১ মে, ২০১৬

হুদাইবিয়া সন্ধি - ১৩: সূরা আল ফাতহ!: কুরানে বিগ্যান (পর্ব- ১২৩): ত্রাস, হত্যা ও হামলার আদেশ – সাতানব্বই

লিখেছেন গোলাপ

(আগের পর্বগুলোর সূচী: এখানে)

"যে মুহাম্মদ (সাঃ) কে জানে সে ইসলাম জানে, যে তাঁকে জানে না সে ইসলাম জানে না।"

স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ৬২৮ সালের মার্চ মাসে (জিলকদ, হিজরি ৬ সাল) মক্কার হারাম শরীফ থেকে ৯-১০ মাইল দূরবর্তী হুদাইবিয়া নামক স্থানে কুরাইশ প্রতিনিধি সুহায়েল বিন আমরের সাথে কী কী শর্তে এক লিখিত চুক্তিনামায় সম্মত হয়েছিলেন; এই চুক্তিনামার তিনি কোন কোন ব্যক্তির স্বাক্ষর সাক্ষী হিসাবে গ্রহণ করেছিলেন; চুক্তিনামাটি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর সেখানে উপস্থিত মুহাম্মদ অনুসারীরা প্রবল মর্মবেদনায় তাঁর সাথে কীরূপ আচরণ করেছিলেন; তাঁদের সেই আচরণে মনঃক্ষুন্ন মুহাম্মদ কার পরামর্শে সেখানে তাঁর পরবর্তী কার্যক্রম সমাধা করেছিলেন; অনুসারীদের এইরূপ অত্যন্ত হতাশাগ্রস্ত পরিস্থিতিতে তাঁদের মনোবল চাঙ্গা করা ও সর্বোপরি তাঁর নবী-গৌরব পুনরুদ্ধার ও নেতৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রয়োজনে প্রায় সর্বাবস্থায় মুহাম্মদ কোন দু'টি কৌশল অবলম্বন করেন; ইত্যাদি বিষয়ের আলোচনা আগের পর্বে করা হয়েছে।

অতঃপর মুহাম্মদ মদিনায় প্রত্যাবর্তনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। তাঁর অনুসারীদের অত্যন্ত হতাশাগ্রস্ত পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ, এই চুক্তি স্বাক্ষরের প্রয়োজনীয়তা ও সর্বোপরি তাঁর নবী-গৌরব ও নেতৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রয়োজনে মদিনায় প্রত্যাবর্তনের আগেই পথিমধ্যে মুহাম্মদ তাঁর প্রথম কৌশল-টি প্রয়োগ করেন।

মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের (৭০৪-৭৬৮ সাল) বর্ণনার পুনরারম্ভ: [1] [2]

পূর্ব প্রকাশিতের (পর্ব: ১২২) পর:

‘আল-যুহরীর অব্যাহত বর্ণনা: “অতঃপর আল্লাহর নবী প্রত্যাবর্তনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন ও যখন তিনি তার অর্ধেক রাস্তায় পৌঁছেন, সুরা আল-ফাতহ (সুরা নম্বর ৪৮) অবতীর্ণ হয়।’”

ওহুদ যুদ্ধের চরম ব্যর্থতার পর মুহাম্মদ "তাঁর আল্লাহর" নামে যে-উদ্দেশ্য সাধনের প্রয়োজনে কমপক্ষে ৬০-টি বাণীর অবতারণা করেছিলেন (পর্ব: ৭০), সেই একই উদ্দেশ্য সাধনের প্রয়োজনে হুদাইবিয়ার সন্ধিচুক্তি সম্পন্ন করার পর মুহাম্মদ তাঁর আল্লাহর নামে ২৯টি বাণীর অবতারণা করেন।

মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহর ভাষায় সেই বাণীগুলো হলো:

ভূমিকা প্রদান:
৪৮:১-৪ – “নিশ্চয় আমি আপনার জন্যে এমন একটা ফয়সালা করে দিয়েছি, যা সুস্পষ্ট।' (২) যাতে আল্লাহ আপনার অতীত ও ভবিষ্যৎ ত্রুটিসমূহ মার্জনা করে দেন এবং আপনার প্রতি তাঁর নেয়ামত পূর্ণ করেন ও আপনাকে সরল পথে পরিচালিত করেন। (৩) এবং আপনাকে দান করেন বলিষ্ঠ সাহায্য। (৪) তিনি মুমিনদের অন্তরে প্রশান্তি নাযিল করেন, যাতে তাদের ঈমানের সাথে আরও ঈমান বেড়ে যায়। নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের বাহিনীসমূহ আল্লাহরই এবং আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়”।       

>> ইমাম বুখারীর বর্ণনায় (৫:৫৯:৪৯০) আমরা জানতে পারি যে, যখন “নিশ্চয় আমি আপনার জন্যে এমন একটা ফয়সালা করে দিয়েছি, যা সুস্পষ্ট (৪৮:১)" নাজিল হয়, তখন মুহাম্মদের অনুসারীরা তাঁকে অভিনন্দন জানান ও জিজ্ঞাসা করেন, "কিন্তু আমরা কী পুরষ্কার পাবো?" তাঁদের এই প্রশ্নের জবাবে মুহাম্মদ তাঁদেরকে দেন প্রলোভন (৪৮:৫):

৪৮:৫ – “ঈমান এজন্যে বেড়ে যায়, যাতে তিনি ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করান, যার তলদেশে নদী প্রবাহিত। সেথায় তারা চিরকাল বসবাস করবে এবং যাতে তিনি তাদের পাপ মোচন করেন। এটাই আল্লাহর কাছে মহাসাফল্য”। [3]
           
অত:পর, হুমকি ও শাসানী!:
৪৮:৬ – “এবং যাতে তিনি কপট বিশ্বাসী পুরুষ ও কপট বিশ্বাসিনী নারী এবং অংশীবাদী পুরুষ ও অংশীবাদিনী নারীদেরকে শাস্তি দেন, যারা আল্লাহ সম্পর্কে মন্দ ধারণা পোষন করে। তাদের জন্য মন্দ পরিনাম। আল্লাহ তাদের প্রতি ক্রুদ্ধ হয়েছেন, তাদেরকে অভিশপ্ত করেছেন। এবং তাহাদের জন্যে জাহান্নাম প্রস্তুত রেখেছেন। তাদের প্রত্যাবর্তন স্থল অত্যন্ত মন্দ”।                 

অত:পর নিজেই নিজের certificate প্রদান:
৪৮:৭-৮ - 'নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের বাহিনীসমূহ আল্লাহরই। আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। (৮) 'আমি আপনাকে প্রেরণ করেছি অবস্থা ব্যক্তকারীরূপে, সুসংবাদদাতা ও ভয় প্রদর্শনকারীরূপে।'           

ভূমিকা-প্রলোভন-হুমকি-আত্ম প্রশংসা ও certificate প্রদানের পর অভিপ্রায় ঘোষণা!:
৪৮:৯ - 'যাতে তোমরা আল্লাহ ও রসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর এবং তাঁকে সাহায্য ও সম্মান কর এবং সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা কর।'          

অত:পর তাঁর দাবী, “মুহাম্মদের আনুগত্য = আল্লাহর আনুগত্য!"
৪৮:১০: 'যারা আপনার কাছে আনুগত্যের শপথ করে, তারা তো আল্লাহর কাছে আনুগত্যের শপথ করে। আল্লাহর হাত তাদের হাতের উপর রয়েছে। 'অতএব, যে শপথ ভঙ্গ করে; অতি অবশ্যই সে তা নিজের ক্ষতির জন্যেই করে এবং যে আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করে; আল্লাহ সত্ত্বরই তাকে মহাপুরস্কার দান করবেন।'         

অত:পর, যারা এই যাত্রায় তাঁর সঙ্গে যোগ দেন নাই, তাঁদের বিরুদ্ধে বিষোদগার!:
৪৮:১১-১২- 'মরুবাসীদের মধ্যে যারা গৃহে বসে রয়েছে, তারা আপনাকে বলবেঃ আমরা আমাদের ধন-সম্পদ ও পরিবার-পরিজনের কাজে ব্যস্ত ছিলাম। 'অতএব, আমাদের পাপ মার্জনা করান। তারা মুখে এমন কথা বলবে, যা তাদের অন্তরে নেই। বলুনঃ আল্লাহ তোমাদের ক্ষতি অথবা উপকার সাধনের ইচ্ছা করলে কে তাকে বিরত রাখতে পারে? বরং তোমরা যা কর, আল্লাহ সে বিষয় পরিপূর্ণ জ্ঞাত। (১২) বরং তোমরা ধারণ করেছিলে যে, রসূল ও মুমিনগণ তাদের বাড়ী-ঘরে কিছুতেই ফিরে আসতে পারবে না এবং এই ধারণা তোমাদের জন্যে খুবই সুখকর ছিল। তোমরা মন্দ ধারণার বশবর্তী হয়েছিলে। তোমরা ছিলে ধ্বংসমুখী এক সম্প্রদায়।'

অত:পর, তাঁকে অবিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে হুমকি!:
৪৮:১৩- 'যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলে বিশ্বাস করে না, আমি সেসব কাফেরের জন্যে জ্বলন্ত অগ্নি প্রস্তুত রেখেছি।'         

অত:পর, তাঁর 'স্বেচ্ছাচারী (পর্ব: ২০)’ বক্তব্য!:
৪৮:১৪- 'নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের রাজত্ব আল্লাহরই। তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন এবং যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেন। তিনি ক্ষমাশীল, পরম মেহেরবান।'
         
আবারও যারা তাঁর সঙ্গে এই যাত্রায় অংশ নেন নাই তাঁদের বিরুদ্ধে বিষোদগার!:
৪৮:১৫- 'তোমরা যখন যুদ্ধলব্ধ ধন-সম্পদ সংগ্রহের জন্য যাবে, তখন যারা পশ্চাতে থেকে গিয়েছিল, তারা বলবেঃ আমাদেরকেও তোমাদের সঙ্গে যেতে দাও। তারা আল্লাহর কালাম পরিবর্তন করতে চায়। বলুনঃ তোমরা কখনও আমাদের সঙ্গে যেতে পারবে না। আল্লাহ পূর্ব থেকেই এরূপ বলে দিয়েছেন। তারা বলবেঃ বরং তোমরা আমাদের প্রতি বিদ্বেষ পেষণ করছ। পরন্তু তারা সামান্যই বোঝে।'

অতঃপর, তাঁর সকল অনুসারীদের (ব্যতিক্রম শুধু অন্ধ-খঞ্জ-রুগ্ন) যুদ্ধ অব্যাহত রাখার নির্দেশ "যতক্ষণ না তারা মুসলমান হয়ে যায়!”:

৪৮:১৬-১৭- 'গৃহে অবস্থানকারী মরুবাসীদেরকে বলে দিনঃ আগামীতে তোমরা এক প্রবল পরাক্রান্ত জাতির সাথে যুদ্ধ করতে আহুত হবে। তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ করবে, যতক্ষণ না তারা মুসলমান হয়ে যায়। তখন যদি তোমরা নির্দেশ পালন কর, তবে

চিত্রপঞ্চক - ১৪৩

সর্বমোট পাঁচটি ছবি। নিচের খুদে ছবিগুলোয় একের পর এক ক্লিক করুন। প্রক্সি ব্যবহারকারীদের জন্য সরাসরি লিংক:
http://imgur.com/a/iNH0T

'বিশ্বাস'-এর বিবিধ অর্থ

লিখেছেন ইত্তিলা ইতু

‘বিশ্বাস’ বড়ই অদ্ভুত একটি শব্দ। আসুন, ‘বিশ্বাস’ শব্দটি নিয়ে একটু নাড়াচাড়া করা যাক।

বিশ্বাস শব্দটি সেখানেই ব্যবহার করা হয়, যেখানে সন্দেহ থাকে। একটা উদাহরণ দিই: পূর্ণিমায় চাঁদ ওঠে, আমরা সেটা জানি, আমরা সেটা দেখি। তাই আমরা কখনো বলব না যে, আমি বিশ্বাস করি পূর্ণিমায় চাঁদ ওঠে। আবার ধরুন, আপনি ডাক্তারের কাছে গেলেন, আপনি জানেন না, ডাক্তার আপনার রোগ ভাল করতে পারবে কি না, আপনি জানেন না, সে আপনাকে ভুল চিকিৎসা দেবে কি না, কিন্তু আপনি বিশ্বাস করেন যে, ডাক্তার আপনাকে সঠিক চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করে তুলবে। ডাক্তারের চিকিৎসায় আপনি সুস্থ না-ও হতে পারেন । আবার আপনি পুরোপুরি সুস্থও হয়ে যেতে পারেন। আপনি যেহেতু জানেন না কী হবে, তাই আপনি বিশ্বাস করেন। এই অজ্ঞতা থেকেই বিশ্বাসের সৃষ্টি।

আদিম যুগের মানুষ জানত না অনেক কিছু, তারা জানত না কেন চাঁদ ওঠে, কেন সূর্য ওঠে, তাদের অজ্ঞতার কারণে তারা অনেক বিশ্বাস নিজেদের মধ্যে লালন করত। প্রাচীন গ্রিসের লোকেরা বিশ্বাস করত, পৃথিবী চালান দেবতারা, আর তাদের কর্তা হল জিউস, তিনি পৃথিবীতে পাঠান বিজলির ঝলক। প্রাচীন গ্রিক কাহিনীর মতোই পুরানো ভারতীয় মহাকাব্য রামায়ন আর মহাভারতের কাহিনীগুলো। এসব কাহিনীতে বলা হয়েছে, আকাশে বাস করেন দেবতা আর অসুররা। এই দেবতারা কেউ চালান সূর্যকে, কেউ সৃষ্টি করেন ঝড়-বৃষ্টি। কখনো দেবতা আর অসুরদের মধ্যে বেধে যায় দারুণ লড়াই।

কিন্তু কেবল বিশ্বাস নিয়ে বসে থাকলে তো হবে না, জীবিকার প্রয়োজনে এবং মানুষের নিরন্তর সহজাত কৌতূহলের তাগিদে গ্রহ-নক্ষত্র-তারা কেন হয়, কীভাবে হয়, এর উত্তর খুঁজতে থাকে। তারা অজানাকে জয় করতে থাকে। আর তারই ফল হল আজকের সভ্যতা। বিজ্ঞান প্রতি মুহূর্তে এগিয়ে চলছে। বিজ্ঞান এত দিন ধরে যা কিছু আবিস্কার করেছে, প্রতি ৮ বছরে তার দ্বিগুণ এগিয়ে যাচ্ছে। আদিম যুগে মানুষ অজানাকে বিশ্বাসের প্রলেপ দিয়ে ঢেকে দিত। আমরা পেছনের যুগ ফেলে মহাশূন্যের জগতে প্রবেশ করেছি বটে, কিন্তু আমাদের সমাজে এখনো শিক্ষার আলো, বিজ্ঞানের ছোঁয়া প্রবেশ করতে পারেনি বলে আমরা এখনো নিজেদের অজ্ঞতাকে বিশ্বাসের প্রলেপ দিয়ে ঢেকে রাখতে ভালবাসি। আর এই বিশ্বাসগুলো আমাদের অবচেতন মনে এমনভাবে গেঁথে গেছে যে, আমরা চোখ খুলে সত্যকে দেখতে চাই না।

‘সেটার নাম বিশ্বাস, কারণ সেটা জ্ঞান নয়’- ক্রিস্টোফার হিচেন্স।

বিশ্বাসের প্রয়োজন একেবারেই নেই, তা বলছি না। যেক্ষেত্রে আমাদের কিছুই করার নেই, সেক্ষেত্রে বিশ্বাসই আমাদের সম্বল। যেমন, ডাক্তারের ক্ষেত্রে। ডাক্তারের ওপর বিশ্বাস রাখলে রোগীর আরোগ্য লাভ ঘটে। আমি যেই কাজটা করব ভাবছি, কাজটিতে আমি সফল নাও হতে পারি। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি যে, আমি কাজটি সফলভাবে শেষ করব। এই বিশ্বাস আমাকে উৎসাহ যোগাবে কাজটি করতে। এই ক্ষেত্রে বিশ্বাসের দরকার আছে বটে। তবে মনে রাখতে হবে, এখানে বিশ্বাস অর্থ আস্থা বা কনফিডেন্স - ফেইথ বা অন্ধবিশ্বাস নয়।

কিন্তু পূর্বপুরষ বিশ্বাস করত, তাই সেই বিশ্বাস নিয়ে আমাকেও থাকতে হবে, তারা অজ্ঞ ছিল বলে আমাকেও চোখ বন্ধ করে অজ্ঞ থাকতে হবে, তাদের পথের অনুসারী হতে হবে, এমন বিশ্বাস ঠিক নয়। সত্যকে অস্বীকার করে যে-বিশ্বাসকে টিকিয়ে রাখতে হয়, সেই বিশ্বাস অপ্রয়োজনীয় বিশ্বাস। সেই বিশ্বাস আমাদের অজ্ঞ করবে, আমাদের পিছনের দিকে ঠেলে দেবে। আমাদেরকে অন্ধকারে রাখবে, এমন বিশ্বাস কি আমাদের আদৌ প্রয়োজন আছে?

গুপ্তকেশোৎপাটনাক্ষম দোয়া-মোনাজাত-প্রার্থনা


৩০ এপ্রিল, ২০১৬

লওহে মাহফুজের সন্ধানে: ক্যাটম্যান সিরিজ - ২০

লিখেছেন ক্যাটম্যান

মুক্তচিন্তা চর্চা, প্রচার ও প্রসারের কারণে ধর্মান্ধ মৌলবাদী জঙ্গীগোষ্ঠীর নৃশংস হামলার শিকার হুমায়ুন আজাদ, রাজিব হায়দার, অভিজিৎ রায়, ওয়াশিকুর রহমান বাবু, অনন্ত বিজয় দাশ, নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় নিলয়, ফয়সল আরেফিন দীপন ও নাজিমুদ্দিন সামাদ সহ নিহত ও আহত সকল মুক্তচিন্তকের স্মরণে এই লেখাটি অপরিমেয় ভালোবাসার স্মারক স্বরূপ নিবেদন করছি।


এবারে আসি সূরা আন্‘আমের ১০৩ নম্বর আয়াতের ‘দৃষ্টি’ বিষয়ক পর্যালোচনায়। উক্ত আয়াতে মুহম্মদ তার আত্মীকৃত ঈশ্বর ‘আল্লাহকে’ প্রত্যক্ষদর্শনের অসম্ভাব্যতা জ্ঞাপন করেছেন। আমরা জানি, কোনও কিছু দর্শন করার প্রধান মাধ্যম হলো চোখ। তবে শুধু চোখের উপস্থিতি দর্শনের শর্ত যথাযথভাবে পূরণ করে না। দর্শনের শর্ত পূরণের জন্য চোখে দৃষ্টিশক্তি থাকা বাঞ্ছনীয়। তাই যথাযথ দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন চোখের পক্ষেই কোনও দর্শনীয় বিষয়বস্তু যথাযথভাবে দর্শন করা সম্ভব। অথচ আল-কুরআনের উক্ত আয়াত অনুযায়ী, চোখ তো কোন ছার, যথাযথ দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন কোনও মানুষ অথবা প্রাণীই আল্লাহকে দর্শন করতে পারে না। কারণ আল্লাহর অস্তিত্ব সমস্ত দৃষ্টির অগোচরে অবস্থিত বিধায় দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন কোনও মানুষ অথবা প্রাণীর পক্ষে তাকে প্রত্যক্ষদর্শন করা দূরে থাক, তাকে কল্পনা বা অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে উপলব্ধি করাও সম্ভবপর নয়। উক্ত আয়াতের অনুবাদে আল-কুরআনের অধিকাংশ অনুবাদকগণ ‘দৃষ্টি’ বা ‘দৃষ্টিশক্তি’ শব্দ প্রয়োগ করেছেন। যদিও কিছু অনুবাদে ‘দৃষ্টি’ বা ‘দৃষ্টিশক্তি’ শব্দের পরিবর্তে ‘চোখ’ শব্দ প্রয়োগ করা হয়েছে। যেমন— “চোখ তাঁকে দেখতে পারে না, কিন্তু তিনি সব চোখ দেখতে পান।” এ বিষয়ে মৌলভি শের আলী’র ইংরেজি অনুবাদটি নিম্নরূপ: 
"Eyes cannot reach Him but He reaches the eyes. And He is the Incomprehensible, the All-Aware."

তবে ‘চোখ’ শব্দের তুলনায় ‘দৃষ্টি’ শব্দটি ব্যাপক অর্থবোধক হওয়ায় আল-কুরআনের সুবিধাবাদী অনুবাদক ও ব্যাখ্যাকারগণ উক্ত আয়াত অনুবাদ ও ব্যাখ্যার প্রশ্নে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ‘চোখ’ শব্দের পরিবর্তে ‘দৃষ্টি’ শব্দটি প্রয়োগ করেছেন। তাই তাদের ব্যাখ্যানুযায়ী মুহম্মদের আল্লাহকে চোখ দিয়ে দেখা দূরে থাক, দৃষ্টি অথবা অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে দেখার ক্ষমতাও কারও নেই। অথচ সেই দর্শনাতীত আল্লাহকে দর্শনীয় আল্লাহয় রূপান্তর করতে পূর্বোক্ত আয়াতের বিপরীতার্থক আয়াত মুহম্মদ তার প্রণীত আল-কুরআনে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। যেমন আল-কুরআনে বর্ণিত হয়েছে:
সেদিন কোন কোন মুখমণ্ডল উজ্জ্বল হইবে, তাহারা তাহাদের প্রতিপালকের দিকে তাকাইয়া থাকিবে। [সূরা কিয়ামাহ: ২২-২৩]”
উক্ত আয়াতে আমরা দেখতে পাচ্ছি, মুমিন বান্দাগণ পরকালে আল্লাহর দিকে তাকিয়ে থাকবে। এখানে তাকিয়ে থাকা বলতে চোখের সাহায্যে দেখার প্রক্রিয়াকে বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ মুুমিন বান্দাগণ স্বীয় চক্ষু দ্বারা আল্লাহকে দর্শন করবে এমন প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়েছে। তবে কোনো পাপীবান্দা পরকালে আল্লাহকে দর্শন করতে পারবে না, এমন কথাও আল-কুরআনে ব্যক্ত করা হয়েছে:
কখখনো নয়, নিশ্চিতভাবেই সেদিন তাদের রবের দর্শন থেকে বঞ্চিত রাখা হবে। [সূরা মুতাফফিফীন: ১৫]
উক্ত আয়াতে পাপীবান্দাগণকে আল্লাহর দর্শন থেকে বঞ্চিত রাখা হবে, এমন কথা বলার মাধ্যমে পরোক্ষভাবে শুধু পুণ্যবানগণ আল্লাহকে দর্শন করতে পারবে, এমন বিষয় নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে সূরা আন্‘আমের ১০৩ নম্বর আয়াতে বর্ণিত দর্শনাতীত আল্লাহকে সূরা কিয়ামাহ’র ২২ থেকে ২৩ নম্বর আয়াতে প্রত্যক্ষদর্শনের নিশ্চয়তা জ্ঞাপন করা হলেও এক্ষেত্রে নতুন একটি শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে। শর্তটি হলো, আল-কুরআনে বর্ণিত দর্শনাতীত আল্লাহকে ইহলৌকিক জীবনে কেউ দর্শন করতে না পারলেও পারলৌকিক জীবনে শুধু পুণ্যবানগণ তাকে দর্শন করার সুযোগ পাবে। এভাবে সূরা আন্‘আমের ১০৩ নম্বর আয়াতে বর্ণিত দর্শনাতীত অবস্থান হতে বিচ্যুত হয়ে সূরা কিয়ামাহ’র ২২ থেকে ২৩ নম্বর আয়াতে বর্ণিত দর্শনীয়তার পরিবর্তিত অবস্থান গ্রহণ করেছেন মুহম্মদের কল্পিত আল্লাহ। আর মৃত্যু পরবর্তী জীবন অর্থাৎ পারলৌকিক জীবনে জান্নাতবাসীগণ যে শুধুমাত্র নিজেদের সাধারণ চোখ দ্বারা আল্লাহকে দর্শন করবে, এই মর্মে স্বয়ং মুহম্মদ হাদিসে কুদসি বিবৃত করেছেন:
আল্লাহ্ তা’আলা বলিয়াছেন, “হে মূসা! তুমি কখনো আমাকে দেখিবে না। কোন জীবিত ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করা ব্যতীত আমাকে দেখিবে না। স্থলভাগের কোন অধিবাসী (আমাকে) দেখিবে না, যতক্ষণ উহাকে নীচে নিক্ষেপ করা না হয়। (অর্থাৎ তাহার মৃত্যু হয়)। জলভাগের কোন অধিবাসীও দেখিবে না, যে পর্যন্ত না তাহাকে বিচ্ছিন্ন করা হয় (অর্থাৎ মৃত্যু হয়)। নিশ্চয়ই আমাকে দেখিবে জান্নাতবাসিগণ— যাহাদের চক্ষু দৃষ্টিহীন করা হইবে না এবং যাহাদের শরীর জরাগ্রস্ত হইবে না।
হাকীম ও তিরমিযী ইহা ইবনে আব্বাস (রা)-এর সূত্রে সংগ্রহ করিয়াছেন।
হাদিস নং— ৩৩৭; আল্লামা মুহাম্মদ মাদানী: “হাদীসে কুদসী” (অনুবাদ— মোমতাজ উদ্দীন আহমদ), ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, ঢাকা, সেপ্টেম্বর ২০০৪ খৃ., পৃ. ২৮১
তবে উপর্যুক্ত হাদিসে কুদসির প্রথম বাক্য (আল্লাহ্ তা’আলা বলিয়াছেন, “হে মূসা! তুমি কখনো আমাকে দেখিবে না।) - এর সাথে হিব্রু বাইবেলের যাত্রাপুস্তকে বর্ণিত নিম্নলিখিত বাণীটির প্রথমাংশের যথেষ্ট মিল রয়েছে:
তিনি আরও বললেন, ‘তুমি কিন্তু আমার মুখমণ্ডল দেখতে পাবে না, কারণ কোন মানুষ আমাকে দেখলে জীবিত থাকতে পারে না। [যাত্রাপুস্তক ৩৩:২০]
কিন্তু উক্ত বাণীর দ্বিতীয়াংশ (কারণ কোন মানুষ আমাকে দেখলে জীবিত থাকতে পারে না।’ ) - এর সাথে বর্ণিত হাদিসে কুদসির দ্বিতীয় বাক্য (কোন জীবিত ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করা ব্যতীত আমাকে দেখিবে না।) - এর সামান্য পার্থক্য রয়েছে। অথবা বাক্য দু'টির মাঝে বিপ্রতীপ মিল বিদ্যমান। যেমন, বাইবেলের বাণীতে পরমেশ্বরকে দেখার পরে কোনো মানুষের মৃত্যুর নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে, আর হাদিসে কুদসির বাক্যটিতে কোনো মানুষের মৃত্যুর পরে আল্লাহকে দেখার নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে। অর্থাৎ এক্ষেত্রে বাইবেল ও হাদিসে কুদসির বর্ণনায় পার্থক্য যথাক্রমে ‘ঈশ্বরকে প্রত্যক্ষদর্শনের পরে মৃত্যুর নিশ্চয়তা’ এবং ‘মৃত্যুর পরে ঈশ্বরকে প্রত্যক্ষদর্শনের নিশ্চয়তা।’

(চলবে)

ধর্মীয় যুক্তির ধরন

ধর্মাতুল কৌতুকিম – ৭৫

২২১.
- নিজ দেশে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপ ফুটবল থেকে কাতার সবচেয়ে লাভবান হবে কোন দিক থেকে?
- বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেলে আলিশান স্টেডিয়ামগুলোয় বিপুল দর্শকের উপস্থিতিতে জাঁকজমকের সঙ্গে পাথর ছুঁড়ে নারীহত্যা উৎসবের আয়োজন করা সম্ভব হবে।

২২২.
- প্রার্থনা করার সময় ধর্মবিশ্বাসীরা হাঁটু গেড়ে বসে কেন?
- এই আসনে ব্লোজব দেয়া অত্যন্ত সুবিধেজনক বলে।

২২৩.
- বিজ্ঞান ও ধর্মের ভেতরে পার্থক্য কী?
- বিজ্ঞান সারাটা সময় উত্তর খোঁজায় নিয়োজিত, আর ধর্ম বহু আগেই মন-গড়া ও অপরিবর্তনীয় উত্তর বানিয়ে রেখেছে।

২২৪.
- শিশুদেরকে ঈশ্বর সম্পর্কে ধারণা দেয়ার উপায় কী?
- সবাইকে একটা ঘরে জড়ো করে সেখানে উপস্থিত না হওয়া।

২২৫.
- পাঁচ মিনিটে কোরান পড়ে ফেলা কি সম্ভব?
- সম্ভব, যদি সহিংস, নারীবিদ্বেষী, ঘৃণাপূর্ণ, মানবতাবিরোধী ও বারবার উল্লেখিত একই ধরনের আয়াতগুলো বাদ দেয়া হয়।

দ্বীনবানের দীন বাণী - ৩৭

ভিডিওসূত্র: https://youtu.be/pelwFkquzO0

২৯ এপ্রিল, ২০১৬

ভিডিও লিংকিন পার্ক

১. অনেক মেধাবী মানুষও ধর্ম ও ঈশ্বরে বিশ্বাস করে - এমন দাবির মাধ্যমে ধর্ম ও ঈশ্বরের সত্যতা ও প্রয়োজনীয়তা প্রমাণ করার চেষ্টা করে থাকে আস্তিকেরা। সেই দাবির ভিত্তিহীনতা ও সারশূন্যতা প্রকট করে তোলা হয়েছে একটি ভিডিওতে। আর ঠোঁটকাটা বিল মার তো এই দাবিকে শুধু নস্যাৎই করেননি, করে তুলেছেন হাস্যকরও। মেধাবী বিশ্বাসীদের তিনি ডেকেছেন smart stupid person নামে। অতীব উপভোগ্য ভিডিও। 
https://youtu.be/Y201QzDdzbg, https://youtu.be/ocv7F586SQU

২. বিবর্তনের প্রমাণ আছে আমাদের শরীরেই। যুক্তি-প্রমাণ না-মানা হাওয়ার পোলাদের জন্য এই ভিডিও দ্রষ্টব্য নয়।
https://youtu.be/rFxu7NEoKC8

৩. মমিনেরা যতোই দাবি করুক, জিহাদ সব সময়ই শান্তিপূর্ণ, কোরান, হাদিস, নবীর জীবনী ও ইছলামের ইতিহাস থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে সে কথাই সর্বৈব মিথ্যা প্রমাণ করেছেন মধ্যপ্রাচ্যে বেড়ে ওঠা আরবিভাষী নাস্তেক মহিলা।
https://youtu.be/KXGE2eBUdlQ

৪. ইহুদি শিশুবালকের খতনা করার অব্যবহিত পর র‍্যাবাই (ইহুদি মোল্লা) বালকের লিঙ্গ মুখে পুরে নিয়ে রক্ত চুষতে থাকে। এটাই তাদের রীতি ও ঐতিহ্য। খতনা ব্যাপারটাই বীভৎস, তদুপরি রক্তচোষার প্রথা! তো এই ড্রাকুলাগিরির নাকি বিশাল গুরুত্ব আছে! অন্তত ইহুদি মোল্লা সেটাই প্রমাণ করতে চাইছে।
https://youtu.be/g2Ij3l8qoxU

৫. Enlightenment-এর নামে বৌদ্ধধর্মে চলে যৌননিপীড়ন। ২১ মিনিটের ডকুমেন্টারি।
https://youtu.be/yWhIivvmMnk

৬. মসজিদগুলো উপাসনালয় শুধু নামেমাত্র। অধিকাংশ মসজিদের প্রধান কাজ বীভৎস ঘৃণা ও সহিংসতা প্রচার এবং জঙ্গি উৎপাদন। ব্রিটেনের মসজিদে গোপন ক্যামেরায় তোলা ভিডিও ব্যবহার করে নির্মিত একটি ডকুমেন্টারি Undercover Mosque প্রচারিত হয়েছিল ২০০৭ সালে। এরপর ২০০৮ সালে প্রচারিত হয়েছিল Undercover Mosque: The Return. দেখতে গেলে গায়ের রোম শিউরে ওঠে। বোঝাই যায়, এই ডকুমেন্টারিগুলো ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষকে সজাগ ও সতর্ক করতে পারেনি। 
https://youtu.be/kJk_AiK-4No, https://youtu.be/njRKaX0ORuI

হা-হা-হাদিস – ১৭২

কতো রসময় কথা গুপ্ত আছে হাদিসে!

... As for the resemblance of the child to its parents: If a man has sexual intercourse with his wife and gets discharge first, the child will resemble the father, and if the woman gets discharge first, the child will resemble her.

যৌনজ্বরাক্রান্ত ইসলাম

লিখেছেন শুভ্র আহমেদ

ইসলাম ধর্মে ক্রীতদাসীর সাথে সেক্স করা বৈধ। ক্রীতদাসী হইল কিনে আনা দাসী। আগের যুগে বাজারে দাস-দাসী বেচাকেনা হইত। দাসদের দিয়ে কামলা খাটাত আর দাসীদের সাথে সেক্স করত। অবশ্য এই প্রথা ইসলাম আনে নাই। ইসলামের আগেও ছিল, আরব ছাড়াও অন্য অঞ্চলেও ছিল। ইসলাম এই জিনিসটার স্বীকৃতি আর বৈধতা দিয়েছে মাত্র। এখন আইএস-এর হাত ধরে ক্রীতদাসী প্রথা আবার আসছে।

ক্রীতদাসীর সাথে সেক্স করতে হলে আপনার তাকে বিয়াও করতে হবে না। অনেক মুমিনেরই বক্তব্য - ক্রীতদাসীকে নাকি বিয়ে করতে হয়। ফিকহের বইগুলা বলে অন্য কথা। নিশ্চিত হবার জন্য ফিকহের উপর নন্দিত গ্রন্থ মালাবুদ্দা মিনহু (লেখক সানাউল্লাহ পানিপথী) দেখতে পারেন।

একজন পুরুষ কয়টা দাসী (দাসী মানেই যৌনদাসী) রাখতে পারবে, সে ব্যাপারে শান্তির ধর্মের কোনো বিধি-নিষেধ নাই। আপনি চাইলে হাজার জন, লক্ষ জন, কোটিজন রাখতে পারবেন। আল্লাহ আনলিমিটেড দাসী রাখার বৈধতা দিয়েছেন। 

ইসলাম ধর্মে যুদ্ধবন্দিনী ধর্ষণও বৈধ। মুসলিমরা অবশ্য ইসলামের ইমেজ ক্ষুণ্ণ হবার ডরে ধর্ষণ শব্দটি এড়িয়ে যান। কয়দিন আগে আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা হিপোক্রিসির বাইরে এসে সত্যটা বলে দিছিল, যেটা আমরা মিডিয়া মারফতে দেখেছি।

ধরেন, শফি হুজুর তার হেফাজতি কর্মীদের নিয়া বলিউড এটাক দিল। বলিউডের পতন হল। এখন সেখানকার নায়িকারা সব শফি হুজুর আর তার সৈন্যদের দাসী হয়ে যাবে। আর উপরেই বলেছি, ইসলামে দাসী সহবত হালাল। এখানে দাসী মানেই যৌনদাসী। তো এখন ধরেন, ক্যাটরিনা কাইফ শফি হুজুরের ভাগে পড়ল। আপনার কী মনে হয়, ক্যাটরিনা খুশি মনে হুজুরের লগে সেক্স করবে? নাকি পরিস্থিতি তাকে বাধ্য করবে? এইটা কি ধর্ষণ না? আপনার কমন সেন্স কী বলে?

পাক আর্মি আমাদের মেয়েদের উপর হামলে পড়েছিল কেন, গেস করতে পারলেন? প্রিয় নবী বনু কুরাইজার নারীদের দাসী বানিয়েছিলেন, ইসলামের ইতিহাসে এই ঘটনা স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে। (দেখুন সীরাতে খাতামুল আম্বিয়া- মাওলানা মুশতাক, বিশ্বনবী- গোলাম মোস্তফা)

ইসলামে শিশুকামিতাও বৈধ। এই কুসংস্কার থেকেও নবীজি বেরোতে পারেন নাই। আয়েশাকে যখন বিয়ে করেন, আয়েশা তখন ৬, যখন আয়েশাকে ঘরে আনেন, আয়েশা তখন ৯! অবশ্য জাকির নায়েকসহ আজকালকার অনেক ডিজিটাল মুমিনরা আয়েশার বয়স ১৪/১৬ ছিল বলে দাবি করেন। তবে তাঁরা এড়িয়ে যান যে, আয়েশার বয়স যাই থাউক, ইসলামে শিশুদের বিয়ে করিয়ে দেয়ার বৈধতা আছে। আর তাই সামনে পড়লে মুমিনরা এটা অস্বীকারও করেন না। অস্বীকার করার উপায়ও তাদের নাই। তাই এখন তারা আধুনিক পৃথিবীর আধুনিক তত্ত্বকে কাচকলা দেখায়ে বাল্যবিয়ে যে কতটা সায়েন্টিফিক, সেই উদ্ভট জিনিস প্রতিষ্ঠা করার ধান্দা করেন।

ইসলামে পুরুষের জন্য আনলিমিটেড বিয়েও বৈধ। ভ্রু কুঁচকায়েন না। কোরানে চার বিয়ে নির্দিষ্ট করে নাই। একসাথে চার স্ত্রীর বেশি রাখা রাখা নিষিদ্ধ করছে। তার মানে আপনি এখন রুমা, ঝুমা, নিমা, সুমারে বিয়া করলেন, তারপর আবার নিমা আর সুমারে তালাক দিয়া দীপা আর নিপারে বিয়া করতে পারবেন। তারপর এদের ভাল না লাগলে সব কয়টাকে তালাক দিয়া নীলা, শিলা, মিলা আর উর্মিলাকে বিয়া করতে পারবেন। ইসলামে তালাক নিরুৎসাহিত কিন্তু নিষিদ্ধ না। তালাক না দিলে ভাল, দিলে কোন সমস্যা নাই।

ইসলামে মু'তা বিয়েও বৈধ। এই মুতা বিয়ে হল হালাল পতিতাবৃত্তি। একজনকে আপনি টাকা দিয়ে এক সপ্তাহ বা দুই সপ্তাহের জন্য বিয়ে করতে পারবেন। চুক্তির সময় শেষ হলে বৌয়ের মেয়াদও শেষ। ইসলামে হিল্লা বিয়ে নামে আরেক অদ্ভুত প্রথাও আছে। এটা অবশ্য হানাফি মাজহাবের নীতি। স্বামী বৌরে তিন তালাক দিল। তারপর ভুল বুঝতে পারল, এখন বৌ ফেরত চায়। সে কী করবে? ইসলাম বলে, বৌকে একরাতের জন্য আরেক পুরুষের কাছে বিয়ে দাও। শুধু বিয়েতে হবে না, সেক্সও করতে হবে। তারপর ঐ লোক তালাক দিলে তখন তোমার বৌ নিতে পারবা। বড়ই মজার পদ্ধতি।

ইসলামে অজাচারও এক রকম বৈধ। নিজের চাচাতো, মামাতো, ফুপাতো, খালাতো ভাই-বোনের সাথে বিয়ে বৈধ। বর্বর আরবরা এতই সাম্প্রদায়িক ছিল যে, নিজের আত্মীয় ছাড়া আর কোথাও কন্যাদান করত না। সেই কুপ্রথা ইসলামের হাত ধরে ঢুকেছে বাংলায়।

ইসলামে পালক মেয়েকে বিয়ে করাও বৈধ। (সুবাহানাল্লা বলেন) আপনি একটা মেয়েকে পেলে-পুষে বড় করলেন। মেয়ে আপনাকে আব্বা ডাকে। মেয়ে সাবালিকা হলে তারে বৌ বানিয়ে ওগো ডাক শুনতে পারবেন। আবার পালক ছেলেও বড় হয়ে তার পালক মাকে বিয়ে করতে পারবে। দারুণ না?

তাহলে আমরা আজ জানলাম, ইসলামে ১) ক্রীতদাসীর সাথে সেক্স বৈধ, ২) যুদ্ধবন্দিনীকে ধর্ষণ বৈধ, ৩) আনলিমিটেড দাসীসম্ভোগ বৈধ, ৪) একসাথে চার বৌ রাখা বৈধ, ৫) পুরুষের আনলিমিটেড বিয়ে বৈধ, ৬) শিশুকামিতা বৈধ, ৭) পতিতাবৃত্তি (ওরফে মুতা বিয়ে) বৈধ, ৮) হিল্লা বিয়ে নামক কুপ্রথা বৈধ, ৯) অজাচার বৈধ, ১০) পালক মেয়ে বিয়েও বৈধ।

অথচ যৌনবিকৃতিকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া ধর্মের অনুসারীরা কিনা আমাদের গালি দেয়, "তোরা নাস্তিক হইছস ইচ্ছামত সেক্স করার জন্য!"

* প্রাসঙ্গিক আরেকটি রচনা: যৌনকেশ, অবাধ রমণীসঙ্গম ও নাস্তিককুল

গরুপূজারি গাধাগুলো - ১৪৮

২৮ এপ্রিল, ২০১৬

শেখ'স শপ - ০৬

লিখেছেন শেখ মিলন

১৬.
আমার এক মুসলিম বন্ধুর সাথে ফেসবুকীয় আলাপন:
আমি: কী করিস?
বন্ধু: চটি পড়ি। তুই?
আমি: গীতা পড়ি।
বন্ধু: তুই কি শালা মালাউন হয়ে গিয়েছিস?

১৭.
পাপ করে যদি মাফ পাওয়া যায়, তবে পাপ না করাই তো বোকামি। ধর্মবিশ্বাসীদের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা কি এ কারণেই বেশি?
(তওবা পাঠ, গঙ্গাস্নান, হজ্জ্ব, কাশিযাত্রা, যিশুকে রক্ষাকর্তা হিসেবে গ্রহণ প্রভৃতি করলে পাপমুক্তি হয়)

১৮.
এই দেখো দেশ ডিজিটাল হয়েছে।
তবু নিন্দুকেরা বলে কিনা, দেশ পিছিয়েছে।
এখন তো আর দেশে বছর বছর বন্যা হয় না,
বন্যার জলে গ্রামের পর গ্রাম, মাঠের পর মাঠ ভাসে না,
এখন মাসে মাসে রক্তগঙ্গা বয়ে যায়,
রক্তস্রোতে ভেসে যায় রাজপথ-ফুটপথ, ঘরের মেঝে...

বেদ্বীনবাণী - ৬৭


আজ কটি খুন হল?

বিএনপি-র শাসনামলে হুমায়ুন আজাদ রচিত নিচের কবিতাটি নজরে পড়লো বিকাশ মজুমদারের সৌজন্যে। এখনও তা কী ভীষণ সমসাময়িক! কী ভীষণ বাস্তব! ঘটনাক্রমে আজ হুমায়ুন আজাদ-এর জন্মদিন। 

আজ কটি খুন হল? মাত্র ৫২৫?
বেশ। আমি একটু বেশি ভাবি, ভেবেছিলাম ২,০২০;
তাহলে কমেছে খুন? বেশ। কটি নারী হয়েছে ধর্ষিতা?
মাত্র ৭৭০? বেশ; কী নাম তাদের? মনোয়ারা, মায়ারানী, গীতা,
আনোয়ারা, উর্মিলা? তাহলে ধর্ষণ কমেছে? পরিস্থিতি
এখন অনেক ভালো? আইনশৃঙ্খলার হয়েছে বিস্ময়কর উন্নতি?
কটি ছিনতাই হয়েছে আজ? বেশি নয়? ঢাকাতেই মাত্র ৮১৮?
বেশ, বেশ ভালো; আমি ভেবেছিলাম বুঝি ১০,০১২।
ততোটা হয় নি? বাসটাসট্রাক দুর্ঘটনায় মরেছে কজন?
মাত্র ১০টি বাস উলটে পরেছে খন্দে? এতো কম? আত্মীয়স্বজন
খুঁজছে লাশ? পাচ্ছে না? বেশ, না পাওয়াই ভালো।
লঞ্চ ডুবেছে ২খানি মাত্র? আবহাওয়া চমৎকার ছিলো? যাত্রীরা ঠাণ্ডা কালো
জল সাঁতরিয়ে ব্রজেন দাশের মতো নিশ্চয়ই উঠে গেছে পারে।
মাত্র ১,৫০০ লাশের জন্য ভাইবোন আত্মীয়রা হাহাকারে
নষ্ট করছে নদীর পারের স্নিগ্ধ নীরবতা? এ অন্যায়। কী দরকার বেঁচে?
কী সুখ বাঁচায়? ভালোই তো, আল্লার মাল আল্লা নিয়ে গেছে।
ক-শো কোটি খেয়েছে আমলারা? মাননীয় দরদী মন্ত্রীরা ক-শো
কোটি? ১০,০০০ কোটি নয়? বহু কম? বেশ, মাত্র ৬০০
কোটি? তাহলে চলবে কীভাবে গণতন্ত্র? এ কেমন কথা?
আপনি আচরি ধর্ম তারা অসৎ জনগণকে শেখাচ্ছে সততা?
হাজতে হৃদযন্ত্র থেমে গেছে কজনের? পুলিশ তাদের প্রহার না ক’রে
চুম্বন করছে? পুলিশের দৃঢ় আলিঙ্গনে, শৃঙ্গারে, পুলকের জ্বরে
ম’রে গেছে ১২৫ জন? তবু ভালো ৫২৫ জন নয়,
পুলিশের কী দোষ? ওদের দেহের অন্ত্রগুলো - বৃক্ক হৃৎপিণ্ড যকৃত হৃদয়
নিশ্চই রুগ্ন ছিলো; তবে মরে তারা ষড়যন্ত্র করে গেছে
রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে, যখন ওমরা করে পট্টি বেঁধে দেশে গণতন্ত্র এসেছে।
রংপুরে মঙ্গা চলছে? চলুক। মরছে? মরুক। পেঁয়াজের কেজি এখন ৪০?
এতো কম? এতো শস্তা? বেশ ভালো, হতে পারতো ১২০।
আমলারা ভালো আছে? মন্ত্রীরা? কাস্টমস? কালোবাজারিরা?
বেশ, তারা ভালো থাকলেই ভালো থাকব আমরা তুচ্ছ ভিখারিরা।
স্তব কর। কোনো কথা নয়। চুপ। গণতন্ত্র এসেছে, কথা অপরাধ,
মসজিদ তোল, পাড়ার মাইকে, টেলিভিশনে সম্প্রচার কর মৌলবাদ;
মানুষ মরুক, মঞ্জুরা ধর্ষিত হক, চলুক ছিনতাই; কী সুন্দর মেষে
পরিণত হয়ে সুখে আছি খালেদা আর গোলাম আজমের দেশে!

কবিতাটি তিনি যদি এখন লিখতেন, তাহলে তাতে ধারাবাহিক নাস্তিক হত্যার প্রসঙ্গও থাকতো নিশ্চয়ই এবং বদলে যেতো শেষ চরণটি।

নিত্য নবীরে স্মরি – ২৩৫

২৭ এপ্রিল, ২০১৬

ইছলাম ত্যাগের কারণসমূহ - ২৮

ব্রিটেনের কাউন্সিল অভ এক্স-মুসলিম নামের সংগঠনের উদ্যোগে #ExMuslimBecause নামে টুইটারে একটি প্রচারণা অত্যন্ত জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। প্রাক্তন মুছলিমরা উপস্থাপন করছে ইছলাম ত্যাগের বিবিধ কারণ। অতি দীর্ঘ ও ক্রমবর্ধমান এই কারণ-তালিকা থেকে কিছু সরস ও সিরিয়াস কারণ অনুবাদ করে প্রকাশ করা হচ্ছে ধারাবাহিকভাবে। এতে যুক্ত করা হচ্ছে/হবে ধর্মকারীর ঠিকানায় পাঠানো লেখা/ছবি/ভিডিওও।


AseDeliri: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ কোয়ান্টাম মেকানিক্স, আপেক্ষিক তত্ত্ব, ডারউইনীয় বিবর্তন... বিদ্যুৎ, এয়ার কন্ডিশনিং, গাড়ি, বিমান...

hamza: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ আমি salah al Fawzaan বা ibn baz-এর কথা শুনতে চাই না, যারা আমাকে বোঝাতে চেষ্টা করে যে, পৃথিবী স্থির।

Indebula: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ ইছলাম পুরুষদের শেখায় না বিকৃতকামীর মতো আচরণ না করতে, উল্টো আমাকে আমার পুরো শরীরটা ঢাকতে হয়, যাতে আমি নিজেকে রক্ষা করতে পারি ও শ্রদ্ধা অর্জন করতে পারি।

Dean: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ আমার কোনও বিশ্বাস-সিস্টেম নেই। শুধু শুধু বিশ্বাস আমি করি না। কোনও সিদ্ধান্ত টানার আগে আমার প্রয়োজন তথ্য, উপাত্ত ও প্রমাণ।

N: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ ইছলাম এগোয় বিদ্যমান জ্ঞানকে ধ্বংস করে। লাইব্রেরি, ভাস্কর্য, চিত্রকলা পুড়িয়ে দেয়। চরিত্রগতভাবেই ইছলাম হচ্ছে অজ্ঞানতা।

Parisa: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ একজন নারী হিসেবে আমি চাই না আমাকে ক্লোনের মতো দেখাক।

Atheist Genie: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ আমি যাকে ভালোবাসি, তার সঙ্গে থাকার অধিকার আমার নেই। প্রাকৃতিক, সহজাত ও নির্দোষ সম্পর্ক রাখার কারণে ইছলামে শাস্তির ব্যবস্থা আছে।

Ali Asif: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ ইছলাম অন্য ধর্মবিশ্বাসগুলোকে শ্রদ্ধা করে না। ইছলামের প্রবর্তক মক্কায় নিজ হাতে ভেঙেছে অসংখ্য মূর্তি, যেগুলো অন্য অনেকের কাছে প্রিয় ছিলো তাদের ঈশ্বর বলে।

nxor: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ আমি পরিণতমনস্ক মহিলা, ভ্রমণের সময় আমার মাহরামের প্রয়োজন নেই। অথবা আমার শরীর নিয়ে আমার কী করা উচিত, আমার চাই না সেটা স্থির করে দিক আমার সমাজ।

Brother Rachid: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ ইছলাম সব সুন্দরের বিরুদ্ধে: সঙ্গীত, চিত্রকলা (ক্যালিগ্রাফি ছাড়া), ভাস্কর্য... সবই ইছলামে হারাম!

সমকামীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ইছলামের সম্ভাব্য ভূমিকা

ছহীহ্ ইছলামী পর্নসমগ্র - ১

বাসর রাতের করণীয়-বর্জনীয়: উত্তর দিয়েছেন মাউলানা মিরাজ রহমান

পাঠিয়েছেন নাস্তিক বাংলাদেশ 

নির্বাচিত কয়েকটি প্রশ্নোত্তর অবিকৃত অবস্থায় নিচে প্রকাশ করা হলো। বাকিগুলো পড়ুন এখানে ক্লিক করে। লিংক কাজ না করলে এখানে স্ক্রিনশট

প্রশ্ন : বাসর ঘরে ঢুকে নামায ও দোয়া পড়ার পর আর কোন আমল আছে কি না?

উত্তর : বিভিন্ন ইসলামী কিতাবে বাসরঘরে ঢুকে উপরোক্ত আমলগুলো করতে বলা হয়েছে। এরপর স্বামী-স্ত্রী নিজেদের মত নিজেরা পরিচিত হতে থাকবে। তবে প্রথমে স্বামী মহর বিষয়ক আলোচনা করে নিবে। তা পূর্ণ আদায় না করে থাকলে স্ত্রী থেকে সময় চেয়ে নিবে। (সূত্র- আহকামুল ইসলাম)

প্রশ্ন : সংগম শুরু করার পূর্বে সর্বপ্রথম কি করতে হবে?

উত্তর : সংগম শুরু করার পূর্বে সর্ব প্রথম নিয়ত সহীহ করে নেয়া; অর্থাৎ, এই নিয়ত করা যে, এই হালাল পন্থায় যৌন চাহিদা পূর্ণ করার দ্বারা হারামে পতিত হওয়া থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে, তৃপ্তি লাভ হবে এবং তার দ্বারা কষ্ট সহিষ্ণু হওয়া যাবে, ছওয়াব হাছেল হবে এবং সন্তান লাভ হবে। (দেখুন- আহকামে জিন্দেগী, আহকামুল ইসলাম)

প্রশ্ন : সংগমের শুরুতে কোন দোয়া পড়তে হবে?

উত্তর : সংগমের শুরুতে বিসমিল্লাহ বলে কার্য শুরু করা। তারপর শয়তান থেকে পানাহ চাওয়া। উভয়টিকে একত্রে এভাবে বলা যায়- বাংলা উচ্চারণ : বিসমিল্লাহি আল্লাহুম্মা জান্নিবনাশ শাইতানা ওয়া জান্নিবিশ শাইতানা মা রাযাকতানা। অর্থ : আমি আল্লাহর নাম নিয়ে এই কাজ আরম্ভ করছি। হে আল্লাহ, শয়তানকে আমাদের থেকে দূরে রাখ এবং যে সন্তান তুমি আমাদের দান করবে তার থেকেও শয়তানকে দূরে রাখ। (দেখুন- আহকামে জিন্দেগী)

প্রশ্ন : সংগমের বিশেষ কিছু আদব ও বিধি-নিষেধ জানতে চাই?

উত্তর : সংগমের কিছু আদব ও নিয়ম নিন্মরূপ- কোন শিশু বা পশুর সামনে সংগমে রত না হওয়া, পর্দা ঘেরা স্থানে সংগম করা, সংগম শুরু করার পূর্বে শৃঙ্গার (চুম্বন, স্তন মর্দন ইত্যাদি) করবে। বীর্য, যৌনাঙ্গের রস ইত্যাদি মোছার জন্য এক টুকরা কাপড় রাখা, সংগম অবস্থায় বেশী কথা না বলা, বীর্যের ও স্ত্রীর যৌনাঙ্গের প্রতি দৃষ্টি না করা, সংগম শেষে পেশাব করে নেয়া, এক সংগমের পর পুনর্বার সংগমে লিপ্ত হতে চাইলে যৌনাঙ্গ এবং হাত ধুয়ে নিতে হবে, বীর্যপাতের পরই স্বামীর নেমে না যাওয়া বরং স্ত্রীর উপর অপেক্ষা করা, যেন স্ত্রীও তার খাহেশ পূর্ণ মাত্রায় মিটিয়ে নিতে পারে, সংগমের পর অন্ততঃ বিছুক্ষণ ঘুমানো উত্তম, জুমুআর দিনে সংগম করা মুস্তাহাব, সংগমের বিষয় কারও নিকট প্রকাশ করা নেষেধ, এটা একদিকে নির্লজ্জতা, অন্যদিকে স্বামী/স্ত্রীর হক নষ্ট করা, সংগম অবস্থায় স্ত্রী-যোনীর দিকে নজর না দেয়া, তবে হযরত ইবনে ওমর (রা.) সংগম, অবস্থায় স্ত্রী-যোনীর দিকে দৃষ্টি দয়া উত্তেজনা বৃদ্ধির সহায়ক বিধায় এটাকে উত্তম বলতেন। (দেখুন- আহকামে জিন্দেগী)

প্রশ্ন : কোন কোন অবস্থায় স্ত্রীর সাথে সংগম করা যাবে না?

উত্তর : নিম্নোক্ত অবস্থায় স্ত্রীর সাথে সংগম করা যাবে না। স্ত্রীর মাসিক বা প্রসবকালীন স্রাব চলা কালে। এতেকাফ অবস্থায়। রোজার দিনের বেলায়। এহরাম অবস্থায়। স্ত্রীর পিছনের রাস্তা দ্বারা। (দেখুন- স্বামী-স্ত্রীর মধুর মিলন, আহকামে জিন্দেগী)

প্রশ্ন : সংগম অবস্থায় স্ত্রীর যোনীর দিকে নজর দেয়া যাবে কি না

উত্তর : সংগম অবস্থায় স্ত্রী-যোনীর দিকে নজর না দেয়া। তবে হযরত ইবনে ওমর (রা.) সংগম, অবস্থায় স্ত্রী-যোনীর দিকে দৃষ্টি দয়া উত্তেজনা বৃদ্ধির সহায়ক বিধায় এটাকে উত্তম বলতেন। (সূত্র - শরহুন নুকায়া ও হিদায়া)

প্রশ্ন : বীর্যপাতের সময় কোন দোয়া পড়বে?

উত্তর : বীর্যপাতের সময় নিম্নোক্ত দুআটি পড়বে- বাংলা উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা লা তাজআল লিশ্শাইতানি ফিমা রাযাকতানী নাসীবান। অর্থ : হে আল্লাহ, যে সন্তান তুমি আমাদেরকে দান করবে তার মধ্যে শয়তানের কোন অংশ রেখ না। (দেখুন- আহকামে জিন্দেগী)

প্রশ্ন : সংগম অবস্থায় স্ত্রীর যোনী স্বামী চোষতে পারবে কি না? এবং স্বামীর লিঙ্গ স্ত্রী চোষতে পারবে কি না?

উত্তর : সংগম অবস্থায় স্বামী স্ত্রী একে অপরের লজ্জাস্থানকে চোষা এবং মুখে নেওয়া সম্পূর্ণ নিষেধ, এবং মাকরুহ ও গুনাহের কাজ। এটা কুকুর, গরু, বকরী ইত্যাদি প্রানীর স্বভাবের মত। তাই এ কাজ থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে। চিন্তা করে দেখুন যে মুখে পবিত্র কালিীমা পড়া হল, কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করা হয়, দরুদ শরীফ পড়া হয়, তাকে এমন নিকৃষ্ট কজে ব্যবহার করতে মন কিভাবে চায়। তাই এ কাজ মুমিনের কাজ হতে পারে না। (দেখুন- ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া ও ফাতাওয়ায়ে রহীমিয়া, আহকামে জিন্দেগী)

ঘৃণা যখন সুশ্রাব্য

২৬ এপ্রিল, ২০১৬

সংখ্যালঘু ভোটব্যাংক

লিখেছেন নাস্তিক ফিনিক্স

পশ্চিমবঙ্গে (ভারত) এখন ভোটের মরসুম। সন্ত্রাস ও নানাবিধ কারণে এখানে প্রায় দেড় মাস ধরে ভোট চলে। যদিও কে জিতবে, সেটা নির্ভর করে ২৭% সংখ্যালঘু (!) মুসলিমদের হাতে। মুসলিম ভোট যার দিকে, সেই জেতে। এমনকি বিরোধীদের পালে হাওয়া তখনই লাগে, যখন সংখ্যালঘু ভোট তাদের দিকে যেতে শুরু করে। 

রাজনীতিতে কিভাবে মুসলিম ভোট প্রভাব ফেলে সেটা একটু বলবো। এক দীর্ঘস্থায়ী সরকার ছিল, সেই সরকার শেষ বেলায় ভোটের আগে মুখ ফসকে একটি সত্যি কথা বলে ফেলেছিল, "বর্ডার সংলগ্ন এলাকার মাদ্রাসাগুলো বাংলাদেশী জামাতের আখড়া হয়ে গেছে, এগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" কিন্তু ব্যবস্থাও কিছু হলো না, উপরন্তু পরের নির্বাচনে বর্ডার সংলগ্ন সমস্ত বিধানসভা বিপুল ভোটে হেরে গেল। 

আরও একটু বলবো। বর্তমান সরকারের মুখ্যমন্ত্রী 'Islamic Studies' এ এম.এ। তিনি ভোটের আগে চলে গেলেন ভারতীয় একটি মডারেট জামাতি দলের সভায়। সেই মডারেট জামাতি দলের নেতা হলেন বাংলাদেশি জামাতের শিরদাঁড়া। Military Intelligence-এর ভাষায় যাকে বলে Local Support. এবার ব্যাখ্যা করবো 'ভোটব্যাংক' এর অর্থটা।

* পশ্চিমবঙ্গে অধিকাংশ মুসলিমই স্কুলের মুখ দেখেনি, দেখেছে মাদ্রাসার, তাই ইমাম কি হুকুম শর আঁখো পর। আর এই ইমাম সাহেবগুলিকে আগের রাজনৈতিক দল কিনে নিত। এখনকার সরকার 'ইমাম ভাতা' শুরু করেছে সরকারিভাবে। এই প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের এক মুক্তমনা মিরাতুন নাহার বলেছেন, 'ইমাম ভাতা লাগানো হয়েছে, মসজিদের মাইক কিনতে, কোনো উন্নয়নশীল কাজে নয়।'

* সাধারণ জ্ঞান ও শিক্ষার অভাবের জন্য অধিকাংশ মুসলিমই বাছবিচার করে ভোট দেয় না। যারা তাদের পেছনে তৈলমর্দন করবে, ভোট তাদেরই দেবে।

* ভারতের সংবিধান অনুযায়ী কোনও মৌলবাদী দল নির্বাচনে লড়তে পারবে না। এই নির্দেশকে কার্যত বূড়ো আঙুল দেখিয়ে সমস্ত মৌলবাদী দল নির্দেশিকা জারি করে যে কোন দলকে ভোট দেবেন।

পশ্চিমবঙ্গেও ব্যতিক্রম নেই। ফুরফুরা শরীফের পীরজাদা তাই ধর্মসভার নামে এক প্রকার রাজনৈতিক সভা করে বলে দিয়েছেন কোন দলকে ভোট দিতে হবে।

শেষ করবো একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা দিয়ে। একটি Press Club-এর সদস্য হওয়ার দরুন এই ভোটের আগেই পশ্চিমবঙ্গের বিখ্যাত এক সংবাদমাধ্যমের এক সাংবাদিক দাদার সাথে এক গোপন ডেরাতে যাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছিল, যে ডেরা থেকে ভোটের বাহুবলীরা অস্ত্রশস্ত্র কেনে।

ডেরাটি একটি বড় মফস্বলের মসজিদ। আর কিছু বলতে হবে?

পুনশ্চ: পশ্চিমবঙ্গে হিন্দু মুসলিম বাদ দিয়ে আরো ৩% মানুষ আছে অন্য ধর্মের। কিন্তু স্বাধীনতার এত বছর পরেও তাদের নিয়ে 'ভোট ব্যাংক' বানানো গেল না। কোনও রাজনৈতিক দলই পারলো না। অথচ এই সব রাজনৈতিক দলগুলোই বলে, "২%-৩% ভোট সব কিছু উলটে-পালটে দিতে পারে।"

লিন্ডসে লোহানের বুক জুড়ে আল্লাহর নাম

"লিন্ডসে লোহানের বুক জুড়ে আল্লাহর নাম" - সেই ২০১১ সালে ধর্মকারী এই মর্মে সচিত্র ও স-প্রমাণ ঘোষণা দিয়েছিল। তাই তাঁর ইছলামের শায়াতলে আগমনের সম্ভাবনায় বিস্মিত হবার মতো কোনও উপকরণ একেবারেই নেই।

ছবিটি পাঠিয়েছিলেন শয়তানের চ্যালা, তবে সেটা একটু আপডেট করে দিয়েছিলেন কৌস্তুভ

ইসলাম মেধাবীদের রক্ত চায়

লিখেছেন রহমান পৃথু

মুসলমানারা মেধাবীদের রক্ত চায়। মেধার প্রকাশ দেখলে মুসলমানরা ক্ষেপে যায়, তাকে মেরে ফেলে। যে ভাল লিখতে পারে, চিন্তা করতে পারে, যারা অভিজিৎ হতে চায়, তারা ইসলামের শত্রু।

মুসলমানরা মনে করে, সব জ্ঞান কুরানসম্মত হতে হবে। কুরান সব জ্ঞানের মাপকাঠি। যে তার বাইরে চর্চা করবে, সে বাঁচতে পারবে না। মেধার সাথে ইসলামের শত্রুতা আজন্ম।

যিনি ভালো অংক জানেন, জ্যোতির্বিজ্ঞান জানেন, রসায়ন, পদার্থ বিজ্ঞান... ভাল গান, বাজনা, নাচ পারেন, ছবি ভাল আঁকতে জানেন, মূর্তি গড়তে জানেন... এ চর্চা করতে পারবেন না। মরবেন। কারণ কুরানে নেই। 

শিক্ষা-জ্ঞান-মেধা-বুদ্ধি-বিবেক মানুষকে সভ্য বানায়। এর মাধ্যমে সভ্যতা তৈরি হয়। যারা এসবের চর্চা করে - তাঁরা মানুষের মধ্যে সেরা হয় ... আর যারা চর্চা করে না ... তাঁরা সেরাদের অনুগ্রহ, দয়া ও সাহায্যে বেঁচে থাকে।

মুসলমানরা মেধাবী ও সভ্যদের কাছে কী চায়? মেধাবীদের তৈরি গাড়ি, উড়োজাহাজ, কম্পিউটার, প্রযুক্তি, ভাল জুতো, লিপস্টিক, ব্রা, অস্ত্র ... টাকা চায়। চিকিৎসা চায়, ঔষধ চায়, খাবার চায়, সেবা চায়, চাকুরি চায়। অনুগ্রহ চায়, আশ্রয় চায়।

কিন্তু মুসলমানরা মেধাবীদের কাছে জ্ঞান চায় না। মেধা চায় না। বিবেক চায় না। বুদ্ধি চায় না। মানবতার শিক্ষা চায় না। পশ্চিমা সভ্যদের জীবনবোধ, মানবিক মূল্যবোধ, বিচারবোধ, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সমাজ, প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কাঠামো চায় না।

শুধু মেধাবীদের রক্ত চায়।

উল্লেখ্য, মুহাম্মদ নিজে কবি, সাহিত্যিক, জ্ঞানী গুণীদের রক্ত নিয়েছেন। যে কারণে আরবে কোনো শিল্প-সাহিত্য-শিক্ষার প্রসার হয়নি। একটি সময় দু'-এক জন যা হয়েছে্ - ইসলামের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে - গ্রীক রোমানদের অনুবাদ করা বই পড়ে।

আল্লার রচিত কুরানের চেয়ে ভালো, শ্রেষ্ঠ কোনো গ্রন্থ কেউ লিখুক - মুহাম্মদ তাঁর জীবদ্দশায় সহ্য করেননি। ভালো চিকিৎসকদের তিনি জাদুকর আখ্যা দিয়ে মেরে ফেলতেন। এমনকি সুদর্শন রঙিন পোশাক পরা কাউকে দেখলেও তিনি তাকে নাজেহাল করেতেন। ... হাদিসের কথা।

দুর্ভাগ্য - তিনি মারা গেছেন চিকিৎসার অভাবে। মানুষ তাঁকে আল্লাহ্‌র নবী হিসাবে সন্দেহ না করুক, তাই তাঁকে বিষ খাওয়ানোর পরও - এই ভয়ে - মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি চিকিৎসকের শরণা্পন্ন হননি। ফেরেস্তারা তাঁর চিকিৎসা করেন।... ফলে অকালে তিনি মারা যান।

দেশ এখন ইছলামের শায়াতলে


২৫ এপ্রিল, ২০১৬

যিশুর অস্তিত্বসংকট

যিশু নামের কেউ কখনও ছিলো এই ধরাধামে, এর কোনও প্রমাণ কোথাও পাওয়া যায় না। শুধু বাইবেলে তার নাম উল্লেখ আছে। অর্থাৎ "তার অস্তিত্ব ছিলো, কারণ তা বলা আছে বাইবেলে।"

পূর্ণাকারে দেখতে ছবির ওপরে ক্লিক করতে হবে