২১ জুন, ২০১০

মাতৃদুগ্ধ ও সৌদি নারীদের গাড়ি চালানোর অধিকার


"অনাত্মীয় পুরুষদের সঙ্গে এক ঘরে অবস্থানের পাপ (khulwa)  দূর করতে কোনও মেয়েদের উচিত হবে সেই পুরুষদেরকে বুকের দুধ পান করানো, যাতে তারা পুত্রবৎ বনে যায়", এমন একটি ফতোয়াকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে আরবীয় নারীরা তাদের বহু পুরনো দাবি - গাড়ি চালানোর অধিকার - আদায়ের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানা গেছে। দাবি পূরণ না হলে নারীরা ফতোয়া অনুসরণ করে তাদের ড্রাইভারদেরকে বুকের দুধ পান করিয়ে সন্তান বানিয়ে ফেলবে। সংবাদ দিয়েছে গলফ নিউজ


এবার সেই ফতোয়া ও তার উৎপত্তি বিষয়ে কিছু কথা। 

সম্প্রতি সৌদি রাজকীয় আদালতের উপদেষ্টা এবং আইন ও বিচার মন্ত্রণালয়ের পরামর্শদাতা এই ফতোয়া ঘোষণা করার পর তা ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হলেও ২০০৮ সালেও একবার এই প্রসঙ্গ উঠেছিল। পৃথিবীর সবচেয়ে মর্যাদাসম্পন্ন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় মিসরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদিস বিভাগের প্রধান Dr. Izzat Attya (ইজ্জত!) একই জাতীয় একটি ফতোয়া জারি করে বলেন, কর্মজীবী মহিলারা তাদের সহকর্মীদেরকে বুকের দুধ পান করালে তাদের সঙ্গে এক ঘরে অবস্থান করাটা আইনসম্মত হবে।

অনেক ইসলামভক্ত লোক এই ফতোয়াকে কিছু অবুঝ মুসলিমের মস্তিষ্কপ্রসূত বলে উড়িয়ে দিতে চান। তাঁদের ধারণা ভুল। কারণ একটি হাদিস আছে:

Book 008, Number 3428 (সূত্র: এক, দুই): 
Zainab daughter of Abu Salama reported: I heard Umm Salama, the wife of Allah's Apostle (may peace be upon himy, saying to 'A'isha: By Allah, I do not like to be seen by a young boy who has passed the period of fosterage, whereupon she ('A'isha) said: Why is it so? Sahla daughter of Suhail came to Allah's Messenger (may peace be upon him) and said: Allah's Messenger, I swear by Allah that I see in the face of Abu Hudhaifa (the signs of disgust) on account of entering of Salim (in the house), whereupon Allah's Messenger (may peace be upon him) said: Suckle him. She (Sahla bint Suhail) said: He has a heard. But he (again) said: Suckle him, and it would remove what is there (expression of disgust) on the face of Abu Hudhaifa. She said: (I did that) and, by Allah, I did not see (any sign of disgust) on the face of Abu Hadhaifa.

অনুবাদ: 
জয়নাব বিন্ত আবু সালামা হতে বর্ণিতঃ আমি রাসুলুলাহর (দঃ) স্ত্রী উম্ সালামাকে আয়েশার কাছে বলতে শুনেছিঃ আলাহর কসম, আমি এমন তরুণ পুরুষের সামনে যেতে চাই না যে ফষ্টারেজ পিরিয়ড পার করেছে (বুকের দুধ খাওয়ার মেয়াদ পার করেছে)। তখন আয়েশা বললেনঃ 'কেন? সাহলা বিন্ত সুহাইল রাসুলুলাহর (দঃ) কাছে এসে বলেছিল- ইয়া রাসুলুলাহ। আলাহর কসম, সেলিম (আমাদের ঘরে) ঢুকে বিধায় আবু হুযাইফার মুখে আমি চরম বিরক্তি দেখেছি। প্রতিউত্তরে আলাহর রাসুল (দঃ) বললেন- তাকে তোমার বুকের দুধ খাওয়াও। সে বলল- তার মুখে যে দাড়ি। কিন্তু তিনি (আবারও) বললেন- তাকে বুকের দুধ খাওয়াও, তা'হলেই আবু হুযাইফার মুখে যা আছে দুর হয়ে যাবে (অর্থাৎ বিরক্তি চলে যাবে)। (পরবর্তীতে) সে (সাহলা) বলেছিল- (আমি সেরুপ করেছিলাম) এবং আলাহর কসম করে বলছি, এর পরে আর আমি আবু হুযাইফার মুখে (বিরক্তির) চিহ্ন দেখতে পাইনি। 
(অনুবাদ কৃতজ্ঞতা: AsifM)

হুবহু একই ঘটনা নিয়ে আরও দু'টি হাদিস- সুনান আবু দাউদঃ ভলিউম-2, হাদিস নং-2056, পৃ- 549 এবং মুয়াত্তাঃ সেকশন-30, হাদিস নং-12, পৃ-245-246।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন