৭ ডিসেম্বর, ২০১৬

খায়বার যুদ্ধ - ২১: খায়বারের ইহুদীদের পরিণতি!: কুরানে বিগ্যান (পর্ব - ১৫০): ত্রাস, হত্যা ও হামলার আদেশ – একশত চব্বিশ

লিখেছেন গোলাপ

(আগের পর্বগুলোর সূচী এখানে)

"যে মুহাম্মদ (সাঃ) কে জানে সে ইসলাম জানে, যে তাঁকে জানে না সে ইসলাম জানে না।"

স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) খায়বারের আল-কাতিবা অঞ্চলের সমস্ত লুণ্ঠিত সম্পদ কী কারণে একাই হস্তগত করেছিলেন; সেই সম্পদের পরিমাণ কী ছিল, এই লুটের মালের অংশ থেকে তিনি তাঁর কোন কোন পরিবার সদস্য, আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতদের দান করেছিলেন, সেই দানের পরিমাণ কেমন ছিল (আল-ওয়াকিদির বর্ণনা [পৃষ্ঠা ৬৯৪-৬৯৫] ইবনে ইশাকের বর্ণনারই অনুরূপ) ইত্যাদি বিষয়ের আলোচনা আগের পর্বে করা হয়েছে।

মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের (৭০৪-৭৬৮ সাল) অব্যাহত বর্ণনা: [1] [2]

‘আল্লাহর নবী খায়বারের আল-ওয়াতি ও আল-সুলালিম নামের দুই দুর্গের লোকদের ঘেরাও করে রাখেন, অবশেষে যখন তারা আর সহ্য করতে পারে না, তখন তারা তাঁর কাছে এই আবেদন করে যে, তিনি যেন তাদের প্রাণে না মেরে বিতাড়িত হবার সুযোগ দান করেন, অতঃপর তিনি তাই করেন। তখন আল্লাহর নবী তাদের সমস্ত সম্পদ হস্তগত করেছিলেন - আল-শিইখ, আল-নাটা ও আল-কাতিবা অঞ্চল ও তাদের সমস্ত দুর্গগুলোর, ব্যতিক্রম এই দু'টি দুর্গের অন্তর্ভুক্ত সম্পদগুলো। খায়বারের জনপদবাসী সেই শর্তে আত্মসমর্পণ করে ও তারা আল্লাহর নবীর কাছে ঐ  জমিগুলোতে কাজ করার অনুমতি প্রার্থনা করে, যেন তারা তা থেকে উৎপন্ন কৃষিজাত দ্রব্যের অর্ধেক পেতে পারে; তারা বলে, "আমরা এ সম্বন্ধে তোমাদের চেয়ে বেশি জ্ঞানসম্পন্ন ও আরও ভালো কৃষক।" আল্লাহর নবী এই ব্যবস্থায় রাজি হন এই শর্তে যে, "যদি আমরা তোমাদের বিতাড়িত করতে চাই, তোমাদের বিতাড়িত করবো।"

তিনি ফাদাক-এর জনপদবাসীদের ও অনুরূপ হাল করেন [বিস্তারিত আলোচনা 'ফাদাক' অধ্যায়ে করা হবে]। তাই খায়বার মুসলমানদের শিকারে পরিণত হয়, আর ফাদাক হয় আল্লাহর নবীর ব্যক্তিগত সম্পত্তিরূপে - এই কারণে যে, তারা তাদের বিরুদ্ধে কোনো ঘোড়া ও উট পরিচালনা করেননি (অর্থাৎ তা অস্ত্র বলে দখল করা হয়নি)।‘ ---- [3]

‘উবায়েদুল্লাহ বিন আবদুল্লাহ বিন উতবা বিন মাসুদ হইতে > ইবনে শিহাব আল যুহরী হইতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে > সালিহ বিন কাসান আমাকে বলেছেন:

ছাগু-প্রশ্নের বান্দর-উত্তর

সাইমুম (উপন্যাস: পর্ব ১৬)

লিখেছেন উজান কৌরাগ

পর্ব ১ > পর্ব ২ > পর্ব ৩ > পর্ব ৪ > পর্ব ৫ > পর্ব ৬ > পর্ব ৭ > পর্ব ৮ > পর্ব ৯ > পর্ব ১০ > পর্ব ১১ > পর্ব ১২ > পর্ব ১৩ > পর্ব ১৪ > পর্ব ১৫

বললাম, ‘আপনি আমার পূর্বপুরুষ, আপনার বংশের সর্বশেষ প্রতিনিধি আমি।’ 

তিনি ধীরে ধীরে পাথর থেকে নেমে এসে আমাকে প্রদক্ষিণ করতে করতে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। আমিও পর্যবেক্ষণ করছি আমাকে প্রদক্ষিণরত আমারই পূর্বপুরুষকে, যার শরীরে একটা সুতো পর্যন্ত নেই! নগ্ন তিনি; আমি দৃষ্টি রাখছি তার মুখে, বুকে, পেটে, পিঠে, নিতম্বে, ঊরুতে, পায়ের পাতায়, এমনকি কাঁচা-পাকা কেশাবৃত শিশ্নেও! কিন্তু কী আশ্চর্য, তাকে দেখে আমার একটুও লজ্জা লাগছে না, তিনিও লজ্জিত বোধ করছেন না! তাকে দেখে মনে হচ্ছে না যে, আমার মতো আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত নন ব’লে তিনি অশিক্ষিত; নগ্ন ব’লে মনে হচ্ছে না তিনি অসভ্য-অশালীন! তার নিম্নাঙ্গের কেশের ভেতর থেকে নেতিয়ে ঝুলে থাকা শিশ্নটাকে অশ্লীলতার ধ্বজা ব’লে মনে হচ্ছে না আমার। বরং মনে হচ্ছে তিনি স্বাভাবিক, সত্য, সুন্দর! 

আমি ভাবতে লাগলাম, আচ্ছা, আমি যদি আমার বাবা কিংবা চাচাকে এরকম নগ্ন অবস্থায় দেখতাম, তাহলে আমার কী মনে হতো? তাহলে আমি লজ্জায় কুঁকড়ে যেতাম, কয়েকটা দিন হয়তো তাদের সম্মুখে যেতে চাইতাম না, না চাইলেও মনের আয়নায় বারবার ভেসে উঠতো নগ্ন দৃশ্য। মনে হতো, কী অশ্লীল, কী অশালীন দৃশ্য! অথচ বাবা-চাচারই পূর্বপুরুষকে সম্পূর্ণ অনাবৃত অবস্থায় দেখেও আমার কিন্তু তেমন অনুভূতি হচ্ছে না! হয়তোবা সভ্যতার অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে অশ্লীলতা ঢুকে পড়েছে আমাদের মগজে, আমাদের চৈতন্যে ছড়িয়েছে অশ্লীলতাবোধ, আমাদের দৃশ্যমান লিঙ্গ কোমরের নিচে থাকলেও অদৃশ্য লিঙ্গ পাল তুলে ছুটছে মগজের কোষে কোষে। আমাদের মনন গ্রাস করেছে অস্বাভাবিক, অসত্য আর অসুন্দর তত্ত্বে; অথচ এই তত্ত্বকেই আমরা মেনে নিয়েছি স্বাভাবিক, সত্য আর সুন্দর ব’লে। কাল আমাদের গায়ে পরিয়ে দিয়েছে সুন্দর চাকচিক্য পোশাক, কিন্তু আমাদের অন্তরকে করেছে অসভ্য-অশালীন!

অর্থ উপার্জনের ধর্মসম্মত তরিকা

৬ ডিসেম্বর, ২০১৬

অনেক উচ্চশিক্ষিত ও বুদ্ধিমান লোক ধার্মিক কেন

লিখেছেন আক্কাস আলী (ফেসবুক পেজ Bitter Truth-এর সৌজন্যে)

সমাজের অনেক উচ্চশিক্ষিত ও বুদ্ধিমান লোক ধার্মিক। ধর্ম যদি ভুয়াই হবে, তাহলে তারা ধর্ম পালন করে কেন?

মনে করুন, শবনম একজন ডাক্তার। তিনি একজন বুদ্ধিমান মানুষ। একদিন তার কাছে কেউ একজন এসে একটা ভ্রান্ত দাবি করলো যে, এই মহাবিশ্ব নিয়ন্ত্রণ করে একটা গরু, গরুটা আকাশের ওপর আছে এবং গরুটাই সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান।

তো, এবার বুদ্ধিমান ডাক্তার কী করবে? প্রথমে আধঘণ্টা অট্টহাসি হাসবে, তারপর ঐ ভ্রান্ত দাবিকারি লোকটাকে পাবনার একটা বাসের টিকেট কিনে ধরিয়ে দেবে।ঠিক বলেছি?... হ্যা, ঠিকই বলেছি। আহাম্মক কেউ হলে বিশ্বাস করে বসে থাকতো, কিন্তু ড. শবনম যেহেতু বুদ্ধিমান, তাই তিনি সহজেই বুঝে ফেলেছেন যে, এইটা একটা ফাউল দাবি। 

এবার সিকুয়েন্সটা বদলে দিই, চলুন।

আমরা চলে যাই ড. শবনমের একদম ছোটবেলায়। যখন থেকে সে বুঝতে শিখেছে, তখন থেকেই তার বাবা মায়ের মুখ থেকে শুনলো যে, আকাশের ওপর একটা গরু থাকে, যেটা মহাবিশ্ব নিয়ন্ত্রণ করে। শবনম তখন কিছুই বোঝে না, যাচাই বাছাই করতে পারে না। জ্বীনগতভাবে এই পৃথিবীতে মানুষ সবচেয়ে বেশি বিশ্বাস করে তার মা আর বাবাকে। তাদের ওপর সবচেয়ে বেশি আস্থা থাকায় তাদের কথা সহজেই বিশ্বাস করে। আর ড. শবনমও তাই তার পিচ্চিকালে মা-বাবার কথা সহজেই মেনে নেবে, এটাই স্বাভাবিক।

তো, সে ছোটবেলা থেকেই মা আর বাবার কাছে শুনলো যে আকাশে একটা গরু থাকে, যেটা আমাদের এই মহাবিশ্ব নিয়ন্ত্রণ করে। তাই সে স্বাভাবিকভাবেই মেনে নিলো যে, একটা গরু আমাদের নিয়ন্ত্রণ করে। কথা সইত্য। এরপর সে বড় হতে থাকলো, শুধু পরিবার না, তার স্কুল, শপিং সেন্টার, জিম, পার্লার, বাস স্টপেজ সবখানে এই একই ধারণা্র লোকদের সাথে তার ওঠাবসা, সবসময় তার কানে একটা কথাই ঢুকছে, তা হচ্ছে - একটা গরু আসমানের ওপর থাকে এবং সেটা সর্বশক্তিমান। এভাবে সবার কাছে শুনতে শুনতে তার কাছে এই দাবিটা আর ফাউল/ভ্রান্ত মনে হয় না। তার কাছে এটা স্বাভাবিক হয়ে যায়। সে নিরপেক্ষ বিচারবুদ্ধি হারিয়ে সবসময় শুনে আসা কথাই আরামসে বিশ্বাস করে যায়।

এ অবস্থায় যদি আক্কাস আলী তার কাছে গিয়ে বলে, "আরে, শবনম, আসমানের উপর গরু বইল্যা কিছু নাই... সব ভুয়া", তখন ড. শবনম ক্ষেপে গিয়ে উল্টা আক্কাসকেই ফাউল, জ্ঞানহীন, ও মানসিক রোগী মনে করবে।

--- কাহিনী এটাই। সবখানে সবসময় আমরা সেই পিচ্চিকাল থেকেই যখন একটা ভ্রান্ত দাবি শুনে আসবো, তখন নিজের অজান্তেই সেটা স্বাভাবিক বলে মনে হবে, বিচারবুদ্ধি লোপ পেয়ে যাবে। আর বিচারবুদ্ধি লোপ পাওয়ার কারণেই আমরা বিনা যুক্তিতে বিশ্বাস করতে বাধ্য হই যে, হনুমান আকাশে উড়তে পারে কিংবা আমাদের মাথার ওপর সাত আসমান রয়েছে, যা গাধার পিঠে চড়ে পাড়ি দেয়া যায়! 

-- আমাদের সমাজের উচ্চশিক্ষিত বুদ্ধিমান মানুষগুলো ঠিক এই কারণেই ধর্ম পালন করে যায়। আর, তাদের বেশির ভাগই ধর্ম সম্পর্কে ভালো করে জানেই না। তাদের কয়জন কুরান/বাইবেল/বেদ পড়েছেন বুঝে বুঝে? জীবনেও পড়েননি, সযত্নে আলমিরাতেই সাজিয়ে রেখেছেন।

এমন অনেকে আছেন, যাঁরা একটু আধটু স্টাডি করেছেন ধর্ম নিয়ে, তাদের মনে জন্ম নিয়েছে ধর্ম সম্পর্কে সন্দেহ। আর সন্দেহের ফলে মনে অশান্তির সৃষ্টি হয়েছে। তাই এই অশান্তি থেকে মুক্তি পেতে তাঁরা ধর্ম নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি বন্ধ করে দিয়েছেন। তাঁদের অবস্থানটা এরকম যে, যদি ঈশ্বর আর পরকাল না থাকে, তাহলে ভালো। বেঁচে গেলাম। কিন্তু যদি থাকে, তাহলে কী করবো? বিপদ তো! জাহান্নামে যেইভাবে গরম তেলে ফ্রাই করার কথা আছে! ওরে আল্লারে! তাই আমরা সেইফ সাইডে থাকি। ধর্মকে যুক্তি দিয়ে আঘাত না করে সারা জীবন পালন করে যাই। এটাই ভালো হবে।

এই গণ্ডি যারা মেধা আর সাহস দিয়ে ভেঙে ফেলতে পারে, তারাই নাস্তিক হয়। এর জন্যে চাই সরল যুক্তি ব্যবহার, ধর্ম নিয়ে স্টাডি ও সাহস।

* লেখাটা একটা ভিডিওকে ভিত্তি করে। ভিডিওটিতে আরও সুন্দরভাবে ও গুছিয়ে আলোচনা করা হয়েছে কার্টুনের সাহায্য। দেখলেই মনে গেঁথে যাবে। লিঙ্কটা এখানে: https://youtu.be/Y201QzDdzbg

দ্বীনবানের দীন বাণী - ৫১


ভিডিওসূত্র: https://youtu.be/oQAw7MRQchk

বিশ্বাসের দরজায় করাঘাত!: পর্ব ০৯ – (ভাবীর গায়ের আতর-সুগন্ধি!)

লিখেছেন নরসুন্দর মানুষ


আমার মামাতো ভাই আমেরিকায় থাকেন, সহজ ভাষায় ডি-ভি লটারী পাবলিক। বছর দশেক আগে বিয়ে করার জন্য দেশে এসেছিলেন; এসেই ১৫ দিনের ক্রাশ-কোর্সে যথারীতি এক হাজী সাহেবের কন্যাকে বিবাহ করে ফেললেন!

মূল গল্পে আসি, প্রতিটি মানুষের শরীরে আলাদা আলাদা গন্ধ আছে; বেশিরভাগ পুরুষের গন্ধ মহিষের মত হলেও নারীদেরটা তেমনটা নয়, নারী দেহের গন্ধ সর্বদাই মাদকতাময়; বিশ্বাস না হলে, সাবান-শ্যাম্পু ছাড়া গোসলের ১৫ মিনিট পর, নাভী আর বুকের পাঁজরের মাঝখানটা শুঁকে দেখবেন! মাতাল হবার মত সুগন্ধ থাকে প্রতিটি নারী শরীরে; এটা নারীর প্রকৃতিগত প্রাপ্তি! তবে আজকের গল্পটি পরকীয়া প্রেমের নয়, আমেরিকা থেকে আনা সুগন্ধি হাত করবার। 

একদিন ভাবীর ঘরে গিয়ে দেখি, টেবিলের ওপর দামী দামী পারফিউমের ৬/৭ টা প্যাকেট রাখা আছে। ভাইকে প্রশ্ন করে জানলাম, সবগুলো ভাবীর জন্য নিয়ে এসেছেন তিনি!... হায়রে ভাইরে! ৩০ বছরের একটানা ভাই হয়ে একটা পেলাম না, ১ মাসের কম বয়সী বউয়ের জন্য এতগুলো! আমি ধান্দাবাজ ঠিক করলাম, ২ টা না নিয়ে আজ বাসায় ফিরবো না, কোদালের কসম!

ভাইরে কইলাম, “ভাই, তুমি তো ভাবীরে এখনই আমেরিকা নিতে পারবা না, ভাবীরে এত পারফিউম দিয়া ব্যভিচারিণী বানাইতে চাওয়াটা কি তোমার ঠিক হবে?!”

আমার প্যাঁচ প্রায় সর্বদাই কাজে লাগে, তাই সঙ্গে সঙ্গে প্রশ্ন: “তুই কী বলতে চাস?”

তারপর গল্প সংক্ষিপ্ত:

নবী মুহাম্মদ কঠোর সাবধান বাণী উচ্চারণ করে বলেছেন:
‘পুরুষরা গন্ধ পাবে এমন উদ্দেশ্যে আতর-সুগন্ধি মেখে কোন মহিলা যদি পুরুষদের মাঝে গমন করে
তাহলে সে একজন ব্যভিচারিণী বলে গণ্য হবে’। [১]

নবী মুহাম্মদ আরও বলেছেন:
‘যে মহিলা গায়ে সুগন্ধি মেখে মসজিদের দিকে বের হয় এজন্য যে, তার সুবাস পাওয়া যাবে,
তাহলে তার নামাজ তদবধি গৃহীত হবে না, যে পর্যন্ত না সে নাপাকীর নিমিত্ত 
ফরজ গোসলের ন্যায় গোসল করে’। [২]

এরপর, আমার আস্তিক ভাইয়ের বলার মত কিছু থাকলো না; ভাবীকে বলার সুযোগ দেবার প্রশ্নই আসে না। বেছে বেছে ২ টা নিয়ে বাসায় চলে আসলাম!

তো মুমিন ভাই-বোনেরা; আজকাল আতর, পারফিউম ও নানা প্রকার সুগন্ধি মেখে নারীরা ঘরে-বাইরে পুরুষদের মাঝে চলাফেলা করে। অনেকে সুগন্ধি মেখে গাড়ীতে উঠছে, দোকানে যাচ্ছে, স্কুল-কলেজে যাচ্ছে, কিন্তু নবী মুহাম্মদের সাবধান বাণীর দিকে বিন্দুমাত্র ভ্রূক্ষেপ করছে না। ইসলাম এক্ষেত্রে এমন কঠোরতা আরোপ করেছে যে, নারীরা সুগন্ধি মেখে থাকলে অপবিত্রতা হেতু ফরজ গোসলের ন্যায় গোসল করতে হবে; এমনকি যদি মসজিদে যায় তবুও! 

অতএব, 
‘ইসলামের নারীকে দিয়েছে সুমহান মর্যাদা’ বলে যতই চিল্লান, আপনার পরিবারের সকল নারীর জন্য নবী মুহাম্মদের সাবধান বাণী মেনে চলার পরামর্শ দেবেন কি দেবেন না, তা আবার ভেবে দেখুন!

তথ্যসূত্র:
[১]. আহমাদ হাদীস, নাসাঈ হাদীস; মিশকাত হাদীস /১০৬৫।
[২]. আহমাদ হাদীস ২/৪৪৪; ছহীহুল জামে হাদীস/২৭০৩।

(চলবে)

আমার বোরখা-ফেটিশ – ২০২

৫ ডিসেম্বর, ২০১৬

মানবতাভুক বিশ্বাস

লিখেছেন পুতুল হক

যখনই কোনো মুসলমান শুনতে পায়, কোনো অমুসলিম দেশে মুসলমান অধিবাসীর জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং আগামী দশ, বিশ বা ত্রিশ বছরের মধ্যে তারাই হয়ে যাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ, তখন তাঁদের চেহারায় একটা নূরানি খুশি খেলে যায়। যেন "এইবার তোমরা যাইবা কৈ?" এরা বিশ্বজয়ের কথা ভাবে সংখ্যা দিয়ে। কতটা গেঁয়ো, গোঁয়ার আর বিকৃত মানসিকতা হলে এমনটা ভাবা সম্ভব! 

আরো অদ্ভুত কথা হল, এই মানুষগুলো পৃথিবী দখল করে পৃথিবীকে কোনো সুন্দর স্থান হিসেবে গড়ে তোলার কথা ভাবে না। এরা পৃথিবীকে নিয়ে যেতে চায় ১৪০০ বছর আগের আরবের সমাজ প্রথায়। যেখানে নারী মানে মেধাহীন যোগ্যতাহীন বস্তাবন্দী বাচ্চা পয়দা করার মেশিন, ক্ষুধার জন্য কোন শিশু খাবার চুরি করলে তাঁর হাত কেটে ফেলা হয়, শুধুমাত্র "লাইলাহাইল্লাললাহু" না বলার কারণে যে কোনো মানুষকে মেরে ফেলা সওয়াবের কাজ। 

পৃথিবী যাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়, তারা পৃথিবীকে সুন্দর করবে না। মুসলমানের কাছে ক্ষণস্থায়ী জীবনের কোনো মূল্য নাই, মানুষের কোনো মূল্য নাই। তারাই মানুষের জন্য কাজ করে, যারা মানুষ নিয়ে ভাবে। তারাই পৃথিবীর উন্নয়নে অবদান রাখে, যারা পৃথিবীকে ভালোবাসে। মুসলমান পৃথিবীতে আসে শুধুমাত্র আল্লাহর ইবাদত করার জন্য আর আল্লাহর সাম্রাজ্য বিস্তারে অবদান রাখার জন্য। তাদের জীবনের মূল লক্ষ আখেরাত। এখানে আমার হিসেব মেলে না। যাদের কাছে পৃথিবীর জীবন অর্থহীন, তারা পৃথিবীর উপর দখল প্রতিষ্ঠার জন্য এতো মরিয়া কেন? ঘরে বসে যার যার মত করে আল্লাহর ইবাদত করলে আল্লাহ কেনই বা সন্তুষ্ট হতে পারেন না? আল্লাহ-নবীকে ভালবেসে কাছে পাওয়া যদি ইহকাল এবং পরকালের সব সুখের চাবিকাঠি হয়, তবে অন্যের জীবনাচার নিয়ে এতো মাথাব্যথার কারণ থাকার কথা নয়।

মুসলিম, হিন্দু, খ্রিষ্টান সবাই ধর্মকে আবারো ঘর থেকে বাইরে বের করছে। স্বাভাবিক অবস্থায় মুসলিম এবং খ্রিষ্টানদের তুলনায় হিন্দুরা কম উগ্র। কিন্তু এটা স্বাভাবিক অবস্থার কথা। অস্বাভাবিক অবস্থায় কেউ কাউকে ছাড় দেয় না, দেবেও না। রক্ত ঝরলে, সহায়-সম্পদ আর বাড়ির মেয়ে নিয়ে টানাটানি করলে কারো কষ্ট কম হয় না কারোর থেকে। ইতিহাস থেকে আমরা শিক্ষা নিই না। এতো বুদ্ধিমান প্রাণী হয়েও একই ভুল আমরা বারবার করি। 

চার্চ, মন্দির বা মসজিদ পৃথিবীর সব চাইতে ভয়ঙ্কর মারণাস্ত্র। এগুলো যখন 'বিস্ফোরিত' হয় তখন এর তেজস্ক্রিয়তা শতাব্দীর পর শতাব্দী মানুষ বহন করে চলে। এই মারণাস্ত্র পৃথিবী থেকে নির্মূল করার কথা আমরা ভাবি না। এগুলোকে বরং আদরে-আহ্লাদে-ভক্তিতে রাখা হয়। এই উপাসনালয়গুলো একদল মানুষকে আরেক দল মানুষের পেছনে লেলিয়ে দেয়। মানুষও নির্বোধ প্রাণীর মত কামড়াকামড়ি করে। একে অপরের রক্তের জন্য লালায়িত হয়। 

ধার্মিক হলেই মানুষ রক্তপিপাসু হয়, তা নয়। নির্ভরতার জন্য, মানসিক শান্তির জন্য, আসমান-জমিন, জন্ম-মৃত্যুর রহস্য ভেদ করতে পারে না বলে মানুষ ধর্মের আশ্রয় নেয়। আমরা কেউ একা নই, অসহায় নই, পিতামাতা বা প্রিয় বন্ধুর পরেও আছেন আমাদের পরম স্রষ্টা - হোক এটা ভুল, তবুও এই মানসিক শান্তির মূল্য হয়তো কম নয়। ঘরের ভেতরে ধর্মচর্চা করলে এই একই শান্তি পাওয়া যায়। তবুও অন্ধবিশ্বাসী মানুষ ধর্মকে সাথে নিয়ে ঘর থেকে বাইরে বের হয়, কামড়ায়, কামড় খায়। এর কারণ তার অন্ধবিশ্বাস। 

এই বিশ্বাস এমনই যে, একবার অন্তরে ঠাঁই দিলে কখন যে অন্তরের সবটুকু মানবিকতা, নির্মলতা, সরলতা, বিবেক, বিচার, বুদ্ধি লোপ পেয়ে যায়, কেউ বুঝতেই পারে না।

বৈজ্ঞানিক ভুলসমূহ

নিমো হুজুরের খুতবা - ১১

লিখেছেন নীল নিমো

নাস্তিকদের উৎপাতে আমি অতিষ্ঠ হয়ে গেছি। যেমন ধরেন গতকাল ওয়াজ করছিলাম নিম্নরুপ:
- কোরান হল পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান। যে মুসলমান কোরানকে আঁকড়ে ধরে রাখবে, শয়তান তাকে কোনোদিনও বিপথগামী করতে পারবে না...

ওয়াজে বাধা দিয়ে এক নাস্তিক আমাকে প্রশ্ন করিল:
- হুজুর, কোরান যদি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান হত, তাহলে আর হাদিসের দরকারটা কী? হাদিসের ব্যাখ্যা ছাড়া কোরান বুঝা যায় না। তাই কোরান পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান হতে পারে না।

নাস্তিকের কথা শুনে আমার মেজাজ খারাপ হয়ে গেল। আমি বলিলাম:
- ওরে জাহান্নামি নাস্তিক, কোরানে মূল জিনিসগুলা বলা আছে। আর হাদিসে সেগুলোর ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। যেমন, কোরানে নামাজ কায়েম করতে বলা হয়েছে। আর হাদিসে বলা হয়েছে, কীভাবে নামাজ পড়তে হবে।

আমার উত্তর শুনে নাস্তিক উত্তর দিল:
- তাহলে, হুজুর, স্বীকার করে নিলেন যে, শুধুমাত্র কোরান পড়লে মুসলিম হওয়া যায় না। হাদিসও পড়া লাগে। তাই বলা যায় যে, কোরান একটি অসম্পূর্ণ জীবনবিধান। হাদিসের মাধ্যমে কোরান পূর্ণতা পেয়েছে। তাই আপনার বলা উচিত ছিল, কোরান এবং হাদিস হল পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান।

আমি বলিলাম:
- আস্তাগফিরুল্লাহ। কোরান নিয়ে বাজে মন্তব্য ঠিক না।

নাস্তিক বলিল:
- হুজুর, এখানেই কিন্তু শেষ না। মুসলমানরা কোনো সমস্যায় পড়লে প্রথমে কোরানের কাছে যায়। কোরান যদি সমস্যার সমাধান করতে না পারে, তাহলে তারা হাদিসের কাছে যায়। হাদিস যদি সমস্যা সমাধান না করতে পারে, তাহলে তারা ইজমা-কিয়াসের দিকে যায়। আর ইজমা-কিয়াসও সমস্যার সমাধান না করতে পারলে ফতোয়ার দিকে যায়। এত কিছুর পরেও যদি সমস্যার সমাধান না হয়, তাহলে মুসলমানরা চাপাতি দিয়ে কুপাকুপি করে নিজেদের সমস্যার সমাধান করে। নবীজির মৃত্যুর মাত্র কয়েক বছর পরে মুসলমানদের ভিতর ফিতনা বা গ্যাঞ্জাম লেগে যায়। এই সময় নবীজির বউ আয়েশা এবং নবীজির মেয়ের জামাই আলী নিজেদের ভিতরে কুপাকুপি করেই সমস্যা সমাধান করেছিল। তাই আমাদের বলা উচিত, কোরান নয়, বরং চাপাতি দিয়ে কুপাকুপির ভিতরেই সকল সমস্যার সমাধান রয়েছে। আল্লাহ-কোরান-হাদিস-ফতোয়া সবকিছুই যখন ব্যার্থ হয়ে যায়, তখন মুসলমানরা হাতে চাপাতি তুলে নেয়।

নাস্তিকের বেকায়দামূলক কথা শুনে আমার ওযু নষ্ট হয়ে গেল। আমি ওযু করতে হাম্মামখানার দিকে দৌড় দিলাম।

নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা

৪ ডিসেম্বর, ২০১৬

নাস্তিক-শনাক্তকরণ

পষ্ট কইরা লেখা - ৩৭

হুরীর বর্ণনা: কুরআন আপডেট

লিখেছেন "হাযরাত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি উয়া সাল্লাম"

কুরআন আপডেট! কুরআন আপডেট!! কুরআন আপডেট!!!

আমি ভাবিতেছি যে, দুনিয়াতেই আমার জিহাদি উম্মাতদের হুরী সহবতের সুযোগ দিয়া পুরস্কৃত করিব। জোরে বল, সুবহানআল্লাহ!

কিন্তু একটা সমস্যা হইয়া গিয়াছে। কুরানে হুরীর যে-বর্ণনা রহিয়াছে, উহাতে শুধু হুরীদের উন্নত বক্ষের কথা বলা আছে। কিন্তু তাহাদের পাছা কেমন হইবে, ইহার কোনোরূপ উল্লেখ নাই। যেমন সুরা আন-নাবা তে বলা আছে:
৩১. পরহেযগারদের জন্যে রয়েছে সাফল্য। 
৩২. উদ্যান, আঙ্গুর, 
৩৩. সমবয়স্কা, উন্নতবক্ষা তরুণী।
এখানে 'সমবয়স্কা', ঠিকাছে। 'উন্নতবক্ষা', সেটাও ঠিকাছে। কিন্তু তাহাদের পাছা কেমন হইবে? এই বিষয়ে আল্লাহপাক নিশ্চুপ। আমার জিহাদি জীবনের অভিজ্ঞতা বলে, অনেক সাহাবি আছেন, যাহারা বক্ষদেশের চাইতে পশ্চাদ্দেশের প্রতি অধিকতর আকৃষ্ট হেহেহেহেহ তাহারা মাংশল পাছা অতিশয় কামনা করেন।

এখন, পবিত্র কুরানে কারিমে হুরীদের নিতম্বের কোনোরূপ বর্ণনা না থাকায় অনেক নিতম্বপ্রেমিক সাহাবিগণ জিহাদে নিরুৎসাহিত হয় এই সমস্যা নিরসনে আমি আল্লাহপাকের সাথে কথা বলিয়া উপরোক্ত সুরার ৩৩ নং আয়াত সংশোধিত ও পরিমার্জিত করিয়াছি। জোরে বল, সুবহানআল্লাহ!

৩৩ নং আয়াতে সমবয়স্কা ও উন্নতবক্ষা বিশেষণদ্বয়ের সহিত "উন্নত নিতম্ববতী" বিশেষণখানাও যুক্ত হইবে। তাহা হইলে আয়াতখানার পরিমার্জিত রূপ দাঁড়াইবে:
৩৩. সমবয়স্কা, উন্নতবক্ষা, ও উন্নত নিতম্ববতী তরুণী।
অতএব আমার নিতম্বপ্রেমিক সাহাবিগণ! জিহাদে পূর্ণরূপে ঝাঁপাইয়া পড়িতে আল্লাহ্‌র নবী তাগিদ তোমাদের করিতেছে। তোমাদের সুবিধার্থে বেহেশতের উন্নত নিতম্ববতী একখানা হুরীর তাসবির মুবারক পেশ করা হইল। তোমরা উক্ত লিংক ভ্রমণ করিয়া ঈমান শক্ত করো।

স্কুলবালকও বোঝে; বোঝে না শুধু...

৩ ডিসেম্বর, ২০১৬

ধর্মকারীর কুফরী কিতাব - ২৪: ইসলামি পাটিগণিত

গ্যান ও বিগ্যানের প্রতিটি শাখার ভিত্তি কোরান - এ কথা কে না জানে! তো পাটিগণিত নামের সরলতম বিজ্ঞানে সর্বজ্ঞ আল্যার তথা ইছলামের নবীর গ্যানের গভীরতা ও পরিধি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে যাচাই করেছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ইছলাম-গবেষক আবুল কাশেম। কোরানের মতো ভুলভ্রান্তিহীন নিখুঁত কিতাবে তিনি আবিষ্কার করেছেন পাটিগণিত সংক্রান্ত অগণ্য প্রমাদ, গলদ ও অসঙ্গতি। বইটির সূচনায় তিনি লিখেছেন:
ইসলামী পণ্ডিতেরা এবং ইসলামী ঐতিহাসিকেরা সর্বদাই প্রচার করে চলেছেন যে, বিশ্বকে অঙ্কশাস্ত্র বিশেষত বীজগণিত উপহার দিয়েছে ইসলাম। ভাব-সাব এমন, যেন ইসলামের পূর্বে বিশ্বে অঙ্কশাস্ত্রের প্রচলন ছিল না। কিন্তু সত্য হল, সংখ্যাতত্ত্ব বিশেষত আধুনিক দশমিক সংখ্যা তথ্যের উদ্ভব করেছে হিন্দুরা—ভারতবর্ষেই। পরে আরবেরা এই সংখ্যাতত্ত্ব অবলম্বন করে এবং ধীরে ধীরে তা বিশ্বের নানা অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
এই রচনায় আমরা দেখব, ইসলামের উৎস, তথা কোরান এবং হাদিসগুলোতে কীভাবে পাটিগণিতের ব্যবহার করা হয়েছে।
সর্বমোট সাতটি অধ্যায় রয়েছে এতে: ১. আল্লাহ্‌র পরিসংখ্যান তথ্য, ২. সৃষ্টি-সংখ্যায় বিভ্রান্তি, ৩. ইসলামী বর্ষপঞ্জী বা ক্যালেণ্ডার, ৪. নামায এবং পাপের গণনা, ৫. আল্লাহ্‌র সুদ কষা, ৬. কোরানের ভগ্নাংশ, ৭. ইসলামিক উত্তরাধিকার সম্পত্তি বণ্টনের হিসাব।

এই ইবুক নির্মাণ করেছেন নরসুন্দর মানুষ। তাঁকে আলাদা করে ধন্যবাদ দেয়ার কিছু নেই। ধর্মকারী-পরিবারের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে পড়েছেন তিনি। অতএব এই জাতীয় কাজ করা তাঁর ঈমানী দায়িত্বের ভেতরেই পড়ে। তবে অপূর্ব প্রচ্ছদটির পেছনে "কবি" নামের কামেল যে-শিল্পীর অবদান রয়েছে, তাঁকে মারহাবা জানাতেই হয়।

ফরম্যাট: পিডিএফ
সাইজ: ১.২ মেগাবাইট
ডাউনলোড লিংক (গুগল ড্রাইভ): https://goo.gl/kJcHwq
ডাউনলোড লিংক (ড্রপবক্স): https://goo.gl/nMIdtn

অনলাইনে পাঠযোগ্য ভার্শনও এমবেড করা হলো নিচে:

কোরআন যেভাবে অবতীর্ণ: মক্কা - দ্বিতীয় অধ্যায়: দেড় কিলোমিটারে সাত বছর (পর্ব ২০)

লিখেছেন নরসুন্দর মানুষ


{উত্তরণের উপায় খুঁজছেন মুহাম্মদ! যদি মক্কায় টিকে থাকতে হয়, তবে চাচা ‘আবু তালিব'-এর মত একাধিক সমর্থক দরকার। 

‘আবু বকর’ শরীরে পাটকাঠি আর চুপচাপ ধরনের মানুষ, ‘উসমান’ দেখতে মুহাম্মদের মত হলেও ধার করা বুদ্ধিতে চলে সবসময়! ‘সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস’ সাহসী হলেও গোত্রীয় শক্তিতে দুর্বল। মনে বড় আশা, নির্ভীক ‘উমার ইবনে হিশাম’ (আবু জেহেল) অথবা রগচটা ‘উমর ইবনে খাত্তাব’-এর মধ্যে কেউ যদি নবী হিসাবে তাকে স্বীকার করেন; তবে এ যাত্রায় তার নবীত্ব বেঁচে যায়! আজকের পর্বে মুহাম্মদের এই উত্তরণের সন্ধান পাওয়া যাবে; আর তিনি যে ‘চিনি চেয়ে সন্দেশ’ পাবেন, তাও দেখবো আমরা।

মক্কার ১৩ বছরে মুহাম্মদের অনুসারীর সংখ্যা প্রায় “তিন’শ”, গড়ে প্রতি বছর ২৩ জন। যদিও এ হিসাব স্বীকার করেন না নাস্তিক/আস্তিক কোনো গবেষকই! সবার হিসাবে এই সংখ্যা ১৩০ থেকে ১৫০ জনের ভেতর!

সম্ভবত, ভুলটা এমন, সবাই ‘আবু বকর’-কে গণনা করেন; কিন্তু তার তিন সন্তান আর স্ত্রী’র হিসাব করতে ভুলে যান! বদরের যুদ্ধে ৮০ জন মক্কাবাসী অংশগ্রহন করেছিলেন, তাদের প্রতি জনের যদি ২ জন পরিবারিক মুসলিম সদস্য (স্ত্রী+সন্তান) থাকে; তবে হিসাব দাঁড়ায় ১৬০+৮০= ২৪০ জন! এর সাথে হাবাশায় (ইথিওপিয়া) থাকা মুসলিমদের যোগ দিন! কী, হিসাব মিললো?

এ পর্যন্ত আমরা প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কোরআনের প্রকাশ পেয়েছি; যারা কোরআনকে বিজ্ঞানময় গ্রন্থ মনে করেন, তাঁদের অনুরোধ করবো, ১ম পর্ব থেকে পুনরায় পড়ে আসুন; আর কী কী বিজ্ঞান খুঁজে পেলেন; তার তালিকা করে ঝুলিয়ে রাখুন। মক্কার ১৩ বছরের শেষ পর্যন্ত কোরআনের আয়াত এতটাই একই বিষয়ে ঘুরপাক খাবে; ভয় হয়, বিরক্ত হয়ে আপনি হয়ত এই সিরিজটি পড়া বন্ধই করে দেবেন! তবে যদি মক্কা পর্ব অতিক্রম করতে পারেন, মদিনা অংশে কোরআন পাঠের মজা খুঁজে পাবেন; যুদ্ধ, যৌনতা আর গনিমতে মাখামাখি সেসব আয়াতেও বিজ্ঞান থাকবে হোমিওপ্যাথির ৩০সি শক্তির ওষুধে মূল উপাদান থাকার সমপরিমাণ!

৮৫-৮৬ নং প্রকাশে নতুন কিছু নেই বলে দুঃখিত! তবে এতদিনে হয়ত আপনার চোখে পড়েছে, কোনো কোনো প্রকাশের মাঝে ১/২ টি করে আয়াত বাদ দেওয়া হয়েছে। এগুলোর বেশির ভাগই মদিনা পর্বে খুঁজে পাওয়া যাবে; যেভাবে ৩য় প্রকাশের সূরার শেষ আয়াত ৮৭ নং প্রকাশে প্রকাশ করেছেন মুহাম্মদ! 

৮৮ নং প্রকাশের কিছুদিন আগে, মাত্র ৭ দিন সময়ের মধ্যেই মুহাম্মদের চাচা; সাহসী শিকারী যোদ্ধা ‘হামজা’ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন; আর তার ৩ থেকে ৭ দিনের মধ্যে ‘উমর ইবনে খাত্তাব’ মুসলমান হয়ে যান! কীভাবে তা ঘটে, তার বিস্তারিত বর্ণনা প্রায় সকলেই জানেন; তবে এই ‘চিনি চেয়ে সন্দেশ প্রাপ্তি’ মুহাম্মদকে এতটা সুখী আর অহংকারী করে, যার ছাপ ৮৮ নং প্রকাশের প্রতিটি আয়াতে খুঁজে পাবেন; তার সাথে এই প্রকাশের ১৪ নং আয়াতে মুহাম্মদের (আল্লার) ভ্রূণবিদ্যার জ্ঞানের দৌড় নিশ্চয়ই আপনার চোখ এড়াবে না! 

পূর্ণাকারে দেখতে ছবির ওপরে ক্লিক করতে হবে

কোরআন অবতীর্ণ হবার ধারাবাহিকতা অনুসারে প্রকাশের আজ ২০ তম পর্ব; এই পর্বে থাকছে মক্কা - দ্বিতীয় অধ্যায়: দেড় কিলোমিটারে সাত বছরের ১৩ তম চার অংশ। অনুবাদের ভাষা একাধিক বাংলা/ইংরেজি অনুবাদ অনুসারে নিজস্ব।}

নিত্য নবীরে স্মরি – ২৬৪

২ ডিসেম্বর, ২০১৬

সাইমুম (উপন্যাস: পর্ব ১৫)

লিখেছেন উজান কৌরাগ


তিনি কথা বলছেন না, হালকা জ্যোৎস্নায় আমরা একে-অন্যের মুখের দিকে তাকিয়ে আছি; মনে হচ্ছে, চাঁদের আলো যদি আরেকটু বৃদ্ধি পেতো, যদি আরেকটু স্পষ্ট দেখতে পেতাম তার চোখ-মুখের অভিব্যক্তি! তিনি আমার মাথায় হাত রাখলেন, অল্প জ্যোৎস্নাতেও আমি দেখতে পেলাম, তিনি চোখ বুজে আছেন। আমি তার স্পর্শের আনন্দে অভিভূত হয়ে তাকিয়ে আছি। মনে হচ্ছে তাকে আমি বহুকাল আগে থেকেই চিনি, তাঁর এই স্পর্শ নতুন নয়; আমার মা যখন ছেলেবেলায় আমাকে খাইয়ে-পরিয়ে যত্ন করতেন, আদর করতেন, তখন সেই যত্নে-আদরে এই হাত দু'টিরও অদৃশ্য উপস্থিতি থাকতো; তাঁর গায়ের গন্ধ ঠিক আমার মায়ের গায়ের গন্ধের মতো! বেশ কিছুক্ষণ পর তিনি আমার মাথা থেকে হাত নামিয়ে নিলে আমি জলচৌকিখানা নিয়ে বসতে দিলাম কাঁঠালগাছের ঘন অন্ধকারের বাইরে; তিনি বসলেন, আমি বসলাম তার পায়ের কাছে মাটিতে। জলচৌকির একদিকে সরে তিনি আমাকেও বসতে বললে অনীহা প্রকাশ করলাম, ‘আপনি বসুন, মাটিতে আমার অসুবিধে হবে না।’

নিজের কোলের কাছে আমার ডান হাতখানা ধরে আছেন দু'হাতে, আর তাকিয়ে আছেন আমার দিকে; যেন দেখছেন আর আমার অন্তরাত্মা পাঠ করছেন! অদম্য কৌতূহল নিবারণে আমি তার পাঠে বিঘ্ন ঘটিয়ে বললাম, ‘আপনি এখানে কতোদিন আছেন?’ 

তিনি উদাসীনভাবে উত্তর দিলেন, ‘গত বর্ষায় যখন মোহাম্মদ বিন কাশিম দেবল দখল করলো, তখন থেকেই।’

‘এখানে আপনার আপনজন কেউ আছেন?’

মুখ থেকে শব্দ নয়, যেন বুকের দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো, ‘না!’

‘পরিবারের আর সবাই কোথায়?’ 

‘কেন জানতে চাও এসব কথা?’

অনলাইন মমিনদের উপাস্য

এঁকেছেন ইঁদুর

PS লোগোটি যাঁদের কাছে পরিচিত নয়, তাঁদের জন্য:

মোনাজাত-মাপক যন্ত্র

দোয়া-মোনাজাত-প্রার্থনা করে যে-ফলটা হয়, সেটাকে এক শব্দে প্রকাশ করা যায় এভাবে: লবডঙ্কা। এর অর্থ যে কোনও ধরনের দোয়া-মোনাজাত-প্রার্থনা মানেই সময়ের অপচয়। এবং ইছলাম ধর্মেই তো, বোধহয়, বলে, "যাহারা অপচয় করে, তাহারা শয়তানের ভাই"! 

একজন ধর্মবিশ্বাসী জীবনে কতোটা সময় অপব্যয় করে অর্থহীন ব্যর্থ প্রার্থনার পেছনে, তার সাদামাটা হিসেব বের করতে ব্যবহার করুন মোনাজাত-মাপক যন্ত্র। 

দেখতে সেটি এরকম:


এখন এই লিংকে গিয়ে শূন্যস্থানগুলোয় প্রয়োজনীয় সংখ্যা বসিয়ে "সাবমিট"-এ ক্লিক করুন।

দু'মুখো মুছলিমেরা

১ ডিসেম্বর, ২০১৬

আল্লাহর অস্তিত্বের অকাট্য প্রমাণ – ০১

আল্লাহর অস্তিত্বের শত-সহস্র অকাট্য প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও বেতমিজ নাস্তিকেরা তাতে ঈমান আনতে চায় না। অথচ তারা নাকি যুক্তিবাদী! বর্তমান সিরিজে তাদের উদ্দেশে একের পর এক প্রমাণ হাজির করা হবে। দেখা যাক, এবার তারা কী বলে।

প্রমাণ ০১.
শিশু, সূর্যাস্ত, ফুল, গাছগাছালি – এতো সৌন্দর্য আল্লাহ ছাড়া আর কারোর পক্ষে সৃষ্টি করা সম্ভব? সম্ভব নয়। তাই প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহর অস্তিত্ব আছে।

প্রমাণ ০২.
আল্লাহ হয় প্রয়োজনীয়, নয় অপ্রয়োজনীয়। কিন্তু আমরা জানি যে, আল্লাহ অপ্রয়োজনীয় নয়, প্রয়োজনীয়। অর্থাৎ আল্লাহর অস্তিত্ব আছে।

প্রমাণ ০৩.
চারপাশে তাকিয়ে দেখুন; এই পৃথিবী, বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সমস্তকিছু অত্যন্ত জটিল ও যৌগিক। এমন জটিল বিশ্বজগৎ সৃষ্টি করা সম্ভব শুধু আল্লাহর পক্ষে। অতএব আল্লাহর অস্তিত্ব আছে।

প্রমাণ ০৪.
ধরা যাক, আল্লাহ = X। এখন আমি যেহেতু X কল্পনা করে নিতে পারি, তার মানে X-এর অস্তিত্ব আছে। এবং তার অর্থ, আল্লাহর অস্তিত্ব আছে।

প্রমাণ ০৫.
আমার চাচীর দুরারোগ্য ব্যাধি হয়েছিল। ডাক্তারেরা কী সব উল্টাপাল্টা চিকিৎসা শুরু করলো! আমরা সবাই দোয়া করলাম তাঁর সুস্থতা কামনা করে। তিনি সুস্থ হয়ে উঠলেন। এর থেকে প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহর অস্তিত্ব আছে।

(বিদেশী রচনার ছায়া অবলম্বনে)

বেদ্বীনবাণী - ৭৯