৩১ অক্টোবর, ২০১৪

মহাম্যাডের ঘাম ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ মোবারকের মাজেজা

(লেখাটা পড়ার সময় বারবার মনে হচ্ছিলো, ইছলামের নবীকে নিয়ে লেখক বাড়াবাড়ি রকমের রূপকথার গল্প ফেঁদে বসেছেন। ভুলটা ভাঙলো একেবারে শেষে গিয়ে। তাই লেখাটা শেষ পর্যন্ত পড়া আবশ্যক।)

লিখেছেন নিলয় নীল

পৃথিবীর সর্বচ্রেষ্ট ধর্ম ইচলাম হলো সমস্ত বিগ্যানের বিগ্যান। আর ইচলামী বিগ্যানুসারে সমস্ত বিগ্যানের মুলে রয়েছেন একজন, তিনি হলেন নবী মহাম্যাড। এই পৃথিবী আকাশ, বাতাস, গাছ, নদী, ফুল, ফল, মানুষ ও অন্যান্য পশুপাখীসহ সব কিছুর আদি এবং একমাত্র উৎস হচ্ছে আমাদের পেয়ারের নবী মহাম্যাড। আল্লাহ্‌ আসমানে শাজারাতুল ইয়াক্কীন নামক চারটি শাখাবিশিষ্ট প্রকাণ্ড অথচ নজরকাড়া সুন্দর একটি বৃক্ষ সৃষ্টি করেছিলেন। এই বৃক্ষে আল্লাহ্‌ তাহার আপন নূর হইতে আমাদের পেয়ারের নবী মহাম্যাডের নূর সৃষ্টি করে তা বহু সংখ্যক সাদা মুক্তা দিয়ে খুব সাবধানতার সাথে জড়িয়ে রেখে সুন্দর ময়ূর পাখির মতো আকার দান করে হাজার হাজার বছর সে গাছের ওপর উপবিষ্ট করে রাখেন। 

পাখিটি সেই গাছের ওপর বসে ৭০ হাজার বছর যাবত আল্লাহর মহিমা, তাসবীহ-তাহলীল, ইবাদত বন্দেগীতে নিমগ্ন থাকেন। এরপর আল্লাহ্‌ খুব আকর্ষণীয় একটি আয়না বানিয়ে পাখিটির সামনে তুলে ধরেন। পাখিটি আয়নার মধ্যে তার মনোরম ও অতি সুন্দর আকৃতি দেখে আল্লাহর কাছে শোকরানা আদায় করেন। এইভাবে চলে গেলো আরও অনেক বছর। ময়ূর আকৃতির পাখিটি আরও অনেক বছর সেই গাছে বসে আল্লাহার জিকির করার এক পর্যায়ে আল্লাহ্‌ রহমতের নজরে দৃষ্টিপাত করেন। তাতে পাখিরূপ উক্ত নূরে মহাম্যাডী লজ্জায় জড়সড় হয়ে পড়েন এবং ঘামতে থাকেন। 

আল্লাহর এই মহব্বতের দৃষ্টির ফলে নূরে মহাম্যাডী থেকে যে ঘাম বের হয়, তা থেকেই মহান আল্লাহ্‌ আঠারো হাজার মাখলুকাত সৃষ্টি করেন। এ কারণেই রাচুলের আরেক নাম উম্মী রাখা হয়েছে। আরবী ভাষায় উম্মন শব্দের অর্থ হচ্ছে মূল। সুতরাং নবী মহাম্যাডই হলেন সকল সৃষ্টির আদি উৎস। অতঃপর পাখিরূপ নূরে মহাম্যাডী হাজার হাজার বছর তথায় অবস্থান করে আল্লাহার ইবাদত বন্দেগীতে মগ্ন থাকেন। তারপর আল্লাহ্‌ নূরে মহাম্যাডী হতে সমস্ত নবী ও রাসুলগনের রূহসমূহ পয়দা করেন। সেই সব রূহকে কালেমা ই তাইয়্যিব লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ পড়ার নির্দেশ দিলেন। 

আল্লাহ্‌র নির্দেশ পেয়ে সকল নবী রাচুলগণ উক্ত কলেমা পাঠ করে হযরত মহাম্যাডকে নবী বলে স্বীকার করে নেন। এ কারণেই তিনি হলেন সাইয়্যিদুল মুরসালীন বা প্রেরিত মহাপুরুষদের সর্দার। এ থেকে স্পষ্ট প্রমাণিত হয় যে, তিনি খাতেমুল আম্বিয়াই নন, তিনি ফাতেহুল আম্বিয়া অর্থাৎ নবীগণের সূচনা। আল্লাহ্‌ সর্বপ্রথম হযরত মহাম্যাডের নূরকেই সৃজন করেছেন যার থেকে সকল কিছুর সৃষ্টি। 

এর কিছুদিন পর মহান আল্লাহ্‌ একটি অতি মনোরম ঝাড়বাতি নির্মাণ করলেন। ঝাড়বাতি নির্মাণ করে নিজের আকৃতিতে নবীর আকৃতি তৈরি করে উক্ত ঝাড়বাতির মধ্যে অতি সযতনে সংরক্ষণ করতে থাকেন। রাসুলেফাকের সংরক্ষিত আত্মার চারপাশে সকল মানবাত্মা ঘুরে ঘুরে হাজার হাজার বছর ধরে আল্লাহার তাসবিহ-তাহলীল পাঠ করতে থাকেন। একদিন আল্লাহ্‌ সকল মানবাত্মাকে নির্দেশ প্রদান করেন, হে আত্মাসমূহ, তোমারা সবাই মিলে আমার বন্ধু (ইচলামী বিগ্যানুনুযায়ী আল্লহর কাছে সব মানুষ দাস হলেও শুধুমাত্র মহাম্যাডই তার বন্ধু) হযরত মহাম্যাডের পবিত্র নূরের দিকে একবার দৃষ্টিপাত করো। আল্লাহার নির্দেশে সকল মানবাত্মা নূর এ মহাম্যাডির দিকে দৃষ্টি দিলো। ফলশ্রুতিতে – 

- যে মানবাত্মাগুলো সর্বপ্রথম রাচুলের মাথা মোবারকে দৃষ্টি দেয়, তারা পৃথিবীতে খলিফা ও রাজা বাদশা হবার সৌভাগ্য অর্জন করে। 

- যে সকল মানবাত্মা হুগুরের পবিত্র কপাল মোবারক দেখার সৌভাগ্য অর্জন করেছে, তারা দুনিয়াতে নিঃস্বার্থ জননেতা হয়েছে। 

- যে রুহুগুলো রাচুলের ভ্রু মোবারক দেখতে পেয়েছিলো, তারা দুনিয়াতে ভালো শিল্পী হয়েছে। 

- যারা কান মোবারক দেখতে পেরেছে, তারা দুনিয়াতে অগাধ ধন দৌলতের মালিক হয়েছে। 

- যারা হুগুরের চক্ষু মোবারক দেখেছিলো, তারা ভালো কুরআনে হাপেজ হতে পেরেছে। 

-  যারা হুগুরের নাক মোবারক দেখেছে, তারা পৃথিবীতে চিকিৎসক ও ভালো আতর (সুগন্ধি) বিক্রেতা হয়েছে।

- যারা নবীজির মুখ দেখেছে, তারা খুবই রোজাদার হয়েছে। 

- যারা তার গলা দেখেছে, তারা বিখ্যাত ওয়াজ ও উপদেশদানকারী এবং মুয়াজ্জিন হয়েছে। 

- যারা তার দাড়ি দেখেছে, তারা খ্যাতিমান যোদ্ধা হয়েছে। 

- যারা তার উভয় হাতের তালু দেখতে পেয়েছে, তারা সৌভাগ্যবান ও দানশীল হয়েছে। 

- যারা তার উভয় হাতের পিঠ দেখতে পেয়েছে, তারা কৃপণ হয়েছে। 

- যারা তার বুক দেখেছে, তারা প্রকৃত আলেম ও মুজতাহিদ হয়েছে। 

- যারা তার পার্শ্বদেশ অবলোকন করেছে, তারা জিহাদি হয়ে গাজি বা শহীদ হয়েছে। 

- যারা হাঁটু দেখেছে, তারা রুকু সিজদা দিতে শিখেছে। 

- যারা পা দেখেছে, তারা ভ্রমণকারী ও শিকার কাজে পারদর্শিতা লাভ করেছে। 

- আর যারা দুর্ভাগ্যবশত নূরে মোহাম্মদীর পবিত্র নূরানি শরীরের কিছুই দেখতে পায়নি, তারা ইয়াহুদী, নাসারা, কাফের, মুশরিক প্রভৃতি হয়েছে। 

ওপরের ইচলামী বিগ্যান থেকে একথা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত যে, সবকিছুর সৃষ্টি হয়েছে আমাদের পেয়ারের নবী আল্লাহ্‌র বন্ধু মহাম্যাড থেকে। অবিশ্বাসীরা মহাম্যাডের কিছুই দেখতে পায়নি বলেই তারা অবিশ্বাসী হয়েছে। 

এখন আপনাদের কাছে প্রশ্ন মহাম্যাডের আর এমন কোন অঙ্গ থাকতে পারে, যা দেখে দুনিয়ায় মানুষরা কামুক হয়েছিলো? 

(তথ্যসূত্র: "মরনের আগে ও পরে কবরের খবর"; লেখন – ইমাম গাযযালী (রহঃ), বাংলা অনুবাদ – মাওলানা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জাহেরী।) 

ইছলাম: কাটে গর্দান জোড়ায় জোড়ায়



৩০ অক্টোবর, ২০১৪

ধর্মবিদ্রূপানন্দ - ১৮

লিখেছেন Mosammot Rinee Khatun

৫২.
ত্যাগ ছাড়া ধার্মিক হওয়া যায় না; আর সে ত্যাগ হতে হবে মনুষ্যত্ব গঠনের অতি প্রয়োজনীয় উপাদান বিদ্যা, বুদ্ধি, কাণ্ডজ্ঞান, সর্বোপরি আপনার মগজ। এই উপাদানগুলো যত ত্যাগ করতে পারবেন, আপনি ততবেশী ধাম্মিক হতে পারবেন।

৫৩.
আল্লাহ সর্বশক্তিমান, কিন্তু তাকে ও বন্ধুর অবমানকারীর কিছুই সে করতে পারে না। এক্ষেত্রে রাষ্টের সাহায্য নিয়ে ধর্মঅবমাননাকারীর শাস্তির দাবি করা হয়। আল্লাহর শক্তিমানত্বের অসহায়ত্বে অামার সুদু হাসি ফায়।

৫৪.
একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধে যে মা-বোনেরা পাকি হানাদারদের হাতে ধর্ষণের স্বীকার হয়েছেন, তাঁদেরকে শ্রদ্ধার সঙ্গে বলি বীরাঙ্গনা।
অার যে বাংলাদেশি ললনারা পাকি প্রেমে বুঁদ হয়ে "Afridi mary me" পোস্টার বুকে ধারণ করে গর্ভিত হয়, তারা বারাঙ্গনা।

মুর্গি যখন মুক্তিদাতা

নিজের পাপের ভার কোনও জীবজন্তুর ওপরে চাপিয়ে দিয়ে পাপমুক্ত হবার ইডিয়টিক প্রথা আছে অনেক ধর্মেই। মুছলিম, হিন্দু, খ্রিষ্টানদের মতো ইহুদিদের ভেতরেও এমন একটি অরুচিকর রিচুয়াল প্রচলিত আছে। একটি জীবন্ত মুর্গিকে কারো মাথার ওপর তিনবার ঘোরানো হয় এবং এর ফলে নাকি সেই ব্যক্তির সমস্ত পাপ চলে যায় ওই মুর্গির ভেতরে। তারপর মুর্গিটিকে জবাই করে খেয়ে ফেলা হয় বা দান করা হয় দরিদ্রদের। এই রিচ্যুয়ালের নাম Kapparot.




এমনকি হাসপাতালে রোগীর বিছানায় জীবন্ত মুর্গি!

ধর্মান্তিক সমাচার - ০১

লিখেছেন হাইয়্যা আলাল ফালাহ্‌

১.
ধর্ম নিয়ে আস্তিক কারও সাথে তর্ক করতে গেলে প্রথমেই শুনতে হয়, “এতগুলো মানুষ তো আর ভুল হতে পারে না” কিংবা “আপনার কি মনে হয়, দুনিয়ার সবাই বোকা আর আপনি একাই চালাক?” নিজের ভুল বুঝতে পারি তখন। বুঝি যে, যুক্তি আর প্রমাণ দিয়ে বলদের সাথে কথা বলা যায় না। তখন আমিও জঙ্গি নাস্তিক হয়ে যাই। আমি বলি, “আজ থেকে যদি বাংলাদেশের সব মানুষ বাম হাত দিয়ে ভাত খাওয়া শুরু করে, আপনিও তাই করবেন?” দৃঢ় কন্ঠে উত্তর আসে, “হ্যাঁ, করবো।” তখন আমি বলি, “ধুর ভাই! সাইডে যান। যে লোক মাইনষের দেখাদেখি গু খায়, তার লগে আমি কথা কই না”

২. 
এক পাড়াতো বন্ধুর সাথে সমসাময়িক বিভিন্ন কুসংস্কার (ধর্ম) নিয়ে উচ্চমার্গীয় ও তুলনামূলক আলোচনা করছিলাম। এক পর্যায়ে সে বলে, “তবে যাই কস না কেন, হিন্দুরা সবচেয়ে বোগাস। আর এছলাম সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য।” কারণ জিজ্ঞেস করলাম। বলে, “কী সব মূর্তি-টূর্তি নিয়া হিন্দুগুলা পূজা করে। এগুলার কোনো ভিত্তি আছে?” আমি বললাম, “শেষ কবে আল্লাহ্‌র সাথে বইসা চা খাইছস? ঐ হালায়ও তো ডাকলে আসে না। দেখলামও না একদিন। খালি নামই শুনলাম।” সে উত্তেজিত হয়ে বললো, “আল্লাহ্‌র কসম! আল্লাহ আছে। আমাদের পেয়ারের নবীজী দেখছে”। 

তখন আমার ওপর ওহী নাজিল হলো এই মর্মে: “কল্যাণের শপথ! নিশ্চয়ই আপনার চারপাশে অজস্র ছাগু আবর্তিত হয়। আমি তাদের মগজকে করে দিয়েছি তাদের বিচির চেয়ে ছোট আকৃতির। যেন তারা তালগাছের মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্বে লিপ্ত থেকে সারা জীবন পার করে দেয়। এদের সাথে তর্ক না করে তাল খেয়ে গাছের তক্তা এদের দিয়ে দিন। নিশ্চয়ই আমি সর্বজ্ঞাত ও কৌশলী।”

আমি বললাম, “দোস্ত, তুই ঠিক। এবার চা আর সিগারেট এর বিলটা দিয়া দে”।

৩.
ছোটবেলায় একবার নামাজে ছেজদারত অবস্থায় আমার হঠাৎ মাথায় আসলো, কেয়ামতের দিন যদি দেখি আল্লাহ্‌ নাই, দেবী দূর্গা দাঁড়িয়ে আছে আমাদের সবার সামনে... তখন কী হবে? তো আমার মত আরও অনেকের মনে নিশ্চয়ই এসব আজেবাজে চিন্তা ঢুকিয়ে দিয়েছে শয়তান। তাদের জন্য বাজারে এসেছে নতুন কালেমা: কলেমা উলতিমাতুল ফালাহ্‌। এই কালেমা ঈশ্বরভেদে পরিবর্তিত হয়। উদাহরণ এরশাদ করা গেল:
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (কিয়ামতে যদি আল্লাহ্‌র সামনে পড়েন)
লা ইলাহা ইল্লাদ্দুর্গা, মুহাম্মাদুর রাসুলুদ্দূর্গা (কিয়ামতে যদি দূর্গার সামনে পড়েন)
লা ইলাহা ইল্লাজ্জিউস, মুহাম্মাদুর রাসুলুজ্জিউস (কিয়ামতে যদি জিউসের সামনে পড়েন)
এভাবে কাল কেয়ামতের দিন ফ্লাইং স্প্যাগেটি মনস্টার, এলোহিম, জিসাস, রা’ থেকে শুরু করে ম্যারাডোনা পর্যন্ত সবাইকে সামলাতে পারবেন। মুহাম্মদের ব্যাপারে উপস্থিত ঈশ্বরের সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত না হলে কলেমার শেষ অংশ বাদ দিতে পারেন। 

বি.দ্র. অনেক কষ্ট করে এই আলটিমেট কলেমা নাজিল করিয়েছি। কপিরাইট সংরক্ষিত। আর এর পরও যদি মনে সংশয় থাকে, তাহলে আপনি একটা নাস্তিক। আপনার চিন্তার কিছু নাই। নিশ্চিন্তে মইরা যান। মরার পরে কিচ্ছু নাই।

ইছলামে পারফিউম গন্ধহীন, হুইস্কি অ্যালকোহলহীন

ইছলামে যা কিছু হারাম, সেসবের হালাল ভার্শন বের করার উদগ্র প্রবণতা লক্ষ্য করা যায় মুছলিমদের ভেতরে। হালাল বিয়ার, হালাল মদ তো বটেই, এমনকি হালাল বেকনও বাজারে লভ্য। হালাল সেক্স শপও আছে। নাছারাদের লোভনীয় খাদ্য-পানীয় ও অন্যান্য উপকরণের ইছলামী বিকল্পের এই তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন - হালাল হুইস্কি

একমাত্র ইছলামেই সম্ভব অ্যালকোহলবিহীন বিয়ার-মদ-হুইস্কি। এ পথ অবশ্য নবীজিই দেখিয়ে গিয়েছে। 

হাদিসে আছে (Abu Dawud Collection: ::Book Number 32:: Hadith # 4037): মেয়েদের ব্যবহার্য পারফিউমের রং থাকবে, কিন্তু কোনও গন্ধ থাকতে পারবে না। অর্থাৎ গন্ধবিহীন পারফিউম! 

বিনুদুনময় ইছলাম! আমার ধারণা, হারাম জিনিস হালালকরণের এই ইছলামী ধারার পরবর্তী আকর্ষণ: যৌনাঙ্গহীন হালাল পতিতা। 

পোস্টার বানিয়ে দিয়েছেন দাঁড়িপাল্লা ধমাধম


২৯ অক্টোবর, ২০১৪

কুরানে বিগ্যান (পর্ব-৫৩): মদিনা সনদ তত্ত্ব - তথাকথিত! ত্রাস, হত্যা ও হামলার আদেশ – ছাব্বিশ

লিখেছেন গোলাপ

পর্ব ১ > পর্ব ২ > পর্ব ৩ > পর্ব ৪ > পর্ব ৫ > পর্ব ৬ > পর্ব ৭ > পর্ব ৮ > পর্ব ৯ > পর্ব ১০ > পর্ব ১১ > পর্ব ১২ > পর্ব ১৩ > পর্ব ১৪ > পর্ব ১৫ > পর্ব ১৬ > পর্ব ১৭ > পর্ব ১৮ > পর্ব ১৯ > পর্ব ২০ > পর্ব ২১ > পর্ব ২২ > পর্ব ২৩ > পর্ব ২৪ > পর্ব ২৫ > পর্ব ২৬ > পর্ব ২৭ > পর্ব ২৮ > পর্ব ২৯ > পর্ব ৩০ > পর্ব ৩১ > পর্ব ৩২ > পর্ব ৩৩ > পর্ব ৩৪ > পর্ব ৩৫ > পর্ব ৩৬ > পর্ব ৩৭ > পর্ব ৩৮ > পর্ব ৩৯পর্ব ৪০ > পর্ব ৪১ > পর্ব ৪২ > পর্ব ৪৩ > পর্ব ৪৪ > পর্ব ৪৫ > পর্ব ৪৬ > পর্ব ৪৭ > পর্ব ৪৮ > পর্ব ৪৯ > পর্ব ৫০ > পর্ব ৫১ > পর্ব ৫২

মুহাম্মদ ও তাঁর প্রত্যক্ষ অনুসারীরা কী রকম অমানুষিক নৃশংসতায় বিরুদ্ধবাদীদের দমন করেছিলেন, তার ধারাবাহিক আলোচনা “ত্রাস হত্যা ও হামলার আদেশ” এর পূর্ববর্তী পর্বগুলোতে করা হয়েছে। তাঁর মৃত্যু-পরবর্তী সময়ে তাঁর অনুসারীরা সে সকল শিক্ষার ধারাবাহিকতা অনুগতভাবে পালন করেছেন ইসলাম প্রচার ও প্রতিষ্ঠার চেষ্টায়। তার জের চলছে আজও। মুহাম্মদের মৃত্যুর ১৪০০ বছর পরও মুহাম্মদ ও তাঁর ইসলামের বিরুদ্ধে সমালোচনা করার বিভীষিকা পৃথিবীবাসী প্রতিনিয়তই প্রত্যক্ষ করছেন।

ইসলামের ইতিহাস পাঠের সময় একটি সত্য সর্বদায় মনে রাখা অত্যন্ত আবশ্যক!

সেই সত্যটি হলো:

‘আদি উৎসে বর্ণিত ইসলামের সমস্ত ইতিহাস সংকলিত ও লিখিত হয়েছে ইসলাম-বিশ্বাসীদের কল্যাণে। লেখকরা যাদের বর্ণনার ভিত্তিতে মুহাম্মদের স্বরচিত ব্যক্তিমানস জীবনীগ্রন্থ কুরান (আল্লাহর রেফারেন্স দিয়ে মুহাম্মদের বক্তব্য) এবং হাদিস (আল্লাহর রেফারেন্স না দিয়ে মুহাম্মদের বক্তব্য ও কর্মের ইতিহাস) সংকলন করেছেন ও সিরাত (মুহাম্মদের জীবনী) রচনা করেছেন, সে সকল সংকলনকারী ও বর্ণনাকারীর প্রত্যেকটি সদস্যই (এক শত ভাগ) ছিলেন বিশিষ্ট ইসলাম বিশ্বাসী।

আর ইসলামের অবশ্য অত্যাবশ্যকীয় প্রাথমিক সংজ্ঞা (ইমান: আল্লাহ এবং মুহাম্মদে বিশ্বাস) অনুযায়ী কোনো ইসলাম বিশ্বাসীরই মুহাম্মদের কোনো কর্মের সামান্যতম সমালোচনা, কটূক্তি বা নিন্দা করার কোনই ক্ষমতা নেই

মুহাম্মদের প্রতিটি কর্মকাণ্ডকে বিভিন্ন কসরতের মাধ্যমে বৈধতা প্রদান এবং মুহাম্মদের সাথে সুর মিলিয়ে অবিশ্বাসীদের যাবতীয় ইতিহাস, শিক্ষা-সংস্কৃতিকে আইয়্যামে জাহিলিয়াত আখ্যায় অত্যন্ত হেয় প্রতিপন্ন করাই প্রতিটি ইসলাম বিশ্বাসীর অত্যাবশ্যকীয় ইমানী দায়িত্ব। তাঁদের সামনে অন্য কোনো পথই খোলা নেই। ইসলাম ১০০% সমগ্রতাবাদী মতবাদ। এই ইমানী দায়িত্বে অন্যথাকারী কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী কখনোই নিজেকে "ইসলাম-বিশ্বাসী" বলে দাবী করতে পারেন না।

অর্থাৎ,

ইসলামের সকল ইতিহাস সম্পূর্ণরূপে একপেশে (One-sided)! কারণ সেই ইতিহাসের প্রবর্তকরা হলেন শুধুই মুহাম্মদ (কুরান) ও তাঁর নিবেদিতপ্রাণ অনুসারীরা (সিরাত ও হাদিস); আত্মপক্ষ সমর্থনে পরাজিত বিরুদ্ধবাদী কাফেরদের প্রামাণিক সাক্ষ্যের কোনো দলিল ইসলামের ইতিহাসের কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় না। তাই অবিশ্বাসী, সমালোচনাকারী ও বিরুদ্ধবাদীদের বিরুদ্ধে মুহাম্মদ ও তাঁর নিবেদিতপ্রাণ অনুসারীদের বর্ণিত অপবাদ ও অভিযোগের ইতিহাসের সঠিকত্ব প্রমাণের কোনো সুযোগ নেই (পর্ব-৪৪)।

মুহাম্মদের যে কোনো আদেশ-নিষেধ ও কর্মকাণ্ডের সামান্যতম সমালোচনাকারী প্রতিটি ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে মুহাম্মদ "আল্লাহ ও তার রসুলের (ইসলামের) শত্রু" বলে আখ্যায়িত করেছেন। আর তাঁর অনুগত অনুসারীরা তাঁর সাথে সুর মিলিয়ে ইসলামের সমালোচনাকারী যে কোনো ব্যক্তি ও গোষ্ঠীকে ইসলামের শত্রু (Enemies of Islam) বলে আখ্যায়িত করে আসছেন ইসলামের জন্মলগ্ন থেকেই। ইসলামের এই শত্রুদের কীভাবে শায়েস্তা করতে হবে, তা আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) তাঁর প্রতিটি অনুসারীদের হাতে-কলমে শিক্ষা দিয়েছেন। কুরান, হাদিস ও মুহাম্মদের জীবনীগ্রন্থের পাতায় পাতায় বর্ণিত আছে সে সমস্ত কলা-কানুন।

তাই,

অনিবার্য কারণেই ইসলামের যাবতীয় ইতিহাস অত্যন্ত তোষামোদ (সর্বাবস্থায় মুহাম্মদের বন্দনা) ও পক্ষপাতদুষ্ট।

এই অত্যন্ত তোষামোদ ও পক্ষপাতদুষ্ট ইতিহাস থেকে সত্যকে আবিষ্কার করা মোটেও সহজ কাজ নয়। আর সেই সত্যকে আবিষ্কারের পর তা প্রকাশ করা ইসলাম-বিশ্বাসী ও অবিশ্বাসী নির্বিশেষে প্রতিটি রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক ব্যক্তি, জাতি ও গোষ্ঠীর জন্য এক অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত। লক্ষ লক্ষ নিবেদিতপ্রাণ ইসলাম-বিশ্বাসী এ সকল সত্য প্রকাশকারী "ইসলামের শত্রুদের" বিভিন্ন কায়দায় শায়েস্তা ও প্রয়োজনে খুন করার ইমানী দীক্ষায় দীক্ষিত।

“কোন অর্বাচীন নিতে চায় তাঁর কর্ম, পেশা ও মৃত্যুঝুঁকি? কোন অর্বাচীন রাজনৈতিক নেতা নিতে চায় তাঁর দেশ ও জাতিকে বিপদের মুখে ঠেলে দিতে? সবচেয়ে সহজ যে কাজটি তা হলো, ‘Shut up your mouth! Say, 'Islam means PEACE’! Praise Muhammad and his GREAT ideology!’"

এ ভাবেই রচিত হয়েছে ইসলামের যাবতীয় ইতিহাস! তাই, অতিরিক্ত অনুসন্ধানী দৃষ্টি না দিলে বিভ্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা শতভাগ।’  

>>> কালের পরিক্রমাকে অতিক্রম করে মুহাম্মদের জীবন-ইতিহাসের (সিরাত ও হাদিস) যে ঘটনাগুলোর বর্ণনা রেফারেন্স হিসাবে আমাদের কাছে মজুত আছে, তা প্রথম লেখা হয়েছে বর্ণিত সেই ঘটনা গুলো সংঘটিত হওয়ার এক থেকে দুই শতাব্দীরও অধিক পরে। কালের এই দীর্ঘ পরিক্রমাকে অতিক্রম করে “মুহাম্মদের সর্বপ্রথম যে পূর্ণাঙ্গ জীবনীগ্রন্থটি” আমাদের হাতে পৌঁছেছে, তা লেখা হয়েছে মুহাম্মদের মৃত্যুর ১১০ বছরেরও অধিক পরে। সেই বইটি হলো মুহাম্মদ ইবনে ইশাক ইবনে ইয়াসার (৭০৪-৭৬৮ খ্রিষ্টাব্দ) রচিত 'সিরাত রসুল আল্লাহ'। তাই, মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের এই গ্রন্থটিই ইবনে ইশাক পরবর্তী ঐতিহাসিকদের মূল রেফারেন্স। আর, ইবনে হিশাম সম্পাদিত ‘সিরাত রাসুল আল্লাহ’ বইটিই হলো মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের মূল বইয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংস্করণ (বিস্তারিত: পর্ব- ৪৪)।

পরবর্তীতে গত ১৪০০ বছর যাবত মুহাম্মদের যে অসংখ্য সম্পূর্ণ ও অসম্পূর্ণ জীবনীগ্রন্থ বিভিন্ন লেখকরা বিভিন্নভাবে (প্রয়োজন মত যোগ-বিয়োগ ও সঠিক-বিকৃত তথ্য/উদ্ধৃতি সহকারে) লিপিবদ্ধ করেছেন তাঁদের সবাইকেই এই গ্রন্থটির ওপরই বিশেষভাবে নির্ভরশীল হতে হয়েছে।

এই গ্রন্থটির অধিকাংশ ঘটনার বর্ণনায় "তথ্যসূত্র/উৎসের” (কোন কোন মানুষের কাছ থেকে ধারাবাহিকভাবে তা সংগ্রহীত হয়েছে) উল্লেখ থাকলেও বহু স্থানে ঘটনার বর্ণনায় লেখক মুহাম্মদ ইবনে ইশাক সেই ঘটনার তথ্যসূত্র/উৎসের কোনোই উল্লেখ করেননি। অনিবার্য কারণেই "উৎসের উল্লেখ" না থাকায় সে সকল ঘটনার বিশ্বাসযোগ্যতা আরও প্রশ্নবিদ্ধ!

আদি মদিনাবাসী ইহুদি গোত্রের বিভিন্ন ব্যক্তির ওপর মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের অনৈতিক আগ্রাসী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং বনি কেউনুকা ও বনি নাদির গোত্রের সমস্ত মানুষকে বিতাড়িত করে তাঁদের সর্বস্ব লুণ্ঠন (পর্ব ৫১-৫২) ও বনি কুরাইজা গোত্রের সমস্ত মানুষের ওপর অমানুষিক গণহত্যাযজ্ঞ ও তাঁদেরকে দাস-দাসীতে রূপান্তর (পর্ব-১২) করে তাঁদের সর্বস্ব লুণ্ঠন করার বৈধতা দিতে ইসলামী বিশ্বাসী পণ্ডিত ও অ-পণ্ডিতরা মুহাম্মদ ইবনে ইশাক রচিত "মদিনা সনদ নামক এক উপাখ্যানের” উদ্ধৃতি উপস্থাপন করেন।

অত্যন্ত লক্ষণীয় বিষয় এই যে, "মদিনা সনদ" নামক এই উপাখ্যান ও তার শর্তগুলোর বিবরণ এমনই একটি বর্ণনা যাতে মুহাম্মদ ইবনে ইশাক কোনোরূপ উৎসের উল্লেখ করেননি!

ইবনে হিশাম সম্পাদিত ‘সিরাত রাসুল আল্লাহ বইটির ইংরেজি অনুবাদ করেছেন A. GUILLAUME. বইটির ২৩১ পৃষ্ঠায় হঠাৎ করেই "The Covenant between the Muslims and the Medinans and with the Jews" শিরোনামে মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের বর্ণনা শুরু হয়েছে, কোনো রূপ তথ্যসূত্র বা উৎসের (Isnad) উল্লেখ না করেই।

কী ছিল সেই "মদিনা সনদ" নামের শান্তিচুক্তি এবং কী তার শর্ত?

মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের বর্ণনা মতে "মদিনা সনদ নামক চুক্তিটি” ছিল মদিনায় পালিয়ে আসা (হিজরত) মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারী মুসলমানদের সাথে মদিনায় বসবাসরত স্থানীয় ইহুদী ও অন্যান্য অবিশ্বাসী গোত্রের পারস্পরিক শান্তিচুক্তি।

ইবনে ইশাকের বর্ণনা মতে চুক্তিটি ছিল নিম্নরূপ ([**] ও নম্বর যোগ- লেখক): [1] [2]

এক জোড়া পোস্টার



শিবলিঙ্গগাথা

লিখেছেন সেক্যুলার ফ্রাইডে

আর সব ধর্মের মতই হিন্দুধর্মও পুরুষপ্রধান ও পুরুষতান্ত্রিক।

হিন্দুধর্ম মূলত স্মৃতি- ও শ্রুতিনির্ভর, এবং স্মৃতি ও শ্রুতি মুলত দুই ধরনের: বৈদিক ও তান্ত্রিক।

হিন্দুদের মুল ধর্মগ্রন্থ বেদে প্রচলিত হোম ও যাগ যজ্ঞের আচার হল বৈদিক, আর এর বাইরে যে দেব ও দেবী, পূজাপদ্ধতি, জপ, পূজা প্রকরণ, সেটিই তন্ত্র।

লিঙ্গপূজা এ অঞ্চলে প্রচলিত ছিল মহেঞ্জোদারো এবং হরপ্পার সময় থেকেই; মানে বেদেরও আগে থেকে। মূলত এটি রাক্ষস প্রথা এবং বেদে একে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। কিন্তু যুগের সাথে তাল মিলিয়ে আর্য আর অনার্য সংস্কৃতি ধীরে ধীরে সনাতন ধর্মে মিশেছে এবং এর সাথে মিল রেখেই পূজা পদ্ধতিরও বিবর্তন ঘটেছে। বৈদিক ও তান্ত্রিক পদ্ধতির পাশাপাশি উদ্ভব হয়েছে মিশ্র পদ্ধতির।

তাই বেদের উদাহরণ টেনে অনেকে একে লিঙ্গপূজা না বলার চেষ্টা করলেও এটি সুস্পষ্টভাবেই লিঙ্গপূজা।

আরেকটু যোগ করি: 

শিব কিন্তু অনার্য দ্রাবিড় দেবতা; বেদে অনার্য শিব-এর কোনোই উল্লেখ নেই।

বেদে রুদ্র নামে দেবতা ছিলেন পশু সংহারের দেবতা আর অনার্য শিব ছিলেন পশু পালনের দেবতা। আর্য ও দ্রাবিড়দের মিশ্র সংস্কৃতির প্রভাবে রুদ্র ও শিব মিশে যায় এবং শিব প্রধান দেবতাদের একজন হয়ে ওঠেন।

সত্যম শিবলিঙ্গম সুন্দরম

শিবলিঙ্গের গল্পের পেছনে তিনটি ভার্শন পাচ্ছি...

১. হিন্দু অ্যাপোলোজিস্টদের সংস্করণ:
অথর্ববেদে একটি স্তম্ভের স্তব করা হয়েছে, যার শুরু বা শেষ নেই। আদি-অন্তহীন এই স্তম্ভ চিরন্তন ব্রহ্মের প্রতীক। এটিই, সম্ভবত, লিঙ্গপূজার উৎস। যদিও বৈদিক সাহিত্যে লিঙ্গপূজার কোনো নিদর্শন নেই; বিবেকানন্দসহ অনেকের মতে যূপস্তম্ভ বা হাঁড়িকাঠের সঙ্গে শিবলিঙ্গের যোগ রয়েছে। শিবলিঙ্গর সঙ্গে পুরুষাঙ্গের যোগ বৌদ্ধধর্মের পতনের পর কিছু অশাস্ত্রজ্ঞ ব্যক্তির মস্তিস্কপ্রসূত গল্প থেকে এসেছে বলে হিন্দুধর্মীয় এই ভার্শনটি দাবি করে।
২. খ্রিষ্টীয় ভার্শন:
গুস্তাভ ওপার্ট শালগ্রাম শিলা ও শিবলিঙ্গের উৎস সন্ধান করতে গিয়ে তাঁর গবেষণাপত্রে এগুলিকে পুরুষাঙ্গের অনুষঙ্গে সৃষ্ট প্রতীক বলে উল্লেখ করেছেন, যেগুলো অনার্য রীতি থেকে এসেছে। আবার, উইলিয়াম ওয়ার্ড বলেছেন লিঙ্গ "পুরুষাঙ্গের অনুষঙ্গে নির্মিত" এবং লিঙ্গপূজা "মানুষের চারিত্রিক অবনতির সর্বনিম্ন পর্যায়"; শিবলিঙ্গের প্রতীক "অত্যন্ত অশালীন এবং সাধারণের রুচির সঙ্গে মেলানোর জন্য এর পরিমার্জনা করা হয়েছে।"
৩. এনসাইক্লোপিডিয়া ভার্শন:
ব্রিটানিকা এনসাইক্লোপিডিয়ায় শিবলিঙ্গকে যৌন প্রতীক বলা হচ্ছে না। বলা হচ্ছে, এই "দিব্য আলোকস্তম্ভের প্রতীক, যার শুরু বা শেষ নেই" - এই ব্যাখ্যা, সম্ভবত, ভারতীয় প্রভাবে ব্রিটানিকায় স্থান পেয়েছে।
সচেতন নারীবাদী ব্যাখ্যা অবশ্য যথার্থভাবেই একে নারীর ওপর পুরুষের অধিকার, যোনির উপর শিশ্নের অধিকার হিসেবেই দেখেছে।

বুকে হাত দিয়ে শপথ নেয়া: ধর্মীয় স্টাইল


নবীর অবমাননা করেসেন স্বয়ং আল্লাহ রাব্বুল আলামিন

লিখেছেন বাংলার উসমান মুয়াজ্জিন মোহাম্মদ ইসলাম

আহারে আবু লাহাব!

আল্লাহপাক পবিত্র কুরানে আবু লাহাবকে “সূরা লাহাব”-এ কীই না মন্দ ভাষায় গালিগালাজ কারাসেন। অতসো, এই লাহাবই নিকি আনন্দে আত্মহারা হই আমাগের প্রাণের সেয়ে প্রিয় নবীজির জন্ম সংবাদ ফাওয়ার পর একজন কৃতদাসীকে মুক্তি দিয়ে দিয়েসিলো। ঐ কৃতদাসী ‘সুয়াইবা’ কী এমুন কাজ কারাসে যে, তাকে মুক্ত করি দিতে হল! সে ত শুদু ভাতিজা মোহাম্মদের জন্মের সংবাদ কাকা লাহাবের কাসে পৌঁছাইল।

কত বড় হৃদয়ের মানুষ আবু লাহাব যে, সাম্রাজ্য অধিফতির মতন সুখবর বহনকারী একজন সংবাদবাহিকাকে মুক্ত করি দেয়! আর আল্লাহ কি না নবীজির ভালোবাসার শ্রদ্ধার কাকা’কে পবিত্র কুরানে গালিগালাজ করে, অবমাননা করে!

আরে নবীজির কাকা’কে অবমাননা মানে ত নবীজিকে অবমাননা। নাকি? নবী অবমাননার শাস্তি কী রে লুকমাইন্যা (লোকমান হেকিম বাবুনগরী)? 

দাসী ‘সুয়াইবা’ কিন্তুক নবীজির সংবাদ বহন করি ক্ষান্ত হয় নাই। সুয়াইবা এক সপ্তাহ দুগ্ধ পান করিয়েসিলো শিশু মোহাম্মদ’কে!

আর আমরা জানি নবীজির দুগ্ধমাতা ‘হালিমা’। 

কেবল ‘সুয়াইবা’ এবং ‘হালিমা’ যে শিশু মোহাম্মদকে দুগ্ধ পান করিয়েসে, তা অ ত না।

যে অমুসলিমদের সাথে আল্লাহ বলেসেন বন্ধুত্ব না করতে, সে অমুসলিম খেশটান মেয়ে ‘আইমান’-ই ত সিলো নবীজির সর্ব প্রথম ‘দুধমা’; খেশটান তরুনী ‘আইমান’ নবীজিকে গর্ভে ধারণ করেন নাই ঠিক, কিন্তুক মাতৃস্নেহে দুগ্ধ ত পান করিয়েসেন। আর সব কিসুর নিয়ন্ত্রণকর্তা আল্লাহ্‌ নিকি এই ‘মা’কে বিবাহ দিয়েসেন নবীজির পূত্র যায়েদের সাথে।অর্থাৎ শিশু মোহাম্মদ যে মহিলার দুগ্ধ পান করেসে, সে মহিলাকে বিয়ে দেয়া হয় পরিণত নবী মোহাম্মদ এর পালক পূত্রের সাথে!

তাহলে, এটা কবে হইসিলো? নবীজি ‘যায়েদ’কে যখন দত্তক নিলেন, তখন ত নবীজির বয়স অনেক। আর ঐ বয়সে সে তরুণীটির বয়স কতোতে গিয়া পৌঁছাইল, যে তরুণীটি একদা শিশু নবীকে দুধ খাওয়েসিলো? 

খেশটান তরুনী ‘আইমান’-এর পর ‘থুয়াইবা’ শিশু মোহাম্মদ এর দুগ্ধমাতা হন এবং থুয়াইবার পর নবীজির দুগ্ধ মাতা দন ‘হালিমা’। 

এ কী অবিসার! আমরা দুগ্ধমাতা হিসাবে শুদু হালিমার নাম নিই, কিন্তুক পূর্বের দুজনের নামই লই না! আবার এক সপ্তাহ টেম্পরারিলি দুগ্ধ পান করানো দাসী ‘সুয়াইবা’র অবদানও আমরা ভুলি গেসি! হায় রে, আমরা এমনই গাফেল!

আল্লাহপাকের কান্ড দেখো তমরা। উনি কী কারাসেন! নবীজি যাকে ‘কাকা’ বলি ডাকতেন, সে কাক্কু আবু লাহাবকে নবীজির ‘বেয়াই’ বানিয়ে দিয়েসেন আল্লাহপাক! হাঁ, তো বলছি কী! কাকা আবু লাহাবের দুই পূত্র ‘উৎবা’ ও ‘উতাইবা’র সাথে নবীজির দ্বিতীয় ও তৃতীয় কন্যা রুকাইয়া ও কুলসুম এর বিয়ে হয়।আর কে না জানে, ফেয়সালা ত হয় আসমানে, জমিনে না।

সব কিসুর নিয়ন্ত্রণকর্তা আল্লাহ্‌ কেনো চাচা ভাতিজাকে ‘বেয়াই’ বানাবেন! কেনো দুগ্ধমা হিসাবে হালিমা ছাড়া বাকিরা স্বীকৃতি ফাবে না! কেন কেন কেন!

২৮ অক্টোবর, ২০১৪

প্রচারে বিঘ্ন অথবা ধর্মপ্রচারক ও ধর্মপচারকেরা – ৪০



ঈমানদীপ্ত কাহিনী ১ (ঢিলা-কুলুখ)

(ধর্মকারীর পুরনো পাঠকরা জানেন, কমবয়সী লেখকদের লেখা আমি বিশেষ আগ্রহ নিয়ে প্রকাশ করে থাকি। আজকের এই নতুন লেখক ধর্মকারীর ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ। কঠোর ধর্মীয় পরিবেশে বেড়ে ওঠা তিনি লিখেছেন, "আমি যত ধর্মীয় গালগল্প পড়েছি, তাতে করে ধর্মান্ধদের ধোঁকা দিয়ে অনেক টাকা কামাতে পারি। ... আমার যুক্তিমনা তৈরির পেছনে কারো অবদান নেই। অনেক তফসীর-হাদীস পড়েছি। তবুও আল্লাহ বা ঈশ্বরের অস্তিত্বের কোনো ধারণা মনে ঢোকাতে পারিনি।")

লিখেছেন জল্লাদ মিয়া

তখনও ঢিলা-কুলুখের উপকারিতা এবং এইডা যে একটা সওয়াবের কাজ, তাহা আবিষ্কৃত হয় নাই। একদা রাসুলে ফাক ইছলাম প্রচারে বাহির হইলেন। সঙ্গে অনেক সাহাবী আছিল। তাহারা গল্প করিতে করিতে যাইতেছিলেন। সব কিছু ঠিকঠাক চলিতেছিল। কিন্তু মুহাম্মাদের মাথা ঠিক আছিল না। কারণ সাহাবীরা তাহারে বেডরুম হইতে ইছলাম প্রচার করিবার লাইগা ধরিয়া আনিয়াছে। ইদানীং তাহারা একটু বেশি কাবিল হইয়্যা গেছে। মুহাম্মদের মাথাটাই গরম হইয়্যা রহিয়াছে। কিন্তু সেইডা তো আর প্রকাশ করা যায় না। ইছলাম প্রচার বলে কথা!

এদিকে পথ চলিতে চলিতে মুহাম্মদের ঈমানদণ্ড আরও বেশি খাড়া হইয়্যা গেছে। আর পারা যায় না। একটা বুদ্ধি বাহির করিতে হইবে। হডাত্‍ করি মুহাম্মদের উর্বর মস্তিষ্কে একটা বুদ্ধি খেলিয়া গেল। তিনি তার সাহাবীগণকে বলিলেন, "তোমরা ইয়ানে খারাও। আমি একটু মুতিয়া আহি।" সাহাবীরা সকলে উচ্চস্বরে কহিলেন, "জ্বে, ঠিকাছে। তয় তারাতারি আহিয়েন। শুভ কামে দেরি করা ঠিক না।" 

মুহাম্মদ উত্তেজনা প্রশমনের লাইগা একটু আড়ালে চলিয়া গেলেন। তাঁহার শরীরে ৩০জন পুরুষের যৌনশক্তি আছিল। তাই স্খলন হইতে একটু দেরি হইতেছিল। তবুও আল্লাফাকের রহমতে তিনি কামিয়াব হইলেন। তিনি সুখে চোখ বুঁজিয়া ফেলিলেন। কিন্তু চোখ খুলিয়াই চিন্তায় পড়িয়া গেলেন। এইসব এখন কোথায় মুছিবেন?

আশে পাশে পানি আছিল না। তিনি ভাবিতে লাগিলেন। মুছিতে না পারিলে ঈমানদণ্ড কাপড়ের সাথে আটকাইয়্যা থাকিবে। তাইলে আবার বে-সময়ে পাজামা ফাটিয়া যাইবার আশংকা আছিল। কারণ আগেও বলা হইয়্যাছে, একজন মুহাম্মদ ৩০জন পুরুষের শক্তি রাখিতেন। পাজামা ফাটিয়া গেলে সবার সামনে নবীর প্রেস্টিজ পাংচার হইয়্যা যাইবে। তাঁহার দুঃখ দেখিয়া সাথে সাথে আল্লাফাক গিব্রাইলরে দিয়া বুদ্ধি সেন্ড করিয়া দিলেন। ঢিলা!!!

এইদিকে মুহাম্মদের আসিতে দেরি হইতেছে দেখিয়া সাহাবীরা উশখুশ করিতে লাগিলেন। একজন বলিল, "আমি মুহাম্মদরে ডাকিয়া লইয়্যা আহি?" 

অন্যরা কহিলেন, "যা। তয় তারাতারি আইবি। ইছলাম প্রচার করিতে হইবে।"

সাহাবী মুহাম্মদরে ঈমানদণ্ডের সাথে ঢিলা ঘষিতে দেখিয়া জিজ্ঞাইলেন, "ওহে মুহাম্মদ, কী করিতেছেন?"

মুহাম্মদ খানিক চিন্তা করিয়া বলিলেন, "ইহা একটা সওয়াবের কাম। মূত্রত্যাগের পর এইরাম করিলে সওয়াব হয়। তাই আমি এইরাম করিতেছি।"

মুহাম্মদের এই হাদিস ওই সাহাবির দ্বারা সকলে শুনিল এবং পালন করিতে লাগিল।

এই হাদিছটা মুহাম্মকের উম্মকরা আজও পালন করে থাকে। আপনি করেননি?

আমার বোরখা-ফেটিশ – ১২৪



জাঙ্ক ডিএনএ বিষয়ে সৃষ্টিতত্ত্ববাদীদের জাঙ্ক যুক্তি

লিখেছেন অর্ণব খান

জাঙ্ক ডিএনএ-র নতুন নতুন কাজ আবিষ্কারের মাধ্যমে কি বিবর্তন তত্ত্ব ভুল প্রমাণিত হয়?

আজকাল বিবর্তনবিরোধীরা জাঙ্ক ডিএনএ-র কার্যকারিতা আবিষ্কারের ঘটনাকে বিবর্তন তত্ত্বের বিপক্ষে প্রমাণ হিসেবে দাঁড় করানোর অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। জাঙ্ক ডিএনএ কী? মানুষের জিনের ৯৮% ডিএনএ কোনো প্রোটিন তৈরির জন্য তথ্য বহন করে না বা প্রোটিন কোড করে না। এদেরকেই জাঙ্ক ডিএনএ বা নন কোডিং ডিএনএ বলা হয়। এক সময় মনে করা হত, এসব ডিএনএ-র কোনো কাজ নেই, বরং এগুলো বিবর্তনের ধারায় লেফটওভার ডিএনএ। বিজ্ঞানীদের নিরলস প্রচেষ্টায় আজ আমরা জানি যে, জাঙ্ক ডিএনএ প্রোটিন কোড না করলেও প্রোটিন সংশ্লেষন প্রক্রিয়ায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ রেগুলেটরি দায়িত্ব পালন করে। এসব আবিষ্কারের কথা জানার পর বিবর্তনবিরোধীরা কিছু হাস্যকর প্রশ্ন তুলে তাদের বিবর্তনবিরোধিতা প্রকাশ করছে। দেখা যাক, তাদের যুক্তিটি কেমন:

"বিবর্তন তত্ত্ব অনুযায়ী এক প্রজাতি থেকে ভিন্ন প্রজাতিতে রূপান্তরের সময় পুরান প্রজাতি থেকে প্রাপ্ত বেশ কিছু জৈবিক উপাদান নতুন প্রজাতিতে অপ্রয়োজনীয় হয়ে যেতে পারে, যেগুলো আগের প্রজাতিতে কার্যকর ছিল। যেমন মানব দেহের অ্যাপেন্ডিক্স। তাই মানব জিনে অপ্রয়োজনীয় জাঙ্ক ডিএনএ থাকা ছিল বিবর্তন তত্ত্ব অনুযায়ী স্বাভাবিক। কিন্তু জাঙ্ক ডিএনএ-র কাজ আবিষ্কারের ফলে প্রমাণিত হল, বিবর্তন তত্ত্ব ভুল। অন্য কথায়, স্রষ্টা পরিকল্পনা করে মানব সৃষ্টি করেছেন, তাই মানুষের জিনের এত বড় অংশ জাঙ্ক হিসেবে থাকতে পারে না। এখনকার আবিষ্কারের মাধ্যমে এটাই প্রমাণ হচ্ছে যে, মানুষ একটি পরিকল্পিত ডিজাইনের ফলাফল। জাঙ্ক ডিএনএ-র কাজ নেই এ কথা বলে বিবর্তন সমর্থক বিজ্ঞানীরা এ নিয়ে গবেষণার কাজ বন্ধ করে দিয়েছিলেন, তাই বিজ্ঞান বরং পিছিয়ে পড়েছে।"

সৃষ্টিতত্ত্ববাদীদের বিবর্তন ভুল প্রমাণ করার ওপরোক্ত যুক্তিটি যে একেবারেই ভ্রান্ত, তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। কারণ:

১. বিবর্তন তত্ত্ব অনুযায়ী, নতুন প্রজাতিতে পুরনো প্রজাতি থেকে প্রাপ্ত অপ্রয়োজনীয় উপাদন থাকতে পারে সত্য, কিন্তু থাকতেই হবে এমন কোনো নিয়ম নেই। বরং না থাকার সম্ভাবনাই বেশি, কেননা প্রাকৃতিক নির্বাচনের ফলে অপ্রয়োজনীয় উপাদান বাদ পড়ে যাবার সম্ভাবনা প্রবল। তাই জাঙ্ক ডিএনএ-র কার্যকারিতা আবিষ্কার বিবর্তন তত্ত্বের বিপক্ষে যাওয়া তো দূরের কথা, বরং পক্ষে যায়।

২. মানব দেহ পূর্বপরিকল্পিত ডিজাইন অনুযায়ী হলে সেখানে সত্যিকার অর্থেই পরিকল্পণার ছাপ থাকত। কিন্তু হৃৎপিন্ড, মস্তিষ্ক, চোখ, মেরুদণ্ড ইত্যাদি বিভিন্ন অঙ্গ মানবদেহে কার্যকরী বটে, তবে আদর্শ ডিজাইনে তৈরি নয়। সহজ করে বললে বলা যায়, কেউ চাইলে মাথার পেছন দিয়ে হাত ঘুরিয়ে এনেও কার্যকর ভাবে ভাত খেতে পারে কিন্তু এটা ভাত খাওয়ার আদর্শ, স্বাভাবিক ও সহজ উপায় নয়। মানব দেহের ডিজাইন বিশ্লেষণ করলে সেখানে এত জোড়াতালি মার্কা এবং অপ্রয়োজনীয় বাড়তি কাজ দেখা যায় যে, তা কখনো পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে ভাবাটা অসম্ভব।

৩. জাঙ্ক ডিএনএ-কে বিজ্ঞানীরা কখনোই পুরোপুরি জাঙ্ক বলে ফেলে রাখেননি। বরং একদম শুরু থেকেই তারা কিছু জাঙ্ক ডিএনএ-র কাজ জানতেন। যেমন রাইবোজোম কোডকারী জিন। তাই জাঙ্ক ডিএনএর কাজ নেই - এমন অন্ধবিশ্বাস করে অযথা বিজ্ঞানীরা গবেষণা বন্ধ রেখেছিলেন - এ কথাটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। তাদের দীর্ঘদিনের গবেষণার ফলেই তো এখন এগুলো জানা যাচ্ছে। এ নিয়ে গবেষণা যে কোনোদিন বন্ধ ছিল না, তার প্রমাণ বিগত বছরগুলোর বৈজ্ঞানিক জার্নালগুলো খুঁজলেই পাওয়া যাবে।

২৭ অক্টোবর, ২০১৪

নিশ্চয়ই ইছলাম শান্তির ধর্ম



ধর্মীয় প্রশ্নের ব্যাঙগানিক উত্তর - ০২

(ফেইসবুকে একটা মজাদার পেইজ খোলা হয়েছে ধর্মীয় প্রশ্নের ব্যাঙগানিক উত্তর নামে। কেউ একজন একটা মজাদার, বিটকেলে বা আপাত নিরীহ প্রশ্ন করছে, আর অমনি অন্যেরা ঝাঁপিয়ে পড়ে সরবরাহ করছে সেটার বৈচিত্র্যময় ব্যাঙগানিক (ব্যঙ্গ + বৈজ্ঞানিক) উত্তর। 

সেই পেইজ থেকে নির্বাচিত প্রশ্নোত্তরের ধারাবাহিক সংকলন প্রশ্নকারী ও উত্তরদাতাদের নামসহ ধর্মকারীতে প্রকাশ করা হবে নিয়মিত। বলে রাখা প্রয়োজন, এই নির্বাচনটি একান্তভাবেই ধর্মপচারকের পছন্দভিত্তিক। ফলে ভালো কোনও প্রশ্নোত্তর আমার চোখ এড়িয়ে যাবার সম্ভাবনা তো আছেই, তবে সবচেয়ে বেশি আছে অন্যদের সঙ্গে মতভেদের সম্ভাবনা। নিজ গুণে (ভাগে, যোগে, বিয়োগে) মাফ কইরা দিয়েন।)

১১.
- ধর্মের সাথে রাষ্ট্রের সম্পর্ক কী? (Shiji Sejuti)
- ধর্ম কৃমি হইয়া রাষ্ট্রের পশ্চাতদেশে সর্বদা চুলকানি দিয়া থাকে! (অসীম নন্দন)

১২.
- ইসলাম বাদে অন্য ধর্ম নিয়া প্রশ্ন আসে না কেন? (দাঁড়িপাল্লা ধমাধম)
- কারণ ঐ ধর্মগুলো ইসলাম আসার পরে বাতিল হয়ে গেছে! বাতিল মাল নিয়া কথা বলার কি আছে? (Susupto Pathok)

১৩.
- উঠতে-বসতে কত দোয়াই তো পড়ার বিধান আছে! পাদ দিলে কোনো দোয়া পড়ার প্রয়োজন আছে কি? কী দোয়া? পাদের আগে না পরে পড়তে হবে? এ বিষয়ে কি মাস-আলা? (ধর্মদ্রোহী বালক)
- ফাদিয়াই ই আলা ইউরাব্বিকুমা তুকাজ্জিবান। বাংলায় পড়তে পারেন: হে আল্লা, এ বায়ু তোমার নেয়ামত এবং তোমার পানেই ওপরে ধেয়ে যায়। (Mahbubul Hasan)

১৪.
- "এইডস" বা "ইবোলা"র ওষুধের কথা কোরানে লেখা নাই কেন? (ইঁচড়ে পাকা)
- কোনো বিজ্ঞানী আবিষ্কার করার পর অবশ্যই কোরানে খুঁজে পাবেন। (Abdullah Al-Mamun)

১৫.
- হিন্দু ব্রাহ্মণরা হিসি করতে বসলে কানে পৈতা প্যাঁচায় কেন? (ভূত অদ্ভুৎ কিম্ভুত)
- ওদের ইউরেনাল সিস্টেম পৈতা নিয়ন্ত্রিত তাই। (Shiji Sejuti)
এবং
- মূত্রপূজায় সময় কানে পৈতা প্যাঁচানোর নিয়ম। (দাঁড়িপাল্লা ধমাধম)

১৬.
- ইসলাম ত্যাগের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড! তবে ইসলাম গ্রহণের পুরস্কার কী? (চার্বাক শুভ্র)
- হালাল ভাবে কচি মেয়ের সাথে সেক্স ফ্রী (গোল্ড লিফ এর প্যাকেট)

১৭.
- কোনটা বেশি পবিত্র? গোমূত্র না উটমুত্র? (ওয়াশিকুর বাবু)
- পাত্রভেদে পবিত্রতা নির্ভর করে । (মূর্খ চাষা)
এবং
- গোমূত্র পবিত্র, উটমূত্র পাক। (Tamanna Jhumu)

১৮.
- আইসিসের কল্লা নিয়ে সেলফি দেখলে ভয় লাগে, কিন্তু হাতে কল্লা নিয়ে কালীর মূর্তি দেখলে ভয় লাগে না কেন? (Neon Seven)
- আইসিস মিথ আর কালী বাস্তবতা। (দাঁড়িপাল্লা ধমাধম)

১৯.
- আল্লাহর এতো ক্ষমতা! আল্লাহ কি পারে না নিজের জন্যে একটা লিঙ্গ বানাতে? তার নিজের জন্য কোনো হুর নাই? (ধর্মদ্রোহী বালক)
- নাউজুবিল্লাহ, দোজখে মুগুর-শিক দিয়া গুতাইয়া কি বেহাল দশা কইরালাইবো, তার টেনশনে আছি, আর আপনে নতুন অস্ত্রের শাস্তি বাতলাইয়া দিতাসেন (Mahbubul Hasan)

২০.
- আল্লাহ'র ঘর (মসজিদ) বানাইতে মানুষের কাছে হাত পাততে হয় কেন? (Neon Seven)
- কারণ অর্থকড়ি মানুষের আবিষ্কার, সেইটা আল্লার কাছে নাই (ঔপপত্তিক ঐকপত্য)

বেদ্বীনবাণী - ২০



সহজ কোরান সংকলন ইতিহাস

লিখেছেন ইসলামের বস্ত্রহরণ

ইছলামি মহাপণ্ডিতগণের মতে, আল্যাফাক প্রথমে কলম আবিষ্কার করল, তারপর কাগজ আবিষ্কার করল, তারপর কলমরে বলল, এই কলম, লেখ....

সেই কলম তারপর আল্যাফাকের নির্দেশমত তর তর করে নুরানি কুরানের পাণ্ডুলিপি লিখে ফেলল। তারপর আল্যাফাক সেই পাণ্ডুলিপি নিজস্ব প্রিন্টিং প্রেস থেকে এক কপি ছাপিয়ে জিব্রাইলকে দিয়ে মহাউন্মাদের কাছে হেরা পর্বতের গুহায় পাঠিয়ে দিল। আর সেটিই হচ্ছে পিছলামি ভাইদের...

১.. পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্মগ্রন্থ।
২. আসমানি কিতাব।
৩. পবিত্র কুরানুল করিম।
৪. মানব সম্প্রদায়ের সম্পূর্ণ জীবনবিধান
৫. জগতের সমস্ত জ্ঞানের ভাণ্ডার
৬. এভাবে অসীম সংখ্যা পর্যন্ত লেখা যাবে....

পিছলামী ভাইরা কিছুতেই কোরান সংকলনের ইতিহাসকে স্বীকার করতে চায় না... তাহলে তাদের প্লাস্টিকের ইমান ভেঙে পড়বে। কিন্তু কোরান সংগ্র্রহের প্রকৃত ইতিহাস জেনে রাখা অত্যন্ত জরুরি, যা নিম্নে বর্ণিত হল:

প্রথমেই জেনে রাখা উচিত, সম্পূর্ণ কোরান একসঙ্গে নাজিল হয়নি। মহাউন্মাদ চল্লিশ বছর বয়সে যখন নবুয়ত প্রাপ্তির ভেক ধরে, তখন থেকে তার তেষট্টি বছর বয়স পর্যন্ত (ইন্তেকালের আগ পর্যন্ত) ক্রমশ তেইশ বছর ধরে কোরান নাজিল হয়। কোরানের অনেক আয়াত মক্কায় এবং অনেক আয়াত মদিনায় নাজিল হয়। এই কারণে কোরানের ১১৪ টি সুরা মক্কা ও মদিনা এই দুই ভাগে বিভক্ত। কোরান পড়লে বোঝা যায় এই বিভক্তিকরনের পেছনে কোনো বিশেষ মনযোগ দেওয়া হয়নি।

প্রথম দিকের সুরাগুলোর চাইতে শেষের দিকের সুরাগুলো আকারে ছোট। প্রথম সুরা অর্থাৎ সুরা ফাতিহা মক্কায় এবং সুরা বাকারা মদিনায় নাজিল হয়েছে। অতএব একথা নিশ্চিতভাবে বলা যায় মহাউন্মাদের জীবদ্দশায় কোরান বর্তমান ধর্মগ্রন্থের মত সম্পাদিত হয়নি। কোরানে বর্ণিত কিতাব শব্দটিও কোরানের বর্তমান রূপের দিকে কোনোরূপ ইঙ্গিত করে না। মহাউন্মাদের জীবদ্দশায় কোরানের আয়াতগুলোকে সতর্কতার সাথে চামড়া, রেশমি কাপড় অথবা প্রাণীর হাড়ে লিপিবদ্ধ করে রাখা হত। মহাউন্মাদের অনেক সাহাবি আয়াতগুলো মুখস্থ করে রাখত।

কিন্তু পরবর্তীতে তেলাওয়াতের সময় আয়াতগুলোর মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য দেখা দিতে লাগল। তাই পিছলামের তৃতীয় খলিফা ওসমান কোরানকে গ্রন্থাকারে সংকলনের প্রয়োজন অনুভব করেন। সেই সময়ে খলিফা বা উত্তরাধিকারী হওয়ার জন্য মহাউন্মাদের অনুসারীদের মধ্যে গৃহযুদ্ধের আগুন জ্বলে উঠে। সেই যুদ্ধে মহাউন্মাদের নাতি হাসান হোসেনের মৃত্যু হয়। বিবাদের কারণ ছিল মহাউন্মাদের উত্তরাধিকারী কারা হবে? মহাউন্মাদের রক্তধারীরা নাকি ধর্মধারীরা? মহাউন্মাদের রক্তধারীরা হয়ে গেল শিয়া আর ধর্মধারীরা হয়ে গেল সুন্নী। তারপর কী হলো, তা কারে অজানা নয়। শিয়া-সুন্নী যুদ্ধ এখনো বন্ধ হয়নি, হবেও না।

বর্তমানের আমরা বাল কোরানকে যেভাবে দেখি, তা সংকলিত হয় খলিফা ওসমানের আমলে। সে ছিল সুন্নী পুছলিমদের প্রধান। অপরদিকে শিয়াদের বক্তব্য হচ্ছে, বাল কোরানে অনেক আয়াত ও সুরা অন্তর্ভূক্ত করা হয়নি। যেমন সুরা 'সিজদার'; তারা আরও বলে যে, সুন্নীরা বাল কোরানের দশ পারা কমিয়ে ত্রিশ করে ফেলেছে যা আসলে ছিল চল্লিশ।

এর পরও পিছলামী ভাইয়েরা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ চটি বাল কোরানের এসব সত্য স্বীকার করা তো দুরে থাক, কেউ এসব সত্য প্রকাশ করলেই তার জন্ম বিষয়ে সন্দিহান হয়ে পড়ে, তার মা-বোনের সাথে সঙ্গমেচ্ছা প্রকাশ করে, শান্তিপূর্ণে উপায়ে সহী তরিকায় কল্লা নামিয়ে ফেলার গ্যারান্টি পর্যন্ত দিয়ে দেয়।

হুব্বল তাদের হেদায়েত দান করুক। 

[বি.দ্র. হুব্বল হল কুরাইশদের সৃষ্টিকর্তা দেবতা। কুরাইশরা “আলাল হুব্বল” অর্থাৎ "হুব্বলের জয় হোক" এই শ্লোগান দিত। জারজ নবী সেটা কপি করে “আল্যাহু আকবর” বানিয়ে ফেলেছে। আল্যা আগে থেকেই কুরাইশদের একজন দেবতা হিসেবে ছিল। আর জারজ নবী তাকে প্রমোশন দিয়ে একেবারে মহান সৃষ্টিকর্তা বানিয়ে ফেলে। তাইতো হজরত বাল্যাফাকের এত পেয়ারা।]

২৬ অক্টোবর, ২০১৪

হা-হা-হাদিস – ১১১


আজানের ধোন-ই

লিখেছেন দাঁড়িপাল্লা ধমাধম

কুট্টিকালে ভিসিআরে মুভি দেখার সময় একটা কোলকাত্তাইয়া অ্যাড দেখতাম। যতটা মনে পড়ে:

এক লোক বাসের সামনের সিটের উপর সিগারেটের প্যাকেট আর দিয়াশলাই রেখে সিট দখল করে রাখছে তার নিজের কারো জন্য। অন্য একটা লোক সেখানে বসতে গিয়ে ওসব দেখে জিজ্ঞেস করল: 

- সিগারেট কার? 

লোকটা উত্তর দিল:

- আমার। 

- দিয়াশলাই কার? 

- আমার। 

তখন লোকটি বাধ্য হয়ে পেছনের সিটে গিয়ে বসল। কিছুক্ষণ পরে সামনের সিটে বসা লোকটি সিগারেট ধরালো। ধোঁয়াটা যাচ্ছিল পেছনের সিটে বসা লোকটির নাকে। বিরক্ত হয়ে পিছনের লোকটি সামনের সিগারেট খাওয়া লোকটিকে বলল:

- মশাই, সিগারেট আপনার, দিয়াশলাই আপনার, তো সিগারেটের ধোঁয়াটাও নিশ্চয়ই আপনার। ওটাও নিজের কাছেই রাখুন না!

আস্তিকদের ধর্মকর্মে আমার কোনো আপত্তি নাই, যতক্ষণ না তারা আমার কোনো ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে। ব্যাঘাত হলেও উৎসবের কথা বিবেচনা করে বছরে দু'-একবার ছাড়ও দিতে রাজি আছি। 

কিন্তু সারাবছর ধরে প্রতিদিন পাঁচবার করে চারদিক থেকা কানের কাছে কুত্তার মত ঘেউ ঘেউ করলেও ভদ্রতার খাতিরে 'যেমন কুকুর তেমন মুগুর' ফর্মুলা অ্যাপ্লাই করতে পারি না। তাই ভদ্রভাবে একটা কথা বলি:

ধর্ম তোদের, ছোয়াব তোদের, মাইক তোদের, তো মাইকের, আল্যা হালার পো হালা, আওয়াজটাও নিশ্চয়ই তোদের। ওটাও নিজেদের কানের মধ্যে রাখ!

গরুপূজারি গাধাগুলো - ৯২



ফাল দিয়া ওঠা কথা - ৩৩

লিখেছেন ধর্মবিদ দেশী

৯৭.
ধর্মগ্রন্থ খুঁড়ে অসাম্প্রদায়িকতা বের করার সমস্যা হলো, কোন ধর্মগ্রন্থ বেশি অসাম্প্রদায়িক, এই মীমাংসা করতেই সাম্প্রদায়িক লড়াই বেধে যেতে পারে!

৯৮.
যখন কোনো মুসলিম ইসলাম প্রতিষ্ঠার নামে কেউ অপকর্ম (মিথ্যা অপপ্রচার, জঙ্গিবাদ, স্বৈরাচার) করে, তখন বেশিরভাগ মুসলিমই তাদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সমর্থন করে, তাদের সফলতার জন্য প্রার্থনা করে, তাদেরকে ইসলামের কাণ্ডারি ভাবে। পরবর্তীতে তাদেরকেই আবার অস্বীকার করার প্রাণপণ চেষ্টা করা হয়। তারা সহী মুসলিম না, তাদের কর্মকাণ্ডের সাথে ইসলামের সম্পর্ক নেই, তারা ইহুদি-নাসারাদের দোসর ইত্যাদি ইত্যাদি।

আবার কোনো মুসলিম কল্যাণমূলক কাজ করলে (মৌলবাদ-জঙ্গিবাদের বিরোধিতা, বিজ্ঞানচর্চা, শিক্ষার প্রসার), তখন মুসলিমরা তার বিরুদ্ধাচরণ করে, কাফের-মালাউন-মুরতাদ বলে ফতোয়া দেয়, কল্লার দাম হাঁকায়। পরবর্তীতে তাদেরকেই আবার সহী মুসলিম, ইসলামের কাণ্ডারি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করে।

৯৯.
ইসলাম ত্যাগের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।
যে কোনো বোধসম্পন্ন মানুষের ইসলাম ত্যাগের জন্য এই বিধানটিই যথেষ্ট।

২৫ অক্টোবর, ২০১৪

নামাজরঙ্গ - ৩৫


ধর্মাতুল কৌতুকিম – ৬০

১৭২.
- মুছলিমেরা নাকি গোটা দুনিয়াকে ইছলামী জাহান বানাতে চায়?
- না, ভুল কথা। তাহলে তারা ঘৃণা করবে কাকে!

১৭৩.
চৌদি সরকার নাস্তিকদের সন্ত্রাসী হিসেবে ঘোষণা দেয়ার পর থেকে অপেক্ষায় আছি, কবে চৌদি আজব আমাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে, টেকাটুকা দিবে...

১৭৪.
দুই নাস্তিকের সংলাপ:
- জানো, কোরানে আমি এমন একটা কথা খুঁজে পেয়েছি, যা তর্কাতীতভাবে সত্য এবং যা নিয়ে কারুর কোনও মতভেদ থাকতেই পারে না।
- তাই নাকি! কী সেই কথা?
- 'সৌদি আরবে মুদ্রিত'।

১৭৫.
ফ্রাঙ্কফুর্ট-এর গাড়ি প্রদর্শনীতে একটি অভিনব গাড়ি প্রদর্শন করা হয়েছে। গাড়িটির প্রধান বৈশিষ্ট্য - সেটি শুধু পেছন দিকে চলে। গাড়িটির নাম - Islamborghini.

১৭৬.
- ইছলাম ও পোলিও-র মধ্যে পার্থক্য কী?
- বিজ্ঞানীরা পোলিও-র চিকিৎসা আবিষ্কার করতে পেরেছে।