২৫ অক্টোবর, ২০১৪

নামাজরঙ্গ - ৩৫


ধর্মাতুল কৌতুকিম – ৬০

১৭২.
- মুছলিমেরা নাকি গোটা দুনিয়াকে ইছলামী জাহান বানাতে চায়?
- না, ভুল কথা। তাহলে তারা ঘৃণা করবে কাকে!

১৭৩.
চৌদি সরকার নাস্তিকদের সন্ত্রাসী হিসেবে ঘোষণা দেয়ার পর থেকে অপেক্ষায় আছি, কবে চৌদি আজব আমাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে, টেকাটুকা দিবে...

১৭৪.
দুই নাস্তিকের সংলাপ:
- জানো, কোরানে আমি এমন একটা কথা খুঁজে পেয়েছি, যা তর্কাতীতভাবে সত্য এবং যা নিয়ে কারুর কোনও মতভেদ থাকতেই পারে না।
- তাই নাকি! কী সেই কথা?
- 'সৌদি আরবে মুদ্রিত'।

১৭৫.
ফ্রাঙ্কফুর্ট-এর গাড়ি প্রদর্শনীতে একটি অভিনব গাড়ি প্রদর্শন করা হয়েছে। গাড়িটির প্রধান বৈশিষ্ট্য - সেটি শুধু পেছন দিকে চলে। গাড়িটির নাম - Islamborghini.

১৭৬.
- ইছলাম ও পোলিও-র মধ্যে পার্থক্য কী?
- বিজ্ঞানীরা পোলিও-র চিকিৎসা আবিষ্কার করতে পেরেছে।

নিত্য নবীরে স্মরি – ১৬৬




মডারেট মুসলমানদের উদ্দেশে খোলা চিঠি - ২

মুল রচনাআলি এ রিজভি
অনুবাদ: মাহফুজ সজল


মুসলিম পরিবারে, মুসলিমপ্রধান দেশে জন্মেছি বলে এই "ইসলামের আধুনিকায়ন/সংস্কার" ব্যাপারটা নিয়ে অনেক কথা শুনেছি সেই ছোটবেলা থেকেই। অন্তত একটা ব্যাপার নিশ্চিত করে বলতে পারি, যদি কোনোরকম সংস্কার করতেই হয়, সেক্ষেত্রে "কোরানে কোনও ভুল নেই" টাইপের আইডিয়া পাল্টাতে হবে। আমি একা নই, মাজিদ নেওয়াজের (Maajid Nawaj) মত মুসলমানও এই বিষয়ে খোলাখুলি আলোচনা করেন। উনি সরাসরি স্বীকার করেন, কোরানে ভুল আছে। মাত্র ক'দিন আগেও ইমরা নাজিরও এই বিষয়ে একটা লেখা ছাপিয়েছেন, এই 'হাফিংটন পোস্ট'-এই। আমার কথা পাগলের মত শোনাচ্ছে? কিন্তু এটা সম্ভব। দাঁড়ান, আমি উদাহরণ দিচ্ছি। 

আমার জন্ম রিয়াদে, ইন্টারনেটেরও আগে। স্কুলের পরে একজন প্রাইভেট টিউটর আমাদের কোরান পড়াতেন, ক্লাসিক আরবিতে। সেই ভাষায়, যেটায় কোরান লেখা হয়েছিল। আমার পরিবার কিন্তু সেইসব সাধারণ মুসলিম পরিবারের মতই যাদের মাতৃভাষা আরবি না। অবশ্য বেশিরভাগ মুসলমানই আরবিতে কোরান পড়ে। বলা বাহুল্য, না বুঝেই পড়ে। বেশিরভাগ মুসলিম পরিবারেই কোরান রাখা হয় সর্বোচ্চ কোনো স্থানে। আমাদের বাসায় রাখা হত সবচেয়ে উঁচু বুকশেলফের ওপর। ওযু ছাড়া কোরান ধরা যায় না, মেয়েরা ঋতুস্রাবের সময় কোরান ধরতে পারে না। রমজানের মাসে কোরান খতম দেয়াটা সুন্নত তারাবীহ-এর একটা অংশ। কিছু কিছু মুসলিম দেশে বিয়ের সময় বরের মাথায় কোরান ছোঁয়ানো হয়। বাচ্চারা যখন কোরান খতম করে, তখন সেটা খুবই আনন্দের বিষয়। বেশিরভাগ বাসাতেই সেই খুশিতে মিলাদ দেয়া হয়। 

ইন্টারনেট আসার আগে আমি খুবই কম লোকের সাথে মিশেছি। তাদের সাথে তো বটেই, যারা নিজ ভাষায় কোরান পড়ে। তখন গুরুজনদের মুখের থেকে কোরান শুনতাম। আজকাল কত সহজেই কোনও জিনিস গুগল করে নিশ্চিত করা যায়, সে সময় তা একেবারেই ছিল না। কোরানের অনেক জিনিস জানতাম না।

আসলান সাহেবের মত আমরাও মনে করতাম, আরবের বর্বর আইনগুলো (হাত-পা কাটা) স্রেফ আরবের কালচার, এর সাথে ধর্মের কোনও সম্পর্ক নেই। পরে জেনেছি, কোরান আসলেই শিরশ্ছেদের আদেশ দেয়। সুরা মায়েদায় তো পরিষ্কার ভাবেই চুরির শাস্তি হাত কাটা বলা আছে (৫-৩৮); আবার কিছু জিনিষ যেগুলো মনে হত কোরানে আছে (যেমন হিজাব, বোরখা), জেনেছি নেই। পাথর ছুঁড়ে মারার কথা কোরানে নেই। এটা আছে হাদিসে (বাইবেলেও), কিন্তু কোরানে নেই। খতনার (ছেলে কিংবা মেয়ে) কথাও কোরানে নেই, এটাও আছে হাদিসে। 

আসলান সাহেব যখন মিডিয়ার সামনে মেয়েদের খতনার ব্যাপারে কথা বলছিলেন, তখন তিনি একটা বিষয় এড়িয়ে যান। সেটা হল, চার সুন্নি শরিয়াহ দলের একটি (শাফিই) মেয়েদের খতনাকে হাদিস মেনে "বাধ্যতামূলক" বলে ঘোষণা করেছে, আর বাকি তিন দল মেয়েদের খতনাকে "Recommended" বলেছে। এই জন্যই ইন্দোনেশিয়ায়, যেখানে আসলান সাহেবের মতে মেয়ে আর ছেলে ১০০% সমানাধিকার পায়, সেখানে মেয়েদের খতনার হার শতকরা ৮৫ ভাগেরও বেশি। আর সেখানকার ৯০% মেয়েরা এটা সমর্থনও করে। মিশরে মেয়েদের খতনার হার ৯০%! মানছি ছেলেমেয়েদের খতনার ব্যাপারটা ইসলামের আগে থেকেই আছে, কিন্তু এর সাথে ইসলামের কোনও সম্পর্কই নেই, এই দাবি করাটা তো অন্যায্য।

এই ধরনের ব্যাপারগূলো ছোটবেলায় আমার পক্ষে জানা প্রায় অসম্ভব ছিল। কিন্তু ইন্টারনেট আসায় এগুলো একেবারে হাতের কাছে চলে আসে। হঠাৎই একটা বারো বছরের ছেলের কাছে কোরানের অসংখ্য আয়াতের অসংখ্য ব্যাখ্যা হাজির হয়, তাও নানান ভাষার। কোনও লুকোছাপা নেই, সব একেবারে চোখের সামনে!

লি রিঘবির খুনি যখন নিজের স্বপক্ষে সুরা আত-তাওবা (আয়াত ৩) পড়ছিল, তখন ইন্টারনেট ঘেঁটেই দেখা যাচ্ছিল, সে আসলে কী বলছে। আইসিস যখন নিজেদের বর্বর কাজের পক্ষে সুরা মায়েদা, সুরা মোহাম্মদের আয়াত পড়ে, তখন কোরান খুঁজে সেগুলো বের করে এলোমেলো হয়ে থাকা পাজলটা মেলাতে কষ্ট হয় না। বলার অপেক্ষা রাখে না, এটা একটা বিশাল সমস্যা। এবং এটা আপনি আর এড়াতে পারেন না।

যখন লোকে দেখে, আপনার মত মডারেটরা ইসলামকে শান্তির ধর্ম বলছে, আবার এইসব ভয়ংকর আয়াতের সাফাই গাইছে, তখন তাদের চোখে এই আচরণকে দ্বিচারিতা মনে হয়। একটা অমুসলিম যখন কোরানের সেই সব আয়াত পড়ে, আর একটা জঙ্গির হাতে কারও গর্দান যেতে দেখে, তখন তাদের কাছে সেটাই স্বাভাবিক মনে হয়। সমালোচকদের থামানোর জন্য বেন অ্যাফাকের মত গলা ফেড়ে "বর্ণবাদী" বলে চেঁচালে তো সেই চিন্তা তাদের মাথা থেকে বের হয়ে যাবে না। 

(তাছাড়া কোনও ধর্মের সব অনুসারীকে একটা "জাতের/বর্ণের" বলাটা, ধর্মের সমালোচনা করাটাকে "বর্ণবাদী" বলাটা তো স্টুপিডিটি। আমেরিকার খ্রিষ্টান আর বাংলাদেশের খ্রিষ্টানদের ধর্ম এক। এ জন্য কি তারা একই জাতের? খ্রিষ্টান ধর্মের সমালোচনা করলে কি আমি "বর্ণবাদী" হয়ে যাব?)

আমি জানি, স্রেফ সেই ধর্মের অল্প কিছু অনুসারীদের কাজকর্ম দেখে সেই ধর্ম সম্পর্কে মন্তব্য করাটা অন্যায় (হোক সেই অনুসারীরা তালেবান কিংবা আইসিস); কিন্তু এটাও সত্য যে, কোনও ধর্মের গ্রন্থগুলো পড়ে সেই ধর্ম সম্পর্কে মন্তব্য করাটা স্রেফ সৎই নয় বরং বুদ্ধিমানের কাজও বটে। আজকের ইন্টারনেটের দুনিয়ায়, লোকে যখন আপনাকে আপনার ধর্ম আর ধর্মগ্রন্থ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবে, আপনাকে আরেকটু সৎ উত্তর দিতে হবে। ভুলভাল আর অমানবিক আয়াতগুলোকে আপনি মোটা দাগে "রূপক" আর "Out Of Context" বলে চালিয়ে দেবেন, সেটা আর চলবে না। আর প্রশ্নকারীকে "ইসলামবিদ্বেষী" কিংবা "বর্ণবাদী" বলে গালি দিলে সে আপনার ধর্ম আর ধর্মগ্রন্থ সম্পর্কে কোন জবাব পাবে, সেটা নিশ্চয়ই আবার বলতে হবে না। 

তো এখন প্রশ্ন হল, জবাবটা দেবেন কীভাবে??

***********************************************

স্রেফ কোরান না, বরং অন্যান্য আব্রাহামিক ধর্মগ্রন্থগুলোও পড়া শুরু করুন, তাতে ফল আসবে। দেখবেন বাইবেলও একই রকম ভায়োলেন্ট কথায় পরিপূর্ণ। সত্য বলতে আমার কাছে তো মনে হয়, কোরানের থেকেও বেশি ভায়োলেন্ট আয়াত বাইবেলে আছে। ধর্ম অবমাননাকারীদের, জেনাকারীদের, সমকামীদের পাথর মেরে হত্যা - এ সবই পাবেন সেখানে। আর Deuteronomy-এর কুড়ি নং আয়াতের থেকে সামনে আগাবেন তখন তো মনে হবে এটাই হল ইসিসের মুল আদর্শ!!! 

আপনার মনে হবে, ইহুদি-খ্রিষ্টানদের বইয়ের থেকে আপনার বইয়ের তফাত অনেক কম। এখন প্রশ্ন হল, তারা এতোটা উদারপন্থী হল কীভাবে? তাদের বেশিরভাগই কেন বাইবেলকে (যেটা তাদের কাছে ঈশ্বরের বাণী, যেমনটা মুসলমানদের কাছে কোরান) মাত্রাতিরিক্ত সিরিয়াসলিভাবে না নিয়ে কীভাবেই বা ইহুদী-খ্রিষ্টান থাকছে? মুসলিমদের ক্ষেত্রে কি এমনটা সম্ভব?

ওপরের প্যারাটা পড়লে বুঝে গেছেন যে, শেষ প্রশ্নটার উত্তর হল, "হ্যাঁ, সম্ভব।" তবে এটা করার জন্য আপনাকে প্রথমেই "ইসলামিক" আর "মুসলিম" এই দুটোর মধ্যে পার্থক্যটা ধরতে হবে। এগুতে হলে মানুষের হাত ধরে এগুতে হবে, ধর্মের নয়। 

ধর্মের মধ্যে "বিবেক/মানবতা" খুঁজতে যাওয়ার কোনও মানে নেই। আজ সারা মুসলিম-বিশ্ব জুড়ে মহামারীর মত ছড়িয়ে পরা সাম্প্রদায়িকতা আর মৌলবাদের কারণে সাধারণ মুসলমানরাই বেশি মারা যাচ্ছেন, কোনও বিদেশী অপশক্তির কারণে নয়। "ধর্মের বিবেকের" বিরুদ্ধে এর থেকে বড় প্রমাণ আর কী হতে পারে? 

একটা সমাজকে এগিয়ে নেয়ার জন্য ধর্মকে না, বরং মানুষকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া দরকার, একসাথে কাজ করা দরকার। আমরা অন্যান্য আব্রাহামিক ধর্মের বেলাতেও পরিষ্কার পরিবর্তন দেখতে পাই। কী ইহুদী আর কী খ্রিষ্টান, এদের সবারই ভয়ংকর অমানবিক একটা অন্ধকার অতীত আছে, এটা আমরা ভালোই জানি; আজকাল সুযোগ পেলে এটার ব্যবহার করতেও আপনার ভুল হয় না। কিন্তু প্রশ্ন হল, সেই অন্ধকার সময় থেকে তারা বেরুলো কীভাবে? 

ভ্যাটিকানের পোপ যতই জন্মনিয়ন্ত্রণ, গর্ভপাত (abortion) কিংবা বিবাহ-পূর্ব সেক্সের বিরুদ্ধে হইচই করুক না কেন, বেশিরভাগ খ্রিষ্টানই কিন্তু নিজের খেয়ালে চলে, জন্মনিয়ন্ত্রন পদ্ধতি ব্যবহার করে, এবং বিয়ের আগে সেক্সের ব্যাপারেও তারা উদারমনা। বেশিরভাগ ইহুদিই ধর্মের ব্যাপারে নিরপেক্ষ। ইহুদি কালচার মেনে চললেও অনেকেই নিজেকে নাস্তিক কিংবা অজ্ঞেয়বাদী বলে পরিচয় দেয়। কট্টরপন্থীরা আর উদারপন্থীদের মধ্যে মাঝে মাঝে যুদ্ধ হয় বটে, কিন্তু সেটা কথায় শুরু হয়ে কথাতেই শেষ হয়। এজন্য কট্টরপন্থীদের কেউ উদারপন্থীদের খুন করে না।

এই ব্যাপারটার সাথে বিশ্বজুড়ে মুসলমান সমাজের মারাত্মক বৈপরীত্য দেখা যায়। ২০১৩ সালের একটা রিসার্চে দেখা গেছে, মুসলিমপ্রধান দেশের (পাকিস্তান, মিশর) বেশিরভাগ মানুষই বিশ্বাস করে যে, ইসলাম ত্যাগের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত। কে "আসল মুসলমান" আর কে না, সেটা নিয়ে তারা মাত্রাতিরিক্ত চিন্তা করে। ধর্মের নামে জঙ্গিবাদ থামাতে তাদের তেমন চেষ্টা নেই, কিন্তু একজন সামান্য কার্টুনিস্ট কিংবা ফিল্মমেকারের হাত থেকে ইসলামকে বাঁচাতে তারা সদা প্রস্তুত। (প্রসঙ্গক্রমে: বিশ্বজুড়ে আইসিসের বিরুদ্ধে মুসলিমদের ভয়েস অবশ্যই অভিনন্দন পাবার মত অগ্রগতি)

"মডারেট" শব্দটা তার বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে। Fareed Zakaria (CNN সংবাদ পাঠক) মধ্যপ্রাচ্যে "মডারেট" থাকার ব্যাপারটাকেই "ফ্যান্টাসি" বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। এমনকি Nathan Lean-এর মত লোকও যিনি ইসলামের পক্ষে সাফাই গাওয়ার জন্য এবং "ইসলামবিদ্বেষী (Islamophobic)" কথাটা ছড়িয়ে দেবার জন্য বিখ্যাত, তিনিও "মডারেট" শব্দটা ব্যবহারের বিপক্ষে। 

"মডারেটদের" প্রয়োজন ইসলামে ফুরিয়েছে, ইসলামের এখন দরকার "সংস্কারক"; আর "সংস্কারক" শব্দটার সাথে "কোনও ভুল নেই" টার্মটা ঠিক খাপ খায় না। সংস্কারের উদ্দেশ্যই হল পাল্টানো, সিস্টেমটাকে ঠিক করা, দিক পরিবর্তন করা। আর সত্য বলতে কী, কোনও কিছু "ঠিক করতে" চাইলে এটা মেনে নিতেই হবে যে, সেটা কোথাও ভেঙেছে। ব্যাপারটা এমন না যে, বস্তুটা আসলে ঠিক আছে, কিন্তু "দেখে মনে হয়" ভেঙে গেছে, কিংবা বস্তুটাকে ভুল লোক দ্বারা "দেখানো হচ্ছে" ভেঙে যাবার মত। আপনি যদি কোনও কিছুর আধুনিকায়ন চান, সংস্কার চান, তবে সেটার অন্তত কিছুটা অংশ যে বাতিল হয়েছে, নষ্ট হয়েছে, সেটা স্বীকার করাই হল আধুনিকায়নের প্রথম পদক্ষেপ। 

আমার কথা শুনে মনে হচ্ছে আমি সব পাল্টে ফেলতে বলছি? নিজের নবীর দিকেই দেখুন। উনি মক্কা থেকে বিতাড়িত হয়েছিলেন স্রেফ পরিবর্তনের পক্ষে লড়ার জন্য। ঈসা নবী পরিবর্তনের পক্ষে লড়েছিলেন। এঁরা তাদের সময়ের ধর্মগুলোর মূলে আঘাত করতে লজ্জা পাননি। এঁরা আর যা-ই ছিলেন, অন্তত "মডারেট" ছিলেন না। পরিবর্তন আসে এঁদের হাত ধরেই, পরিবর্তন আসে বিপ্লবীদের হাত ধরেই। ইসলাম নিজেও এভাবেই শুরু হয়েছিল। প্রকাশ্যে ক্ষতিকর কোনও ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করাটা "বিদ্বেষ" না, বরং সুন্নত। চার দেয়ালের বাইরে আসুন, ইসলামের সম্মান ফিরিয়ে আনুন।


(নিজের কিছু কথা: "স্রেফ কোরান দিয়ে আর চলবে না", এই চিন্তাটা কিন্তু এক সময় এই আপনারাও করেছেন। আলী (রাঃ)-এর পরপর যখন উমাইয়াহদের খেলাফত শুরু হয়, তখন বিশাল আর জটিলতর সম্রাজ্য পরিচালনার জন্য স্রেফ কোরান না, বরং নবী এবং তাঁর সাহাবীগণ বিভিন্ন পরিস্থিতিতে কী কী কাজ করতেন, তার প্রতিবেদন সংগ্রহ করা শুরু করেন। আজকে কিন্তু সেইসব প্রতিবেদনকেই আমরা "হাদিস" বলে জানি। আর এই হাদিস সংগ্রহের প্রধান উদ্যোক্তাকে কিন্তু আমরা সবাই এক নামে চিনি, উনি "ইমাম আবু হানিফা"। 

এভাবে ইতিহাস ঘাঁটলে এই মুসলমানদের হাতেই ইসলামের অনেক পরিবর্তনের প্রমাণ পাবেন। আরও একবার পরিবর্তন করলে খুব খারাপ কিছু হবে না বলেই মনে হয়।)

২৪ অক্টোবর, ২০১৪

চিত্রপঞ্চক - ৯৫






নিঃসীম নূরানী অন্ধকারে - ১১১

লিখেছেন তামান্না ঝুমু

৫৫১.
মহাবদ নবী বলেছে, য়াল্যা এক ও অদ্বিতীয়।
- সবাই-ই তো, সবকিছুই তো এক ও অদ্বিতীয়। এতে নতুনত্ব বা অসাধারণত্বের কী আছে?

৫৫২.
য়াল্ল্যাউক্তির যুক্তি;
আমরা তোমারই ইবাদত করি ও তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি। (সুরা ১:৪)
- য়াল্ল্যা নিজের ইবাদত নিজে করে কেন এবং নিজেই নিজের সাহায্য প্রার্থনা করে কেন?
- যেহেতু অনেকেই য়াল্ল্যা অপদার্থ অসহায় ও নিষ্ক্রিয় নিষ্কর্মা জেনে তার ইবাদত করে না, এবং তার কাছে সাহায্যও চায় না; তাই সে নিজেই নিজের প্রার্থনা করে ও নিজের কাছে নিজে সাহায্য চায়।

৫৫৩.
কিছু বেকুব লোভী ও ভীতু মানুষ বলে থাকে, ঈশ্বরেরা নাকি আছে। তাতে হয়েছেটা কী? ওরা কি কখনো কারুর কোনো কাজে এসেছে? নিষ্ক্রিয় জিনিস থাকলেই কী, আর না থাকলেই বা কী?

৫৫৪.
য়াল্ল্যা নাকি ভূত পাঠিয়ে মহাবদকে বলিয়েছে, সে আছে। আমি আছি, এবং আমি নিজেই তা বলছি। কোনো ভূত-প্রেতের মাধ্যমে তা বলাচ্ছি না।

৫৫৫.
য়াল্ল্যা নাকি আছে এবং সে নাকি ভালো ও মহান। এজন্য সে কিছু মানুষ জ্বীন ও ফেরেশতা তৈরি করেছে জীবনভর এই কেবল বলার জন্য - য়াল্ল্যা কিন্তু আছে, সে ভালো কিন্তু, সে মহান কিন্তু। ওরা আছে না বললে কি সে 'নেই' হয়ে যাবে? ওরা তাকে মহান ও ভালো না বললে কি তার ভালত্ব ও মহত্ব নেই হয়ে যাবে?

গোয়া মারা গেছে

বানিয়েছেন দাঁড়িপাল্লা ধমাধম

ধর্মকারীর আদিযুগে 'করোটিকল্প' নামে একটি পোস্টার-সিরিজের অবতারণা করেছিলেন চিন্তিত তাপস পাল। পরে অনেকে অংশ নিয়ে সিরিজটিকে সমৃদ্ধ করে তুলেছিলেন। সেই সিরিজের মূল উপজীব্য - দুই করোটির কথোপকথন - এবারে ব্যবহার করেছেন দাঁড়িপাল্লা ধমাধম।


কুরানে বিগ্যান (পর্ব-৫৩): মদিনা সনদ তত্ত্ব - তথাকথিত! ত্রাস, হত্যা ও হামলার আদেশ – ছাব্বিশ

লিখেছেন গোলাপ

পর্ব ১ > পর্ব ২ > পর্ব ৩ > পর্ব ৪ > পর্ব ৫ > পর্ব ৬ > পর্ব ৭ > পর্ব ৮ > পর্ব ৯ > পর্ব ১০ > পর্ব ১১ > পর্ব ১২ > পর্ব ১৩ > পর্ব ১৪ > পর্ব ১৫ > পর্ব ১৬ > পর্ব ১৭ > পর্ব ১৮ > পর্ব ১৯ > পর্ব ২০ > পর্ব ২১ > পর্ব ২২ > পর্ব ২৩ > পর্ব ২৪ > পর্ব ২৫ > পর্ব ২৬ > পর্ব ২৭ > পর্ব ২৮ > পর্ব ২৯ > পর্ব ৩০ > পর্ব ৩১ > পর্ব ৩২ > পর্ব ৩৩ > পর্ব ৩৪ > পর্ব ৩৫ > পর্ব ৩৬ > পর্ব ৩৭ > পর্ব ৩৮ > পর্ব ৩৯পর্ব ৪০ > পর্ব ৪১ > পর্ব ৪২ > পর্ব ৪৩ > পর্ব ৪৪ > পর্ব ৪৫ > পর্ব ৪৬ > পর্ব ৪৭ > পর্ব ৪৮ > পর্ব ৪৯ > পর্ব ৫০ > পর্ব ৫১ > পর্ব ৫২

মুহাম্মদ ও তাঁর প্রত্যক্ষ অনুসারীরা কী রকম অমানুষিক নৃশংসতায় বিরুদ্ধবাদীদের দমন করেছিলেন, তার ধারাবাহিক আলোচনা “ত্রাস হত্যা ও হামলার আদেশ” এর পূর্ববর্তী পর্বগুলোতে করা হয়েছে। তাঁর মৃত্যু-পরবর্তী সময়ে তাঁর অনুসারীরা সে সকল শিক্ষার ধারাবাহিকতা অনুগতভাবে পালন করেছেন ইসলাম প্রচার ও প্রতিষ্ঠার চেষ্টায়। তার জের চলছে আজও। মুহাম্মদের মৃত্যুর ১৪০০ বছর পরও মুহাম্মদ ও তাঁর ইসলামের বিরুদ্ধে সমালোচনা করার বিভীষিকা পৃথিবীবাসী প্রতিনিয়তই প্রত্যক্ষ করছেন।

ইসলামের ইতিহাস পাঠের সময় একটি সত্য সর্বদায় মনে রাখা অত্যন্ত আবশ্যক!

সেই সত্যটি হলো:

‘আদি উৎসে বর্ণিত ইসলামের সমস্ত ইতিহাস সংকলিত ও লিখিত হয়েছে ইসলাম-বিশ্বাসীদের কল্যাণে। লেখকরা যাদের বর্ণনার ভিত্তিতে মুহাম্মদের স্বরচিত ব্যক্তিমানস জীবনীগ্রন্থ কুরান (আল্লাহর রেফারেন্স দিয়ে মুহাম্মদের বক্তব্য) এবং হাদিস (আল্লাহর রেফারেন্স না দিয়ে মুহাম্মদের বক্তব্য ও কর্মের ইতিহাস) সংকলন করেছেন ও সিরাত (মুহাম্মদের জীবনী) রচনা করেছেন, সে সকল সংকলনকারী ও বর্ণনাকারীর প্রত্যেকটি সদস্যই (এক শত ভাগ) ছিলেন বিশিষ্ট ইসলাম বিশ্বাসী।

আর ইসলামের অবশ্য অত্যাবশ্যকীয় প্রাথমিক সংজ্ঞা (ইমান: আল্লাহ এবং মুহাম্মদে বিশ্বাস) অনুযায়ী কোনো ইসলাম বিশ্বাসীরই মুহাম্মদের কোনো কর্মের সামান্যতম সমালোচনা, কটূক্তি বা নিন্দা করার কোনই ক্ষমতা নেই

মুহাম্মদের প্রতিটি কর্মকাণ্ডকে বিভিন্ন কসরতের মাধ্যমে বৈধতা প্রদান এবং মুহাম্মদের সাথে সুর মিলিয়ে অবিশ্বাসীদের যাবতীয় ইতিহাস, শিক্ষা-সংস্কৃতিকে আইয়্যামে জাহিলিয়াত আখ্যায় অত্যন্ত হেয় প্রতিপন্ন করাই প্রতিটি ইসলাম বিশ্বাসীর অত্যাবশ্যকীয় ইমানী দায়িত্ব। তাঁদের সামনে অন্য কোনো পথই খোলা নেই। ইসলাম ১০০% সমগ্রতাবাদী মতবাদ। এই ইমানী দায়িত্বে অন্যথাকারী কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী কখনোই নিজেকে "ইসলাম-বিশ্বাসী" বলে দাবী করতে পারেন না।

অর্থাৎ,

ইসলামের সকল ইতিহাস সম্পূর্ণরূপে একপেশে (One-sided)! কারণ সেই ইতিহাসের প্রবর্তকরা হলেন শুধুই মুহাম্মদ (কুরান) ও তাঁর নিবেদিতপ্রাণ অনুসারীরা (সিরাত ও হাদিস); আত্মপক্ষ সমর্থনে পরাজিত বিরুদ্ধবাদী কাফেরদের প্রামাণিক সাক্ষ্যের কোনো দলিল ইসলামের ইতিহাসের কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় না। তাই অবিশ্বাসী, সমালোচনাকারী ও বিরুদ্ধবাদীদের বিরুদ্ধে মুহাম্মদ ও তাঁর নিবেদিতপ্রাণ অনুসারীদের বর্ণিত অপবাদ ও অভিযোগের ইতিহাসের সঠিকত্ব প্রমাণের কোনো সুযোগ নেই (পর্ব-৪৪)।

মুহাম্মদের যে কোনো আদেশ-নিষেধ ও কর্মকাণ্ডের সামান্যতম সমালোচনাকারী প্রতিটি ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে মুহাম্মদ "আল্লাহ ও তার রসুলের (ইসলামের) শত্রু" বলে আখ্যায়িত করেছেন। আর তাঁর অনুগত অনুসারীরা তাঁর সাথে সুর মিলিয়ে ইসলামের সমালোচনাকারী যে কোনো ব্যক্তি ও গোষ্ঠীকে ইসলামের শত্রু (Enemies of Islam) বলে আখ্যায়িত করে আসছেন ইসলামের জন্মলগ্ন থেকেই। ইসলামের এই শত্রুদের কীভাবে শায়েস্তা করতে হবে, তা আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) তাঁর প্রতিটি অনুসারীদের হাতে-কলমে শিক্ষা দিয়েছেন। কুরান, হাদিস ও মুহাম্মদের জীবনীগ্রন্থের পাতায় পাতায় বর্ণিত আছে সে সমস্ত কলা-কানুন।

তাই,

অনিবার্য কারণেই ইসলামের যাবতীয় ইতিহাস অত্যন্ত তোষামোদ (সর্বাবস্থায় মুহাম্মদের বন্দনা) ও পক্ষপাতদুষ্ট।

এই অত্যন্ত তোষামোদ ও পক্ষপাতদুষ্ট ইতিহাস থেকে সত্যকে আবিষ্কার করা মোটেও সহজ কাজ নয়। আর সেই সত্যকে আবিষ্কারের পর তা প্রকাশ করা ইসলাম-বিশ্বাসী ও অবিশ্বাসী নির্বিশেষে প্রতিটি রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক ব্যক্তি, জাতি ও গোষ্ঠীর জন্য এক অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত। লক্ষ লক্ষ নিবেদিতপ্রাণ ইসলাম-বিশ্বাসী এ সকল সত্য প্রকাশকারী "ইসলামের শত্রুদের" বিভিন্ন কায়দায় শায়েস্তা ও প্রয়োজনে খুন করার ইমানী দীক্ষায় দীক্ষিত।

“কোন অর্বাচীন নিতে চায় তাঁর কর্ম, পেশা ও মৃত্যুঝুঁকি? কোন অর্বাচীন রাজনৈতিক নেতা নিতে চায় তাঁর দেশ ও জাতিকে বিপদের মুখে ঠেলে দিতে? সবচেয়ে সহজ যে কাজটি তা হলো, ‘Shut up your mouth! Say, 'Islam means PEACE’! Praise Muhammad and his GREAT ideology!’"

এ ভাবেই রচিত হয়েছে ইসলামের যাবতীয় ইতিহাস! তাই, অতিরিক্ত অনুসন্ধানী দৃষ্টি না দিলে বিভ্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা শতভাগ।’  

>>> কালের পরিক্রমাকে অতিক্রম করে মুহাম্মদের জীবন-ইতিহাসের (সিরাত ও হাদিস) যে ঘটনাগুলোর বর্ণনা রেফারেন্স হিসাবে আমাদের কাছে মজুত আছে, তা প্রথম লেখা হয়েছে বর্ণিত সেই ঘটনা গুলো সংঘটিত হওয়ার এক থেকে দুই শতাব্দীরও অধিক পরে। কালের এই দীর্ঘ পরিক্রমাকে অতিক্রম করে “মুহাম্মদের সর্বপ্রথম যে পূর্ণাঙ্গ জীবনীগ্রন্থটি” আমাদের হাতে পৌঁছেছে, তা লেখা হয়েছে মুহাম্মদের মৃত্যুর ১১০ বছরেরও অধিক পরে। সেই বইটি হলো মুহাম্মদ ইবনে ইশাক ইবনে ইয়াসার (৭০৪-৭৬৮ খ্রিষ্টাব্দ) রচিত 'সিরাত রসুল আল্লাহ'। তাই, মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের এই গ্রন্থটিই ইবনে ইশাক পরবর্তী ঐতিহাসিকদের মূল রেফারেন্স। আর, ইবনে হিশাম সম্পাদিত ‘সিরাত রাসুল আল্লাহ’ বইটিই হলো মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের মূল বইয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংস্করণ (বিস্তারিত: পর্ব- ৪৪)।

পরবর্তীতে গত ১৪০০ বছর যাবত মুহাম্মদের যে অসংখ্য সম্পূর্ণ ও অসম্পূর্ণ জীবনীগ্রন্থ বিভিন্ন লেখকরা বিভিন্নভাবে (প্রয়োজন মত যোগ-বিয়োগ ও সঠিক-বিকৃত তথ্য/উদ্ধৃতি সহকারে) লিপিবদ্ধ করেছেন তাঁদের সবাইকেই এই গ্রন্থটির ওপরই বিশেষভাবে নির্ভরশীল হতে হয়েছে।

এই গ্রন্থটির অধিকাংশ ঘটনার বর্ণনায় "তথ্যসূত্র/উৎসের” (কোন কোন মানুষের কাছ থেকে ধারাবাহিকভাবে তা সংগ্রহীত হয়েছে) উল্লেখ থাকলেও বহু স্থানে ঘটনার বর্ণনায় লেখক মুহাম্মদ ইবনে ইশাক সেই ঘটনার তথ্যসূত্র/উৎসের কোনোই উল্লেখ করেননি। অনিবার্য কারণেই "উৎসের উল্লেখ" না থাকায় সে সকল ঘটনার বিশ্বাসযোগ্যতা আরও প্রশ্নবিদ্ধ!

আদি মদিনাবাসী ইহুদি গোত্রের বিভিন্ন ব্যক্তির ওপর মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের অনৈতিক আগ্রাসী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং বনি কেউনুকা ও বনি নাদির গোত্রের সমস্ত মানুষকে বিতাড়িত করে তাঁদের সর্বস্ব লুণ্ঠন (পর্ব ৫১-৫২) ও বনি কুরাইজা গোত্রের সমস্ত মানুষের ওপর অমানুষিক গণহত্যাযজ্ঞ ও তাঁদেরকে দাস-দাসীতে রূপান্তর (পর্ব-১২) করে তাঁদের সর্বস্ব লুণ্ঠন করার বৈধতা দিতে ইসলামী বিশ্বাসী পণ্ডিত ও অ-পণ্ডিতরা মুহাম্মদ ইবনে ইশাক রচিত "মদিনা সনদ নামক এক উপাখ্যানের” উদ্ধৃতি উপস্থাপন করেন।

অত্যন্ত লক্ষণীয় বিষয় এই যে, "মদিনা সনদ" নামক এই উপাখ্যান ও তার শর্তগুলোর বিবরণ এমনই একটি বর্ণনা যাতে মুহাম্মদ ইবনে ইশাক কোনোরূপ উৎসের উল্লেখ করেননি!

ইবনে হিশাম সম্পাদিত ‘সিরাত রাসুল আল্লাহ বইটির ইংরেজি অনুবাদ করেছেন A. GUILLAUME. বইটির ২৩১ পৃষ্ঠায় হঠাৎ করেই "The Covenant between the Muslims and the Medinans and with the Jews" শিরোনামে মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের বর্ণনা শুরু হয়েছে, কোনো রূপ তথ্যসূত্র বা উৎসের (Isnad) উল্লেখ না করেই।

কী ছিল সেই "মদিনা সনদ" নামের শান্তিচুক্তি এবং কী তার শর্ত?

মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের বর্ণনা মতে "মদিনা সনদ নামক চুক্তিটি” ছিল মদিনায় পালিয়ে আসা (হিজরত) মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারী মুসলমানদের সাথে মদিনায় বসবাসরত স্থানীয় ইহুদী ও অন্যান্য অবিশ্বাসী গোত্রের পারস্পরিক শান্তিচুক্তি।

ইবনে ইশাকের বর্ণনা মতে চুক্তিটি ছিল নিম্নরূপ ([**] ও নম্বর যোগ- লেখক): [1] [2]

২৩ অক্টোবর, ২০১৪

যুক্তি-ভিত্তিহীন যতো বল্দার্গু

পূর্ণাকারে দেখতে ছবির ওপরে ক্লিক করতে হবে

স্পষ্টভাষ্য হয় প্রকাশ্য - ০৫

লিখেছেন পৃথু স্যান্যাল

১৩. 
রাজাকারগুলো জাতে ওঠার জন্য শহীদ মিনারে যেতে চায়।
আমরা জাতে ওঠার জন্য টুপি আর বোরখা লাগাই।

১৪.
এইবার কোরবানীর মাংসে যে পরিমাণ আরবী লেখা পাওয়া যাচ্ছে, তাতে ছাগুদেরকে আর ছাগু ডাকা যাবে না, দুম্বা কিংবা উট বলেই ডাকতে হবে, মনে হচ্ছে।

১৫.
মরে গেলে কেউ মহামানব হয়ে যায় না।
ছাগল ছাগলই থাকে, পিশাচ পিশাচই।

ইছলাম নারীকে দেয় গৃহপালিত জন্তুর মর্যাদা


কোরান কুইজ – ৪৬

নিশ্চয়ই মোমিন মুসলমানগণ কোরান সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান রাখেন। বেয়াড়া নাস্তিকগনও নিজেদেরকে কোরান-অজ্ঞ বলেন না কখনও। তাই মুসলিম-নাস্তিক নির্বিশেষে সকলেই অংশ নিতে পারেন কোরানের আয়াতভিত্তিক এই ধাঁধা প্রতিযোগিতায়। এই সিরিজের মাধ্যমেই তাঁরা নিজেদের কোরান-জ্ঞান যাচাই করে নিতে পারবেন। 

প্রশ্ন ৫৬: কিয়ামতের দিন সুপারিশ গৃহীত হবে কি?

১. হ্যাঁ
২. না

উত্তর বেছে নিয়েছেন? এবারে মিলিয়ে দেখুন।
.
.
.
.
.
.
.

২২ অক্টোবর, ২০১৪

ডিনামাইট - একটি ইছলামী ইউনিসেক্স পোশাক



ধর্ষণবান্ধব ইসলাম

লিখেছেন ক্যাট ম্যান

ধর্ষণ করলে আল্লাহ খুশি হন। ধর্ষণ-অবলোকনানন্দে তিনি ধর্ষিতার গুনাহ মাফ করে দেন। বান্দার যতগুলো আমল আল্লাহকে আনন্দ দেয়, তার মধ্যে বান্দার ধর্ষণের আমল আল্লাহর নিকট সবচেয়ে বেশি প্রিয়। তাই আল্লাহর নবী ধর্ষণ আমল করতেন, ধর্ষণ নবীজির অন্যতম সুন্নত। আর তার উম্মতেরাও ধর্ষণের সুন্নাহ পালন করে এবং সুন্নতে ধর্ষণ পালন করার জন্য সুযোগের অপেক্ষায় থাকে। 

ধর্ষণে আল্লাহ খুশি হয়ে ধর্ষিতার গুনাহ মাফ করে দেন, এই বিষয়ে আল-কুরআনে বলা হয়েছে:
তোমাদের দাসিগণ, সতীত্ব রক্ষা করিতে চাহিলে পার্থিব জীবনের ধনলালসায় তাহাদেরকে ব্যভিচারিণী হইতে বাধ্য করিও না, আর যে তাহাদেরকে বাধ্য করে, তবে তাহাদের উপর জবরদস্তির পর আল্লাহ তো ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
(সূরা নূর, ৩৩ আয়াত ) 
আল-কুরআনে ধর্ষণের শাস্তি প্রসঙ্গে একটিও আয়াত বা বিধান নেই। বরং ধর্ষকদের বিষয়ে বলতে গিয়ে, "আর যে তাহাদেরকে বাধ্য করে" এটুকু বলেই আল্লাহ প্রসঙ্গ পরিবর্তন করেছেন। তখন প্রসঙ্গ পরিবর্তন করে আল্লাহ ধর্ষিতাদের ধর্ষণ ক্ষতে মলম লাগাচ্ছেন এই বলে যে, "তবে তাহাদের উপর জবরদস্তির পর আল্লাহ তো ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।" 

এই মলম লাগিয়ে আল্লাহ কাদের প্রতি দয়া দেখাচ্ছেন? ধর্ষিতা নাকি ধর্ষকের প্রতি? যদি ধর্ষিতার প্রতি দয়া দেখিয়ে থাকেন, তাহলে প্রশ্ন জাগে, ধর্ষিতার কী এমন দয়া ও ক্ষমার প্রয়োজন আছে আল্লাহর নিকট? যদি না থাকে, তাহলে এই অযাচিত দয়া ও ক্ষমা কি ধর্ষকের উদ্দেশে আল্লাহ নিবেদন করেছেন? 

ইসলামে ধর্ষণবিরোধী ভূমিকা না থাকায় আল-কুরআনের চতুর ব্যাখ্যাকারগণ ব্যভিচার ও ধর্ষণের ধারণাকে এক করে দেখানোর অপপ্রয়াস চালিয়ে থাকেন। ধর্ষণ ও ব্যভিচার যে ভিন্ন বিষয়, আল-কুরআনের ব্যাখ্যাকারগণ কিছুতেই তা বুঝতে চান না। তাঁরা জোরপূর্বক নারীকে যৌনসম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করা বা নারীকে যৌননির্যাতনের মাঝে কোন প্রকার অনৈতিক বিষয় খুজে পান না। 

কারণ পেয়ারে ধর্ষক নবীজি দেদারসে নারী ধর্ষণ করতেন। আর তাই আল-কুরআনে নবীজি নিজের ও তাঁর ধর্ষক সাহাবিদের ধর্ষণেচ্ছার সপক্ষে সম্মতিসূচক ও উত্সাহব্যঞ্জক আয়াত নাযিল করতেন। এমনকি বিশুদ্ধ হাদিস গ্রন্থসমূহ লম্পট নবীজির লাম্পট্যের ঘটনায় ভরপুর। কুরআন-হাদিস অনুযায়ী ধর্ষণ কোনো অনৈতিক কাজ নয়। বিধায় কুরআন-হাদিসে ধর্ষণকে অপরাধ সাব্যস্ত করে ধর্ষকের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার শাস্তির বিধান নেই। 

বরং ব্যভিচারের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে, যদিও ইসলামে ব্যভিচার বলতে যা বোঝায়, তা আদৌ অনৈতিক কিছু নয়। নারী-পুরুষের পারস্পরিক সম্মতিতে বিবাহবহির্ভূতভাবে সাধিত মানসিক ও শারীরিক সম্পর্ককে ইসলামের পরিভাষায় ব্যভিচার সাব্যস্ত করা হয়েছে। এখানে নারী-পুরুষ যে কোনো একজনের বা উভয়ের অসম্মতিতে স্থাপিত মানসিক বা শারীরিক সম্পর্কের বিষয় বিবেচনা করা হয়নি। ব্যভিচার এমন এক ধারণা, যে ধারণায় বিবাহ ব্যতিরেকে কোনো নারী-পুরুষ একে অপরের প্রতি প্রেম, ভালোবাসা, সহানুভুতি ও একে অপরের চাহিদা পূরনের তাড়না অনুভব করতে পারবে না। 

যেহেতু ব্যভিচারের ধারণায় নারী-পুরুষের মাঝে জোরপূর্বক শারীরিক বা মানসিক সম্পর্ক স্থাপনের বিষয় বিবেচনা করা হয়নি, সেহেতু ধর্ষণ ও ব্যভিচার সমার্থক ধারণা নয়। তাই যারা দাবি করে , ইসলামে ধর্ষণের বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান রয়েছে ; মূলত তারা মিথ্যাকে সত্যের মোড়কে উপস্থাপনের অপচেষ্টায় লিপ্ত। আর ইসলামের ধর্ষণ-নীতি আড়াল করার জন্যই বরং তারা ব্যভিচারের মতো স্বাভাবিক ও যৌক্তিক বিষয়ের বিরুদ্ধে ধর্ষক নবীজির কুরআন-হাদিসের দোহাই দিয়ে বিষোদগার করে থাকে।

দুষ্টু যাজিকারা - ১৮



ধর্মবিদ্রূপানন্দ - ১৭

লিখেছেন Mosammot Rinee Khatun

৪৯.
নিরীহ মুমিন: ISIS এর মানুষ মারানী, কল্লা ফেলানী কাজকামগুলো কতটা ইসলাম সম্মত?
ইসলাম ধর্ম: ১০০% ইসলাম সম্মত।

মোডারেট মছলমান: শান্তির ধর্ম ইসলাম ISIS এর কাজকামকে সমর্থন করে না।
ইসলাম ধর্ম: তোমার কথাও ১০০% সঠিক।

নাস্তেক: একই বিষয়ে দুটো ভিন্নমত কখনও একই সঙ্গে ১০০% সঠিক হতে পারে না।
ইসলাম ধর্ম: তোমার কথাও ১০০% ঠিক।

( সব ১০০% সম্মত-এর নাম ইসলাম ধম্ম)

৫০.
কোনো বিধর্মীর মুসলমানে কনভার্ট হওয়া মানে কোনো কৃষ্ণাঙ্গের শ্বেতাঙ্গের দাস হওয়ার মত উন্নতি।

৫১.
প্রবাদগুলো সংশোধন করা দরকার। যেমন,

প্রচলিত প্রবাদ: "বিশ্বাসে মিলায় বস্তু তর্কে বহুদুর।"

সংশোধিত প্রবাদ: "বিশ্বাসী বিলোয় অবস্তু তর্কে পালায় হুজুর।"

২১ অক্টোবর, ২০১৪

আমার বোরখা-ফেটিশ – ১২৩



বৌদ্ধশাস্ত্রে পিতৃতন্ত্র: নারীরা হল উন্মুক্ত মলের মতো দুর্গন্ধযুক্ত - ১৪

লিখেছেন নিলয় নীল


পুরুষ স্ত্রীকে চায় সর্বগুণ সমন্বিত দাসীর রূপে। তারা সংসারে কর্মঠ যন্ত্রবিশেষ হবে, কিন্তু কোন কণ্ঠস্বর থাকবে না। এই বিষয়ে আমরা আলোচনা করবো বৌদ্ধ শাস্ত্রের ধর্মগ্রন্থ ত্রিপিটকের জাতক কাহিনীর অন্তর্ভুক্ত সুজাতা জাতক নিয়ে। জাতক কাহিনীর ২৬৯ নম্বর এই জাতকের অতীতবস্তুতে জানা যায় বিশাখার কনিষ্ঠা ভগিনী সুজাতা স্বামীগৃহে যাবার সময় অনেক দাসদাসী সঙ্গে নিয়েছিলো, এ জন্য তার মধ্যে অহংকার ছিলো। 

সে স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি কাউকেই গ্রাহ্য করতো না, বাড়ির দাসদাসীকে তর্জন গর্জন এমনকি প্রহার পর্যন্ত করতো। একদিন বোধিসত্ত্ব (একাদশ পর্বে বোধিসত্ত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা দ্রষ্টব্য) ঐ বাড়িতে আহার করতে এসে সুজাতার স্বভাব জানতে পেরে তাকে সাত প্রকার ভার্যা সম্পর্কে জ্ঞান দান করে এবং তার নিজের অবস্থান নির্ণয়ের জন্য বলে। 

১. বধকা নারী: এই প্রকারের নারীরা অর্থ অপচয়কারিণী, দুষ্টমতি এবং স্বামীকে ঘৃণা করে। 

২. চৌরী নারী: এই প্রকারের নারীরা স্বামীর সম্পত্তি হরণ করে, কিন্তু স্বামীর কষ্টের কথা ভাবে না। 

৩. আর্যাপ্রচন্ডা নারী: এরা অলস, পেটুক, দুর্মুখ, নির্দয়, পীড়নকারিণী। 

বাকি চার প্রকার নারীই ভদ্র এবং এরাই সমাজের কাম্য। সতিসাধ্বী নারীদের প্রকৃতি সম্পর্কে বোধিসত্ত্বের মতামতের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

- সব সময় স্ত্রী পতির যত্ন করবে। 

- স্ত্রী তার পতির সেবা শুশ্রুষা করবে। 

- স্বামীকে সব সময় সম্মান করবে 

- স্ত্রী সর্বদা তার পতির বশবর্তী হয়ে থাকবে। 

- লজ্জায় মুখ থেকে কথা বের হবে না। 

- নির্যাতনেও কখনোই অসন্তোষ প্রকাশ করবে না। 

- স্বামীর ভয়ে সব সময় কম্পমান থাকবে। 

এরাই হচ্ছে বোধিসত্ত্বের মতে সতী নারী। যারা সংসারে সুখ নিয়ে আসতে পারে। বোধিসত্ত্বের নীতিগাথাটি নিম্নে দেয়া হলো যার মাধ্যমে সতী নারী সম্পর্কে আপনিও স্পষ্ট ধারণা পাবেন: 
চিত্ত যার সর্বদা হিতব্রতপরায়ণ
পতির সম্পত্তি যত্নে করে সংরক্ষণ
যেরূপ যতনে মাতা, পুত্রের লালনে রতা
পতির শুশ্রুষা তথা করে অনুক্ষণ
মাতৃসমা হেন ভার্যা বলে সর্বজন
কনিষ্ঠা ভগিনী যথা জ্যেষ্ঠ সহোদরে
নিয়ত সম্মান করে প্রফুল্ল অন্তরে
সেইরূপ যে গৃহিণী, পতির বশবর্তিনী
লজ্জাবশে যার মুখে না সরে বচন,
সে ভার্যা ভগিনীসমা বলে সর্বজন।
বিলম্বে সখার সঙ্গে ঘটিলে মিলন
সখী যথা সুখী তার নেহারি বদন
হেরিলে পতির মুখ, তেমতি যে পায় সুখ
সুজাতা, সুশীলা, সাধ্বী রমণীরতন
হেন ভার্যা সখীসমা বলে সর্বজন
উৎপীড়নে অসন্তোষ না উপজে যার
দণ্ডভয়ে কম্পমান সদা কলেবর
সুশীলা তিতিক্ষাবতী, ক্রোধহীনা যেন সতী
তুষিতে পতির মন রত অনুক্ষণ,
দাসী সেই ভার্যা ইহা বলে সর্বজন। 
বোধিসত্ত্ব উপরের গাথাটি বলে সুজাতাকে প্রশ্ন করলেন, সে কেমন ভার্যা হতে চায়? সুজাতা কিন্তু শেষ পর্যন্ত দাসী হতেই চেয়েছে। প্রতিটি ধর্মের মতো বৌদ্ধধর্মেও সেই দাসী হওয়াই নারীর নিয়তি! 

(চলবে) 

Taliband: ছহীহ ইছলামী ছঙ্গীতদল




শান্তির কোপে ফালা-ফালা

লিখেছেন হাইয়্যা আলাল ফালাহ্‌

১. 
স্পেনের এক শহর আছে। নাম Ceuta. এর ওপর একটা ডকুমেন্টারি দেখলাম। চরম দুর্লভ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির শহর। মুসলমান (আরব + বর্বর), নাছারা, ইহুদি, হিন্দু সবাই শান্তিতে আছে। এমনকি এটা বিশ্বের একমাত্র অমুসলিম শহর, যেখানে ঈদুল আযহাকে অফিসিয়াল পাবলিক ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। তো এই শহরে একটাই মাত্র গ্রুপ আছে, যাদের এসব ভাল্লাগে না। তারা আর কেউ না। মোছলমান। তারা মরক্কোর সাথে জুটতে চায়। বিধর্মীদের সাথে থাকতে তাদের ভাল্লাগে না।

২. 
আলি সিনা'র লেখা বই 'আন্ডারস্ট্যান্ডিং মুহাম্মদ' পড়ে অনেক কিছু নতুন করে বুঝতে পেরেছি। এখন বুঝি, কেন মোছলমানদের সাথে অন্যদের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান সম্ভব নয়। 


স্যামুয়েল হান্টিংটনের বই ‘ক্ল্যাশ অফ সিভিলাইজেশন্‌স্‌’ পড়ে লেখকের ওপর রাগ, ক্রোধ হয়েছিল (তখন মোছলমান ছিলাম); এখন বুঝি, এদের সাথে কারোই শান্তিতে থাকা সম্ভব না। এরা না খেয়ে, অস্ত্র হাতে নিয়ে, বিধর্মীদের ক্ষতি করতে করতে মরতে রাজি; কিন্তু ‘শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান’ একটা অক্সিমরন (oxymoron), যখন আশে-পাশে “শান্তির ধর্মের বিশ্বাসীরা” থাকে।

৩.
গত দশ বছর ধরে ফরাসী ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে পড়ছি। ফরাসী সমাজে একটা জোস ব্যাপার আছে। এরা সেক্যুলার। এটা সবাই জানে। যেটা অনেকেই জানে না, সেটা বলি। ফরাসী ভাষায় কারো পরিচয় করিয়ে দেয়ার সময় (বাস্তব জীবনে অথবা উপন্যাসে) তার ধর্ম-পরিচয় দেয়া হয় তাকে নেতিবাচক চরিত্র হিসেবে উপস্থাপন করার জন্য। একটা উদাহরণ দিচ্ছি: কেউ যদি লেখে “আমার বাবা ৬০ বছর বয়সী একজন মুসলিম প্রফেসর”; তার মানে হচ্ছে তার বাবা ৬০ বছর বয়সী একজন প্রফেসর, যে কিনা ভিন্নমত সহ্য করতে পারে না। কেউ যদি লেখে “আমার বাবা ৬০ বছর বয়সী ইহুদি প্রফেসর”; তার মানে হচ্ছে তার বাবা ৬০ বছর বয়সী একজন প্রফেসর, যে ব্যাপক কিপ্টা। লক্ষণীয়: এক এক ধর্মের লোকজন এক এক ব্যাপারে সারা বিশ্বজুড়ে সমালোচিত ও হাসির পাত্র। আর কেউ যদি লেখে “আমার বাবা ৬০ বছর বয়সী একজন প্রফেসর”; তার মানে হচ্ছে তার বাবা ৬০ বছর বয়সী একজন প্রফেসর।

২০ অক্টোবর, ২০১৪

ঝড়-বজ্রপাত-বৃষ্টির ধর্মীয় বৈগ্যানিক কারণ



টেকি আল্লাহ ও অ-টেকসই ঐশীবাণী-সংরক্ষণ ম্যাটেরিয়াল

লিখেছেন সেক্যুলার ফ্রাইডে

হাদিসে পড়েছি, রাসুলুল্লাহ্ একবার তাঁর সাহাবীদের নিয়ে সালাত আদায় করছিলেন। তিনি যখন রুকু থেকে মাথা উঠিয়ে “সামি’আল্লাহু লিমান হামিদাহ” বললেন; তখন পেছন থেকে এক সাহাবী “রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ, হামদান কাছীরান তায়্যিবান মুবা–রাকান ফীহ” বললেন।

সালাত শেষ করে রাসুল (সাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, “কে এরূপ বলেছিল?”

সে সাহাবী বললেন, “আমি।” 

তখন রাসুল (সাঃ) বললেন, “আমি দেখলাম ত্রিশ জনের বেশী ফেরেশতা এর সওয়াব কে আগে লিখবেন, তা নিয়ে নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা করছেন।” ~(সহীহ বুখারী ৭৬৩, ইফা)~

এই হাদিসটা পড়ার পর আমার মনে প্রশ্ন হল:

ফেরেশতারা সোয়াব কিসে বা কোথায় লেখেন? কীভাবে সংরক্ষণ করেন? 

এই ডাটাবেস ও স্টোরেজ নিশ্চয় অবিনশ্বর, কারণ তা কেয়ামত পর্যন্ত থাকবে বলে বলা আছে। তার মানে আল্লাহ্‌র অবশ্যই শ্রেষ্ঠতর টেকনোলজি জানা আছে, যা তিনি ফেরেশতাদের শিখিয়েছেন!

তবে আল্লাহ্‌র কাছ থেকে জিবরাঈলের মাধ্যমে আসা কোরানের বাণীগুলো কাগজের অভাবে পাথর, কাপড়, হাড়, চামড়া - এসব বস্তুর ওপর কেন লিখতে হল, যা নশ্বর ও ধ্বংসযোগ্য? এবং যা কালক্রমে হারিয়ে গেছে!

কেন নবী ও তার উম্মতদের কেবলমাত্র মানুষের স্মৃতিশক্তির ওপরে নির্ভরশীল হতে হল, যা ক্ষয়িষ্ণু ও প্রামাণ্য নয়?

আল্লাহ্‌ কি তবে তার হাবিব, পেয়ারা নবীকে ফেরেশতাদের তুলনায় কম ভালোবাসতেন?

কম্পিউটার ও অনলাইন হারাম


আমার শুদু হাসি ফায়

লিখেছেন বাংলার উসমান মুয়াজ্জিন মোহাম্মদ ইসলাম

মোহাম্মদ (রাঃ) বলে কেউ ছিলেন কি!

হাহাহাহা, হাহাহাহা, আমার শুদু হাসি ফায় হাহা… 

এদের মূর্খতামী দেখি আমার শুদু হাসি ফায়। এরা এমুন কুন ধরনের সাহাবি আছিলো, এরা এমুন ধরনের জীবনিকার, এরা কী ফড়িয়া ইতিহাসবিদ হইসে যে নবীজীর জন্মতারিখটা বাহির কোইত্তে ফারে নাই! নবীজীর জন্মদিন লইয়া এত এত জোচ্চুরি সোলতেসে, যার কারণে খেরেস্তান রবার্ট স্পেনসার সন্দিগ্ধতার সহিত এই প্রশ্ন উঠানির সুযুগ ফায় যে, Did Muhammad exist?

আসলে হইসে কী, আমরা সকলেই জানি, নবীজীর জন্মদিন ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দ রবিউল আউয়াল সোমবার। নাকি? কিন্তুক খুবই গুরুত্বফূর্ন ও বিশ্বস্ত এক লুকের মাধ্যমে জানা যাইতেসে, নবীজির আদি জীবনিকার ইবনে আব্বাস বলেসেন, তাঁর জন্ম হস্তি বর্ষে (year of the elephant, 570); কিন্তুক একদল ইতিহাসবিদ-এর মতে, মোটেও না, নবীজি জন্মেছেন ১৫ বছর আগে। আবার একদল বলসেন, নবীজির জন্ম হস্তি বছরের অনেক পরে, প্রায় সত্তুর বছর পর।

হাহাহাহা, নবীজীর জন্ম লই এমুন তালবাহান দেখি আমার হাসি ফায়… হাহাহা…

কাহিনি এখানেই শেষ নহে, বৎস ! আরো আছে।

জন্ম মাস নিয়েও সমস্যা। বেশিরভাগ ইতিহাসবিদ নিকি বলসেন চন্দ্রবৎসরের তৃতীয় মাসে জন্ম। আরেকদল বলছে, তাঁর জন্ম মোহররম মাসে। আরেক দল বলছে, মোটেও না, তাঁর জন্ম সাফার মাসে। হাহাহাহাহা। আমি কই যাই! তরা আমায় ধর ওরে সোটোলুক বাঙ্গালী… জন্ম তারিখ লইয়াও বোলে শোমোইশ্যা। হাহাহাহা… একদল কয়, রবিউল আউয়ালের ৩ তারিখে। আরেকদল কয়, ৯ তারিখ। আবার আরেক দল কইবার লাগছে ১২ তারিখ। হাহাহাহা… 

আসল হাসির বেফারটা এখনো বাকি ! এই যে আমরা যারা মুসলিম আছি, আমরা ত নবীজির জীবনিকার ইবনে আব্বাসের কথাকে বিশ্বাস করি মানি নিয়েসি যে, নবীজীর জন্ম ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দের রবিউল মাসের ১২ই সোমবারে, কিন্তুক আধুনিক দিন পঞ্জিকা কয় কী!এই নাস্তেক দিন পঞ্জিকা কয়, ৫৭০ খৃষ্টাব্দের রবিউল মাসের ১২ তারিখ মোটেও সোমবার না, এইটা ভুল তথ্য! সোমবার না? তাইলে? 

তাইলে নবীজীর জন্ম কবে? কবে? কবে?

খালেদা জিয়ার নিজির জন্ম তারিখের ঠিক নাই, তাই উনাকে কতই না লজ্জা ফেতে হয়। আমাগের ফ্রানের সেয়ে ফ্রিয় নবীজীর ত দিখি আরো বিরাট সমস্যা, উনি ত ওফাত লাভ করেসেন, তাই লজ্জা শরমের দায় দায়িত্ব ত উনাকে নিতে হবে না, আমাদিগকেই নিতে হবে। নাকি? 

অথুসো Robert spencner কয়, Did Muhammad exit??? হাহাহাহা...

১৯ অক্টোবর, ২০১৪

হা-হা-হাদিস – ১১০

অনুবাদ ও ফটোমাস্তানি: নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক



মন্দিল-খুশি-করা ইলাস্ট্রেশনসহ বাংলায় অনূদিত আরও অসংখ্য মজাদার হাদিসের সংকলনটি যাঁরা এখনও দেখেননি, তাঁরা কতোটা মিস করেছেন, তা ডাউনলোড করে নিয়ে নির্ধারণ করুন।

ডাউনলোড লিংক
https://docs.google.com/file/d/0B1lqaonhgir4N3ZCcWk1WTdQdkk/edit?usp=sharing
ফরম্যাট: পিডিএফ
সাইজ: ১০.৭৪ মেগাবাইট