১৬ জানু, ২০১৭

ফাদাক - ৩: গণিমতের উত্তরাধিকার - যুক্তি ও প্রমাণ প্রত্যাখ্যান!: কুরানে বিগ্যান (পর্ব-১৫৫): ত্রাস, হত্যা ও হামলার আদেশ – একশত ঊনত্রিশ

লিখেছেন গোলাপ

(আগের পর্বগুলোর সূচী এখানে)


"যে মুহাম্মদ (সাঃ) কে জানে সে ইসলাম জানে, যে তাঁকে জানে না সে ইসলাম জানে না।"

স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর মৃত্যুর অব্যবহিত পরেই তাঁর প্রিয় অনুসারী আবু বকর ইবনে কুহাফা কী অজুহাতে তাঁর রেখে যাওয়া সম্পত্তির উত্তরাধিকার থেকে নবী কন্যা ফাতিমা ও তাঁর অন্যান্য পরিবার সদস্যদের বঞ্চিত করেছিলেন; কী কারণে আলী ইবনে আবু তালিব মুহাম্মদের মৃত্যুর পর থেকে শুরু করে ফাতিমার মৃত্যুকাল পর্যন্ত আবু বকরের বশ্যতা স্বীকার করেননি; ফাতিমার মৃত্যুর পর কীভাবে তিনি তার মৃত স্ত্রীর নামাজে জানাজা ও দাফনকার্য সম্পন্ন করেছিলেন; কী পরিস্থিতিতে তিনি আবু বকরের বশ্যতা স্বীকার করেছিলেন; ইত্যাদি বিষয়ের আলোচনা আগের পর্বে (পর্ব-১৫৪) করা হয়েছে।

ইসলামের ইতিহাসে মুহাম্মদ ইবনে সা'দ (৭৮৪-৮৪৫ খৃষ্টাব্দ) এক অত্যন্ত বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। মুহাম্মদ ইবনে ইশাক (৭০৪-৭৬৮ খৃষ্টাব্দ), আল-ওয়াকিদি (৭৪৮-৮২২ খৃষ্টাব্দ) ও আল-তাবারী (৮৩৮-৯২৩ খৃষ্টাব্দ) ছাড়াও মুহাম্মদের মৃত্যু পরবর্তী ২৯০ বছরের মধ্যে আর যে বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিক মুহাম্মদের পূর্ণাঙ্গ 'সিরাত ও মাগাজি' গ্রন্থ রচনা করেছেন, তিনি ছিলেন এই মুহাম্মদ ইবনে সা'দ (Muhammad Ibn Sa’d)। মুহাম্মদের রেখে যাওয়া লুটের মালের (গণিমত) উত্তরাধিকার প্রশ্নে ফাতিমা ও আবু বকরের বিরোধ প্রসঙ্গে তিনি যে অতিরিক্ত তথ্যটি বর্ণনা করেছেন, তা হলো এই:

মুহাম্মদ ইবনে সা'দের (৭৮৪-৮৪৫ সাল) অতিরিক্ত বর্ণনা: [1]

আফফান ইবনে মুসলিম আমাদেরকে জানিয়েছেন (তিনি বলেছেন): হামমাদ ইবনে সালামাহ আমাদের অবগত করিয়েছেন (তিনি বলেছেন): উম্মে হানির [মুহাম্মদের চাচাতো বোন, আবু তালিবের কন্যা] কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আল কালবি আমাকে যা বলেছেন, তা হলো:

'নিশ্চিতই আবু বকরকে ফাতিমা জিজ্ঞাসা করেছিল, "আপনি যখন মৃত্যুবরণ করবেন, কারা আপনার সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হবে?" জবাবে তিনি বলেন, "আমার সন্তান ও আত্মীয়-স্বজনরা?"

সে বলে, "নবীর সম্পত্তির উত্তরাধিকার থেকে আমাদের বঞ্চিত করার ব্যাপারে আপনার যৌক্তিকতা কী?" তিনি জবাবে বলেন, "হে আল্লাহর নবীর কন্যা! আমি তোমার পিতার জমি, সোনা, রূপা, দাস-দাসী বা সম্পত্তি উত্তরাধিকারসূত্রে লাভ করিনি।"

সে বলে, "আমাদের জন্য বরাদ্দকৃত আল্লাহর অংশ (খুমুস, অর্থাৎ এক-পঞ্চমাংশ [কুরান-৮:৪১]) ও আমাদের একান্ত অংশ আপনার কব্জায় আছে।" তৎক্ষণাৎ তিনি জবাবে বলেন, "আমি আল্লাহর নবীকে (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) বলতে শুনেছি, "যা আল্লাহ আমাকে খাওয়ান, তা হলো খাদ্য। যখন আমার মৃত্যু হবে, এগুলো মুসলমানদের মধ্যে বিতরণ করতে হবে।"'------

মুহাম্মদ ইবনে উমর আমাদের জানিয়েছেন: নিজ পিতার কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে যায়েদ ইবনে আসলাম হইতে বর্ণিত তথ্যের ভিত্তিতে হিশাম ইবনে সা'দ আমাকে যা অবহিত করিয়েছেন, তা হলো:

'আমি উমরকে বলতে শুনেছি, "যেদিন আল্লাহর নবী (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) মৃত্যুবরণ করেন, আবু বকরের প্রতি আনুগত্যের শপথ ('bayah') প্রদান করা হয়। তার পরদিন আলী-কে সঙ্গে নিয়ে ফাতিমা আবু বকরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। সে বলে, "আমার পিতা আল্লাহর নবীর (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) সম্পত্তির হিস্যা উত্তরাধিকার সূত্রে আমার প্রাপ্য।" 

আবু বকর জিজ্ঞাসা করেন, "গৃহস্থালি জিনিসপত্র, নাকি ভূ-সম্পত্তি?" সে বলে, "আমি তাঁর ফাদাক, খায়বার ও মদিনার সাদাকা সম্পত্তির উত্তরাধিকারী, যেমন করে আপনার মৃত্যুর পর আপনার সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হবেন আপনার কন্যারা।"  

আবু বকর বলেন, "আল্লাহর কসম! তোমার পিতা আমার চেয়ে ও তুমি আমার কন্যাদের চেয়ে উত্তম, কিন্তু আল্লাহর নবী বলেছেন: আমরা কোনো উত্তরাধিকারী রেখে যাই না, যা আমরা রেখে যাই, তা হলো সাদাকা", অর্থাৎ, এই মহা মূল্যবান সম্পত্তি (precious property) যার সম্বন্ধে তুমি জানো। যদি তুমি বলো যে, এটি তোমার পিতা তোমাকে প্রদান করেছেন, আল্লাহর কসম! আমি তোমার সে কথা মেনে নেবো ও তোমার কথাকে সত্য বলে নিশ্চিত করবো।"

সে বলে, "উম্মে আয়মান (Umm Ayman) আমার কাছে এসে আমাকে অবগত করিয়েছে যে তিনি 'ফাদাক' আমাকে দান করেছেন।"

তিনি জিজ্ঞাসা করেন, "তুমি কি তাঁকে (নবীর) তা বলতে শুনেছো, 'এটি তোমার জন্য?' আমি তোমাকে বিশ্বাস করবো ও তোমার বিবৃতি গ্রহণ করবো।" সে বলে, "আমার যা (প্রমাণ), তা আমি আপনাকে অবগত করিয়েছি।" ---

ধারণার ধরন

আলু-শশা, এ কী দশা!

১.
পাছার ফুটোয় আলু আটকে যাওয়া অবস্থায় এক খ্রিষ্টান ধর্মযাজক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। নার্সকে সে বলেছে, জানালায় পর্দা ঝোলানোর সময় সে হঠাৎ করে পড়ে যায় রান্নাঘরের টেবিলে রাখা একটি আলুর ওপরে এবং সেটি সেঁধিয়ে যায় তার পশ্চাদ্দেশে। আরও একটি জরুরি তথ্য সে জানায়: ঘটনার সময় সে ছিলো নগ্ন।

সেই নার্স পরে বলেছেন, ধর্মযাজকের বর্ণিত কাহিনীর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা তাঁর দায়িত্বের ভেতরে পড়ে না। তবে তিনি যৌনক্রীড়াসক্ত সকলকে উপদেশ দিয়ে বলেছেন, এমন খেলায় মগ্ন হবার আগে আরও ভালো করে ভেবে দেখা উচিত।

২.
তুরস্কের এক ইমামকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল। কারণ রক্তপাত হচ্ছিলো তার মলদ্বার দিয়ে। পরীক্ষা করে তার পাছার ফুটোর ভেতরে শশা খুঁজে পায় ডাক্তাররা। দুঃখের বিষয়, এ বিষয়ে ইমাম কোনও কৈফিয়ত দাখিল করেছিল কি না, জানা যায়নি।

প্রতিশোধ

১৫ জানু, ২০১৭

একটি বিশেষ আমন্ত্রণ

(পাঁচ বছর আগে প্রকাশিত এই লেখাটি আজও প্রাসঙ্গিক)

লিখেছেন মালা আলম

একটি বিশেষ আমন্ত্রণ: সুবর্ণ সু্যোগ (সীমিত সময়ের জন্য) 

আপনি কি…. 

১. লালায়িত? হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীষ্টান বা অন্য কোনো অমুসলিম ব্যক্তির (আরবীতে এক কথায় কাফির) সম্পত্তি (জায়গা/জমি, বাড়ি/গাড়ি বা যেকোন স্থাবর/অস্থাবর সম্পত্তি) আপনার চাই? কিন্তু তার জন্য পয়সা খরচ করতে চান না? 

২. ধ্বংসকামী? ভাঙতে পছন্দ করেন? জানতে চান গাড়ি বাড়ি ভাঙতে, বা আগুন লাগাতে কেমন লাগে? 

৩. বিকৃতকামী? ধর্ষণ বা গণধর্ষণ করতে চান? অথবা আরও কিছু বেশি? যেমন দুই বোনকে ধর্ষণ, মা এবং মেয়েকে ধর্ষণ, স্বামীর সামনে স্ত্রীকে, বাবার সামনে মেয়েকে, ভাইয়ের সামনে বোনকে ধর্ষণ...অথবা ধর্ষণের পর হত্যা? 

৪. পাশবিক? মানুষ মেরে দেখতে চান কেমন লাগে? মানুষ জবাই করতে চান? পিটিয়ে মারতে চান? ছেলের সামনে বাবাকে, বাবার সামনে শিশুকে? জীবন্ত মানুষের পশ্চাৎদেশ দিয়ে বাঁশ ঢুকিয়ে দেখতে চান? আছড়ে মেরে দেখতে চান এক মাসের বাচ্চা কত দ্রুত মরে? পুরো পরিবারকে জীবন্ত অগ্নিদগ্ধ করতে চান? 

কিন্তু আইনের ভয়ে কিছু করতে পারেন না???

তাহলে আজই আমাদের সাথে যোগ দিন! আমরা ওপরে উল্লেখিত সব কিছুই করতে পারি এবং আমরা সম্পূর্ণ নিরাপদ। আমরা আইনের ঊর্ধ্বে। আমাদের বিরুদ্ধে কেউ কিছু করে না। কারণ আমরা উগ্রপন্থী মুসলমান। 

ভাবছেন কীভাবে? একেবারে সহজ। আমরা বিশ্বের যে কোনো দেশের ইসলাম, মুসলিম, আল্লাহ, নবী বা কোরান বিষয়ক সমালোচনা, অপমান, বিদ্রূপ, কৌতুক ইত্যাদির খবর অথবা কাল্পনিক খবরকে ব্যবহার করি। অতিরিক্ত সাবধানতা স্বরূপ আমরা পর্যাপ্ত পরিমাণ কোরান এবং হাদিসের ব্যাখ্যা ব্যবহার করে আমাদের কার্যক্রমের যুক্তি উত্থাপন করি, যাতে করে যে কোনো সন্দিহান মুসলমানও আমাদের কাজকে সহজে অসমর্থন করতে পারে না। যার ফলে ৯৯% মুসলমান আমাদের বিপক্ষে কিছু বলে বা করে না। বাকী ০.৯৯% হালকা সমালোচনা করে যা আপনি সহজেই অগ্রাহ্য করতে পারেন। বাকী ০.০১% হয়তো একটু সক্রিয় প্রতিবাদ করার চেষ্টা করে, কিন্তু আমরা তাদেরকে পাল্টা মুরতাদ ঘোষণা করি। আর কাফিরদের কথা শোনা তো সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয়! (কোরবানীর সময় গরুর মতামত শোনার প্রয়োজন আছে কি?) 

ভাবছেন, কীভাবে যোগ দেবেন? একদম সহজ। আমাদের একমাত্র শর্ত - আপনাকে মুসলমান হতে হবে। ইসলামের সবকিছু পালন করতে হবে এমন কথা নেই, শুধু নামই যথেষ্ট। 

ভাবছেন কোথায় যোগ দেবেন? আমরা তো আপনার পাশেই আছি! আমাদের সম্বন্ধে যে কোনো নিকটবর্তী মসজিদে খবর নিন। ইদানীং প্রতি শুক্রবার বাদ জুম্মা আমরা মিছিল মিটিংয়ের আয়োজন করছি। কোনো প্রকার দ্বিধা ছাড়াই যোগ দিন। আমরা আপনার মনের বাসনা পূরণে সর্বাত্মক সহায়তা করবো। 

এ সুযোগ সীমিত সময়ের জন্য!! 

দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, এ সুযোগ সীমিত সময়ের জন্য!! দেশের কাফির সংখ্যা দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। আগামী ১০ বছরের মধ্যে কাফির সংখ্যা শুন্যের কোঠায় নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আমাদের পরিসংখ্যা দপ্তর। কাজেই আপনার মনের বাসনা পূরণ করার এখনই সুবর্ণ সু্যোগ! আসুন, আমরা আপনার অপেক্ষায় আছি!

পরজীবীরা

পৃথক করার ধর্ম

লিখেছেন পুতুল হক

এখন বাংলা সনের কোন মাস, কতো তারিখ, কিছুই জানি না। এটা জানি একুশে ফেব্রুয়ারির কাছাকাছি আসলে তখন হবে ফাল্গুন মাসের সাত, আট বা নয় তারিখ। আশ্বিন-কার্তিক মাস কি চলে গেছে? 

খুব ছোটবেলায় একবার গ্রামে একটা উৎসব দেখেছিলাম, আশ্বিন মাসের শেষ রাতে আর কার্তিক মাসের প্রথম ভোরে। অনেক দুধ দিয়ে ক্ষীর রান্না হয়েছিলো। মেয়েরা সেই শীতের ভোরে হলুদ মেখে গোসল করেছিল, নতুন কাপড় পরেছিল বাড়ির বৌ-ঝি। আমরা পিচ্চিরাও অনেক রাত পর্যন্ত জেগে আবার ভোরে উঠেছিলাম। অবশ্য গোসল করিনি। 

গ্রামের বাড়ি দেখাশোনা করেন যিনি, তাঁকে আমরা ফুপু বলে ডাকি। ফুপুর মেয়ে অঞ্জুর সাথে কথা হচ্ছিলো। জিজ্ঞেস করেছিলাম তারা এখনো সেসব করে কি না। উত্তরে সে বললো, "আউ সি-সি, ওগুল্যা হিন্দুগে অনুষ্ঠান। মুসলমানগে ওইসব করতি নাই। উয়া করলি পাপ হবি।" শুনে মন খারাপ হয়ে গেলো। 

আমি যখন দেখেছিলাম, মনে আছে নানুমণিরা নামাজ পড়েছিলেন ঠিক সময়ে। কাউকে বলতে শুনিনি এসব হিন্দুরা করে। অঞ্জুকে যখন বললাম যে, তোমার মা, আমার দিদি, এরা কিন্তু করতো। তাঁদের পাপ হয়নি? উত্তরে সে জানালো, "না জেনে করলে পাপ নাই।"

অঞ্জু পাপ-পুণ্য সম্পর্কে তাঁর মা, নানীদের চাইতে অনেক বেশি জানে। আমরা সবাই হয়তো তা-ই। অঞ্জু আগের নিয়মে অনেক কিছু করে না, এখন আবার অনেক নতুন কিছু করে।

গ্রামেগঞ্জে প্রাথমিক শিক্ষার বিস্তারের জন্য সরকারকে কত কাঠখড় পোড়াতে হয়, কিন্তু ধর্মের বিষাক্ত কথাগুলো বাতাসের চাইতে সহজে বিস্তার লাভ করে এমনিতেই। যে জ্ঞান আয়ত্ব করলে মানুষ নিজের স্বাস্থ্য আর পরিবেশের উন্নতি করতে পারে, নিজেদের সমস্যার কারণ বুঝতে পারে, সমাধানের চেষ্টা করতে পারে, নিজের বা পরিবারের জন্য ইতিবাচক কিছু করতে পারে - সেসব শেখার জন্য লোকের হাতেপায়ে ধরতে হয়, কিন্তু পাপপুণ্য শেখার উৎসাহের অভাব নেই।

ধর্মীয় শিক্ষা মানুষকে মানুষ থেকে পৃথক করে। ভালোমন্দ বিচারের ভার যখন অদৃশ্য কোনো শক্তির ওপর ছেড়ে দেয়া, তখন মানুষের নিজস্ব বিবেক পাথরচাপা পড়ে।

নবান্নের অনুষ্ঠান অঞ্জু যদি না-ই বা পালন করে, তাতে কিছু যায় আসে না। পুরনোে অনেক অনুষ্ঠান আমাদের জীবন থেকে হারিয়ে যায় অনেক নতুন অনুষ্ঠানের ভিড়ে। কিন্তু নবান্ন পালন না করার সিদ্ধান্তটা এসেছে কিছু মানুষকে অন্য কিছু মানুষ থেকে পৃথক করার জন্য। এখানেই আমার সমস্যা।

আমার বোরখা-ফেটিশ – ২০৬

১৪ জানু, ২০১৭

নিমো হুজুরের খুতবা - ১৮

লিখেছেন নীল নিমো

আজকে ৬ বছরের একটি অবুঝ মেয়ে শিশুকে একলা পেয়ে গেলাম । বিবাহের প্রস্তাব দেওয়ার আগে শিশুটিকে বিশ্বজগৎ সম্পর্কে জিজ্ঞাস করলাম। শিশুটি উত্তর দিল:
- উপরে আকাশ, আর নিচে জমিন। এইটাই বিশ্বজগৎ। উপরে অনেক উঁচু আকাশ, আর নিচে জমিন। এইটাই বিশ্বজগৎ। উপর আর নিচ, এই ছাড়া কিছুই জানি না। ছাদ আর কার্পেট। উপরে আকাশ, আর নিচে জমিন।

আমি শিশুটিকে বল্লাম:
- উপর আর নিচ, এতবার বলা ঠিক না, লোকে লজ্জা দিবে। উঁচু আকাশ বলে কিছু নাই। সবই মহাশূন্য। আমরা গোলাকার পৃথিবীর উপর দাঁড়িয়ে আছে। মহাশূন্যে উপর আর নিচ বলে কিছুই নাই। তুমি কি কখনো তারা, গ্রহ, উপগ্রহ, নেবুলা, গ্যালাক্সি, কৃষ্ণগহ্বর, উল্কাপিণ্ড, বামন গ্রহ, পালসার, সুপারনোভা, ধূমকেতু, সৌরজগৎ ইত্যাদির নাম শুনেছে?

শিশুটি হাঁ করে আমার দিকে তাকিয়ে রইলো। পাশ দিয়ে একজন মুমিন মুসলমান হেটে যাচ্ছিল, সে বলিল:
- শিশুটি তো ঠিকই বলেছে। উপরে আসমান, নিচে জমিন। আল্লাহপাক উপরে, আসমানের উপর উঠে বসে আছে। উপরে নভোমণ্ডল, আর নিচে ভূমণ্ডল। এই কথা ১০ থেকে ২০ বার আল্লাহপাক কোরান মজিদে বলেছেন। শিশুটিকে লজ্জা দিবেন না।

মুমিন নিচের কোরানের আয়াতগুলির রেফারেন্স দিল:
১. নিশ্চয় তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ। তিনি নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলকে ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর আরশের উপর অধিষ্টিত হয়েছেন...(সুরা ৭, আয়াত ৫৪:)
২. নিশ্চয়ই তোমাদের পালনকর্তা আল্লাহ যিনি তৈরী করেছেন আসমান ও যমীনকে ছয় দিনে, অতঃপর তিনি আরশের উপর অধিষ্ঠিত হয়েছেন... (সুরা ১০, আয়াত ৩)
৩. তিনিই আসমান ও যমীন ছয় দিনে তৈরী করেছেন, তাঁর আরশ ছিল পানির উপরে... (সুরা ১১, আয়াত ৭)
৪. তিনি নভোমণ্ডল, ভূমণ্ডল ও এতদুভয়ের অন্তর্বর্তী সবকিছু ছয়দিনে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর আরশে সমাসীন হয়েছেন (সুরা ২৫ , আয়াত ৫৯)
৫. আল্লাহ যিনি নভোমণ্ডল, ভূমণ্ডল ও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনি আরশে বিরাজমান হয়েছেন...(সুরা ৩২, আয়াত ৪)।
৬. তিনি নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডল সৃষ্টি করেছেন ছয়দিনে, অতঃপর আরশের উপর সমাসীন হয়েছেন... (সুরা ৫৭, আয়াত ৪ )
৭. অতঃপর তিনি আকাশমণ্ডলীকে দুইদিনে সপ্ত আকাশ করে দিলেন এবং প্রত্যেক আকাশে তার আদেশ প্রেরণ করলেন... (সুরা ৪১, আয়াত ৯ থেকে ১২)
৮. কাফেররা কি ভেবে দেখে না যে, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর মুখ বন্ধ ছিল, অতঃপর আমি উভয়কে খুলে দিলাম এবং প্রাণবন্ত সবকিছু আমি পানি থেকে সৃষ্টি করলাম... (সুরা ২১, আয়াত ৩০ )
৯. আমি নভোমণ্ডল, ভূমণ্ডল ও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু ছয়দিনে সৃষ্টি করেছি এবং আমাকে কোনরূপ ক্লান্তি স্পর্শ করেনি... (সুরা ৫০, আয়াত ৩৮)
আমি বলিলাম:
- উপর আর নিচ। উপরে আল্লাহ সিংহাসনের উপর বসে আছেন। এইটাই বিশ্বজগৎ। এইটা আল্লাহ বুঝে, ৬ বছরের অবুঝ শিশুও বুঝে। নাস্তিক নাসা, মহাকাশ বিজ্ঞানীরা কেন এই সহজ জিনিসটা বুঝতে পারছে না? ৬ যে একটা বরকতময় সংখ্যা, সেটা নাস্তিকরা বুঝতে পারছে না?

নাস্তিকদের জন্য আফসুস হল।

ঈশ্বর: "আমি কাকে খুশি করি, বলো?"

সাইমুম (উপন্যাস: পর্ব ২৪)


আধো ঘুমের মধ্যে গুনগুন সুরের গান কানে আসছিল। মনে হচ্ছিল, আমি কোথায়? রাতে কি কম্পিউটারে গান চালিয়েই ঘুমিয়ে পড়েছি? আর তারপরই ঘুমের কুয়াশা আরেকটু কাটলো যখন পিঠের নিচের অনভ্যস্ত বিছানা আর মাথার নিচের বালিশটাকে অনুভব করলাম। চোখ বুজে থাকলেও এখন আমি অধোচেতন থেকে পুরোপুরি চেতনে। গানের সুর ছাড়াও কানে ভেসে আসছে পাখপাখালির কিচির-মিচির, মোরগের বাগ, হাতি আর সিংহের ডাক! এখান থেকে চিড়িয়াখানা খুব কাছেই, তাই চোখ বুজে কান পাতলে অরণ্যের অনুভূতি পাওয়া যায়। ভাল ঘুম হয়নি আমার, আসলে নতুন জায়গায় আমি ভাল ঘুমোতে পারি না, ঘুম গভীর হয় না, আর মাঝে মাঝেই ভেঙে যায় ঘুম। চোখ খুলে মাথার কাছের জানালা দিয়ে বাইরে তাকালাম, এখন প্রায় সকাল; এখানে ওখানে ঘামটি মেরে থাকা অন্ধকার উবে যাচ্ছে ক্রমশ। দৃষ্টি গুটিয়ে আনলাম বিছানায়, আবির ঘুমোচ্ছে। বাইরে থেকে ভেসে আসছে গুনগুন সুরে গাওয়া আরশাদ ফকিরের গান। আমরা ঘুমিয়েছি মাঝরাতের পর, অথচ এতো সকালে উঠে পড়েছেন উনি! গভীর রাতে ঘুমোলেও বাউল-ফকিরদের দেহঘড়ি কী ভোরবেলায় জাগিয়ে দেয়? কী জানি! 

সেদিন আফজাল ভাই আমাকে যে ভাল খবরটি শোনাতে চেয়েছিল, তা হলো - তার গুরু আরশাদ ফকিরের আসার খবর। তিনি কিশোরগঞ্জ গিয়েছিলেন, শিষ্যের পীড়াপীড়িতে ফেরার সময় তার বাড়িতে চরণধূলি দিতে রাজি হয়েছিলেন। খবরটি শোনার পর থেকেই আমি মুখিয়ে ছিলাম যে, কবে আসবেন তিনি। সরাসরি বাউল-ফকিরদের গান অনেকবার শুনেছি, কিন্তু কখনোই সংসারত্যাগী কোনো বাউল-ফকিরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ আলাপ করার সুযোগ হয়নি; সে কারণেই আমার আগ্রহ ছিল তুঙ্গে। শাশ্বতীদি, পরাগদা আর আবিরকেও বলেছিল আফজাল ভাই। কিন্তু শাশ্বতীদি অফিসের কাজে ঢাকার বাইরে আর পরাগদার কলেজে পরীক্ষা থাকায় আসতে পারেনি। এসেছি আমি আর আবির। পরশু সন্ধ্যায় হলি আর্টিজানে জিম্মি ঘটনার পর থেকেই মনটা বেশ বিচলিত ছিল, জঙ্গিদের হাতে জিম্মিদের নৃশংস হত্যার খবর জানার পর থেকে কাল সারাটা দিন মন খারাপ ছিল। এমনিতেই আজকাল রাস্তায়-চলতে ফিরতে আতঙ্কে থাকি যে, কখন পেছন থেকে চাপাতি নেমে আসে ঘাড়ে! আর এই ধরনের ঘটনা আশঙ্কা আরো বাড়িয়ে দেয়। নিজের কথা ভেবে যেমনি বিচলিত বোধ করি, তেমনি খারাপ লাগে খুন হওয়া মানুষদের কথা ভেবে, তাদের পরিবারের কথা ভেবে। সেই মন খারাপ নিয়েই কাল সন্ধেয় এসেছিলাম আফজাল ভাইয়ের বাড়িতে। কিন্তু আফজাল ভাইয়ের গুরু আরশাদ ফকিরের সান্নিধ্য পেয়ে মন খারাপের মেঘ কখন যে ভেসে গিয়েছিল, তা নিজেও টের পাইনি, যেন এক অন্য জগতে প্রবেশ করেছিলাম! সন্ধে থেকে গভীর রাত অব্দি দুই ভাগে গান আর তত্ত্ব আলোচনা শুনে দারুণ কেটেছে! প্রথম ভাগ রাত দশটা অব্দি আফজাল ভাইয়ের বাড়িতে; সেখানে আফজাল ভাইয়ের গুরু আরশাদ ফকির আর গুরু মা’কে কেন্দ্র ক’রে আমি, আবির আর আফজাল ভাইয়ের পরিবার ছাড়াও ছিল আশপাশের কয়েকজন সঙ্গীত পিপাসু মানুষ। আর দ্বিতীয় ভাগ খাওয়া-দাওয়ার পর তুরাগের বুকে নৌকায় ভাসতে ভাসতে; আরশাদ ফকিরকে কেন্দ্র ক’রে আফজাল ভাই, আমি আর আবির। 

আমি আর আবির যে আধ্যাত্মিকতায় বিশ্বাসী তা নয়, আমরা দু’জনই ভিন্ন চিন্তার জগতের বাসিন্দা হলেও এসেছি গান আর কিছু তত্ত্বকথা শুনতে, একজন বাউলকে কাছ থেকে দেখতে। আমরা বাউল-ফকির দর্শনের খুব যে ভক্ত তাও নয়, বরং অন্যান্য ধর্র্মের মতোই বাউল-ফকিরদের কিছু কুসংস্কার আমরা অপছন্দ করি। বাউল-ফকির দর্শন সম্পর্কে আমি কিছু কিছু পড়াশোনা করেছি, যদিও পুঁথিগত বিদ্যার মাধ্যমে বাউল-ফকির দর্শনের নিগূঢ় তত্ত্ব সম্পর্কে গভীরভাবে জানা প্রায় অসম্ভব। এটা কেবল দিনের পর দিন বাউল-ফকিরদের সঙ্গলাভ, প্রত্যক্ষভাবে তাদের জীবনাচার অবলোকন করার মাধ্যমেই সম্ভব। তা ব’লে ইদানীং কালের অধিকাংশ যুবকের মতো শুধুমাত্র হুজুগে গা ভাসিয়ে গানের তালে উদ্দাম নাচতে বা দেহ দোলাতেও আসিনি। বই পড়ে আর আফজাল ভাইয়ের মাধ্যমে সমুদ্রের বারিবিন্দুর মতো হলেও বাউল-ফকিরি ভাষা কিছু রপ্ত করেছি। আগে তো গানের কথায় অমাবস্যা শব্দটি শুনলে চোখের সামনে ভাসতো আমাদের গ্রামের বাড়ির ঘুটঘুটে অন্ধকার রাত্রি, বাঁকা নদী বলতে বুঝতাম গড়ান চটবাড়ির কাছে বাঁক নেওয়া তুরাগ। কিন্তু এখন অমাবস্যা মনে বিস্ময় জাগায়, বাঁকা নদী শরীরে জাগায় শিহরণ!

বেদ্বীনবাণী - ৮২


১৩ জানু, ২০১৭

আল্লাহর অস্তিত্বের অকাট্য প্রমাণ – ০৫

আল্লাহর অস্তিত্বের শত-সহস্র অকাট্য প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও বেতমিজ নাস্তিকেরা তাতে ঈমান আনতে চায় না। অথচ তারা নাকি যুক্তিবাদী! বর্তমান সিরিজে তাদের উদ্দেশে একের পর এক প্রমাণ হাজির করা হবে। দেখা যাক, এবার তারা কী বলে।

প্রমাণ ২১.
আল্লাহ তোমাকে ভালোবাসেন, অথচ তুমি হৃদয়হীন বলে তাঁকে বিশ্বাস করো না। অতএব দেখতেই পাচ্ছো, আল্লাহর অস্তিত্ব আছে।

প্রমাণ ২২.
ওই দ্যাখো, মসজিদের মেঝেয় বসে কয়েকজন মুসল্লি অবিরাম জিকির করতে করতে মুখে ফেনা তুলে ফেলেছে। আল্লাহ না থাকলে ওভাবে কেউ জিকির করতে পারতো? এর থেকেই প্রমাণিত হয়, আল্লাহর অস্তিত্ব আছে।

প্রমাণ ২৩.
তোমার মতো নাস্তিকেরা কীভাবে দোজখের আগুনে পুড়বে, তা আল্লাহ আমাকে দেখতে দেবে ভেবেই আমার আনন্দ হচ্ছে। আল্লাহ না থাকলে এই আনন্দ আমার হতো? সুতরাং স্পষ্ট প্রতীয়মান হচ্ছে যে, আল্লাহর অস্তিত্ব আছে।

প্রমাণ ২৪.
আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান। তুমি সর্বত্র ঘুরে দেখেছো যে, আল্লাহ নেই? তাই তোমাকে স্বীকার করতেই হবে, আল্লাহর অস্তিত্ব আছে।

প্রমাণ ২৫.
কোরান সত্য। তার অর্থ কোরানে উল্লেখিত সবকিছুই প্রকৃত ঐতিহাসিক ঘটনা। আর কোরানে তো আল্লাহর অস্তিত্বের কথা বলা আছেই। অর্থাৎ আল্লাহর অস্তিত্ব আছে।

(বিদেশী রচনার ছায়া অবলম্বনে)

নৌকাভ্রমণ

১২ জানু, ২০১৭

আমাদের আত্মীয়েরা – ১০৩

হরর হাদিস – ১৭

Narated By Abu Huraira : Allah's Apostle said, "Once while a prophet amongst the prophets was taking a rest underneath a tree, an ant bit him. He, therefore, ordered that his luggage be taken away from underneath that tree and then ordered that the dwelling place of the ants should be set on fire.

উম হানি ও মুহাম্মদ: ইসলামের মহানবীর প্রথম ভালবাসা (পর্ব ৫)

লিখেছেন আবুল কাশেম


খাদিজা ও আবু তালিবের মৃত্যুর পর

উইলিয়াম মুর (মুর, পৃঃ ১০৫) লিখেছেন যে, মুহাম্মদের প্রথম স্ত্রী খাদিজা মারা যান ৬১৯ সালে। এর পাঁচ সপ্তাহ পরেই (জানুয়ারি ৬২০) সালে আবু তালেব মারা যান। এই সময়টা ছিল হিজরতের তিন বছর আগে। পরপর এই দুই বিয়োগান্তক ঘটনায় মুহাম্মদ অতিশয় মুষড়ে পড়েন।

এই ব্যাপারে আরও এক প্রখ্যাত জীবনীকার রডিন্সন লিখেছেন:
খাদিজা এবং আবু তালেব মারা যান কয়েকদিনের ব্যবধানে। এই ঘটনা ঘটে ৬১৯ সালে। এরপর থেকে ধারাবাহিক ঘটনাগুলির সন ও তারিখ বেশ নির্ভরযোগ্য ভাবে গণনা করা যেতে পারে। কোন আরবই তার স্ত্রীর বিয়োগের পর বেশীদিন স্ত্রী ছাড়া থাকে না। আর তাছাড়া যার সন্তান আছে তার জন্যে ত কথাই নাই। কিছু দিন, অথবা সর্বোচ্চ কয়েক সপ্তাহ পরেই স্ত্রীহারা মুহাম্মদ সওদা নামে এক বিধবাকে বিবাহ করেন। পূর্বে মুহাম্মদের এক ভক্ত ছিল এই বিধবার স্বামী। সওদা তাঁর স্বামীর সাথে আবিসিনিয়া গিয়েছিলেন। সেখানে সওদার স্বামী খ্রিষ্টান ধর্ম গ্রহণ করেন। সওদা তরুণ বয়সের ছিলেন না এবং বেশ মুটিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু সওদা গিন্নি হিসাবে ছিলেন অতি উত্তম। তাই মুহাম্মদের সন্তানদের দেখাশোনার জন্য খুব যোগ্য। এই জন্যই মুহাম্মদ সওদাকে বিবাহ্ করেন। নবীর জীবনে সওদার কোন প্রভাবই ছিল না। নিঃসন্দেহে মুহাম্মদ ছিলেন সওদার প্রভুর মত। সওদা মুহাম্মদকে যৌন তৃপ্তি দিতে সক্ষম ছিলেন না। আর রাজনৈতিক ভাবে নবীর স্থান শক্তিশালী করার জন্য কোন অবদানও সওদার ছিল না। (রডিন্সন, পৃঃ ১৩৪)
মার্টিন লিঙ্গস্‌ লিখেছেন মৃত্যুকালে খাদিজার বয়স ছিল ৬৫ এবং মুহাম্মদের বয়স প্রায় ৫০। (লিঙ্গস্‌, পৃঃ ৯৬)

খাদিজার মৃত্যুর পর মুহাম্মদ ঘন ঘন কাবা শরীফে যাওয়া শুরু করলেন আর সেখানে খুব সম্ভবত উচ্চৈঃস্বরে কোরান আবৃত্তি করতেন। আমরা আগেই এক হাদিসে দেখেছি যে, উম হানির গৃহ কাবার এত নিকটে ছিল যে, উম হানি নবীর কোরান আবৃত্তি শুনতে পেতেন। আমরা ধরে নিতে পারি যে, মুহাম্মদ এই সময়ে উম হানির খুব সান্নিধ্যে আসেন—হয়ত বা তিনি নিয়মিত উম হানির গৃহে যাতায়াত করতেন—হয়ত বা অনেক রাত্রি দিন উম হানির গৃহেই কাটাতেন। একবার মুহাম্মদ কোরান আবৃত্তি শেষ করে মাটিতে মাথা ঠেকালেন। এই সময়ই দুষ্ট কিছু কোরায়েশ তাঁর ঘাড়ে ভেড়া (অথবা উটের) নাড়িভুঁড়ি জড়িয়ে দিল। এই সময় মুহাম্মদ স্ত্রীহারা, নিতান্ত একাকী, অসহায়। শত্রু কোরায়েশদের থেকে একটু শান্তি এবং সহানুভূতির জন্য মুহাম্মদ উম হানির দ্বারস্থ হচ্ছিলেন। উম হানিই হয়ে উঠলেন নবীর একমাত্র নারী। উম হানিও সাদরে আপ্যায়ন করলেন নবীকে। তাঁদের দু’জনের বাল্যপ্রেমের দিনগুলি আবার যেন উদ্ভাসিত হয়ে গেল। এই সব কিছুই কোরায়েশদের দৃষ্টি এড়াল না। তারা হয়ত উৎসুক হয়ে উঠল কিসের আনাগোনা মুহাম্মদের উমর হানির গৃহে?

এই পরিস্থিতি এড়াতে মুহাম্মদ বোধকরি চিন্তা করলেন: না, এখানে আর নয়। আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে, আমাকে যেতে হবে অন্য কোথাও—অন্য কারও কাছে—যারা আমাকে সামান্যভাবে হলেও গ্রহণ করবে, একটু ভক্তি শ্রদ্ধা দেখাবে। এই উদ্দেশ্যে নবী গেলেন তায়েফে। সেখানে থাকত সাকিফ (থাকিফ) লোকেরা। তারা উপাসনা করত দেবী আল লাতের। নবী অনেক চেষ্টা করলেন তাদেরকে ইসলামে দীক্ষিত করতে। কিন্তু তায়েফের লোকেরা তাঁর কথায় কর্ণপাত তো করলই না, বরং তাদের বালকদেরকে লেলিয়ে দিল নবীর পেছনে। এই সব বখাটে রাস্তার বালকেরা নবীকে ঢিল মেরে বাধ্য করল তায়েফ ছাড়তে। মোহভগ্ন, ভারাক্রান্ত, শোকাহত হৃদয়ে মুহাম্মদ আবার ফিরে আসলেন মক্কায়, সেই উম হানির কাছে। একমাত্র উম হানির কাছেই নবী তাঁর মনের কথা খুলে বলতে পারেন।

ইবনে ইসহাক লিখেছেন (পৃঃ ১৯১):
খদিজা এবং আবু তালেব দু’জন একই বৎসরে মারা গেলেন। খদিজার মৃত্যুর সাথেই একের পর এক সমস্যা আসতে লাগল। কারণ খদিজার কাছ থেকেই নবী পেয়েছিলেন ইসলামের সমর্থন। খদিজার কাছে মুহাম্মদ তাঁর সমস্যার কথা আলোচনা করতেন। আবু তালেবের মৃত্যুতে নবী হারালেন তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা আর অন্য গোত্রের হামলা থেকে রক্ষার জামিন কবচ। মদিনায় অভিভাষণের বছর তিনেক আগে আবু তালেব মারা যান। এই সময়েই নবী কোরায়েশদের সাথে প্রতিকুল পরিবেশের সম্মূখীন হতে থাকলেন। আবু তালেবের মৃত্যুর পূর্বে নবী কখনই কোরায়েশদের কাছ হতে এমন শত্রুতামূলক ব্যবহার পান নাই।
(চলবে)

গরুপূজারি গাধাগুলো - ১৭৪

১১ জানু, ২০১৭

পাক ভাষায় নাপাক চটি!

নিচের আরবি লেখাটি কাগজে ছাপা অবস্থায় পায়ের নিচে পড়ে থাকলে যে কোনও মমিন মুসলিমই বিনম্র শ্রদ্ধায় সেটা তুলে নিয়ে চুমু খেয়ে সরিয়ে রাখবে পদদলিত হবার সম্ভাবনাহীন নিরাপদ স্থানে। কারণ আরবি মহাপবিত্র ভাষা। সুরা-আয়াত-দোয়া-দরুদ ছাড়া আর কিছু কি রচিত হতে পারে আল্লাহ-নবীর প্রিয় ভাষায়!

” بدأ كيم ولعق مص ديك بلدي ، انها لا تستطيع الحصول على كل شيء تماما أسفل حلقها ، ولكن كان يفعل تماما على وظيفة ، الرجيج بالتسجيل لأسفل مع يدها اليمنى كما انها امتص. أنا سحبت ركبتيها على جانبي رأسي ، انزلق سراويل من روعها ، ويبحث حتى في أجمل كس رأيته من أي وقت مضى. أنا انتشار شفتيها فتح وامسحي صعودا وهبوطا لها فتحة ، 

এখন দেখা যাক, পবিত্রতম ভাষায় কী লেখা আছে এখানে? গুগলের অনুবাদ দেখুন: 

"Kim began licking and sucking my dick, she can not get everything completely down her throat, but he did quite a job, jerking up down with her right hand as she sucked. I pulled her knees on either side of my head, slid her down panties, and looking up in the most beautiful pussy I've seen ever. I spread her lips open and licked up and down her slot..."

কোরান-হাদিসের ভাষায় রচিত চটি-সংকলনের সাইট থেকে সংগৃহীত: 
http://arabicsexstories.wordpress.com/

দ্বীনবানের দীন বাণী - ৫২

ভিডিও-সূত্র: https://youtu.be/x9K3qslE3ls

নিমো হুজুরের খুতবা - ১৭

লিখেছেন নীল নিমো

আজকে বয়ান দিচ্ছিলাম:
- আল্লাহপাক মাটি দিয়ে একসাথে পৃথিবীর সব মানুষ তৈরি করেছিলেন। এখন তিনি পর্যায়ক্রমে পৃথিবীতে মানুষকে পাঠাচ্ছেন। আর নবী করিম (সঃ) কে পাঠিয়েছেন আমাদেরকে ইসলাম শিক্ষা দিয়ে মুসলমান বানাতে...

কথা শেষ করতে পারলাম না। এক নাস্তিক এসে আমাকে জিজ্ঞাস করিল:
- হুজুর, আল্লাহপাক যখন মাটি দিয়ে মানুষ তৈরি করেছিল, তখন কি সে মানুষদেরকে মুসলমান হিসাবে তৈরি করেছিল?

নাস্তিক আমাকে সিলেবাসের বাহিরের প্রশ্ন করে ফেলায় আমি একটু বিব্রত বোধ করলাম। তবে আমি টেকনিকালি উত্তর দিলাম:
- এই পৃথিবীতে প্রতিটি মানুষ নিষ্পাপ মুসলমান হিসাবে জন্মগ্রহণ করে।

নাস্তিক প্রশ্ন করিল:
- কিন্তু, হুজুর, প্রতিটি শিশু যদি মুসলমান হয়ে জন্মগ্রহণ করে, তাহলে নবী মুহাম্মদের প্রয়োজন কী? আমরা সবাই তো এমনিতেই অটোমেটিক মুসলমান। নবী মুহাম্মদ তো তাহলে একটা বাতিল মাল। ঠিক কিনা?

আমি উত্তর দিলাম:
- আস্তাগফিরুল্লাহ, নবী-রাসুলদেরকে বাতিল মাল বলা ঠিক না।

নাস্তিক বলিল:
- হুজুর, প্রাকৃতিকভাবেই একজন স্বাভাবিক শিশুর কোনো রোগ থাকে না। এরপর সেই সুস্থ শিশুর ক্যান্সার, এইডস, যক্ষা, ধনুষ্টংকার ইত্যাদি রোগ হতে পারে। 

তেমনি প্রাকৃতিকভাবেই বিশ্বাসের দিক দিয়ে প্রতিটি শিশুই নাস্তিক হয়ে থাকে। এরপর সেই নাস্তিক শিশুটি মুসলমান, হিন্দু ইত্যাদিতে কনভার্ট হতে পারে।

একজন এইডস রোগি কোনোভাবেই নতুন করে HIV ভাইরাস দিয়ে সংক্রামিত (ইনফেক্টেড) হতে পারে না। তেমনি একজন জন্ম নেওয়া মুসলমান শিশুকে কোনোভাবেই নতুন করে কালেমা পড়িয়ে, খতনা করিয়ে, আরবি নাম রেখে মুসলমান বানানো যায় না।

তাই বলা যায় যে, প্রতিটি শিশুই নাস্তিক হিসাবেই এই পৃথিবীতে আসে, পরে এরা ধর্ম দ্বারা সংক্রমিত হয়।"

নাস্তিকের কথা শুনে আমার হঠাৎ করে মনে পড়ল, অনেকদিন আমি HIV ব্লাড টেষ্ট করিনি। আমার মিশরীয় কৃতদাসী মরিয়মকে আমি বিশ্বাস করি না। তাই আমি তাড়াহুড়ো করে ব্লাড টেষ্ট করতে দৌড় দিলাম।

নিত্য নবীরে স্মরি – ২৬৯

অনুবাদ ও ফটোমাস্তানি: আক্কাস আলী
(পূর্ণাকারে দেখতে ছবির ওপরে ক্লিক করতে হবে)

১০ জানু, ২০১৭

সাইমুম (উপন্যাস: পর্ব ২৪)

লিখেছেন উজান কৌরাগ


আর কী দেখবো! নিজের রুমে এসে বিছানা গুছিয়ে বাথরুমে গেলাম। ফ্রেশ হয়ে নাস্তা ক’রে চা বানিয়ে নিয়ে এসে কম্পিউটারের সামনে বসলাম। ফেসবুক খুলে দেখি নিন্দার ঝড় বইছে। সবাই স্ট্যাটাস দিচ্ছে জঙ্গিদের এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রতি তীব্র ঘৃণা জানিয়ে। চায়ে চুমুক দিতে দিতে মানুষের স্ট্যাটাস দেখতে লাগলাম। মহা ধার্মিক মুসলমানও নিন্দা জানিয়ে স্ট্যাটাস দিয়েছে। এইসব গোবেচারাদের জন্য আমার করুণা হয়, এরা না জানে ইসলামের ইতিহাস, না পড়ে কোরান-হাদিস। নিজের অজান্তেই এরা ইসলামবিরোধী স্ট্যাটাস দিচ্ছে। এই বিপুল সংখ্যক তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষদের প্রতি করুণা প্রদর্শন ছাড়া আর কী করতে পারি! কী স্ট্যাটাস দেব আমি? যদি সত্য কথাটা লিখি যে, মুহাম্মদের আদর্শ ধারণ ক’রে ছয়জন প্রকৃত মুসলমান ইসলামের জন্য প্রাণ বিসর্জন দিয়েছে, ব্যস, তাহলেই আমার মুণ্ডপাত শুরু হবে। আমার গায়ে ইসলামবিদ্বেষী তকমা লাগিয়ে দেবে তথাকথিত মডারেট মুসলিমরা, পূর্বেও লাগিয়েছে। এরা বুঝতে চায় না যে, ইসলাম আর পাঁচটা ধর্মের মতো নয়, ইসলামের এই রক্তপিপাসা জন্মলগ্ন থেকে। অন্যান্য ধর্মে এখন রক্তপাত নেই বললেই চলে; অধিকাংশ ধর্মপ্রবর্তকের মনে মুহাম্মদের মতো ধন-সম্পদ-নারী লুণ্ঠন আর সাম্রাজ্য বিস্তারের লালসা ছিল না, তাঁরা মুহাম্মদের মতো হত্যার উস্কানি দিয়ে কোনো গ্রন্থ নাজিল করেনি, সনাতন সংস্কৃতি ও জীবনাচারের প্রতি বিরক্ত হয়ে তারা প্রচার করেছে তাদের নতুন দর্শন ও চিন্তা, নিজের দর্শন ও চিন্তার প্রসারে তারা মুহাম্মদের মতো সন্ত্রাসের পথ বেছে নেয়নি। যদিও পরবর্তীকালে কোনো কোনো ধর্মপ্রবর্তকের উত্তরসুরীরা অবিশ্বাসীদের ওপর নির্মম নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে; কিন্তু বর্তমানে তা শূন্যের কোঠায় নেমে এসছে। কিন্তু ইসলামের অনুসারীরা জন্মলগ্ন থেকে আজ অব্দি একইভাবে বিশ্বব্যাপী রক্তের হোলি খেলছে কোরান-হাদিস আর মুহাম্মদের জীবন অনুসরণ ক’রে। 

এইসব অমানবিক ঘটনা আমাকে ব্যথিত করে, বিচলিত করে। ভেতরে ক্ষোভ জন্মায়, হাত নিশপিশ করে কিছু লেখার জন্য, শব্দরা জালে জড়িয়ে আমাকে টানে, জলবিম্বের মতো ঠেলে ওঠে ভাবনা। বুকশেল্ফ থেকে কয়েকটি রেফারেন্স বই নিয়ে হাতের কাছে রাখলাম, তারপর ওয়ার্ডে নতুন একটি পেজ খুললাম, ফেসবুকে স্ট্যাটাস নয়, ব্লগের জন্য একটি নিবন্ধ লিখবো। না চাইলেও এখন জোর ক’রে মনের পর্দায় ভেসে উঠছে বিশজন মানুষকে শিরশ্ছেদ করার নির্মম দৃশ্য, গরম রক্ত ছিটকে-গড়িয়ে যাবার বীভৎস দৃশ্য। রক্ত যেন ছিটকে বেরিয়ে শব্দ হয়ে ধাবিত হলো আমার দিকে, আমি কিবোর্ডে আঙুল স্পর্শ করতেই বিক্ষুব্ধ বাতাসের মতো ঝড় তুললো আঙুল:

পষ্ট কইরা লেখা - ৩৯