২৮ মার্চ, ২০১৫

ভগবানেশ্বরাল্যাফাকের আতিথেয়তা

লিখেছেন সৈকত চৌধুরী

খবরটি পড়তে গিয়ে চোখে জল চলে আসল। ধর্মান্ধ আবালরা মানুষের খাবার না খেয়ে ঘাস-লতা-পাতা খায় না কেন?

"নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার লাঙ্গলবন্দে ব্রহ্মপুত্র নদে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অষ্টমী পুণ্যস্নানের সময় পদদলিত হয়ে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে; আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২০ জন"।

"হুড়োহুড়ির মধ্যে স্ত্রীকে ধরে রেখেও শেষ পর্যন্ত বাঁচাতে না পারার আক্ষেপে পুড়ছেন অষ্টমী পুণ্যস্নানে আসা নোয়াখালীর কবিরহাটের অনীল নাথ"।

এ ধরণের প্রাণক্ষয় ঘটার খবর প্রায়ই পাওয়া যায়। ধর্মাবালদের এমনিতেই কমন সেন্স থাকে না, তার ওপর আবার যখন ধর্মীয় উন্মাদনা চরমে ওঠে, তখন ছাগলগুলো পরিণত হয় পাগলে।

হায়রে পুণ্যস্নান! নদীর দূষিত ময়লা পানিতে স্নান করলে পাপ দূর হবে, পূণ্য লাভ হবে! আধুনিক যুগেও মানুষ এসব গাঁজাখুরিতে বিশ্বাস করে - এ দুঃখ রাখি কোথায়, বলুন?

এ তো গেল সনাতনী ছাগলদের কথা। আমাদের মুসলমান বলদরা হজ্বে যায় প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে। এবং সেখানে গিয়ে বিভিন্ন রোগের জীবাণু বহন করে নিয়ে আসা থেকে পুড়ে মরা, পদদলিত হয়ে মরা, হিটস্ট্রোকে মরা সবই আছে। ছোট্ট একটি হিসাব:
  • ২০০৬ - ৩৬২ জন হুড়াহুড়ি করে পদদলিত হয়ে নিজেরাই মারা যায় শয়তানকে পাথর মারা নামক ছাগলামি করতে গিয়ে 
  • ২০০৪ - ২৫০ জন মারা যায় একই আবলামি করতে গিয়ে। 
  • ২০০১- ৩৫ জন মারা যায় আরাফাতে। 
  • ১৯৯৮ - মারা গেছে ১৮০ জন। 
  • ১৯৯৭- ৩৫০ পুড়ে মারা যায় (উহ! কী অবস্থা!) 
  • ১৯৯৪ - ২৭০ জন। 
  • ১৯৯০ - ১৪০০ (আবার বলছি ১৪০০) জন মারা যায় ইমানুনুভূতি চরমে উঠে হুড়োহুড়ি করতে গিয়ে। দুইন্নার এত ধর্মাবাল এক জায়গায় গিয়ে পৌঁছেছিল! 
  • ১৯৮৭ - ৪০০ জন।
আল্যাফাক এরকমই উপযুক্ত আতিথেয়তা প্রদর্শন করেন তার ব্যান্দাদের। অবশ্য তিনি এমন অক্ষম যে, ১৯৪১ সালে কাবা পানিতে ডুবে গেলেও বাঁচাতে পারেন নি, অথচ এটা নাকি তার ঘর, বায়তুল্লাহ!

পৃথিবী ধর্মমুক্ত হোক। পৃথিবীটা আবার মানুষের হোক।

অভিজিৎময় অভিযাত্রা - ০১

আলোর পথে আমাদের অভিযাত্রা এখন অভিজিৎহীন, কিন্তু অভিজিৎময়।

I am Avijit - আমিই অভিজিৎ-এর জন্য বানিয়েছেন সামিনা চৌধুরী এ্যানি



নদ-নদীর পানি দূষণে পাপের ভূমিকা

লিখেছেন ক্যাটম্যান

শুক্রবার সকালে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার লাঙ্গলবন্দে ব্রহ্মপুত্র নদে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অষ্টমী পুণ্যস্নান উৎসব শুরু হয়েছে। ভোর ৫ টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডে স্নান উৎসব শুরু হয়ে শনিবার ভোর ৬ টা ৫৯ মিনিট ৩৮ সেকেন্ডে লগ্ন শেষ হয়। এক্ষেত্রে ভগবানেরও যে ঘন্টা, মিনিট ও সেকেন্ড সম্পর্কে বেশ জ্ঞান রয়েছে, তা স্বীকার করতেই হবে। 

যাই হোক, ততক্ষণে পুণ্যস্নানকে কেন্দ্র করে এক মহা অঘটন ঘটে গেছে। পুণ্যস্নান শুরু হওয়ার প্রায় দু’ ঘন্টার মাথায় পদদলিত হয়ে দশজন পঞ্চাশোর্ধ্ব ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে মাদারীপুর জেলার চর মুগরিয়া কলেজের একজন ছাগাধ্যাপকও রয়েছেন। যিনি তার জীবনে অর্জিত অজস্র পাপের ভার সইতে না পেরে নিজ জেলা ছেড়ে নারায়ণগঞ্জের লাঙ্গলবন্দে এসেছিলেন পাপস্খলনের আশায়। কিন্তু নদের জলে পাপস্খলনের পরিবর্তে পাপী পুণ্যার্থীদের নির্মম পদাঘাতে জীবন-স্খলনের বন্দোবস্ত হয়ে গেছে তার। এ যেন মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি। কারণ অজস্র পাপে জর্জরিত দুর্বিসহ জীবন ধারণ করার চাইতে নির্মম পদাঘাতে অপমানজনক মৃত্যু অধিক উত্তম ও সম্মানের। 

তাছাড়া নদের জলে মানুষের পাপস্খলনের সম্ভাবনা যতটুকু আছে, তার চেয়ে পাপী মানুষের পদাঘাতে পাপস্খলনের সম্ভাবনা অধিক। নরাধম পাপীর আত্মসম্মানবোধ না থাকতে পারে, তবে পাপের নিজস্ব সম্মানবোধ অবশ্যই রয়েছে। যে কারণে পাপ পৃথিবীর কোনও সাধারণ ও নিকৃষ্ট প্রাণীর জীবনে ভর না করে অসাধারণ ও উৎকৃষ্ট জীব মানুষের জীবনে ভর করে এবং তার জীবনকে পাপে জর্জরিত করার মধ্য দিয়ে দুর্বিসহ করে তোলে। এমন আত্মসম্মানবোধ সম্পন্ন পাপ অন্যের পদাঘাতজনিত অপমান সহ্য করে পাপী ব্যক্তিকে জড়িয়ে ধরে পড়ে থাকবে তেমন আশা আমরা করতে পারি না। তাই লাঙ্গলবন্দে নিহত দশজন ব্যক্তি পদাঘাতে জীবন হারিয়ে যারপর নাই লাভবান হয়েছেন, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

যে রূপকথাকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর লাঙ্গলবন্দে পাপস্খলনের এই মহাযজ্ঞ আয়োজন করা হয়ে থাকে, তা এতটাই হাস্যকর যে, না জানলে উপলব্ধি করা কঠিন হবে সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীগণ কতটা সনাতনি নরছাগ। পৌরাণিক কাহিনী থেকে জানা যায়:
একদিন পরশুরামের মা রেণুকাদেবী জল আনতে গঙ্গার তীরে যান। সেখানে পদ্মমালী (মতান্তরে চিত্ররথ) নামক গন্ধর্বরাজ স্ত্রীসহ (মতান্তরে বেশ্যাদের সাথে) জলবিহার করছিলেন। পদ্মমালীর রূপ এবং বেশ্যাদের সমবেত জলবিহার অর্থাৎ জলে নেমে যৌনসঙ্গমের দৃশ্য অবলোকন করে রেণুকাদেবী এতটাই মোহিত হন যে, তিনি তন্ময় হয়ে সেদিকে তাকিয়ে থাকেন আর সেইসাথে জলে নেমে পদ্মমালীর সাথে বেশ্যাদের অনুরূপ যৌনসঙ্গমের কামনা অনুভব করেন। অন্যদিকে ঋষি জমদগ্নির হোমবেলা পেরিয়ে গেলেও সেদিকে তার মোটেও খেয়াল নেই। সম্বিৎ ফিরে পেলে রেণুকাদেবী কলস ভরে জল নিয়ে গিয়ে ঋষি জমদগ্নির সামনে হাতজোড় করে দাঁড়ান। এদিকে ঋষি জমদগ্নি তপোবলে সবকিছু জানতে পেরে রেগে গিয়ে ছেলেদের মাতৃহত্যার আদেশ দেন। পিতার এমন অন্যায় আদেশ শুনে প্রথম চার ছেলে মাকে হত্যা করতে অস্বীকৃতি জানান। কিন্তু পরশুরাম পিতার আদেশে মা এবং আদেশ পালন না করা ভাইদের কুঠার দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন। পরবর্তীকালে পিতা খুশি হয়ে বর দিতে চাইলে তিনি মা এবং ভাইদের প্রাণ ফিরে পেতে চান। তাতেই রাজি হন ঋষি জমদগ্নি। কিন্তু মাতৃহত্যার পাপে পরশুরামের হাতে কুঠার লেগেই থাকে। শত চেষ্টা করেও সে কুঠার খসাতে পারেন না তিনি। পিতার কাছে জিজ্ঞাসা করেন তার পাপ মুক্তির উপায়ের কথা। পিতা বলেন, তুমি মাতৃহত্যা ও স্ত্রীলোক হত্যা এই দুই পাপে আক্রান্ত হয়েছ, তাই তোমাকে তীর্থে তীর্থে ঘুরতে হবে, যে তীর্থের জলের স্পর্শে তোমার হাতের কুঠার খসে যাবে, মনে রাখবে সেই তীর্থই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ তীর্থস্থান। পিতার কথামতো পরশুরাম তীর্থে তীর্থে ঘুরতে থাকেন। শেষে ভারতবর্ষের সব তীর্থ ঘুরে ব্রহ্মকুন্ডের পুণ্যজলে স্নান করে তার হাতের কুঠার খসে পড়ে। পরশুরাম মনে মনে ভাবেন, এই পুণ্য বারিধারা সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দিলে মানুষ খুব উপকৃত হবে। তাই তিনি হাতের খসে যাওয়া কুঠারকে লাঙ্গলে রূপান্তর করে পাথর কেটে হিমালয়ের পাদদেশ থেকে মর্তলোকের সমভূমিতে সেই জলধারা নিয়ে আসেন। লাঙ্গল দিয়ে সমভূমির বুক চিরে দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হন তিনি। ক্রমাগত ভূমি কর্ষণজনিত শ্রমে পরশুরাম ক্লান্ত হয়ে পড়েন এবং বর্তমান নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানার অন্তর্গত সোনারগাঁওয়ে এসে তিনি লাঙ্গল চালানো বন্ধ করেন। এ জন্য এ স্থানের নাম হয় লাঙ্গলবন্দ। চৈত্র মাসের শুক্লাষ্টমী ( অশোকাষ্টমী ) তিথিতে ব্রহ্মপুত্র নদে পুণ্যস্নান শাস্ত্রোক্ত মতে নির্ধারিত বিধায় প্রতি বছর উক্ত তিথিতে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে পাপস্খালনের নিমিত্তে এই পুণ্যস্নান উৎসব পালিত হয়।
একজন মাতৃহন্তারকের মনগড়া ফর্মুলাকে পাপমুক্তির উপায় মেনে ছাগসনাতনি পাপী পুণ্যার্থীগণ ‘হে মহাভাগ ব্রহ্মপুত্র, হে লৌহিত্য তুমি আমার পাপ হরণ কর’ — এ মন্ত্র উচ্চারণ করে নিজ নিজ ইচ্ছানুযায়ী ফুল, বেলপাতা, ধান, দুর্বা, হরিতকী, ডাব, আমের পল্লব পণ্ঠভেতি দিয়ে তর্পণপূর্বক ব্রহ্মার নিকট কৃপা প্রার্থনা করে স্নান সম্পন্ন করেন। আর তা করতে গিয়ে পাপী সনাতনি নরছাগগণ নদ-নদী দূষণের ন্যায় মারাত্মক অপরাধ সংঘটনে অংশগ্রহণ করেন। এতদিন জানতাম নদ-নদী দূষণের জন্য শুধু শিল্প-বর্জ্য দায়ী, কিন্তু এখন দেখছি, মানুষের পাপও নদ-নদী দূষণে যথেষ্ট ভূমিকা রাখছে। মানুষ দিনে দিনে শুধু পাপ কামাবে, আর নদ-নদী, সাগরে গিয়ে তা ঢেলে দিয়ে জল দূষিত করবে, এমন অন্যায় মেনে নেয়া যায় না। এর বিরুদ্ধে আইন হওয়া উচিত এবং পাপী মানুষের পাপ দ্বারা সংঘটিত জল দূষণ রোধে পরিবেশ অধিদপ্তরকেও আরও সক্রিয় হতে হবে। এছাড়াও পরিবেশ রক্ষার্থে পাপী মানুষের কর্তব্য হওয়া উচিত, নিজেদের অর্জিত পাপ ঢেলে নদ-নদী ও সাগরের জল ঘোলা ও দূষিত না করে নিজ নিজ স্নানাগার বা গোসলখানায় ই. টি. পি. স্থাপন করে নিজেদের পাপ-বর্জ্য নিজ উদ্যোগে পরিশোধনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

এতদিন জানতাম গাধা জল ঘোলা করে, এখন দেখছি গাধার সাথে পাল্লা দিয়ে পাপী মানুষেরাও নিজেদের পাপ-বর্জ্য ঢেলে জল ঘোলা করে। হায়রে নরছাগ! হায়রে পাপ! হায়রে জল!

পবিত্র পুরীষ


২৭ মার্চ, ২০১৫

আমার কোরান মজিদ পাঠ: এমনে এমনে কিছু কথা

লিখেছেন বাংলার উসমান মুয়াজ্জিন মোহাম্মদ ইসলাম

কোরান মজিদ পাঠ করিবার ফ্রারম্ভেই যে কথা মাথায় ঘুরাঘুরি করে, তা হল দীর্ঘ যাত্রায়, যখন কোরান-ইসলাম-শরীয়াহ রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হইয়া তার পরিভ্রমন সালাইয়া আসে, তখন যুগ অনুযায়ী শাসক বা ধর্মীয় প্রবক্তাদের মন মেজাজ জ্ঞান রুক্ষতা হিংস্রতা অনুযায়ী ইসলাম ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশে ভিন্ন ভিন্ন রূপ লাভ কারাসে।

তাই সোটোলোক বাঙ্গালি ইসলামি গুরুদের চারিত্রিক চোট্টামির বৈশিষ্ট্য অনুযায়ীই বাংলাদেশের ইসলাম রূপ নিয়েছে। এখানকার মুসলিমরা হই গেসে অশিক্ষিত মাথা মোটা।

ইন্ডিয়ার মুসলিমরা বা ওখানকার ইসলাম কিন্তুক কিঞ্চিত ভিন্ন; এখানে মেজোরিটির হিন্দুর ভিতর থাইকতে থাইকতে, চাপে ফড়ি সংখ্যালঘু মুসলিমরা তুলনামূলকভাবে কিসুটা বিনয়ীর ভাব ধরতে বাধ্য, শোন্দর শোন্দর কথা কয়। এমনকি 'জাতীয়তাবাদ ধর্ম'র প্রভাব ভারতীয় মুসলিমদের ভিতর যতটা বিদ্যমান, ততটা বাংলাদেশী হুজুরদের ভিতর না।

এইবার আফনি যখন পাকিস্তান, আফগানিস্তানের ইসলাম ফর্যবেক্ষন কারেন, কি দেকবেন? আফনি দেকবেন যে, এখানকার মুসলিমরা সহিংস সশস্ত্র। এখানকার মানশ কেন এত বেশি গোলাবাজিকর বন্দুকবাজ ফ্রবন, তা বুজতে গেলে তাদের রাজনীতির ইতিহাস নিয়া আমাদিগকে অধ্যয়ন কোইত্তে হইবে।

মইধ্য ফ্রাইচ্য, অর্থাৎ সোদি কাতার কুয়েত ডুবাই ওমান ইয়েমেন বাহরাইনের ইসলাম কি ভারতীয় উফমহাদেশ অলাদের মতন? মোটেও না।

ইউরোফের ইসলাম আবার নরম সূরের,ভদ্র, সেক্যুলার টাইফ। আর আফ্রিকা? মালএশিয়া?

মোটের উফর বলা যায়, বর্তমানের সারাবিশ্বের ইসলামকে যুদি আমরা একটা কাঁঠাল ফলের সাথে তুলনা করি এবং উক্ত কাঁঠালটার ভিতর ভিন্ন ভিন্ন অবস্তানে কোনে যুদি থাকে মুসলিমদের অবস্থান, তবে কাঁঠালটার বাহিরের চামড়ার দৃশ্য থিকা অন্য লোকেরা দেকবে, এটির কুনো অংশ বোম-এর আঘাতে আঘাতে কালসেটে হই গেসে, আবার কাঁঠালটার কুনো অংশে দিখা যাবে দুর্নীতিগ্রস্ততার কারনে ঐ জায়গায় মাল মশলার অভাবে বিবর্নপ্রায়। কোনো অংশ হিংসা ক্রোধে ফাটি গেসে।

অতএব ধর্ম প্রচারের বা বিস্তারের নাম করি যখন ইসলাম নামক কাঁঠালটিকে হিংস্রতায়, হিংসায়, সাম্প্রদায়িকতায়, ক্রোধে কালসেটে দাগ ফালানো হচ্ছে বা পচায়ে ফেলা হইতেসে, তখন এটি হাদিয়া করার বা এটির সম্ভাব্য ভোক্তাকে নষ্ট করা হয়।

আচারী ধর্ম ফালনকারীদের কারনেই আজিয়া ইসলাম সারা বিশ্বে হাস্যকর ধর্মে ফরিনত হইতেসে! ধর্মকে যে কেটাগরিতে বিবেচনা করা হয়, সে কেটাগরিতে ধর্ম এখন আর নাই। এর মূল কারন ধর্মীয় বাণীকে বা আধ্যাত্মিক কথাকে যখন সরল বালখিল্য অর্থে লোকে বুঝে বা বুঝানো হয়, তখন এর ধারকেরা একে হিংস্রতায়, ঘৃন্যতায় রূপ দেয়। অতএব বিপক্ষ শক্তি সঙ্গত কারনেই একে গালি দেয় বা ধর্মের আধ্যাত্মিক গুরুকে গালিগালাজ করে।

অতএব মুসলিম হই যায় মুরতাদ, ইসলাম বিদ্বষী। অথবা নাস্তেক। নাস্তেক হওয়ার জন্য মূলত আস্তিকরাই দায়ী হয়।

যাই, সূরা ফাতিহা ফড়িগা। কামে দিবে।

চিত্রপঞ্চক - ১১৪



পাঠিয়েছেন সজীব নির্ঝর

"সেই ঠোঁটের দিকে তাকানো সবচেয়ে কঠিন, যে ঠোঁটে কখনও চুমু খাওয়া যাবে না"
(ছবি পাঠিয়েছেন মোকাম্মেল। অনুবাদও তাঁর।)


হ্যাংলা ধর্ম, বর্বর ধর্ম, সত্যবিমুখ ধর্ম

লিখেছেন শোভন

ধর্ম আর বিজ্ঞান - দুটো সম্পূর্ণ আলাদা জিনিস। ধর্মের ভিত্তি যেখানে অন্ধবিশ্বাস, বিজ্ঞানে সেখানে বিশ্বাসের কোনো জায়গাই নেই, যদি আপনি উপযুক্ত প্রমাণ আর যুক্তি দেখাতে পারেন, তবেই কেবলমাত্র আপনার কথাটাকে গ্রাহ্য করা হবে। তা না হলে আপনি কী বিশ্বাস করলেন না করলেন, সেটা নিয়ে কেউ মাথা ঘামাবে না। এখান থেকেই বোঝা যায়, ধর্ম আর বিজ্ঞান কতটা ভিন্নধর্মী। মোট কথা, ধর্মের সাথে বিজ্ঞানের বিন্দুমাত্র সম্পর্ক নেই। ধর্মের সাথে বিজ্ঞানের আপাত কোনো বিরোধও নেই, আবার বন্ধুত্বও নেই। বিজ্ঞানের সাথে সত্য ঘটনার বন্ধুত্ব আর মিথ্যা-কল্পনার বিরোধ। 

প্রাচীন কালে অনেক অনেক বিশ্বাস প্রচলিত ছিল, দেবী হেরার মাতৃদুগ্ধ থেকে মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির সৃষ্টি হওয়া থেকে শুরু করে অ্যাটলাস-এর (গ্রিক মিথোলজি) মাথার ওপর পৃথিবী থাকা এবং সূর্যের পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘোরা - সবই প্রাচীন কালের বিশ্বাস এবং এগুলোকে তখন সত্য বলে মানা হত। এখনকার ধার্মিকদের জন্ম যদি সেই সময় হত, তাহলে তারাও এটাকে সত্য বলত, এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু বিজ্ঞানের আলো এসব অন্ধকারকে দূর করে দিল। মিথ্যা কল্পনাকে দূর করে সত্যটা জানালো পুরো বিশ্বকে। পৃথিবী যে অ্যাটলাসের মাথার ওপর নেই, হেরার মাতৃদুগ্ধ হতে যে আমাদের গ্যালাক্সি সৃষ্টি হয়নি, পৃথিবীর চারদিকে যে সূর্য ঘোরে না, এসব এখন প্রতিষ্ঠিত সত্য।

এর পরও যদি কেউ এই সমস্ত প্রাচীন বিশ্বাসকে সত্য ধরে বসে থাকে, তো সে হবে সবার কাছে হাসির পাত্র। সত্যটাকে প্রকাশ করার জন্য বিজ্ঞানকেও কম কাঠখড় পোড়াতে হয়নি। বিরোধিতা এলো ধর্ম থেকেই, কারণ ধর্ম হল বিশ্বাস, আর বিশ্বাসকে মুছে দিয়ে জ্ঞানের আলো আনার প্রচেষ্টা করায় ধর্মরক্ষক ও ধর্মব্যবসায়ীরা উঠে পড়ে লাগলো সত্য উদ্ঘাটনকারীদের পেছনে। মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হল সক্রেটিস, গ্যালিলিও এবং জিওনার্দো ব্রুনোর মত জ্ঞানীদের। তাঁরা মারা গিয়েছেন, কিন্তু সত্য কিন্তু অপ্রকাশিত থাকেনি। তাদের প্রকাশ করা তথ্য এখন দিনের আলোর মত পরিষ্কার সবার সামনে।

এ সকল ঘটনা থেকে মানবজাতির একটা হলেও শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত ছিল, সেটা হলো: আমরা ছোটবেলা থেকে যেটা বিশ্বাস করে আসছি, সেটা সত্য না-ও হতে পারে। সেটাকে ধরে বসে থাকলে আমরা সত্যটা কোনদিনও জানতে পারবো না। 

যদি মানুষ তাদের প্রাচীন বিশ্বাসকে ধরে বসে থাকতো, তো এখন এই মহাবিশ্বের অনেক রহস্যই আমাদের কাছে অজানা থেকে যেত, আমরা থেকে যেতাম অন্ধকারের ভেতরেই। বিশ্বাসকে আঁকড়ে ধরে থাকলে কোনোদিনও সম্ভব হবে না জ্ঞানের আলোয় আসা। কিন্তু মানবজাতি কি সে শিক্ষা গ্রহণ করেছে? না, তারা সেই পুরনো ইতিহাসেরই পুনরাবৃত্তি ঘটাচ্ছে এই একুশ শতকে এসেও। ভুল বিশ্বাসের বিরুদ্ধে কথা বলার জন্য এখনও প্রাণ দিতে হচ্ছে দাভোলকার, হুমায়ুন আজাদ, রাজীব হায়দার (থাবা বাবা), সফদর হাসমি, গোবিন্দ পানসারেরা, অভিজিৎ রায়-এর মত লোকদের। এখনও এমন অনেক বিশ্বাস আমাদের ভেতর প্রচলিত, ঠিক প্রাচীন কালের মত, যাকে ছাড়তে আমরা নারাজ, যাকে আঁকড়ে ধরে রাখার জন্য আমরা খুন পর্যন্ত করতে দ্বিধাবোধ করি না, কারণ তা আমাদের ধর্মের অন্ধবিশ্বাস। 

কোনো এক বৃদ্ধ ঈশ্বর আকাশে বসে থেকে আমাদের পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন, আদমের পাঁজরের হাড্ডি থেকে সৃষ্টি হয়েছে হাওয়া, খোলা চোখে দেখলে বোঝা যায় যে, এসবের সাথে প্রাচীন ওইসকল বিশ্বাসের বিন্দুমাত্র পার্থক্য নেই। এক সময় সেগুলো সত্য ছিল, এখন সেগুলো রূপকথা, এখন যে প্রমাণহীন বিশ্বাসগুলোকে আমরা সত্য বলে ধরে বসে আছি, এসবও একদিন রূপকথায় পরিণত হবে। ব্রুনোকে পুড়িয়ে সত্যটা যেমন থামানো যায়নি, অভিজিৎকে মেরেও সত্যটা থামানো যাবে না। আজ যদি আপনি কারোর সামনে গিয়ে বলেন, "সূর্য পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে", তখন আপনাকে নিয়ে হাস্য-কৌতুকের অন্ত থাকবে না, (যেমন, এখন মানুষ কৌতুক করছে সৌদির সেই "বিগ্যানী"-কে নিয়ে, যে বলেছে সূর্যই নাকি পৃথিবীর চারিদিকে ঘোরে), ঠিক তেমনি আজ থেকে কোনো এক নির্দিষ্ট সময় পর যখন আপনি কারোর কাছে বলবেন, "আদমের হাড্ডি থেকে হাওয়ার সৃষ্টি হয়েছিল", তখন আপনি যে উত্তরটা পাবেন, তা হলো "ড্যুড, তুমি কি এখনও সেই একুশ শতকের রূপকথাতে বিশ্বাস কর?! মাথায় সমস্যা আছে তোমার!" বিশ্বাসের পরিণতি চিরকাল এমনই ছিল, এমনই থেকে যাবে। বিজ্ঞানের কাজ হল এই অপ্রয়োজনীয় বিশ্বাস ভাঙার কাজটাকে তরাণ্বিত করা, আর ধর্মের কাজ হল কাজটার গতিকে বাধা দেয়া, মন্থর করে দেওয়া।

অধর্ম ঠেকিয়ে ধর্মকে বাঁচাতে ধার্মিকেরা এখনও দৃঢ়। তবে এখন তাদের পন্থাটা বদলে গেছে। তারা বুঝে গেছে যে, বিজ্ঞানের বিরোধিতা করে তারা ইতিহাসে কখনও জিততে পারে নি, ভবিষ্যতেও পারবে না। সুতরাং বিজ্ঞানের সাথে লড়তে হলে লাগবে তাদের নিজেস্ব বিজ্ঞান। কিন্তু তারা এটা বুঝতে ভুল করেছে যে, বিজ্ঞানের কোন প্রকারভেদ নেই, বিজ্ঞান বিজ্ঞানই, এটা ধর্মেরও ধার ধারে না, অধর্মেরও ধার ধারে না। বিজ্ঞানকে নিজেদের পক্ষে নিয়ে আসতে ব্যর্থ হয়ে তারা নিজেরাই বানিয়ে নিয়েছে তাদের "স্যুডো বিজ্ঞান", যার ভিত্তি তাদের সেই পুরোন বস্তাপচা বিশ্বাস।

এই আধুনিক সমাজে হাজার হাজার ভণ্ড উদয় হয়েছে সকল ধর্ম থেকেই, যারা প্রাণপণ চেষ্টা করে যায় ধর্মের সাথে বিজ্ঞানকে মেলানোর। তারা অপ্রাণ চেষ্টা করে যায় বিজ্ঞানের কাছ থেকে একটা সার্টিফিকেট পাবার যে "হ্যাঁ, এই ধর্মই বিজ্ঞানসম্মত, এই ধর্মই সত্য।" এর কারণ একটাই, যা আগেই বলা হয়েছে। বিজ্ঞানের সাথে সত্যের বন্ধুত্ব, আর মিথ্যা-কল্পনার বিরোধ। তাই নিজের ধর্মকে সত্য প্রমাণ করার জন্য সেইসব ভণ্ডদের যা দরকার, তা হল বিজ্ঞানের কাছ থেকে একটি সার্টিফিকেট। তবে ধর্মের কাছ থেকে সার্টিফিকেট নেয়ার প্রয়োজনীয়তা বিজ্ঞানের কিন্তু কখনোই হয় না।

এই সার্টিফিকেট পাবার জন্য তারা পৃথিবী ওল্টাতেও দ্বিধাবোধ করে না। নিজেদের ধর্মগ্রন্থ থেকে আসা বিভিন্ন জিনিস থেকে তারা একটু ঘুুরিয়ে রং চড়িয়ে বিজ্ঞানের সাথে মেলানোর চেষ্টা করে। মাঝে মাঝে তাদের এ পাগলামি সীমা ছাড়িয়ে যায়, হাসির পাত্র হয়ে ওঠে তারা, যেমন এখন পৃথিবীর অন্যতম হাসির পাত্ররা হল জাকির নায়েক, জয়েল অস্টিন, জয়েস মায়ার, ইত্যাদি। বিজ্ঞান যখন কঠোর গবেষণা আর পরীক্ষার মাধ্যমে কোনো একটা সিদ্ধান্তে উপনীত হয়, ঠিক তখনই ঘন্টা বাজাতে বাজাতে উপস্থিত হন সেই ভণ্ডরা। "আমার ধর্ম গ্রন্থে এটা এত বছর আগেই লেখা ছিল! যেটা বিজ্ঞানীরা খুঁজে পেল আজ!!" 

এই কাহিনীই চলে আসছে আদিকাল থেকে। বিজ্ঞান কিছু আবিষ্কার করে, আর ওমনি জাকির নায়েক, জোয়েল অস্টিন জাতীয় কেউ সেটা কোরান-বাইবেলে খুঁজে পায়। আজ পর্যন্ত এর উল্টোটা হতে দেখা যায় না যে, জোয়েল, জাকির কুরান বাইবেল থেকে কিছু আবিষ্কার করার পর তার শত বছর পরে বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা করে দেখল - এটা সত্য। কুরান আর বাইবেলে যদি সকল বিজ্ঞান আগে থেকেই থাকতো, তবে চার্চের পাদ্রী আর মাদ্রাসার ছাত্ররা হত পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী। ল্যাবরেটরির বদলে সকল স্থানে বসানো হত মাদ্রাসা আর চার্চ। 

মানুষ কি কোনোদিনও বুঝবে এই পরিষ্কার সত্যটা যে, চিরকাল পুরনো বিশ্বাসকে আঁকড়ে ধরে থাকা সম্ভব না এবং এটা করার চেষ্টা করাটাও বোকামি? এটা চিন্তা করে আমার খুবই দুঃখ লাগে যে, এখনও পৃথিবীর সিংহভাগ মানুষই যুক্তি, প্রমাণ এবং রিজোনিং-এর চেয়ে তাদের বস্তাপচা ধর্মীয় বিশ্বাসকেই বেশি গুরুত্ব দেয়। তাদের অন্ধবিশ্বাসের পরিণতি সম্পর্কে এত ঘটনা, এত উদাহরণ তাদের চোখের সামনে পেশ করার পরও তারা অন্ধের মত অন্ধকার পথের দিকেই যায়। 

পৃথিবী কি এমনই থেকে যাবে চিরকাল? চিরকালই কি সত্য প্রকাশ করার জন্য ধর্মের কাছে প্রাণ হারাতে হবে ব্রুনো, গ্যালিলিও, অভিজিৎ আর হুমায়ুন আজাদের মত জ্ঞানীদের? হয়ত হবে। সত্য বলার অপরাধে ব্রুনোকে মরতে হয়েছিল, কিন্তু সত্যটা প্রকাশিত হয়ে গিয়েছে। সত্য বলার অপরাধে অভিজিৎকে মরতে হল, কিন্তু সত্য ঠিকই প্রকাশিত হয়েছে, হচ্ছে ও হবে, আবার হয়ত এমনই কোনো এক সত্য বলার অপরাধে ভবিষ্যতে কোনো এক মূল্যবান জীবন হারিয়ে যাবে, কিন্তু সত্যটা ঠিকই প্রকাশিত হবে। সত্যটা চিরকাল ঠিকই প্রকাশিত হবে। সত্যটা চিরকাল ঠিকই প্রকাশিত হবে।

সংবাদ ইলাস্ট্রেটেড

১.
হিজাব না পরার জন্য ছাত্রীকে অমানবিকভাবে পিটিয়েছে মিশরের এক ধর্মশিক্ষক। মিশরের কায়রোতে ঘটা গত সোমবারের সেই ঘটনায় অবশেষে সেই ধর্মশিক্ষককে গ্রেফতার করা হয়েছে। না, শিক্ষক তার ছাত্রীকে শুধু নৃশংসভাবে পেটায়ইনি, এমনকি তার মাথার চুলও কেটে দিয়েছে। (স-ভূমিকা লিংক: নিলয় নীল)


২.
মাত্র ৭ বছর বয়সী বালিকাকে আত্মঘাতী বোমারু বানানোর কৃতিত্ব সম্পূর্ণভাবেই ইছলামীদের। হামলায় বালিকাটিসহ আরও ৫ জন মারা গেছে।


২৬ মার্চ, ২০১৫

অভিজিৎ হত্যার এক মাস

লিখেছেন বন্যা আহমেদ

মার্চ মাসের ছাব্বিশ তারিখ আজ – ঠিক এক মাস আগে আমার স্বামী অভিজিৎ রায় এবং আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নির্মমভাবে আক্রান্ত হয়েছিলাম।

অভিজিৎ বিজ্ঞান এবং মানবাধিকার বিষয়ে লেখালেখি করতো, কঠোর সমালোচনা করতো ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে, এবং প্রতিষ্ঠা করেছিল মুক্তচিন্তকদের জন্য বাংলায় সর্বপ্রথম একটা অনলাইন প্লাটফর্ম – মুক্তমনা। এই সবের জন্য, ধর্মীয় মৌলবাদীরা তাঁকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে।

হামলাটা ঘটেছিলো জনাকীর্ণ এলাকায়, অসংখ্য মানুষের চোখের সামনে। সেখানে নিরাপত্তা ক্যামেরা ছিলো, ছিলো পুলিশ চেকপয়েন্ট। অভিজিৎ হত্যার অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে ‘আনসার বাংলা ৭’ নামের একটি ইসলামি চরমপন্থী সংগঠন সামাজিক মাধ্যমে এই হামলার কৃতিত্ব দাবী করে। এতো কিছুর পরেও এক মাস পরে এসে একজন মাত্র সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা ছাড়া এই তদন্তের আর কোনো অগ্রগতি নেই।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার তদন্তে সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও, অভিজিৎ হত্যার পর থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে সম্পূর্ণ নিশ্চুপ থেকেছে। এটি খুবই আশংকাজনক এবং ভীতিকর একটি অবস্থা। ‘আনসার বাংলা-৭’ এর নেতারা এখন কোথায় লুকিয়ে আছে? কেনো তাদেরকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না বা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ধরা হচ্ছে না?

যুক্তিবাদী লেখকদের ওপর এরকম হামলা বাংলাদেশে এটাই প্রথম নয়। এর আগেও এরকম ঘটনা ঘটেছে। বিচার না হবার কারণে সন্ত্রাসীরা নিজেদের ভেবেছে দুর্জেয়, আর হতাশায় মুষড়ে পড়েছে সাধারণ জনগণ। আমরা দাবি জানাই যে, বাংলাদেশ সরকার ধর্মীয় সন্ত্রাসবাদকে শিকড়সহ উপড়ে ফেলুক, লেখক-হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় না এনে তাদেরকে অব্যাহতি দেওয়ার সংস্কৃতি বন্ধ করুক।

ছাব্বিশ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস। এই রাষ্ট্রের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম একটা মূলনীতি ছিলো ধর্মনিরপেক্ষতা। এর মাধ্যমে নিশ্চিত করার কথা ছিলো সকল মানুষের বাক স্বাধীনতাকে। কিন্তু, অত্যন্ত দুঃখের সাথে আমরা উপলদ্ধি করছি যে, আজকে সেই দেশেই ধর্মোন্মাদদের অরাজক কাজকর্মের বিচার চাইবার জন্য আমাদের কাকুতি-মিনতি করতে হচ্ছে।

অভিজিৎ-এর স্ত্রী, তাঁর সহযাত্রী লেখক, এবং একজন মুক্তমনা হিসাবে, আমি আবারো এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানাচ্ছি এবং বাংলাদেশ সরকারকে আহবান জানাচ্ছি অভিজিৎ হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করার জন্য এবং এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু এবং পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করার জন্য।

যার যেটা অস্ত্র - ১০

কলম নামের অস্ত্রের জবাবে কলম ব্যবহার করতে অক্ষম ধর্মবিশ্বাসীরা হাতে তুলে নেয় মারণাস্ত্র। কিন্তু এরা জানে না, ইতিহাসে কখনওই কলমকে স্তব্ধ করা যায়নি।



আবু সুফিয়ানকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুপ্তঘাতক প্রেরণ!: কুরানে বিগ্যান (পর্ব-৭৩): ত্রাস, হত্যা ও হামলার আদেশ – সাতচল্লিশ

লিখেছেন গোলাপ

পর্ব ১ > পর্ব ২ > পর্ব ৩ > পর্ব ৪ > পর্ব ৫ > পর্ব ৬ > পর্ব ৭ > পর্ব ৮ > পর্ব ৯ > পর্ব ১০ > পর্ব ১১ > পর্ব ১২ > পর্ব ১৩ > পর্ব ১৪ > পর্ব ১৫ > পর্ব ১৬ > পর্ব ১৭ > পর্ব ১৮ > পর্ব ১৯ > পর্ব ২০ > পর্ব ২১ > পর্ব ২২ > পর্ব ২৩ > পর্ব ২৪ > পর্ব ২৫ > পর্ব ২৬ > পর্ব ২৭ > পর্ব ২৮ > পর্ব ২৯ > পর্ব ৩০ > পর্ব ৩১ > পর্ব ৩২ > পর্ব ৩৩ > পর্ব ৩৪ > পর্ব ৩৫ > পর্ব ৩৬ > পর্ব ৩৭ > পর্ব ৩৮ > পর্ব ৩৯পর্ব ৪০ > পর্ব ৪১ > পর্ব ৪২ > পর্ব ৪৩ > পর্ব ৪৪ > পর্ব ৪৫ > পর্ব ৪৬ > পর্ব ৪৭ > পর্ব ৪৮ > পর্ব ৪৯ > পর্ব ৫০ > পর্ব ৫১ > পর্ব ৫২ > পর্ব ৫৩ > পর্ব ৫৪ > পর্ব ৫৫ > পর্ব ৫৬ > পর্ব ৫৭ > পর্ব ৫৮ > পর্ব ৫৯ > পর্ব ৬০ > পর্ব ৬১ > পর্ব ৬২ > পর্ব ৬৩ > পর্ব ৬৪ > পর্ব ৬৫ > পর্ব ৬৬ > পর্ব ৬৭ > পর্ব ৬৮ > পর্ব ৬৯ > পর্ব ৭০ > পর্ব ৭১ > পর্ব ৭২

স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর মদিনায় স্বেচ্ছানির্বাসনের (হিজরত) পর তাঁর ও তাঁর অনুসারীরা মক্কার কুরাইশ, মদিনার ইহুদি সম্প্রদায় ও মদিনার চতুষ্পার্শ্বের অন্যান্য অমুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর যে আগ্রাসী, নৃশংস ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সূত্রপাত করেছিলেন, তারই ধারাবাহিকতায় আদাল ও আল-কারা গোত্রের কিছু লোক হুদায়েল গোত্রের কিছু লোকের সহায়তায় মুহাম্মদের ছয়জন অনুসারীকে কীভাবে আক্রমণ করে তাদের চারজনকে খুন এবং খুবায়েব বিন আদি ও যায়েদ বিন আল-দাথিননা নামের দুইজনকে বন্দী করে মক্কায় ধরে নিয়ে এসেছিলেন এবং হুজায়ের বিন আবু ইহাব আল-তামিমি ও সাফওয়ান বিন উমাইয়া নামক দুই কুরাইশ তাদেরকে কিনে নিয়ে কী কারণে হত্যা করেছিলেন, তার বিস্তারিত আলোচনা আগের পর্বে করা হয়েছে।

খুবায়েব বিন আদি ও যায়েদ বিন আল-দাথিননার হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার পর, অনতিবিলম্বে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ কুরাইশ নেতা আবু সুফিয়ান বিন হারবকে হত্যার আদেশ সহকারে ‘আমর বিন উমাইয়া (Amr bin Umayya)’ নামক তাঁর এক আদি মক্কাবাসী অনুসারীকে (মুহাজির) মক্কায় প্রেরণ করেন। আমরকে সাহায্য করার জন্য মুহাম্মদ তাঁর এক আদি মদিনাবাসী অনুসারীকে ও (আনসার) তার সঙ্গে পাঠান।

কিন্তু এই দুই ঘাতক আবু সুফিয়ানকে হত্যা করতে ব্যর্থ হয়। আবু সুফিয়ানকে হত্যার আগেই মক্কাবাসীরা ‘আমর’-কে চিনে ফেলে এবং তারা তাদেরকে ধাওয়া করে। ঘাতকরা পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়।

পালিয়ে আসার সময় পথিমধ্যে ঘাতক আমর বিন উমাইয়া তিনজন মানুষকে অমানুষিক নৃশংসতায় খুন করে, যাদের একজন ছিলেন এক-চোখ-অন্ধ প্রতিবন্ধী।

ঐ অন্ধ প্রতিবন্ধীর সতেজ চোখটির ভেতরে আমর তার ধনুকের আগা ঢুকিয়ে দিয়ে সজোরে চাপ দিতে থাকে, যতক্ষণ পর্যন্ত না তা লোকটির চোখের ভিতর দিয়ে ঢুকে তাঁর ঘাড়ের পিছন দিক দিয়ে বাহিরে বের হয়ে আসে!

কী অপরাধে ঐ অন্ধ প্রতিবন্ধী মানুষটিকে এমন অমানুষিক নৃশংসতায় খুন করা হয়েছিল, তার প্রাণবন্ত বিবরণ আদি ও বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকরা লিখে রেখেছেন!

মুহাম্মদ ইবনে ইশাক (৭০৪-৭৬৮ সাল) ও আল-তাবারীর বর্ণনা: [1] [2] [3] [4]

[আল-তাবারী <] ইবনে হুমায়েদ হইতে < সালামা বিন আল ফাদল হইতে < মুহাম্মদ ইবনে ইশাক হইতে < জাফর বিন আল-ফাদল বিন বিন আল-হাসান বিন আমর বিন উমাইয়া হইতে বর্ণিত হয়েছে যে শেষ উক্ত ব্যক্তিটি বলেছেন:

'খুবায়েব ও তার সঙ্গীদের খুন হওয়ার পর আল্লাহর নবী আমার [আমর বিন উমাইয়া] সাথে একজন আনসারকে সঙ্গে দিয়ে এই আদেশ সহকারে পাঠান যে, আমরা যেন আবু সুফিয়ানকে খুন করি; তাই আমরা রওনা হই। 

আমার সঙ্গীর কোনো উট ছিল না এবং তার পায়ে ছিল জখম, তাই আমি তাকে আমার উটের ওপর সওয়ার করে ইয়াজাজ উপত্যকা পর্যন্ত নিয়ে আসি ও তার এক কোণে পশুটিকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রেখে আমরা বিশ্রাম নিই। 

আমি আমার সঙ্গীর কাছে এই প্রস্তাব দিই যে, আমরা আবু সুফিয়ানের বড়িতে যাব ও যখন আমি তাকে হত্যার চেষ্টা করবো, তখন সে চারদিকে নজর রাখবে। যদি কোনো গোলমাল হয় কিংবা সে যদি কোনো বিপদের আশংকা করে, তবে সে যেন উটটির কাছে ফিরে আসে ও মদিনায় প্রত্যাবর্তন করে আল্লাহর নবীকে খবরটি জানায়; সে আমাকে ফেলে রেখেই যেতে পারে এ কারণে যে, এই জায়গাটি আমার খুব পরিচিত ও আমি দ্রুত হাঁটতে পারি।

আমার কাছে ছিল ঈগলের পালকের মত এক ছোট ছুরি, যখন আমরা মক্কায় প্রবেশ করি, তখন আমি তা এমনভাবে প্রস্তুত রাখি, যদি কেউ আমাকে ধরার চেষ্টা করে, তবে আমি তা দিয়ে তাকে খুন করতে পারি। 

আমার সঙ্গীর অনুরোধ এই যে আমরা সাত বার ক্বাবা প্রদক্ষিণ করি ও কয়েক রাকাত নামাজ পড়ে কাজটি শুরু করি।

আমি তাকে বলি যে, আমি মক্কাবাসীদের সম্বন্ধে তার চেয়ে অনেক ভাল জানি: সন্ধ্যার সময় তারা তার প্রাঙ্গণে পানি ছিটায় ও তাতে বসে থাকে, ফলে চিত্রবিচিত্র ঘোড়ার চেয়েও বেশি সহজে তারা আমাকে চিনতে পারবে।

কিন্তু সে আমাকে সেই অনুরোধ করতেই থাকে যতক্ষণ না সে যেটা চেয়েছে আমরা তা-ই করি। যখন আমরা ক্বাবা থেকে বের হয়ে তাদের সেই জটলার একটির পাশ দিয়ে যাই, তখন এক লোক আমাকে চিনে ফেলে ও তার গলার সমস্ত শক্তি দিয়ে চিৎকার করে বলে,

"এই সেই 'আমর বিন উমাইয়া'!"

তারপর মক্কাবাসীরা আমাদের দিকে দৌড়ে আসে. ও বলে, "আল্লাহর কসম, ‘আমর’ কোনো ভাল কাজে আসেনি। সে অনিষ্ট ছাড়া কখনো কোনো ভাল কিছু নিয়ে আসে না;" কারণ ধর্মহীন সময়ে ‘আমর’ ছিল হিংস্র (Violent) ও অবাধ্য (Unruly) এক ব্যক্তি।

তারা আমাদের পিছু পিছু ছুটে আসে এবং আমি আমার সঙ্গীকে পালাতে বলি। কারণ আমি যে আশংকাটি করেছিলাম, ঠিক তাইই ঘটেছে, এই অবস্থায় আবু সুফিয়ানকে পাবার কোনো উপায়ই নেই।

আমরা অত্যন্ত দ্রুত গতিতে বের হয়ে আসি এবং পাহাড়ের ওপর উঠি ও এক গুহার ভেতর ঢুকে সেখানে রাত্রিযাপন করি; তাদের কাছ থেকে আমরা সফলভাবে পলায়ন করি, তারা মক্কায় ফিরে যায়।

গুহার ভেতরে ঢুকে আমি তার প্রবেশপথ আড়াল করার জন্য কিছু পাথর জড় করে রাখি ও আমার সঙ্গীকে তাদের পশ্চাদ্ধাবন বন্ধ হবার পূর্ব পর্যন্ত চুপ থাকতে বলি; কারণ তারা সেই রাতে ও তার পরের দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত আমাদের সন্ধান করতে পারে।

যখন আমরা গুহার ভেতরে, তখন ওসমান বিন মালিক বিন ওবায়েদুল্লাহ আল-তায়েমি তার ঘোড়ার ঘাস কাটার জন্য সেখানে আসে। সে আমাদের নিকটে আসতেই থাকে, যতক্ষণ পর্যন্ত না সে গুহার প্রবেশ পথের একদম সামনে এসে হাজির হয়।

আমি আমার বন্ধুকে তার পরিচয় বলি এবং আরও বলি যে, সে আমাদেরকে মক্কাবাসীদের কাছে ধরিয়ে দিতে পারে; আমি বাহিরে বের হয়ে আসি ও ছুরিটি দিয়ে তার বুকে ছুরিকাঘাত করি।

সে এত জোরে চিৎকার করে যে, মক্কাবাসীরা তার চিৎকার শুনতে পায় ও তারা তার দিকে ছুটে আসতে থাকে।

আমি গুহার মধ্যে ফিরে যাই ও আমার বন্ধুকে বলি যে, যেখানে সে আছে, সেখানেই যেন সে অবস্থান করে।

মক্কাবাসীরা তার চিৎকার অনুসরণ করে ছুটে আসে; তারা যখন তার সন্ধান পায়, তখন সে মুমূর্ষু অবস্থায়। তারা তাকে জিজ্ঞেস করে, কে তাকে ছুরিকাঘাত করেছে; সে তাদেরকে বলে যে, আমিই ছিলাম সেই ব্যক্তি, তারপর তার মৃত্যু হয়।

তারা জানতে পারে না, আমরা কোথায় আছি, তারা বলে, "আল্লাহর কসম, আমরা জানতাম যে ‘আমর’ কোনো ভাল উদ্দেশ্য নিয়ে আসেনি।"

তারা মৃত ব্যক্তিটিকে নিয়ে ও তাকে বহন করে নিয়ে যাওয়া নিয়ে এতই ব্যতিব্যস্ত ছিল যে, তারা আমাদের কোনো খোঁজ করেনি। পরিস্থিতি শান্ত হওয়া নাগাদ আমরা কিছুদিন গুহার মধ্যেই অবস্থান করি।

তারপর আমরা আল-তানিমে গমন করি এবং খুবায়েব কে ক্রুশ বিদ্ধ (Cross) অবস্থায় দেখি। আমার বন্ধু জিজ্ঞেস করে, তাকে ক্রুশ থেকে নিচে নামানো আমাদের উচিত কি না, কারণ সে তখন ওখানেই [বধ-কাষ্ঠে] ছিল।

আমি তাকে এই বিষয়টি আমার ওপর ছেড়ে দিতে বলি এবং তাকে আমার কাছ থেকে দূরে চলে যেতে বলি, কারণ এটির চারপাশে ছিল প্রহরী মোতায়েন; যদি সে এমন কিছু দেখে, যা তাকে ভীতিগ্রস্ত করে, তবে সে যেন অবশ্যই উটটি নিয়ে চলে যায় এবং যা কিছু ঘটেছে তা আল্লাহর নবীকে গিয়ে বলে।

আমি খুবায়েবের বধ-কাষ্ঠের ওপর উঠি, তার লাশটি তা থেকে মুক্ত করি ও আমার পিঠে করে নিয়ে আসি। খুব বেশি হলে আমার চল্লিশ ধাপ যাওয়ার পর তারা আমার উপস্থিতি জানতে পায়; আমি তার লাশটি নিচে নিক্ষেপ করি ও সেটি ধড়াস্ শব্দে পতিত হয়, যা আমি ভুলতে পারি না।

তারা আমার পেছনে দৌড়ে আসে এবং আমি আল-সাফরা যাওয়ার পথ ধরি; তারা আমার পশ্চাদ্ধাবনে পরিশ্রান্ত হয়ে ফিরে যায়। আমার বন্ধু আল্লাহর নবীর কাছে ফিরে এসে তাঁকে আমাদের ঘটনা গুলো জানায়।

আমি পদব্রজে চলতে থাকি, যতক্ষণ পর্যন্ত না আমি দাজনান (মক্কার অদূরের এক পাহাড়) উপত্যকা দেখতে পাই। আমি আমার তীর ও ধনুক নিয়ে সেখানকার এক গুহার মধ্যে প্রবেশ করি।

আমার সেখানে অবস্থানরত অবস্থায় বানু আল-দিল গোত্রের এক-চোখওয়ালা এক লোক আসে, সে তার ভেড়াগুলো চড়াচ্ছিল।

যখন সে জিজ্ঞেস করে, আমি কে, আমি বলি, আমি বানু বকর গোত্রের একজন। সে বলে যে, সে-ও বানু বকর গোত্রের অন্তর্ভুক্ত, আল-দিল গোত্রের। [5]

তারপর সে আমার পাশেই শুয়ে পড়ে ও গলার শব্দ উঁচু করে গান গাইতে শুরু করে:

'হবো না মুসলমান যতদিন থাকবো বেঁচে,
দেব না মনোযোগ তাদের ধর্মে।'

আমি মনে মনে বলি, "তুই শীঘ্রই টের পাবি!"

যেইমাত্র সে ঘুমিয়ে পড়েছে ও নাক ডাকা শুরু করেছে, আমি উঠে দাঁড়াই ও তাকে এমন ভয়ঙ্করভাবে খুন করি যা অন্য কোনো মানুষকে করা হয়নি। আমি আমার ধনুকের আগাটি তার সতেজ চোখের উপর স্থাপন করি, তারপর তাতে তা  সজোরে ছেঁদা করে (Bore down) প্রবিষ্ট করাই, যতক্ষণ পর্যন্ত না তা তার ঘাড়ের পিছন দিক দিয়ে বের হয়ে আসে।

তারপর আমি শিকারের জন্তুর মত সেখান থেকে বের হয়ে আসি এবং বড় রাস্তা দিয়ে ঈগলের মত ছুটতে থাকি, গ্রামের পর গ্রাম, তারপর রাকুবায় ও তারপর আল-নাকি; হঠাৎ সেখানে দুইজন মক্কাবাসী এসে হাজির হয়, যাদেরকে কুরাইশরা আল্লাহর নবীর ওপর গুপ্তচরবৃত্তি করতে পাঠিয়েছিল।

আমি তাদের চিনতে পারি ও তাদেরকে আত্মসমর্পণ করার আহ্বান করি; যখন তারা তা প্রত্যাখ্যান করে আমি তাদের একজনকে তীর নিক্ষেপে হত্যা করি, আর অন্যজন করে আত্মসমর্পণ। আমি তাকে বেঁধে ফেলি ও আল্লাহর নবীর কাছে হাজির করি।

[আল-তাবারী <] ইবনে হুমায়েদ হইতে < সালামাহ হইতে < ইবনে ইশাক হইতে <সুলেয়মান বিন ওয়ারদান হইতে <তার পিতা হইতে < আমর বিন উমাইয়া হইতে বর্ণিত:

'মদিনায় পৌঁছার পর যখন আমি [আমর বিন উমাইয়া] কিছু শায়েখ (shaykhs) আনসারদের পাশ অতিক্রম করি, তারা আমাকে দেখে আশ্চর্য হয়; কিছু নবীন লোক আমার নামটি শুনে ফেলে ও তারা দৌড়ে গিয়ে আল্লাহর নবীর কাছে খবর পৌঁছায়।

আমি আমার ধনুকের দড়ি (bow string) দিয়ে বন্দীর দুই হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি বেঁধে ফেলেছিলাম; আল্লাহর নবী তাকে দেখে এমনভাবে হেসে ওঠেন যে, তাঁর পেছনের দাঁতগুলো দৃষ্টিগোচর হয়।

তিনি আমার খবর জানতে চান এবং যখন আমি যা যা ঘটেছে তা তাঁকে বলি, তিনি আমাকে আশীর্বাদ করেন।’

ইসলামী ইতিহাসের ঊষালগ্ন থেকে আজ অবধি প্রায় প্রতিটি ইসলাম বিশ্বাসী প্রকৃত ইতিহাস জেনে বা না জেনে ইতিহাসের এ সকল অমানবিক অধ্যায়গুলো যাবতীয় চতুরতার মাধ্যমে বৈধতা দিয়ে এসেছেন। বিষয়গুলো অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিধায় বাংলা অনুবাদের সাথে মূল ইংরেজি অনুবাদের অংশটিও সংযুক্ত করছি। - অনুবাদ, টাইটেল ও [**] যোগ - লেখক।]

বিজ্ঞান ও জিহাদ



'কম' মুসলিম, 'বেশি' মুসলিম

লিখেছেন পুতুল হক

পাকিস্তানীরা বাঙালিদের "কম" মুসলমান বলে ঘৃণা করতো। বাঙালি আজও পাকিস্তানীদের "বেশি" মুসলমান বলে ভালোবাসে। 'পাকিস্তানীরা কত্তো সুন্দর! কী সুন্দর গমের মত গায়ের রঙ তাঁদের। আহারে..., কতো উঁচা-লম্বা পাকিস্তানী শের! আর মেয়েগুলাতো জান্নাতি হুর। উর্দুতে কথা শুনলে কলিজা জুড়িয়ে যায়।' পাকিস্তানীদের সম্পর্কে এই হলো বাঙালির সাধারণ মন্তব্য! 

এই প্রশংসায় ঢাকা পড়ে যায় ৭১ এর গণহত্যার কথা, লক্ষ লক্ষ নারীর ধর্ষিত হবার কথা, সব কিছু হারিয়ে শরণার্থী হবার কথা। আমরা ভুলে গেছি কতোটা ত্যাগ স্বীকার করেছিল আমাদের পূর্বপুরুষ আমাদেরই জন্য। একটি আধুনিক, ধর্মীয় গোড়ামিমুক্ত, মানবতাবাদী রাষ্ট্র উপহার দেবার জন্য। তাঁদের ত্যাগের প্রতিদান আমরা দিচ্ছি 'পাইক্যা, আমাকে বিয়ে করো' প্ল্যাকার্ড দেখিয়ে! 

৪৪ বছরেও ওরা আমাদের কাছে ক্ষমা পর্যন্ত চায়নি ৭১-এর পৈশাচিকতার জন্য। আমাদের হাতের প্ল্যাকার্ডে কি লেখা থাকা উচিত ছিল না 'ক্ষমা চাও'? পাকিস্তানের ৭১ পরবর্তী প্রজন্মের সাথেও বা কীভাবে আমাদের সুসম্পর্ক থাকে? ওদের সরকার কি ওদের সামনে প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরেছে কখনো? আমাদের বাংলাদেশেই যখন বারবার ইতিহাসের প্লাস্টিক সার্জারি করা হয়, পাক হানাদার বাহিনীর বদলে শুধু হানাদার বাহিনী লেখা হয় তখন ওদের সরকারের কি ঠ্যাকা? ওদের ধর্মান্ধ, মৌলবাদী প্রজন্মের কাছ থেকে বাংলাদেশের প্রতি সম্মান, সহানুভূতি আশা করাটাও বোকামি। 

যাদের ঘৃণা করার কথা, তাদের আমরা বুকে জড়িয়ে ধরি আমাদেরই বাবা-ভাইয়ের লাশের ওপর দাঁড়িয়ে। 

ওদের মেয়েদের রূপে আমরা মুগ্ধ হই আমাদের ধর্ষিত বোনের কান্নাকে ভুলে। 

ওদের খেলোয়াড়দের সমর্থন জানাই আমাদের মানচিত্রকে অপমান করে। 

অনেক বছর আগে ভারতের জনপ্রিয় টিভি তারকা তাঁর একটি অনুষ্ঠানে কৌতুক করে বলেছিলেন যে, বাংলাদেশও বিশ্বকাপ ক্রিকেট খেলে! শুধুমাত্র এই একটি উক্তির কারণে তাঁর আর কোনো অনুষ্ঠান আর কখনো দেখিনি। আমার খুব কষ্ট হয়েছিলো, কারণ আমার দেশের খেলোয়াড়দের অপমান করা মানে আমাকে অপমান করা। আঘাতটা সরাসরি আমার বুকে এসে বিঁধেছিল। এটা আমার দেশপ্রেমের প্রমান নয়, আমার শুদ্ধ আবেগ। 

একটি উক্তির কারণে শেখর সুমনকে যদি আমি আস্তাকুঁড়ে ফেলতে পারি, তাহলে পাকিস্তানীদের আমি কোথায় ফেলবো? কোথায় ফেলা উচিত? সৌদি আরবে যখন বাংলাদেশী শ্রমিকদের ওপর অকথ্য অত্যাচার করা হয়, সেই অত্যাচার আমার ওপর অত্যাচার। 

কে হিন্দু, কে মুসলমান, কে খ্রিষ্টান, আমার তা দেখার বিষয় নয়। আমাকে যে অপমান করে, কষ্ট দেয় সে-ই আমার শত্রু। ঘৃণা করি তাকে আমি।

২৫ মার্চ, ২০১৫

গরুপূজারি গাধাগুলো - ১১০



ধর্মীয় প্রশ্নের ব্যাঙগানিক উত্তর - ১৮

[ফেইসবুকে একটা মজাদার পেইজ খোলা হয়েছে "ধর্মীয় প্রশ্নের ব্যাঙগানিক উত্তর" নামে। কেউ একজন একটা মজাদার, বিটকেলে বা আপাত নিরীহ প্রশ্ন করছে, আর অমনি অন্যেরা ঝাঁপিয়ে পড়ে সরবরাহ করছে সেটার বৈচিত্র্যময় ব্যাঙগানিক (ব্যঙ্গ + বৈজ্ঞানিক) উত্তর। 

সেই পেইজ থেকে নির্বাচিত প্রশ্নোত্তরের ধারাবাহিক সংকলন প্রশ্নকারী ও উত্তরদাতাদের নামসহ ধর্মকারীতে প্রকাশ করা হবে নিয়মিত। বলে রাখা প্রয়োজন, এই নির্বাচনটি একান্তভাবেই ধর্মপচারকের পছন্দভিত্তিক। ফলে ভালো কোনও প্রশ্নোত্তর আমার চোখ এড়িয়ে যাবার সম্ভাবনা তো আছেই, তবে সবচেয়ে বেশি আছে অন্যদের সঙ্গে মতভেদের সম্ভাবনা। নিজ গুণে (ভাগে, যোগে, বিয়োগে) মাফ কইরা দিয়েন।]

১৭১.
- পাঁচ ওয়াক্তে মাটির লগে কপাল ঠুকলে আল্যায় এত খুশি হন কেনু। (ফাহিম আল হামিম)
- কপাল না, ভাই, পুটু দেইখা মজা পায়। (এন্টি কোয়ার্ক)

১৭২.
- ধর্মে বিয়ে করার পর সেক্সের অনুমতি দেয়া হয়েছে কেনু? (শহীদুজ্জামান সরকার)
- নবী মুহাম্মদের মত অন্যদেরও পিতৃপরিচয় নিয়া যাতে সন্দেহ না হয়। (দাঁড়িপাল্লা ধমাধম)

১৭৩.
- নবী যখন মিরাজে যান, তখন সেই যাওয়াটা কে কে দেখেছিলেন? (বাঙাল মূর্খ চাষা)
- আরে গুলিস্তান টু নারায়ণগঞ্জ 'বোরাক' সার্ভিস চলে, আর ঢাকা টু নেত্রকোনা চলে 'রফরফ' সার্ভিস। তারপরও কীভাবে আপনারা অস্বীকার করেন মেরাজের কথা? (তাহসিব হাসান)

১৭৪.
- এল্লা বলেন, কোরআন শরীফের একটি নুকতাও কেউ পরিবর্তন করতে পারবে না। তাহলে নাস্তিকরা বা অন্য ধর্মালম্বীরা যখন কুরানের ওপর হিসু করে, আর জ্বালায় দেয়, তখন এল্লা বাধা দেন না কেন? (আৎসুকো আয়ামে)
- কোরান যখন পুড়ছিল, এল্লা তখন হুরপরীদের রোল কল কচ্চিলেন। (শাহরিয়ার কনক)

১৭৫.
- চল্লিশ বৎসরের একজন ধনাঢ্য বিধবা মহিলার জন্য কি ২৫ বৎসরের চালচুলোহীন, অনাথ ও বেকার এক অবিবাহিত যুবককে বিবাহ করা সুন্নত? মাসালা চাই। (সেক্যুলার ফ্রাইডে)
- এর পরে আবার প্রশ্ন করবেন, ছয় বছরের শিশুর সাথে ইয়ে করা সুন্নত কি না! ছেলের বৌকে বিয়া করা সুন্নত কি না! এতো প্রশ্ন করলে হবে? চান্স পাইলে সব করতে পারেন। চান্সে ছক্কা পিটানিটাই সুন্নত। (মামুনুর রশীদ রনি)
#
- মহিলাকে অবশ্যই ধন্যাঢ্য হতে হপে, ধন্যাঢ্য হলে সুন্নতে মুয়াক্কাদা। তা না হলে সিল অটুট দেখে বিবাহ মুস্তাহাব। (অনুসন্ধানী আবাহন)

১৭৬.
- রাস্তার উপর নামাজ পড়ার কথা কোথায় বর্ণনা করা আছে? আজকে মিরপুর বাংলা কলেজে পরীক্ষা ছিল।পাক্কা ৫০ মিনিটের উপর কলাবাগান থেকে ধানমন্ডি ২৭ নং রোড পর্যন্ত পুরা ব্লক ছিল সুবহানবাগ মসজিদের সামনের রাস্তায় জুম্মার নামাজ আদায় করার জন্য। পরীক্ষা দিতে পারলাম না। ধর্মীয় কোন অনুভূতি থেকে ব্যাখ্যা দিবেন? (শরৎ শ্রাবণ)
- কাছায় চুলকানি হইলে যেমন লোক লজ্জা থাকে না, তেমনি নামাজের সুড়সুড়ি উঠলে মুমিনগো যেহানে ইচ্ছা সেহানে উপুড় হইয়া পড়ে। (হাইড রাসা)

১৭৭.
- কারা সহী মুসলামান? ১. ওহাবী, ২. শিয়া, ৩. সুন্নি, ৪. আহমাদিয়া, ৫. সুফি, ৬. আলহে হাদিস, ৭. আলহে সুন্নত, ৮. আরও অন্যান্য। (তাহসিব হাসান)
- ফাইটিং শেষে যে জিতবে। (পুতুল হক)

১৭৮.
- হাদিসে আছে নবীজির পুরুষাঙ্গকে ৩০ জন যুবকের লিঙ্গের সমপরিমান শক্তি দেয়া হয়েছিল। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, নবীজি কোন ব্রান্ডের জাইঙ্গা ইউজ করে পুরুষাঙ্গ কন্ট্রোল করিতেন? (আধ্যাত্মিক সাধক)
- উনি জাইঙ্গা ইউজ কর্তেন না, কারণ ১ ঘন্টাও টিকতো না নয়া জাইঙ্গা। লুটের মাল, নয়া জাইঙ্গা খরিদ কর্তেই খরচ হইয়া যাইতো। এই কারণেই সুন্নতি জোব্বা। জোব্বার ঘেরে খাড়াধন ঢাকা পড়ে। (অনুসন্ধানী আবাহন)

১৭৯.
- ধর্ম অর্থ নাকি ধারণ করা। তো কী ধারণ করা? (শহীদুজ্জামান সরকার)
- ধর্ম ধারণ করে আছে নবী আর কৃষ্ণর ইচ্ছাগুলোকে। (আঁধারের যাত্রী)

১৮০.
- চাচা-ভাতিজি প্রেম প্রেগন্যাণ্ট বিয়া - বিষয়টা কত পার্সেণ্ট ইসলাম সম্মত? (দাঁড়িপাল্লা ধমাধম)
- এখানে মুখ দেখে মূগের ডাল সূত্র প্রয়োগ হবে। আলী-ফাতেমা জায়েজ। অন্যদের হারাম। (নিওন সেভেন)
#
- ইসলাম অনুসারে সবাই ভাই ভাই, এখানে চাচা ভাতিজি আইলো কীভাবে ? সব ইহুদী নাসাদের ষড়যন্ত্র । (বাঙাল মূর্খ চাষা)

আগের পর্বগুলো:

আব্রাহাম্মকি


সহীহ মুসলিম তত্ত্বের পূর্বাপর এবং একটি কুপ্রস্তাব

লিখেছেন আশরাফুল আলম 

প্রবাসে বসবাস করেন যে সব মুসলিম, তাদের প্রায় সকলেই মডারেট মুসলিম, দুই একজন দুষ্ট লোক ছাড়া। তো সেই দুষ্ট লোকেরা উল্টাপাল্টা কিছু করলেই বাকি মডারেট মুসলিমেরা চিন্তিত হয়ে পড়েন, তাদের দিকে কেউ আঙুল তাক করল কি না, এই নিয়ে। টুইটারে-ফেসবুকে দ্রুতগতিতে হ্যাশট্যাগ মারেন 'সন্ত্রাসীর কোনো ধর্ম নেই' জানিয়ে, অথবা হত্যাযজ্ঞের তীব্র নিন্দা জানান নানাভাবে। শেষে ব্যাখ্যা দেন এভাবে – এই যে সন্ত্রাসী, সে আসলে সত্যিকারের সহীহ মুসলিম না, সে ইসলামের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে এইসব করছে। ইসলাম এসব সন্ত্রাসকে সমর্থন করে না। অতি চেনা চিত্রনাট্য, অতি ব্যবহারে জীর্ণ হওয়ার দশা, র‍্যাবের ক্রসফায়ার উপাখ্যানের মত। লন্ডন, মাদ্রিদ, টুইন টাওয়ার, সিডনী, পেশাওয়ার, কানাডা সব ঘটনার পরেই এই একই চিত্র – এইটাকে আপাতত বলা যাক ‘সহীহ মুসলিম তত্ত্ব’।

এবার আসুন, দেখে নিই, এই যুগান্তকারী তত্ত্ব কি সাম্প্রতিক মডারেট মুসলমানদের আবিষ্কার, নাকি এর সূত্র আরো কোনো গভীরে প্রোথিত?

যুক্তিশাস্ত্রে বলা হচ্ছে, ফ্যালাসি একটা এমন ধরনের যুক্তি, যা আসলে অপযুক্তি – অর্থাৎ সেটা কখনো সত্য আবার কখনো মিথ্যা। কাজেই সত্য-মিথ্যার যাচাই-বাছাইয়ের কাজে সেই অপযুক্তি বা মানদণ্ড ব্যবহার করা যাবে না, যেহেতু সে সত্য-মিথ্যা আলাদা করতে পারে না। তবে সেটা শুনতে বেশ অকাট্য যুক্তির মতই শোনায়, এবং আগে থেকে জানা না থাকলে অনেকেই এই অপযুক্তির খপ্পরে পড়ে খেই হারিয়ে ফেলতে পারেন।

যারা সামাজিক গণমাধ্যমে যুক্তি-তর্কের মাঠের খেলোয়াড়, তারা এইসব ফ্যালাসির খবর রাখেন বলেই ধারণা করি। এমন একটা ফ্যালাসিকে বলা হয় ‘নো ট্রু স্কটসম্যান’ ফ্যালাসি। এই ফ্যালাসি একটা আশ্চর্যজনক মেশিন, যার একপাশ দিয়ে আপনি যা ইচ্ছা তাই প্রবেশ করান, অন্যপাশে আপনার কাঙ্ক্ষিত ফলাফল বের করে আনা যাবে। ধরুন, আপনি বলতে চান যে, সকল বাংলাদেশী শিক্ষিত। কথাটা বলেই ফেললেন হয়তো কাউকে। সে আপনাকে একজন অশিক্ষিত বাংলাদেশী সামনে এনে দেখাল। আপনি বললেন, এই লোক তো আসলে সত্যিকারের বাংলাদেশী না, কাজেই তাকে গোণা হবে না। ব্যস, প্রমাণিত হয়ে গেল যে, সকল বাংলাদেশীই শিক্ষিত। 

এভাবে আপনি সকল বাংলাদেশী দেশপ্রেমিক, সকল বাংলাদেশী শান্তিপ্রিয়, সকল বাংলাদেশী মুক্তিযোদ্ধা, সকল বাংলাদেশী রাজাকার, সকল রাজাকারই মুক্তিযোদ্ধা, এগুলো অনায়াসে প্রমাণ করতে পারবেন। আবার ধরুন, এরশাদ বললেন, সব বাংলাদেশীই প্রেমিক। আপনি তখন প্রেমিক নন, এমন একজন বাংলাদেশীর উদাহরণ দিলেন। তখন এরশাদ বলবেন, হুম, তার মানে সে আসলে প্রকৃত বাংলাদেশীই না। খেয়াল করে দেখুন, “সব বাংলাদেশীই প্রেমিক” এই কথাটাই একটি অসংজ্ঞায়িত/অপ্রমাণিত কথা, এবং এই অপ্রমাণিত কথার ওপর ভিত্তি করে “প্রকৃত বাংলাদেশীই না” সিদ্ধান্ত দেয়া হয়েছে। সেই সিদ্ধান্ত আবার প্রথমে বলা “সব বাংলাদেশীই প্রেমিক” কথাটাকে প্রমাণ করছে।

এভাবে চললে আপনি যত উদাহরণই হাজির করেন না কেন, প্রথম বাক্য “সব বাংলাদেশিই প্রেমিক”-কে ভুল প্রমাণ করতে পারবেন না। এই “নো ট্রু স্কটসম্যান” ফ্যালাসিকে বাংলায় ত্যানা-প্যাঁচানি বলা যেতে পারে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়: উনি সহিহ মুক্তিযোদ্ধা নন, উহা আসল হিন্দুধর্ম নহে, ইনি প্রকৃত রাজাকার না, উনি খাঁটি নাস্তিক না, তিনি প্রকৃত আওয়ামী লীগার না, ইত্যাদি দাবি করা হচ্ছে। এর প্রায় সবই অপযুক্তি।

এই অপযুক্তিকে যুক্তিতে পরিণত করা যাবে, যদি স্কটসম্যানকে সংজ্ঞায়িত করে ফেলা যায়। অর্থাৎ আপনি একটা/একদল ব্যক্তি/বস্তুকে যার সাথে তুলনা করছেন, সেই জিনিসগুলোর সর্বজনগ্রাহ্য সংজ্ঞা বা সীমানা-চৌহদ্দি থাকা আবশ্যক। আপনি বলতে পারেন, “সব বাংলাদেশীই প্রেমিক”, কোন সমস্যা নেই, যদি “বাংলাদেশী” এবং “প্রেমিক” ধারণাগুলোর একটা স্থির সংজ্ঞা থাকে, অন্তত আপনি যে অর্থে ‘বাংলাদেশী’ বা ‘প্রেমিক’ বলছেন, সেই প্রেক্ষিতে। সেই সংজ্ঞামতে কোনো অ-প্রেমিক বা অ-বাংলাদেশী খুঁজে পাওয়া যাবে নাকি যাবে না, সেটা পরের ব্যাপার – কিন্তু “সব বাংলাদেশিই প্রেমিক” বলতে গেলেই বাংলাদেশীর এবং প্রেমিকের সংজ্ঞা থাকতে হবে। দুটো উদাহরণ দিই, যাতে পার্থক্যটা বোঝা যায়।

দাবি: সকল এসএসসি পাশ লোকই ইংরেজি জানে। এসএসসি পাশের সংজ্ঞা: যার এসএসসি পাশের একটি মূল সনদপত্র আছে। ইংরেজি জানার সংজ্ঞা – ডেইলি স্টার পড়তে পারা। পড়তে পারার সংজ্ঞা হল পড়ে বুঝতে পারা। এখন যদি এমন একজন লোক পাওয়া যায়, যে এসএসসি পাশ, কিন্তু ইংরেজি জানে না, তাহলে ‘সে আসলে প্রকৃত এসএসসি পাশই না’ বলার সুযোগ নেই। সংজ্ঞানুযায়ী এই লোকটি এসএসসি পাশ, এবং সে ইংরেজি জানে না। কাজেই ওপরের দাবিটি ভুল, অর্থাৎ সকল এসএসসি পাশ লোক ইংরেজি জানে না।

দাবি: সকল বাংলাদেশীই মুক্তিযোদ্ধা। দাবি যিনি করছেন, তিনি বাংলাদেশীর কোনো সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা না দিয়েই এই দাবিটি করলেন। কাজেই যদি এমন একজন লোককে দেখানো যায়, যিনি মুক্তিযুদ্ধে শরীক না হয়ে বরং বিরোধিতা করেছেন, তার ব্যাপারে বলা হবে, ‘তিনি প্রকৃত বাংলাদেশী নন।’ অর্থাৎ একজন সাক্ষাৎ বাংলাদেশী অ-মুক্তিযোদ্ধা হাতে থাকা সত্ত্বেও “সকল বাংলাদেশীই মুক্তিযোদ্ধা” বাক্যটিকে ভুল প্রমাণ করা গেল না। এরকম ব্যতিক্রম একটা কেন, হাজার হাজার পাওয়া গেলেও “সকল বাংলাদেশীই মুক্তিযোদ্ধা” দাবিটি চিরদিনই সঠিক, ‘তিনি/তাঁরা প্রকৃত বাংলাদেশী নন’ ট্রাম্প-কার্ড ব্যবহার করলে। যদি বলা হত, বাংলাদেশী = বাংলাদেশের নাগরিকত্বের অধিকারী যিনি (অথবা অন্য কোনো সংজ্ঞা), তাহলে আর এই গোঁজামিল সম্ভব হতো না। তখন “সকল বাংলাদেশীই মুক্তিযোদ্ধা” কি না, তা প্রমাণ/অপ্রমাণ করার সুযোগ থাকত।

এবারে আসি সাম্প্রতিক সময়ে সহীহ মুসলিম তত্ত্বের কিছু প্রয়োগ নিয়ে। বেশ কিছু মডারেট মুসলমানকে দেখলাম কিছুদিন আগে পেশাওয়ারে হামলার ঘটনায় এই তত্ত্ব ফলাতে। বললেন, তালেবানেরা প্রকৃত মুসলিম নয়, এরা সন্ত্রাসী। এসব সন্ত্রাসীর জন্য ইসলামের নাম খারাপ হচ্ছে। ইসলাম আদতে শান্তির ধর্ম। এমনকি খোদ তালেবানেরাও এই তত্ত্ব প্রয়োগ করল পেশাওয়ারের ঘটনায়। পাকিস্তানের তালিবান, যাদের নাম তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান, তারা প্রায় দেড়শ মানুষ মারার দায় স্বীকার করল। গুলি চালানোর আগে তারা ‘আল্লাহু আকবর’ বলেই গুলি চালিয়েছিল। ওদিকে আসল যে তালেবান, মানে আফগানিস্তানের তালেবান, তারা এই ঘটনার নিন্দা জ্ঞাপন করল। তারা এটাও বলেছে, পাকিস্তানের তালেবানরা সহীহ তালিবান নয়। সহীহ তালেবান মানেই হচ্ছে শান্তির বাহক, তারা কোনোদিন নিরাপরাধ মানুষ হত্যা করে না, এবং পাকিস্তানের তালেবানের এই কাজ ইসলামসম্মত নয়।

ভাবখানা এমন, যেন গুটিকয়েক উগ্র ভেজালযুক্ত তালেবানের জন্য সকল তালেবানকে দোষারোপ করা ঘোরতর অন্যায়। তাও যদি তারা ভেজালমুক্ত প্রকৃত তালেবান হত, তাহলে না হয় বলা যেত যে, অন্তত কিছু তালেবান খারাপ। কিন্তু এই তালেবানেরা সহীহ তালেবান না হওয়ায় তালেবানদের শান্তিময় ভাবমূর্তির ওপরে কোনোই আঘাত আসার উপায় নেই। যে তালেবান সন্ত্রাস করবে, সে আসলে প্রকৃত তালেবান নয়। সকল প্রকৃত তালেবান শান্তিকামী। কাজেই প্রমাণিত হলো যে, তালেবানেরা সন্ত্রাসী নয়।

‘নো ট্রু স্কটসম্যান’ ফ্যালাসির অভাবনীয় প্রয়োগ দেখলেন তো? এটার আবার নানা রকমের সংস্করণ আছে। সিডনীতে যে মুসলমান লোক একটা ক্যাফেতে জনা বিশেক লোককে জিম্মি করেছিল, সে আরবী লেখা পতাকা নিয়ে গিয়েছিল সেখানে। তার যে দাবিনামা, তার আগের যে কর্মকাণ্ড, সেই অনুযায়ী ওঝা যায়, শেখ হারোন মনিস অস্ট্রেলিয়া কর্তৃক আফগানিস্তানে সৈন্য পাঠানোয় অতি ক্ষিপ্ত। সে ২০১৩ সালে আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিল আফগানিস্তানে মারা যাওয়া অস্ট্রেলিয়ান সৈন্যদের বাসায় হেইট-লেটার বা ঘৃণাভরা চিঠি লেখার জন্য। তার ভাষায়, “Shame on Team Australia and shame on those racist and terrorist Australians who support the governments of America and its allies including Australia.” তার ফেইসবুক পেইজে বলা হচ্ছে, সেটি ‘Team Islam’ against Australian oppression and terrorism. কাজেই সে যে ডাকাতি করতে ওই ক্যাফেতে যায়নি, সেটা স্পষ্ট। সে গেছে তার ধর্মের কাজে, ধর্মের নামে। কিন্তু বিধি বাম, তার নামে একাধিক মামলা হয়েছিল অতীতে, যার একটা মামলা তার আগের স্ত্রীকে খুনের চেষ্টার দায়ে। ফলে আমাদের মডারেট মুসলিমেরা বেশ আরামের সাথে সহীহ মুসলিম থিওরীর প্রয়োগ করতে পারলেন – এই লোক অ্যাটেনশান সীকার, সে ক্রিমিনাল, সে পথভ্রষ্ট, ইসলাম শান্তির ধর্ম, ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি। অর্থাৎ কোনো মুসলিম এই সন্ত্রাস করেনি, করেছে এক ক্রিমিনাল। আমরা মুসলমানেরা দায়মুক্ত, আমাদের দিকে কেউ আঙুল তুলবেন না।

এই শেখ হারোন মনিস যে মুসলিম নয়, তা কিন্তু তার এই ঘটনার আগে কেউই জানত না বা বলেনি। সে শেখ উপাধী নিয়ে তার নানা ধর্মীয় ও জেহাদী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিল। তার নামে এই যে আগের ক্রিমিনাল রেকর্ড, সে কারণে কোনো মুসলমান/অমুসলমান অথোরিটি তাকে অমুসলিম ঘোষণা করেছেন বলেও জানি না। সে নিজেকে মুসলিম দাবি করেছে, ইসলামের জন্যই সে কাজ করেছে, শেষে শহীদও হল, সমস্ত মিডিয়ায় তাকে মুসলিম বলেই চিহ্নিত করা হচ্ছে, কিন্তু আমার প্রতিবেশী মডারেট বাঙালি মুসলমান তাকে ‘সহীহ মুসলমান’ মানতে নারাজ। তার দাবি, শেখ হারোন মনিস ইসলামের নাম ব্যবহার করে অ্যাটেনশান সীক করেছে। সে সন্ত্রাসী, সহীহ মুসলিম নয়। সে ইসলাম বোঝে না, বুঝলে সন্ত্রাস করত না (আবার সেই ‘নো ট্রু স্কটসম্যান’ ফ্যালাসি)। 

সহীহ মুসলিম কাকে বলে? যারা সন্ত্রাস করে না, তারাই সহীহ মুসলিম। যেই মাত্র কেউ সন্ত্রাস করে ফেলবে, সেই মুহূর্ত থেকেই সে ভেজালযুক্ত মুসলিম, অর্থাৎ সহীহ মুসলিম নয়। ‘নো ট্রু স্কটসম্যান’ ফ্যালাসির আদর্শ প্রয়োগ। এই যুক্তির ফলে দুনিয়ার কোন সন্ত্রাসীই মুসলিম নয়। তারা শুধুই সন্ত্রাসী। তাছাড়া একজন মুসলিম কি খারাপ কাজ করতে পারে না? সবাই কি সাধু হবে?

আমি যুক্তির পথে হাঁটতে চাইলাম। বললাম, মুসলমানদের সবাইকে সাধু হতেই হবে, এমন দিব্যি কেউ দেয় নি – তারাও চোর গুণ্ডা বদমাশ মলম পার্টি রাজাকার হতে পারবে। তবে এই শেখ হারোন যদি ডাকাতি করতে গিয়ে দুইজনকে খুন করত, সেক্ষেত্রে এই কথাটা প্রাসঙ্গিক হত। একজন মুসলমানের চোর/ডাকাত হওয়া, আর একজন মুসলমানের ইসলামের স্বার্থে ইসলামের নামে সন্ত্রাস করার মধ্যে আকাশ পাতাল ফারাক। সিডনীর মুসলিম গানম্যান হারোন আসলে ইসলাম থেকেই অনুপ্রেরণা পেয়েছেন সশস্ত্র সংগ্রামের। 

প্রতিবেশীকে কোরান থেকে কিছু আয়াত দেখালাম ইংরেজি অনুবাদে, যেহেতু আরবি জানি না। তিনি বললেন, এই অনুবাদ সহীহ অনুবাদ নয়, আপনাকে আগে আরবি শিখতে হবে। বললাম, আরবি শিখলে কী হবে? তিনি বললেন, আরবি শিখলে দেখবেন, এইটা একটা শান্তিময় আয়াত, কেউ কেউ উদ্দেশ্যমূলকভাবে অথবা না জেনে এখানে যুদ্ধ-টুদ্ধ খুঁজে পাচ্ছে। আমি বললাম, ইসলাম যে শান্তির ধর্ম, সেটা নিয়ে আমার আলোচনা নয়। স্বীকার করলাম যে, আপনি যেমনটা বলছেন, সেটা সম্ভব – হয়তো কোরানকে যে যার মত করে ব্যাখ্যা করে বা করছে। যেমন, কোরান বলছে, তোমরা সবাই একসাথে থাকো, একত্রে ইসলাম পালন করো – জামায়াতীরা বলছে, ইসলামে রাজনৈতিক সংগঠন করা ফরজ। কোরান বলছে, অবিশ্বাসীকে হত্যা করো (একটা নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপটে), কিন্তু তালেবানেরা বলছে, অবিশ্বাসীকে হত্যা করা ফরজ। অস্ট্রেলিয়া আফগানিস্তানে সৈন্য পাঠানোয় সিডনীর গানম্যান বহুদিন থেকেই ক্ষিপ্ত, কারণ তার হিসেবে এটা অন্যায়। সে আফগানিস্তানে মারা যাওয়া অস্ট্রেলিয়ান সৈন্যদের বাসায় হেইট-লেটার লিখত। শেষে তো নিজেই মরল দুই জনকে সাথে নিয়ে। তার অনুপ্রেরণা কি নিচের এই আয়াতগুলো থেকে আসতে পারে না? 
Fight in the cause of Allah those who fight you, but do not transgress limits; for Allah loveth not transgressors. And slay them wherever ye catch them, and turn them out from where they have Turned you out; for tumult and oppression are worse than slaughter; but fight them not at the Sacred Mosque, unless they (first) fight you there; but if they fight you, slay them. Such is the reward of those who suppress faith. But if they cease, Allah is Oft-forgiving, Most Merciful. And fight them on until there is no more Tumult or oppression, and there prevail justice and faith in Allah; but if they cease, Let there be no hostility except to those who practice oppression. (2:190-193)। 
আর লড়াই কর আল্লাহর ওয়াস্তে তাদের সাথে, যারা লড়াই করে তোমাদের সাথে। অবশ্য কারো প্রতি বাড়াবাড়ি করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদেরকে পছন্দ করেন না। আর তাদেরকে হত্যাকর যেখানে পাও সেখানেই এবং তাদেরকে বের করে দাও সেখান থেকে যেখান থেকে তারা বের করেছে তোমাদেরকে। বস্তুতঃ ফেতনা ফ্যাসাদ বা দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি করা হত্যার চেয়েও কঠিন অপরাধ। আর তাদের সাথে লড়াই করো না মসজিদুল হারামের নিকটে যতক্ষণ না তারা তোমাদের সাথে সেখানে লড়াই করে। অবশ্য যদি তারা নিজেরাই তোমাদের সাথে লড়াই করে। তাহলে তাদেরকে হত্যা কর। এই হল কাফেরদের শাস্তি। আর তারা যদি বিরত থাকে, তাহলে আল্লাহ অত্যন্ত দয়ালু। আর তোমরা তাদের সাথে লড়াই কর, যে পর্যন্ত না ফেতনার অবসান হয় এবং আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠিত হয়। অতঃপর যদি তারা নিবৃত হয়ে যায় তাহলে কারো প্রতি কোন জবরদস্তি নেই, কিন্তু যারা যালেম (তাদের ব্যাপারে আলাদা)। (২:১৯০-১৯৩)
তো এই যেমন খুশি তেমন ব্যাখ্যা দাও, এইটাকে কে আটকাবে? কাজেই, আমি প্রস্তাব দিলাম, আপনারা ‘সহীহ ইসলাম-কে সংজ্ঞায়িত করে ফেলেন না কেন? কোরানের সকল আয়াতের অর্থ আপনারা সহীহ মতে লিপিবদ্ধ করেন, যাতে দুষ্ট লোকেরা তাদের মনগড়া/ভ্রান্ত ব্যাখ্যা অনুযায়ী সন্ত্রাস করলেও সেইটা আপনাদের গায়ে না আসে আর কি! আপনারা এই কোরান ইংরেজিতে লিখবেন, যাতে ‘কোরান বোঝার আগে যান আরবী শিখে আসেন’ এই ধাপ্পা দিয়ে দুষ্ট লোকেরা কোরানের ঠিকাদারি নিজেদের হাতে না রেখে দিতে পারে অনির্দিষ্টকালের জন্য। আপনারা সহীহ মডারেট মুসলিমেরা একটা লেস-টক্সিক, নির্দোষ সুগার-কোটেড অর্থ নিয়ে সুখে শান্তিতে থাকবেন, ওদিকে কিছু বদমায়েশ লোক ভুলভাল একটা ব্যাখ্যা নিয়ে গানম্যান হবে, তালেবান হবে, আল-কায়েদা হবে, শেখ হারোন হবে। তো হোক না, তাতে আপনাদের কি! আপনারা শুধু ‪#‎iCondemnAllTerror‬ হ্যাশট্যাগ মারতে থাকবেন। আপনাদের কোরানের ভার্শন হবে ‘সহীহ মডারেট কোরান’।

এই এই কুপ্রস্তাব শুনেও প্রতিবেশী আমার মাথার দাম নির্ধারণ করেননি, কারণ আমরা অস্ট্রেলিয়ায় থাকি। বাংলাদেশে হলে আমার এই প্রস্তাবের জন্য কী যে ঘটত, বলতে পারি না। তবে আমার প্রস্তাবটা কিন্তু মন্দ না। বিশ্বব্যাপী একটা ডিরেক্টরি থাকবে সহীহ মুসলমানদের। তারা চলবে সহীহ মডারেট কোরান দ্বারা। আর কারা কারা দুষ্ট লোক, সহীহ মুসলমান নয়, তাদেরও তালিকা থাকবে। ফলে কেউ সন্ত্রাস করলে আমরা নিজেরা দেখতেই পারব, সে সহীহ মুসলমান ছিল, নাকি সহীহ মুসলমান ছিল না। সারা দুনিয়ায় সহীহ মুসলমানদের দিকে কেউ আর আঙ্গুল তাক করবে না সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য। যত দোষ ওই আন-সহীহ না-বুঝদার আনপড়াহ সন্ত্রাসীদের।

মোদ্দাকথা হলো, সকল মুসলিম সন্ত্রাসী ইসলাম ভুল বুঝেছে – অথবা তারা সহীহ বিশুদ্ধ মুসলিম নয়, এইটা স্রেফ একটা ডিনায়্যাল, এবং ‘সহীহ মুসলিম’ ও ‘ইসলাম-কে সংজ্ঞায়িত করার আগ পর্যন্ত এইটা একটা লজিক্যাল ফ্যালাসি। অপযুক্তি। এই যে মডারেট মুসলমানদের ডিনায়্যাল মুড, এইটার কারণ সম্ভবত তাদের অপরাধবোধ বা ক্রাইসিস – তারা জানে যে, তারাও সেই একই বিশ্বাসে বিশ্বাসী, অথবা তাদের বিশ্বাস খুবই কাছাকাছি, তারা শুধু পালন করে না, এই যা। পার্থক্য শুধু কমিটমেন্টের। তারা ইহুদি-নাসারাদেরকে ঘৃণা করে, তালেবানরাও করে। তারা জানে যে, তাদের ধর্মই একমাত্র সেরা ধর্ম, তালেবানরাও জানে। তারা জানে যে, অস্ট্রেলিয়ান সরকার আফগানিস্তানে সৈন্য পাঠিয়ে মুসলিমদেরকে মেরে ভুল করেছে (এইখানে তারা মানে মডারেট সহীহ মুসলিমেরা। আপাতত ধরা যাক, অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশী মুসলিমেরা।), অথচ তারা তাদের পয়েন্ট প্রমাণ করার জন্য কাউকে গানপয়েন্টে জিম্মি করেনি। সিডনীর ওই লোকটা করেছে, কারণ তার বিশ্বাস বেশ শক্ত, এবং সে সুবিধাবাদী নয়। মডারেট সহীহ মুসলিমেরা সাহসের অভাবে, সুযোগের অভাবে, নাকি বিশ্বাসের গাছতলায় মাটির অভাবে বন্দুক হাতে নেয়নি, সেটা বলা শক্ত। এই একটা ডিলেমা তাদের – তারা এই মৌলবাদীদের থেকে বিশ্বাসের জায়গায় খুব একটা দুরে না, সেটা তারা ভাল করেই জানে, আর তাই ওপরিতলে এসে অস্বীকারের প্রাণান্তকর চেষ্টা। প্রি-এম্পটিভ ডিনায়্যাল। যখন একজন মৌলবাদী খ্রিষ্টান কোনো সন্ত্রাস করে, তখন অন্য কোনো খ্রিষ্টানকে কিন্তু ডিনায়্যাল মুডে যেতে হয় না, আগ বাড়িয়ে হ্যাশট্যাগ মেরে ‘আমি তো কলা খাই নি’ বলতে হয় না, কারণ তারা বিশ্বাসের জায়গাতে মৌলবাদীদের থেকে আলাদা হয়ে গেছে কয়েক প্রজন্ম আগে।

সিডনীর এই লোকটা সন্ত্রাসী, এবং সে মুসলিম। তালেবানেরা সন্ত্রাসী এবং তারাও মুসলিম। সম্ভবত তারা একটু বেশিই মুসলিম। যাই হোক, আমার আশেপাশে যারা মডারেট ওরফে সহীহ মুসলিম আছেন, তারা প্লিজ শর্মিন্দা হবেন না। মডারেট মুসলিম কিম্বা সহীহ মুসলিম হওয়াতে দোষের কিছুই নেই, বরং আপনার নিজের পরিচয়ে গর্বিত হোন। তবে দিনকাল যা পড়েছে, আপনারা তাড়াতাড়ি ‘সহীহ মুসলিম’-এর সংজ্ঞা নির্ধারণ করে সহীহ মডারেট কোরান মোতাবেক সহীহ মুসলমানের তালিকা না বানালে ভবিষ্যতেও কিছু খারাপ মানুষ ইসলামের নাম নিয়ে সন্ত্রাস করবে। সে পর্যন্ত আপনারা এসব ক্ষেত্রে প্লিজ একটা করে ‪#সন্ত্রাসীর_কোনো_ধর্ম_নেই‬ হ্যাশট্যাগ মেরে দিতে ভুলবেন না। আশা করি, কেউ আপনাদেরকে সন্দেহ করবে না।

২৪ মার্চ, ২০১৫

বেদ্বীনবাণী - ৩৩



ইছলামী ত্যানা: কনটেক্সট বুঝতে হবে!

লিখেছেন হাইয়্যা আলাল ফালাহ্‌

এছলামিক বিগ্‌গ্যানের কল্যাণে আজ আমরা সবাই জানি যে, কাফেরদের সাতটি অন্ত্র থাকে, যেখানে একজন মোছলমানের অন্ত্র থাকে একটি। 

এ ব্যাপারে একজন মোমিনের সাথে আমার কথোপকথন হয়েছিল। জনস্বার্থে তা এখানে প্রকাশ করা হলো।

আমি: হাদিসে নাকি আছে, বিধর্মীরা সাত অন্ত্রের অধিকারী। এই হাদিসের মাজেজা, শানে-নুযুল, অর্থ কিছুই তো বুঝলাম না। আর চিকিৎসাবিজ্ঞানের বই-পত্র সবই তো ইহুদি-নাসারাদের তৈরি, তারা পেটও কাটে ইহুদি-নাসারাদের। বইতে তো দেখি তাদের পেটের অবস্থা আমাদের মতই। একটাই মেকানিজম। তো এর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা কী? আর আমাদের পড়া সব বইগুলো যদি ইহুদি-নাসারাদের ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যাচারে পূর্ণ থাকে, তাহলে আমার ভিন্ন একটা প্রশ্ন আছে। সেটা হলো, সাতটা অন্ত্রের জন্য একটা মাত্র পায়ুপথ কেমনে কাজ করে?

মোমিন: দেখুন, আপনাকে কনটেক্সট বুঝতে হবে। কোন প্রসঙ্গে এটা বলা হয়েছে, সেটা জানতে হবে। এগুলো সবই ভুল ইন্টারপ্রিটেশনের ফলাফল। আসলে এখানে মহানবী (সঃ) অন্য একটা সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যাপার আলোচনা করেছেন। দেখবেন, কাফেররা দুনিয়া নিয়ে মশগুল থাকে। তারা খাবার বেলায় গপ-গপ করে বেশি বেশি খায়। তাদের দেখলে মনে হয়, যেন তারা শুধু এই খাওয়ার জন্যই জন্মেছে। আমাদের মহানবী (সঃ) দিনে কখনো দুই বেলার বেশি খাননি। খাওয়া নিয়ে তিনি কখনোই ব্যস্ত ছিলেন না। এবং তিনি আদেশ দিয়ে গেছেন তাঁর উম্মতদের যেন তারাও এসব দুনিয়াবি কাজে কাফেরদের অনুসরণ না করে। আশা করি, আপনাকে বোঝাতে পেরেছি। 

আমি ছোভানাল্লাহ, ঝাঝাকাল্লাহ ইত্যাদি বলে মোমিনকে “আসসালামু আলাইকুম ইয়া আহ্‌লাল কুবুর” বলে চলে এলাম। 

ব্যাখ্যা: আঙুর ফল টক। অন্যের দুম্বা, উট চরিয়ে খুব ভালো জীবিকা অর্জন করা যায় না। মোহাম্মদ ছিলো অলস ও কাজে-কর্মে ব্যাপক অনাগ্রহী। জীবনের শেষ ১০-১৫ বছর ছাড়া সে কখনোই দিনে দুই বেলার বেশি খেতে পারেনি। ইহুদিরা যখন হালাল উপায়ে কামানো জীবিকার কল্যাণে পেট ভরে খেত, তখন বৃথা বিষোদগার করা ছাড়া তার আর কিছুই করার থাকতো না। ব্যক্তিগতভাবে আমি সবাইকে বলি, আরব দেশের এখনও যেসব জায়গা চরম রুক্ষ মরুভূমি, সেসব জায়গায় গেলেই বুঝতে পারবেন, এছলামকে বোঝার জন্য কনটেক্সট কেন গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এরকম জায়গা থেকেই এছলামের উৎপত্তি হয়েছে। আরও ভালো হয়, যদি আরবি ভাষাটা রপ্ত করতে পারেন। এছলামের ফালতু সব অহংকারের জারি-জুরি ফাঁস হয়ে পড়বে আপনার সামনেই। কিছু উদাহরণ দিই। 

উদাহরণ ১: আমি ব্যক্তিগতভাবে মরুভূমিতে ছিলাম বহুদিন। সূর্য ওঠার প্রায় ১ ঘন্টা পর থেকে বিকেল পর্যন্ত কী পরিমাণ মাছি যে আপনাকে ছেঁকে ধরতে পারে, আপনি কল্পনা করতে পারবেন না। যেখানে মানুষ কিংবা অন্য কোনো প্রাণীও থাকে না, সেখানেও মাছি থাকে। শুধু এক মিনিটের জন্যও কোথাও বসে বিশ্রাম নিতে পারবেন না, মাছির ভনভন উপদ্রবের জন্য। পানির চরম অভাব যেখানে বাস্তবতা, সেখানে আপনার খাওয়ার পানিতে বাথরুমের মাছি এসে বসলেও আপনাকে সেই পানিই খেতে হবে। সেই পানি খেয়ে শিশুরা অসুস্থ হলে মানুষ স্বভাবতই এমন কারও কাছে প্রতিকার চায়, যার সাথে সৃষ্টিকর্তার (কাল্পনিক) যোগাযোগ আছে। এ জন্যই হাদিস চলে আসে, “মাছির এক পাখায় আছে জীবাণু, আর অন্য পাখায় আছে তার প্রতিষেধক।” এ কারণেই এছলামে বলা আছে, পানি কিংবা দুধে মাছি পড়লে সেই মাছিকে ওই পানীয়তে পুরোপুরি ডুবিয়ে তারপর বাইরে ফেলে দিয়ে সে পানীয় পান করার জন্য। 

উদাহরণ ২: বেশির ভাগ মরুভূমির (বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে) মাটির নিচে পানির স্তর (বাংলাদেশের তুলনায়) বেশ কাছাকাছি থাকে। পানি পেতে হলে একটাই কাজ, মাটি খুঁড়তে হবে। কোনো শর্টকাট নেই এখানে। তো আপনি যদি যথেষ্ট পরিমাণ অলস হন, তাহলে খাবার পানির চাহিদা মেটার পর আর পানি তোলার ইচ্ছা আপনার না থাকারই কথা। ঠিক তখনই আপনি তায়াম্মুম জাতীয় কোনো উদ্ভট কাজ করবেন, নিজেকে পবিত্র দাবি করার জন্য। শখের বশে অনেকেই বাংলাদেশে তায়াম্মুম করে। আমি মরুভূমির প্রত্যন্ত অঞ্চলে অনেক দিন ধরে হাত-মুখ না-ধোয়া মানুষকে দেখেছি বালু দিয়ে তায়াম্মুম করতে। চরম বিবমিষা জাগানো দৃশ্য। এটা দেখার পরে আমি সিদ্ধান্তে এসেছি, যে এরকম উপায়ে পবিত্র হওয়া সম্ভব মনে করে, সে মানসিক বিকারগ্রস্ত। 

সংক্ষেপে আরও কিছু উদাহরণ: 

১. মরুভূমিতে বাতাস চরম শুষ্ক হওয়ায় বড় পাগড়ি-আলখাল্লা পরা সেখানে বাঁচার অন্যতম শর্ত। সেটাই এখন আমরা কর্তব্য মনে করে পালন করি। 

২. মুখ আর দাঁত পরিস্কার করার জন্য তখন গাছের ডাল ছাড়া আর কিছু ছিল না। সেটাকে আমরা এখন সুন্নত মনে করি। 

৩. ১৪০০ বছর আগের আরবে নিয়মিত গোত্রে-গোত্রে যুদ্ধ, যাযাবর জীবনযাপন ইত্যাদির জন্য সমাজে পুরুষের সংখ্যা ক্রমহ্রাসমান ছিল। পুরুষতান্ত্রিক সমাজের অবিবাহিতা/বিধবা নারীদের তখন সামাজিক নিরাপত্তার জন্য বিবাহিত পুরুষের দ্বিতীয়/তৃতীয় স্ত্রী হওয়া ছাড়া কিছু করার ছিল না। এটাকে এখনও মোছলমানরা কর্তব্য মনে করে। 

এইসব কিছু এমন একটা কনটেক্সটকে সামনে আনে, যেখানে একদল মূর্খ নতুন একটা ধর্ম বানানোর সময় কল্পনাও করতে পারে নি যে, তাদের চেয়ে আলাদা সমাজ বা প্রকৃতি বা পরিবেশে বাকি দুনিয়ার মানুষ বাস করতে পারে।

হা-হা-হাদিস – ১২৯


বাঙালি মুসলিমচরিত

লিখেছেন ধর্মবিদ দেশী

বাঙালি মুসলিমরা সবাই সহজ, সরল, ভাল মানুষ। তারা সাম্প্রদায়িক না, মৌলবাদ লালন করে না, ধর্মান্ধ না। যে ঘটনাগুলো ঘটে, সব সাম্রাজ্যবাদী মার্কিনীদের চক্রান্তে হয় অথবা ব্রিটিশ 'ডিভাইড অ্যান্ড রুল' নীতির কারণে। তারা সহজ সরল মুসলিম বাঙালিকে ভুলিয়ে এসব কাজ করায়। বাঙালি মুসলিম হচ্ছে শিশুর মতো সরল। এদের কোনো দোষ নেই, তেমনি গুণও নেই। এরা ভাল-মন্দ প্রভেদ করতে পারে না।

তবে আপনি কখনোই তাদের সচেতনতা চাইতে পারবেন না, অন্ধবিশ্বাস ভাঙতে পারবেন না। তাহলে আপনি তাদের শত্রু হয়ে যাবেন। আপনাকে তাদের শিশু হয়ে থাকতে দিতে হবে। শিশুরা যেমন রাগ করে অনেক কিছু ভাঙে, তারাও মাঝে-মাঝে বিধর্মীদের ঘর বাড়ি পোড়াবে, নাস্তিকদের কতল করবে। আপনি কিছু বলবেন না বা বললেও ব্যালেন্স করে বলতে হবে। কারণ আপনি মডারেট, সুশীল, বুদ্ধিজীবী।

মা যেমন শিশুকে রসগোল্লার ভেতর ট্যাবলেট পুরে খাওয়াতে চায়, আপনাকেও তেমনি ইসলামের মোড়কে পুরে নৈতিকতা, মানবতা বাঙালি মুসলিমদের গেলানোর চেষ্টা করতে হবে। শিশুর মত তারাও ট্যাবলেটটুকু ফেলে দিয়ে শুধু ধর্মের রসগোল্লাটাই গিলবে বারবার, তারপরও আপনাকে এই প্রক্রিয়াতেই যেতে হবে। 

সব কিছুর ইসলামী ভার্শন বের করতে হবে। ইসলামী সেক্যুলারিজম, ইসলামী ইতিহাস, ইসলামী নারীবাদ, ইসলামী বিজ্ঞান, ইসলামী বিবর্তন এরকম। এর জন্য নিজেদেরও ঈমানের পরীক্ষা দিতে হবে। মাথায় টুপি পরতে হবে; প্রয়োজনে খৎনা দেখাতে হবে। এভাবে গেলাতে গিয়ে মূল লক্ষ্যই বাদ পড়ে যাবে। তারপরও ইসলাম থাকা চাই। কোনোভাবেই বলা যাবে না অসাম্প্রদায়িকতার জন্যই সেক্যুলারিজম প্রয়োজন, নির্মোহভাবেই ইতিহাস জানা প্রয়োজন, মানুষ হিসেবেই নারীর সমতা প্রয়োজন, বিজ্ঞানমনস্ক হয়ে বিজ্ঞান জানা প্রয়োজন। 

আমেরিকা চাইলেই কেন কিছু মানুষকে ব্যবহার করে যা খুশি করাতে পারবে, সেই প্রশ্ন তুলবেন না। সেসব বললেই আপনি নাস্তিক, মুরতাদ হয়ে যাবেন। আপনাকে অবশ্যই ঈমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে আগে। এদের সুশিক্ষা দরকার নেই, বিজ্ঞান দরকার নেই, যুক্তি দরকার নেই। এদের দরকার শুধু ইসলাম। ইসলামের নামে যে কেউ এদের যা খুশি খাইয়ে দিতে পারে।

বাঘ যখন শিকার করে তখন হায়েনা, শিয়াল, শকুন অপেক্ষায় থাকে, কখন বাঘ আহার শেষ করবে, যাতে তারা কাড়াকাড়ি করে উচ্ছিষ্টটুকু সাবাড় করতে পারে। এদেশের মডারেট, সুশীল, বুদ্ধিজীবীরা হচ্ছে হায়েনা, শিয়াল, শকুনের দল। তারা সর্বক্ষণ আমেরিকা নামক বাঘটার অপসারন কামনা করে, যাতে নিজেরা মুসলিম নামক ভেড়াদের নিয়ে ইচ্ছেমতো খেলতে পারে। তাই কেউ মুসলিমদের অন্ধবিশ্বাস, মূর্খতা ভাঙতে চাইলে তারা সহ্য করতে পারে না। 

মূর্খ শিকার-সচেতন হয়ে উঠলে তো রুটি-রুজি, খ্যাতি সব ভেসে যাবে!

২৩ মার্চ, ২০১৫

নিখিল আবালকুলশিরোমণি সম্মেলন


কোরান কুইজ – ৫৭

নিশ্চয়ই মোমিন মুসলমানগণ কোরান সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান রাখেন। বেয়াড়া নাস্তিকগনও নিজেদেরকে কোরান-অজ্ঞ বলেন না কখনও। তাই মুসলিম-নাস্তিক নির্বিশেষে সকলেই অংশ নিতে পারেন কোরানের আয়াতভিত্তিক এই ধাঁধা প্রতিযোগিতায়। এই সিরিজের মাধ্যমেই তাঁরা নিজেদের কোরান-জ্ঞান যাচাই করে নিতে পারবেন। 

প্রশ্ন ৬৭: কেয়ামতের সময় অবিশ্বাসীরা কি কথা বলতে পারবে?

১. হ্যাঁ
২. না

উত্তর বেছে নিয়েছেন? এবারে মিলিয়ে দেখুন।
.
.
.
.
.
.
.