২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

নিত্য নবীরে স্মরি – ১৬১



দাঁড়িপাল্লার ঝাড়ি - ২৬

লিখেছেন দাঁড়িপাল্লা ধমাধম

৭৬.
সমস্ত মানুষ ও জ্বীন একত্র হইয়াও কোরানের মত একটা বদ গ্রন্থ রচনা করতে পারবে না, কারণ মানুষ আর জ্বীনের সমস্ত বদগুণ যোগ করলেও তা মহাবদের সমান হবে না।

৭৭.
পুত্তম প্লাস আদমের জন্মের পর থিকা শেষ প্লাস মহানাভির জন্ম পর্যন্ত ইস্লাম জাহানে কুনো জীবনবিধান আছিল না। তখন মুছলমানরা কী বিধানে চলত, সেইটা জিগাইয়া লজ্জা দিয়েন না। যাই হোক, মুছলমানদেরকে ছহি ছম্মত লাইনে আনতে পরিপূর্ণ জীবনবিধান কোরান নাজিলের দরকার হয়। তারপর কোরান নাজিলের পর থিকা আজ পর্যন্তও কোনো মুছলমানের জীবনযাপনে ছহিহ ইস্লামের ছায়াও দেখা যায় নাই, অর্থাৎ সেই পরিপূর্ণ জীবনবিধান মাইনা চলা কুনো মুছলমানের পক্ষে সম্ভব হয় নাই, হচ্ছে না, হবেও না। অতএব, তুমরা ইস্লাম নামক সেই পরিপূর্ণ জীবনবিধানের আর কুন কুন কৌতুকরে অস্বীকার করপে?

৭৮.
ধর্ম একটি সিরিয়াস জিনিস। তাই ধর্ম নিয়ে ফাইজলামি করা মোটেই ঠিক নয়। 
আসুন, ছহি সম্মত উপায়ে সিরিয়াস ভাবে ধর্ম পুন্দাই।

এক হাতে মোর কোরান শরীফ, আর হাতে ... - ৫

কবি নজরুল লিখেছিলেন: "এক হাতে মোর বিষের বাঁশরী / আর হাতে রণতূর্য।" কী ভেবে তিনি তা লিখেছিলেন, আমার জানা নেই, তবে কেন অনেক মুসলমানের এক হাতে থাকে কোরান, আরেক হাতে অস্ত্র (যেন একটি অপরটির পরিপূরক), সেটি বেশ বুঝতে পারি। 

কোরানে যতো সহিংস, উস্কানিমূলক ও জঙ্গিবাদী আয়াত আছে (একটি পুরনো তবে খুবই প্রয়োজনীয় পোস্ট: কোরানের ভালো আয়াত বনাম অসহিষ্ণু/জঙ্গিবাদী আয়াত), তাতে কোরানের পাশে অস্ত্রের সহাবস্থান একেবারেই বেমানান তো নয়ই, বরং বলা চলে: কোরান ও অস্ত্র - মানিকজোড়, মেইড ফর ইচ আদার, এক দুজেকে লিয়ে...







২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

যৌনস্বাধীনতা নাকি যৌনসচেতনতা?

লিখেছেন জসীম উদদীন

Ancient Society, Human Society, The Family, The Origin of Family এবং History of Human Marriage গ্রন্থের ভিত্তিতে যৌনতা সম্পর্কে আমার ব্যক্তিগত ধারণা ও মত:

প্রয়াত অধ্যাপক ড. হুমায়ুন আজাদের একটা কথা সম্ভবত এরকম যে, "যে বয়সে পাশ্চাত্যের ছেলে-মেয়েরা কাছাকাছি আসে ও ঘনিষ্ঠ হয়, সে বয়সে আমাদের দেশের ছেলে-মেয়েরা তীব্র যৌনউত্তেজনা চেপে রাখে, যা মানসিক ও শারীরিক বিকাশের ওপর প্রভাব বিস্তার করে। এ অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য প্রয়োজন যৌনস্বাধীনতার।" 

হুমায়ুন আজাদ ছাড়াও আরো অনেক প্রগতিশীল লেখক-লেখিকা, চিন্তাবিদ ও ব্যক্তিবর্গ এই যৌনস্বাধীনতার কথা বলেছেন ও সমাজে এই যৌনস্বাধীনতার প্রয়োজনীয়তার কথা স্বীকার করেছেন। তবে এখানে একটি প্রশ্ন থেকেই যায় যে, যৌনস্বাধীনতা বলতে তাঁরা কী বুঝিয়েছেন, তা খুব স্পষ্ট করে বলেননি। 

রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায় স্বাধীনতা বলতে সমাজে অন্য কোনো ব্যক্তির ক্ষতি না করে ব্যক্তিমানুষের ইচ্ছা বা মত বহিঃপ্রকাশ করাকে বোঝায়। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে - নর-নারী উভয়ের সম্মতিক্রমে যৌনসম্পর্কে লিপ্ত হওয়াকেই কি যৌনস্বাধীনতা বলে না? সমাজে অবাধ যৌনাচারণ বা যৌনস্বাধীনতা চলতে থাকলে সমাজের মূলে আঘাত পড়ে এবং এর ফলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবার সম্ভাবনা থেকে যায়। তাছাড়া আরও একটি বিষয় এড়ানো যায় না - গর্ভধারণ। যেহেতু বিবাহপূর্ব যৌনসম্পর্কের কারণে গর্ভধারণের সম্ভাবনা থেকেই যায় যা অনেক সমাজের চোখে বেশ লজ্জার ও সমস্যার। 

তাছাড়া অবৈধ সম্পর্কের কারণে গর্ভধারণের দায় এড়ানোর জন্য ভ্রূণহত্যার অনেক নজির বিদ্যমান। যৌনাচার অবাধে চলতে দিলে যে সমাজের মূলে আঘাত পড়ে, সে প্রসঙ্গে William J. Goode তার বিখ্যাত ’The Family’ গ্রন্থে বলেছেন, 
The child whose parents are not married does not belong to the father’s family and neither the father nor his family needs to meet more than minimal legal obligations to the child. The child’s position is ambiguous and its socialisation experience is likely to be inadequate. 
আর এক বিখ্যাত নৃতত্ত্ববিদ Malinowski তার ’Human Society’ গ্রন্থে ‘Principle of legitimacy’ বা বৈধ বিবাহজাত সন্তান সম্পর্কিত নীতির উল্লেখ করে বলেন, 
No child should be brought into world without a man and one man at that assuming the role of sociological father that is guardian and protector the male link between the child and the rest of the community. Marriage can’t be defined as the licensing of sexual intercourse but rather as the licensing of parent-hood." 
Malinowski-এর সাথে একমত পোষণ করে Goode বলেন,
The illegitimate child is a burden with no benefit to its mother’s kin, since his lack of a secure place in the kinship line means that his obligations to them are not firm or definite. They receive no gifts from the other kinship line, since there has been no marriage. The child represents in some societies a violation of the elder’s power to decide execute the marriage itself. Usually there is no father to assume the social and economic care of the child and the child is not an extension of the kinship line.
কবি নজরুলও তাঁর ‘বারাঙ্গনা’ কবিতায় বলেছেন, 
কার পাপে কোটি দুধের বাচ্চা আতুরে জন্মে মরে।
অতএব প্রশ্ন উঠতেই পারে যে, যৌনস্বাধীনতা কি অবাধ যৌনাচরনের আধুনিক রূপ নয়? কেননা সমাজ গঠনের পূর্বশর্ত হচ্ছে - নিয়ন্ত্রিত ও শৃঙ্খলিত জীবনযাপন। সেই ভিত্তিতে সভ্যতার সূচনা থেকে গোত্রবিবাহ ও অবাধ যৌনাচরনের গণ্ডি অতিক্রম করে একক বিবাহ বা ব্যক্তি বিবাহের প্রথার প্রচলন হয়। 

তবে সন্দেহাতীত ভাবে বলা যায় যে, যেদিন থেকে ধর্ম, সমাজ ও রাষ্ট্র এক অপরের পরিপূরক হয়ে মানুষের স্বাভাবিক যৌনতাকে কঠোরভাবে এবং নিয়মতান্ত্রিক অনুশাসনের দ্বারা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করল, সেদিন থেকেই সমাজে পতিতাবৃত্তি ও যৌনবিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। তাই বলাই যায় যে, ধর্মীয় অনুশাসন মানুষের স্বাভাবিক যৌনতাকে খর্ব ও বাধাগ্রস্ত করেছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। সমাজের উচিত যৌনসচেতনা বৃদ্ধি করা এবং সেই সাথে পাঠ্যপুস্তকে এই যৌনসচেতনার বিষয়সমূহ সংযুক্ত করা। মানুষের যৌনসম্পর্ককে বা যৌনতাকে স্বাভাবিক ও সুষ্ঠভাবে নিয়ন্ত্রিত করতে পারলে যৌনস্বাধীনতার প্রয়োজন থাকে না। তাই সমাজ ও মানুষের স্বাভাবিক বিকাশের জন্য প্রয়োজন সুষ্ঠ ও স্বাভাবিক নিয়ন্ত্রণ এবং অবশ্যই যৌনতা বিষয়ে স্পষ্ট সচেতনতা।

বেদ্বীনবাণী - ১৮



চিন্তা-প্রতিচিন্তা - ১৪

লিখেছেন বুদ্ধ মোহাম্মদ যীশু কৃষ্ণ

৪০.
ভণ্ড হুজুর, ভণ্ড ঠাকুর, ভণ্ড পাদ্রি বলে কিছু নেই।
ভণ্ড অর্থই হুজুর, ঠাকুর, পাদ্রি, মোল্লা, মুফতি, বাবাজি-মাতাজি পীর-আওলিয়া, নবী, দেবতা, পয়গম্বর।

৪১.
মানুষের মত দেখতে ১৩০ কোটি ছাগল উৎপাদন - ১৪০০ বছরে ইহাই ইসলামের অর্জন।

৪২.
কোনো ধর্মই নারীকে তার প্রাপ্য অধিকার দেয়নি।
কেউ করেছে সতীদাহ, কেউ বানিয়েছে শষ্যক্ষেত্র।
তারপরেও নাকি ধর্ম মানবতার প্রতীক!

'আইসিল ইছলামিক নয়' - ওবামা

* Mormon (বাংলায় উচ্চারণ 'মোরম্যান'-এর কাছাকাছি) - একটি ধর্মীয় গোত্রের প্রতিনিধি। তাদের ধর্মের নাম Mormonism. এই ধর্মের অনুসারীরা নিজেদের খ্রিষ্টান মনে করে।

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

বোকো হারাম, আইসিসকে ধন্যবাদ

লিখেছেন রহমান পৃথু

ষ্টিফেন হকিং, আইনস্টাইন বা নিউটনকে পেলে আইসিস, বোকো হারাম, আল-সাবাবরা মেরে ফেলত।

ইসলাম রাজত্ব করলে আজকের সভ্যতার যা কিছু মহান সৃষ্টি, বিজ্ঞানের অবদান - কিছুই দেখতে পেতাম না। আরবের মরুভূমির বর্বরতা হত আমাদের জীবনের মাপকাঠি ও নিয়তি।

ওরা মুণ্ডু কেটে ফেলত - সে যত বড় বিজ্ঞানী, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, চিকিৎসক, শিল্পী হোক না কেন, কাফের-নাস্তিক-বিধর্মী হলেই হল।

ইসলামের মূল কথা - সভ্য মানুষদের বিশ্বাস, তাঁদের শিক্ষা, জীবন ও মূল্যবোধকে যারা বিশ্বাস ও অনুসরণ করবে, তাদের গলা কেটে মেরে ফেল।

ইসলামের এ মৌলিক বিধান যে অস্বীকার করে, সে মিথ্যুক, সত্যিকারে মুসলমান নয়। ইসলাম বিষ। মিথ্যা মোড়কে - মুসলমানদের বিভ্রান্তির মধ্যে রেখে - ইসলাম টিকে আছে।

কিন্তু যখন সামনে সত্যিকারের ইসলাম আসে। তখন সে বুঝতে পারে, বেলা নেই।

ইসলামের নিষ্ঠুরতা ও ভয়াবহতা সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার আপাতত, মনে হচ্ছে, আর দরকার নেই।

আইসিস, বোকো হারাম, আল-সাবাব, তালেবান, আল-কায়েদার কল্যাণে আমাদের কষ্ট লাঘব হয়েছে। আমাদের লেখা গৌণ হয়ে গেছে।

ইতিহাস, কুরানে কী আছে, তা নয়, মানুষ চাক্ষুস উদাহরণ চায়।

এজন্য বোকো হারাম, আইসিসকে ধন্যবাদ।

দ্বীনবানের দীন বাণী - ০৫


১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

দেলু চোরার চন্দ্রবিলাস (হিমু অবলম্বনে, হুমায়ূন আহমেদের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা পুর্বক)

লিখেছেন হযরত মাওলানা আল্লামা দেলাওয়ার হোসেন ছাঈদী (ফোঃ সেঃ) চন্দ্রপুরী

(প্রথম অংশ প্রথমে ফাসির আদেশ হবার পর লেখা ও ইষ্টিশন ব্লগে প্রকাশিত। পরিশিষ্ট অংশ আদালতে আজকের রম্য নাটিকার পরিপ্রেক্ষিতে যোগ করা হয়েছে।)

শেষ পর্যন্ত ধরা খেয়ে গেলাম। দাড়িতে লাল রঙ মাখিয়ে জজ সাহেবকে বিভ্রান্ত করা গেল না। আমার ফাঁসির হুকুম হয়ে গেল। 

কাচারিঘরের সমবেত জনতা আমার দিকে প্রবল ঘৃণা নিয়ে তাকিয়ে আছে। আমি পাত্তা দিলাম না। মহাপুরুষদের এইসব পাত্তা দিলে চলে না। আমি শিস দিয়ে একটা গানের সুর তোলার চেষ্টা করলাম, “ও হাসিনা দিছস কিনা ঝুলায় আমারে......” 

পাকা খবর আছে, আমাকে হুট করে একদিন ঝুলিয়ে দেওয়া হবে। আমার প্রবল ইনটিউশন বলছে, তার আগেই আমার শিষ্যরা একটা হুলুস্থুল বাধিয়ে দেবে। মানুষ-টানুষ মেরে একেবারে ছ্যাড়াব্যাড়া করে ফেলবে। আমি আমার মাতুল বংশ থেকে তেইশটা ভয়াবহ ক্রোমোজোম নিয়ে এসেছি বলে খুন, ধর্ষণ এসব আমার কাছে কোনো বিষয় না। মহাপুরুষদের এইসব জাগতিক ব্যাপারে মাথা ঘামানো নিষিদ্ধ। 

আমি উদাস মুখে আমার লাল দাড়িতে হাত বোলাতে লাগলাম। জেলখানায় তেমন করার কিছু নেই। এখন আমার দিন কাটছে মেশিন পরিচর্যা করে। 

ফাঁসি কার্যকর হওয়ার আগ পর্যন্ত আমাকে টেলিফোনের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। আমি খালেদার নাম্বার ডায়াল করলাম। ফোন ধরলেন ফালু সাহেব। ফালু সাহেব হেড়ে গলায় বললেন, “কাকে চাই?”

আমি সিরিয়াস ভঙ্গিতে বললাম, “এটা কি লইট্টা ফিশের আড়ত?” 

ফালু সাহেব জড়ানো গলায় গালিগালাজ শুরু করলেন। গালিগালাজে উর্দু শব্দের প্রাধান্য আছে। মনে হয়, আজ তার মদ্যপান দিবস। তরল অবস্থায় তিনি উর্দুভাষায় গালিগালাজ করেন। এমনিতে তার লিমিট হচ্ছে পাঁচ। আজ মনে হয় লিমিট অতিক্রম করে ফেলেছেন। আমার বাবা তার বিখ্যাত উপদেশমালায় বলেছেন, “উর্দু এবং উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা।” ভাষাগত কারণে আমি ফালু সাহেবের প্রতি গভীর সংহতি বোধ করলাম এবং নিজের অজান্তেই গলা ফাটিয়ে ম্যাৎকার দিলাম, “পাকিস্তান জিন্দাবাদ!” ম্যাৎকারে ফালু সাহেবের কোনো ভাবান্তর হল না।

তিনি মহা উৎসাহে গালিগালাজ করে যাচ্ছেন, “শুয়ার কি আওলাদ! উল্লু কা পাঁঠা, লইট্যা ফিশের আড়ত তোর গুহ্যদ্বার দিয়ে ঢুকিয়ে দেব, হারামজাদা!” বেশিক্ষণ গালি শুনতে হল না, খালেদা এসে ফোন নিয়ে নিল। 

"কে? দেলু?"

আমি মধুর গলায় বললাম, “কেমন আছ রূপা”

- রূপাটা কে? তোমার নতুন কলিজু?

আমি হাসলাম। আমার সেই বিখ্যাত বিভ্রান্তিকর হাসি। যার মানে হ্যাঁ বা না দুইই হতে পারে। হাসি দিয়ে খালেদাকে বিভ্রান্ত করা গেল না।

খালেদা বিরক্ত গলায় বলল, “দেলু একসময় তোমার সাড়ে সাত বাই দেড় ব্যাপারটা ভালো লাগত, এখন আর লাগে না। তার পরও তোমাকে দেখার জন্য কেন যে সিঙ্গাপুর থেকে চলে এলাম, জানি না।”

আমি আনন্দে খাবি খাচ্ছি এমন একটা ভাব করে বললাম, “মেনি থ্যাংকস, রূপা।” 

খালেদা যন্ত্রের মত বলল, “সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে তোমাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছি। তবে তাতে কাজ হবে কি না, কে জানে।” 

রূপার সাথে কথা বলতে বলতে আমি মেশিন চালাচ্ছিলাম। ক্লান্ত গলায় বললাম, “রূপা, তুমি কি তোমার গোলাপী শাড়ীটা পরে একটু বারান্দায় আসবে?” 

খালেদা ধরা গলায় বলল, “কেন?” 

আমি উদাস গলায় বললাম, “আজ চাঁদের মধ্যে আমাকে দেখা যাচ্ছে। তুমি আমাকে দেখার জন্য সিঙ্গাপুর থেকে এসেছ। প্রকৃতি তোমার ইচ্ছা পূরণের ব্যবস্থা করেছে।” 

খালেদা খটাস করে ফোন রেখে দিল। খালেদাকে বোঝানোর সুযোগ হল না, আমাকে আসলেই সেদিন চাঁদের মধ্যে দেখা যাচ্ছিল। বারান্দায় এলেই রূপার সাথে আমার দেখা হতো। অর্ধচন্দ্রের অপার্থিব আলোয় আমরা দৃষ্টি বিনিময় করতাম। প্রকৃতি মানুষের কোনো ইচ্ছাই অপূর্ণ রাখে না। আমার এই ইচ্ছা কীভাবে পূরণ হবে কিংবা আদৌ পুরণ হবে কি না, কে জানে! 

পরিশিষ্ট: 

শেষ পর্যন্ত আমাকে ঝুলিয়ে দেওয়া গেল না। হাকিম নড়ে তো হুকুম নড়ে না বলে একটা কথা আছে। মাথামোটা বাঙালিদের ক্ষেত্রে হাকিম-হুকুম সবই নড়ে। রসিক মহামান্য আদালত আমার ফাঁসি বাতিল করে আজীবন কারাদণ্ড উপহার দিল। 

আমি সমগ্র বাঙালি জাতির উদ্দেশে মধ্যমাঙ্গুলি প্রদর্শন করলাম। মেশিন দেখিয়ে দিতে পারলে ভালো লাগত। এই কাজ থেকে বিরত থাকলাম। প্রদর্শন একটি বিপদজনক প্রক্রিয়া। আমার খালাতো ভাই বাদল (ভালো নাম কাদের মোল্লা) ভি প্রদর্শন করে শেষ পর্যন্ত ফাঁসিতে ঝুলেছে। বাদলের জন্য আমার মধ্যে এক ধরনের হাহাকার তৈরি হল। সবাই যার যার মত পার পেয়ে গেল, ধরা খেয়ে গেল শুধু বাদল। আমি দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। 

সবই প্রকৃতির বিরাট কোনো পরিকল্পনা। সেই পরিকল্পনায় বাদল দুর্ভাগা, আমি ভাগ্যবান। মানবজাতির ভাগ্যের হিসাব সব সময়ই রহস্যময়। এই রহস্যের কারণে আমাকে একদিন চাঁদের বুকে দেখা গিয়েছিল। তার চেয়েও বড় রহস্যের কারণে আরো দীর্ঘদিন আমাকে পৃথিবীর বুকে দেখা যাবে।

সতী-অসতী নির্ধারণ করুন সনাতনী বিগgun-এর সাহায্যে

লিখেছেন নিলয় নীল

মুমিনরা শুধু ইসলামের মধ্যেই বিজ্ঞান খুঁজে পায়, কিন্তু তারা জানে না, কতো হাজার বছর আগে সনাতন ধর্ম কতো বৈজ্ঞানিক কথাবার্তা দিয়ে টইটুম্বুর হয়ে আছে। আজকে আমি আলোচনা করবো সনাতন ধর্মের অন্যতম বৈজ্ঞানিক বিষয় “সতী-অসতী নিরূপণ” নিয়ে। জ্বি ভাই, আপনি তো বিয়ে করার চিন্তা-ভাবনা করছেন, তাই না? আপনি না করলেও আপনার কাছের মানুষরা তো বিয়ে করছে, সেই ক্ষেত্রে অসতী নারীর ব্যাপারে সচেতন থাকবেন। একটি নারী সতী না অসতী, তা বুঝতে পারবেন সনাতনী বিজ্ঞানের সাহায্যে। সনাতনী এই বিজ্ঞানটি যার-তার কাছ থেকে আসেনি, এসেছে স্বয়ং শিব ঠাকুরের কাছ থেকে। উজ্জয়িনীর কামশাস্ত্রের “শিব পার্বতীর কথোপকথন” এর সতী-অসতী নিরূপণ অধ্যায় থেকে সংকলন করে দেয়া হলো:
পার্বতী তার স্বামী মহাদেবকে জিজ্ঞাসিলে, কোন নারী সতী আর কোন নারী অসতী তা বুঝা যাবে কি করে? এই বিষয়ে সিদ্ধহস্ত মহাদেব তার স্ত্রীকে যা বলেন তা থেকে উল্লেখযোগ্য বৈজ্ঞানিক বাণীগুলো সংকলন করে আপনাদের অর্পণ করলাম। 
- যে নারীর বাম চোখ বা বাম উরুতে তিল আছে এবং যার কণ্ঠস্বর মিষ্টি সেই নারী সতী ও পতিব্রতা হয়। 
- বিবাহের সম্বন্ধকালে যখন কন্যাকে দেখানোর জন্য বরপক্ষের কাছে আনা হয়, সেই সময় যদি মেঘ গর্জন করে তাহলে সেই কন্যা পতির ঘরে গিয়ে কুলটা হয়। অবশ্য বর্ষাকালে মেঘ গর্জন হলে তাতে কোন দোষ নেই, কিন্তু হঠাৎ মেঘ গর্জন করলে অবশ্যই সেই নারী অসতী। 
- গমনকালে যে রমণীর পদবিক্ষেভে ভূমি কম্পমান হয় (জোরে জোরে পা ফেলে হাটে যেন মাটি কাপে), সেই রমণী নিজ পতি পরিত্যাগ করে পরপুরুষে আশ্রয় গ্রহণ করবে। 
- যে রমণী আজন্মা ধবলা অর্থাৎ শরীরের কোন কোন স্থানে সাদা চিহ্ন রয়েছে, সেই রমণী বিবাহের অল্প কিছুদিন পরেই বিধবা হয় এবং দ্বিতীয় পতি গ্রহণ করে। 
- বিবাহের সম্বন্ধে যখন কন্যাকে দেখানোর জন্য বরপক্ষের কাছে নিয়ে আসা হয়, ঐ সময় যদি কাক, চিল বা শকুন উপরের দিক থেকে নিচে নেমে আসে তাহলে বুঝতে হবে ঐ কন্যা কুলটা হবে। 
- কন্যা যখন প্রথম দেখতে যাওয়া হয়, যদি সেই সময় সুগন্ধিপূর্ণ বাতাসে সবদিক মাতোয়ারা হয় তাহলে সেই কন্যা সতী ও ভাগ্যবতী হবে নিঃসন্দেহে। 
- কন্যা দর্শনে যাত্রার সময় যদি অল্প অল্প বৃষ্টি হয় এবং মাটি ভিজে যায় কিন্তু মেঘের দর্শন না হয় তাহলে সেই কন্যা সতী হবে। শাস্ত্রের এই বাক্য কখনোই মিথ্যা হয়না। 
- যে রমণীর নামের অক্ষর সংখ্যা যুগ্ম এবং যে স্থানে বাস করে সেই স্থানের নামে সংখ্যাও যুগ্ম (যেমন পারমিতা ৪ অক্ষরের, ঝালকাঠি ৪ অক্ষরের) হয় তাহলে সেই রমণী ব্যাভিচারিনী ও পতিবিদ্বেষকারিণী হয়। 
- কোন পুরুষকে দেখলে যে কন্যা অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে কিন্তু কোন রমণীর প্রতি সেই দৃষ্টিতে তাকায় না সেই ধরণের কন্যারা অসতী হয়। 
- যে বিবাহ করবে এবং যাকে বিবাহ করা হবে অর্থাৎ পাত্রপাত্রীর নামের মোট অক্ষরসংখ্যার সাথে উভয়ের বয়সের সংখ্যা যোগ করে তাকে চার দিয়ে গুণ করে গুণফল থেকে তিন বিয়োগ করবে। এরপর যেটা বাকি থাকবে তার সাথে আবার উভয়ের নামের সংখ্যা যোগ করে যে সমষ্টি হবে তাকে তিন দিয়ে ভাগ করতে হবে। ফলে যদি এক অবশিষ্ট থাকে তাহলে ধরে নিতে হবে কন্যা সতী, আর যদি দুই অবশিষ্ট থাকে তাহলে কন্যা কুলটা। কুলটা স্ত্রীর স্বামী হবে যে তার অনেক ক্লেশ হবে। 
মনে করুন, বরের নাম পদ্মলোচন আর কনের নাম কুমুদিনী। তাহলে তাদের নামের সংখ্যার সমষ্টি হলো ৯; এবার বরের বয়স ১৭ আর কন্যার বয়স ৯ তাহলে মোট বয়স ২৬; এখন নামের সংখ্যা ও বয়সের মোট সংখ্যা (২৬+৯) = ৩৫; একে ৪ দিয়ে গুণ করলে হবে ১৪০; এর সাথে ৩ বিয়োগ করলে ১৩৭ পাওয়া গেলো। ১৩৭-এর সাথে নামের সংখ্যা যোগ হলে হবে ১৪৬; একে ৩ দিয়ে ভাগ করলে ভাগশেষ ২ থাকে। তাহলে নির্ণেয় উত্তর হবে কন্যা অসতী। 

এভাবেই সনাতন বিজ্ঞানের মহাদেবের মুখনিঃসৃত বাণী অনুসরণ করে আপনিও সতী-অসতী নির্ণয় করতে পারবেন। এটা শতভাগ শাস্ত্রসম্মত, তাই ভুলের কোনো আশঙ্কা নেই।

চিত্রপঞ্চক - ৮৯

বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ রেস্টুরেন্ট

শিশুমস্তিষ্কপ্রক্ষালনের সূচনা

সঠিক সহাবস্থান

যারা এটা বোঝে না, তারা দূরে গিয়ে মুড়ি খেতে পারে

এর পরেও তোমরা আল্যাফাকের কোন নিয়ামককে অস্বীকার করিবে?

নিঃসীম নূরানী অন্ধকারে - ১০৭

লিখেছেন তামান্না ঝুমু

৫৩১.
- 'সেলফি মামা' কাকে বলে? দু'জন ইতিহাস প্রসিদ্ধ সেলফি মামার উদাহরণ দাও। এবং সম্পর্ক বিশ্লেষণ করো।
- যে নিজেই নিজের মামা তাকে 'সেলফি মামা' বলা হয়। দু'জন ইতিহাস প্রসিদ্ধ সেলফি মামার উদাহরণ হচ্ছে, নবীর নাতি হাছান ও হুছাইন। বিশ্লেষণ: আপনার নানার ছেলে সম্পর্কে আপনার কী হবে? মামা, তাই না? নবীজির নাতি হাছান ও হুছাইন ছিল তাদের আলি নানার ছেলে। নানার ছেলে মানেই মামা। অর্থাৎ তারা নিজেদের মামা নিজেরাই, আধুনিক প্রযুক্তির ভাষায় যাকে বলে 'সেলফি মামা'।

৫৩২.
হিন্দুদের অনেক আব্বুর মধ্যে এক আব্বু হচ্ছে রামকৃষ্ণ পরমহংস। অর্থ - বড় কালো অত্যন্ত হাঁস। রামকৃষ্ণ কিন্তু অত্যন্ত রকমের হাঁস ছিল। কমটম ছিল না কোনোভাবেই। আবার সে শুধু পরম হাঁসই ছিল। পরম-মোরগ, পরম-ডাহুক, পরম-কাক, পরম-চিল, পরম-কাকাতুয়া, পরম-ঘুঘু বা পরম অন্য কোনো জন্তু-জানোয়ার সে ছিল না কিন্তু। সে ছিল শুধু পরম-হাঁস। মানে অত্যন্ত-হাঁস।

৫৩৩.
য়াল্যারা নাই। তাই তারা জগতের কোনো কাজে আসতে পারে না। আহা, ওরা যদি থাকতো, তবে পৃথিবীর কতো উপকারেই না আসতো।

৫৩৪.
মুছা (রাঃ) একদা নীল নদী পার হতে গেলো। তাকে দেখেই প্রবল স্রোতস্বিনী নদীর সকল জল নিমেষে শুকিয়ে গেল। নদীটি জল শুকিয়ে মরে গেল। একটি নদীর সাথে মিশে থাকে নদীর দুই তীরবর্তী ও দূরান্তের মানুষের জীবন-জীবিকা, সাহিত্য, সুর, গান, যোগাযোগ ইত্যাদি। আরো মিশে থাকে অগণিত জলজ প্রাণীর জীবন। একটি নদী মরে যাওয়া মানে এসবের অনেক কিছুরই মরে যাওয়া। একটি নদী মরে যায় তার ওপর হাজার বছরের অত্যাচারে, অযত্নে, অপব্যবহারে। কিন্তু নবী মুছা (রাঃ) এতই অলক্ষুণে ছিল যে, তাকে দেখেই অন্য কোনো কারণ ছাড়াই নদীটি শুকিয়ে মরে গেল।

৫৩৫.
ইউনুছ নবী ছিল একটা বিষম রকমের অখাদ্য। তাকে একবার মাছে খেয়ে ফেলেছিল। মাছের হয়ে গেল বদহজম, স্টোমাক ভাইরাস। অবশেষে ইউনুছকে বমি করে ফেলে দিয়ে মাছটি হাঁফ ছেড়ে প্রাণে বাঁচে। ধর্মের উদ্ভাবকেরা একেকটা জঘন্য বস্তু ছিল। এমন জঘন্য ছিল যে, মাছের পর্যন্ত অরুচি ছিল ইউনুছ নামের একজনের ওপর।

তোমায় হেরি যথাতথা

বানিয়েছেন অবর্ণন রাইমস


কুরানে বিগ্যান (পর্ব-৪৯): “ইহুদিদের হত্যা কর - যাকে পারো তাকেই!” ত্রাস, হত্যা ও হামলার আদেশ - বাইশ

লিখেছেন গোলাপ

পর্ব ০১ > পর্ব ০২ > পর্ব ০৩ > পর্ব ০৪ > পর্ব ০৫ > পর্ব ০৬ > পর্ব ০৭ > পর্ব ০৮ > পর্ব ০৯ > পর্ব ১০ > পর্ব ১১ > পর্ব ১২ > পর্ব ১৩ > পর্ব ১৪ > পর্ব ১৫ > পর্ব ১৬ > পর্ব ১৭ > পর্ব ১৮ > পর্ব ১৯ > পর্ব ২০ > পর্ব ২১ > পর্ব ২২ > পর্ব ২৩ > পর্ব ২৪ > পর্ব ২৫ > পর্ব ২৬ > পর্ব ২৭ > পর্ব ২৮ > পর্ব ২৯ > পর্ব ৩০ > পর্ব ৩১ > পর্ব ৩২ > পর্ব ৩৩ > পর্ব ৩৪ > পর্ব ৩৫ > পর্ব ৩৬ > পর্ব ৩৭ > পর্ব ৩৮ > পর্ব ৩৯ > পর্ব ৪০ > পর্ব ৪১ > পর্ব ৪২ > পর্ব ৪৩ > পর্ব ৪৪ > পর্ব ৪৫ > পর্ব ৪৬ > পর্ব ৪৭ > পর্ব ৪৮

স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর হুকুমে কাব বিন আল-আশরাফ নামক এক ইহুদি কবিকে মুহাম্মদ অনুসারীরা প্রতারণার আশ্রয়ে রাতের অন্ধকারে অমানুষিক নৃশংসতায় কীভাবে হত্যা করেছিলেন, তার বিশদ আলোচনা আগের পর্বে করা হয়েছে।

আদি ও বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকদেরই বর্ণনায় আমরা জানতে পারি যে, মুহাম্মদের প্রেরিত ঘাতকরা কাব বিন আশরাফকে খুন করার পর তাঁর কল্লাটি কেটে ফেলে। তারপর তারা সেই কাটা মুণ্ডুটি নিয়ে তাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদের কাছে যখন ফেরত আসে, তখন মুহাম্মদ সকালের (ফজর) নামাজের জন্য দণ্ডায়মান।

ঘাতকরা মুহাম্মদ কে অভিবাদন জানান; তারপর, তারা কাব বিন আশরাফের রক্তাক্ত ছিন্ন মস্তকটি নবীর সামনে নিক্ষেপ করেন এবং তাদের সফলতার বিবরণ পেশ করেন। তাঁর অনুসারীদের এই সফলতায় মুগ্ধ ও আনন্দিত দলপতি মুহাম্মদ মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেন!

আদি ও বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকদের বর্ণনায় আমরা আরও জানতে পারি যে, এই বীভৎস নৃশংস ঘটনার পর মদিনার ইহুদিদের মধ্যে আতংকের সৃষ্টি হয় এবং মদিনায় এমন কোনো ইহুদি ছিলেন না, যিনি তাঁর জীবনের ভয়ে ভীত হননি!

অতঃপর মুহাম্মদ তাঁর অনুসারীদের উদ্দেশে উন্মুক্ত ঘোষণা দেন, "হত্যা করো ইহুদিদের,  যাকে পারো তাকেই।" মুহাম্মদের আদেশে তাঁর অনুসারীরা মদিনার ইহুদিদের ওপর নির্বিচারে আক্রমণ চালায়।

মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের (৭০৪-৭৬৮ সাল) বর্ণনায় ঘটনাটি ছিল নিম্নরূপ

মুহেইয়িসা ও হুয়েইয়িসার উপাখ্যান:

[ইবনে হুমায়েদ <সালামাহ হইতে <] ইবনে ইশাক হইতে বর্ণিত:

‘এই গল্পটি আমাকে [ইবনে ইশাক] বলেছে বানু হারিথার এক মক্কেল <মুহেইয়িসার কন্যার কাছ থেকে < স্বয়ং মুহেইয়িসার কাছ থেকে।

আল্লাহর নবী বলেন, "হত্যা করো ইহুদিদের, যাকে পারো তাকেই।" 

ফলে মুহেইয়িসা বিন মাসুদ ঝাঁপিয়ে পড়ে খুন করে ইবনে সুনেইনা (অথবা সুবেয়না) নামক এক ইহুদি ব্যবসায়ীকে। সে সামাজিক ও ব্যবসায়িক সূত্রে তাদের সাথে সম্পৃক্ত ছিল। [1]

তার বড় ভাই হুয়েইয়িসা তখনও মুসলমান হয়নি। যখন মুহেইয়িসা তাকে খুন করে, হুয়েইয়িসা তাকে মারধর শুরু করে ও বলে,
"তুই খোদার শত্রু, যার সম্পদে তোর পেটের চর্বি জমে, তাকেই কিনা তুই খুন করলি?"

জবাবে মুহেইয়িসা বলে,
"যে আমাকে বলেছে তাকে খুন করতে, সে যদি আমাকে বলতো তোমাকে খুন করতে, তবে আমি তোমার কল্লাও কেটে ফেলতাম।" সে [মুহেইয়িসা] বলে যে, এই পরিস্থিতিতেই হুয়েইয়িসার ইসলাম গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

অন্যজন জবাবে বলে,
"হায় খোদা, যদি মুহাম্মদ তোকে হুকুম দিতো আমাকে খুন করার তাহলে তুই কি আমাকে ও খুন করতি?"

সে বলে, "হ্যাঁ, আল্লাহর কসম, সে যদি আমাকে তোমার কল্লা কাটার হুকুম দিতো, তাহলে আমি তাইই করতাম।"

সে [হুয়েইয়িসা] অবাক হয়ে বলে,
"হায় খোদা, যে ধর্ম তোর এমন পরিবর্তন আনতে পারে তা বিস্ময়কর (marvelous)!" এবং সে মুসলমানিত্ব বরণ করে।’ [2][3]

ইসলামী ইতিহাসের ঊষালগ্ন থেকে আজ অবধি প্রায় প্রতিটি ইসলাম বিশ্বাসী প্রকৃত ইতিহাস জেনে বা না জেনে ইতিহাসের এ সকল অমানবিক অধ্যায়গুলো যাবতীয় চতুরতার মাধ্যমে বৈধতা দিয়ে এসেছেন। বিষয়গুলো অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিধায় বাংলা অনুবাদের সাথে মূল ইংরেজি অনুবাদের অংশটিও সংযুক্ত করছি। - অনুবাদ, টাইটেল ও [**] যোগ - লেখক।]

The Narrative of Muhammad Ibne Ishaq (704-768 AD)

The affair of Muhayyisa and Huwayyisa:

‘According to Ibn Humayd <Salamah <Muhammad b Ishaq:
I was told this story by a client of Banu Harithah <from the daughter of Muhayyisa <from Muhayyisa himself.

The apostle said, “Kill any Jew that falls into your power.”

Thereupon Muhayyisa b Mas’ud leapt upon Ibn Sunayna (or Subayna), a Jewish merchant with whom they had social and business relations, and killed him. [1]

Huwayyisa was not a Muslim at the time though he was the elder brother. When Muhayyisa killed him Huwayyisa began to beat him, saying,
“You enemy of God, did you kill him when much of the fat on your belly comes from his wealth?”

Muhayyisa answered,
“Had the one who ordered me to kill him ordered me to kill you I would have cut your head off.” He [Muhayyisa] said that this was the beginning of Huwayyisa’s acceptance of Islam.

The other replied, “By God, if Muhammad had ordered you to kill me would you have killed me?”

He said, “Yes, by God, had he ordered me to cut off your head, I would have done so.”

He exclaimed, “By God, a religion which can bring you to this is marvellous!” and he became a Muslim.[2][3]

>>> মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের এই বর্ণনায় যে বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্ট, তা হলো মুহেইয়িসা ও হুয়েইয়িসা নামের এই দুই ভাই ও তাদের পরিবারের ভরণ-পোষণ চলতো ইবনে সুনেইনা নামক এই ইহুদি ব্যবসায়ীর সম্পদের ওপর ভরসা করে। সম্ভবত, তারা এই ইহুদির দোকানে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতো।

কাব বিন আশরাফকে নৃশংসভাবে খুন করার পর যখন ইহুদিরা মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের বিরুদ্ধে কোনো রকম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না নিয়ে ছিলেন ভীত সন্ত্রস্ত, তখন মুহাম্মদ তাঁর অনুসারীদের উদ্দেশে উন্মুক্ত ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, তারা তাদের নাগালের মধ্যে যে ইহুদিকেই পাবে, তাকেই যেন হত্যা করে।

মুহাম্মদের এই আদেশে উদ্বুদ্ধ হয়ে হুয়েইয়িসা নামের এই মুহাম্মদ অনুসারী তার নিজ পরিবারের ভরন-পোষণকারী এক নিরপরাধ ইহুদি ব্যবসায়ীকে নৃশংসভাবে খুন করে।

ফলে এই খুনির অমুসলিম বড় ভাই প্রচণ্ড মর্মাহত হয়ে তার এই মুসলিম ছোট ভাইকে মারধর শুরু করলে খুনি গর্বভরে এই বলে ঘোষণা দেয় যে, এই নিরপরাধ ইহুদি মালিককে খুন করা তো কোনো বিষয়ই নয়! নবী যদি তার এই বড় ভাইয়ের কল্লা কাটারও হুকুম দিতো, তাহলে সে নির্দ্বিধায় তার বড় ভাইয়ের মুণ্ডুও কেটে ফেলতো।

তারপরেই মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের বর্ণিত এই ঘটনাটির আসল চমকটি আমরা দেখতে পাই! আর তা হলো,

মুসলমান হওয়ার পর ছোট ভাইয়ের এই অভূতপূর্ব পরিবর্তনের পরিচয় পেয়ে মুগ্ধ বড় ভাই ঘোষণা দিলেন, "আহা! কী সুন্দর ধর্ম! যে ধর্মের অনুসারী হয়ে তোমার চরিত্রের এত সুন্দর পরিবর্তন হয়েছে, তা কতই না বিস্ময়কর!” এই বিস্ময়কর ধর্মের পরিচয় হাতে নাতে পেয়ে মুগ্ধ বড় ভাই মুসলমানিত্ব বরণ করেন--!

ক্ষণিক আগেই যে-অমুসলিম ভাইটি ছিলেন ন্যায় ও মানবতার প্রতীক এক মানব সন্তান, মৃত্যু-হুমকির বশবর্তী হয়ে তিনি মানুষ থেকে মুসলমান হতে বাধ্য হয়েছিলেন। নিঃসন্দেহে বড় ভাইয়ের মুসলমানিত্ব বরণের পেছনের কারণটি ছিল "মৃত্যু-হুমকি।" 

পাঠকদের একটি বিষয় খুব মনোযোগের সঙ্গে খেয়াল করার অনুরোধ করছি। বদর যুদ্ধের পর মদিনায় এই যে একের পর এক সন্ত্রাসী হত্যাকাণ্ড মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা ঘটিয়ে চলেছেন, তা কোনো যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে সম্পন্ন হয়নি। মদিনায় তখন কোনো যুদ্ধ ছিল না।

এই মানুষগুলোর অপরাধ এই যে, তাঁরা মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের আক্রমণাত্মক নৃশংস কর্মকাণ্ডের মৌখিক প্রতিবাদ করেছিলেন! তাঁদের অপরাধ এই যে, বদর যুদ্ধে মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা তাঁদেরই একান্ত নিকটাত্মীয় ও বন্ধু-বান্ধবদের হত্যা করার পর অমানুষিক নৃশংসতায় একে একে বদরের এক নোংরা শুকনো গর্তে নিক্ষেপ করেছিলেন, এই লোকগুলো সেই নিহত হতভাগ্য মানুষদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছিলেন!

তাঁদের অপরাধ এই যে, তাঁরা ছিলেন আদি মদিনাবাসী; তাঁদেরই এলাকায় পালিয়ে এসে মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ নামের এক মক্কাবাসী কুরাইশ যখন তাঁরই নিজ এলাকাবাসী মানুষদের বাণিজ্য-ফেরত কাফেলার ওপর রাতের অন্ধকারে একের পর এক হামলা করে তাঁদের সর্বস্ব লুণ্ঠন, হত্যা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটিয়ে চলেছেন, তখন তাঁরা তাঁদের লেখনীর মাধ্যমে আদি মদিনাবাসীদের সাবধান ও উজ্জীবিত করার চেষ্টা করছিলেন, যেন তারা মুহাম্মদের প্ররোচনায় বিভ্রান্ত হয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ না নেয়। তাঁরা মুহাম্মদ কিংবা তাঁর অনুসারীদের ওপর কখনোই কোনো শারীরিক আঘাত করেননি।

বলা হয়, "অসীর চেয়ে মসী অনেক শক্তিশালী।" এই আপ্তবাক্যটি আর যেখানেই সত্য হোক না কেন, ইসলাম প্রচার ও প্রতিষ্ঠার পেছনে অসী, নিষ্ঠুরতা, নৃশংসতা, সন্ত্রাস, প্রতারণা ও মিথ্যাচার-এর ভূমিকা যে কত বিশাল, তা 'ত্রাস, হত্যা ও হামলার আদেশ' এর গত একুশটি পর্বে করা হয়েছে। পরবর্তী পর্বগুলোতে ও তা ধারাবাহিক ভাবে আলোচনা করা হবে। 

(চলবে)

তথ্যসূত্র ও পাদটীকা

[1]তার পুরা নাম ছিল মুহেইয়িসা বিন মাসুদ বিন কাব বিন আমির বিন আ'দি বিন মাযদাহ বিন হারিথা বিন আল-হারিথ বিন আল-খাজরায বিন আমর বিন মালিক আল-আউস’।

[2] “সিরাত রসুল আল্লাহ”- লেখক: ইবনে ইশাক (৭০৪-৭৬৮ খ্রিষ্টাব্দ), সম্পাদনা: ইবনে হিশাম (মৃত্যু ৮৩৩ খৃষ্টাব্দ), ইংরেজি অনুবাদ:  A. GUILLAUME, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস, করাচী, ১৯৫৫, ISBN 0-19-636033-1, পৃষ্ঠা ৩৬৯

[3] “তারিক আল রসুল ওয়াল মুলুক”- লেখক: আল-তাবারী (৮৩৮-৯২৩ খ্রিষ্টাব্দ), ভলুউম ৬, ইংরেজী অনুবাদ: W. Montogomery Watt and M.V. McDonald, নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি প্রেস, ১৯৮৮, ISBN 0-88706-706-9 [ISBN 0-88706-707-7 (pbk)], পৃষ্ঠা (Leiden) ১৩৭৩-১৩৭৪

নুহনামা



১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

ফাল দিয়া ওঠা কথা - ৩১

লিখেছেন ধর্মবিদ দেশী

৯১.
বাংলাদেশ হচ্ছে লাল-সবুজের দেশ। বিপ্লবের রং লাল; মেনন সাহেব এতোদিন লাল সালাম দিতেন। সবুজ ইসলামী রং; হজ করে এসে তিনি সহী সবুজ সালাম দিবেন। লাল সবুজের পূর্ণতা পাবে।

এভাবেই 'পাকা কম্যুনিস্ট' এবং ডান মিলে মিশে যাবে আম-দুধে মেশার মতো। অপরদিকে 'ভুয়া কম্যুনিস্ট', বাম, হিন্দু, বৌদ্ধ, আদিবাসী, নাস্তিকরা জলে ভেসে যাবে আঁটি হয়ে।

৯২.
নাস্তিক বলল, ' এক লম্পটকে নিয়ে কেন এত মাতামাতি ধার্মিকদের?'
অমনি ধর্মগাধারা তাকে তেড়ে মারতে আসল।
নাস্তিক বলল, 'আমি তো তোমাদেরকে বলিনি। অমুক ধর্মের কথা বলেছিলাম।
ধর্মগাধারা ক্রোধে বলল, 'ফাজলামি করছ? আমরা ঠিকই জানি, কে লম্পট।' 

বি.দ্র. ঘটনাটি আফ্রিকার এক জঙ্গলে গুহাযুগের ঘটনা। তার সাথে বর্তমানের কোনো মিল পাওয়া গেলে তা কাকতালীয়।

৯৩.
যেহেতু বিএনপি-জামাত ডাকাতি করেছে, তাই লীগের চুরি জায়েজ;
যেহেতু বিএনপি-জামাত ইসলামের নামে রাজনীতি করে, তাই লীগের মদিনা সনদের ঘোষণা দেওয়া জায়েজ;
যেহেতু বিএনপি-জামাত জঙ্গি সৃষ্টি করেছে, তাই লীগের মৌলবাদ তোষণ জায়েজ;
যেহেতু বিএনপি জামাতিদের সাথে জোট করে ক্ষমতায় গিয়েছে, তাই লীগের ইসলামী ব্যাংকের টাকা খাওয়া জায়েজ;
যেহেতু বিএনপি-জামাত সমগ্র দেশটাই হস্তান্তর করতে চেয়েছিলো, তাই লীগের কিছু খনি বা সমুদ্র ব্লক হস্তান্তর জায়েজ;
যেহেতু বিএনপি-জামাত গণধর্ষণ করে তাই, লীগাররা মা-বোন ধরে গালি দিলে জায়েজ;
যেহেতু বিএনপি-জামাত সাম্প্রদায়িক, তাই লীগাররা কাউকে 'মালাউনের বাচ্চা' বলে গালি দিলে জায়েজ;

অতঃপর আওয়ামীলীগ বিএনপি-জামাতের কোন অবদান অস্বীকার করবে?

গরুপূজারি গাধাগুলো - ৮৮

প্লেবয় পত্রিকার জন্য নগ্ন অবস্থায় ছবি তুলিয়ে সমালোচনার মুখোমুখি শার্লিন চোপরা।
সেই ছবিগুলোর অ্যালবাম
আপডেট: ৩৬টি ছবির অ্যালবাম-এর সন্ধান দিয়েছেন শুভজিৎ ভৌমিক


ইসলামী সংস্কার ও তার বৈগ্যানিক কার্যকারণ - ০৫

লিখেছেন শ্মশান বাসী

আসুন, ইসলামের কিছু সংস্কার নিয়ে কথা বলি। তবে আগেই বলে রাখি, এগুলোতে কোরান-হাদিসের কোনো সমর্থন আছে কি না, আমার জানা নেই। তবে মুর্খ মুমিনের দল এসব শ্রদ্ধার সাথে পালন করে, কারণ স্থানীয় হুজুরেরা এভাবেই শিক্ষা দেয়।

৯. 
আমরা জানি, মুসলমানের মৃতদেহ দাফন করে মুনাজাত শেষ করার পর যত দ্রুত সম্ভব গোরস্তান হতে দূরে চলে যেতে নির্দেশ করা হয়। কারণ ফেরেশতারা নাকি দূরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করে গোরস্তান হতে সবাই দূরে সরে গেলে তার কবরের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হবে। 

কথাটা কি হাদিস সম্মত? দেখি, হাদিস কী বলে: আমর ইবনে আস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, তোমরা যখন আমাকে সমাধিস্থ করবে, তখন আমার কবরের আশেপাশে তোমরা ততক্ষণ অবস্থান করবে, যতক্ষণ একটা উট জবেহ করে তার মাংস বণ্টন করতে লাগে। যেন আমি তোমাদের পেয়ে নিঃসঙ্গতা বোধ না করি এবং জেনে নিই যে, আমি আমার প্রভুর দূতগণকে কী জবাব দিচ্ছি।’ [মুসলিম ১২১, আহমদ ১৭৩২৬,১৭৩৫৭]

১০.
সকল মুসলিমের ধারণা, আল্লাহর তৈরি দিন সব সমান, এতে শুভ-অশুভ বলে কিছু নেই। যেমন শনিবার, তেমনি মঙ্গলবার। 

এটা কি ঠিক? একটু গলদ আছে। হাদিসে স্পষ্ট বলা আছে: রাসুল (সাঃ) নং- ১১৭৫ : মানুষের আমলসমূহ সোম ও বৃহস্পতিবারে আল্লাহর দরবারে পেশ করা হয়। হজ্বে যাত্রার জন্য বৃহস্পতিবার এবং দিনের শুরুতে সফরে রওয়ানা দেয়া মুস্তাহাব। (বুখারি) কি দেখলাম ,আল্লাহ নিজেও দিনক্ষন দেখে, আর নবী দিনক্ষণ দেখে শুভ কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। 

হা-হা-হাদিস – ১০৫

অনুবাদ ও ফটোমাস্তানি: নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক


মন্দিল-খুশি-করা ইলাস্ট্রেশনসহ বাংলায় অনূদিত আরও অসংখ্য মজাদার হাদিসের সংকলনটি যাঁরা এখনও দেখেননি, তাঁরা কতোটা মিস করেছেন, তা ডাউনলোড করে নিয়ে নির্ধারণ করুন।

ডাউনলোড লিংক
https://docs.google.com/file/d/0B1lqaonhgir4N3ZCcWk1WTdQdkk/edit?usp=sharing
(লিংকের পাতায় গিয়ে ওপরে বামদিকে নিম্নমুখী তীরচিহ্নে ক্লিক করে ফাইলটি ডাউনলোড করুন)
ফরম্যাট: পিডিএফ
সাইজ: ১০.৭৪ মেগাবাইট

মরু-সংস্কৃতির কুশিক্ষা

লিখেছেন Secular Friday

অসভ্য, বর্বর, নির্মম, নির্দয়, নিষ্ঠুর ও দীনহীন সমাজে বেড়ে ওঠা মানুষেরা সে সমাজের শিক্ষা মোতাবেক ইতর বর্গীয়, দুর্জন আর ক্রূরমতি হবে, সেটাই স্বাভাবিক। ১৪০০ বছর আগেও তাই আজন্ম বর্বর মরু-সংস্কৃতিতে লালিত অনাথ এক শিশুও বেড়ে উঠেছিল সেই অপশিক্ষারই আলোকে।

জীবনযুদ্ধ তাকে বঞ্চিত করেছিল সকল প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ থেকে; শৈশব তার কেটেছে মেষ আর পশু পালনে; কৈশোরেই তাকে সাহায্যকারী রাখাল হয়ে করতে হয়েছে দুঃসাধ্য মরুযাত্রা। এতদসত্ত্বেও মেধা, কঠোর শ্রম, স্বল্প সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার ব্যবহার এবং ভ্রমণগুলো থেকে শেখা লোকায়ত জ্ঞানের সাথে প্রচলিত ঈশ্বর ধারণার চতুর ও কুশলী মিশেলে, নিজ ও নিজ গোত্রের অবস্থান সংহত করতে সে তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিল খণ্ডনযোগ্য অথচ অপরিবর্তনীয় সব দৈববাণীর; আর তারই বলে নিজেকে সে স্থাপিত করতে সক্ষম হয়েছিল গোত্রাধিপতির স্থানে। মরুচারি আরবদের দিয়েছিল জাতিগত একটি পরিচয়। মরু-সংস্কৃতিতে তার অবদান অনস্বীকার্য।

মানবসভ্যতা তার ক্রমবিকাশের ধারায় আজ গোষ্ঠীকেন্দ্রিক সমাজব্যবস্থা থেকে উত্তরণ করে আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় উপনীত হয়েছে। আধুনিক এই রাষ্ট্রকাঠামোর মধ্যে বসবাস মানুষের অভিন্ন অধিকার ও সার্বজনীনতাকে নিশ্চিত করে, এবং তা নিজস্ব ত্রুটি সত্ত্বেও গতিশীল ও উত্তরোত্তর বিকাশমান। আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা ও বিজ্ঞানমনস্কতাই এই গতিশীলতার নির্ণায়ক। তার বিরুদ্ধাচারণ মানেই সভ্যতার প্রগতিশীলতার বিপক্ষে দাঁড়ানো।

মরু-সংস্কৃতি বিগত ১৪০০ বছর ধরে পুরো দুনিয়াজুড়ে একটি সম্প্রদায়কে শিখিয়েছে, শেখাচ্ছে গোটা মানব সম্প্রদায় হতে আলাদা হয়ে ভিন্ন একটি সম্প্রদায় হিসেবে বাঁচতে; স্বার্থপরতায়, ক্রূরতায়, অযৌক্তিকতায়, অমানবিকতায়, অগণতান্ত্রিকতায়, অতীতমুখিনতায় বাঁচতে; পরকালমুখিনতায় বাঁচতে।

কতটা মূর্খ হলে পরে পৃথিবী জুড়ে ভিন্ন ভিন্ন ভূখণ্ডে, ভিন্ন ভিন্ন বয়েসের, শিক্ষার, সংস্কৃতির মানুষের কাছে সে মরু-সংস্কৃতি গ্রহণযোগ্য হয়? কতটা অন্ধ হলে পরে সামান্য সে গোত্রাধিপতি তার সকল বিব্রতকর কর্মকাণ্ড (খুন, গুম-খুন, ভয়-ভীতি প্রদর্শন, বহুবিবাহ, শিশুকাম, দাসপ্রথার অনুসরণ, লুটতরাজ ইত্যাদি) সত্ত্বেও আজও অতুলনীয় আদর্শ চরিত্র বলে প্রতিভাত হয়?

রিজিকের মালিক আল্লাহ


১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

আমার 'আমার অবিশ্বাস' পাঠ - ১৮

হুমায়ুন আজাদের 'আমার অবিশ্বাস' নামের বইটা পড়তে শুরু করেছিলাম বেশ আগে। ধর্মকারী তখন স্থগিতাবস্থায়। কিন্তু কিছুদূর পড়ার পরে লক্ষ্য করলাম, বইটিতে উদ্ধৃতিযোগ্য ছত্রের ছড়াছড়ি। পড়া তখনই থামিয়ে দিয়ে স্থির করলাম, ধর্মকারী আবার সচল হলে ধর্মকারীর পাঠকদের (অনেকেরই বইটা পড়া আছে, জানি, তবুও...) সঙ্গে টাটকা পাঠমুগ্ধতা ভাগাভাগি করবো। তাই পড়তে শুরু করলাম আবার। বিসমিল্যা।

৮৩.
'আধ্যাত্মিক অনুভূতি' সম্পূর্ণ বাজে কথা; যারা এ-ধরনের অনুভূতি চায় ও পেয়েছে বলে দাবি করে. তারা মনোব্যাধিগ্রস্ত মানুষ।

৮৪.
ধর্মগুলো মানুষকে নিজের জীবন যাপন করতে দেয় না, বাধ্য করে বিশেষ ব্যক্তি বা গোত্রের পরিকল্পিত জীবন যাপন করতে। 

৮৫.
প্রতিটি ধর্মের পুজোআরাধনার রীতিগুলো হাস্যকর।

৮৬.
মুসলমানের কাছে হিন্দুর পুজো আর ঘন্টাধ্বনি হাস্যকর, হিন্দুর কাছে মুসলমানের দিনে পাঁচবার উঠে-ব'সে প্রার্থনা হাস্যকর। এসবে এমন কিছু নেই, যা বহন করে কোনো পরম সত্তার ছোঁয়া। এগুলোতে বারবার আবৃত্তি করা হয় এমন সব শ্লোক, যেগুলো স্থূল, যেগুলোর নেই কোনো অসাধারণত্ব। 

৮৭.
কোনো কোনো ধর্মের আরাধনার অনেক শ্লোক কালাতিক্রমণতাগ্রস্তও; উপাসনার সময় প্রতিদিন এমন সব ব্যক্তিকে ধ্বংস হওয়ার অভিশাপ দেয়া হয় যারা বহু আগেই লোকান্তরিত।

নামাজরঙ্গ - ৩২


নারীর স্বাধিনতা ও বাছি নেয়ার অধিকার

লিখেছেন বাংলার উসমান মুয়াজ্জিন মোহাম্মদ ইসলাম

ইসলাম নারীকে সমান অধিকার দিয়েসে, দিয়েসে স্বাধিনতা, দিয়েসে নিজ পছন্দে কোনো কিছু বাছি নেয়ার অধিকার।

কিন্তুক সেটা কেমন তা আমাদিগকে বুঝতে হবে।

আর সেটা বুইজতে হলে আমাদিগকে chastity belt পিন্দা বা পিন্দানি জানতে হবে। ছবিতে এই বেল্টটি দেকতে ফাচ্ছেন।

ছবিতে বিভিন্ন রকমের chastity belt আছে। বিভিন্ন ডিজাইনের, বিভিন্ন দামের।

কিন্তুক, তারও আগে মানবদেহের গঠনতন্ত্র সম্পর্কে আলোসনা করা ফ্রয়োজন। তবে সোলুন ফাঠক, আমাগের চুক্ষুকে কিসুক্ষনের জন্য একটা মানবী দেহের উফর নিবদ্ধ রাখি...

মানব দেহে বর্জ্য নিষ্কাশনে কিছু ছিদ্র থাকে। খাদ্য গ্রহনের জন্যও থাকে ছিদ্র। যেমন, চোখের ছিদ্র, নাকের ছিদ্র, কানের ছিদ্র, মুখের ছিদ্র, মলদ্বারের ছিদ্র, প্রস্রাবের ছিদ্র, বীজ উৎপাদনের ছিদ্র।

এত এত ছিদ্রের ভেতর এমনো ছিদ্র আছে, যে ছিদ্র সংরক্ষনাবেক্ষনের জন্য আমরা আইন তৈরি করি। এই ছিদ্রটাকে আমরা আমরা এমুন এক ফর্যায়ে নিয়ে গেছি যে, ছিদ্রটির কারনে আমাদের ভেতর একটা আবেগ কাজ করে। সে আবেগের নাম “হিংসা”; আরও যে আবেগ কাজ করে, তার নাম ‘ভালোবাসা’।

এই ছিদ্রটাতে কোনো জড় বস্তু প্রবেশ করলে এটি তার সতীত্ব হারায় না। আমাদের মতে, এটি তখনই পাপী হয়ে যায় এবং অনেক বড়ো অপরাধী হয়ে যায়, যখন এই ছিদ্রটিতে অন্য মানুষের শরীরের আরেকটি অঙ্গ প্রবেশ করানি হয়।

নাক টানাটানিতে বা নাক ঝাড়াঝাড়িতে আমাগের নাক দিয়া 'হিঙ্গিল' বাহির হয়। ঠিক একই রকম বীজ উৎপাদনকারি ছিদ্রটিও ঘর্ষনে ঘর্ষনে তরল পদার্থ নির্গত করে। কিন্তুক মজার বিষয় হইসে, ছিদ্রের তারতম্যের কারনে ‘নাসিকা’ দিয়ে কুনো জড়ো বা জীবন্ত দন্ড প্রবেশ করালে ‘যেনা’ সংক্রান্ত মামলায় ফড়তে হয় না। অথচ ‘যেনা’ সংক্রান্ত ব্যাপারে পৃথিবী তোলফাড় হই যায়, যখন ‘হিংসা’ ও ‘ভালোবাসা’র ছিদ্রটিতে অনুপ্রবেশ ঘটে।

আলোচ্য ভালোবাসা/ঘৃনা/হিংসা জড়ানো ছিদ্রটার কারনে কোনো কোনো পুরুষ হয় সন্দেহবাতিকগ্রস্থ। এই পুরুষটি নারীকে ‘মানব রচিত’ সতীত্ব হারানোর বিপদ থেকে বাঁচানোর ভুমিকা নেয় এবং সে ভূমিকা নিতে গিয়ে সে ঐ নারীটিকে পছন্দ করার অধিকার দান করে। জ্বী, দান করে!

এই সন্দেহবাতিকগ্রস্থ পুরুষটি বিভিন্ন ডিজাইনের, বিভিন্ন দামের chastity belt সংগ্রহ করে। এবং তার নারীকে এসব chastity belt থেকে একটা পছন্দ করে নিতে বলে। নারীটি তার যৌনাঙ্গ অবরুদ্ধ করি রাখার বস্তুটি নিজের পছন্দ মতন বাছি নেয়।

তার এই বেছে নেয়ার মধ্য দিয়া সে স্বাধিনতা লাভ করে। অর্জিত স্বাধিনতায় choose করে নেয়ার সুযোগ পায়। chastity belt পছন্দ করে নেয়ার মধ্য দিয়ে এই নারীটি যেমন করে মর্যাদা লাভ করে, তেমন করেই শুদু ইসলাম না পুরুষতান্ত্রিক সমস্ত ধর্মগুলিতে নারীরা সম্মান পায়। তেমন ধারায় তারা অধিকার লাভ করে।

বা বলা যেতে পারে যে, 

চিড়িয়াখানার পশুটিকে যেমন করি খাঁচা তৈয়ার করে দেয়া হয় এবং পরবর্তিতে পশুটি খাঁচাতে স্বাধিনভাবে ঘুরাফেরা করে, তেমন নারীকেও ‘ইসলাম’ একটি খাঁচা তৈয়ার করি দেয়। আর খাঁচার ভেতর সে তার জগৎ নিবদ্ধ করি রাখে। খাঁচার ভেতরই তার সম্পূর্ণ স্বাধিনতা, অধিকার, মর্যাদা।