২৭ ফেব, ২০১৭

কুফরী কিতাব: উম হানি ও মুহাম্মদ (ইসলামের মহানবীর প্রথম ভালবাসা) - আবুল কাশেম

স্টিকি পোস্ট

ভূমিকা থেকে:
উম হানি এবং নবী মুহাম্মদের মাঝে পরকীয়া প্রেমের বিষয়ে আলোকপাত করা অত্যন্ত জটিল এবং বিপজ্জনক। জটিল এই কারণে যে, উম হানির ব্যাপারে আধুনিক ইসলামী পণ্ডিতেরা কোনো কিছুই জানাতে চান না। কারণ নবীর জীবনের এই অধ্যায় তেমন আনন্দদায়ক নয়। নবীর শিশু-স্ত্রী আয়েশা, পালকপুত্রের স্ত্রী যয়নবের সাথে নবীর বিবাহ, এবং আরও অন্যান্য নারীদের সাথে নবীর যৌন এবং অযৌন সম্পর্কের ব্যাপার আজ আমরা বেশ ভালভাবেই জানতে পারি। তা সম্ভব হয়েছে আন্তর্জালের অবাধ শক্তির জন্যে। আজকাল এই সব নিয়ে প্রচুর লেখালেখি হচ্ছে এবং আমরা নবীর জীবনের অনেক অপ্রকাশিত অন্ধকার দিকগুলি অবলোকন করতে পারছি। কিন্তু উম হানির সাথে যে নবী আজীবন পরকীয়া প্রেম করে গেছেন—অগনিত স্ত্রী ও যৌনদাসী থাকা সত্ত্বেও—তা নিয়ে আজ পর্যন্ত তেমন উল্লেখযোগ্য কোনো প্রবন্ধ লেখা হয়নি। 
উম হানি ছিলেন নবী মুহাম্মদের প্রথম এবং আজীবন প্রেম। ধরা যায়, নবী উম হানিকে মনঃপ্রাণ দিয়ে ভালবাসতেন এবং কোনোদিন এক মুহূর্তের জন্য উম হানিকে ভোলেননি। ইসলামের নির্ভরযোগ্য প্রাচীন ও মৌলিক উৎস ঘেঁটে এই রচনা লেখা হয়েছে, যাতে নবী জীবনের এই উপাখ্যান দীর্ঘ জানা যায়। যেহেতু উম হানির জীবন এবং নবীর সাথে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে কোনো ইসলামী পণ্ডিত ইচ্ছাকৃতভাবেই তেমন মাথা ঘামাননি, তাই অনেক কিছুই অনুমান করে নিতে হয়েছে। জোরালো হাদিস এবং প্রাথমিক জীবনীকারদের থেকে জানা তথ্যই এই অনুমানের ভিত্তি। এই রচনাতে নবী মুহাম্মদের পরকীয়া প্রেমের অনেক প্রশ্নের উত্তর পাঠকেরা হয়ত পাবেন।
ইছলামের নবীর জীবনের এই অধ্যায়টি নিয়ে বাংলা ভাষায় এতো গভীর গবেষণাসমৃদ্ধ রচনা আর লেখা হয়নি। আর এই কাজটি করেছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ও কিংবদন্তিতুল্য ইছলাম-গবেষক এবং কোরান, হাদিস ও ইছলামের ইতিহাস সম্পর্কে অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী আবুল কাশেম। 

এই ইবুকের পরিকল্পনা, বিন্যাস, প্রচ্ছদ ও নির্মাণ নরসুন্দর মানুষ-এর।

ফরম্যাট: পিডিএফ (সম্পূর্ণভাবে মোবাইলবান্ধব)
সাইজ: ১.১ মেগাবাইট মাত্র

ডাউনলোড লিংক (গুগল ড্রাইভ): https://goo.gl/To2GY5
ডাউনলোড লিংক (ড্রপবক্স): https://goo.gl/ZnlihF

(অনলাইনে লভ্য সমস্ত বাংলা কুফরী কিতাব এক জায়গায়এই ঠিকানায়)

নিচে অনলাইনে পাঠযোগ্য ভার্শন:

প্রস্তাব

সূরা মঙ্গল

অবতীর্ণ হয়েছে বেনামী সংস্কারক-এর ওপরে

১. তোমরা কি দেখ না আমি কত সুন্দর করে তৈরি করেছি ধূসর গ্রহ, যেখানে রয়েছে তোমাদের জন্য শুভ ও কল্যাণময় বস্তু?

২. এই দুনিয়া তোমাদের জন্য ক্ষণস্থায়ী জায়গা, সময় ফুরিয়ে আসবে শীঘ্রই।

৩. যখন তোমরা বিষের তাড়নায় অস্থির হয়ে দিগ্বিদিক ছুটবে তখন কে তোমাদের আশা দেবে? কে তোমাদের ভরসা দেবে? কে শোনাবে আশার বাণী?

৪. যখন তোমরা পিপাসায় কাতরাবে, কিন্তু যা দেখবে সবই দৃষ্টিভ্রম।

৫. তোমাদের জন্য সেখানে আছে কল্যাণময় বস্তু, যা তোমরা কল্পনাও করনি, যা কোনও চোখ দেখেনি, যা কোনও কান শোনেনি, যার ঘ্রাণ কেউ পায়নি।

৬. তোমরা আমার সীমানার বাইরে যেতে পারবে না, কিন্তু তোমাদের জন্য যা নির্ধারণ করেছি তা ব্যতীত।

৭. হে মানব সম্প্রদায়, তোমরা যাকে মহাপুরুষ ভেবেছিলে, সে কতজনের কতভাবে সর্বনাশ করেছিল, তা কি তোমরা জানো?

৮. তোমাদের মাঝে যাকে ভেবেছিলে নিকৃষ্ট, সেই আজ তোমাদের জন্য নিয়ে আসবে কল্যাণ।

৯. তোমাদের জন্য অপেক্ষায় আছে ঘূর্ণায়মান উদ্যান।

১০. যখন তোমরা থাকবে না, কিন্তু তোমাদের পরবর্তী প্রজন্ম জানবে আমার করুণা।

১১. সুতরাং আর কতবার কতভাবে বললে বুঝবে এই গ্রন্থ কল্যাণময়, এটাই একমাত্র সত্যি, আমার থেকে প্রেরিত।

১২. সময় থাকতেই তাই সবাই এক হও, ভেঙে ফেল সব বাধা বিদ্বেষ পৈতা তিলক দাড়ি টুপি ক্রুশ ত্রিশুল।

তাৎপর্য

নিত্য নবীরে স্মরি – ২৭৫

২৬ ফেব, ২০১৭

নিমো হুজুরের খুতবা - ২৯

লিখেছেন নীল নিমো

ফুরফুরে মেজাজে আছি। নাস্তিকদের প্রশ্নের উত্তর দিবার জন্য নতুন একখানা বই হাতে পেয়েছি। বইটার নাম হল - প্যারডক্সিকাল সাজিদ। কোরান হাদিস সব কিছুই নাস্তিকদের কাছে ফেল খাইছে, এখন প্যারডক্সিকাল সাজিদ সাহেবই ভরসা।

আজকে এক নাস্তিকের সাথে দেখা হওয়া মাত্রই প্যারডক্সিকাল সাজিদ বইটা খুলে নাস্তিককে দাঁতভাঙা প্রশ্ন করলাম:
- ওহে জাহান্নামি নাস্তিক, আপনার বাবা-মা যে আপনার জন্মদাতা বাবা-মা, এর প্রমাণ কী? আপনি অন্ধভাবে আপনার বাবা-মাকে বিশ্বাস করেছেন। ঠিক তেমনিভাবেই অন্ধভাবেই আল্লাহকে বিশ্বাস করতে দোষ কী?

নাস্তিক উত্তর দিল:
- আমার বাবা-মা আমার সামনে এসে দাঁড়িয়ে দাবি করেছে যে, তারা আমার বাবা-মা। আপনার আল্লাহকে বলেন, আমার সামনে এসে দাড়িয়ে নিজেকে সৃষ্টিকর্তা হিসাবে দাবি করতে।

নাস্তিকের প্রশ্ন শুনে ভাবাচ্যাকা খাইলাম। বুঝলাম, প্যারডক্সিকাল সাজিদ ধরা খাইছে। নাস্তিককে সেটা বুঝতে না দিয়ে নিজে বুদ্ধি করে পাল্টা প্রশ্ন করলাম:
- আল্লাহপাক তো কোরানে দাবি করেছেন, তিনি সৃষ্টিকর্তা। সামনে আসার দরকার কী? নাস্তিকদের সামনে আসতে আল্লাহ কম্ফোর্ট ফিল করেন না। আপনার বাবা-মা সামনে এসে দাঁড়িয়ে দাবি করলেও তো আপনাকে বিশ্বাস করে নিতে হবে, ঠিক কি না?

নাস্তিক উত্তর দিল:
- বর্তমানে DNA এবং ব্লাড টাইপ ম্যাচ করে বাবা-মা সহজেই নির্নয় করা যায়। আল্লাকে বলেন, তার DNA স্যাম্পল পাঠিয়ে দিতে।

আমি বলিলাম:
- DNA, ব্লাড টাইপ বুঝি না, সহজ করে বলেন।

নাস্তিক উত্তর দিল:
- আপনি তো মাদ্রাসার ছাত্র, তাই DNA, ব্লাড টাইপ বুঝবেন না। তাই আপনার জন‍্য আরেকটা যুক্তি দিচ্ছি। আপনার মা যখন আপনাকে জন্ম দিয়েছিল, তখন চারপাশে লোকজন সাক্ষী হিসাবে ছিল। তাই কে আপনার মা, এটা জানা খুবই সহজ ব্যাপার। কোনো মা লোকচক্ষুর অন্তরালে হেরা গুহা কিংবা মিরাজে গিয়া চুপিচুপি বাচ্চা জন্ম দেয় না।

এইবার বাবার বিষয়ে আসুন। ধরেন, আপনার ১ লক্ষ টাকা চুরি হয়ে গেছে। আপনি চোরকে খুঁজে বেড়াচ্ছেন, কিন্তু পাচ্ছেন না। হঠাৎ এক লোক চুরির দায়িত্ব স্বীকার করে আপনাকে ১ লক্ষ টাকা ফেরত দিল। আপনি কি তাকে জিজ্ঞাস করবেন, সে আসল চোর কি না? আপনি কখনোই জিজ্ঞাস করবেন না, কারণ আপনি আপনার টাকা ফেরত পেয়েছেন, এতেই আপনি খুশি। কে টাকা চুরি করেছিল, সেটা গুরুত্বহীন ব্যাপার। ঠিক তেমনি জন্ম দিলেই বাবা হওয়া যায় না। বরং যে বাবার দ্বায়িত্ব কাঁধে তুলে নেয়, সেই আসল বাবা। আপনার জন্মদাতা বাবা যদি আপনাকে জন্ম দিয়েই পালিয়ে যায়, তাহলে সেই বাবা থাকা বা না-থাকা একই কথা। পুরুষ মানুষের শুক্রাণু তো আজকাল বাজারে কিনতে পাওয়া যায়।

তাছাড়া, আপনাদের মহানবীর (সঃ) জন্মদাতা বাবা আবদুল্লাহ বাবার দায়িত্ব পালন করতে পারে নাই, তাই নবীজি শেষ বয়সে এসে বখে গিয়েছিল। বখাটে চরিত্রহীন মুহাম্মদ (সঃ) একে একে ১১ টা বিয়ে করে ফেলেছিল, কুপিয়ে মানুষ হত্যা করেছিল। আবদুল্লাহ যদি বেঁচে থাকতেন, এবং সঠিকভাবে বাবার দায়িত্বপালন করতেন, তাহলে এই ঘটনা ঘটত না, মুহাম্মদ নিজেকে নবী দাবি করতে পারত না। তাই মুহাম্মদ (সঃ) নিজের পিতা সম্পর্কে বলে গেছেন, কাফের আবদুল্লাহ কখনো বেহেশতে যাবে না। জন্মদাতা বাবা কাফের, একটা কতটা কষ্টকর, সেটা নবীজি ছাড়া কেউই বুঝবে না। আপনি এখন বুঝতে পারছেন, দায়িত্বহীন বাবার পরিচয় জানাটা যেমন জরুরি নয়, ঠিক তেমনি দায়িত্বহীন সৃষ্টিকর্তার পরিচয় জানাটাও নাস্তিকদের জন্য জরুরি নয়।

নাস্তিকের উত্তর শুনে নিঃশব্দে আমার ওযু নষ্ট হয়ে গেল। আমি হাম্মামখানার দিকে গেলাম।

পিতার রকমফের

(পূর্ণাকারে দেখতে ছবির ওপরে ক্লিক করতে হবে)

সম্পর্ক সম্পর্কিত সম্পৃক্ততা - ১

অভিজিৎহীন দু'টি বছর

'মুক্তমনা' ব্লগ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অনলাইনে বাংলায় মুক্তবুদ্ধি চর্চার প্রকৃত পথিকৃৎ অভিজিৎ রায়ের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ।

দু'বছর আগে ঠিক এই দিনে হেফাজতে ইছলাম নিয়ন্ত্রিত মোল্লা একাডেমী কর্তৃক আয়োজিত সিসি ক্যামেরাময় কিতাব মাহফিলের ঠিক বাইরে নির্লিপ্ত পুলিশের উপস্থিতিতে ও অজস্র মানুষের সামনে তাঁকে হত্যা করে শিক্ষাবিদ্বেষী, সভ্যতাবিমুখ ও বর্বর ইছলামের মহানবীর মহান বীর অনুসারীরা।

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে অনলাইনে কটু মন্তব্য করলে দক্ষ ও তৎপর গোয়েন্দা বাহিনী ছদ্মনামের আড়ালে থাকা ব্যক্তিকেও ধরে ফেলতে পারে ঠিক পরদিনই, কিন্তু অগণ্য প্রত্যক্ষদর্শী ও সিসি ক্যামেরায় ধারণকৃত ফুটেজ থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘ দু'বছরে তদন্ত ও বিচারকাজ কতোটুকু এগিয়েছে?

বস্তুত এই হত্যাকাণ্ডের পর উচ্চকণ্ঠে বা নীরবে পুলক-বোধ-করা রাষ্ট্র, সরকার, গোয়েন্দা, পুলিশ ও সর্বোপরি আপামর তৌহিদী মুছলিম জনতা বিন্দুমাত্র সদিচ্ছা বোধ করে না এর তদন্ত ও বিচারকার্যে। তবু যেটুকু করা হয়েছে বা হচ্ছে (বলা উচিত, করার ভান করতে হচ্ছে), তা বহির্বিশ্বের চাপে।

ইছলামী ধর্মবাজদের ঘাঁটানোর সাহস আসলে নেই কোনও প্রশাসনেরই। বরং প্রশাসন এদেরই আজ্ঞাবহ। নইলে ইছলামীরা নিজেদের খোমা মোবারক প্রদর্শন করে বছরের পর বছর প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দিয়ে, স্পষ্ট দেশবিরোধী বক্তব্য রেখে, এমনকি ইছলামতোষণ-তৎপর মদিনা সনদের নেত্রীকে তীব্র অপমান করে, ব্যঙ্গ করে কীভাবে থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে?

অভিজিৎ রায় বিজ্ঞান, যুক্তিবাদ, দর্শন ও বিভিন্ন ধর্ম নিয়ে লেখালেখি করলেও তাঁর প্রধান অপরাধ ছিলো - যুক্তি-তথ্য-প্রমাণের মাধ্যমে ইছলামের আরোপিত মাহাত্ম্যকে ধুলিস্যাৎ করা। ইছলামীরা তাই তাদের নবীর পথ অনুসরণ করে সমালোচনার জবাব দিয়েছে সুন্নতী উপায়ে - সমালোচক-হত্যার মাধ্যমে।

এবং এ কথা মানতেই হবে, এই হত্যাকাণ্ড বিপুলভাবে জননন্দিত ও সমর্থিত - যেহেতু বাংলাদেশে হত্যা-ধর্ষণ-ডাকাতি-দুর্নীতিসহ যে-কোনও ভয়াবহ অপরাধের চেয়ে ইছলাম-সমালোচনার অপরাধ অনেক অনেক বেশি গুরুতর। 

অভিজিৎ রায়ের মৃত্যুতে অপরিমেয় ক্ষতি হয়েছে মুক্তচিন্তা চর্চা আন্দোলনের। মৃত্যুর পরে কারুর স্থান শূন্য থাকে না বলে যে-কথাটির প্রচলন আছে, সেটি আসলে ভ্রান্ত বাণী। অভিজিৎ রায়ের মতো সুশিক্ষিত, প্রজ্ঞাবান, বিদগ্ধ, মানবতাবাদী, যুক্তিমনস্ক, সংস্কৃতিমনা, প্রতিভাধর, সুলেখক ও আপাদমস্তক ভদ্রজনের স্থান পূরণ হয় না।

২৫ ফেব, ২০১৭

হুজুর হবার উপকারিতাসমূহ

লিখেছেন বুদ্ধ মোহাম্মদ যীশু কৃষ্ণ

১. কোনো অপরাধ করলেও হুজুর হবার কারণে পার পেয়ে যাওয়া যাবে।

২. কোনো কাম-কাজ না করেও বসে বসে সাধারণ মানুষের অন্নধ্বংস করা যাবে ।

৩. এলাকার সব থেকে বড় প্রভাবশালী ব্যক্তিও আপনাকে সম্মান করে চলবে।

৪. এদেশের বড় বড় রাজাকারদের সাপোর্ট করলেও কেউ আপনাকে কিছু বলবে না।

৫. আপনি যতই আজগুবি গল্প বলেন না কেন, সবাই সেইটাই বিশ্বাস করবে।

৬. রকস্টারদের চেয়েও বেশি চাহিদা থাকবে আপনার। বছরে ৭০- ৮০ টা লাইভ কনসার্ট থুক্কু ওয়াজ করতে পারবেন, সাথে অ্যারাবিয়ান ইশটাইলে ভুঁড়িভোজ ও মোটা অংকের হাদিয়াও পাবেন।

৭. আপনার অপছন্দের কোনো মানুষকে কাফের-নাস্তিক-মুরতাদ-মুনাফেক ঘোষণা করে সমাজের সবার কাছে তাকে ঘৃণীত করে তুলতে পারবেন।

৮. কষ্টহীনভাবে অনেক চ্যালা পাবেন, যাদের আপনি যে কোনো কাজে লাগাতে পারবেন।

৯. এলাকায় খয়রাতির বেশে থাকলেও গ্রামের বাড়ি ৩-৪ তলা করতে পারবেন।

১০. মসজিদ উন্নয়নের অর্ধেক অর্থ আপনার পকেটে ভরতে পারবেন। 

১১. আর সব চেয়ে বড় যে সুবিধাটি পাবেন, সেটা হল - চারটা বিয়ে করলেও কেউ আপনাকে নিয়ে কিছু বলবে না। 

শিবলিঙ্গ নাকি লিঙ্গ নয়!

নামাজরঙ্গ - ৪৬

২৪ ফেব, ২০১৭

হারানো প্রাপ্তি

লিখেছেন রাজিব রাজ রায়

আমার রুমমেট সুজন খুব ঠাকুরভক্ত। একদিন হঠাৎ সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে দেখি, স্নান করে সূর্যের দিকে দুই হাত জোড় করে কী যেন বিড় বিড় করতাছে। ভাবলাম, ঠাকুরপূজা করবে কিন্তু কিছুক্ষণ চিন্তা করে মাথায় এলো: আগে তো কোনোদিন এতো সকালে স্নান করে নাই!

আমার বুঝতে আর বাকি রইল না, রাতে স্বপ্নে তার পাশে স্বপ্নের রাজকন্যা আসছিলো। তারপরও ব্যাপারটা নিশ্চিত করতে হয়। প্রশ্ন করলাম:
- দোস্ত, কী হইছে?

কোনো জবাই নাই। ধ্যানে মগ্ন। আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম একই প্রশ্ন। তাতেও কোন উত্তর নাই। ধ্যান শেষে আমার উপর রাগ ঝেড়ে বলল:
- কী সমস্যা?
- কী হইছে তোর?

আমি ভয় পেয়ে গেলাম। আবার ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করলাম:
- ভাই, কী হইছে, এতো সকাল সকাল স্নান-পূজা... ব্যাপার কী?

সে আমাকে উত্তর দিলো:
- তোর মত ফালতু মানুষের প্রশ্নের উত্তর আমি দিতে পারব না। জীবনে কোনোদিন ধর্মের বই কিংবা কোনো শ্লোক পড়েছিস।

আমি ওর কথা শুনে পুরা বোকচোদ হয়ে গেলাম, আমার ইচ্ছা জাগলো ধর্মের বই পড়ার। সাথে সাথেই ওর বই থেকে শ্লোক পড়তে শুরু করলাম। একটা শ্লোক পড়ার পরই আমার আর বুঝতে বাকি রইলো না, সকাল সকাল সুজনের স্নান আর পূজার মানে কী।

শ্লোকটা হলো:
ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় ও বৈশ্য ব্রহ্মচারী যদি অনিচ্ছাবশতঃ স্বপ্নাবস্থায় রেতঃস্ফলন করে, তাহলে সে স্নান করে, গন্ধপুস্পাদির দ্বারা সূর্যদেবের অর্চনা ক'রে 'পুর্নর্মামৈতু ইন্দ্রিয়ম্' অর্থাৎ "আমার বীর্য পুনরায় আমাতে ফিরে আসুক্"- এই মন্ত্র তিনবার জপ করবে। [মনুসংহিতা ২-১৮১]
হিন্দু ভাইরা রাতে স্বপ্নে স্বপ্নের রাজকন্যার সাথে রাত কাটাতেই পারেন - যেহেতু এই মন্ত্রের বলে আপনার হারিয়ে যাওয়া বীর্য আবার ফিরে পাবেন।

বি: দ্র: সুজন চরিত্রটি কাল্পনিক।

ক্রুশের ছবি – ২৩

নেহাতই ক্রুশের ছবি। অন্য কোনওদিকে নজর গেলে বা অন্য কিছু বুঝলে তার দায় ধর্মপচারকের নহে।

কুদরতিক্রিয়া - ০৫

লিখেছেন গরিব অল্ফ সিক্কিত মাদেসার হুজুর কুদরত আলি

১৩.
আজিয়া ২৪ সে পেব্রুয়ারি, ২১ পেব্রুয়ারি সেস। ওই দিন তেকে বাংলা বাশাড় ফ্রতি আমার দরদও সেস। আমি কেমুন বাংলা লেকলাম, এইডা নিয়া আমি এতু মাতা গামাই না। সুদ্দ না বুল - তাতে আমার আর কিসু যায় আসে না। আমার ফ্রিয় বাশা অইলে আরুবি। আরুবি বাশা আল্লার নবি রাসুলের বাশা, অফর দিকে বাংলা অইলে ইন্দুয়ানি বাশা। মরার ফরে কবরে জবাব আরুবি বাশায় ই দিতি অইবে, তাই আরুবি বাশা সিক্কা করা অত্যন্ত জরুরি। দরুন, হাশরের ময়দানে আফনি হটাত নবিজির দিকা ফেয়ে গেলেন। তকন নবিজির ফায়ে ফরি কান্দাকাটি কইল্লেন আর নবিজিকে বাংলায় বইল্লেন আল্লার কাসে সাফায়াত করাত জইন্ন। তকন ত আমাগের নবিজি আফনার বাংলা বাশা বুইজবেন না। আর আফনি হয়ত আমার সাতে তরক কইত্তে ফারেন যে, বাংলা ত আন্তরজাতিক মাতরি বাশা, নবিজির ত এই বাশা জানা দরকার। তালি ফরে বাই আফনি তক্কে হেরে যাবেন। কারন আফনি আমাক এমুন কুনু হাদিস দিকাইতে ফাইরবেন না, যিকানে বলা আচে, নবিজি আরুবি বাশা সারা আর অন্য কুনু বাশা জাইনতেন। তা অলে ফরে একন কি দারাল? যেহুতু একুসে পেব্রুয়ারি সেস, অতএব আমারা আবার আমাগের ফ্রিয় আরুবি বাশায় ফিরি যাইব। আরুবি বাশার গুন গান গাইব।

১৪.
কেমেরা একটা নাস্তেকি জন্ত্র। ফ্রয়ুজন চাড়া কেমেরায় ফডু তুলা ফাফ। অতচ আমাগের মজ্জিদ এর মুয়াজ্জিম মজ্জিদে কেমেরা লাগাইছে। তাও আবার মুশন কেমেরা। নমাজ ফরতে দারাইলে মুনে হয় সুটিং এ দারাইছি। মজ্জিদের বিত্রে এমুন নাস্তেকি জন্ত্র ফ্রবেশ করানির লাই মুয়াজ্জিম এর কি সাস্তি হবে, বলেন আফনারা?

১৫.
কুরান মজ্জিদ বিসসের একমাত্র বিজ্ঞান ময় কিতাব। পিতিবির এমুন কুনু বিগগান, কলা, সংস্কিতি নাই, যার কতা কুরানে উল্লেক নাই। পিতিবির সব কিসু একমাত্র কুরান বেতিত অন্য কুনু কিত্তাবে লেকা নাই। কুরান যেহেতু একমাত্র বিগগানের বই, সেহেতু কুরানের হাফিজ বা যারা কুরান সিক্কা করেসে, তারা এক এক জন বিসসের বড় বড় বিগগানি। মেডিকেলে চাইন্স, মহাকাস চাইন্স, রসায়ন চাইন্স, জিব বিগগান, উদবিত বিগগান সহ এমুন কুনু বিগগান নাই, যা তারা জানে না। অতস সরকার তাদেরকে কুনু বিগগানিক সাকরি দেয় না। দেসের বর বর বিগগানাগার বা গবেসনাগারে তাদেরখে নিয়ুগ দিলে দেস আজিয়া কত আগাই তাইকত, তা আর বলা লাগে না। আজিয়া আমাদের এইসব হাফেজ বিজ্ঞানিরা সুদু বারি বারি মিলাদ ফড়ানু আর রমজানে তেরাবি ফড়ানু সারা আর কুনু কাম ফায় না। তাদের ফকেটের অবস্তা এই অল্ফ সিক্কিত কুদরত আলির সেয়েও অদিক কারাফ। তাই দেসের সরকার ও বিগগ জনের কাসে আমাগের অনুরুদ, আমাদের এই সব হাফেজ বিগগানি বাইদের কে দেসের ফ্রতিটি মেডিকেল, বিসসবিদ্যালয়, কলেজ এর গবেসনাগারে নিয়ুগ দেয়া হুক, তাহলে দেকবেন, আগামি ৫০ বসরে দেস ফুরা জান্নাত হই গিসে। আমিন।

মমিন-মন

২৩ ফেব, ২০১৭

তুরাবা ও নাজাদ আক্রমণ - কে ছিল আগ্রাসী? কুরানে বিগ্যান (পর্ব-১৬০): ত্রাস, হত্যা ও হামলার আদেশ – একশত চৌত্রিশ

লিখেছেন গোলাপ

(আগের পর্বগুলোর সূচী এখানে)

"যে মুহাম্মদ (সাঃ) কে জানে সে ইসলাম জানে, যে তাঁকে জানে না সে ইসলাম জানে না।"

আদি উৎসের বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকদেরই প্রাণবন্ত বর্ণনার আলোকে স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ও তাঁর অনুসারীদের সংঘটিত খায়বার (পর্ব: ১৩০-১৫২)  ফাদাক (পর্ব: ১৫৩-১৫৮)  ওয়াদি আল-কুরার (পর্ব-১৫৯) নিরপরাধ জনপদের ওপর তাদের অমানুষিক নৃশংস আগ্রাসী আক্রমণের ইতিবৃত্ত গত ত্রিশটি পর্বে করা হয়েছে।

হুদাইবিয়া সন্ধি চুক্তি সম্পন্ন শেষে (পর্ব: ১১১-১২৯) মদিনায় ফিরে আসার পর হিজরি সাত সালে (মে ১১, ৬২৮ - এপ্রিল ৩০, ৬২৯ খ্রিষ্টাব্দ) এই হামলাগুলোই হলো অবিশ্বাসী জনপদের ওপর মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের সর্বপ্রথম আগ্রাসী আক্রমণ। মুহাম্মদ ইবনে ইশাক, আল-তাবারী ও আল-ওয়াকিদির বর্ণনায় আমরা জানতে পারি, খায়বার যুদ্ধ প্রাক্কালে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ তাঁর অনুসারীদের উদ্দেশ্যে চারটি নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। সেই নিষেধাজ্ঞা গুলো হলো: [1] [2]

১. গৃহপালিত গাধার মাংস ভক্ষণ করা নিষিদ্ধ, পরিবর্তে তিনি তাদেরকে ঘোড়ার মাংস খাওয়ার অনুমতি প্রদান করেন। ২. যে কোনো ধরনের মাংসাশী প্রাণীর মাংস ভক্ষণ করা নিষিদ্ধ; ৩. লুটের মালের হিস্যা যথাযথভাবে বরাদ্দ করার আগেই সেখান থেকে কোনোকিছু বিক্রি করা নিষিদ্ধ, ও ৪. গনিমতের মাল হিসাবে ধৃত নারীদের সাথে যৌনসঙ্গমের পর সেই নারীটির ঋতুস্রাব হওয়ার পূর্বে, কিংবা নারীটি গর্ভধারণ করলে সেই সন্তান প্রসবের পূর্বে তাঁর সাথে অন্য কোনো অনুসারীর যৌনসঙ্গম করা নিষিদ্ধ।

মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের বর্ণনা মতে, মুহাম্মদ তাঁর এই আগ্রাসী হামলাগুলো সম্পন্ন করার পর মদিনায় প্রত্যাবর্তন করেন হিজরি সাত সালের সফর মাসে। আল-ওয়াকিদির বর্ণনার উদ্ধৃতি সাপেক্ষে আল-তাবারীর বর্ণনায় আমরা জানতে পারি: [3]

>> হিজরি ৭ সালের মহরম মাসে (যার শুরু হয়েছিল ১১ই মে, ৬২৮ সাল) মুহাম্মদ তাঁর কন্যা যয়নাবকে তাঁর স্বামী আবু আল-আস বিন আল-রাবির কাছে পুনরায় ফেরত দেন। বদর যুদ্ধের (১৫ই মার্চ, ৬২৪ সাল) অব্যবহিত পরেই মুহাম্মদ তাঁর এই কন্যাকে কীভাবে তাঁর এই স্বামীর কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে মদিনায় পাঠাতে বাধ্য করেছিলেন, তার বিস্তারিত আলোচনা "নিকট আত্মীয়রাও রক্ষা পায়নি (পর্ব-৩৮)!" পর্বে করা হয়েছে। এরপর সুদীর্ঘ চারটি বছর (৬২৪-৬২৮ সাল) তাঁরা একে অপরের নিকট থেকে থাকেন বিচ্ছিন্ন! আবু আল-আস বসবাস করেন মক্কায় আর তাঁর স্ত্রী জয়নাব বসবাস করেন মদিনায়। অতঃপর সিরিয়া থেকে বাণিজ্যসামগ্রী নিয়ে মক্কায় প্রত্যাবর্তনের সময় মুহাম্মদের এই জামাতা কীভাবে তাঁর শ্বশুরের অনুসারী হানাদার দস্যুদের কবলে পড়েছিলেন, অতর্কিত হামলায় এই ডাকাতরা কীভাবে তাঁর সমস্ত অর্থ ও বাণিজ্যসামগ্রী লুণ্ঠন করে মদিনায় নিয়ে এসেছিলেন, আবু আল-আস তাঁর প্রাণ রক্ষা ও বন্দীত্ব হতে রক্ষা পাওয়ার প্রচেষ্টায় কীভাবে পালিয়ে এসে মদিনায় অবস্থানকারী তাঁর এই স্ত্রীর কাছে আশ্রয় নিয়েছিলেন, জয়নাব তাঁর এই স্বামীকে কীভাবে সাহায্যে করেছিলেন, অতঃপর আবু আল-আস কীভাবে তাঁর শ্বশুর মুহাম্মদকে নবী হিসাবে স্বীকার করে ইসলামে দীক্ষিত হয়েছিলেন, ইত্যাদি বিষয়ের বিস্তারিত আলোচনা "আবু আল আস আবারও আক্রান্ত (পর্ব-৪০)!" পর্বে করা হয়েছে। আবু আল-আস মুসলমান হওয়ার পর মুহাম্মদ তাঁর এই কন্যাকে তার হাতে পুনরায় হস্তান্তর করেন।

>> এই একই বছর হাতিব বিন আবু বালতা (Hatib b. Abi Balta'ah) নামের মুহাম্মদের এক অনুসারী আলেকজান্দ্রিয়ার (মিশর) সম্রাট আল-মুকাওকিস-এর কাছ থেকে মুহাম্মদের জন্য পাঠানো উপঢৌকন হিসাবে মারিয়া আল-কিবতিয়া ও তাঁর ভগ্নি শিরিন নামের দুই সুন্দরী দাসী এবং মাবুর নামের এক দাসকে সঙ্গে নিয়ে মদিনায় প্রত্যাবর্তন করেন [বিস্তারিত: "মুহাম্মদের যৌন জীবন ও সন্তান জন্ম দানের ক্ষমতা (পর্ব-১০৮)!"]। 

আদি উৎসের বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকদের বর্ণনায় আমরা যা জানতে পারি, তা হলো: খায়বার, ফাদাক ও ওয়াদি আল-কুরা আগ্রাসন শেষে মদিনায় প্রত্যাবর্তনের (সফর, হিজরি ৭ সাল) পর পরবর্তী ৮ মাস মুহাম্মদ মদিনায় অবস্থান করেন ও বহু হামলাকারী দল বিভিন্ন স্থানের অবিশ্বাসী জনপদের বিরুদ্ধে প্রেরণ করেন। আদি উৎসের বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকরা এই হামলাগুলোর অল্প-বিস্তর বর্ণনা তাঁদের নিজ নিজ 'সিরাত (মুহাম্মদের জীবনী)' ও হাদিস গ্রন্থে বিভিন্নভাবে লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন! এ বিষয়ের সবচেয়ে বিস্তারিত ও প্রাণবন্ত বর্ণনা লিপিবদ্ধ করেছেন আল-ওয়াকিদি, তাঁর 'কিতাব আল-মাগাজি' গ্রন্থে। তাঁদের সেই বর্ণনার আলোকে আমরা যা জানতে পারি, তা হলো: খায়বার, ফাদাক ও ওয়াদি আল-কুরা আগ্রাসনের পর পরবর্তী দশ মাসে (জিলহজ মাস পর্যন্ত) মুহাম্মদের আদেশে তাঁর অনুসারীরা বিস্তীর্ণ অঞ্চলের অবিশ্বাসী জনপদের ওপর কমপক্ষে আরও সাতটি আগ্রাসী আক্রমণ পরিচালনা করেন, যার সংক্ষিপ্ত আলোচনা 'আল ফাতহ' বনাম আঠারটি হামলা (পর্ব-১২৪)!' পর্বে করা হয়েছে। এই হামলাগুলো ছাড়াও মক্কা থেকে পালিয়ে আসা আবু বসির নামের মুহাম্মদের আর এক অনুসারীর নেতৃত্বে কুরাইশ বাণিজ্যবহরের ওপর হামলা, তাঁদেরকে খুন ও তাঁদের মালামাল লুণ্ঠন ছিল পুরোদমে অব্যাহত [বিস্তারিত: 'হুদাইবিয়া সন্ধি-চুক্তি ভঙ্গ চার (পর্ব-১২৮)!']। 

পেশাদারী মনোভাব

কোরআন যেভাবে অবতীর্ণ: মক্কা - তৃতীয় অধ্যায়: না ঘরকা না ঘাটকা (পর্ব ২৬)

লিখেছেন নরসুন্দর মানুষ


পরপর দু'টি ছেলে-সন্তান হারানোর শোক এখনও কমেনি খাদিজার, আব্দুল্লাহ মারা যাবার বছরই বন্যা হলো মক্কায়; শরীরটা তখন থেকেই ভালো যাচ্ছে না। মুহাম্মদ-পক্ষের বড় মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন নিজের বোনের ছেলের সাথে, সে ছেলে কোনোভাবেই মুসলমান হচ্ছে না! তার পরের পিঠোপিঠি দুই মেয়ের বিয়ে নিয়ে আবু লাহাবের ছেলেদের সাথে যা হলো, তা আর বলার মত নয়!

মন-শরীর নিয়মিত খারাপই থাকে এখন, মক্কায় বের হলেই যেভাবে প্রশ্নচোখে তাকায় সবাই! তাই প্রাকৃতিক কাজ ছাড়া খুব একটা বের হন না খাদিজা। মুহাম্মদকে বলেন প্রতিনিয়ত, "তুমি যে এমন পাগলামী করো মাঝে মাঝে, আমি যদি না থাকি, বাচ্চাদের কী হবে, ভেবে দেখেছো?" মুহাম্মদ প্রশ্নের উত্তর দেন না; খাদিজাকে কীভাবে বোঝাবেন কতটা চাপে আছেন তিনি; না পারেন বলতে, না পারেন সইতে! যাদের হাতে এক-ঈশ্বর বিশ্বাসের হাতেখড়ি মুহাম্মদের, কেউ নেই তাদের; যার সবচেয়ে বেশি অনুরক্ত ছিলেন মুহাম্মদ, যে তাকে হারাম-হালাল শিখিয়েছে, নামাজ পড়া শিখিয়েছে, হেরা গুহায় ধ্যানমগ্ন হতে শিখিয়েছে, তার ছেলে অনুগামী সাহাবা হলেও, তিনি তো বেঁচে নেই; মুহাম্মদ জন্মদাতা পিতাকে জাহান্নামী মনে করলেও তাকে (পাঠকের কাছে নাম জানতে চেয়ে প্রশ্ন থাকলো) দিয়েছেন নবীর মর্যাদা, সে হিসাবে মক্কায় তিনি প্রথম নবী নন! আরেকজন তো মুসলিম হয়ে হাবাশায় গিয়ে খ্রিষ্টান হয়ে গেছেন! যে কোনো বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত নিয়ে আলোচনার মানুষ এখন হাতের কাছে পাওয়া যায় না সহজে; তারপর কুরাইশরা যা শুরু করেছে! যদি কখনও সুযোগ আসে, সবগুলোকে বারো-ঘাটের মরুভূমির বালি খাওয়াবেন তিনি!

মক্কার বয়কটকালীন মুহাম্মদ ক্রমশ নিজেকে নীরব সন্ত্রাসীতে রূপান্তরিত করতে থাকেন; মনের ভেতর প্রতিশোধ স্পৃহা জমাট বাঁধতে শুরু করে তার; যদিও কোণঠাসা মানুষের মতই  কখনও মনের ক্ষোভ প্রকাশ পায় প্রকাশিত আয়াতে, আবার কখনও নিজেকে খুব ক্ষুদ্র মানুষের বাইরে কিছুই মনে হয় না তার! মক্কার ১৩ বছরে মুহাম্মদের আব্রাহামিক ধর্মজ্ঞান ছিলো খুব প্রাথমিক পর্যায়ের, অনেক কিছু্ই জানতেন না। জানতেন না ইব্রাহিমের তৃতীয় স্ত্রী ছিলো (কটুরা) এবং সে পক্ষে তার ৬ সন্তান ছিলো! তিনি জানতেন না, ঈসার মা কার বোন! জানতেন না, তার বর্ণনা করা ধর্মের আদি রূপরেখা মধ্য ইরাক থেকে এসেছে; ভালো-মন্দের রূপরেখা এসেছে ইরান থেকে, তিনি জানতেন না, আদম-এর হাওয়া/ঈভের পূর্বেও স্ত্রী-সন্তান ছিলো!

সব মিলিয়ে মুহাম্মদের ৪১ হাজার অ-মৌলিক হাদিসের যে সন্ধান আজও পাওয়া যায়, তার ৯০ শতাংশ প্রকাশের সময়কাল মদিনার দশ বছর! মক্কায় মুহাম্মদ একজন স্বল্পজ্ঞানী সংখ্যালঘু ধর্মসংস্কারকের বেশি কিছু ছিলেন না কখনই! ১৩ বছর পার করেছেন মাত্র ৮/১০টি গল্প দিয়ে বহুপদের খিচুড়ি রান্না করে!

এ পর্বের প্রকাশিত আয়াতে মুহাম্মদের এই অস্থির দ্বৈত রূপের পরিচয় পাওয়া যায়; মুহাম্মদ এখন কুরাইশদের চাইতে তার অনুসারীদের পুনরায় ধর্মপাঠ দিচ্ছেন বেশি, কারণ অনেকেই মুহাম্মদের ধর্মমত থেকে পূর্বমতে চলে যেতে শুরু করেছে!

কোরআন অবতীর্ণ হবার ধারাবাহিকতা অনুসারে প্রকাশের আজ ২৬ তম পর্ব; এই পর্বে থাকছে মক্কা তৃতীয় অধ্যায়: না ঘরকা না ঘাটকার ৪র্থ তিন অংশ। অনুবাদের ভাষা একাধিক বাংলা/ইংরেজী অনুবাদ অনুসারে নিজস্ব।}

আমার বোরখা-ফেটিশ – ২০৮


২২ ফেব, ২০১৭

নিমো হুজুরের খুতবা - ২৮

লিখেছেন নীল নিমো

একটি দুঃসংবাদ!

ডেনমার্কে আমার এক মুরিদকে ড্যানিশ পুলিশে ধরে নিয়ে গেছে। তার অপরাধ - সে পাবলিক প্লেসে অশ্লীল ভঙ্গি করে মেয়েদেরকে উত্যক্ত করছিল।

যাই হোক, ঘটনাটা একটু খুলে বলি।

আমি আমার মুরিদেরকে কঠোরভাবে নির্দেশ দিয়েছিলাম মলমুত্র ত্যাগ করার পর, ঢিলা বা পাথর ব্যবহার করতে হবে, উঠে দাঁড়াতে হবে, ৪০ কদম হাঁটতে হবে, লাফালাফি করতে হবে কিংবা গলাখাকরি দিতে হবে। যে কোনোভাবেই হোক পেশাবের ফোঁটা বন্ধ হয়েছে - এরূপ নিশ্চিত হতে হবে। এতে করে পাকপবিত্রতা নিশ্চিত করা যায়। পাকপবিত্রতা ছাড়া নামাজ কবুল হয় না। আর ঢিলা-কুলুখ হল রাসুলের সুন্নাহ।

তো আজকে দুপুরবেলা আমার সেই মুরিদ ভাইটি ডেনমার্কের পাবলিক টয়লেট ব্যবহার করার পর টয়লেট থেকে বের যায়। তারপর সে প্যান্টের ভেতরে হাত দিয়ে ৪০ কদম ইস্তিঞ্জারে (ঢিলা-কুলুখ ব্যবহারে) নিয়োজিত ছিল। ঠিক ঐ অবস্থায় ডেনমার্কের পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। আমার মুরিদ শত বুঝিয়েও পুলিশের হাত থেকে রক্ষা পায়নি। 

পুলিশ বলছে, জনসমক্ষে প্যান্টের ভেতরে হাত দিয়ে হস্তমৈথুন করে সে অশ্লীল যৌনভঙ্গি করেছে, যা দেখে আশেপাশের মেয়েরা সঙ্গত কারণেই বিব্রত বোধ করছে। 

যদিও আমার মুরিদ বার বার পুলিশকে বলছে: 
- পুলিশ ভাই, আমি রাসুল্লাহর সুন্নত পালন করছিলাম, এইটা আমার মানবাধিকার। আমি নিজের পাকপবিত্রতায় নিয়োজিত ছিলাম। আমি হাত মারছিলাম না।

মূর্খ ড্যানিশ পুলিশ বুঝতেই পারলো না ঢিলা-কুলুখের ফজিলত। মনে হচ্ছে, আমার মুরিদ ভাইটিকে আজকে বড় অংকের একটা জরিমানা দিতে হবে।

পল্টিবাজ কোরান - ০৩


দ্বীনবানের দীন বাণী - ৫৬

ধর্মবিশ্বাস ও ঈশ্বরবিশ্বাস বস্তুত এমন নিঃশর্ত আনুগত্যের দীক্ষা দেয় যে, নিজের বোধবুদ্ধি, নৈতিকতা ও মানবতাকে বিকল করে রেখে প্রশ্নাতীতভাবে পালন করতে হয় ঐশী আদেশ, কিতাবের নির্দেশ, রসুলের বাণী। নিচে একটি উদাহরণ, যা প্রমাণ করে বিশ্বাসী মস্তিষ্কে ঘিলুর প্রয়োজনহীনতা।

মূল ভিডিও: https://youtu.be/Ysecinv367w

প্রায় প্রাসঙ্গিক একটি কার্টুন:

মুছলিম ও বামাতিরা যেভাবে ভাবে

২০ ফেব, ২০১৭

সকল প্রশংসা আল্লাহর

লিখেছেন সুজন আরাফাত

১. 
মুসলমান বাঙালি নিজের পরিশ্রমের ক্রেডিট অবলীলায় অনায়াসে আল্লাহকে দিয়ে দেয়। এতে তারা মনে মনে শুধু নয় আসলেই বেশ তৃপ্ত হয়। সরিষাক্ষেতের আইল দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলাম। মাহবুর ভাই. যিনি ওই ক্ষেতের মালিক, তাঁকে বললাম যে, সরিষা তো বেশ ভালো ফলাইছেন, ভাই। জবাবে তিনি যা বললেন, তা শুনে আর কিছু বলতে পারলাম না: 'আলহামদুলিল্লাহ!'

আচ্ছা, আল্লাহ কবে কৃষিকাজের সাথে জড়িত ছিলেন?ন সৌদি আরবে কোনোদিন সরিষা আবাদ হয়েছে বলে তো শুনিনি, অথচ সরিষা ফলানোর ক্রেডিট পাইয়া গেল আল্লাহ; তাও বিনা পরিশ্রমে।

২. 
হুজুরে ওষুধ কিনতে আসছে ফার্মেসিতে। বলছে, 'ডাক্তরসাব, আমাশা হইছে অষুদ দেন। বেশি লাগবে না, দুই ডোজ খাইলেই তো ভাল হইয়া যাবে ইনশাল্লাহ।'

ইনশাল্লাহ অর্থাৎ আল্লাহ চায় তো। দুইটা মেট্রো আর দুইটা সিপ্রো দিয়া বিদায় করলাম। মনে মনে বললাম, আপনার আল্লাহ এখন যদি নাও চায়, তবু আমার দেয়া ওষুধের কল্যাণে আপনার আমাশয় নিরাময় হবে।

আচ্ছা,মধু আর কালিজিরার মত কোরান-সমর্থিত সর্বরোগের ওষুধ থাকতে হুজুরে আমার কাছে আসছিল কেন?

৩. 
হুজুরের সাথে আমার ভাল সম্পর্ক। নিয়মিত ওষুধপাতি নিয়ে থাকেন, ধার-বাকিও থাকে। একদিনের কথা বলি।

'আমার হিসাবটা কত দাঁড়াল? আজকেরটাও লিখে রাখা যায় না? দিয়ে দেব, দিয়ে দেব। আচ্ছা, একটা কলম দেয়া যায় না? ভাল কলম একটা?'

আমার তো দয়ার শরীর, না বলতে পারি না; দিলাম। কলম হাতে পাইয়া, 'নতুন? আলহামদুলিল্লাহ।'

আচ্ছা, মানুষ এইরকম হয় কী করে? কলম দিলাম আমি আর সে প্রশংসা করলো আল্লাহর! একটা ধন্যবাদ তো দিতে পারত অন্তত!

৪.
'আমার হাঁটু নিয়া বড়ই সমস্যায় ছিলাম, নামাজে উঠতে-বসতে কষ্ট হচ্ছিল। আপনার দেওয়া ওষুধ খেয়ে আল্লাহর রহমতে বেশ ভাল আছি।'

হায়রে মুমিন বান্দা, আল্লাহর রহমতও চিনো না ঠিকমতো! আল্লাহর রহমত হইল মধু আর কালিজিরা! ইহুদি-নাছারাদের বানানো ওষুধ খাইবা আর প্রশংসা করবা আল্লাহর! আল্লাহ এদেরকে তুমি তুমার রহমত চেনার তৌফিক দিয়ো।

বেদ্বীনবাণী - ৮৫