২৪ মার্চ, ২০১৭

পল্টিবাজ কোরান - ০৭

হাদীসের প্রথম পাঠ - ০২

লিখেছেন নরসুন্দর মানুষ


মানুষ মুহাম্মদ - নবী মুহাম্মদ

আবু কাশেম মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লা ইবনে আব্দুল মুত্তালিব! ৬১০ সালের শুরুতে মক্কায় এ নামেই পরিচিত ছিলেন মুহাম্মদ, এখন যাকে আমরা ‘নবী মুহাম্মদ’ নামে চিনি। ৬১০ সালের আগষ্ট মাস থেকে এই আজকের দিন পর্যন্ত ‘মানুষ মুহাম্মদ’-এর ওপর নবুয়্যতের যে-পোশাক চাপানো হয়েছে, তারই ফলশ্রুতিতে পৃথিবী আজ দুটি ভাগে বিভক্ত; একদলে আছে মুহাম্মদের অনুসারী মুসলিম, বাকি সমগ্র পৃথিবীর মানুষের পরিচয় অবিশ্বাসী-কাফের নামে!

যেহেতু এই সিরিজটিতে আমরা মানুষ মুহাম্মদ ও নবী মুহাম্মদের ভালো-মন্দের একটি রূপরেখা তুলে ধরবো, তাই প্রথম অধ্যায়ে সব বিষয়ের ছোট-খাট আভাস দেবো। চলুন, প্রথমেই জেনে নিই কেমন ছিলেন এই মানুষটি, চেহারা থেকে শুরু করে মন-মননে, চাল-চলনে।
বুখারী-৭-৭২-৭৯১: মুহাম্মদ-এর চুল মধ্যম ধরনের ছিলো, না একেবারে সোজা লম্বা, না অতি কোঁকড়ানো; আর তা ছিলো দু'কান ও দু'কাঁধের মধ্যবর্তী স্থান পর্যন্ত।
বুখারী-৭-৭২-৭৯৩: মুহাম্মদ-এর মাথা ও দু'পা ছিলো মাংসবহুল। তাঁর আগে ও তাঁর পরে আমি তাঁর মত অপর কাউকে দেখিনি; তাঁর হাতের তালু ছিলো চওড়া।
বুখারী-৪-৫৬-৭৫১: মুহাম্মদ মাঝারি গড়নের ছিলেন। তাঁর উভয় কাঁধের মধ্যবর্তী স্থান প্রশস্ত ছিলো। তাঁর মাথার চুল দুই কানের লতি পর্যন্ত প্রসারিত ছিল। আমি তাঁকে লাল ডোরাকাটা জোড় চাদর পরিহিত অবস্থায় দেখেছি। তাঁর চেয়ে অধিক সুন্দর কাউকে আমি কখনো দেখিনি।
মুহাম্মদ ছিলেন উজ্জ্বল সাদা (ফর্সা) রংয়ের মানুষ, এতটাই সাদা যে, শরীরের রংয়ের জন্য আলাদা করে চেনা যেতো তাকে!
বুখারী-৪-৫৬-৭৬৫: মুহাম্মদ যখন সিজদা করতেন, তখন উভয় বাহুকে শরীর থেকে এমনভাবে পৃথক করে রাখতেন যে, আমরা তার বগল দেখতে পেতাম। অন্য রেওয়াতে আছে, বগলের সাদা শুভ্রতা দেখতে পেতাম।
বুখারী-৯-৯০-৩৪২: খন্দকের যুদ্ধে রাসুলূল্লাহ আমাদের সাথে মাটি উঠাচ্ছিলেন। আমি তাঁকে দেখতে পেলাম, তাঁর পেট মুবারকের সাদা শুভ্রতাকে মাটি আচ্ছাদিত করে ফেলেছে।
বুখারী-১-৩-৬০: একবার আমরা রাসুলুল্লাহ্‌-এর সঙ্গে মসজিদে বসা ছিলাম। তখন এক ব্যক্তি সওয়ার অবস্থায় ঢুকলো। মসজিদে (প্রাঙ্গণে) সে তার উটটি বসিয়ে বেঁধে রাখলো। এরপর সাহাবীদের লক্ষ্য করে বললো: তোমাদের মধ্যে রাসুলুল্লাহ্‌ কে? রাসুলুল্লাহ্‌ তখন তার সামনেই হেলান দিয়ে বসা ছিলেন। আমরা বললাম: এই হেলান দিয়ে বসা ফর্সা রঙের ব্যক্তিই হলেন তিনি।
সাধারণ স্বাভবিক মানুষের মতই মুহাম্মদ কথা না শুনলে রেগে যেতেন, স্বাভাবিকভাবেই নিজের রাগ-ক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ করতে পারতেন না; একজন নেতা হিসেবে অনুসারীদের প্রতি মায়া-অনুশাসন ছিলো প্রাকৃতিকভাবেই।
বুখারী-১-২-১৯: মুহাম্মদ সাহাবীদের যখন কোনো আমলের নির্দেশ দিতেন, তখন তাঁরা যতটুকু সমর্থ্য রাখতেন, ততটুকুই নির্দেশ দিতেন। একবার তাঁরা বললেন: ইয়া রাসুলুল্লাহ্! আমরা তো আপনার মত নই। আল্লাহ্ তাআলা আপনার পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী সকল ত্রুটি মাফ করে দিয়েছেন। একথা শুনে তিনি রাগ করলেন, এমনকি তাঁর চেহারা মুবারকে রাগের চিহ্ন প্রকাশ পাচ্ছিলো। এরপর তিনি বললেন: তোমাদের চাইতে আল্লাহকে আমিই বেশি ভয় করি ও বেশি জানি।
বুখারী-১-৩-৮৭: একবার এক ব্যক্তি বললো: ‘ইয়া রাসুলুল্লাহ্! আমি সালাতে (জামাতে) শামিল হতে পারি না; কারণ অমুক ব্যক্তি আমাদের নিয়ে খুব লম্বা করে সালাত আদায় করেন। (আবু মাসউদ বলেন) আমি রাসুলুল্লাহ্‌-কে কোনো ওয়াজের মজলিসে সেদিনের তুলনায় বেশি রাগান্বিত হতে দেখিনি। (রাগত স্বরে) তিনি বললেন: হে লোক সকল! তোমরা মানুষের মধ্যে বিরক্তির সৃষ্টি করো। অতএব: যে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করবে, সে যেন সংক্ষেপ করে; কারণ তাদের মধ্যে রোগী, দুর্বল ও কর্মব্যস্ত লোক থাকে।
আয়েশা মুহাম্মদের সবচেয়ে প্রিয় স্ত্রীদের একজন ছিলেন; ৫১ বছর বয়সে ৬ বছর বয়সী আয়েশাকে বিয়ে করেন মুহাম্মদ। এই আয়েশা পর্যন্ত ফেরেশতা জিব্রাইলকে দেখার সুযোগ পাননি; অন্যদের তো প্রশ্নই ওঠে না। তার কথা তিনি নিজেই বলেছেন, এসব থেকে আমরা মুহাম্মদের যৌনরুচি আর শিশুকাম-প্রীতির আভাস পেতেই পারি।

হিজাবী হুরি যতো - ৯

২২ মার্চ, ২০১৭

সহি ইছলাম প্রসারণ প্রকল্প

লিখেছেন বেনামী সংস্কারক

সুবানাল্যা, মাশাল্যা... ইছলামই একমাত্র সত্য ধর্ম, শান্তির ধর্ম, আর সেই জন্যই ইছলামের সায়াতলে নাসতেক কাফেররা দিনের পর দিন আশ্রয় গ্রহণ করছে। একদিন পুরো বিশ্ব এভাবেই ইছলামবাজ দিয়ে ভরে যাবে।

এখন দেখা যাক, ইছলাম ধর্মের অনুসারীর সংখ্যা পৃথিবীতে সবচাইতে বেশি যেভাবে:

ধাপ ১:
জোর করে অন্যদের মুসলম্যান বানানো।

যেমন, জেলখানার কলিগ থুক্কু কয়েদিকে জোর করে মুছলিম-হবি-নয়তো-গর্দান-যাবে বলিয়া হুমকি। এছাড়া নেটে হাজার হাজার খবর পাবেন বিশ্বস্ত সূত্রসহ, যেখানে দেখবেন, লোভ দেখিয়ে বা জোর করে ধর্মান্তরিত করা হয়

ধাপ ২:
এর পরে জনসংখ্যা ডেসটিনির হাতের চাইতেও দ্রুতগতিতে বৃদ্ধিকরণ।

যেমন, এবার ইউরোপে প্রভাব বিস্তারের লক্ষে পাঁচটি করে বাচ্চা নিতে বলল এর-দো-আন। জানেন তো, মুছলিমদের সংখ্যাবৃদ্ধির জন্য পালে-পালে বাচ্চা বিয়ানোর জন্য উৎসাহ দেয়া হয় ইছলামে। আর তাছাড়া, ইছলামে জন্মনিয়ন্ত্রণ হারাম তো বটেই।

ধাপ ৩:
সারা পৃথিবীতে শান্তির নজির ছড়িয়ে দিতে গিয়ে শহিদ নতুবা শ্রীঘর (রেফারেন্স চাহিয়া লজ্জা দিবেন না)


বারবার ধাপ ১-৩ এর অনুসরণ।

নিশ্চয়ই মুছলম্যানরা সংখ্যাবৃদ্ধি নিয়ে গর্ব করার অধিকার রাখে।

ক্রুশের বদলে

কুদরতিক্রিয়া - ১২

লিখেছেন গরিব অল্ফ সিক্কিত মাদেসার হুজুর কুদরত আলি

২৮.
নাস্তেক দের কতা মুনে অইলে ফরে আমার সুদু আসি ফায়। খিক খিক খিক... হি হি হি। নাস্তেক রা কয় দুয়া নিকি হস্ত মিতুন এর মত। যাকে বেবে করা অয়, তার কুনু কামে লাগে না। সুদু যে করে, সেই সুক ফায়। হা হা হা। নাস্তেক দের কতা সইত্য হলি ফরে ত আজিয়া আমরা ইস্তেমার মাডে সবাই মিলি কত বরো হস্তমিতুন করি ফেইল্লাম। সেক হাসিনাও আমাদের সাতে হস্ত মিতুন কইল্লেন। কিন্তু নাস্তেক রা কয়, এইগুলাক নিকি কুনু কামে আহে না! দুয়া যুদি কুনু কামে না আইসত, তাহলে ফিতিবিতে এত এত মানুস দুয়া করে কেন, অরে নাস্তেক?

২৯.
নাস্তেক রা কয়, আসমান বলি নাকি কিসু নাই। নীল যে রং আমরা দেখি, অইটা নাকি আমরার দৃষ্টি সীমা। আসমানের কুন রং নাই। এ জন্যি রাতের আকাশ রে কালো দেখায়। আসমান নাকি আলুর ফ্রতিফলন। মঙ্গল গ্রহের আকাশ নাকি লালচে বা বাদামি! এখন গুগলে সার্চ দিয়া দেখি, গঠনা সত্যি। এখন আমি কিতা করতাম? আমি ত নাস্তেকদের কথায় বিব্রান্ত হই যাইতেছি।

৩০.
আজিয়া মাদেসার মুহতামিম বরো হুজুরের কাস তেকে সেই গাইল কাইসি। হুজুর কয়: 
- হারা রাত জাগি জাগি পেচবুকে কিয়া করেন? পজরের অয়াক্তে টিক মত উডতে ফারেন না। নামাচে সব সুময় লেইট করেন। সকালে মাদেসায় আইসা জিমান। 

আমি কইলাম:
- হুজুর, আমার উপ্রে সয়তানে আসর কইচ্চে। আমি কিয়া করাম? পেচবুকের মুহো আমাকে আসন্ন করি ফেলাইসে। দুইয়াদারি কাম লই আমি বেস্তো অই গেসি। হুজুর, আমার জইন্ন দুয়া করেন আর সয়তানের দুকা তেকে বাছার ফত দিকাই দেন।

হুজুর অনেক্কন সিন্তা কইরা আমার এক্কান তাবিজ দিসেন আর এক গেলাস ফানি ফরা ফু দি কাওয়াসেন। একন আল্লা মালুম, আমি যেনু সয়তানের দুকা ত্তন বাচি সহি চালামতে চইলতে ফারি। সবাই দুয়া কইরবেন...

ইসলাম ভইরা দে

২১ মার্চ, ২০১৭

ইমানুলের ধর্মকথা - ২

লিখেছেন ইমানুল হক

০৩.
আমি যেইদিন হইছি, সেইদিন খুবই বিস্টি আছিল। আমি হওয়ার সাত সাত আমার বাপ (হেমায়েতুল হক) দৌড়াইয়া গেছে আযান দেওয়ার লাই, আমার হুজুর চাচার আদেশে। আযানও দিতাছে, আমারও কান্দন ইস্টার্ট। আমার বাপে গেছেগা আযান ভুইল্ল্যা। হুজুর চাচা কয়, এই যে শয়তানের ছুয়াতেই এমন হইছে। (জন্মের সময় সন্তান কাঁদে শয়তানের স্পর্শে। - সহিহ বুখারি, খণ্ড ৪, বই ৫৪, হাদিস ৫০৬)। যদিও ডাক্তরেরা ভুয়া কতা বলি বেড়ায় যে, "জন্মের সুময় শিশু যহন অয় তহন ভ্রূণস্তরের এমনিওটিক ফ্লুইড আর অন্যান্য নিঃসরনের ফলে লাংস কলাপস অয় আর শ্বাস -প্রশ্বাসের ক্রিয়া তহনই শুরু অয়।এইসব সিক্রেশনের জইন্য শ্বাস প্রশ্বাসের রাস্তা ঠিকমত ক্লিয়ার অয় না। তাই বাচ্চা সর্বশক্তিতে কাইন্দা ওঠে আর ক্লিয়ার শ্বাসপ্রশ্বাস তহনই শুরু হয়। আর লাংস তহনইএকটিভেটেড অইয়া যায়।"

যাইঅক, ডাক্তরগো ভুল দারণা একদিন ঠিকই ভাংবে, কিন্তু আপছুস, তাগোরে কেউ জাহান্নামের আগুন থিকা বাচাইবার পাইরবনা। যাক, ঘটনায় আসি। বাপে ছিলো নাছোড়বান্দা, হুজুর চাচারে দিয়া ঝাড়াইয়া তারপর ক্ষান্ত দিছে। যার বদৈল্যতেই আমি আইজকার এই ফরহেজগার ইমানুল হক, ইমান লইয়া দ্বীনি জীবন যাপন কইরতেছি। আমার বাপ খুব বালা লোক আছিলো। আল্লা তাক বেস্ত নসিব করুক। সবাই আমার বাপের লাই দোয়া কইরবেন। আরেকডা ব্যাপারে দুয়া চাই: আমি যেন এই শক্ত ঈমান লই বাইচতে ফারি।

০৪.
এক কাফের মুশরেকের কতার জবাব দিব আইজ। হেই মুনাফেক হালা নবির সুন্নত খতনা নিয়া হাসে, কয়, "বুল করেছে আল্লায়, সুধরাইবো কি মোল্ল্যায়?" (নাউজুবেল্লা)। 

যাক, গটনায় আসি, আমার বয়স তহন ছয় বছর। বাপে ঠিক কইল্য সুন্নতে খতনা করাইব। এই নিয়া খুবই ব্যতিব্যস্ত অই গেল। কী আর করার, ডাক ফইড়ল আমাগের হুজুরচাচার। হে আবার এই কাজে ইক্সপার্ট। কারণ সুন্নতে খতনা নিকি আবার সুন্নতে মুয়াক্কাদা। হাদিসে আছে, "হযরত উসামা ইবনে যায়েদ রাযি. হ্যার পিতা থিকা বর্ণনা করেছেন, রাসূল স. কইছেন, খতনা পুরুষদের জইন্য সুন্নত। আর নারীদের জইন্য সম্ভ্রমের উপকরণ। (মুসনাদে আহমাদ: হাদীস নং-২০৭৩৮)। 

তা আমি যহন হুনলাম, আমি ত ভয়েই শ্যাষ। আল্লা আমার নুনু কাটি লাইব, তাইলে আমি মুতুম কি দিয়া! আমি ত চাইছি ছুটি ফলামু। কিন্তু যাইওক, আমাক দরি আইনলো আমার সুলেমান মামা। আমাক নেওয়া অইল হুজুর চাচার কাছে। উনি মামাকে বইল্লেন আমাক ফিছ মুরা করি দইরতে। আর আমাক কইলেন, "ইমান, ভয়ের কিছু নাই, খালি একখান ফিফড়ার কামুর খাইবা। কিচ্চু অইবনা।" কে হুনে কার কতা, আমিতো আগেই চিল্লান ইস্টার্ট করি দিসি। আমাক কইল চোখ বন্দ কইরতে। ভয়ে ভয়ে বইল্লাম, ইক্টু ফিফড়ার মত ব্যতা ফাইলাম, দেহি কাম গটাই ফেলছে। যাক, বাবা খুশি অই কইল, "দেহ ইমানের মা, আমগো ইমান আইজকা থিকা মুসলমান অই গ্যাছে, পুলাডা এত দিন মালোয়ান আছিল। আল্লার দরবারে লাক লাক শুকরিয়া।" 

আমি হেই দিনডার কতা আজও মনে করি, কত কষ্ট করি আমি মুসলমান অইছি। কিন্তু তাগের অগ্রিম জায়ান্নামি চিত্র দেকি খারাপ লাগে, যারা আল্লার এই নিয়ামত না বুজি খিকখিক করে হাসে আর কয়, "বুল করেছে আল্লায়, সুধরাইবো কি মোল্ল্যায়?" আমি তাগের কইতে চাই, "তরার ত জন্মের ঠিক নাই, আল্লার নবির সুন্নত ক্যামনে বুজবি!! এই জন্যই তরা হারামী কাফের, মুশরেক আর সিষ্টির নিক্রিষ্ট ফ্রানি। (আল্লা কইছে, "তারাই সিষ্টির নিক্রিষ্ট ফ্রানি, যারা সত্য ফ্রত্যাখ্যান করে আর অবিশ্যাস করে।" - কুরান ৯৮:৬)। আল্লা তগের হেদায়াত দেক।" 

পরিশেষে কই, এ আল্লা, আমাক তুমি মাপ করি দেও, অগো কতা মনে ফইড়লেই আমার নাফাকি কতা মুগদা চইল্লা আহে, অযুডা সাত সাত ভেংগে যায়। যেবাবেই ওক, আমাক আমার ইমান নিয়ে চলার তৌফিক দেও মাবুত। আমিন।

কোরান ও রবীন্দ্রনাথের কুম্ভিলকবৃত্তি

শুধু ইহুদি-নাছারার বিজ্ঞানীরাই কি কোরান থেকে চুরি করে? না, এক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই কাফের কবিরাও। রবীন্দ্রনাথের কথাই ধরা যাক। তিনি তো কোরানের একটি আয়াত থেকে পুরো চোথা মেরেছেন!

নিমো হুজুরের খুতবা - ৩৪

লিখেছেন নীল নিমো

আজকে সকালবেলা এক নাস্তিককে মুসলমান বানাতে গিয়ে আমিই নাস্তানাবুদ হয়ে গেলাম। ঘটনাটি নিম্নরূপ:

গতকাল রাত্রে এক নাস্তিককে বলেছিলাম:
- ইসলাম খুবই সহজ ধর্ম। শুধুমাত্র পরিপূর্ণ জীবনবিধান পবিত্র কোরান মজিদকে মেনে নিলেই হবে। সে মুসলনমান হয়ে যাবে। হিন্দু, খ্রিষ্টান, ইহুদি ধর্মের মত ইসলাম ধর্ম জটিল ধর্ম নয়। ইসলাম ধর্মকে আল্লাহপাক মানুষের জন্য সহজ করে দিয়েছেন।

আলহামদুল্লিলাহ, আমার কথা শুনে, নাস্তিক ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে রাজি হয়ে গেল। ঠিক হলো, আজকে সকালবেলা নাস্তিক আমার কাছে এসে কালিমা পড়ে মুসলমান হয়ে যাবে।

তো, আজকে সকালবেলা নাস্তিক আমার কাছে এলে আমি নাস্তিককে কালিমা তৈয়েবা পড়িতে বলিলাম:
- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ।

নাস্তিক বলিল:
- হুজুর, আমি কোরানের আয়াত ছাড়া কোনোকিছুই পড়িব না। কালিমা তৈয়েবা কোরান শরিফে নাই।

আমি বলিলাম:
- হাদিসে আছে। পড়ে ফেলুন।

নাস্তিক বলিল:
- নবীজির মৃত্যুর ২০০ বছর পর হাদিস রচনা করা হয়েছিল। হাদিস আসমানি কিতাব নহে। উজবিকাস্তানে জন্ম নেওয়া তুর্কি ইমাম বুখারী, সহি হাদিস সংকলন করেছিলেন ৮৪০ সালে। শিয়া, সুন্নি, আহমেদিয়া, সুফিরা সহি হাদিস নিয়া দ্বিমত প্রকাশ করেছে। এমনকি অনেক সুন্নিও দাবি করে যে, তাওহীদ এবং রিসালত এক সাথে কোনো হাদিসে আসে নাই। তাই বিতর্কিত হাদিস পড়ে আমি মুসলমান হতে চাই না। আপনি বলেছিলেন, আসমানি কিতাব কোরান মানলেই হবে। মুসলমান হতে হলে বিতর্কিত হাদিস পড়তে হবে, এটা আপনি তো আগে বলেন নাই।

নাস্তিকের কথা শুনে আমি তব্দা হয়ে গেলাম। আমার নিজের ঈমানের ভিত্তি লইয়া নাস্তিক টান মারল। আমার মাথাটা ঘুরে উঠলো। আমার দুরবস্থা দেখে নাস্তিক তাড়তাড়ি ১১২-তে ফোন করল।

গরুপূজারি গাধাগুলো - ১৮৩

২০ মার্চ, ২০১৭

পুতুলের হক কথা - ৩০

লিখেছেন পুতুল হক

১১২.
এই দেশের অধিকাংশ মুসলমানের ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞান অর্থ না-বুঝে কোরআন খতম করা পর্যন্ত। তাদের খ্রিষ্টধর্ম সম্পর্কে জ্ঞান বিটিভির বড়দিনের অনুষ্ঠান। আর হিন্দুধর্ম সম্পর্কে তাদের জ্ঞান বিটিভির জন্মাষ্টমী আর দুর্গাপূজার অনুষ্ঠান। বুদ্ধপূর্ণিমার ক্ষেত্রেও তাই। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় বিটিভি সেরা। কিন্তু যারা সাম্প্রদায়িক (আর ধার্মিক মানেই সাম্প্রদায়িক), তাদের মধ্যে কখনো স্থায়ী সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠিত হয় না।

১১৩.
এতোগুলো স্রষ্টা পৃথিবী জুড়ে, কিন্তু আন্তর্জাতিকমানের স্রষ্টা নেই একটিও। আমাদের মহান আল্লাহ বেহেস্তে আমের কোন বন্দোবস্ত রাখেননি। আম্রপালি, ল্যাংড়া কিংবা হিমসাগর যেখানে ফলে না, সেটা আবার কিসের বেহেস্ত? রোজার মাস ছাড়া বাকি সময়ে খেজুর দেখলে মনে হয় উটের খাবার। অবশ্য উট খেজুর খায় কি না, আমি জানি না।

১১৪.
ভয়ংকর সাম্রাজ্যবাদী রাজনৈতিক কৌশলের নাম ইসলাম। এই মতবাদ সবার আগে দখল করে আক্রান্তের বিবেক, স্বাভাবিক বোধ, মানবিকতা আর ন্যায়পরায়ণতা। আক্রান্ত ব্যক্তি এসব মানবিক গুণ বন্ধক দিয়ে নিজেকে সমর্পণ করে এমন এক সত্ত্বার কাছে, যে নির্দেশ দেয় - পিতা পুত্রের গলায় ছুরি চালাও, ভাই ভাইকে গুলি করো। এমনই এক সত্তা, যে নারী-পুরুষের স্বাভাবিক প্রেমকে তার অস্তিত্ত্বের প্রতি হুমকি মনে করে। এমনই এক সত্তা, যে মানব জাতির অর্ধাংশ নারীকে কেবল যৌনসামগ্রী হিসেবে দেখতে শেখায়। তার তৈরি বেহেস্তে নানান আরাম-সামগ্রীর মধ্যে নারীও কেবল এক সামগ্রী। ইচ্ছে হল, ৭২ নারী কাউকে পুরস্কার হিসেবে দেয়া হয়ে গেলো! আহা... ভুল হয়ে গেলো। তারা তো নারী নয়, তারা হুর। নারীর চাইতেও আরামপ্রদ!

পারলৌকিক প্লেবয়

সৌদি নারীদের সত্যি কাহিনী

মূল: খালেদ ওলীদ
অনুবাদ: আবুল কাশেম

[ভূমিকা: ডিসেম্বর মাসে খালেদ ওলিদের ইসলাম পরিত্যাগের জবানবন্দির অনুবাদ করেছিলাম। তখন লিখেছিলাম, খালেদ আমাকে অনেক ই-মেইলে সৌদি আরাবের ইসলাম সম্পর্কে লিখেছিল। এখানে আমি তার আর একটি লেখা অনুবাদ করে দিলাম। উল্লেখযোগ্য যে খালেদের এই লেখাটি একটা বইতে প্রকাশ হয়েছে। বইটার টাইটেল হলো: Why We Left Islam. - আবুল কাশেম, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১০]

অনেকেই বলে থাকেন, ইসলাম নারীদের শ্রদ্ধা করে এবং তাদের মূল্য দিয়ে থাকে। কিন্তু আমার নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে আমি বলতে পারি, এই ধারণা সর্বৈব মিথ্যা। সৌদি আরবের আদি অধিবাসী হিসেবে আমি স্বচক্ষে দেখেছি, কী ঘৃণ্য ও নীচুভাবে ইসলামী সমাজে নারীদেরকে স্থান দেওয়া হয়েছে। আমি যা চাক্ষুষ দেখেছি - ইসলামে নারীদের কী দুর্দশাদায়ক ও হীনকর অবস্থা - তা সংক্ষিপ্তভাবে বর্ণনা করব এই রচনায়। আমি হলফ করে বলতে পারি: এই রচনার প্রতিটি শব্দ সম্পূর্ণ সত্য এবং সত্য ছাড়া এক বিন্দু মিথ্যা নেই। এই রচনায় কিছুমাত্র মনগড়া বা অতিরঞ্জিত বিষয় নেই। এই লেখা আমি নিজের মন থেকে লিখেছি, কেউই আমাকে বাধ্য কিংবা প্রভাবিত করেনি এই লেখার জন্য। এর কারণ - আমার জন্ম সৌদি আরবে, এবং এই সৌদি আরবেই আমি পাকাপোক্তভাবে থাকি।

আমার আছে তিন ভগিনী। পড়াশোনার জন্য তারা ভীষণ অনুপ্রাণিত। নিজের চেষ্টায় ওরা আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছিল। কিন্তু আমাদের দেশের নারীদের শিক্ষার ওপর বিভিন্ন অযৌক্তিক, সেকেলে ও অন্যায্য নিয়ম চাপিয়ে দেয়ার জন্য ওরা ওদের পছন্দসই বিষয় নিয়ে পড়াশোনা শেষ করতে পারল না। আমার শত ইচ্ছা সত্ত্বেও ওদের শিক্ষাকে এগিয়ে নেবার জন্য আমার করার কিছুমাত্র ছিল না। আমার হাত আছে বাঁধা। কারণ আমাদের সমাজে যে-নারী আধুনিক শিক্ষায় উচ্চশিক্ষিতা হয়, সে সমাজের বিরাগভাজন হয়।

আমার এক ভগিনী মাধ্যমিক বিদ্যালয় শেষ করে পড়াশোনা ছেড়ে দিল। তার কারণ, সে চাইছিল সে সৌন্দর্যচর্চায় প্রশিক্ষণ নেবে; কিন্তু আমাদের মতো খাঁটি ইসলামি সমাজে তার অভিলাষ পূর্ণ করা সহজ নয়। তার জন্যে বিউটি থেরাপিস্ট হওয়া একেবারেই অলীক কল্পনা মাত্র। আমার অপর দুই ভগিনী বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা হতে চাইল। তাই ওরা উচ্চমাধ্যমিক মাত্রায় শিক্ষা সমাপন করল।

আমার পরিষ্কার মনে আছে, আমার ঐ ভগিনীরা যখন মহাবিদ্যালয়ের ছাত্রী ছিল, তখন ওদের পরিচয়পত্রে ওদের নাম ছিল ঠিকই, কিন্তু ছবি ছিল আমার পিতার। এর অর্থ এই যে, আমার ভগিনীদের কোনো বাস্তব অস্তিত্ব নাই। ওরা কাগজে আছে নামেমাত্র। পাঠকবৃন্দ, আপনারা এই ধরনের জঘন্য ব্যবস্থা জেনে চমকে যাবেন না। আমাদের সমাজে নারীদেরকে ধরা হয় গৃহপালিত পশুর মতো। গৃহপশুর যেমন সর্বদাই এক মালিক থাকে, তেমনিভাবে আমাদের নারীদের সর্বদাই কেউ না কেউ মালিক হয়। আমাদের নারীরা মানব হিসাবে স্বীকৃতি পেতে পারে না। সৌদি আরবের আইন বলে যে, কোনো কলেজের মেয়ে তার পরিচয়পত্রে তার নিজস্ব ছবি লাগাতে পারবে না। একমাত্র মেয়ের পিতার, ভ্রাতার, স্বামীর অথবা তার আইনী অভিভাবকের (মাহ্‌রম) ছবি থাকবে।

সে যাই হোক। আমার ঐ দুই বোন শিক্ষকতা প্রশিক্ষণ সমাপ্ত করে চাকরির জন্য অপেক্ষা করতে থাকল। কিন্তু ব্যাপার হলো, চাকরিস্থল আমাদের গৃহের নিকট হতে হবে। কারণ আমার বোনেরা কোনো পরিস্থিতিতেই আমার পিতার নাগালের বাইরে যেতে পারবে না। এর অর্থ হল - ওরা কোনোদিনই চাকরি পাবে না।

একজন বিবেকবান ভ্রাতা হিসাবে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, আমাদের এলাকার অনেক পুরুষের তুলনায় আমার ভগিনীরা বিদুষী, দায়িত্ববান - এমনকি আমার চাইতেও। আমি পরিপূর্ণভাবে জানি যে, ওদেরকে সুযোগ দেওয়া হলে কোনো সমস্যা ছাড়াই ওরা নিজেরাই নিজেদের জীবন সুষ্ঠুভাবে গড়ে নিতে পারবে। সত্যি বলতে কি, ওরা অনেক শক্ত কাজ আমাদের চাইতেও ভালোভাবে সম্পন্ন করার সামর্থ্য রাখে।

কিন্তু, হায় কী দুর্ভাগ্য! এই আমার তিন শিক্ষিতা, জ্ঞানসম্পন্না, উচ্চাকাঙ্খী ও দায়িত্বশীল ভগিনীগন এক নিরক্ষর পিতার হাতে বন্দিনী। আমার পিতা গৃহের বাইরের বিশ্ব সমন্ধে কিছুই জানেন না। তিনি বিশ্বসভ্যতার অগ্রগতি ও বিকাশের কোনো প্রয়োজনীয়তাই দেখেন না। এরই সাথে তিনি আমার তিন বোনকে বাধ্য করছেন তাঁর চৌহদ্দিতে তাদের জীবনকে বেঁধে দিতে।

আমার পিতা আমার বোনদের বিবাহ নিষিদ্ধ করে দিয়েছেন। এর কারণ এই যে, আমার পিতা কঠিনভাবে শর্ত দিয়েছেন যে, অ ধূমপানকারী, পাক্কা ইসলামি এবং একই গোত্রের পাত্র ছাড়া আরা কাউকে আমার বোনেরা বিবাহ করতে পারবে না। এখন দেখা যাচ্ছে, এই মূঢ় এবং অনড় শর্তের কারণে আমার বোনদের চিরকুমারী থাকতে হবে। অদূর এবং সুদূর ভবিষ্যতে ওদের বিবাহের কোনো সম্ভাবনাই নেই।

আমাদের এই কঠোর ইসলামি সমাজে যেসব পুরুষ ধুমপান করে অথবা/এবং নামায রীতিমত পড়ে না, তাদেরকে বিবাহের অনুপযুক্ত ধরা হয়। কোনো পুরুষ বিবাহ করতে চাইলে তাকে দু’জন সাক্ষী জোগাড় করতে হবে, যারা সাক্ষ্য দেবে যে, ঐ বিবাহইচ্ছুক পুরুষ ধূমপায়ী নয় এবং মসজিদে নিয়মিত নামায আদায় করে। এই নিয়মটা একেবারেই বাধ্যবাধকতামূলকভাবে প্রয়োগ করা হয়। এই প্রক্রিয়াটা সৌদি সমাজে এতই গুরুত্বপূর্ণ যে, ঐ সাক্ষ্য ছাড়া বিবাহ ভেঙে যেতে পারে। আরও একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, এক সৌদি গোত্রের পাত্র অন্য সৌদি গোত্রের পাত্রীকে কোনোক্রমেই বিবাহ করতে পারবে না। যদিও উভয় গোত্রই মুসলমান। এই প্রসঙ্গে এক সৌদি মহিলার অ মুসলিম পাত্রকে বিবাহের কথা না-ই বা লিখলাম। এটা তো সম্পূর্ণ হারাম, চিন্তাই করা যায় না।

আমাদের গোত্রে নারীরা পুরুষদের তুলনায় প্রায় দুই- তিন গুণ বেশি। এর অর্থ হল, আমাদের অনেক মহিলাকে চিরজীবন অবিবাহিত থেকে যেতে হবে। কারণ আমাদের গোত্রের বাইরে বিবাহ করা সম্পূর্ণ অচিন্তনীয়। আমাদের সমাজে পুরুষরা বিশ বছরের নিচের মেয়েদেরকে বিবাহ করতে চায়। তাদের ষোল বছর অথবা তার কম বয়সি মেয়েদের প্রতি বিশেষ আকর্ষণ। এর পরিণাম এই যে, বিশ বয়সের ঊর্ধ্বের মেয়েদের বিবাহের সম্ভাবনা একদম শূন্য। এইসব মেয়ের জন্য একটাই পথ - তাদেরকে বৃদ্ধ পুরুষ বিবাহ করতে হবে।

কাজেই দেখা যাচ্ছে, এইসব গোঁয়ার ইসলামী নিয়ম কানুনের জন্য আমাদের সমাজের বাড়তি বয়সের মেয়েদের ভবিষ্যৎ বিবাহজীবন একেবারেই দুরূহ।

এখন দেখা যাক আমার পিতার সত্যিকার কারণ: কেন তিনি তাঁর মেয়েদের বিবাহের ব্যাপারে একেবারেই নিরুৎসাহী। এই ব্যাপারে আমি বলতে চাচ্ছি, কেন আমার পিতা তাঁর মেয়েদেরকে অন্য গোত্রের ছেলেদের হাতে তুলে দিতে নারাজ।

বেশিরভাগ সৌদি পুরুষ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, নারীদের নিজস্ব কোনো আশা, আকাঙ্খা, উচ্চাভিলাষ থাকতে পারে না। তাই বিবাহের ব্যাপারে সৌদি মেয়েদের অভিমত সম্পূর্ণ অবান্তর। একটি সৌদি মেয়ে সম্পূর্ণভাবে তার মালিকের সম্পদ। মেয়েটির মালিক তার মেয়েটির ভাগ্য নির্ধারক। সৌদি পুরুষেরা মনে করে যে, তাদের গোত্রের মেয়েদের অন্য অজানা গোত্রের ছেলের সাথে বিবাহ হওয়া খুবই লজ্জার ব্যাপার। একজন সৌদি কোনো রকমেই এটা মানতে পারবে না যে, তাদের গোত্রের এক মেয়ের 'সম্মান' অন্য গোত্রের ছেলে দেখে নেবে। এক সৌদি পিতা চিন্তাই করতে পারে না যে, তার কন্যা অন্য গোত্রের অচেনা ছেলের সাথে যৌনসঙ্গমে লিপ্ত হবে - এমনকি বিবাহের পরেও। যদিও সে মুসলিম। এটাই হচ্ছে আমার পিতার আসল কারণ - কেন তিনি তাঁর মেয়েদের বিবাহে রাজি নন অন্য গোত্রের ছেলের সাথে। তাঁর মস্তিষ্কবিকৃতি ঘটবে, যখন তিনি জানবেন যে, ঐ বাইরের লোকটি তাঁর মেয়ের সাথে যৌনতায় মিলবে এবং সে তাঁর কন্যার যৌনাঙ্গ দেখে ফেলবে।

ওপরে উল্লেখিত কারণের জন্য প্রচুর সৌদি পিতা দ্বি বিবাহের আয়োজন করেন। অর্থাৎ, আপনি আপনার ছেলেকে দিন আমার কন্যার কাছে, এবং আমি আমার কন্যাকে দিব আপনার ছেলের হাতে। এই নিয়মটা ভগিনী হলেও চলবে। এভাবে উভয়পক্ষ সান্ত্বনা পায় যে, উভয়ের 'সম্মান' রক্ষা হলো। আমাদের সমাজে যখন কারও অর্থের প্রয়োজন পড়ে কিংবা নতুন স্ত্রীর প্রয়োজন হয়, তখন মেয়েদের এভাবে পণ হিসাবে ব্যবহার করে কিছু সৌদি মহিলা অর্থোপার্জন করে। কিন্তু তারা যা- ই আয় করে, তার সবটাই চলে যায় তাদের পিতার অথবা স্বামীর পকেটে। অনেক মহিলার পিতা আশঙ্কা করেন যে, তাঁদের কন্যার আয় স্বামীর কাছে চলে যাবে - তাই সেই সব পিতারা চান না যে, তাঁদের কন্যারা বিবাহ করুক। আমার মনে হয়, এটাও হয়ত আমার পিতার একটা কারণ হতে পারে - কেন তিনি একপ্রকার বিবাহ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন আমার বোনদের ওপর।

তাহলে এই সমাজে আমার বোনেরা কেমন করে বেঁচে আছে?

(চলবে)

নিত্য নবীরে স্মরি – ২৭৮

১৯ মার্চ, ২০১৭

চিঠি-হুমকি - ১: দামেস্ক ও পারস্যের শাসনকর্তার কাছে!: কুরানে বিগ্যান (পর্ব-১৬২): ত্রাস, হত্যা ও হামলার আদেশ – একশত ছত্রিশ

লিখেছেন গোলাপ

(আগের পর্বগুলোর সূচী এখানে)

"যে মুহাম্মদ (সাঃ) কে জানে সে ইসলাম জানে, যে তাঁকে জানে না সে ইসলাম জানে না।"

স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) হুদাইবিয়ার সন্ধিচুক্তি স্বাক্ষর সম্পন্ন করার পর (পর্ব: ১১১-১২৯) প্রায় চার বছর জীবিত ছিলেন। তিনি তাঁর ঘটনাবহুল নবী-জীবনের শেষের এই চারটি বছর (মার্চ, ৬২৮ সাল - জুন, ৬৩২ সাল) আরব, পারস্য, বাইজানটাইন (রোমান) ও ইথিওপিয়ার কিছু শাসকদের কাছে যে-চিঠিগুলো লিখেছিলেন, সেগুলো তাঁদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য তিনি তাঁর কোন কোন অনুসারীদের পত্রবাহক রূপে নিযুক্ত করেছিলেন - তার আলোচনা আগের পর্বে করা হয়েছে।

প্রশ্ন ছিল:
মুহাম্মদের সেই চিঠিগুলোর ভাষা কি আপাত সহনশীল 'মক্কায় মুহাম্মদ (পর্ব-২৬)' এর বাণী-সদৃশ ছিলো? যেমন,দ্বীনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি বা বাধ্য-বাধকতা নেই (২:২৫৬); তুমি কি মানুষের উপর জবরদস্তি করবে ঈমান আনার জন্য? (১০:৯৯); তুমি তো শুধু সতর্ককারী মাত্র (১১:১২); আপনি তাদের উপর জোরজবরকারী নন (৫০:৪৫); যার ইচ্ছা, সে একে স্মরণ করুক (৭৪:৫৫); তোমাদের ধর্ম তোমাদের জন্যে এবং আমার ধর্ম আমার জন্যে (১০৯:৬)” -  ইত্যাদি? নাকি তা ছিলো বানু কুরাইজার নৃশংস গণহত্যার (পর্ব: ৮৭-৯৫) পর থেকে তাঁর মৃত্যুকাল অবধি বিভিন্ন অবিশ্বাসী জনপদের ওপর তাঁর ও তাঁর অনুসারীদের অমানুষিক নৃশংসতায় অর্জিত একের পর এক উপর্যুপরি সফলতায় উজ্জীবিত 'মদিনায় মুহাম্মদ (পর্ব-২৭)' এর ত্রাস ও প্রত্যক্ষ হুমকি-সদৃশ? যেমন, "আমিই নবী, আমার বশ্যতা স্বীকার করো নতুবা পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকো" - এরূপ?

আল-তাবারীর (৮৩ ৮ - ৯২৩ খ্রিষ্টাব্দ) অব্যাহত বিস্তারিত বর্ণনা: [1] [2] 


দামেস্কের শাসনকর্তার কাছে চিঠি:

'ইবনে ইশাক হইতে বর্ণিত: আল্লাহর নবী বানু আাসাদ বিন খুযায়েমা গোত্রের শুজা বিন ওহাব নামের এক সদস্যকে দামেস্কের শাসনকর্তা আল মুনধির বিন আল-হারিথ বিন আবি শিমর আল-ঘাসানির কাছে প্রেরণ করেন।

মুহাম্মদ বিন উমর আল-ওয়াকিদি [৭৪৮-৮২২ খৃষ্টাব্দ] হইতে বর্ণিত: তিনি তার কাছে লেখা যে চিঠিটি শুজার মাধ্যমে পাঠান তা হলো এই,

"যে সৎ পথ অনুসরণ করে ও তা বিশ্বাস করে, তার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। আমি আপনাকে একমাত্র আল্লাহর ওপর বিশ্বাস স্থাপনের আহ্বান করি, যার কোনো শরীক নাই, তাহলে আপনার রাজত্ব আপনারই থাকবে।"  

শুজা বিন ওহাব তার কাছে চিঠিটি নিয়ে আসেন ও তাদেরকে তা পড়ে শুনান। আল-মুনধির বলেন, "কে আছে এমন, যে আমার রাজত্ব জোরপূর্বক আমার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিতে পারে? আমি সেই লোক, যে তার বিরুদ্ধে যাবে।"  

আল্লাহর নবী বলেন, "তাঁর রাজত্ব ধ্বংস হয়ে গেছে।” 
(‘সম্ভাব্য অন্য অনুবাদ, "তাঁর সাম্রাজ্য ধ্বংস হোক!"’) [3] ----

পারস্যের শাসনকর্তার ('কিসরা/খসরু') কাছে চিঠি:

'এই বছর, আল্লাহর নবী 'কিসরার' কাছে লেখা তাঁর যে চিঠিটি আবদুল্লাহ বিন হুদাফা আল-সাহমি মাধ্যমে পাঠান, তা হলো এই:

আমাদের আত্মীয়েরা – ১০৫

আমরা বানরেরই বংশধর, হাওয়ার পোলা নই।

কুদরতিক্রিয়া - ১১

লিখেছেন গরিব অল্ফ সিক্কিত মাদেসার হুজুর কুদরত আলি

২৫.
এক বদমাইশ ইনবকসে আমারে কয়, হুজুর আফনেরে আমরা সগলে মিলি এক্কান উফাদি দিমু আর আফনি তা নামের লগে বেবহার কইরবেন। আমি বইল্লাম, আইসসা, তা উফাদি কানা কি? সেতি বইল্ল, আল্লামা কুদরত আলি বগলফুরি (দাঃ বাঃ)। আমি কুসি অই বইল্লাম, মাশয়াল্লা মাশয়াল্লা কুব বালা, আমি গহন কইল্লাম। হেতি এইবার কয়, হুজুর তাইলে আজিয়া তেকে আফনি আল্লামা কুদরত আলি বগলফুরি দাত বাংগা। আফনি যে হারে নাস্তেকদের দাত বাংগেন আর দুম্বার গুস্ত কাই আফনের এক্কান দাতও ত বাংগা, তাই আফনাকে আমরা কুদরত আলি (দাত বাংগা) উফাদি দিলাম। নাউজুবেল্লা নাউজুবেল্লা, দূরে গিয়া মর সালা কাফির! বলি আই হেতির দিকে এক্কান সাফাতির চবি ইনবকসে ফাডাই দিসি। আর কাফের সুদির ফুত রে কই, দাত বাংগা কিন্তু আমাগের নবিজির সুন্নত। আমাগের নবিজির এক্কান দাত মুবারক অ বাংগা সিল। তাই বইলে ত আমাগের নবিজিরে কেউ এমুন নামে ডাকত না। সুদু মাত্র তর মত ইতর বদমাইস কাফের হইলেই একমাতর নবিজিক এমুন নামে ডাকা সম্বব। আর সাফাতির সবি দেকি আসা করি বয়ে সেতি আর আমাক দাত বাংগা কওয়ার সাহশ ফাবে না।

২৬.
কালিজিরার উপর কিছু দিন যাবত আমল কইত্তেছিলাম। এখন দেখি টাওয়ারের সিগনাল ব্যাপক স্ট্রং হই গেছে। রাইতে বিরাইতে টাওয়ারে শুধু আজে বাজে সিগনাল দেয়। একন আমি কি কত্তাম?

২৭.
এক নাস্তেক আমারে কয়, গনিমতের মাল নাকি নবিজি একা ভোগ কইরতেন। ওরে নাস্তেক, সুরা আল-আনফাল (৮) এর ১ নং ও ৪১ নং আয়াত দেখ। আমাদের নবিজি এত নিমক হারাম না যে, গনিমত এর মাল একা ভোগ কইরবেন। নবিজি তার দোস্ত আল্লারে ভাগ দিয়া তারপর গনিমত ভোগ কইত্তেন। সুরা আনফালের ৪১ নং আয়াতে পস্ট উল্লেখ আছে, গনিমতের মালের এক পঞ্চমাংস অর্থাৎ ৫ ভাগের ১ ভাগ আল্লার। তার দোস্ত ছাড়া নবিজি কি একলা গনিমত খাইতে পারেন। এইবার নাস্তেক টা জিগায়, গনিমতের মাল নবিজি আল্লার কাছে পাঠাইতেন কেম্নে - বিমানে না রকেটে? এই বার আর সহ্য হইল না, দিচি নাস্তেক টারে লাথি মাইরা ফালায়া।

ইছলামী জিহাগ

প্রাসঙ্গিক সংবাদ: এক, দুই

১৮ মার্চ, ২০১৭

আল্লাহর অস্তিত্বের অকাট্য প্রমাণ – ১২

আল্লাহর অস্তিত্বের শত-সহস্র অকাট্য প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও বেতমিজ নাস্তিকেরা তাতে ঈমান আনতে চায় না। অথচ তারা নাকি যুক্তিবাদী! বর্তমান সিরিজে তাদের উদ্দেশে একের পর এক প্রমাণ হাজির করা হবে। দেখা যাক, এবার তারা কী বলে।

প্রমাণ ৫৬.
বিগ ব্যাং-এর সময় আপনি সেখানে ছিলেন? ছিলেন না। আপনি নিজের চোখে দেখেছেন? দেখেননি। এর থেকেই প্রমাণিত হয়, আল্লাহর অস্তিত্ব আছে।

প্রমাণ ৫৭.
আমার সঙ্গে ঘটা অলৌকিক একটি ঘটনার কথা শুনে নাস্তিকেরা সেটির প্রাকৃতিক ও যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা দেয়। কিন্তু আমি তো জানি, ঘটনাটি অলৌকিক ছিলো। আল্লাহ না থাকলে এমন ঘটনা ঘটতো? অতএব আল্লাহর অস্তিত্ব আছে।

প্রমাণ ৫৮.
আমি বানরের আত্মীয়? অসম্ভব। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে যে, আল্লাহর অস্তিত্ব আছে। 

প্রমাণ ৫৯.
- (আস্তিকের দাবি)
- (নাস্তিকের যুক্তি)
- নাস্তিকেরা আমার যুক্তি বোঝে না।
এটাই কি প্রমাণ করে না যে, আল্লাহর অস্তিত্ব আছে?

প্রমাণ ৬০.
কোরানে বলা আছে, অবিশ্বাসীরা নিকৃষ্ট প্রাণী। আমি নিকৃষ্ট প্রাণী নই। এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, আল্লাহর অস্তিত্ব আছে।

(বিদেশী রচনার ছায়া অবলম্বনে)

চিত্রপঞ্চক - ১৪৫

প্রক্সি ব্যবহারকারীদের জন্য সরাসরি লিংক: http://imgur.com/a/IV20r

পরিসংখ্যান: ইছলামী স্টাইল


কথাটা মনে পড়লো প্রথম আলোর "সারা বিশ্ব" পাতায় বেশ গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করা একটি সংবাদ দেখে। শিরোনাম: "ব্রিটেনে ইসলাম গ্রহণের হার এক দশকে দ্বিগুণ।" তথ্য উপস্থাপনার ধরনটি লক্ষণীয়। ১ যখন ২ হয়, সেটি দ্বিগুণ, আবার ১ কোটি ২ কোটিতে পরিণত হলে সেটিও দ্বিগুণ। আর তাই উপরোক্ত খবরের শিরোনামে "শতকরা একশো ভাগ বৃদ্ধি" বললে তা আরও বেশি গুরুত্ববহ মনে হতো। 

ওপরের খবরটির বিশ্লেষণ পড়লে ইছলামী হিসেবের ভেতরের শুভঙ্করের ফাঁকটি স্পষ্ট হয়ে উঠবে। খবরে দাবি করা হয়েছে, ব্রিটেনে প্রতি বছর গড়ে ৫২০০ জন ইছলাম গ্রহণ করেছে। 

এখন দেখা যাক, সংখ্যাটি কীভাবে পাওয়া গেছে। এক ইছলামী চিন্তাচৌবাচ্চা, মানে থিংক ট্যাংক, (লক্ষ্য করুন, কোনও নিরপেক্ষ সংস্থা নয়) লন্ডনের মসজিদগুলো থেকে তথ্য সংগ্রহ করে। তাতে দেখা যায়, গত বারো মাসে ১৪০০ জন ইছলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে। একে তো সংখ্যাটি পরীক্ষিত নয়, তার ওপরে সেটি কেমন জানি সন্দেহজাগানিয়া। ঠিক ১৪০০? ১৩৯২ বা ১৪৩৮ নয়? আচ্ছা, তবু না হয় মেনে নিলাম। তবে সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে, ৫২০০ - পুরো ব্রিটেনের ক্ষেত্রে আরোপিত এই সংখ্যাটি কোনও জরিপ বা হিসেবের ফল নয়। স্রেফ কল্পনা করে নেয়া হয়েছে লন্ডনের ১৪০০-কে ভিত্তি হিসেবে ধরে। কীভাবে? তা তাদের আল্যা জানে!

আর এ কথাও সত্য, ইসলাম গ্রহণকারীদের একটি বড়ো অংশ মোছলমান ভাই-বেরাদরদের অমুছলিম স্ত্রী, যারা বিয়ের সময় মসজিদে গিয়ে "লা ইলাহা" পড়ে নামেমাত্র মুসলিম হয়। এছাড়া জেলখানার কয়েদিদের মধ্যেও ধর্মান্তরিত হয়ে নূরের পথে আসে অনেকে। তাদের অনেককেই বলপ্রয়োগ করে বা ভীতিপ্রদর্শন করে মুসলমান বানানো হয়। কেউ মুসলমান হয় আলাদা সুবিধালাভের জন্য। সাম্প্রতিককম এক খবর পড়ুন: এক সিরিয়াল কিলার ইসলাম গ্রহণ করেছে কারি খাবার লোভে, কারণ জেলখানায় মুছলিমদের জন্য কারি সরবরাহ করা হয়।

পক্ষান্তরে, ইছলামত্যাগীদের সংখ্যা বাড়ছে আশাব্যঞ্জক গতিতে, যদিও সে কথা মূলধারার পত্রিকায় আসে না বড়ো একটা। অবশ্য তাদের সঠিক সংখ্যা নিরূপণ করা দুষ্কর, কারণ তাদের অধিকংশই সরব এবং প্রকাশ্য নয়। ইছলাম ত্যাগকারীকে হত্যার বিধান ইসলামে আছে জেনেও প্রাণের ঝুঁকি নিতে চাইবে ক'জন? তবু দুঃসাহসী কিছু প্রাক্তন মুছলমান নিজেদের পরিচয় গোপন রাখছেন না। প্রবণতাটি শুভ।

(ধর্মকারী: ০৭.০১.২০১১)