ছে করলেই তিনি আনন্দিত বা তার ব্যান্দাদের প্রতি সন্তুষ্ট হতে পারেন, তাতে সমস্যা কী? 

আর আমি ত্যাড়া চিন্তা করে অভ্যস্ত তো! ভাবছি, আল্যার মত অসীম ক্ষমতাবান, পরম করুণাময় সীমাহীন জ্ঞানীর কারো প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে যাওয়া বা কারো উপর রেগে যাওয়া শোভা পায় কি না বা এটা তাকে মানব মনের কল্পনা হিসাবে প্রমাণ করে কি না। কেননা পশু হত্যা, মেঝেতে কপাল ঠুকানো, কাবার চারদিকে আধ-ধামড়ার মত ঘুরে বেড়ানো ইত্যাদিতে সন্তুষ্ট যে হয় সে আবাল ছাড়া আর কিছু না। 

ও আচ্ছা, আগের যুগে প্যাগানরা দেব-দেবীর নামে কোরবানি দিয়ে পশুটা পুড়িয়ে ফেলত বা ফেলে দিত কিন্তু মুচলমানরা করে কি -কোরবানি দিয়ে নিজে নিজে আবার খেয়ে ফেলে। কেউবা আবার সারা বছরের আমিষের যোগান হিসাবে ডিপ-ফ্রিজে তা ঢুকিয়ে রাখে। এখন কথা হল: এইডা আবার উৎসর্গ হইল কেমতে? মানুষ যেমন নিজের মগজের সাথে রমণ করিয়া ঈশ্বরের জন্ম দিছে, তেমনি আবার সে ঈশ্বরকে নিয়া ঠাট্টা করতেও দ্বিধা করে নাই। 

কোরবানির ঈদের কিছুদিন আগের কথা। ঘরে বসে টিভি দেখছিলাম। সামনে কোরবানির ঈদ, তাই স্বাভাবিকভাবেই কোরবানি নিয়ে মাতামাতি। এক চ্যানেলে দেখলাম, হুজুর বলছেন, কোরবানির মাধ্যমে আমরা মনের পশুকে কোরবানী দেব। আর এটাই কোরবানির আসল তাৎপর্য। বড়ই সৌন্দর্য!!

আচ্ছা, পশুদের মধ্যে খারাপ কি আছে? নির্মম অপরাধগুলোকে আমরা সাধারণত ‘পাশবিক’ বলে থাকি। কিন্তু পশুরা কি ইচ্ছে করলেও আমাদের মত নির্মম হতে পারবে? আমরা নিজেরাই নিজেদের সৃষ্টির সেরা ঘোষণা দিয়েছি। পশুদের সাথে আমাদের দূরত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে বিগত মাত্র কয়েক হাজার বছরে। মানুষ একসময় পশুদের মতই গর্তে বসবাস করত, অসহায় ছিল, মাছ-মাংস যা পেত, তা কাঁচা খেত, আগুন জ্বালাতে পারত না (শিকারী মানুষ পশুদের সাথে সংগ্রাম করেই জীবন কাটাত, যেখানে প্রায়ই তারা পশুদের সাথে হার মানতে বাধ্য হত। এখনো আমরা যদি সুন্দরবন বা গহীন কোনো বনাঞ্চলের মানুষের দিকে তাকাই, তবে দেখতে পাই পশুদের সাথে মানুষের সংগ্রামের চিত্র।) অর্থাৎ আমরা নিজেরাও পশু অবস্থা থেকেই মানুষ অবস্থায় এসেছি, যদিও উচু দালানে বসে তা কল্পনা করা বেশ দুরূহ। কিন্তু আমরা যদি দুর্দশাগ্রস্থ উপজাতিদের অবস্থা দেখি, বনে-জংগলে বসবাস করা মানুষদের দিকে তাকাই, অন্যান্য প্রাণীদের সাথে আমাদের জেনেটিক মিলের ব্যাপারটা বিবেচনায় আনি, তবে তা মেনে নিতে সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

যাই হোক, মূল প্রসঙ্গে ফিরে আসি। আসুন আমরা কতটা খারাপ আর পশুরা কতটা খারাপ, তার একটা তুলনা করি এবং মনের পশুকে কোরবানি দেওয়ার আবশ্যিকতা বিবেচনায় আনি:

১। মানুষ কারণে-অকারণে নির্মম উপায়ে যত পশু হত্যা করেছে, কোনো পশু কি সেরকম করেছে? অন্য পশুরা নিজের খাদ্যের ও নিরাপত্তার প্রয়োজনে অন্য পশুকে হত্যা করে। কিন্তু আমরা মানুষেরা অত্যন্ত উদ্ভট ধর্মীয় বিশ্বাসের জন্য লক্ষ-লক্ষ পশুকে হত্যা করছি (কোরবানি, দেবতার উদ্দেশ্যে বলি ইত্যাদি)।

২। মানুষ কর্তৃক কত মানুষ এ পর্যন্ত নিহত হয়েছে, আর আন্যান্য পশু কর্তৃক কত মানুষ নিহত হয়েছে? গণহত্যা নামক ব্যাপারটা অন্য কোনো প্রাণীর মাঝে আছে কি? 

৩। মানুষ কর্তৃক যে হারে মানুষ নিহত হয়, সে হারে অন্য কোনো প্রাণী কি স্ব-প্রজাতি কর্তৃক নিহত হয়? পশুরা কতটা হিরোশিমা-নাগাসাকি কাণ্ড ঘটিয়েছে?

৪। কোনো পশু কি মানুষের মত এতটা শৃংখলা ভংগ করেছে বা স্ব-প্রজাতীর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে?

এভাবে তালিকা করলে বিশাল হয়ে যাবে। মূল প্রশ্নটা হল, পশু জিনিসটার মধ্যে এমন কী খারাপ গুণ আছে যে, উৎসব করে বর্বর উপায়ে পশু হত্যার মাধ্যমেই “মনের পশুকে” দূর করতে হবে?

বুঝলেন, ঈমানদাররা কখন কী ভাবে আর কখন কী করে, কোনো ঠিক নেই। মহা-মূল্যবান ঈমান টিকাইয়া রাখিতে নিজের মনের মাধুরী মিশাইয়া অতি মজাদার যুক্তি অন্বেষণে তাহাদের জুড়ি মিলা অসম্ভব। ইহাতে যে বিশ্বাস করিবে না, সে এক্ষুণি মরিয়া হাওয়ার সাথে মিলাইয়া যাক। 

পরিশেষে, মুমিন-মুচলমানরা নাকি কোরবানি দেয় ইব্রাহিমকে অনুসরণ করে (ইব্রাহিমের আসল নাম কি ছিল, তা আল্যাফাকও নিশ্চিত নন, কারণ উহা বাইবেলে এক রকম বানান ও কোরানে আরেকরকম)। ইব্রাহিমের মাথায় ঘিলু যে কম ছিল, তাহা সম্যক বুঝিয়াছি। আমার সাথে থাকলে আপনারাও বুঝবেন। উনারে নাকি আল্যাফাক পরওয়ারদেগার আদেশ করিয়াছিলেন সবচেয়ে প্রিয় বস্তু কোরবানি করতে। উনি করলেন কি, উনার ছেলেকে কোরবানি দিতে নিয়া চইলা গেলেন (ইহুদি-খ্রেস্টানরা বলে ইব্রাহিম নাকি আইজ্যাক বা ইসহাকরে কোরবানি দিতে গিয়াছিলেন যার সাথে তাদের জাতির সম্পর্ক আছে। আর মুচলমানরা কয়, না, ইব্রাহিম আমাগোর মহাউন্মাদের পূর্বপুরুষ ইচমাঈলকে কোরবানি দিতে গিয়াছিলেন। 

মুচলমানরা সব কিছু বেশি জানে, তারা এটাও বেশি জানে, খ্রেস্টানদের নবীকে কীভাবে আল্যাফাক উপরে উঠাইয়া নিয়া গিয়াছিলেন, যা খ্রেস্টানরা নিজেরাও জানে না। ইব্রাহিমের মাথায় তার ছেলেকে কোরবানি দেয়ার চিন্তা কেমতে আসিয়াছিল, তা ভাবিয়া খুঁজিয়া দেখিলাম, তখনকার যুগে নরবলির প্রচলন ছিল, অনেকে নিজ সন্তানকেও দেব-দেবীর উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করত; আর ইব্রাহিম যতটা ভাবা হয় ততটা খাঁটি একেশ্বেরবাদী ছিলেন না (তিনি অনেক পৌত্তলিক প্রথায় বিশ্বাসী ছিলেন, কেনানে গিয়া মূর্তি পূজা শুরু করেন ইত্যাদি) যাই হোক, আমি ভাবতে চাই, ঘটনাটি এরকম ঘটেছিল:

আল্ল্যাফাক: হে ইব্রাহিম, তুমি আমার নামে তোমার সবচেয়ে প্রিয় বস্তু কোরবানি দাও।

ইব্রাহিম: হে আল্যাফাক, পরওয়ার দেগার, তুমি তো জানো যে তুমিই আমার সব চেয়ে প্রিয় বস্তু। খাসির (বা দুম্বা যেইটা পছন্দ করেন) রুপ ধারণ করিয়া জমিনের মইধ্যে চইলা আহেন। আমি আদর করিয়া আপনারে জমিনে শোয়াইয়া আপনার নামে আপনারেই কোরবানি কইরা দেই। আল্যাহুফাকবার!!

আর এই ঘটনার স্মরণে আল্যা সুবহানাহু ওতাআ’লা প্রতি বছর কোরবানি ঈদের সময় জমিনে যতজন ঈমানদার ব্যান্দা রহিয়াছে, ততটি খাসির রূপ ধারণ করিয়া ধরণীতে চলিয়া আসিলেন আর মুমিন-মচলমানগণ তাহাকে ধরিয়া মনের সুখে তাহার নামেই কোরবানি করিয়া পরের বছর আবার কোরবানি করনের লাইগ্যা স্বস্থানে ফেরত পাঠাইল। চুভানাল্ল্যা!!! নিশ্চয়ই আল্যার জন্য কিছুই অসম্ভব নহে!! 

কিন্তু যা আগে বললাম, ইব্রাহিমের ঘিলু কম ছিল (মুমিন মুচলমানদের ঘিলু কম থাকতে হয়, এ শিক্ষাও এখান থেকে আমরা পেতে পারি)। তাই তিনি এমনটি করেন নাই। আর এজন্যই মুমিন-মুচলমানরা পশু জবাই করিয়া রক্তে ভাসাইয়া তাদের ঈমানের জোর প্রদর্শন করিতে যাইয়াও কোনো কূল করিতে পারিতেছে না। 

প্রিয় পুরনো পোস্টগুলো – ৩১


ধর্মকারীতে পোস্টের সংখ্যা আঠারোশো ছাড়িয়ে গেছে। এই সাইটের খোঁজ যেসব পাঠক সম্প্রতি পেয়েছেন বা ভবিষ্যতে পাবেন, তাঁদের পক্ষে আগে প্রকাশিত মজাদার পোস্টগুলো খুঁজে নেয়া ব্যাপক শ্রম- ও সময়সাধ্য ব্যাপার হবে ভেবেই হারানো-দিনের-পোস্ট ধরনের এই সিরিজের অবতারণা। পুরনো পাপীরাও এই সুযোগে স্মৃতিচারণ করে নিতে পারেন 

প্রতি পর্বে আমার বিশেষ প্রিয় পাঁচটি পোস্টের লিংক দেবো সংক্ষিপ্ত বর্ণনাসহ। শুরু করেছি ধর্মকারীর আদিকাল থেকে।

১. দ্য ফ্লিন্টস্টোনজ: ধর্মবিশ্বাসীদের জন্য ডকুমেন্টারি (একাধারে বিনোদন ও বিষাদময় সংবাদ) 

আগের পর্বগুলো দেখতে নিচের "কাসুন্দি" ট্যাগে ক্লিক করুন।

স্টার ট্রেক-এ ধর্মচিন্তা


জনপ্রিয় সাই-ফাই টিভি-সিরিজ স্টার ট্রেক নির্মাতা Gene Roddenberry ছিলেন নিরীশ্বরবাদী। ১৯৯১ ও ১৯৯২ সালে
The Humanist magazine ও Free Inquiry magazine-এ প্রকাশিত তাঁর সাক্ষাৎকার থেকে দু'টি উদ্ধৃতি:

১.
সর্বজ্ঞ সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী ঈশ্বরের গল্পের যৌক্তিকতা নিয়ে অবশ্যই প্রশ্ন করা উচিত। সে ভুলভ্রান্তিতে ভরা মানুষ বানায়, আবার নিজের ভুলের জন্য দায়ী করে তাদেরকেই।

২.

স্থূলবুদ্ধিমত্তার মাত্রা হিসেবে আনলে ধর্মগুলোর ভেতরে তারতম্য লক্ষ্য করা যায় বটে, তবে আমি সবগুলোকেই বাতিল করে দিই। বেশির ভাগ লোকের জন্য ধর্ম হচ্ছে তাদের নিষ্ক্রিয় মস্তিস্কের বিকল্পমাত্র।

এবার স্ট্রার টেক-এর সিরিজ ৩, এপিসোড ৪ থেকে ঊনচল্লিশ সেকেন্ডের একটি অংশ দেখা যাক।


* ভিডিওর লিংক পাঠিয়েছেন দ্রোহী। 

শির উঁচু ক'রি মুসলমান


এই ছবির জুতসই ক্যাপশান দিতে পারবেন কেউ?


ডিজে জিসাস

বড়োই আমোদ পেলাম 
মাত্র এক মিনিটের ভিডিও।


ভিডিওর শেষে, খুব সম্ভব, ইতালীয় ভাষায় দু'টি সংলাপ আছে। অনুবাদ করে দিতে পারবেন, আছেন নাকি এমন কেউ?

ধর্মবাজদের নেটাতঙ্ক


ধর্ম নামের আদ্যিকালের কুৎসিত রূপকথা নতুন প্রজন্মের মগজে সিঁধিয়ে দিয়ে তাদেরকে ধর্মানুসারী করে রাখা এখন আগের চেয়ে অনেক-অনেক বেশি দুরূহ হয়ে পড়েছে। সেটির অন্যতম কারণ - ইন্টারনেট। অজস্র তথ্য-উপাত্ত, যা ধর্মবাজেরা গোপন রাখতে পারলেই খুশি হতো, এখন সকলের হাতের মুঠোয়। ইন্টারনেটেই নতুন প্রজন্ম পরিচিত হচ্ছে নতুন-নতুন, অপরিচিত ধারণার সঙ্গে, তাদের দৃষ্টি উন্মীলিত হচ্ছে, প্রসারিত হচ্ছে। এভাবে গড়ে ওঠা দৃষ্টিভঙ্গিতে ধর্মবিশ্বাস ও অন্যান্য কুসংস্কারগুলোর স্থান নেই। 

ও প্রসঙ্গে ধর্ম এবং ইন্টারনেট এবং ইন্টারনেটে ইসলাম অসহায় নামে আগে প্রকাশিত দুটো চমৎকার ভিডিও দেখে নেয়া যেতে পারে। 

এই পোস্টটি লিখতে উদ্বুদ্ধ হবার কারণ: খবরে পড়লাম, এবার ইহুদি মোল্লারা লেগেছে ইন্টারনেটের পেছনে। যাবতীয় ধর্মবাজদের মতো তারাও যুক্তিরহিত এবং সে-কারণেই দম-ফাটানো-হাস্যোদ্রেককারী কথা বলেছে। কয়েকটি নিদর্শন:
> ইন্টারনেটের কারণে রোগ-বালাই হয়, দৈবদুর্বিপাক হয়;
> যেখানে ইন্টারনেট আছে, সেখানে বৃষ্টি নেই; 
> শত-শত হাজার-হাজার লোক ক্যান্সারে ভুগছে ইন্টারনেটের কারণে;
> ইন্টারনেট কানেকশন নেয়ার অর্থ - ঘরে নিদারুণ ঘৃণা ও বিভীষিকা ডেকে আনা;
> সৃষ্টির আদিকাল থেকে এখনও পর্যন্ত ইন্টারনেটের চেয়ে বেশি বিপজ্জনক ও কলুষিত আর কিছু আবিষ্কৃত হয়নি...
খাড়ান, গড়াগড়ি দিয়া একটু হাইসা লই 

একটি ছোট্ট লেখা নজরে পড়লো এই অপাংক্তেয় ইন্টারনেটেই। নাম: The Internet has sealed the fate of religion। পুরো লেখাটাই তুলে দিই বরং:

This has been on my mind a lot lately. Religion is ancient. I mean, really old. If you look at it from a anthropological/psychological perspective you can see that the establishment of traditions, rituals, and belief system helped created a sense of community, a sense of "others" and played a large part in the establishment of civilizations.

However, I think we are now in the midst of a time and place where the very idea of "community" is rapidly changing. What creates a community, what enables communities to come together, and what enables communities to thrive are dependent factors on newly, rapidly adapting, and incredibly innovative technologies. Furthermore, new globalized mechanisms and economic pratcises spread these further than ever before.

After looking a lot lately at the protests in North Africa, I can only see a lot of globalized factors coming out to play in these people demanding democracy and I can foresee in the future similar factors coming to play in the demand for religious freedoms.

I see religion as something that really relies on the traditional boundaries of communities. Oral history, people looking out for each other in a physical area or a definable geographic landscape, and the control of social communication mechanisms.

The Internet, and the popularity of new technologies that change these boundaries, is increasingly exposing people to new ideas. I like to think that general acceptance of others ideas (other religions, other cultures) is the first thing that this impacts. The second, and hopefully the one that works in the favor of rationalism, is the rejection of ideas that do not logically stand out. Hopefully, with more exposure to cognitive dissonance, the mind becomes more and more accepting of rationality, especially in larger ideas such as theism.
I think the internet will be a huge factor in bringing traditional religious thought to end.

Bit of a rant.
Thoughts?

ইসলামী জঙ্গিবাদের স্বরূপ


ইসলামকে শান্তির ধর্ম বলা আর গোখরোকে নির্বীষ, নিরীহ প্রাণী বলার মধ্যে তফাত বিশেষ নেই। আমি কিন্তু সমস্ত মুসলমান জাতিকে হিংস্র ও বর্বর বলছি না। বলছি, ইসলাম ধর্মে জঙ্গি উপাদান অগণ্য। ইসলামকে সম্পূর্ণভাবে অনুসরণ করলে জঙ্গি না হওয়াটাই অসম্ভব। 

ইসলামী জঙ্গিদের কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণভাবেই কোরান-হাদিসসম্মত ও কোরান-হাদিসসমর্থিত। এদের কাছে পশ্চিমা জগৎ সবচেয়ে বড়ো শত্রু। তাই তাদের ইসলামী কার্যক্রম বহুলাংশে পশ্চিমবিরোধী। এ প্রসঙ্গে বছর পাঁচেক আগে নির্মিত এক ঘণ্টা আঠারো মিনিটের একটি ভয়াবহ ডকুমেন্টারি দেখুন। 


২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০১১

২০০৯-২০১০ সালে নাস্তিকেরা যা যা করেনি – ০৩


নাস্তিক মানেই তার চরিত্র ফুলের মতো পবিত্র - এ কথা ভেবে নেয়ার কোনও ভিত্তি নেই। খুনি, অপরাধী, বদমাশ, লম্পট ধর্মবিশ্বাসীদের মধ্যে যেমন আছে, আছে নাস্তিকদের মধ্যেও। 

তবে এমন কিছু অপরাধ, কুকীর্তি আছে, যেগুলো নাস্তিকদের পক্ষে করা সম্ভব নয় বাই ডেফিনিশন। কারণ সেসব করতে গেলে অনিবার্যভাবে প্রয়োজন ধর্ম- ও ঈশ্বরবিশ্বাসের। 

এই জাতীয় কাজের ফিরিস্তিওয়ালা একটি নিবন্ধ বাংলায় ভাবানুবাদ করেছেন ধর্মকারীর স্বেচ্ছাঅনুবাদকগোষ্ঠীর একজন একলা চলো। খবরগুলো পুরনো হলেও বড়োই কৌতূহলোদ্দীপক। পড়েই দেখুন না!

> ৪৫ বছর বয়স্ক গান্থার লিঙ্ক লিফটে আটকা পড়েছিলেন, মুক্তি পাওয়ার সাথে সাথেই তিনি দৌড়ে গির্জায় যান ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানাতে, ঈশ্বর তাকে ৪০০ কেজি ওজনের পাথরের বেদীর তলায় ফেলে ধন্যবাদের জবাব দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এক ধরনের ঐশী রসিকতা। নাস্তিক হলে ধন্যবাদ জানাতো সে প্রকৃত রক্ষাকারীকে এবং প্রাণেও বেঁচে যেতো।

> ১১৭ জন, যাদের মধ্যে ৪৭ জন শিশু, পবিত্র পানি পান করে অসুস্থ হয়ে পড়ে, পরে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। নিশ্চয়ই যারা অসুস্থ হয়েছে তারা ঘোর পাপী, নয়ত মনে মনে নাস্তিক ছিল, এই জন্যেই “পবিত্র পানির” ধকল সহ্য করতে পারেনি।

> নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ তাদের পুরস্কৃত করেন, যারা পর্দা পালন করে। সেটাই, বোধহয়, করেছেন তিনি। সিডনিতে একজন মহিলা গো কার্ট গাড়ি নেকাব পড়ে চালাচ্ছিলেন, আল্লাহ্‌ এই পর্দানশীন মহিলাকে শ্বাসরোধ করে পুরস্কৃত করেন।

> পাকিস্তানে ব্ল্যাসফেমি আইনের আওতায় ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জুকারবার্গকে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার আবেদন করেছে কয়েকজন আইনজীবী, কারণ জুকারবার্গ “মোহাম্মদকে আঁকো প্রতিযোগিতা” পেজটা বন্ধ করছেন না। নিশ্চই জুকারবার্গের উচিৎ কোন পেজটা কার অনুভূতিতে আঘাত করল এটা দেখে বেড়ানো আর ব্যাবস্থা নেয়া, বিশেষ করে পেজটা যদি হয় শান্তির ধর্মের বিরুদ্ধে।

> হাইতিতে ভূমিকম্পের এক মাস পরে এক জুটি বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন, তারা ভুডু নিয়ম অনুসারে বিয়ে করেন, তাদের বিয়েতে বেশ সাহায্য করে স্থানীয় ইভ্যাঞ্জেলিক খ্রিষ্টানেরা (নাস্তিকেরা নয়)... পাথর নিক্ষেপ ক'রে। ভুডু বিয়ের নিয়মই হয়ত পাথর নিক্ষেপ করা, কারণ ধার্মিক লোকজন তো আর কাউকে আহত করার জন্য কিছু করবে না, ধর্মগ্রন্থে তো তা-ই লেখা আছে।

> দক্ষিণ আফ্রিকাতে জাগ্রত জনতা নয় সদস্যের এক পরিবারকে বাড়ী থেকে বের করে দিয়ে বাড়ীটা পুড়িয়ে দিয়েছে, কারণ ওই বাড়ীর লোকজন নাকি ডাকিনীবিদ্যা চর্চা করছিল। পরিবারটি বাড়ী হারিয়ে খাদ্য ও বস্ত্রহীন অবস্থায় একটি আশ্রমে অবস্থান করছিল। জাগ্রত জনতার মধ্যে ক'জন নাস্তিক ছিল জানতে ইচ্ছা হয়।

> ইহুদি লোকজন ইসরায়েলে ইন্টেল কোম্পানির কারখানার সামনে বিক্ষোভ করে, কারণ কারখানাটা ধর্মীয় রীতিমাফিক বিশ্রামের দিনেও (ইহুদি ধর্মমতে, এদিন কোনো ধরনের কাজ করাই পাপ) চালান হচ্ছিল, তারা গাড়ী ভাঙচুর ও থুতু নিক্ষেপ করে। বিশ্রামবারে বিক্ষোভ করাটা কাজের পর্যায়ে পড়ে নাকি গবেষণা করা দরকার।

> জন স্মিথের বাবা মার নিশ্চয় কল্পনাশক্তির অভাব ছিল, কিন্তু জন স্মিথের তার অভাব নেই। সম্প্রতি তিনি গর্ভবতী অবস্থার জেমি হার্মসকে বরখাস্ত করেছেন। কারণ জেমির গর্ভের শিশু নাকি তার খারাপ শক্তি বিকিরন করছিল। জনের গুনিনও এই ব্যাপারে মোটামুটি নিঃসংশয়। একান্ত উপায়হীন হয়ে নিজেকে বাঁচানোর আর কোন উপায় না পেয়েই তিনি জেমিকে বরখাস্ত করেন।

> নাইজেরিয়াতে তিন দিন খ্রিষ্টান ও মুসলমানদের মধ্যে দাঙ্গাতে অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। মনে হচ্ছে, কাদের ঈশ্বর বেশি দয়াময়, তা নিয়ে বিবাদ হচ্ছিল। সাম্প্রতিককালে নাস্তিকদের এক দাঙ্গায় ... ইয়ে মানে... এটা কখনো হয়নি।

> ৭২ জন হুরের কথা অনেকেই জানেন, কিন্তু ইসরায়েলি ত্রাণকর্তার ৭২ জনের দরকার নেই, ১৭ জন নিয়েই তিনি খুশি। অবশ্য সংখ্যাটা ৩০-ও হতে পারে, যা-ই হোক না কেন, বউয়ের সংখ্যা ১৭ হোক আর ৩০ হোক অথবা সন্তানসংখ্যা ৬০ নাকি কতো, তার গোনাগুনির সময় নেই। তিনি বিভিন্ন ধরনের নিয়ম কানুন তৈরিতে ব্যস্ত।

> দ্রুত উত্তর দিন:
গির্জা বলছে আপনার মা একজন ডাইনী, আপনি কী করবেন
১) যে বলেছে তাকে পেটাবেন (সে যাজক হলেও)। 
২) গির্জার নামে মামলা করবেন। 
৩) চুপ করে থাকবেন (পাগলের প্রলাপে কান দেয়ার কোনো মানে নেই)। 
৪) মার গলা কেটে ফেলবেন (কারন যেহেতু গির্জা বলেছে এটা মিথ্যা হতেই পারেনা)। 
একজন খ্রিষ্টান সুসন্তান কোনটি বেছে নিয়েছে, আন্দাজ করতে পারবেন? 

পোপ বলেছেন, আফ্রিকাতে কনডম ব্যবহারের কারণে এইডস এর প্রকোপ বাড়তে পারে কারণ... আরে! পোপ বলেছেন, আবার কারণ-টারণ লাগে নাকি? ধুর! 

> খ্রিষ্টান যাজকরা যে হরদম শিশুদের যৌনহয়রানি করে চলছে, এটা কাদের দোষ? আমার আগেও সন্দেহ ছিল, এখন তা আরো দৃঢ় হল, দোষটা সমকামীদের, শিশুকামিদের নয়। বাঙালির তিন হাত: ডান হাত, বাঁ হাত আর অজুহাত। খ্রিষ্টান যাজকদের আছে শুধুই অজুহাত।

> জুম্মাবারে নামায পড়তে হয়, প্যারিসে শুক্রবারে মুসল্লিরা নামাজ পড়তে তাই, দোকান ও বসতবাড়ির সামনে গালিচা বিছিয়ে দাঁড়িয়ে যায়। মাত্র আড়াই ঘণ্টা ব্যবসা না করলে কিংবা বাড়ী থেকে বের না হলেই হয়, কিন্তু বেরসিক দোকানদার আর বাড়ীর বাসিন্দারা আবার এটা নিয়ে নালিস করছে বলছে এটা নাকি আইনত অবৈধ, আবার গণমাধ্যমের লোকজন আসছে ক্যামেরা নিয়ে, শান্তিতে নামায পরার জন্য তাই মুসল্লিদের “দারোয়ান” নিয়োগ করতে হয়েছে।

শান্তির ধর্মের একজন একটি লোককে মেরে চোয়াল ভেঙ্গে দিলো, আপনি বিচারক হলে কি করতেন? 
১) জেলে পাঠাতেন (নিঃসন্দহে লোকটি যা করেছে তা ভুল)। 
২) জরিমানা করতেন (যার চোয়াল ভেঙ্গেছে তার চিকিৎসার অর্থের জন্য)। 
৩) দুটোই। 
৪) বেকসুর খালাস (নিশ্চয়ই চোয়ালটি বৃহত্তর শান্তি অর্জনের উদ্দশ্যেই ভাঙা হয়েছিলো)। 

> আপনি যদি শান্তির ধর্মের কেউ হয়ে থাকেন, তাহলে ফুটবল খেলা দেখা ছেড়ে দিন, কারণ আপনার আপন পরিবার আপনাকে হত্যা না করলেও ধর্ম-পুলিশরা ঠিকই করবে। তবে আপনি নাস্তিক হলে এ ধরনের কোনো বিধিনিষেধ নেই আপনার জন্য।

> জুলিয়া ফেইথমোরের ছয় মাসের শিশুসন্তান লভ ফেইথমোর কিছুতেই কান্না থামাচ্ছিল না। তাকে শান্ত করার জন্য জুলিয়া তার মুখে বাইবেলের পাতা ছিঁড়ে ভরে দিতে থাকে। লভ কান্না থামিয়ে দেয়, চিরদিনের জন্যই, বাইবেলের পাতাগুলো তার দম আটকে দিয়েছিল। যখন সামাজিক কর্মীরা এসে পৌঁছায়, তারা দেখতে পায়, তার বাবা শিশুটির মধ্য থেকে শয়তানকে তাড়ানোর চেষ্টা করছে। ধর্মগ্রন্থ তথা ধর্ম কোথাও শান্তি আনে বা এনেছে, এই জিনিসটা এখন দেখার আছে আমার। 

কমিক: কামুক ০২


নিশ্চয়ই আল্যাফাক ধর্মকারীর উপরে রুষ্ট হয়েছেন নবীজিকে পচানো হয়েছে বলে। ফলে কোনও এক রহস্যময় কারণে কয়েকজন পাঠক এই কমিকের ছবিগুলো দেখতে পাচ্ছিলেন না। আশা করছি, সমস্যা দূরীভূত করতে সমর্থ হয়েছি। এটি আপডেটেড পোস্ট।  


ধুমধাড়াক্কা টাইপ জনপ্রিয় কমিক "কামুক"-এর দ্বিতীয় পর্ব এবার সম্পূর্ণ বাংলায়!

এর পরে হলিউডি ঐতিহ্যের ধারায় "রিটার্ন অভ দ্য কামুক" নামে আরও একটি পর্ব বানানো যায় নাকি, দেখতে হবে 

ধর্মপচারকের অনুরোধে কমিকটি অনুবাদ ও ইংরেজি টেক্সট বাংলায় প্রতিস্থাপিত করে দোজাহানের অশেষ নেকি হাসিল করেছেন ধর্মকারীর স্বেচ্ছাঅনুবাদক অহম। নিশ্চয়ই আল্যাফাক পুরস্কার হিসেবে নির্ধারিত বাহাত্তরেরও অধিক হুরসহ তাঁকে বেহেশতবাসী করবেন।

আর হ্যাঁ, কমিক: কামুক ০১ পড়া না থাকলে অতি অবশ্য পড়ে নিন।
কমিক দুটোই বড়োদের জন্যে। ইমোটা খিয়াল কৈরা। 

এই কমিক-এর কাহিনী ও পটভূমির সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে এখানে ক্লিক করে পড়ুন।

কাহিনীর শুরু এভাবে: সেদিন হাফসা'র পালা ছিলো নবীর সাথে শোবার। নবী যখন তাঁর ঘরে এলেন, হাফসার দাসী Maria Quptia-ও (কিং অভ আলেক্সান্দ্রিয়ার উপহার) উপস্থিত ছিলেন সেখানে। মারিয়া ছিলেন অতীব আকর্ষণীয়া ইন্দ্রিয়সুখকর রমণী। তাঁর দিকে তাকালে যে-কোনও পুরুষ উত্তেজিত হয়ে পড়তো। আর নবী তো সাধারণ পুরুষ ছিলেন না! তাঁকে দেয়া হয়েছিল তিরিশজন পুরুষের যৌনশক্তি (Bukhari Volume 1, Book 5, Number 268)...

২০০৮ সালে এক ইন্দোনেশীয় ব্লগে এই কমিক প্রথম প্রকাশিত হয়।

পূর্ণাকারে দেখতে ছবিগুলোর ওপরে ক্লিক করুন। 








বৃক্ষপত্রকম্পন, ধর্ষণ - সবই হয় তাঁর ইঙ্গিতে


কেবল ঈশ্বরবিশ্বাসীদের পক্ষেই ধর্ষিতা সম্পর্কে বলা সম্ভব, "ঈশ্বরের ইচ্ছে ছিলো বলেই তিনি ধর্ষিত হয়েছেন। এবং তাঁর উচিত নিয়মিত চার্চে যাওয়া।"

উপর্যুপরি অভিযোগ সত্ত্বেও আমেরিকার সামরিক বাহিনী তার অভ্যন্তরীণ ধর্ষণ-ঘটনাগুলোর বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে সামরিক বাহিনীর কয়েকজন মহিলা সদস্য প্রাক্তন প্রতিরক্ষা সচিব ডোনাল্ড রামসফেল্ড-এর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। 

মামলাপত্রে (পিডিএফ ফাইল) উল্লেখিত অনেক ঘটনার মধ্যে একটির বর্ণনায় উল্লেখ আছে মহিলা-সার্জেন্টের কথা: 

In February of 2009 SGT Havrilla reported for four weeks of active duty training. During this training, she saw her rapist in the shopette on Fort Leonard Wood. Upon seeing her rapist, SGT Havrilla went into shock. She immediately sought the assistance of the military chaplain. When SGT Havrilla met with the military chaplain, he told her that “it must have been God’s will for her to be raped” and recommended that she attend church more frequently.

সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমের মতামত



ফাজিল মাদ্রাসার পরকীয়াপ্রবণ অধ্যাপক



সম্পূর্ণ সংবাদ: 

রেদওয়ান, সুন্দরগঞ্জ থেকে: গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় রিকশা চালকের স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়ায় গণধোলাইয়ে শিকার হয়েছেন উত্তর সীচা মসজিদের ইমাম জিল্লুর রহমান। তিনি বোয়ালী দারুল উলুম দ্বিমুখী সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার আরবি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক।

জানা যায়, উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামের রিকশা চালক রুহুল আমিনের স্ত্রীর সঙ্গে জিল্লুর রহমানের দীর্ঘদিন ধরে প্রেম চলছিল। রোববার গভীররাতে জিল্লুর প্রেমিকার ঘরে ঢুকলে রুহুল আমিনের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে জিল্লুরকে গণপিটুনি দেয়। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। স্থানীয় চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম প্রামাণিক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, এ ব্যাপারে মীমাংসার চেষ্টা চলছে।

বিশ্লেষণাতীত বৈপরীত্য


আমেরিকায় কারাভোগীদের মধ্যে নাস্তিকদের সংখ্যা আনুপাতিক হারে মারাত্মক রকমের কমই শুধু নয়, সবচেয়ে কম। নানাবিধ অপরাধের সঙ্গে তাদের সংশ্লেষের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। অথচ নাস্তিকেরাই আমেরিকায় সবচেয়ে ঘৃণিত সম্প্রদায়। সে দেশের প্রায় অর্ধেক পিতা-মাতা নাস্তিকদের সঙ্গে তাঁদের সন্তানদের বিয়ে অনুমোদন করেন না। 

বিশ্লেষণাতীত এই বৈপরীত্য নিয়ে অসাধারণ এক ভিডিও। 


পথলিখন



২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০১১

কাঠগড়ায় ঈশ্বর


২০০৯ বিবিসি-তে প্রচারিত ছয় পর্বের A History of Christianity সিরিজের শেষ পর্বের নাম God in the Dock। এই পর্বে পশ্চিমা খ্রিষ্টবাদে সংশয়বাদের ভূমিকা বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। 


২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০১১

তিনটি নতুন সংযোজন


ধর্মকারী ব্লগের সাম্প্রতিক তিনটি নতুন সংযোজনের কথা উল্লেখ করা যাক। 

১.
ধর্মকারীর মোবাইল ভার্সন থাকা প্রয়োজন বলে কয়েকজন পাঠক নানান সময়ে  উল্লেখ করেছিলেন। ইউআরএল অবিকৃত রেখে সেই কাজটি করার মতো টেকনিক্যাল জ্ঞান আমার নেই বলে একটি বিকল্প পদ্ধতির আশ্রয় নিতে হলো। তবে এই লিংকটি ব্যবহার করেও স্মার্টফোনের ব্রাউজারে ধর্মকারী পড়া যাবে এবং মন্তব্যও করা যাবে বলে আশা করছি। 

এ প্রসঙ্গে দুটো পরামর্শ দিয়ে রাখা যাক আপাতত: এক. পোস্টের নিচে Next page » বাটন ক্লিক করলে কিন্তু পরের পোস্টে গিয়ে পড়বেন, পরের পাতায় নয়। দুই. পূর্ণ পোস্ট পড়ার জন্য পোস্টের "আগাপাছতলা" বাটন ক্লিক না করে View page directly বাটনটি ব্যবহার করুন। 

পাঠকদের ফিডক্যাক আশা করছি, যদিও এই মুহূর্তে এর চেয়ে বেশি কিছু করার ক্ষমতা আমার নেই। 

২.
যদিও এ যাবত ধর্মকারীতে অবিশ্বাসীদের জন্য পাঠ্য অনেক ই-বুকের ডাউনলোড লিংক দেয়া হয়েছে (আরও আসিতেছে), তবে বইগুলোর জন্যে বিশেষ কোনও ট্যাগ ছিলো না বলে সেসবের নাগাল পাওয়া সহজসাধ্য ছিলো না। এখন "কুফরী কিতাব" নামের ট্যাগে ক্লিক করে এক লহমায় খুঁজে পাওয়া যাবে বইগুলো।

৩. 
ধর্মকারীর চরম বামপন্থী পাঠকদের (যাঁরা শুধু বাম দিকের কলাম অর্থাৎ পোস্ট পড়েন, ডান কলামের দিকে নজরই দেন না) দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। ডান কলামের একেবারে ওপরে "এ সপ্তাহের নির্ধর্মীয় সঙ্গীত" নামে একটি মডিউল যোগ করা হয়েছে। সেখানে ধর্মকারীতে প্রকাশিত গানগুলো থেকে বাছাই করা গানের অডিও সাপ্তাহিক ভিত্তিতে এমবেড করা হবে এবং দেয়া থাকবে লিরিকস ও ভিডিওর লিংক।

আল্লাহ কি মুসলমানদের গরীব করে রাখতে চান?


লিখেছেন হৃদয়াকাশ

আল্লাহ কি মুসলমানদের গরীব ক'রে রাখতে চান? না গরীব থাকাই মুসলমানদের নিয়তি?

১। অনেকদিন আগে থেকেই রেডিও-টিভিসহ বিভিন্ন জায়গায় আল-হাদিসের একটি বাণী লক্ষ্য করি; বাণীটি হলো - ‘পৃথিবীতে যার সম্পদ কম হবে, আখেরাতে তার হিসেব সহজ হবে।’ আমার প্রশ্ন হচ্ছে, পৃথিবীর কয়জন মুসলমান এ বাণীটিকে বিশ্বাস করে? মনে তো হয় না কেউ বিশ্বাস করে । কারণ এমন তো কাউকে দেখি না, যে পরকালের কঠিন হিসাবের কথা চিন্তা করে ইহকালে কম সম্পদ অর্জন ও ভোগ করতে চেষ্টা করে।

২। আবার কুরবানীর মাংস বন্টনের বিধানে দেখতে পাই, তিন ভাগের এক ভাগ মাংস ফকির-মিসকিন অর্থাৎ গরীবদের দিতে হবে। এমনও তো হতে পারে যে, পৃথিবী ও সভ্যতার উন্নতির ফলে একদিন পৃথিবীতে কোনো অভাবী, গরীব লোক থাকবে না। যেমন এখনই পৃথিবীর কোনো কোনো দেশে নেই। তখন ঐ একভাগ মাংসের কী হবে? গরীব বা অভাবী না হলে তো ঐ মাংস কেউ নিতে চাইবে না। আবার ইসলামের হুকুম মতে কুরবানীর তিন ভাগের এক ভাগ মাংস ফকির-মিসকিনদের দিতেই হবে। পৃথিবীতে কোনো গরীব না থাকলে মুসলমানরা কী করবে? এ ব্যাপারে ইসলাম কী বলে? সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ বিধানটি কি পরিবর্তন বা বাতিল ব‘লে গণ্য হবে? কিন্তু যতদূর জানি ইসলামের কোনো নিয়মই পরিবর্তনযোগ্য নয়। তাহলে এই সমস্যার সমাধান কী? সমাধান কি এটাই যে, এই ধরনের সমস্যার কখনও উদ্ভবই ঘটবে না। কারণ, মুসলমানদের মধ্যে এক-তৃতীয়ায়শ লোক সব সময় গরীবই থাকবে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, মুসলমানদের মধ্যে এক তৃতীয়াংশ লোক যদি সব সময় গরীব না থাকে, তাহলে ঐ এক-তৃতীয়াংশ মাংসের সমাধান কী? আর যদি গরীব থাকে, তাহলে কিন্তু স্বীকার করতেই হবে যে, ইসলামে দরিদ্রতাকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। কারণ একদিকে তিন ভাগের এক ভাগ মাংসের সমস্যা; অন্যদিকে বলা হচ্ছে কম সম্পদে আখেরাতে সহজ হিসাবের কথা। 

সুতরাং এই আলোচনার পর এই ধারণাটি কি খুবই অযৌক্তিক যে, আল্লাহ মুসলমানদের গরীব করে রাখতে চান?

বুরকা অ্যান্ড দ্য বিচ – ০২


বিকিনিবহুল সমুদ্রতীর বা অন্যান্য রৌদ্রস্নানস্থলে বোরখাপরিহিতার অবস্থান বড়োই বেমানান, অশোভন, দৃষ্টিকটু এবং অশালীনও বটে। সেখানে তোলা কিছু ছবি ও প্রাসঙ্গিক কার্টুন সংকলন "বুরকা অ্যান্ড দ্য বিচ" ("বিচ" বানান কিন্তু beach। খিয়াল কৈরা!)।

আজ দু'খানা ছবি আর একটি কার্টুন।






প্রশ্নাতীত আনুগত্যের চেয়ে সংশয় অনেক বেশি মানবিক


প্রশ্নাতীত আনুগত্য - অন্ধ বিশ্বাসেরই আরেক নাম। তথাকথিত ঐশী গ্রন্থগুলোর ওপরে নির্ভার নির্ভরতা মানুষকে অমানুষ করে তুলতে পারে অনায়াসে। কী চমৎকারভাবেই না তা বুঝিয়ে দিলেন প্রিয় হয়ে ওঠা ইউটিউবার C0nc0rdance।


নবকালের বাইবেল



আমাদের আত্মীয়েরা – ১৭


দুষ্টু ও চঞ্চল শিশুর সঙ্গে এই বানরের আচরণে কোনও ফারাক আমি খুঁজে পাইনি। মাত্র বারো সেকেন্ডের ভিডিও। অসম্ভব মজাদার।


২১ ফেব্রুয়ারী, ২০১১

বর্জ্য বিধায় বর্জনীয়



বিজ্ঞান ও অপবিজ্ঞান


শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় বিবর্তনবাদ পড়ালে সেটির পাশাপাশি কু-রূপকথাকণ্টকিত, বিজ্ঞানবিবর্জিত উৎকট সৃষ্টিতত্ত্ববাদও পড়াতে হবে - এমন দাবি আসে ধর্মগুলোর পক্ষ থেকে। যেন কেমিস্ট্রি পড়ালে পড়াতে হবে অ্যালকেমিও, অ্যাস্ট্রোনমি পড়ালে অ্যাস্ট্রেলজিও...! কী আব্দার! 

সেই "টিচ দ্য কন্ট্রোভার্সি" দাবিকে ব্যঙ্গ করে বানানো তিন মিনিটের ভিডিও-কার্টুন দেখুন। 


দৈনন্দিন



বিয়ারের বিজ্ঞাপনে বিবর্তনবাদ


খুব মজাদার আইডিয়া। মাত্র একান্ন সেকেন্ডের ভিডিও।


ইসলামে সমকামিতা জায়েজ?


খবরটা পড়ে চমকিত হলাম। ব্রিটেনের মুসলিম সমকামীরা ইসলামী কায়দায় বিয়ের অধিকার দাবি করেছে। তারা একই সঙ্গে সমকামী ও মুসলিম থাকতে চায়। 

রমজান মাসে ইফতারের সময় পরিচিত হওয়া দুই মেয়ের কাহিনী উল্লেখ করা এই রিপোর্টে বলা হয়েছে এ ইমামের কথা, যিনি মনে করেন, সমকামী বিয়ের সঙ্গে কোরানের নাকি কোনও বিরোধ নেই। 

অথচ পুরো মুসলিম জাহানে সমকামিতা নিষিদ্ধ বলেই জানি! কার কথা যে বিশ্বাস করি!

দ্য আল্ট্রা জিয়োনিস্টস


প্যালেস্টাইন ও ইসরায়েলের মধ্যে চলে আসা দীর্ঘকালীন সহিংসতার মূল কারণ অবশ্যই ধর্ম। বিবিসি-র খ্যাতনামা সাংবাদিক Louis Theroux পশ্চিম তীরের উগ্র জাতীয়তাবাদী এক ইহুদি গ্রুপের সঙ্গে কিছুদিন কাটিয়ে বানিয়েছেন এক ঘণ্টার এই ডকুমেন্টারি। 

ইউটিউবে এই ভিডিওতে পাওয়া মন্তব্যগুলো থেকে দুটো উদ্ধৃত করি: 

> Pure fucking insanity. Stealing other peoples homes because a fictional fairy tale character said it was ok to do so. Fuck you.

> "The words of god say this is our? land." Both sides say the same thing.

দ্বিতীয় মন্তব্যটি পড়ে নিচের মনে পড়লো পোস্টারটির কথা, "বুদ্ধু বিধাতা" সিরিজে যা দেয়ার পরিকল্পনা ছিলো: 



১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০১১

আল্লাহতালাহর অপুর্ব কুদরতি কারিশমা: অতিমানবদের গণহারে ইসলাম গ্রহণ


লিখেছেন আসিফ মহিউদ্দীন

গোপন সুত্র হইতে খবর পাওয়া গেল যে, পৃথিবীর কমিক্স, টিভি, চলচিত্রের অতি বিখ্যাত সকল অতিমানবেরা (সুপারম্যান) কিছুদিন পুর্বে এক রক্তক্ষয়ী মিশনে আন্তঃগ্যালাক্টিক যুদ্ধে জড়াইয়া পড়েন। প্রচণ্ড রক্তক্ষয়ী সেই যুদ্ধে দুই পক্ষই সমানে সমান যুদ্ধ চালাইয়া যাইতেছিলেন। হঠাৎ ভিনগ্রহের প্রাণীরা অতিমানবদের লক্ষ্য করিয়া এক অতিকায় পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করেন। সেই পারমাণবিক বোমাকে নিষ্ক্রিয় করিবার জন্য প্রথমে অতিমানবগন পাল্টা পারমাণবিক বোমা ছোঁড়েন, কিন্তু তাহাতে কোনো কাজ হয় না। এরপর অতিমানবগণ একে একে সকল চেষ্টাই করেন, কিন্তু এলিয়েনদের তৈরি এক ধরনের শিন্ডের কারনে সকল চেষ্টাই ব্যর্থ হয়। মৃত্য আসন্ন ভাবিয়া অতিমানব ওরফে সুপারম্যানগণ কান্নায় ভাঙ্গিয়া পড়েন, কেউ কেউ নিজ নিজ গার্লফ্রেন্ড লইয়া শেষবারের মত একটু আনন্দ করিবার উদ্দেশ্যে নিজ নিজ কক্ষ তালাবদ্ধ করিয়া ব্যক্তিগত সময় উপভোগে মনোযোগ দেন।

হঠাৎ অতিমানবদের লিডার লাইটম্যান-এর (ছবিতে ইমামের ভুমিকায়) চোখ পড়িল মহাকাশযানের রক্ষিত একটি পুস্তক যাহাকে পৃথিবীবাসী কুরআন বলিয়া থাকেন। মুসলিমগণের দাবী অনুসারে, এটি একটি আসমানী কেতাব এবং আল্লাহ কর্তৃক লিখিত। লাইটম্যান সাহেব কিছুদিন আগে একটি পুস্তকে পড়িয়াছিলেন যে, এই বইটির অলৌকিক কর্মকাণ্ড ঘটাইবার কথা প্রচলিত আছে। তিনি একদা গুলিস্তানের মোড়ে দাঁড়াইয়া খুজলির মলম ক্রয় করিবার সময় জনৈক হকার তাঁকে একটি পুস্তক ধরাইয়া দিয়াছিলেন, যেটার নাম ছিল "আল্লার কী কুদরৎ, লাঠির মইধ্যে শরবৎ"। সেই পুস্তকে লিখিত ছিল, কী করিলে কী হয় এবং কী না করিলে কী না হয়। যথা, পশ্চিম দিকে মুখ ফিরাইয়া বিশেষ গর্তে সুরা পড়িয়া ফুঁ দিয়া বিশেষ দিনে সহবৎ করিলে পুত্রসন্তান হয়, বিশেষ অঙ্গে দুর্বলতা দেখা দিলে আল্লার নাম লইয়া বিশেষ সুরা পাঠ করিলে সেই অঙ্গ শক্ত ও মোটা হয় ইত্যাদি ইত্যাদি।

তো সেই পুস্তক মারফত তিনি জানিতে পারিয়াছিলেন এই অলৌকিক গ্রন্থের কথা, তাহা মনে পড়িতেই তিনি ফাল দিয়া উঠিলেন।

ইহার পর সেই কুরআনটি লইয়া সুর করিয়া পড়া শুরু করেন এবং কয়েকটি সুরা পড়িয়া সেই অতিকায় পারমানবিক বোমাটির উদ্দেশ্যে কুদরতি ফুঁ দেন। আল্লাহতালাহর অশেষ করুণায় সেই তেলেছমাতি ফুঁতে অলৌকিক কাজ হয় এবং অতিকায় পারমানবিক বোমাটি সহসাই মহাকাশেই বিষ্ফোরিত হইয়া মহাকাশযাত্রী সুপারম্যানদের জীবন রক্ষা করে।

ইহার পরে অতিমানব ওরফে সুপারম্যানগন দলে দলে ইসলাম কবুল করিয়া দ্বীনের পথে যাত্রা শুরু করেন এবং জামাতের সহিত সালাত আদায় করেন। অবশ্য মহাকাশে তাঁহারা সুর্যের অনুপুস্থিতিতে কীরূপে নামাযের সময় নির্ধারণ করেন, তাহা লইয়া নাস্তিক, অবিশ্বাসী, যুক্তিবাজগণ বিশ্বাসী ভাইদের ঈমান ধ্বংস করার চেষ্টায় লিপ্ত হইতে পারেন, তবে আমাদের বিশ্বাসী ভাইগণ তাহাদের যুক্তিতর্ককে কলা দেখাইয়া জোরেসোরে দরুদ পড়িবেন বলিয়াই আমাদের বিশ্বাস। 



খবরে আরও প্রকাশ, সুপারম্যানগণ পৃথিবীতে ফিরিয়াই স্বপরিবারে পবিত্র হজ্জ্ব পালন করিবেন বলিয়াও আশাবাদ ব্যক্ত করেন, তাঁহারা এ কথাও বলেন, আগামী ইজতেমাতে তাঁহারা ঢাকায় পদার্পণ করিয়া আল্লাহতালাহর অশেষ তেলেছমাতির কথা বয়ান করিবেন। মহাকাশে আপাতত সুপার ওমেনগণের কিঞ্চিৎ সংকটের কারণে কেহই চার বিবাহ করিতে পারিতেছেন না, এক বিবাহও সেখানে কষ্টকর। তাই তাঁহারা আশাপ্রকাশ করিয়াছেন, হজ্জ্বের পুর্বেই চার বিবাহ করিয়া সুন্নত সমুন্নত রাখিবেন।

সবাই জোরে বলেন সুবহানাল্লাহ।

নাস্তিক মুরতাদ, বিজ্ঞান যুক্তি নিপাত যাক, 
কুরআন, আল্লাহ আমাদের পথ দেখাক।

আপডেট: এইমাত্র খবর পাওয়া গেল, সুপারম্যান দাড়ি রাখিয়াছেন।


ধর্মতন্ত্রের অগ্নিপরীক্ষা?


আরব জাহানে পরিবর্তনের হাওয়া কি বইবে?


ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্মকর্তার ঈদে মিলাদুন্নবী পালন


নবীজির জন্মদিবস কীভাবে পালন করতে হয়, শিখে নিন ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্মকর্তার কাছে।

খবরের লিংক পাঠিয়েছেন N.c. Neel। ছবিটি নেয়া হয়েছে সেই সাইট থেকেই।

পতিতা নিয়ে ফুর্তি করতে গিয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের (ইফাবা) প্রেস ম্যানেজার হালিম হোসেন খান জনতার হাতে ধরা পড়েছেন। জনতা উত্তম-মাধ্যম দিয়ে তাকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে। গত মঙ্গলবার পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী অনুষ্ঠান পালন করতে গিয়ে গোপালগঞ্জে এ ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার এ ঘটনা তদন্তের জন্য ৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। 

এ ঘটনায় ফাউন্ডেশনের ভাবমর্যাদা বিনষ্টের প্রতিবাদে বুধবার আগারগাঁও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়ে সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। বিক্ষোভকারীদের দাবি অবিলম্বে প্রেস ম্যানেজারকে অপসারণ করতে হবে। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন তারা। 

ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মাজারে ঈদে মিলাদুন্নবী অনুষ্ঠানের জন্য মঙ্গলবার ঢাকা থেকে ইফাবার প্রেস ম্যানেজারসহ কয়েকজন কর্মকর্তা গোপালগঞ্জ যান। তারা স্থানীয় সার্কিট হাউজে রাত্রিযাপন করেন। সার্কিট হাউজের ৫ নম্বর কক্ষে ছিলেন প্রেস ম্যানেজার হালিম হোসেন। রাত সাড়ে ৩টার দিকে তিনি লুঙ্গি পরা অবস্থায় সার্কিট হাউজের পাশে এক পতিতার বাসায় যান। এরপর আশপাশের লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে তাকে আটক করে। মারধর ও হৈচৈ করার এক পর্যায়ে তারা হালিম হোসেনের পরিচয় জানতে পারে। তারা ঘটনাটি সদর থানা পুলিশকে জানালে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে সার্কিট হাউজে পৌঁছে দেয়। তবে বুধবার সকাল বেলা ঘটনাটি জানাজানি হবার আগে হালিম হোসেন ঢাকায় ফিরে আসেন। 

গোপালগঞ্জের এনডিসি মোহাম্মদ শাহাদাত খন্দকার বলেন, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী অনুষ্ঠান নিয়ে ভোর বেলায় আমরা সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়ি। এজন্য রাতের বেলার ওই ঘটনার খবর অনেক পরে আমাদের কাছে আসে। তবে জেলা প্রশাসক ঘটনাটি শুনে তাৎক্ষণিক ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। ৩ দিনের মধ্যে কমিটিকে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। 

এদিকে, এ ঘটনায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ভেতরে তোলপাড় চলছে। সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দোষী ব্যত্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গতকাল বিক্ষোভ মিছিল করেছে। তারা দাবি করেন হালিম হোসেন এর আগেও একবার যৌন কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটিয়েছে। কিন্তু সে ঘটনার বিচার না হওয়ায় তার পুনরাবৃত্তি ঘটলো। 

এ ব্যাপারে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক শামীম মোহাম্মদ আফজালের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে অপারগতা জানান। 

মুসলিমী মণিমুক্তাময় মহামূল্য মন্তব্যসমূহ


প্যারিস হিলটনের ইসলাম গ্রহণ বিষয়ক খবর যে আসলে নেহাতই তামাশা ছিলো, তা মুসলমান ভাই-বোনেরা এখনও বুঝে উঠতে পারেনি। এখনও পর্যন্ত (!!!) এ নিয়ে উচ্ছ্বাস চলছেই (প্রাসঙ্গিক পোস্ট)। সেই সাইট থেকেই মুসলিমদের করা প্রায় ৭০০ মন্তব্য থেকে মণিমুক্তোগুলো বেছে নিয়েছি ধর্মকারীর পাঠকদের জন্য। 

মজার কথা এই যে, অসংখ্য মন্তব্যে অমুসলিমরা এবং কয়েকজন মুসলিমও বারবার বলেছে এই খবরে বিশ্বাস না করতে। স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে, এই সাইটের সব সংবাদই মজা করার জন্যে। 

কিন্তু ওই যে বিশ্বাসী জোশ! যুক্তি-প্রমাণ-তথ্যের ধার তা ধারে না। 

মন্তব্যগুলো মন দিয়ে পড়ে দেখার পরামর্শ আমাকে দিয়েছিলেন Suirauqa। তাঁকে ধন্যবাদ।

মণিমুক্তোমালা:

Paris If u read this I am boy who want to marry u . I can come 2 America or u come to Syria. Masha Allah u mak me so happy u are now muslim. My family own a shop we sell elicric applianse like TV, DVD machin and also Air Conditoner. Please email me Kamal342@yahoo.com I will come 2 u in the night and show u real lovin; In my house we have room where we can stay and I treat u nice!

> welcome to islam the true religion, people may say what they want just because you are rich and famouse its onlt you who knows in your heart what is right. look at Yusuf islam today

> Her life was perfect already. But she couldn't feel happy, Since she recognized that her life is just like a game. And I think she was enough smart to know, What she was going to do. God shone her heart with light of Aeslam.

> All praise and glory be to Allah.
Surely He guide whom ever He wants to guide and send astray whom ever He wants
Inchallah paris hilton is Tahirah, I pray G-d to forgive all of her sins He is the All-Powerful, and All-Forgiven.

> Allahamd-ul-llah welcome sister for get every thing your back just think about future may ALLAH SWT give you long life..... Subhannullah

> I'm Egyptian and I spent 18 days during our revolution not believing that we can make it but what Paris has done is more impressive for me. She has everything that human-being desire, money, fame and beauty and she decided to choose Islam. Wow
My message for you is whatever you've done before became past once you become a true Muslim and all the bad things you've done converted to good things in your record as Allah said.

> What is wrong with that? she wants to bring the world together, like Princess Diane. Look at the end of their life style and learn from it.

> she did to many things bad in her life
she had sex with 4 guys 
ANSWER:
> God forgive everyone who want to be forgiven by Him. Would you like Allah (God) to forgive you?

> This is the best news ive heard so far Good For You Paris or should i say Tahira

> I'm really happy for you paris that allah shows u the rights way
And may allah protected you and gives you the happiness in the life and
In aljna and if you need any help I'm your brother in islam

> A warm welcome to sister Hajira (Paris Hilton) for converting to islam. People will talk rubbish actually they are not talking their satan is talking, people don't forget that everyone has his/her past, that doesn't mean that he/she will never be blessed by hidayah of Allah!!! Remember Allah (SWA) has all powers.. Take it this way actually it's a reminder to all muslims that see you all if I(Allah) want to gift hidayah i can give to anyone..

> Welcome to islam paris hilton and don't give a damn about thous stopid comments just try it and you'll see a big deferante in your life so happy for you

> eventouhgt there are many statment declare that this is a hoax news................we think it a real news guy......
by coverting of paris hilton to islam, may all of holywood actor trust and follow her desire

> Al Hamdullah, you got the best chance even better than the muslem, because you just born right now , because the ISLAM WIPE WHATEVER BEFORE, Congratulations .

> Alhamdulillah,
Allah provide strenth on this path, have a better life sis tahirah.assalammualaikum, bye.

> I want to give a name suggestion for Paris!!
Ayesha!! Or Khadija!!

> alhamdulillah, wa laa ilaaha illa Allah! 

> Masha Allah, See, how fortunate she is!!! She is one of the chosen one though Allah allowed her to stray. Really she is very fortunate, Allah protected her from the hell fire. Masha Allah . May Allah give peace and beauty at her heart.Ameen 

> Heartiest congratulations my sister in Islam, you look like angle in veil, but you will be much better than angle if you practice this religion as explained by Prophet Muhammad, may Allah peace be upon him. May God bless you ever. 

> Bravo Hilton, Allahu Akbar... Actually since 3 years ago, I predicted someone who famous star will convert to Islam like Jacko, Tyson, The Big Mouth M. Ali... and now Paris Hilton ... a miracle will happen again... Let us see, we gonna wait lots of miracle famous star will convert to Islam ????
Subhanallah ... Allahu Akbar ... Allahu Akbar ... Allahu Akbar .... 

> her statements after coming to Islam really made me teary in joy and in the oneness of Allah.. masha'Allah! alhamdulillah! 

> Alhamdullilai kebira..........this is what we we have always wanted.....and inshallah all of them will convert 2 islam....amin.. 

> assalamualaykum wa rahmatullahi wa barakatuh!
ALLAHU AKBAR!
To be honest when I first heard this wonderful news I was stunned and couldn't wait to go online and confirm but gradually I realised this to be one of the signs of Allah [SWT]'s mercy on HIS creation and especially our lovely sister Tahirah. Welcome, my dear sister to the religion of peace as you rightly put it. Insha Allah may our Lord, God and Creato make your journey into Islam a barakah for you and your family and may HE make it easy for you to achieve all you've set your mind to do and so much more. Amin. Truly no one but Allah or by HIS power can fight for ISLAM AND THE TRUTH IS ALWAYS OPEN FOR ALL TO SEE. 

> Mashallah. She is a pure women now, God forgiven her for all her sins. 

> Shu'kur alhamdullilah.. She is now part of our family. No one has the rights to question sins and wrong doings, expect for the greatest, Allah S.W.T. Amin.. 

> Very true, Allah alone has the right and power to judge, but I am not, Convinced dat she isn't using this as a publicity stunt. "Islam is the must Have religion, forget Kabalah and sceintology" pls doesn't that sound like she went to buy a bag or shoe. Islam is not an adventure, it is a way of life I really hope she is for real cos it won't be funny otherwise. 

> Allahu Akbhar. May this be an eye opener to others. 

> I have been using her sex video for long time now and I feel it is Haram to use it anymore. Her sex video is all over the internet and it shows her doing unholy things to a mans cock. How cn she be truth to Islam? 
ANSWER
> Alhamdulillah. Everythin is in d heart. If she is doin it wit true faith then may Allah d merciful guide us all. We are not in a position to judge others for only Allah can do dat. 

> Paris, I am very happy for you. I use to have ur nud video but now i have deleted it. and i will advice anyone having it should please delete it and as for paris forgivness. Paris forgive me and this should also serve as a lession to the rest of the World. Allah is Great. 

> nice , no more blowjobs please 

> Welcome to Islam sister Taahira, may ALLAH accept you and grant u strength in propagating Islam in the United States. Maasha Allah your face is now full of NOOR. 

> Wallah i had prayed fo tis woman a year back dat may Allah bless her wid eeman n 1 more dua wen i saw her on d newz papr "TOI" Alhumdulilah half f d dua hz cum true!!!! ALHUMDULILAH!!!! May Allah Bless u n kep u sted fast on d right path!!!! Ameen! 

> u r lucky paris,hell fire will not catch u,before being too late u r in wright path. 

> MaashaALLah, hope Britney Spears will be the next.... Cheer up sister, Islam is the religion of peace. May Allah, strengthen your faith and expand your love to the muslims. 

অ-মুসলিমদের মন্তব্যও ছিলো বেশ কিছু। অন্তত দুটোর কথা উল্লেখ না করলেই নয়!

> Why are Muslims so gullible? They'll believe anything if it's in their favor. If Paris H has seen the light of Islam, the end of the world is truly around the corner, wake up!!! She's not a Muslim and she'll never be one! This is a satirical newspaper, if you people believe this news, I bet you believe there's halal pig

> God's grace! now, her porn video become Halal. 

ধর্ম – একটি ঝুঁকিহীন, লাভজনক বাণিজ্য


পৃথিবী জুড়েই ধর্ম মানেই ব্যবসা। ইহজগতে অর্থ উপার্জনের (বলা উচিত – করায়ত্ব করার) সবচেয়ে সহজ ও নিরাপদ পদ্ধতির নাম ধর্ম। অপরিমেয় অর্থের মালিক হয়েও আয়ের হিসেব দিতে হয় না, উৎস জানাতে হয় না, কর দিতে হয় না, মামলা-মোকদ্দমার ভয় নেই, রাষ্ট্রযন্ত্র তাদের ঘাঁটাতে সাহস করে না। ধর্মবিশ্বাস নামের দুর্বলতাকে পুঁজি করে মসজিদ-মন্দির-চার্চ-সিনাগগগুলো কতোটা ধনপ্রাচুর্যে প্লাবিত, কতোটা বিপুল অর্থের অধিকারী, সাধারণ বিশ্বাসীরা সেটির খবরও রাখে না। 

তিন মিনিটের সুনির্মিত ভিডিওতে আমেরিকার চার্চগুলোর বিপুল বাণিজ্যের কিছু পরিসংখ্যান দেখুন।


নামাজনামা – ০৬


কারুর-কারুর কাছে নামাজ অপেক্ষা নিদ্রা উত্তম। এবং উহাদের জন্যে পরকালে অপেক্ষা করিতেছে...
ছবিটি, খুব সম্ভব, মিসরের সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর সময়ে তোলা।


ধর্ম মূলত ঘৃণার নামান্তর


ধর্মের কাজ মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা; তাই এক ধার্মিকের রক্তে সব সময়ই গোপনে শানানো হ’তে থাকে অন্য ধার্মিককে জবাই করার ছুরিকা।
- হুমায়ুন আজাদ

হুমায়ুন আজাদ বলেছিলেন অন্য ধার্মিকের কথা। তাঁর কথায় ভুল নেই এতোটুকুও। তবে সঠিকতর হতো ভিন্নমতাবলম্বী বা ভিন্ন জীবনাদর্শে বিশ্বাসীর কথা বললে। ভিন্নধর্মে বিশ্বাসীদের চেয়ে অবিশ্বাসী ও অপ্রচলিত ধারার জীবনাদর্শের অনুসারীদের প্রতি ধার্মিকদের ঘৃণা অনেক গুণে প্রবলতর।

উগান্ডার বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতের দিকে তাকিয়ে দেখুন। আমেরিকার ইভ্যাঞ্জেলিক্যাল খ্রিষ্টান গ্রুপের প্রত্যক্ষ প্রভাবে উগাণ্ডা এখন বিশ্বে সবচেয়ে সমকামী-বিরোধী রাষ্ট্র। সমকামীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রযন্ত্র ও খ্রিষ্টানদের সার্বক্ষণিক ঘৃণাপ্রচার গড়ে তুলেছে "কাঙ্ক্ষিত" জনমত। নিকটতম আত্মীয় সমকামী বনে গেলে বা সমকামী প্রমাণিত হলে তাকে নির্দ্বিধায় হত্যা করতে প্রস্তুত এখন অনেকেই। 

প্রাসঙ্গিক ভয়াবহ দু'টি ডকুমেন্টারির অন্তত একটি দেখুন। প্রথমটির নাম: Missionaries Of Hate।


একই ডকুমেন্টারির ইউটিউব লিংক

বিবিসি-র তৈরি আরেকটি ডকুমেন্টারি। নাম: The World's Worst Place to Be Gay?





১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০১১

আরব্য ধর্মগুলোর চৌর্যবৃত্তিনির্ভরতা


লেখাটি একটু দীর্ঘ তবে অসংখ্য কৌতূহলোদ্দীপক তথ্যসমৃদ্ধ এবং অবশ্যপাঠ্য। চমৎকার এই রচনা পাঠিয়েছেন লাইট ম্যান

জ্ঞান-বিজ্ঞানের উৎকর্ষের ফসল আর প্রযুক্তিগত আবিষ্কারের মিষ্টিফলের বুভুক্ষ ভিক্ষুক হয়েও এর বিরুদ্ধে হরহামেশা হট্টগোল, বিরুদ্ধাচারণ এবং শেষে উপায় না দেখে কুযুক্তি দেখিয়ে বলে, ও এতো আমাদের ঐশী গ্রন্থে লেখা আছে - এটাই এখন নিত্যদিনের সংলাপ ও অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেছে আরবে উৎপাদিত ধর্মগুলোর অনুসারীদের। নিজেদের প্রচারিত মতবাদকে একমাত্র শ্রেষ্ঠ, সত্য, অভ্রান্ত, অ-দ্বিতীয় ও বিশ্বাসযোগ্য হিসাবে প্রমাণ করতে গিয়ে বারবার ভেজে খেয়েছে মরু অঞ্চলে শত-শত বছর পূর্ব হতে লোকমুখে প্রচলিত পৌরাণিক কাহিনীর প্রাথমিক মালমসলা দিয়ে। সেগুলোকে ঐশী চরিত্র বলে দাবি করে মূল চরিত্রটি ঠিক রেখে ধুরন্ধর শঠ ধর্মপ্রচারকরা তাতে নিজেদের তৈরী গরম মসলা ঢেলে কিছুটা স্বাদের পরিবর্তন আনতে চেষ্টা করে গেছেন শুধু চরিত্রগুলোর বর্ণনায়। যাতে নকলের দায়ে বহিষ্কৃত হতে না হয়। ধর্মপ্রবর্তনকারীরা সাময়িক সময়ের জন্য এই মিথ্যা প্রচেষ্টায় অসহায় বিশ্বাসীদের চোখে ধুলো দিতে পারলেও বর্তমানে অবাধ তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে একে একে বেরিয়ে পড়ছে সব থলের বিড়াল।

বিশ্বাসের সমুদ্রে পাল তুলেছে আজ অবিশ্বাসী হাওয়া। এখন আমরা জানতে পারছি ধর্ম উৎপত্তির প্রকৃত ইতিহাস, উৎপত্তির স্থান ও কাল এবং ধর্মগুলোর বিকাশের ঐতিহাসিক প্রারম্ভিক অবস্থা সম্পর্কে। পাশাপাশি একই সাথে আমরা দেখতে পাচ্ছি এক ধর্ম অন্য ধর্মকে কীভাবে হত্যা, অপহরণ, আত্মসাৎ, চুরি, অনুকরণ, অনুসরণ করেছে, তার ইতিহাসনির্ভর প্রামাণ্য তথ্যচিত্র।

মরুর ধর্মগুলো সব একই স্থানে উৎপত্তি হওয়ায় ধর্মপ্রচারকরা যতই তাদের প্রচারিত নতুন ধর্মকে একটি স্বতন্ত্র ও বিজ্ঞানসম্মত ধর্ম হিসাবে প্রচারণা চালানোর চেষ্টা করুন না কেন, তারা কখনোই তৎকালীন লোকসমাজে প্রচলিত পৌরাণিক কাহিনীগুলোর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস থেকে সম্পূর্ণ সরে আসতে পারেননি বা সরে আসার কোনো চেষ্টাও চালাননি। বরং বিশ্বাসগুলোকে অটুট রেখেই জনসাধারণের আস্থা অর্জনে প্রচলিত কাহিনীগুলোতে সামান্য ইট-সুড়কি ঢেলে ধর্মের ভিত মজবুত করার চেষ্টা চালিয়ে গেছেন এবং একই সাথে পূর্ব হতে তৎকালীন সমাজে প্রচলিত ধর্মগুলোর কাছ থেকে সহায়ক ধর্মীয় নিয়ম-কানুন, রীতি-নীতিসহ অনেক কিছুই হাতিয়ে নিয়েছেন।

তার সামান্য কিছু দৃষ্টান্ত তুলে ধরা হল:

১) সৃষ্টিতত্ত্বের সম্পূর্ণ গল্প।

২) আদম ও ঈভকে মানব জাতির আদি পিতা-মাতা বলে মেনে নেওয়া।

৩) ইহুদিদের দাবী, আব্রাহামই ইহুদি জাতির আদি পুরুষ। খ্রীষ্টানরাও আব্রাহামকে তাদের নবী বলে চিৎকার করে যাচ্ছে। তাই এত বড় একজন মরুভূমির জন গুরুত্বপূর্ণ কথিত নবীকে ইসলামের পক্ষেও অবহেলা করা মোটেই সম্ভব হয় নি। মুসলমানেরাও আরো একধাপ এগিয়ে গিয়ে জোর দাবী জানিয়ে ঘোষণা করে বলেছে, আব্রাহামই ইসলাম ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা নবী! 
আব্রাহাম যদি ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা নবী হয় প্রশ্ন দাঁড়ায় মুহাম্মদের স্থান কোথায়?

৪) তৎকালীন সমাজে প্রচলিত লোক কাহিনী নোয়ার আজগুবি উদ্ভট রূপকথার গল্পটা নিয়েও তৌরিত, বাইবেল ও কোরানে প্রবল উৎসাহ নিয়ে মাতামাতি করতে দেখা যায়।

৫) কুমারী মায়ের গর্ভে যীশুর জন্মরহস্যের পেছনে কাজ করেছে ইহুদিদের ওল্ড টেষ্ট্যামেন্টের ওপর অগাধ বিশ্বাস, আর কিছুটা মদদ জুগিয়েছে প্যাগান ধর্মীয় বিশ্বাস।

ইসলামও যিশুকে ঈসা নবী বানিয়ে কোরানে আয়াতের পর আয়াত নাজিল করিয়েছে। যীশুর জন্ম, মৃত্যু ও ক্রশবিদ্ধ হওয়ার ঘটনাও যে প্রাচীন পৌরাণিক কাহিনীর কাল্পনিক বিশ্বাসের ভিত্তিতে সৃষ্ট, তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে নিম্নে উল্লেখিত প্রাচীন প্যাগান পৌরাণিক কাহিনীগুলো জানা থাকলেই।

Roman Pagan Religion: Attis was a son of the virgin Nana. His birth was celebrated on DEC-25. He was sacrificed as an adult in order to bring salvation to mankind. He died about MAR-25, after being crucified on a tree, and descended for three days into the underworld. On Sunday, he arose, as the solar deity for the new season. His followers tied an image of Attis to a tree on "Black Friday," and carried him in a procession to the temple. His body was symbolically eaten by his followers in the form of bread. Worship of Attis began in Rome circa 200 BCE.

Greek Pagan Religion: Dionysus is another savior-god whose birth was observed on DEC-25. He was worshipped throughout much of the Middle East as well. He had a center of worship in Jerusalem in the 1st century BCE. Some ancient coins have been found in Gaza with Dionysus on one side and JHWH (Jehovah) on the other. In later years, his flesh and blood were symbolically eaten in the form of bread and wine. He was viewed as the son of Zeus, the Father God.

Egyptian Pagan Religion: Osiris is a savior-god who had been worshipped as far back as Neolithic times. "He was called Lord of Lords, King of Kings, God of Gods...the Resurrection and the Life, the Good shepherd...the god who 'made men and women be born again'" 5Three wise men announced his birth. His followers ate cakes of wheat which symbolized his body. Many sayings associated with Osiris were taken over into the Bible. This included: 

23rd Psalm: an appeal to Osiris as the good Shepherd to lead believers through the valley of the shadow of death and to green pastures and still waters

Lord's Prayer: "O amen, who art in heaven..."

Many parables attributed to Jesus.

Worship of Osiris, and celebration of his DEC-25 birth, were established throughout the Roman Empire by the end of the 1st century BCE.

Persian Pagan Religion: Mithra was a Persian savior. Worship of Mithra became common throughout the Roman Empire, particularly among the Roman civil service and military. Mithraism was a competitor of Christianity until the 4th century. Their god was believed to have been born on DEC-25, circa 500 BCE. His birth was witnessed by shepherds and by gift-carrying Magi. This was celebrated as the "Dies Natalis Solic Invite," The "Birthday of the Unconquered Sun." Some followers believed that he was born of a virgin. During his life, he performed many miracles, cured many illnesses, and cast out devils. He celebrated a Last Supper with his 12 disciples. He ascended to heaven at the time of the spring equinox, about March 21.

The Babylonians celebrated their "Victory of the Sun-God" Festival on DEC-25. Saturnalia (the Festival of Saturn) was celebrated from DEC-17 to 23 in the Roman Empire. The Roman Emperor Aurelian blended Saturnalia with a number of birth celebrations of savior Gods from other religions, into a single holy day: DEC-25. After much argument, the developing Christian church adopted this date as the birthday of their savior, Jesus. The people of the Roman Empire were accustomed to celebrating the birth of a God on that day. So, it was easy for the church to divert people's attention to Jesus' birth.

(অনুবাদের কাজটি আমার জন্য খুবই কষ্টের তাই বাংলা করতে না পেরে সরাসরি ইংরেজিতেই কপি পেষ্ট মেরে দিলাম। আশাকরি পাঠকরা আমার আলসেমী ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখে আমাকে ক্ষমা করবেন)

৬) একই বলয়ে উৎপত্তি বলে ইসলামের প্রচার ও প্রসার নিষ্কন্টক রাখতে তৌরিত ও বাইবেলকে ঈশ্বরপ্রেরিত গ্রন্থ বলে স্বীকৃতি এবং গলধঃকরণ দুটোই করেছে ইসলাম।

যদিও ইসলামীরা তৌরিত ও বাইবেলে প্রচুর পরিমাণে ভুল-ভ্রান্তি আছে বলে ইসলামী মিডিয়াতে হামেশাই প্রচারণা চালায়। ঈশ্বরপ্রেরিত এইসব গ্রন্থে ঈশ্বর কীভাবে এত ভুল করলেন বা ভুল প্রচার হচ্ছে দেখেও এতকাল টুঁ শব্দটিও করলেন না তিনি, তা খুবই আশ্চর্য ও হতাশাজনক!

৭) খাওয়া-দাওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু বিধি-বিধান আরোপ করা হয়েছে ইহুদি জাতির জন্য। তাতে যা কিছু খাওয়ার অনুমোদন দেওয়া আছে তাকে বলে কৌশার (Kosher)। ইসলামে শব্দটি বদলিয়ে বলে হালাল।

৮) ইহুদিদের শুকরের মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ করা হয়ছে। ইসলামে করা হয়েছে হারাম। তবে ঈশ্বরপ্রেরিত এবং কোরানস্বীকৃত অপর গ্রন্থ বাইবেলে শুকরের মাংস খাওয়ার অনুমতি আছে।

৯) ইহুদিদের কোন প্রাণী জবাই করার সময় ইহুদি ধর্মীয় রীতি মেনে চলতে হয়, তা না হলে তার মাংস খাওয়া নিষেধ। ইসলামেও অনুরূপ বিধান করা হয়েছে। খাওয়া-দাওয়ার বিষয়ে খ্রীষ্টানরা বেশ উন্মুক্ত।

১০) প্রার্থনা করার সময় ইহুদিদের মাথায় এক প্রকার টুপি (ইহুদি ভাষায় kippah) পরতে হয়। মুসলমানেরাও তা-ই করে।

১১) প্রতি সপ্তাহের শুক্রবার ইহুদিদের বিশেষ ধর্মীয় দিন। এই দিনে সূ্র্যাস্তের পর তারা মাথায় টুপি দিয়ে সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করে। ইসলামেও প্রতি শুক্রবারে জুমার নামায পড়ার বিধান আমরা দেখি। খ্রীষ্টানরা প্রার্থনা করে প্রতি রবিবারে।

১২) রৌস হাশানাহ (Rosh Hashanah) ইহুদিদের নববর্ষ। এই দিনের বেশীর ভাগ সময় তারা সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করে কাটায়। তাদের দৃঢ় বিশ্বাস ঈশ্বর তাদের সমস্ত পাপ ক্ষমা করবেন এই দিনে। পাপ ক্ষমার সুযোগ ইসলামেও আমরা দেখি শবে কদরের দিনে।

১৩) ইহুদিদের দিনে তিন বার প্রার্থনা করার নিয়ম আছে। ইসলামে আরো দু'ধাপ বাড়িয়ে করেছে পাঁচ বার।

১৪) ইহুদি মেয়েদের উপাসনালয় (Synagogue)এ যাওয়ার অনুমতি নাই। মুসলিম মেয়েদেরও মসজিদে যাওয়ার নিয়ম নাই। নারীর মর্যাদা তাতে কী পরিমাণ বেড়েছে, তা কেবল ঈশ্বরই ভালো জানেন!

১৫) ইহুদিদের ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করতে বসার আগে দেহের পবিত্রতা রক্ষায় বিশেষ নিয়মে হাত, পা ধৌত করার বিধান করা আছে। ইসলামেও তা-ই করা হয়। দেহের ময়লা না হয় ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করা গেল, কিন্তু তাতে মনের অভ্যন্তরে জমে থাকা ময়লা স্তরের কোন সাফ-সোফাই হয় কি না, তা জানতে খুব বেশী বিদ্যাবুদ্ধি থাকা প্রয়োজন বলে মনে হয় না।

১৬) ধর্ম ভঙ্গকারী ইহুদিদের কঠোর ধর্মীয় আইনে বিচার করার জন্য তৈরী হয়েছে হালাখা (Halakha)) আইন। ইসলামে করা হয়েছে শরিয়া আইন।

১৭) ঐতিহাসিকদের মতে, প্রথম দিকে পুরুষদের লিঙ্গত্বক ছেদের চর্চা হত প্রাচীন মিশরে ও কিছু কিছু আফ্রিকান দেশে। মিশরীয়দের কাছ থেকে এই চর্চা ইহুদিরা গ্রহণ করে। আর ইসলাম তো লিঙ্গ ত্বক ছেদ প্রথাটিকে সরাসরি সম্পর্কিত করেছে ধর্মের সাথে। দেহের এত অঙ্গ থাকতে ধর্মটাকে কেন লিঙ্গের মাথার সাথে সুগভীর সম্পর্ক যুক্ত করা হল, তা বোধগম্য নয়। ঈশ্বর কি তবে ভুল করেই পুং লিঙ্গের মাথায় হিজাবটা পরিয়েছিলেন?

১৮) কাবা মুসলমানদের কাছে খুবই পবিত্র স্থান যা মক্কায় অবস্থিত। কিন্তু ইসলাম প্রচারের বহু আগে থেকেই প্যাগানরা পূণ্যলাভের আসায় দল বেধে মক্কার এই কাবায় হজ করতে আসত। সেখানে ৩৬০টা প্যাগান মূর্তি ছিল। হজ-এর সাথে অর্থনৈতিক লাভের প্রত্যক্ষ সম্পর্ক থাকায় ইসলাম মক্কা দখলের পরেও শুধুমাত্র মূর্তিগুলো সরিয়ে হজ প্রথাটা চালু রাখে। পরিবর্তন করেছে মাত্র ধর্মীয় লেবেলটা, প্যাগানের স্থানে ইসলাম। মক্কার অভ্যন্তরের কালো পাথরটা এখনো প্যাগান ধর্মীয় বিশ্বাসের সাক্ষী হিসাবে সাক্ষ্য-প্রমাণ দিয়ে চলেছে।
এছাড়াও মুসুল্লিদের বিশেষ নিয়মে সাদা কাপড় পরে মুন্ডিত মস্তকে কাবা প্রদক্ষিণ করাটাও প্যাগান সংষ্কৃতির অংশ।
মুসলমানদের অন্য কোথাও ধর্মীয় এই রীতির অনুসরণ করতে আমরা আর দেখতে পাই না।

১৯) যে “আল্লাহ‌্” নামকে ভিত্তি করে যে ইসলামের সৃষ্টি, সে নামটাও প্যাগান ধর্ম থেকে ধার করা। প্যাগানরা তাদের খোদাকে প্রথম দিকে ভক্তিসহকারে ডাকত “আল-ইলাহ্”(AL-ILAH) বলে। এই “আল-ইলাহ্” থেকেই ভাষার ক্রমবিবর্তনের ফলে শব্দটি সংক্ষিপ্ত হয়ে “ই” উঠে গিয়ে হয়েছে “আল্লাহ‌্” (আল+ইলাহ্=আল্লাহ‌্)।

বিষয়টি পরিষ্কার বোঝার জন্য আমরা নবীর পিতার নামের পিছনে একটু সময় দেই। তাঁর নাম ছিল - আব্দুল্লাহ (আব্দুল+আল্লাহ‌্)। “আব্দুল” শব্দের অর্থ “দাস” আর “আল্লাহ‌্” শব্দের মানে তো বলতে হবে না নিশ্চয়ই। নামটি বিশ্লেষণ করলে দাঁড়ায় “আল্লার দাস”। এতে কি প্রমাণিত হয় “আল্লাহ‌্” নামটি ইসলাম প্রতিষ্ঠার পরে এসেছে? 

২০) পৃথিবীতে ধর্ম উৎপত্তির পর থেকেই নরবলি, পশুবলির মত নিষ্ঠুর প্রথাগুলি চালু ছিল বছরের পর বছর। মানুষের বিবেক-বুদ্ধি প্রসারের মানবিক কারণে নরবলি প্রথাটির বিলুপ্তি ঘটলেও রসনাভোজের সাথে পশুবলির প্রত্যক্ষ সম্পর্ক থাকায় তা টিকে থাকে।

মরুর ধর্ম না হলেও প্রাচীন ধর্মীয় সংস্কৃতির অংশ হিসাবে হিন্দুদের মধ্যেও পশুবলি প্রথাটি এখনো আমরা দেখি। প্রাচীন মিশরীয়দের কাছ থেকে প্রথমে ইহুদিরা পশুবলি প্রথাটি গ্রহণ করে পরে তারা ধর্মীয় আচার থেকে তা ছেটে ফেলে কিন্তু ইসলামে নিরীহ পশুবলি প্রথা মহা উৎসাহ সহকারে এখনো পালন করা হয়।

২১) ইহুদিদের কাছে জেরুজালেম অতি পবিত্র স্থান। খ্রীষ্টানদের কাছেও তাই। তাতে কি? মুসলমানেরাও তাদের এ দাবি ছাড়বে কেন? তাই জেরুজালেম মুসলমানদেরও পবিত্র স্থান হতে বাধ্য।

২২) উপবাস, রোজা বা ফাস্টিং - যে নামেই ডাকা হোক না কেন,  এই প্রথার মধ্যেও নতুনত্ব বলতে কিছু নেই। লাগামহীন ভোগবিলাসী অসংযমী মানুষদের কিছু দিনের জন্য নিয়ন্ত্রণ রাখতে বহু প্রাচীন সংযমী জীবণাচরনের প্রথা এটি। হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈণ, ইহুদি, ইসলামসহ ছোট বড় অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের কাছে এখনো এই প্রথা বিদ্যমান।

পরিবর্তন বলতে শুধু উপবাসের ধরন, সময় ও কিছু নিয়ম নীতির সামান্য হের ফের। একান্ত পরিবর্তন না আনলে ধর্মগুলো যে স্বকীয় বৈশিষ্ট্য হারাবে!

Moses fasted for forty days and forty nights while he was on the mountain with God. (Exodus 34:28)

Jesus fasted for forty days and forty nights while in the desert, prior to the three temptations (Matthew 4:2, Luke 4:2)

উপরোক্ত লাইন দু'টির মূল সুর এক নয় কি?

২৩) তৌরিত ও বাইবেল দুটোতেই স্বর্গের লোভ ও নরকের শাস্তির কথা উল্লেখ আছে, যা তৌরিত, বাইবেল সৃষ্টির বহু পূর্ব থেকেই মানুষ বিশ্বাস করত । ইসলামেও তা-ই করা হয়েছে। তবে বৈচিত্র্য আনতে ইসলামে শুধু স্বর্গ-নরক গঠনের বিভিন্ন শ্রেণীবিভাগ করা হয়েছে।

২৪) তৌরিত ও বাইবেলে মানুষ ও ঈশ্বরের মিলনের মাঝখানে দেয়াল হিসাবে কাজ করে কথিত শয়তান। ইসলাম আদর করে শয়তানের একটি সুন্দর নাম রেখেছে “ইবলিশ”। শুধু নাম দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, কোরানে “ইবলিশ”কে দেয়া হয়েছে আরো অধিক শক্তিশালী ভূমিকা।

২৫) “হাঁচি” দেওয়া যে কোন সুস্থ-সবল মানুষের জন্য স্বাভাবিক বিষয়। প্রাণীজগতে অনেক পশুও “হাঁচি” দেয়, রক্ষা -  তাদের কোন ঐশী কিতাব নাই। তবে আরব জগতের বিশ্বাসীদের কাছে “হাঁচি” দেওয়াটাই যেন ভীতিকর কোন কাজ। নতুবা “হাঁচি”র পর গোঁড়া খ্রীষ্টানদের কেন বলতে শোনা যায় – God bless you. সাচ্চা ইসলামীরা সাথে সাথে কেন বলে “আল‌্হামদুলিল্লাহ্”?

ধর্মের অবকাঠামোগত বৈশিষ্ট্য, নিয়ম-কানুন, রীতি-নীতি, চাতুর্যতার সাথে চুরিসহ এত মিল থাকা সত্ত্বেও কেউ যদি দাবী করে আমার ধর্ম সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যপূর্ণ এবং অন্য কোনো ধর্মের সাথে এর কোনো মিল নেই, তাহলে তাকে পাগলের প্রলাপ, নকলের সহযোগী, চোখ থাকতে অন্ধ, ছাড়া আর কী-বা বলার আছে।

বিঃদ্রঃ আরবে উৎপাদিত শ্রেষ্ঠত্বের ধ্বজাধারী ধর্মগুলোর যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে বাকি নিকৃষ্ট (আমার মতে নয়, আরব ধর্মবিশ্বাসীদের মতে) ধর্মের কী হালচাল হবে?