২৭ এপ্রিল, ২০১৫

মুছলিম ও পপকর্নের সাদৃশ্য

একটি বিদেশী আইডিয়ার অনুকরণে

খণ্ড খণ্ড চিন্তা-ভাবনা

লিখেছেন জুলিয়াস সিজার

১.
বাংলাদেশে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সবাই আছে। কারো পহেলা বৈশাখ নিয়ে কোন ধর্মীয় গোঁড়ামি নেই। শুধু মুসলিমদের কেন ফতোয়া আসে? পহেলা বৈশাখ হিন্দুদের উৎসব, পহেলা বৈশাখে গেলে ঈমান চলে যাবে, হেনতেন!

কোনো বৌদ্ধ কিংবা খ্রিষ্টান তো বলে না পহেলা বৈশাখে গেলে তাদের ধর্ম নষ্ট হয়ে যাবে। এমনকি শহরে যেসব আদিবাসী (অবাঙালি) আছেন, তাঁরাও পহেলা বৈশাখে আসেন। কারো তো ধর্ম নিয়ে মাথাব্যথা ওঠে না। শুধু মুসলিমদের কেন সবকিছুতেই ধর্ম নিয়ে চুলকানি?

লন্ডনে ব্যারিস্টারি পাশ করা, অস্ট্রেলিয়া থেকে পিএইচডি করা, বাংলাদেশের নামকরা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করা মুসলিমেরা কীভাবে বলে, পহেলা বৈশাখ হিন্দুদের উৎসব, এসবে গেলে ধর্ম নষ্ট হয়ে যায়! এদের আপনি অশিক্ষিত বলবেন কীভাবে? শুধু মোল্লারা ফতোয়া দেয়, এই অজুহাতই বা কীভাবে দেখাবেন?

গ্রামাঞ্চলে অমুসলিমদের ওপরে হামলা হলে তখন মডরেট খচ্চর মুসলমানেরা যুক্তি দেখায় - অশিক্ষিত ধর্মান্ধ মুসলিমেরা এসব করে। শিক্ষিত মুসলিমেরা করে না। যখন এসব উচ্চশিক্ষিত ছাগলেরা ছাগলামি করে, বলে - তারা সহী মুসলিম নয়! সব ইহুদি নাসাদাদের ষড়যন্ত্র!

"আপনি আগে বাঙালি নাকি মুসলিম?" - কত্ত বড় প্রশ্ন! কোনো হিন্দু, বৌদ্ধ বা খ্রিষ্টান ধর্মের ধর্মগুরুরা তো এই ফতোয়া দেয় না। শুধু ইসলাম ধর্ম থেকে কেন ফতোয়া আসে?

‪# ‎অফটপিক‬: যে-ব্যক্তি এই প্রশ্নগুলো করবেন, অবশ্যই তাঁকে ইসলামবিদ্বেষী এবং সাম্প্রদায়িক ট্যাগ দেবে অনেকে। শুধু প্রশ্নের উত্তর তারা দিতে পারবে না।

২.
"ধর্ষণ করে যে - সে ধর্ষক।"

"ধর্ষণের জন্য পোশাককে দায়ী করে যে - সে ছুপা ধর্ষক।"

"যে ইনিয়ে বিনিয়ে বলবে, আসলে মেয়েদের নিরাপত্তার জন্য হলেও পোশাকে শালীনতা রাখা উচিত - সে সবচেয়ে ভয়ংকর ধর্ষক।"

৩.
কোরবানির ঈদে পাল্লা দিয়ে লাখ লাখ টাকা খরচ করে গরু কিংবা উট যখন কেনা হয়, তখন টাকা অপচয় হয় না। এটা বিলাসিতাও না। টাকা অপচয় হয় শুধু পহেলা বৈশাখে ৫০০ টাকায় পান্তা ইলিশ খেলে! কী বুঝলেন?

একদল ছুপা ছাগলের পাল ইনিয়ে বিনিয়ে এটার বিরোধিতা করে। ইলিশ বাংলাদেশের জাতীয় মাছ। পান্তাও বাঙালির ঐতিহ্য। তো পান্তা-ইলিশ নিয়েই কেন শুধু অপচয় চলে আসছে?

আপত্তিটা আসলে পান্তা ইলিশে নয়। আপত্তি বৈশাখি মেলাতেই। আপত্তি বাঙালি ঐতিহ্যে। পান্তা-ইলিশ এখন মেলার অন্যতম আকর্ষণ। সেটাকে বন্ধ করতে পারলে মেলারই একটা অংশ বন্ধ করা যায়।

শহীদ মিনারে ফুল দেওয়া নিয়ে জামাতি-হেফাজতিদের সেই আপত্তি কিন্তু আসলে ফুলে নয়। আপত্তি শহীদ মিনারে। ফুলই যদি না দেয়, তাহলে মানুষ শহীদ মিনারে যাবে কেন? শহীদ মিনার তো আর মোনাজাতের জায়গা না কিংবা কনসার্টের জায়গা না। মানুষ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতেই যায়। ফুল দেওয়ার এই প্রথাটা বন্ধ করতে পারলে শহীদ মিনারটাও চাপা পড়ে যায়।

লাখ লাখ টাকা দিয়ে গরু কেনা অপচয় না। রোজায় ২০ টাকার বেগুন ৫০০ টাকায় কেনা অপচয় না। যেন বেগুন ছাড়া ইফতার সহী হবে না। কুরানে লিখা আছে!

ঈদের ৫০০ টাকার শার্ট ২০০০ টাকা দিয়ে কিনলে অপচয় হয় না। পচা ময়দার সেমাই ২০০ টাকা দিয়ে কিনলেও অপচয় হয় না। অপচয় শুধু বৈশাখি মেলাতে। আসলে অপচয়-টপচয় কিছুই না। ছাগল বলেন বা আরিফ ভাঁড় হোসাইনের মতো সুশীল বলেন, তাদের চুলকানি বৈশাখি মেলাতেই।

৪.
"যেসব মেয়েরা পর্দা করে না তারাই ধর্ষনের স্বীকার হয়।" - মোল্লা ছাগল।

"দেখুন, ধর্ষণ সমর্থন করার কিছু নেই। তবে মেয়েদের নিজেদের নিরাপত্তার জন্য হলেও শরীর ঢেকে চলা উচিত।" - মডরেট ছাগল।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে: মাদ্রাসায় যেসব বালক মোল্লাদের বলাৎকারের শিকার হয়, তারা কি পর্দা করে না বলে ধর্ষিত হয়? 

৫.
টিএসসিতে হাজার হাজার মানুষের ভীড়ে মেয়েকে জানোয়ার ধার্মিকেরা নগ্ন করে ফেলল পোশাক তাদের পছন্দ হয়নি বলে। ইসলামি দেশে এ কেমন পোশাক!

বইমেলায় হাজার মানুষের ভীড়ে লেখক অভিজিৎ রায়কে কুপিয়ে মারা হল তিনি নাস্তিক বলে। ইসলামি দেশে নাস্তিক কোপানো জায়েজ।

সরকার দলের সংগঠন ওলামা লীগ দাবী জানাচ্ছে ৯৮% মুসলিমের দেশে শিক্ষানীতি ইসলামিক করার। অমুসলিমেরা শিক্ষক বেশি হচ্ছে, অমুসলিমদের লেখা বইয়ে জায়গা পাচ্ছে বেশি। এতে তাদের আপত্তি। এমন সাম্প্রদায়িক উস্কানির পরেও কারো কোনো প্রতিবাদ নেই। থাকুক না কয়েকটা ইসলামি দল!

নীলফামারিতে পোস্টার ছাপিয়ে হুমকি দিয়ে হিন্দুদের ভারত চলে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হলো। তারপর মন্দিরে আগুন দেওয়া হলো।

৯০% মুসলিমের দেশ বলে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম চায় তারা। একটা পরিপূর্ণ এবং আদর্শ ইসলামিক রাষ্ট্র দাবি করে। তাদের সেই আশা পূরণ হচ্ছে। 

নাস্তিকদের কোপানো হচ্ছে, পোশাকে বোরকা-হিজাব না থাকলে কুকুরের মত ঝাঁপিয়ে পড়ছে, পোস্টার ছাপিয়ে হুমকি দিয়ে রীতিমত ঢাকঢোল পিটিয়ে হিন্দুদের ওপরে হামলা করা হচ্ছে। সরকারও ৭২-এর অসাম্প্রদায়িক সংবিধানের ঘোষণা না দিয়ে ইসলামিক মদিনা সনদের ঘোষনা দিচ্ছে। একটা পরিপূর্ণ আফগানিস্তানের দিকে বাংলাদেশ খুব দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। অভিনন্দন বাংলার মদিনাবাসী!

গরুপূজারি গাধাগুলো - ১১৩


তবে পান করে গরুর মুত!
রয়টারের পোনে দুই মিনিটের রিপোর্ট। পাঠিয়েছেন ক্যাট ম্যান

ভিডিও লিংক: https://youtu.be/n4idiSFX7jI

২৬ এপ্রিল, ২০১৫

ফাতেমা দেবীর ফতোয়া - ১১

লিখেছেন ফাতেমা দেবী (সঃ)

৫১.
এতদিন ভাবতাম, বাজেতম ইছলাম ধর্মরে কেউ কেউ শান্তির ধর্ম কয় ক্যান? পরে দেখলাম, আরে ঘটনা ত সত্যি, এক্কেরে হাঁচা হাঁচা। ইছলামের নবীজিরে, ইছলামের কুরানরে, ইছলামের য়াল্ল্যারে, ইছলামের ক্বাবা শরীফরে, ইছলামে য়াল্ল্যার যৌনাঙ্গ হাজরে আসওয়াদরে ও সর্বোপরি ইছলামরে গালাগালি কইরা যেই অপার শান্তি, হেই রকম শান্তি নিখিলের আর কিচ্ছুতে নাইক্কা। এখন বুঝতাছি, ইছলাম আসলেই শান্তির ধর্ম।

৫২.
- কয়েকটি ন্যুড বারের নাম লিখো এবং ওসব জায়গার কর্মকাণ্ড বর্ণনা করো।

- ক্বাবা শরীফ, শিব মন্দির ও কালী মন্দির এগুলি হলো একেকটি কুখ্যাত ন্যুড বার।

* ক্বাবা শরীফে য়াল্ল্যাপ্যাককে নেংটু পুটু ক'রে তার যৌনাঙ্গে মুছলিমরা চুমু খায় সারা বিশ্বকে দেখিয়ে দেখিয়ে। আবার এসব বিকৃত যৌনাচারের ভিডিও ক'রে, ছবি তুলে সবখানে ছড়িয়ে দেয়; যদিও ছবি তোলা এবং ভিডিও করা ইছলামে হারাম।

* শিব মন্দিরে শিব ভগবানকে নেংটু পুটু ক'রে হিন্দুরা তার যৌনাঙ্গে দুধ ঢালে, চুমু খায়। এবং তার ছবি তুলে, ভিডিও ক'রে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেয় এই বিকৃত যৌনতা।

* কালী মন্দিরে কালী ভগবতীকে নেংটু পুটু ক'রে যা ইচ্ছে তাই করে হিন্দুরা। এমনকি পশু এনেও যোগ করে এই নেংটু যৌনোৎসবে। 

এই তিনটি কুখ্যাত ন্যুড বারে প্রতিনিয়ত বিকৃত যৌনাচার-চর্চা হয়। এমন কি পিতা-পুত্র-কন্যা-মাতা মিলেও এই যৌনোৎসবে যোগ দেয়। লজ্জা শরমের কোনো বালাই নাইক্কা।

৫৩.
হীরার বিচার ঔজ্জ্বল্যে, মসলিনের বিচার সূক্ষ্মতায়, ধর্মের বিচার বর্বরতায়।

৫৪.
তিনি খুঁটি ব্যতীত আকাশমন্ডলী সৃষ্টি করেছেন; তোমরা তা দেখছ। তিনি পৃথিবীতে স্থাপন করেছেন পর্বতমালা, যাতে পৃথিবী তোমাদেরকে নিয়ে ঢলে না পড়ে। (কোরান ৩১:১০)

তিনি কেন আকাশে খুঁটি দিলেন না? বাঁশের অভাব ছিল বুঝি? 

তিনি পৃথিবীকে যদি পর্বত দিয়ে চাপা না দিতেন, তাহলে তো পৃথিবী আমাদের নিয়ে ঢলে পড়ে যেতো। আমরা পড়ে যেতাম পৃথিবী থেকে। আমরা পৃথিবী থেকে পড়ে কোথায় যেতাম?

৫৫.
নিচের আসমানে তারাগুলিকে লটকানো দেখেই আমি আস্তিক হয়ে গেছি। আসমানে, তা-ও আবার নিচের আসমানে তারা লটকিয়ে দিতে একমাত্র য়াল্ল্যাতালা ছাড়া কোনো মানুষ পারে না ব'লে আমি মনে করি। যদি কেউ পেরে থাকে, তবে লটকিয়ে দিয়ে দেখাক তো! আমি আবার সাথে সাথেই নাস্তিক হয়ে যাবো।

নুহ নবী ও খেলনা জীবেরা



পবিত্রতার ধারণা

লিখেছেন নাস্তিক দস্যু

ফোরকানিয়া মাদ্রাসায় পড়তে গিয়ে এক ছোট্ট ছেলে দেখতে পেল, ছেলেমেয়েরা পবিত্র কোরানে পা লাগলে আদবের সহিত সালাম করে। আবার রেহাল, জোযদান ইত্যাদির সাথে পা লাগলেও সালাম করে। সে শুনেছিল, কোরান পবিত্র জিনিস, তাই ওটাতে পা লাগলে সালাম করতে হয়। কিন্তু রেহাল-জোযদানে পা লাগলে সালাম করার দরকার কী? এই প্রশ্ন তার মনে ঘোরপাক খেতে লাগল।

একদিন সে তার হুজুরকে জিজ্ঞেস করল, “হুজুর, কোরানের সাথে পা লাগলে সালাম করতে হয়, এটা নাহয় বুঝতে পারলাম। কিন্তু রেহাল-জোযদানে পা লাগলে সালাম করতে হবে কেন?”

হুজুর উত্তরে বলল, “পবিত্র কোরান এমন একটি পবিত্র জিনিস, যার সংস্পর্শে যা কিছু আসে, সবই পবিত্র হয়ে যায়। কোরানের সাথে রেহাল, জোযদান স্পর্শ হওয়ার কারণে এসবও পবিত্র এবং দামী হয়ে গেছে। তাই এসবকেও সম্মান করতে হবে।”

কথাটি ছেলেটির মনে গেঁথে রইল যে, পবিত্র কোরানের স্পর্শে যা কিছু আসে, সবই পবিত্র হয়ে যায়।

একদিন ছেলেটি বড় হলো। সে ইসলামের খেদমতের উদ্দেশ্যে নিজেকে তাবলীগ জামাতের সাথে সংযুক্ত করল।

একদিন সে ইসলাম প্রচারে বের হল। একটা বাড়িতে গিয়ে দেখে বাড়ির কর্ত্রী মাশাল্লয়াহ! বাড়িতে কর্তা নাই। এই তো সুযোগ! সাথে সাথে ছেলেটি মুহাম্মদী আদর্শে বলীয়ান হয়ে উঠল। সে বিভিন্নভাবে ঐ রমণীকে ভুলিয়ে ভালিয়ে মেরাজের জন্য রাজি করাল। তারপর আল্লার নাম নিয়ে শুরু হল মেরাজকার্য। কাজ প্রায় শেষের দিকে। একটু পরেই হাউজে কাউছারের পানি বের হবে। হচ্ছে... হচ্ছে...

এমন চরম টাইমে ঘরের বাইরে কর্তা এসে তার বউকে ডাক দিল, “এই রাবেয়া! রাবেয়া! দরজা বন্ধ ক্যান?”

ইসলামের খেদমতে আসা ছেলেটা গেলো বিপদে পড়ে। এখন সে কী করবে? এইসব কোথায় মুছবে? এই ঘরের কোন জিনিস দিয়ে মোছা যাবে না। তাহলে কর্তার নজরে পড়ে যেতে পারে। ওইদিকে কর্তা চেঁচিয়ে চলেছে, “এই রাবেয়া!...”

ছেলেটা খুব দ্রুত ভাবতে লাগল। হঠাৎ তার মনে পড়ল, সে আসার সময় তালিম দেয়ার জন্য একটা কুরান সাথে এনেছিল। তাড়াতাড়ি তার থেকে একটা পৃষ্ঠা ছিঁড়ে ঈমানদণ্ডখানা মুছতে লাগলো। এটা দেখে রমণী খুবই অবাক হল। কোরান দিয়ে মাল মুছা হচ্ছে! 

রমণী ছেলেটিকে জিজ্ঞেস করল, “এইটা তো কবিরা গুনাহ! এইরাম করলেন ক্যা?”

ছেলেটি তখন ঔ হুজুরের ফতোয়াই দিল, “পবিত্র কোরান এমন একটি পবিত্র জিনিস, যার সংস্পর্শে যা কিছু আসে, সবই পবিত্র হয়ে যায়। কোরানের সাথে ঈমানদনণ্ড স্পর্শ হওয়ার কারনে এটাও পবিত্র এবং দামী হয়ে গেছে। তাই এটাকেও সম্মান করতে হবে।”

আরও বলল, “আমার ইয়েটা কোরানের সাথে লাগার ফলে পবিত্র এবং সম্মানীত অই গেছে। এখন কোরান যেমন পবিত্র, আমার ঈমানদণ্ডও তেমনই পবিত্র!”

২৫ এপ্রিল, ২০১৫

হা-হা-হাদিস – ১৩১


ইসলামী ইতরামি

লিখেছেন নিলয় নীল

১.
জয়নাব প্রিয়া ডালা একজন সাউথ আফ্রিকান মনোবিজ্ঞানী, যিনি সম্প্রতি তাঁর প্রথম উপন্যাস প্রকাশ করেন। উপন্যাসটি প্রকাশ-অনুষ্ঠানে তিনি সালমান রুশদির প্রশংসা করেন। সালমান রুশদির প্রশংসা শুনে তাৎক্ষণিকভাবে সভাস্থল ত্যাগ করেন অনেকেই।

এই ঘটনার একদিন পরেই ডালাকে অপহরণ করা হয়। তাঁকে গাড়িতে তুলে নিয়ে তাঁর উপর নির্যাতন করা হয়, ইট দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন অংশ থেঁতলে দেওয়া হয়। মারাত্মকভাবে আহত করে তার পরিবারকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। পরিবার তখন ডালাকে পাগল বলে সাব্যস্ত করে। পরিবারের ধারণা, কোনো সুস্থ মানুষ রুশদির প্রশংসা করতে পারে না, ডালা একজন মানসিকভাবে অসুস্থ মানুষ বলেই এই প্রশংসা করেছে।

ডালা এখন ডারবানের সেন্ট জোসেফ মেন্টাল হেলথকেয়ারে চিকিৎসাধীন আছেন। তিনি পাগল, তাই তাঁকে চিকিৎসা করাচ্ছে তাঁর পরিবার। এদিকে সালমান রুশদি ডালার জন্য এগিয়ে এসেছেন, পাগল সাজিয়ে মানসিক হাসপাতালে রাখার যন্ত্রণা থেকে ডালার মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক লেখক সংঘ PEN এর বরাতে জানা যায়, ডালার এমন একটি পরিবারে বিয়ে হয়েছে, যেটি ডারবানের সম্ভ্রান্ত মুসলমান পরিবার হিসেবে সমাধিক পরিচিত। তাঁর স্বামীও জানিয়েছে, ধর্মীয় নেতারা ডালাকে যা বলে, তাই তাঁকে মেনে নিতে হবে, নিশ্চয়ই সে ধর্মের ঊর্ধ্বে নয়। 

২.
ঘটনা পাকিস্তানের পাঞ্জাবের লাহোরে, গত ১০ এপ্রিল পবিত্র জুম্মাবার। এইদিন দুপুরে একদল মুসল্লি একটি ছেলের বাইক থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পারে ছেলেটি খ্রিষ্টান। তারপর থেকেই তাকে মারধোর করা হয় শুধু খ্রিষ্টান হওয়ার দায়ে। পরবর্তীতে তাকে নিয়ে উল্লাস করে এক পর্যায়ে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। 

কিছুদিন আগে খ্রিষ্টানদের চার্চ পুড়িয়েছিল আল্লাহার বান্দারা, ঐ ঘটনায় ২ জন আল্লাহার বান্দাকে ধরে খ্রিষ্টানরা মাইর দিয়ে পুলিশে তুলে দেয়। সেই ঘটনার সূত্র ধরেই খ্রিষ্টান নিরীহ ছেলেটির উপর শোধ তোলে মুসল্লিরা। তবে ছেলেটি পরম করুণাময় আল্লাহার রহমতে প্রাণে বেঁচে গিয়েছে, তার শরীরের একাধিক যায়গায় মারাত্মকভাবে পুড়ে গেলেও এখন সে সুস্থতার পথে।

৩.
সৌদি আরবে প্রথমবারের মতো শুরু হলো হালাল সেক্স শপ, তাও আবার পবিত্র শহর মক্কায়! এই সেক্স শপের মালিক হলেন মরক্কোর আব্দুলাজিজ আওরাগ, যার মাধ্যমে প্রথম সফল অনলাইন হালাল সেক্স শপ “এল আশিরা”র যাত্রা শুরু হয়। 

সেক্স শপ সম্পর্কে অনেকের ধারণা থাকলেও হালাল সেক্স শপ যারা ভালো বোঝেন না তাদের অবগতির জন্য সৌদি এক ধর্মনেতার উদ্ধৃতি থেকে কিছু পয়েন্ট তুলে দিচ্ছি। 
  • হালাল সেক্স শপে ব্রা প্যান্টি থেকে শুরু করে বোরকা হিজাব সবই থাকবে। 
  • সেক্স সামগ্রী স্বামী-স্ত্রীর সেক্সের জন্য ব্যবহৃত হবে। 
  • অবিবাহিত পুরুষ এবং বিবাহিত বা অবিবাহিত নারী একাকী এখান থেকে সামগ্রী ক্রয় করতে পারবে না। 
  • অবশ্যই যৌনসামগ্রী ইসলামীভাবে স্বীকৃত হতে হবে। 
  • সমকামের যৌনসামগ্রী কখনোই হালাল সেক্স শপে পাওয়া যাবে না। 
  • স্বকাম সামগ্রী পাওয়া যাবে না। 
আব্দুলাজিজ আওরাগ বলেন, আমাদের প্রোডাক্ট অনুভবকে বাড়াবে, অদ্ভুত সেনসিটিভিটি তৈরি করবে, যার মাধ্যমে স্বামী স্ত্রী উভয়ই হালালভাবে যৌনসুখ উপভোগ করতে পারবে। মুসলমান মহিলারা শুধু পর্দা মেনে রান্নাঘরেই থাকবে না, তাকে হালাল ভালবাসাকেও প্রধান্য দিতে হবে। 

৪.
মেয়েটি বিধবা থাকা সত্ত্বেও গর্ভবতী হয়েছে, সাধারণত বিধবারা কিছু করলেও কেয়ারফুলি করে, যাতে গর্ভবতী হয়ে জানাজানি না হয়, তাহলে এই মেয়েটি কি ধর্ষিত হয়েছে? কে তাকে ধর্ষণ করছে? কে তাকে গর্ভবতী বানিয়েছে?

এসবের উত্তর না খুঁজেই মেয়েটিকেই একতরফা দায়ী করা হলো অবৈধ সেক্স করা ও বাচ্চা জন্মদানের জন্য। তারপর প্রকাশ্যে সহিহ উপায়ে ১০০ বেত্রাঘাত করা হলো গর্ভবতীকে। বাহ কি সুন্দর ইছলামী বিচার!!!

৫.
আইএস নেতা আবু বকোর আল বাগদাদি তালেবান নেতা মোল্লা মোহাম্মদ ওমরকে নির্বোধ ও অশিক্ষিত বলেছেন। আল বাগদাদি আরও বলেন, মোল্লা ওমরকে আধ্যাত্মিক বা রাজনৈতিকভাবে বিশ্বাস করা যায় না। অন্যদিকে তালেবান এক যোদ্ধা আইএসকে এক হাত দেখে নিয়েছেন। তালেবান আরেক নেতা বলেছেন, আইএসের বিরুদ্ধে সবার সোচ্চার হতে হবে, কারণ আইএস ইসলামের নামে চরম অশান্তি সৃষ্টি করছে। 

অনেক আগে এক হুজুরের মুখে শুনেছিলাম, একসময় সহিহ মুসলমানরা অমুসলিমদের বিরুদ্ধে জিহাদ করবে, জিহাদ করতে করতে যখন অমুসলিমদের শক্তি থাকবে না, তখন মুসলমানদের বিরুদ্ধে মুসলমানরা জিহাদ করবে। এরপর যখন মুসলমানদেরও শক্তি থাকবে না, তখন কে সহিহ আর কে সহিহ না, এই দুই পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করবে। তবে সেইদিন আসার আগেই দুই সহিহ মুসলমান পক্ষ কেন একে অপরের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করবে? খবরে প্রকাশ, আইএস ও তালিবান একে অপরের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করছে! নাউজুবিল্লাহ্‌।

৬.
অবশ্যই শিশুদের হত্যা করতে হবে এবং কোনোরকম সহানুভূতি ছাড়াই। শুধু শিশু নয়, অবিশ্বাসী ও অমুসলিম নারীদেরকেও হত্যা করতে হবে কোনোরূপ মায়াকান্না ছাড়া। মানবাধিকার পরে। আগে ইসলাম, ইসলামের পথে যা যা করা প্রয়োজন, তা যতই অমানবিক হোক না কেন, তা করতেই হবে।

আমার বোরখা-ফেটিশ – ১৪২



২৪ এপ্রিল, ২০১৫

হিন্দুধর্মে ইসলামী সুন্নাহ!

লিখেছেন রিফু

কেমন হত, যদি ইসলাম ধর্মের সুন্নাহর প্রচলন হিন্দুধর্মে থাকতো?

আসুন, জেনে নিই।

শিবের সুন্নাহ:
স্থান-কাল-পাত্র বিচার না করিয়া নারীর স্নান দেখিতে উন্মত্ত হইয়া বিশ্বযুদ্ধ শুরু করিয়া দেওয়া।

কালীর সুন্নাহ:
স্বামীকে পদতলে রাখা। ঐ বিড়াল মারা আরকি।

কৃষ্ণের সুন্নাহ:
১. চুরি করা। বিশেষত মিষ্টি খাদ্যজাত বস্তু।
২. স্নানাগারে মেয়েদের গোসলের সময় উঁকি দেওয়া। (জাকির নায়েক এই থেকে হাসান হোসেনের ভবিষ্যদ্বাণী প্রসব করেছেন হয়তো।)
৩. মামী-চাচীদের দিকে কামুক দৃষ্টি দেওয়া। দেখতে সুন্দর হলে বিছানায় গড়াবেন। (রাধা)
৪. সামর্থ্য থাকলে ষোল হাজার একশত আট, সামর্থ্য না থাকলে হাজার খানেকে থামতে হবে। (মুহাম্মদী ৪ বিবাহ ইজ ওল্ড সুন্নাহ)
৫. টাকা না থাকলে বার ড্যান্সারকে বীর্য পুরষ্কার দেওয়া। (মা পার্বতীকে গণেশের বীজ দেয়।)

কৃষ্ণ ও কামসূত্র সুন্নাহ:
ডগি স্টাইল, গ্রুপ সেক্স, বাটারফ্লাই ইত্যাদি বৈচিত্রপূর্ণ সেক্স স্টাইল।

কামদেব ও কামসূত্র সুন্নাহ:
সেক্স করা। নিয়মিত সেক্স পজিশন পালটানো।

গোমাতার সুন্নাহ:
ঘাস খাওয়া।

হনুমানের সুন্নাহ:
বাঁশ খাওয়া।

গণেশের সুন্নাহ:
ডায়বেটিস বা ওজন নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে শুধু খাওয়া।

নিত্য নবীরে স্মরি – ১৮৭


'নবীপোন্দন সপ্তাহ' উদযাপনের সময় এঁকেছেন দিগম্বর পয়গম্বর

'নবীপোন্দন সপ্তাহ' উদযাপনের সময় এঁকেছেন ঈশ্বরের স্রষ্টা

ভয় পেয়ো না

সুকুমার রায়ের 'ভয় পেয়ো না' অনুসরণে লিখেছেন ধর্ম দানব

ভয় পেয়ো না, ভয় পেয়ো না, তোমায় আমি মারব না
ধর্ষণ বা বস্ত্রহরণ? ওসব আমি পারবো না।

মনটা আমার বড্ড নরম, হাড়ে আমার রাগটি নেই,
তোমায় আমি চিবিয়ে খাব? বাসায় কি মা-বোনটি নেই?

যৌনক্ষুধা দেখছ চোখে, ভয় পেয়েছ কতই না!
জানো না মোর নপুংশতা, কাউকে আমি গুঁতোই না?

এস আরো কাছে এস, শরীরখানা ধরতে দাও,
নারী 'ভোগ্যপণ্য' নয়, তা দেখেছে কি কেউ কোথাও?

মুখে আমার খিস্তি শুনে, হচ্ছে নাকি খুব ঘৃণা?
জন্ম তোমার হতোই না তো পুং-পাঁজরের হাড় বিনা!

অভয় দিচ্ছি, শুনছ না যে? ধরব নাকি জোর চেপে?
কাছে এস, নইলে কিন্তু যাচ্ছি আমি খুব ক্ষেপে!

আমি আছি, বন্ধু আছে, আছে আরও নয় ছেলে
সবাই মিলে ছিঁড়ব পোশাক মিথ্যে অমন ভয় পেলে।

পরছো শাড়ি নাভির নিচে, বোরখা কোথায়? হিজাব নেই?
ঈমানদন্ড দিচ্ছে গুঁতো, তোমার শরীর দেখছে যেই।

পুরুষ আমি। শ্রেষ্ঠ আমি। স্রষ্টা? সে তো পুরুষ হায়!
নারী তুমি, হীন তুমি। ধর্ষণ? সেও তোমার দায়!

২৩ এপ্রিল, ২০১৫

চিত্রপঞ্চক - ১১৬



পাঠিয়েছেন নিলয় নীল


পাঠিয়েছেন রাশিয়া-প্রবাসী মোকাম্মেল

অ্যামেরিকান এথিস্টস কনভেনশনে বন্যা আহমেদের বক্তব্য

সৌজন্য: মুক্তমনা মডারেটর

ভিডিও লিংক: https://youtu.be/taqd6w4lAHw

প্রিয় দর্শক-শ্রোতা, আমার নাম রাফিদা আহমেদ বন্যা এবং আমি অ্যামেরিকান অ্যাথিস্টস কে ধন্যবাদ দিতে চাই আমাকে সুযোগ করে দেয়ার জন্য, আপনাদের সবাইকে বলতে, আমার ব্যক্তিগত সংগ্রামের কথা, ধর্মীয় চরমপন্থার বিরুদ্ধে। যদিও আমি এখনো জখম কাটিয়ে উঠার পথে আছি, তারপরও আমার কিছু চিন্তা লেখার চেষ্টা করেছি, আপনাদের সাথে ভাগাভাগি করার জন্য।

আমার স্বামী, আমার প্রয়াত স্বামী, ডঃ অভিজিৎ রায় এবং আমি বাংলাদেশী-মার্কিন নাগরিক, নাস্তিক এবং পেশায় সফ্‌টওয়্যার প্রকৌশলী এবং আমরা ইসলামী সন্ত্রাসের সাম্প্রতিক শিকার, বাংলাদেশে। কয়েক সপ্তাহ আগে অভিজিৎ ও আমি আমাদের দেশ, বাংলাদেশে গিয়েছিলাম দেশটির জাতীয় বইমেলায় যোগ দিতে। বইমেলাটি অনুষ্ঠিত হয় ঢাকায়, প্রতি বছর, পুরোটা ফেব্রুয়ারি মাস জুড়ে, এবং হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন মেলায় আসে। এটি একটি ঐতিহাসিক অনুষ্ঠান যাতে আমরা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদ্‌যাপন করি, ফেব্রুয়ারির ২১ তারিখে। বইমেলায় যোগ দেয়াটা বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ ছিল আমার ও আমার স্বামীর জন্য, কারণ আমরা দুজনেই বাঙালি লেখক ও ব্লগার। আমরা লিখতাম বিজ্ঞান, যুক্তিবাদ ও মানবতাবাদ নিয়ে। আরো নির্দিষ্ট করে বললে, আমার স্বামী লিখেছিল ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে। আমরা ভেবেছিলাম ইতিমধ্যেই অনেক কিছু লেখা হয়ে গেছে ইংরেজি ও অন্যান্য ভাষাগুলোতে, এই বিষয়ে। সুতরাং আমাদের লক্ষ্য ছিল ছড়িয়ে দেয়া, বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদের কথা, মৌলবাদ-বিরোধিতার কথা, বাংলাদেশে আমাদের মাতৃভাষায়।

যেখানে আমি মাত্র একটি বই লিখেছিলাম, যার বিষয় ছিল প্রাণের বিবর্তন, আমার স্বামী সেখানে দশটি বই লিখেছিল ধর্মনিরপেক্ষতা বিষয়ে, গত ১২টি বছর ধরে। সে ছিল আরো সিরিয়াস, আরো সৃষ্টিমুখর লেখক, আমার তুলনায়। এছাড়া সে তৈরি করেছিল মুক্তমনা নামে প্রথম অনলাইন প্লাটফর্ম, ২০০১ সালে, বাংলায়। অভিজিতের বইগুলোর বিষয় ছিল প্রাণের উৎপত্তি, মহাবিশ্ব কিভাবে শূন্য থেকে সৃষ্টি হয়েছে তা। সে লিখেছিল সমকামিতার পেছনের বিজ্ঞান নিয়ে বই। সে এমনকি খুব সাহিত্যিক একটি বই লিখেছিল যার বিষয় ছিল নোবেল বিজয়ী কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং আর্জেন্টিনীয় নারীবাদী লেখিকা ভিক্টোরিয়া ওকাম্পো’র সম্পর্ক।

কিন্তু, তার দুটি বই যাদের শিরোনাম ‘অবিশ্বাসের দর্শন’ এবং ‘বিশ্বাসের ভাইরাস’ অনেক মনোযোগ কেড়েছিল। একদিকে, এগুলো তাকে অতিমাত্রায় জনপ্রিয় করেছিল প্রগতিশীল তরুণদের মাঝে। অন্যদিকে, এগুলো তার বিরুদ্ধে জাগিয়েছিল ইসলামী মৌলবাদীদের সহিংসতা ও ক্রোধ।

ফেব্রুয়ারির ২৬ তারিখ যখন আমরা অনেক আলোকিত এবং জনাকীর্ণ বইমেলা ছেড়ে আমাদের গাড়ির দিকে যাচ্ছিলাম, তখন অভিজিৎ এবং আমাকে নির্মমভাবে আক্রমণ করে ইসলামী মৌলবাদীরা। আমাদেরকে বার বার আঘাত করা হয় চাপাতি দিয়ে, রাস্তার ধারে। আমার মাথায় চারটি ছুরিকাঘাতের জখম আছে, আমার বুড়ো আঙুলও কেটে ফেলা হয়েছে। আমার দুই হাতেই বেশকিছু জখম আছে এবং স্নায়ু ও শিরা সারিয়ে তোলার জন্য আমাকে কয়েকবার অপারেশনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। হ্যাঁ, আমার মাথাও কামাতে হয়েছে, জখমগুলোর চিকিৎসা করার জন্য।

কিন্তু আমার স্বামীর এত ভাগ্য ছিল না। সে ই ছিল আসল লক্ষ্য আততায়ীদের, যারা তাকে কুপিয়ে হত্যা করতে সফল হয়েছে। অনেক দর্শক ছিল বইমেলায়, আশেপাশে, কিন্তু তারা এতই ভীত ছিল যে কেউ আমাদের সাহায্য করেনি। অবশেষে একজন তরুণ ফটোসাংবাদিক পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় দ্রুত এসে আমাদেরকে হাসপাতালে নেয় যেখানে অভিজিৎ মারা যায়।

দুর্ভাগ্যজনক যে, বাংলাদেশ সরকার এখন পর্যন্ত ঘটনাটি সম্পর্কে একটি বাক্যও বলেনি। অভিজিৎ ছিল আমার সহ-মুক্তচিন্তক, আমার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু, আমার স্বামী এবং আমার জীবনসঙ্গী। তাকে হত্যা করা হয়েছে কারণ সে লিখেছিল বিজ্ঞান, যুক্তিবাদ নিয়ে, নাস্তিকতা নিয়ে, এবং লিখেছিল ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে। তার জীবন শেষ হয়েছে, আমার জীবন ওলট পালট হয়ে গেছে।

এই বার্তাটি যখন তৈরি করছি, তখন শুনলাম আরেকজন বাংলাদেশী ব্লগারকে হত্যা করা হয়েছে আজ সকালে, একই ভাবে কুপিয়ে একই কারণে। আমার মনে হয় আপনাদের মাঝেও একজন আছেন, শ্রোতাদের মাঝে, আসিফ মহিউদ্দিন নামে, যাকে কোপানো হয়েছিল একইভাবে, কিন্তু ভাগ্যক্রমে সে বেঁচে গেছে। কিন্তু এমন নয় যে, আমাদের গল্প একেবারে অনন্য। এমন হত্যার ঘটনা ঘটেছে বারংবার, প্রত্যেক দিন, বিশ্বের সবখানে। কিন্তু বাংলাদেশ সবসময় এমন ছিল না। এটা তুলনামূলক নতুন একটি দেশ যা ধর্মনিরপেক্ষতার উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু ধর্মীয় মৌলবাদ এদেশে ভালভাবে আসন গেড়েছে, অন্য অনেক দেশের মতোই গত কয়েক দশকে যা বিশ্বের অন্যত্রও দেখা যায়। অসংখ্য মানুষকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে মুখ খুলে কথা বলার জন্য।

আমরা বারবার দেখেছি যে, কথা মৌলবাদী-দেরকে ভীত করে তোলে। কিন্তু তারা আমাদের দেহ ক্ষত-বিক্ষত করতে পারে, আমাদেরকে নিরব করার চেষ্টা করতে পারে তাদের যত অস্ত্র আছে সব দিয়ে, কিন্তু আমাদেরকে ধ্বংস করতে পারবে না কারণ, প্রিয় সহ-নাস্তিকবৃন্দ, আমাদের কথাকে হত্যা করা সম্ভব নয়। ধন্যবাদ।

এক জোড়া পোস্টার

বানিয়েছেন তানিশা তানঝিন মুমু



২১ এপ্রিল, ২০১৫

অবিস্মরণ: থাবা বাবা, অভিজিৎ রায়, ওয়াশিকুর বাবু - ০২

I am Avijit - আমিই অভিজিৎ-এর জন্য বানিয়েছেন সামিনা চৌধুরী এ্যানি



টয়লেট, মসজিদ ও অন্যান্য প্রসঙ্গে

লিখেছেন রহমান পৃথু

১. 
টয়লেট যেমন, মুসলমানরা দিনের আকাম-কুকাম অপরাধ পাপবোধ ত্যাগ করে মসজিদে। এভাবে পায় আরাম .... আর পায় নতুন অপরাধ করার অনুপ্রেরনা - মসজিদ হতে। তাই মসজিদ তাদের এত প্রিয়।

মসজিদ-মাদ্রাসায় ভরে যাচ্ছে দেশ - অলিগলি, রাস্তার মোড়, হাট, ঘাট, গাছতলা বটতলা, অফিস, স্কুল, খালি জায়গা - কিছু বাকি নেই।

এরা সমাজ ও রাষ্ট্রের মানুষের অর্থসম্পদ গিলে খাচ্ছে। সমাজের সব অর্থ-কড়ি জমা হচ্ছে মসজিদ-মাদ্রাসাকে কেন্দ্র করে। এটি একটি সর্বভূক প্রক্রিয়া। এদের চাহিদার শেষ নাই। মসজিদ-মাদ্রাসা বানানোর নাম করে মানুষের অর্থ-কড়ি কেড়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে দেশব্যাপী - সর্বগ্রাসী রাক্ষসের মত।

এরা এক টাকা দুই টাকা ভিক্ষা নিয়ে বাঁশের খুঁটি ও পাটকাঠির বেড়া দিয়ে শুরু করে মসজিদ। এর পর সোনার গম্বুজ মণি-মানিক্য দিয়ে সাজালেও সে মসজিদ নির্মাণের চাহিদা শেষ হয় না।

এভাবে বাংলাদেশে মসজিদ-মাদ্রাসা কেন্দ্রিক রাজনৈতিক ও সামাজিক অশুভ শক্তির অপ্রতিরোধ্য ক্ষমতা ও সম্পদের পাহাড় পুঞ্জিভূত হচ্ছে।

ধর্ম মানুষকে উন্মাদ করে। আর ধর্মউন্মাদনার শেষ ধ্বংসে।

২.
আমি অনেক মুসলিম দেশে গিয়েছি।
কিন্তু নামাজ পড়ে কপালে ঘা বানানোর কৌশল একমাত্র বাঙালি মুসলমানরাই জানে।

এরা কত ধুরন্ধর!

৩.
আমরা মুসলমান। আমাদের ঈমান - দুই টাকায় কেনা যায়।

মুসলমানদের বিশ্বাস - ফাঁকা বুলি।

আমরা ব্রিটিশ, আমেরিকানদের অধীনে ভাল আছি... ছিলাম... থাকা সৌভাগ্যের মনে করি। ব্রিটিশদের শিক্ষা, বিচার, প্রশাসন, রেলওয়ে ব্যাবস্থা এখনও আমাদের দেশে সেরা।

ক্রুশ আঁকা পাসপোর্ট... আমাদের কাছে সোনার হরিণ।

আমাদের অধিকাংশ যুবক, যুবতী, পুরুষ, নারী এমনকি বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা বাংলাদেশ নয়... ব্রিটিশ রাণীর অধীনে থাকতে পছন্দ করি।

শুধু আমরা কেন, সৌদি আরবের নারীদেরকে সুযোগ দিন... সোনার মক্কা-মদিনা ...আল্লার আরশ ফাঁকা হয়ে যাবে।

এভাবে পাশ্চাত্যের ভাষা, জীবন, মূল্যবোধ, জ্ঞান, শিক্ষা, সংস্কৃতি, সভ্যতার শ্রেষ্ঠত্বের কাছে মুসলমানদের অহংকারের নির্লজ্জ পরাজয় প্রমাণিত হয়েছে।

মুসলমান যখন কোনো খ্রিষ্টান, ইহুদি, হিন্দু বা নাস্তিক দেশের কাছে নির্লজ্জের মত আশ্রয় চায়, তখন তাদের অহংকার কোথায় থাকে?

মুসলমানদের অহংকার ও আদর্শ বলে কিছু নেই।

মুসলমানরা কাফের, নাস্তিক, বিধর্মীদের করুণায় বেঁচে থাকা পৃথিবীর অনুন্নত জনগোষ্ঠী।

তারপরও মুসলমানরা আরবীয়দের জীবন ও ধর্মকে শ্রেষ্ঠ দাবি করে। কোনো মুসলমান ইসলাম নিয়ে গর্ব করার আগে এ কথাগুলো মনে রাখবেন, আশা করি।

১৯ এপ্রিল, ২০১৫

কোরান কুইজ – ৫৯

নিশ্চয়ই মোমিন মুসলমানগণ কোরান সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান রাখেন। বেয়াড়া নাস্তিকগনও নিজেদেরকে কোরান-অজ্ঞ বলেন না কখনও। তাই মুসলিম-নাস্তিক নির্বিশেষে সকলেই অংশ নিতে পারেন কোরানের আয়াতভিত্তিক এই ধাঁধা প্রতিযোগিতায়। এই সিরিজের মাধ্যমেই তাঁরা নিজেদের কোরান-জ্ঞান যাচাই করে নিতে পারবেন। 

প্রশ্ন ৬৯: আল্যার এক দিন মানুষের কয় দিনের সমান?

১. এক হাজার বছর
২. পঞ্চাশ হাজার বছর

উত্তর বেছে নিয়েছেন? এবারে মিলিয়ে দেখুন।
.
.
.
.
.
.
.

আমাদের আত্মীয়েরা – ৭৯

আমরা বানরেরই বংশধর, হাওয়ার পোলা নই।


ভারতের এক রেলওয়ে স্টেশনে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আহত এক বানরকে রক্ষা করলো আরেক বানর।
ভিডিও লিংক: https://youtu.be/yDcYpXYvg6M

১৮ এপ্রিল, ২০১৫

খোলা চিনির বস্তা ও মমিন মাছি

লিখেছেন সংশপ্তক অর্ক

আমি প্রায়ই চলতি পথে রাস্তায় খুব সুন্দর মডেলের গাড়ি দেখি, মোটর বাইক দেখি, রাস্তার পাশে আলীশান বাড়ি দেখি, দোকানে সাজানো সুস্বাদু খাবার দেখি। কিন্তু আমি কখনই সে গাড়ি বা বাড়ি বা খাবারকে জোর করে দখল করবার চেষ্টা করি না। আপনারাও হয়তো করেন না।

কেননা আমার ভালো লাগলেই বা লোভ লাগলেই যে তা আমি জোর করে বা চুরি করে যে কোনো কিছু দখল করতে পারি না, বা আমার তা করা উচিত নয়, এইটুকু সামাজিক বোধ ও নীতিবোধ আমার আছে। 

এটা সত্য যে, রাস্তায় পরিপাটি পোশাক পরা, বা আকর্ষণীয় পোশাক পরা কিংবা আকর্ষণীয় গড়নের কোন মেয়ে দেখলে আমার ভালো লাগে। আমি যেহেতু পুরুষ, আমার যেহেতু যৌবন আছে, সেহেতু পহেলা বৈশাখের রঙীন শাড়ি পরা ঈষৎ কোমর উন্মোচিত যুবতী দেখলে আমার ভালোই লাগে, কখনো শিহরণও অনুভব করি। 

কিন্তু তাই বলে কোনো যুবতীর শরীরে রাস্তায় বা লোকালয়ে ঝাঁপিয়ে পরবো, এমন অসভ্যতা বা অসামাজিক আমি কী করে হতে পারি? ভালো লাগলেই বা শিহরিত হলেই তা পাবার জন্য আমি যত্রতত্র ঝাঁপিয়ে পরবো? এটাই কি নীতিশিক্ষা? 

কাম, ক্রোধ, লোভ - এই তিনটি রিপুকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়। যিনি না রাখতে পারেন, সে দায় তাঁর। একজন সামাজিক, সুশিক্ষিত ও সভ্য মানুষ অবশ্যই এই তিনটি রিপুকে নিয়ন্ত্রণে রাখেন বলেই তিনি সামাজিক, সুশিক্ষিত ও সভ্য। আমরা তাঁকেই সামাজিক, সুশিক্ষিত ও সভ্য বলি, যিনি তার এই তিনটি রিপুকে পরিমাপ মত নিয়ন্ত্রণে রাখেন। 

একটা উদাহরণ দেয়া হয় প্রায়ই: চিনির বস্তা খোলা থাকলে নাকি মাছি উড়ে এসে পড়বেই। হ্যাঁ, এটা সত্য। মিষ্টি জাতীয় খাবার খোলা থাকলে মাছি উড়ে এসে সে খাবারে হুমড়ি খেয়ে পড়ে, কিন্তু মানুষ এসে হুমড়ি খেয়ে পড়ে না। আর তাছাড়া নারীজাতিও চিনির বস্তা নয়, পুরুষরাও মাছি মত কিছু নয়। 

মানুষ আর মাছিকে একই মাত্রায় মাপাটা আহাম্মকি। অবশ্য এই ফারাকটুকু বোঝার মত জ্ঞান যাদের নেই, সেইসব মমিন বান্দার কাছে এই আলোচনার কোনো মুল্যই থাকবে না, এটাই স্বাভাবিক।

দু'টি ইছলামী প্রতীক



১৭ এপ্রিল, ২০১৫

বনি নাদির গোত্র উচ্ছেদ: শেষ দৃশ্য!: কুরানে বিগ্যান (পর্ব- ৭৫): ত্রাস, হত্যা ও হামলার আদেশ – উনপঞ্চাশ

লিখেছেন গোলাপ

পর্ব ১ > পর্ব ২ > পর্ব ৩ > পর্ব ৪ > পর্ব ৫ > পর্ব ৬ > পর্ব ৭ > পর্ব ৮ > পর্ব ৯ > পর্ব ১০ > পর্ব ১১ > পর্ব ১২ > পর্ব ১৩ > পর্ব ১৪ > পর্ব ১৫ > পর্ব ১৬ > পর্ব ১৭ > পর্ব ১৮ > পর্ব ১৯ > পর্ব ২০ > পর্ব ২১ > পর্ব ২২ > পর্ব ২৩ > পর্ব ২৪ > পর্ব ২৫ > পর্ব ২৬ > পর্ব ২৭ > পর্ব ২৮ > পর্ব ২৯ > পর্ব ৩০ > পর্ব ৩১ > পর্ব ৩২ > পর্ব ৩৩ > পর্ব ৩৪ > পর্ব ৩৫ > পর্ব ৩৬ > পর্ব ৩৭ > পর্ব ৩৮ > পর্ব ৩৯পর্ব ৪০ > পর্ব ৪১ > পর্ব ৪২ > পর্ব ৪৩ > পর্ব ৪৪ > পর্ব ৪৫ > পর্ব ৪৬ > পর্ব ৪৭ > পর্ব ৪৮ > পর্ব ৪৯ > পর্ব ৫০ > পর্ব ৫১ > পর্ব ৫২ > পর্ব ৫৩ > পর্ব ৫৪ > পর্ব ৫৫ > পর্ব ৫৬ > পর্ব ৫৭ > পর্ব ৫৮ > পর্ব ৫৯ > পর্ব ৬০ > পর্ব ৬১ > পর্ব ৬২ > পর্ব ৬৩ > পর্ব ৬৪ > পর্ব ৬৫ > পর্ব ৬৬ > পর্ব ৬৭ > পর্ব ৬৮ > পর্ব ৬৯ > পর্ব ৭০ > পর্ব ৭১ > পর্ব ৭২ > পর্ব ৭৩ > পর্ব ৭৪

স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর কর্মময় নবী জীবনে ওহুদ যুদ্ধের চরম ব্যর্থতার পর ওহুদ যুদ্ধ পরবর্তী চারটি মাসে আবু সুফিয়ান বিন হারব-কে হত্যা চেষ্টা, 'আল-রাজী’ও বীর মাউনা-র অভিযান কীরূপ করুণ ব্যর্থতায় সম্পন্ন হয়েছিল, তার আলোচনা গত তিনটি পর্বে করা হয়েছে।

বীর মাউনা অভিযানে আমর বিন উমাইয়া আল-দামরি নামের এক মুহাম্মদ অনুসারী কীভাবে বানু আমির গোত্রের দুইজন নিরীহ লোককে ঘুমন্ত অবস্থায় খুন করেছিলেন এবং সেই খুনের রক্তমুল্য পরিশোধ করতে মুহাম্মদ কেন বাধ্য ছিলেন, তার আলোচনা আগের পর্বে করা হয়েছে।

বীর মাউনার ঘটনার পর স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কী অজুহাতে মদিনায় অবস্থিত 'বনি-নাদির' নামক এক ইহুদি গোত্রের সমস্ত মানুষ কে তাঁদের শত শত বছরের পৈত্রিক ভিটে-মাটি থেকে জোরপূর্বক বিতাড়িত করে তাঁদের সমস্ত সম্পত্তি করায়ত্ত করার মাধ্যমে বনি আমির গোত্রের রক্ত-মূল্য, তাঁর পরিবার পরিজনদের ভরন-পোষণের অর্থ এবং তাঁর নেতৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করছিলেন - তার আংশিক আলোচনা "বনি নাদির গোত্রকে উচ্ছেদ ও তাদের সম্পত্তি লুট!" পর্বে করা হয়েছে।

মুহাম্মদের কর্মময় নবী জীবনের পরবর্তী অংশের ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে 'বনি নাদির গোত্র উচ্ছেদ’ ঘটনা সরাসরি সম্পর্কযুক্ত! 

তাই উৎসাহী পাঠকদের কাছে আমার অনুরোধ এই যে, তাঁরা যেন এই নৃশংস হৃদয়বিদারক উপাখ্যানের শেষ অংশটি পড়ার আগে এই উপাখ্যানের প্রথম অংশটির (পর্ব-৫২) উপর আর একবার চোখ বুলিয়ে নেন।

বনি নাদির গোত্র উচ্ছেদ উপাখ্যানের পরবর্তী অংশ 

মুহাম্মদ ইবনে ইশাক (৭০৪-৭৬৮ সাল) ও আল তাবারীর বর্ণনা: [1] 

পূর্ব প্রকাশিতের পর (Resumption of the narrative): 

'তাই তারা তাদের উঠগুলোর পিঠ যথাসম্ভব বহনযোগ্য জিনিস-পত্র দিয়ে বোঝাই করে। লোকেরা তাদের বসত বাড়ীর দরজার চৌকাঠ পর্যন্ত ধ্বংস করে তার যা কিছু সম্ভব তা তাদের উঠের পিঠের উপর স্থাপন করে ও তা নিয়ে রওনা হয়। কিছু লোক যায় খাইবার, অন্যরা যায় সিরিয়ায়। 

যে লোকগুলো খাইবারে গমন করে তাদের নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিল সাললাম ইবনে আবুল হুকায়েক [পর্ব-৫০], কিনানা বিন আল-রাবি বিন আবুল হুকায়েক ও হুয়েই বিন আখতাব। সেখানে যাওয়ার পর তারা হয় পরাধীন বাসিন্দা। 

আবদুল্লাহ বিন আবু বকর আমাকে [মুহাম্মদ ইবনে ইশাক] বলেছেন যে, তারা তাদের সঙ্গে নিয়ে আসে তাদের মহিলাদের, সন্তানদের, কিছু সম্পদ; খঞ্জনি ও বাঁশি, তাদের পিছনে গায়িকারা তা বাজাতে বাজাতে আসে। 

তাদের মধ্যে ছিল উরওয়া বিন আল-ওয়ারদ আল-আবসির স্ত্রী উম্মে 'আমর', যাকে তারা তার কাছ থেকে খরিদ করেছিল; সে ছিল বনি গিফার গোত্রের এক মহিলা। এমন ধুমধাম ও জাঁকজমক সহকারে (তারা গমন করে), যা সেই সময়ে অন্য কোন গোত্রের ক্ষেত্রে কখনো পরিলক্ষিত হয় নাই। 

তারা তাদের ধন-সম্পদ আল্লাহর নবীর কাছে ফেলে আসে এবং তা তাঁর ব্যক্তিগত ধন-সম্পদে পরিণত হয়, যা তিনি তাঁর ইচ্ছামত বিক্রি বা হস্তান্তর করতে পারেন।

আনসারদের বঞ্চিত করে তিনি সেগুলো মুহাজিরদের মধ্যে বণ্টন করেন। ব্যতিক্রম শুধু সাহল বিন হুনায়েফ এবং আবু দুজানা সিমাক বিন খারাশা নামের দুই আনসার, যারা তাদের দারিদ্র্যতার অভিযোগ আনে ও সে কারণে তিনি তাদেরকেও কিছু দান করেন। 

সম্পদ রক্ষার উদ্দেশ্যে বনি নাদির গোত্রের মাত্র দু’জন লোক মুসলমান হন: ইয়ামিন বিন উমায়ের আবু কা'ব বিন 'আমর' বিন জিহাশ, ও আবু সা'দ বিন ওহাব। 

ইয়ামিন পরিবারের লোকদের একজন আমাকে বলেছেন যে আল্লাহর নবী ইয়ামিন কে বলেন, "তুমি কী জানো যে তোমার জ্ঞাতিভাই (cousin) আমার সাথে কী রূপ ব্যবহার করেছে ও সে কী প্রস্তাব করেছে? 

তার পরিপ্রেক্ষিতে, ইয়ামিন এক লোককে অর্থের বিনিময়ে 'আমর' বিন জিহাশ কে খুন করার জন্য পাঠায়; ঐ লোকটি তাকে খুন করে, যা তারা জানিয়েছে।' 

(আল তাবারী হইতে বর্ণিত: 'আল-ওয়াকিদির উদ্ধৃতি: তারা যখন আল্লাহর নবীর উপর পাথর নিক্ষেপের ষড়যন্ত্র করে, --'আমর' বিন জিহাশ পাথর নিক্ষেপের জন্য ছাদের উপর উঠে। এই খবরটি আরশ থেকে আল্লাহর নবী কাছে পৌঁছে (News of this came to the Prophet from Heaven)--।') [2][3]

বনি নাদির গোত্রের এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ 'সুরা হাশর' নাজিল করে [সুরা: ৫৯]; যেখানে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বর্ণিত আছে কী ভাবে আল্লাহ তাদের উপর প্রতিহিংসার প্রকাশ ঘটিয়েছে, তার নবীকে তাদের উপর ক্ষমতাবান করেছে ও তিনি তাদের সাথে কীরূপ ব্যবহার করেছেন।                                       

আল্লাহ নাজিল করে

৫৯:২ - "তিনিই কিতাবধারীদের মধ্যে যারা কাফের, তাদেরকে প্রথমবার একত্রিত করে তাদের বাড়ী-ঘর থেকে বহিষ্কার করেছেন। তোমরা ধারণাও করতে পারনি যে, তারা বের হবে এবং তারা মনে করেছিল যে, তাদের দূর্গগুলো তাদেরকে আল্লাহর কবল থেকে রক্ষা করবে। অতঃপর আল্লাহর শাস্তি তাদের উপর এমন দিক থেকে আসল, যার কল্পনাও তারা করেনি। আল্লাহ তাদের অন্তরে ত্রাস সঞ্চার করে দিলেন। তারা তাদের বাড়ী-ঘর নিজেদের হাতে এবং মুসলমানদের হাতে ধ্বংস করছিল। অতএব, হে চক্ষুষ্মান ব্যক্তিগণ, তোমরা শিক্ষা গ্রহণ কর।"

>>> এখানে যা উল্লেখ করা হয়েছে, তা হলো, লোকেরা তাদের বসত বাড়ীর দরজার চৌকাঠ পর্যন্ত ধ্বংস করে এবং তা তাদের উটির পিঠের ওপর স্থাপন করে রওনা হয়; যেটি ছিল আল্লাহর প্রতিহিংসার গ্রহণ।

৫৯:৩ - "আল্লাহ যদি তাদের জন্যে নির্বাসন অবধারিত না করতেন, তবে তাদেরকে দুনিয়াতে শাস্তি দিতেন।"

>>> অর্থাৎ, তরবারি মারফত।

"আর পরকালে তাদের জন্যে রয়েছে জাহান্নামের আযাব।" 

>>> আরও আছে জাহান্নাম।

৫৯:৪-৫ - "এটা এ কারণে যে, তারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের বিরুদ্ধাচরণ করেছে। যে আল্লাহর বিরুদ্ধাচরণ করে, তার জানা উচিত যে, আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা। (৫) -তোমরা যে কিছু কিছু খর্জুর বৃক্ষ কেটে দিয়েছ এবং কতক না কেটে ছেড়ে দিয়েছ, তা তো আল্লাহরই আদেশ এবং যাতে তিনি অবাধ্যদেরকে লাঞ্ছিত করেন।"

>>> অর্থাৎ আল্লাহর হুকুমেই সেগুলো কাটা হয়েছিল; এটি কোনো ধ্বংস নয়, বরং আল্লাহর প্রতিশোধ গ্রহণ ও অবাধ্যদেরকে লাঞ্ছিত করণ।

৫৯:৬- "আল্লাহ বনু-বনুযায়রের কাছ থেকে তাঁর রসূলকে যে ধন-সম্পদ দিয়েছেন, তজ্জন্যে তোমরা ঘোড়ায় কিংবা উটে চড়ে যুদ্ধ করনি, কিন্তু আল্লাহ যার উপর ইচ্ছা, তাঁর রসূলগণকে প্রাধান্য দান করেন। আল্লাহ সবকিছুর উপর সর্বশক্তিমান।"          

>>> অর্থাৎ বনি নাদির গোত্রের কাছ থেকে।

৫৯:৭ - "আল্লাহ জনপদবাসীদের কাছ থেকে তাঁর রসূলকে যা দিয়েছেন, তা আল্লাহর, রসূলের, তাঁর আত্নীয়-স্বজনের, ইয়াতীমদের, অভাবগ্রস্তদের এবং মুসাফিরদের জন্যে, যাতে ধনৈশ্বর্য্য কেবল তোমাদের বিত্তশালীদের মধ্যেই পুঞ্জীভূত না হয়। রসূল তোমাদেরকে যা দেন, তা গ্রহণ কর এবং যা নিষেধ করেন, তা থেকে বিরত থাক এবং আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা।"

>>> মুসলিমরা জোরপূর্বক যে কৃষি-জমি ও বসত-বাড়ি (farms) হস্তগত করেছে, তার মালিক হলো আল্লাহ ও তার রসুল।

৫৯:৮-১০ - "এই ধন-সম্পদ দেশত্যাগী নিঃস্বদের জন্যে, যারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টিলাভের অন্বেষণে এবং আল্লাহ তাঁর রসূলের সাহায্যার্থে নিজেদের বাস্তুভিটা ও ধন-সম্পদ থেকে বহিস্কৃত হয়েছে। তারাই সত্যবাদী। (৯) -যারা মুহাজিরদের আগমনের পূর্বে মদীনায় বসবাস করেছিল এবং বিশ্বাস স্থাপন করেছিল, তারা মুহাজিরদের ভালবাসে, মুহাজিরদেরকে যা দেয়া হয়েছে, তজ্জন্যে তারা অন্তরে ঈর্ষাপোষণ করে না এবং নিজেরা অভাবগ্রস্ত হলেও তাদেরকে অগ্রাধিকার দান করে। যারা মনের কার্পণ্য থেকে মুক্ত, তারাই সফলকাম। (১০) -আর এই সম্পদ তাদের জন্যে, যারা তাদের পরে আগমন করেছে। তারা বলেঃ হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদেরকে এবং ঈমানে আগ্রহী আমাদের ভ্রাতাগণকে ক্ষমা কর এবং ঈমানদারদের বিরুদ্ধে আমাদের অন্তরে কোন বিদ্বেষ রেখো না। হে আমাদের পালনকর্তা, আপনি দয়ালু, পরম করুণাময়।"          

>>> তাই আল্লাহর নবী এই সম্পদ মুহাজিরদের মধ্যে বণ্টন করেন; ব্যতিক্রম শুধু সাহল বিন হুনায়েফ এবং আবু দুজানা সিমাক বিন খারাশা যারা তাদের দারিদ্র্যের অভিযোগ আনে ও তাই তিনি তাদেরকেও কিছু দান করেন।

৫৯:১১–১৪- "আপনি কি মুনাফিকদেরকে দেখেন নি?"

>>> এর মানে হলো, আবদুল্লাহ বিন উবাই ও তাঁর সহকারী ও যারা তাদের মতই মানসিকতার অধিকারী [বিস্তারিত, পর্ব: ৫২]।

"তারা তাদের কিতাবধারী কাফের ভাইদেরকে বলেঃ তোমরা যদি বহিস্কৃত হও, তবে আমরা অবশ্যই তোমাদের সাথে দেশ থেকে বের হয়ে যাব এবং তোমাদের ব্যাপারে আমরা কখনও কারও কথা মানব না। আর যদি তোমরা আক্রান্ত হও, তবে আমরা অবশ্যই তোমাদেরকে সাহায্য করব। আল্লাহ তা’আলা সাক্ষ্য দেন যে, ওরা নিশ্চয়ই মিথ্যাবাদী। (১২)- যদি তারা বহিস্কৃত হয়, তবে মুনাফিকরা তাদের সাথে দেশত্যাগ করবে না আর যদি তারা আক্রান্ত হয়, তবে তারা তাদেরকে সাহায্য করবে না। যদি তাদেরকে সাহায্য করে, তবে অবশ্যই পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে পলায়ন করবে। এরপর কাফেররা কোন সাহায্য পাবে না। (১৩)- নিশ্চয় তোমরা তাদের অন্তরে আল্লাহ তা’আলা অপেক্ষা অধিকতর ভয়াবহ। এটা এ কারণে যে, তারা এক নির্বোধ সম্প্রদায়। (১৪)- তারা সংঘবদ্ধভাবেও তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পারবে না। তারা যুদ্ধ করবে কেবল সুরক্ষিত জনপদে অথবা দুর্গ প্রাচীরের আড়াল থেকে। তাদের পারস্পরিক যুদ্ধই প্রচন্ড হয়ে থাকে। আপনি তাদেরকে ঐক্যবদ্ধ মনে করবেন; কিন্তু তাদের অন্তর শতধাবিচ্ছিন্ন। এটা এ কারণে যে, তারা এক কান্ডজ্ঞানহীণ সম্প্রদায়।"        

>>> অর্থাৎ বনি আল-নাদির 

৫৯:১৫ -"তারা সেই লোকদের মত, যারা তাদের নিকট অতীতে নিজেদের কর্মের শাস্তিভোগ করেছে। তাদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।"  

>>> অর্থাৎ বনি কেইনুকা গোত্রের পরিণতি [বিস্তারিত, পর্ব: ৫১]।

৫৯:১৬ -১৭ - "তারা শয়তানের মত, যে মানুষকে কাফের হতে বলে। অতঃপর যখন সে কাফের হয়, তখন শয়তান বলেঃ তোমার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই। আমি বিশ্বপালনকর্তা আল্লাহ তা’আলাকে ভয় করি। (১৭]) অতঃপর উভয়ের পরিণতি হবে এই যে, তারা জাহান্নামে যাবে এবং চিরকাল তথায় বসবাস করবে। এটাই জালেমদের শাস্তি।" [4][5] 

[ইসলামী ইতিহাসের ঊষালগ্ন থেকে আজ অবধি প্রায় প্রতিটি ইসলাম বিশ্বাসী প্রকৃত ইতিহাস জেনে বা না জেনে ইতিহাসের এ সকল অমানবিক অধ্যায়গুলো যাবতীয় চতুরতার মাধ্যমে বৈধতা দিয়ে এসেছেন। বিষয়গুলো অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিধায় বাংলা অনুবাদের সাথে মূল ইংরেজি অনুবাদের অংশটিও সংযুক্ত করছি। - অনুবাদ, টাইটেল, আয়াত নম্বর, >>> ও [**] যোগ - লেখক।]

১৬ এপ্রিল, ২০১৫

নারীর শরিয়াসম্মত পোশাক ও নিয়ন্ত্রণহীন মমিনীয় ঈমানদণ্ড

নারী ধর্ষিত হলে বা তাকে উত্যক্ত করা হলে এর পেছনে নিশ্চিতভাবেই নারীর পোশাক বা আচরণের ভূমিকা থাকে বলে মনে করে এক জাতীয় বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। এবং এদের সংখ্যা রীতিমতো আতঙ্কজাগানিয়া। আরও বেদনার কথা এই যে, এমন ধারণা পোষণ করে অনেক নারীও।

বাস্তবতা হচ্ছে এই যে, নারীর শরিয়াসম্মত পোশাকও মমিনীয় ঈমানদণ্ড নিয়ন্ত্রণে অক্ষম।




পোস্টার: দাঁড়িপাল্লা ধমাধম

আপাদমস্তক বস্তাবন্দী বোরখাবন্দী জেনানা দেখেও মমিনীয় ঈমানদণ্ড অদম্য।

ছহীহ ধর্ষবরণ উৎসব

লিখেছেন পুতুল হক

১.
সারাদিন ধরেই টিএসসির বর্বর ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন লেখা পড়ছি। নিউজ লিংকের কমেন্ট আমি পড়িনি। এদেশের মানুষের গড়পড়তা মানসিকতা জানা হয়ে গেছে। রুচি হয়না ওসব পড়তে বা ওদের সাথে তর্ক করতে। আমি শুধু বলতে চাচ্ছি, যে নারীদের নিয়ে এসব হলো, তাঁরা কীভাবে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করবেন? নাভীর উপর শাড়ি আর হিজাব পরে বৈশাখী মেলা পরিহার করবেন, নাকি নিজের সম্মানের জন্য খোলা চুলে নিজের পছন্দমত পোষাকে বের হবেন? 

এতো কিছুর পরেও যদি মেয়েরা পুরুষের নোংরা রুচির বহিঃপ্রকাশের জন্য নিজেদের শরীর এবং পোশাককে দায়ী মনে করেন, তাহলে বলবো - তাঁরা সারাজীবন "মেয়ে মানুষ" হয়েই থাকুক। মানুষ হবার যোগ্যতা এঁদের নেই। 

আর বাংলাদেশের গড়পড়তা পুরুষদের প্রতি ঘৃণা জানাবার ভাষা আমার নেই। অবশ্য পুত্রবধূর অর্ধউলঙ্গ শরীর দেখে যৌনাকাঙ্ক্ষা জাগা এবং কলে-কৌশলে তাকে বিয়ে করা ব্যক্তি যাদের চোখে মহামানব, তাদের কাছ থেকে আর যা-ই হোক, ভব্যতা আশা করা যায় না।

কিছু মেয়ে পিঠ খোলা রেখে নাভির নিচে শাড়ি পরে পহেলা বৈশাখে বের হয়েছিল। এ নিয়ে কিছু মুক্তাবালের ধারণা, তাতে নাকি দেশ "যৌনপল্লী" হয়ে গেছে, আর তাদের গায়ে হাত দেয়া জায়েজ! এদেরকে কেমনে বুঝাই কেউ ন্যাংটা হইয়া হাঁটলেও তার গায়ে হাত দেয়ার অধিকার কারো নাই...

সিলেটে এক গৃহবধুকে ধর্ষণ করল এক ইমাম। কারো ধর্মানুনুভোদায় আঘাত লাগার কথা শোনা গেল না।

শাড়ি পরে কিছু মেয়ে টিএসসিতে পহেলা বৈশাখ পালন করতে করতে গেলে কিছু মুসলমান মেয়েদেরকে ন্যাংটা করে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করল। চাপাতির কোপ বাদেও যে এভাবে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করা যায়, সেটা আমরা আবার নতুন করে শিখলাম।
পোস্টার ও মন্তব্য: দাঁড়িপাল্লা ধমাধম

২.
এইমাত্র এক বড় ভাইয়ের সাথে কথা হচ্ছিলো কালকের বর্বরতা নিয়ে। এমন ভাব করলো যে, সে কিছু জানেই না। সব শুনে বলল, এসব নিশ্চই বস্তির ছেলেপেলেদের কাজ। মাথা না ঘামাতে বলল আমাকে। আমার আশেপাশে ভদ্র সুশিক্ষিত ছেলেরা যারা ছিল, সারাদিন কেউ বিষয়টা নিয়ে তেমন কোন কথাই বলেনি। সবাই এড়িয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু এভাবে এড়িয়ে যাওয়াটা তো প্রকারান্তরে নীচ মানসিকতাকে সমর্থন করে যাওয়া। ঘটনাটা বস্তিতে হয়নি, হয়েছে পহেলা বৈশাখের উৎসবে, আমাদের রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে, দেশের সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোল ঘেঁষে। বস্তিতে কি মানুষ থাকে না? সেখানে কি সব রকম বর্বরতা বৈধ? তাহলেতো আমাদের পুরো দেশটাই একটা বস্তি। ঘটনাটা যদি আমাকে নিয়ে ঘটতো, তাহলেও কি আমার ভাই বন্ধুরা এভাবে এড়িয়ে যেত? কে জানে! ফোন রাখার আগে বলল, মাথা গরম না করে ইজিয়াম খেয়ে ঘুমাতে। 

আমরাতো ঘুমিয়েই আছি। শান্তির ছায়া পড়ছে মাথার ওপরে, না ঘুমিয়ে উপায় কী? এরপর ঘরে ঢুকে যখন হিজাব না পরার কারণে বিবস্ত্র করবে, তখনও ঘুম ভাঙবে না।