৭ জুলাই, ২০১০

একটি মর্মস্পর্শী পত্র... (প‌্যারোডি)

লিখেছেন আরিফুর রহমান।


(ছবিতে ক্লিক করে পূর্ণ আকারে পড়ুন)

প্রিয় আব্বা,

এ চিঠিটা যখন তুমি পড়ছ, তখন আমি তোমাদের কাছ থেকে দুরে। অ...নে...ক দুরে। না, তোমাদের প্রতি কোনো রাগ বা অভিমান থেকে আমার এই চলে যাওয়া নয়। ভয় পেয়ো না, এটা কোনো সুইসাইড নোট না। আমি বেঁচে আছি আমার রছুলের শানে এবং থাকবো যতোদিন হাশরের ময়দানে আমাদের আবার দেখা না হয়। 

অনেক ভেবে দেখলাম, আমার হুজুরের জীবনাদর্শ বাস্তবায়ন করাই আমার জন্য সমীচীন। আমি জাফর ইকবাল নামের শয়তানটাকে জাহান্নামে পাঠিয়ে দেবার আমার হুজুরের নূরাণী আহ্বানে সাড়া দিয়ে নিজেকে কুরবান করতে বের হয়ে গেলাম। কারন আমি আমার হুজুরকে, আমার রসুলের জাগ্রত চেহারা, আমার হিজবুতের হুজুরকে আমি ভালোবাসি। আমার হুজুর আমাকে তার প্রিয় গিলমান বানিয়েছেন, আমি আজ ধন্য। সোমালিয়ান আরেক হুজুরের কাছ থেকে পাওয়া এক অজানা অসুখ উনি আমাকে দিয়েছেন আমাদের ভালোবাসা-বাসির সময়। তখন আমি ফেরেশতাদের বাজানো বেহেশতী বাদ্য শুনতে পেতাম। জানো আব্বা, উনি বলেন আমার এই অসুখের কারনে আমি নাকি অনেক আগেই আল্লাহ'কা পেয়ারা হয়ে যাবো। আরো বলেন, এ জন্যে আমিই উপযুক্তা ওই জাফর ইকবাল নামের শয়তানটাকে নিজের সংগে বাঁধা বোমা ফাটিয়ে একেবারে জাহান্নামে পাঠিয়ে দিতে, আর আমি চলে যাবো জান্নাতে। মনে রেখো, বাংলাদেশকে একটি প্রকৃত ইছলামী হুকুমাতে পরিনত করে দিয়ে আমি সোহবৎ করবো জান্নাতী হুরীদের সাথে... । (কিন্তু আমার যে শুধু গিলমান ভালো লাগে... হুরী দিয়ে আমি কি করবো!!) 
ভালো থেকো, আব্বা। আম্মিকেও ভালো রেখো।
বিদায়....

বি.দ্র: মাথাটা এবার একটু ঠান্ডা করো বাবা। প্রেশার তো বেড়ে গেছে, বুঝতেই পারছি। একটা ট্যাবলেট খেয়ে নাও। ওপরে লেখা সবকিছুই মিথ্যে, হুজুর, বোমা, রছুল, জান্নাত-- সব। কিন্তু দেখলে তো বাবা, পৃথিবীতে খারাপ কতো কিছুই ঘটতে পারে! এর তুলনায় একটা সেমিস্টারে পরীক্ষায় ফেল করা তো কিছুই না, তাই না? রিপোর্ট কার্ড আমার ড্রয়ারে রাখা আছে। ওটাতে সাইনে করে দিও। আর মাথা পুরোপুরি ঠান্ডা হলে আমাকে জানিও, আমি চলে আসবো। আমি এখন বড় মামার বাসায় আছি। 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন