বৃহষ্পতিবার, ২৪ এপ্রিল, ২০১৪

দাঁড়িপাল্লার ঝাড়ি - ০৯


লিখেছেন দাঁড়িপাল্লা

২৫.
বাংলাদেশে মুসলমান ছাড়া অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের ধর্মানুনুভোদা নাই; তাগো খালি "পূর্ণিমা" আছে।

২৬.
হাদিসে (মুসলিম ৪১৪৩) আছে - সূলায়মান এক রাইতে ৯০ জন বিবির লগে সেক্স করেন এই আশায় যে, প্রতিটা বিবি এমন অশ্বারোহী সৈনিক হওয়ার যোগ্যতাসম্পন্ন পুত্রসন্তান জন্ম দেবে, যারা কিনা ভবিষ্যতে আল্যার পথে জিহাদ করবে। একজন সূলায়মানরে উপদেশ দিল সেক্সের আগে ইনশাল্যা কইয়া তারপর লাগাইতে। সূলায়মান ইনশাল্যা কয় নাই। ফলে তার একটা মাত্র বিবি একটা মাত্র সন্তান প্রসব করে, তাও কিনা অপূর্ণাঙ্গ। বাকি বিবিদের কোনো সন্তান হয় নাই। হাদিসে আল্যার নামে কসম খাইয়া পর্যন্ত বলা হইতেছে যে, ইনশাল্যা কইলে নাকি পুত্র সন্তান হইত, এবং পরে তারা অশ্বারোহী সৈনিক হয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করতো।

সামবেদীয় দশসংস্কারের গর্ভধারণ পর্বে বলা আছে - পুত্রসন্তান লাভের জন্য ওঁ দীর্ঘায়ুষং বংশধরং পুত্রং জনয় সুব্রতে অর্থাৎ হে সুব্রত, তুমি দীর্ঘায়ু ও বংশধর পুত্র প্রসব কর, এই মন্ত্র পাঠ কইরা সেক্স করতে হয়।

বিয়ার সাথে (বিশেষ কইরা পুত্রসন্তান) বিয়ানোর এমন গভীর সম্পর্ক দেইখা বিয়া নামক জিনিসটার প্রতি ঘৃণা ধইরা গেছে।

২৭.
প্রশ্নপত্র হাতে পাওয়া মাত্রই পরীক্ষার্থীরা যেমন দেখে প্রশ্ন কমন পড়ছে কি না, ঠিক তেমনি দুই বা ততোধিক আস্তিক এক হলেই দেখে তাদের মধ্যে ধর্ম কমন পড়ছে কি না। ধর্ম কমন পড়লেও পড়তে পারে, তবে তাদের মধ্যে কোনোদিনও কমনসেন্স কমন পড়ে না।

সবাক সাপ ও আরও একটি পোস্টার




বুধবার, ২৩ এপ্রিল, ২০১৪

নাস্তিকদের কটূক্তির দাঁতভাঙা জবাব - ১১


লিখেছেন অ বিষ শ্বাসী

আসুন, নাস্তিকদের কটূক্তির বিরুদ্ধে দাঁতভাঙা জবাব দেই...


কটূক্তি ২১:
ইসলামকে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ ও পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা বলা হয়। তারমানে দাসপ্রথা চিরকালের জন্য প্রযোজ্য?

দাঁত ভাঙা জবাব:
দেখুন, ইসলাম একটা মানবিক ধর্ম। দাসপ্রথা নিষিদ্ধ করা হয়নি তৎকালীন সময়ের প্রেক্ষাপটে। কিন্তু ইসলামে ইজমা-কিয়াসের বিধান রাখা হয়েছে অর্থাৎ যে কোনো প্রথা রহিত করা সম্ভব...


কটূক্তি ২২:
তাহলে ইজমা কিয়াসের মাধ্যমে উত্তরাধিকার সম্পত্তিতে কন্যা শিশুদের সমান অধিকার প্রশ্নে মুসলিমরা সম্মত হচ্ছে না কেন?

দাঁত ভাঙা জবাব:
দেখুন, ইসলাম একটি নিখুঁত ও পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। মানবজাতির সার্বিক কল্যাণে এই জীবনবিধান তৈরি করা হয়েছে। মূলত ইসলাম নারীদের দিয়েছে সর্বোচ্চ সম্মান। কিন্তু আপনারা ক্ষুদ্র জাগতিক স্বার্থে আপনি আল্লাহর আইন ভঙ্গ করতে চান, এটা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়...

[বি.দ্র. কটূক্তির বদলে দাঁত ভাঙা জবাব গুলো আমার নয়। বিভিন্ন সময়ে ভার্চুয়াল মুমিনগণ যে জবাব দিয়েছেন তা কপি করে ছড়িয়ে দিচ্ছি শুধু। আপনারাও সবাই শেয়ার করে নাস্তিকদের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে জবাব দিন, ঈমান পোক্ত করুন...]

ধর্মযুদ্ধের কারণ



পাঁচ ফোড়ন - ০৮


লিখেছেন সাদিয়া সুমি

৩৬.
নিজ কন্যাকে মোহাম্মদ বিয়ে দিয়েছিলেন আপন চাচাত ভাই আলীর সাথে। এটা কোনো সুস্থ মানুষের কাজ? বলুন।

৩৭.
ইসলামধর্মে পীর, মুরিদ, আল্লামা, মাওলানা বলে কিছু নেই। এগুলো সব ভুয়া ও জাল। ইসলামধর্মে কেবল আল্লাহ ও তার নবী ছাড়া অন্য কোনোকিছুকে মানা যাবে না, এ জন্য শুধু কুরআন ও হাদিস অনুসরণ করতে হবে।

যারা পীর ও মাওলানা মানে, তারা সবাই ইসলামের সংজ্ঞানুযায়ী অমুসলিম। কেউ মুসলিম থেকে অমুসলিম হয়ে গেলে তাকে হত্যা করা উচিত, সহিহ বুখারিতে লেখা।

তাহলে আহমদ শফি ওরফে তেতুল হুজুর ও তার মুরিদরা কী? তাদের কী করা উচিত?

৩৮.
আমাদের নবীজীকে যদি একটা ল্যাপটপ গিফট করা হতো, তবে তিনি সেটা ভয়ে আছাড় দিয়ে ভেঙে ফেলে দিতেন। তারপর বলতেন 'ওটা শয়তানের আছর'।

৩৯.
আল্লাহ কোরানে বলেছেন, কিয়ামতের পর মৃত ব্যক্তিদের তিনি কবর থেকে উত্থিত করে তাদের পুনর্জীবিত করবেন। তারপর তাদের বিচার করবেন। যারা চিতায় পুড়েছেন, সমুদ্রে ডুবে মরেছেন, বাঘ কুমিরের পেটে গিয়ে মরেছেন, আগুনে বা পারমানবিক বোমায় পুড়ে মরেছেন - তাদের তো আর কোনো কবর হয়নি। তাই এরা ঐ নিষ্ঠুর বিচারের হাত থেকে বেঁচে যাবেন। সুতরাং হিন্দু ও বৌদ্ধ ভাইয়েরা আপনারা নিশ্চিন্তে জীবনকে উপভোগ করতে থাকুন। কারণ আপনাদের শেষ বিচার হবে না এবং দোজখে যাবার কোনো প্রকার সম্ভাবনা নেই।

৪০.
ঈশ্বর যদি সত্যি সত্যি থাকতেন তাকে অবিশ্বাস করার ধৃষ্টতা কখনোই দেখাতাম না আমি। তিনি আছেন অথচ তাঁকে নিয়ে তামাশা করছি, নিশ্চয় অতটা গর্দভ এখনো হইনি।

টুপি-পরা loopy যতো - ০৩



ইসলামী ইতরামি


১. 
কোরানে (সুরা ৫, আয়াত ৩৮) স্পষ্টভাবে লেখা আছে চুরির অপরাধে চোরের হাত কেটে নেয়ার বিধান। এই আইনের সাম্প্রতিক একটি প্রয়োগ চৌদি আজবে।

২.
সমকামী ইমামের সংখ্যা পৃথিবীতে অগণ্য। তবে তাদের ক'জন সেটা মুখে স্বীকার করে? আমেরিকার এক ইমাম করেছে

৩.
চৌদি আজবের ঘটনা। এক ছিলো ছহীহ মুছলিম। তার ছিলো চার বিবি। একদিন আরেকটা বিবাহের খায়েশ হলো তার। কিন্তু খাছ মুছলিমের অধিকার তো নেই পাঁচ বিবি ঘরে রাখার! কী করবে সে? তাই সে স্থির করলো, এক বিবিকে তালাক দেবে । কিন্তু চারের ভেতর এক স্থির করা কি সহজ কথা? সে তো সব বিবিকেই সমান মহব্বত করে। তাই সে লটারি করার সিদ্ধান্ত নিলো।

৪.
ভারতের হায়দারাবাদে এক পুলিশ ইন্সপেক্টর স্থানীয় পাবলিক পার্কে প্রেমরত জুটিদের ধরে ওঠ-বস করিয়েছে। সমর্থনের অযোগ্য এই ঘটনাটি অবশ্য ভিন্ন একটি কারণে তাৎপর্যপূর্ণ। খবরে এমবেড করা ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, শাস্তিপ্রাপ্তদের বেশ কয়েকজন বোরখা ও হিজাব পরিহিতা।

৫.
মাত্র ছয় বছর বয়সী এক মেয়ে এক জামে মসজিদের ইমামের যৌন হয়রানীর (বা বলা চলে - ইমামদোবাজীর) শিকার হয়েছে। স্বীকার করতেই হয়, নবীজির খাছ উম্মত সে! তবে আদালত তাকে কারাদণ্ড দিয়েছে তার খাড়াদণ্ডের কারণে।

৬.
ইছলামের বীর যোদ্ধারা ইয়েমেনে শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাধা সৃষ্টিকারী ৫২ জন ব্যক্তিকে হত্যা করেছে। বলুন, আলহামদুলিল্যা।

৭.
৭০ বছর বয়সী চৌদি ইমাম ৮ বছর বয়সী শিশুবালিকাকে ধর্ষণ করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েছে। 

৮.
ইছলামী স্কুলের হেডমাস্টার-মোল্লা আল্যার ওয়াস্তে তার ছাত্রীদের ধর্ষণ করে আসছিল দীর্ঘ দিন ধরে। ঘটনা ঘানায়।

৯.

১০.
ইছলামময় কুয়ালালামপুর শহরে যতো ম্যাসাজ পার্লার ও দেহব্যবসায়ী আছে, ততো নেই ইহুদি-নাছারাময় সিডনি, মেলবোর্ন ও লন্ডন নামের তিনটি শহর মিলেও।

১১.
ইছলামে জোর-জবরদস্তি বলে কিছু নেই, আর তাই নামাজ না পড়ার অভিযোগে সন্তানদের প্রহার করাটা নিশ্চয়ই জোর-জবরদস্তির মধ্যে পড়ে না। অথচ এক মুছলিম দম্পতি শরিয়াসম্মত এই কর্মটি করে এখন আইনের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে নাস্তেকপ্রধান দেশ সুইডেনে। নাস্তেকরা নিপাত যাক!

১২.
মেয়েদেরকে বোরখা পরিয়েও মোমিনেরা নিজেদের কাম দমনে কামিয়াব হতে পারছে না পুরোপুরি। কারণ মেয়েরা দোলনায় দুললে আন্দোলিত হয়ে উঠছে মোমিনীয় ঈমানদণ্ড। ঘটনা চৌদি আজবে।

১৩.
ইছলামী নীতি অনুযায়ী, চাহিবামাত্র স্ত্রী তার স্বামীকে দিতে বাধ্য থাকিবে। যেহেতু স্ত্রীর নিজস্ব মতামত, ইচ্ছে ও শারীরিক প্রস্তুতির বিষয়গুলো ধর্তব্যের মধ্যেই পড়ে না, ফলে সংজ্ঞানুসারেই স্বামীর পক্ষে স্ত্রী-ধর্ষণ কোনওভাবেই সম্ভব নয়। আর তাই দাম্পত্য-ধর্ষণ বিষয়ক বিলে ভেটো দিয়ে ছহীহ কর্মটিই করেছেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট।

১৪.
ব্রিটেনের জনসংখ্যার শতকরা ৪.৬ ভাগ মুছলিম। তবে শিশুধর্ষণ ও শিশু-নির্যাতনের দায়ে অভিযুক্তদের ৯৫ শতাংশই মুছলিম!

(ওপরের সংবাদগুলো টাটকা নয়, আগে ফেসবুকে প্রকাশিত। তবে আর্কাইভজাত করে রাখতে এখানে আবার প্রকাশ করা হলো।)

আমাদের আত্মীয়েরা – ৬৩




মঙ্গলবার, ২২ এপ্রিল, ২০১৪

পিপীলিকারও কি ধর্মানুভূতি আছে?


গুগল, বিং ও ইয়াহু তো বটেই, এমনকি Lycos, Gigablast-এর মতো বিজাতীয় সার্চ এঞ্জিনে বাংলা বা ইংরেজিতে 'ধর্মকারী' ভুল বানানে (ধর্মকারি, dhormokari, dharmokery ইত্যাদি) লিখে খোঁজ লাগালেও একেবারে শুরুতেই ধর্মকারীর লিংক দেখায়। অথচ বাংলাদেশের প্রথম এবং পূর্ণাঙ্গ সার্চ এঞ্জিন হিসেবে কথিত পিপীলিকার চোখে বাংলা ব্লগ ধর্মকারী ধরা পড়ে না। 

পিপীলিকা চালু হবার পরপরই কৌতূহলবশে 'ধর্মকারী' লিখে খোঁজ লাগিয়ে হতাশ হয়েছিলাম। বিভিন্ন ব্লগে-পত্রিকায় ধর্মকারীর নাম উল্লেখের লিংক তাতে পেছিলাম বটে, তবে ধর্মকারীর কোনও লিংক ছিলো না। 'সবে চালু করেছে এঞ্জিনটি, এখনও হয়তো সব সাইট ইনডেক্সভুক্ত করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি' ভেবে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করলাম একটা বছর। না, ধর্মকারীর নাম ওখানে ঢোকেনি এখনও। খুঁজলাম 'চুতরাপাতা' ও 'ধর্মলিকস' নামের আরও দু'টি ধর্মবিরোধী ব্লগ। না, সেগুলোও নেই। 

তবে 'সবুজ বাংলা' আর 'সদালাপ'-এর মতো ছাগুবান্ধব ব্লগগুলোর লিংক পিপীলিকা পিলপিল করে সরবরাহ করছে। মনে হচ্ছে, পিপীলিকা একটি ছাগুবান্ধব ছহীহ ছার্চ এঞ্জিন।

পিপীলিকা নিজেকে পূর্ণাঙ্গ বলে দাবি করলেও সার্চ এঞ্জিনের জন্য সবচেয়ে জরুরি অঙ্গ চোখেই তার সমস্যা। সে স্পষ্টতই একচোখা। তবে তার ঈমানদণ্ড মমিনদেরটার মতোই স্পর্শকাতর বলেই বোধ হয়।

এ থেকে আমরা কী বুঝবো? পিপীলিকারও কি ধর্মানুভূতি আছে?

এক জোড়া পোস্টার


পাঠিয়েছেন ডিউক আকিতা



কাসুন্দিমন্থন - ১৩


(ধর্মকারীর নতুন পাঠকদের কথা ভেবে নির্বাচিত কিছু পুরনো পোস্ট পুনঃপ্রকাশ করা হবে এই সিরিজে)


১. ঈশ্বর হচ্ছে বিশাল এক... (আহেম!)

জীবনের উৎস অনুসন্ধান করতে গিয়ে পাওয়া গেল ঈশ্বরের আসল পরিচয়। মাত্র দেড় মিনিটের হাহাপগে ভিডিও। 

ভিডিও লিংক: http://youtu.be/YwBTo0LjIs0

প্রথম প্রকাশ: ১২.০১.১০

২. ধর্মাতুল কৌতুকিম – ০৫

১৩.
– উটকে মরুভূমির জাহাজ বলা হয় কেন?
– কারণ উটের ভেতরে আছে আরবীয় সি-মেন (semen)।

১৪.
মোল্লা বক্তৃতা দিচ্ছে:
– সেক্সের মতো বাজে ব্যাপার আর নেই। আনন্দ এক ঘণ্টার, তবে কলঙ্ক সারাটা জীবনের।
দর্শকদের ভেতর থেকে এক যুবকের প্রশ্ন:
– আনন্দ এক ঘণ্টা দীর্ঘ করার উপায় কী?

১৫.
– ইলেকট্রিক বাল্ব বদলাতে ক'জন নাস্তিক প্রয়োজন?
– দু'জন। একজন বাল্ব বদলাবে, আর অন্যজন সেই দৃশ্যটি ভিডিও করবে, যাতে ধর্মবিশ্বাসীরা এসে পুরো কৃতিত্ব আল্লাহকে দিতে না পারে।

প্রথম প্রকাশ: ০৬.০১.১০

ধর্ম কাহাকে বলে



বড়ো হরফে লেখা: ধর্ম; পেছনে - থিয়েটার, ক্লাব, পাইওনিয়ার হাউস, প্ল্যানেটোরিয়াম
(প্রেরক ও অনুবাদক: মোকাম্মেল)

বৌদ্ধশাস্ত্রে পুরুষতন্ত্র: নারীরা হল উন্মুক্ত মলের মতো দুর্গন্ধযুক্ত - ১১


লিখেছেন নিলয় নীল 

পর্ব ১ > পর্ব ২ > পর্ব ৩ > পর্ব ৪ > পর্ব ৫ > পর্ব ৬ > পর্ব ৭ > পর্ব ৮ > পর্ব ৯ > পর্ব ১০

ওপরের বিভিন্ন জায়গায় বৌদ্ধশাস্ত্র পাঠ করার সময় বোধিসত্ত্ব কথাটা চলে এসেছে। বোধিসত্ত্ব কথাটা বিশ্লেষণ করার প্রয়োজন মনে করছি। বোধিসত্ত্ব শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হচ্ছে, বুদ্ধত্ব (শাশ্বত জ্ঞান) প্রাপ্তিই যাঁর ভবিতব্য অর্থাৎ যিনি বোধিলাভ করার জন্যই জগতে আবির্ভূত হয়েছেন। বৌদ্ধধর্মের বিভিন্ন শাখায় বোধিসত্ত্বের বহুবিধ ব্যাখ্যা থাকলেও মহাযান বৌদ্ধধর্ম মতে বোধিসত্ত্ব হলেন তিনিই, যিনি জগতের কল্যাণের জন্য স্বয়ং নির্বাণলাভ থেকে বিরত থাকেন এবং বিশ্বের সকল জীবের মুক্তিলাভের উপায় করেন।

বোধিসত্ত্বের চিত্র - ০১ (ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত)

ত্রিপিটকে পালি ভাষায় বোধিসত্ত্ব শব্দটির প্রথম ব্যবহার করেছিলেন শাক্যমুনি বুদ্ধ। বোধিসত্ত্ব শব্দটি দ্বারা তিনি তাঁর পূর্বজন্মের অবস্থা থেকে বোধিলাভ করার পূর্ববর্তী সময় পর্যন্ত জীবনকে বুঝিয়েছিলেন। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে তাঁর পূর্বজন্মের কাহিনী ব্যক্ত করতে গিয়ে গৌতম বুদ্ধ বোধিসত্ত্ব শব্দটির প্রয়োগ করেছেন। অর্থাৎ এখান থেকে অনুধাবন করা যায় যে, বোধিসত্ত্ব হলেন তিনিই, যাঁর জীবনের একমাত্র ব্রতই হল বোধিলাভ।

বোধিসত্ত্বের চিত্র - ০২ (ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত)

বুদ্ধের বোধিসত্ত্বাবস্থার এই সকল কাহিনী বর্ণিত হয়েছে জাতকে। মহাযান বৌদ্ধধর্মানুসারে একজন বোধিসত্ত্ব হলেন তিনিই, যিনি বুদ্ধত্বলাভের প্রায় প্রতিটি স্তরই উত্তীর্ণ হয়েছেন। তিনি স্বয়ং পরম জ্ঞান লাভ করেছেন এবং সেই শাশ্বত বোধের আলোকে প্রতিটি জীবকে আলোকিত করছেন ও তাদের রক্ষার্থ জীবন উৎসর্গ করেছেন।

বোধিসত্ত্বের চিত্র – ০৩ (ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত)

আবার আসি নারী প্রসঙ্গে - কোনো বিশেষ নারী নয়, নির্বিশেষে সকল নারীই ব্যভিচারিণী, নাহ্, এটা আমার কথা নয়, বলেছেন স্বয়ং বোধিসত্ত্ব যার সম্পর্কে এতো সময় বর্ণনা করলাম। সকল নারীই যে ব্যভিচারিণী এই বিষয়ে আলোচনা করবো ১৪৫ নম্বর জাতক, যার নাম রাধ জাতক। এই জাতকের অতীতবস্তুতে ব্যভিচারিণী ব্রাহ্মণীকে ব্রাহ্মণ বাধা দিতে গেলে বোধিসত্ত্ব বলেন, “ভাই তুমি নিতান্তই অবোধ, কিছুই বুঝো না, তাই এইরূপ বলিতেছো। রমণীদের সঙ্গে সঙ্গে বহন করিয়া লইয়া বেড়াইলেও রক্ষা করিতে পারা যায় না।” এরপর বোধিসত্ত্ব নিম্নোক্ত গাথাটি বলেন:
তুমি নাহি জান আরও কতো জন
না হইতে অর্ধ রাত্রী দিবে দর্শন!
নিতান্ত অবোধ তুমি, তাহারই কারণ
বলিলে করিতে মোরে অসাধ্য সাধন।
কামিনীর কুপ্রবৃত্তি, পতিভক্তি বিনা
দমিতে যে পারে কেহ, আমি তো দেখিনা।
কিন্তু সেই পতিভক্তি, হায় হায় হায়
নারীর হৃদয়ে কিছু নাহি দেখা যায়। 
(চলবে)

নির্ধার্মিক মনীষীরা – ৯০


পাঠিয়েছেন অহম


সোমবার, ২১ এপ্রিল, ২০১৪

হরর হাদিস - ১০


কথায় কথায় জ্বালাও-পোড়াও-হত্যা করো জাতীয় মুসলিম ঐতিহ্যকে অনেকেই 'ইহা ছহীহ ইছলাম নহে' বলে এড়িয়ে চলতে ব্যগ্র। তাহলে দেখা যাক, ইছলামের নবীর জঙ্গিত্ব কতোটা, কতোটা সে উগ্রবাদী। 

আমরা সকলেই জানি, ইছলামে জোরাজুরির স্থান নেই। আর তাই শান্তির ধর্মের শান্তিকামী নবী শান্তির বাণী বর্ষণ করে বলেছে, যারা নামাজে আসেনি, তাদের পুড়িয়ে মারো, আগুন জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দাও তাদের বাড়িঘর। 
Narated By Abu Huraira: 
The Prophet said, "No prayer is harder for the hypocrites than the Fajr and the 'Isha' prayers and if they knew the reward for these prayers at their respective times, they would certainly present themselves (in the mosques) even if they had to crawl." The Prophet added, "Certainly I decided to order the Mu'adh-dhin (call-maker) to pronounce Iqama and order a man to lead the prayer and then take a fire flame to burn all those who had not left their houses so far for the prayer along with their houses."
Sahih Bukhari Volume 001, Book 011, Hadith Number 626.

আবার আরেকটি হাদিসে নবীজি বলছে, "আগুন দ্বারা শাস্তি দেওয়া আল্লাহ তাআলা ব্যতীত অন্য কারো জন্য সমীচিন নয়।" ক্যামনে কী!
কুতাইবা ইবনু সাঈদ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদেরকে কোন এক অভিযানে প্রেরণ করেন এবং বলেন, ‘তোমরা যদি অমুক ও অমুক ব্যাক্তিকে পাও, তবে তাদের উভয়কে আগুনে জ্বালিয়ে দিবে। ’ তারপর আমরা যখন বের হতে চাইলাম, তখন রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘কিন্তু আগুন দ্বারা শাস্তি দেওয়া আল্লাহ তাআলা ব্যতীত অন্য কারো জন্য সমীচিন নয়। কাজেই তোমরা যদি তাদের উভয়কে পেয়ে যাও, তবে তাদেরকে হত্যা কর। ’
গ্রন্থ: সহীহ বুখারি, অধ্যায়: জিহাদ, হাদিস নাম্বার: ২৮০৭

দুষ্টু যাজিকারা - ০৮




ডারউইনের আত্মজীবনী, বাংলায়


ভগবানেশ্বরাল্লাহ সবচেয়ে বড়ো ভুলটি করেছিল ডারউইনকে সৃষ্টি করে। এই ডারউইনই যে তাঁর স্রষ্টার অস্তিত্বহীনতার সপক্ষে সবচেয়ে বড়ো যুক্তিটি দাঁড় করাবে, সে ব্যাপারে সর্বক্ষমতাবান ও সর্বজ্ঞ ভগবানেশ্বরাল্লাহ অজ্ঞ ছিলো নিশ্চয়ই। নইলে এভাবে নিজের আরশে কেউ নিজ হাতে কুড়াল মারে!

তো বিশ্বের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্মবিধ্বংসী তত্ত্ব-প্রমাণের দাখিলদার সেই ডারউইনের লেখা আত্মজীবনীর বাংলা অনুবাদ (নেটে কুড়িয়ে পাওয়া) পড়তে উৎসাহীরা দলে দলে ক্লিক করে অশেষ বিবর্তনী ছওয়াব হাছিল করুন।

ফরম্যাট: পিডিএফ
সাইজ: ৩.৪ মেগাবাইট

প্রক্সি ব্যবহারকারীদের জন্য: http://goo.gl/z81sQa

ফাল দিয়া ওঠা কথা - ০৬


লিখেছেন ধর্মবিদ দেশী

১৫.
একসময় সবাই মানুষ ছিল।
তারপর ঈশ্বরের আবির্ভাব হল; মানুষ হয়ে গেল হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, ইহুদি, শিখ...

১৬.
সক্রেটিসকে বিষ দেওয়া হয়েছিল,
ব্রুনোকে পুড়িয়ে মারা হয়েছিল,
হাইপেশিয়ার দেহকে নৃশংসভাবে টুকরো টুকরো করা হয়েছিল,
গ্যালিলিওকে নির্বাসন দেওয়া হয়েছিল,
আরজ আলী মাতুব্বরের নামে মামলা করা হয়েছিল,
হুমায়ুন আজাদকে কোপানো হয়েছিল,
তসলিমা নাসরিনকে দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে;

এত হত্যা, নির্যাতন, নিষ্ঠুরতা দিয়েও মুক্তচিন্তার মানুষদের নাম মুছে ফেলা সম্ভব হয়নি, তাদের চিন্তা-চেতনা ধ্বংস করা সম্ভব হয়নি। বরং মৌলবাদী, নিপীড়নকারীরাই মুছে গেছে ইতিহাসের পাতা থেকে।

সত্য কথা বলার জন্য কাউকে হত্যা করতে হয় না, হুমকি দিতে হয় না, স্বীকার করার জন্য কাউকে বাধ্য করতে হয় না।

কিন্তু ধর্ম টিকিয়ে রাখার জন্য হত্যা করতে হয়, নিপীড়ন করতে হয়, মানুষের কণ্ঠরোধ করতে হয়। কারণ, ধর্ম মিথ্যার ওপর প্রতিষ্ঠিত।

১৭.
- এই মহাবিশ্ব সৃষ্টির সমস্ত উত্তর না জেনেই আপনি কিভাবে ঈশ্বরকে অস্বীকার করেন?
- যেভাবে ক্যান্সারের প্রতিষেধক সম্পর্ক কিছু না জেনেও কবিরাজদের কথিত ক্যান্সারের মহৌষধগুলো ভুয়া বলে উড়িয়ে দিতে পারি।

আমার বোরখা-ফেটিশ – ৯২


ইছলামী প্লেবয়

নিনজা ট্রেনিং স্কুল

নিঃসীম নূরানী অন্ধকারে - ৭৫


লিখেছেন তামান্না ঝুমু

৩৭১.
আমি বাথরুমে গিয়ে দেখি, আল্যাপাক কমোডের ভেতরে পড়ে আছেন। আমি অবাক বিস্ময়ে তাকে জিজ্ঞেস করলাম, হায় আল্যাপাক, আপনাকে এ নাপাকতম জায়গায় কে ফেলে দিলো? তিনি হাবুডুবু খেতে খেতে বিরস বদনে জবাব দিলেন, বোকা মেয়ে! আমি সর্বব্যাপী যে! ভুলে গিয়েছ বুঝি? সর্বব্যাপী হবার এ এক জ্বালা। তার কথা শুনে আমি নির্বাক হয়ে রইলুম।

৩৭২.
ছুরা লাহাব বা ছুরা তওবা বা ছুরা আহযাবকে মাদ্রাসার জাতীয় সঙ্গীত করা হচ্ছে না কেন?

৩৭৩.
যে সকল মোমিন ও মোমিনা নবীর ছুন্নতগুলি সব ছহীভাবে অনুকরণ ও অনুসরণ করে না, তারা কি প্রকৃত মোমিন ও মোমিনা? নবীজি হিসু করে ঢিলা কুলুখ করতেন। ইহা একটি মূত্রজনিত ছুন্নত। নবীর কোনও কোনও উম্মত নাকি ঢিলা কুলুখ করে। তবে সকল মোমিন কি হিসু করে ঢিলা কুলুখ করে? মোমিনারা কেন হিসু করে ঢিলা কুলুখ করে না? কেন তাদের মূত্রদ্বার ছুন্নতি উপায়ে পাক করে না? কেন তারা নবীজির মূত্রজনিত ছুন্নত পালন করে না? নবীজিকে কেন তারা এত অবজ্ঞা করে? তারা কি প্রকৃত মুছলমান?

৩৭৪.
বিবাহ-বাসরে ধর্ষক হয়ে
নবীজি আয়শারে টানে।
আল্যা বুঝি তা জানে।

৩৭৫.
স্রষ্টারা হচ্ছে কচু। ইছলামের কচুর জন্মদাতা হচ্ছে মহাবদ, খ্রিষ্টান ধর্মের কচুর জন্মদাতা হচ্ছে ইসা, ইহুদি ধর্মের কচুর জন্মদাতা হচ্ছে মুসা, হিন্দু ধর্মের কচুর জন্মদাতা হচ্ছে মনু। এভাবে সকল ধর্মানুসারীদের নিজ নিজ স্রষ্টা, মানে কচুর জন্মদাতা হচ্ছে সেই ধর্মের প্রবর্তক নিজে।

রবিবার, ২০ এপ্রিল, ২০১৪

কুরানে বিগ্যান (পর্ব-৩৩): বদর যুদ্ধ-৪: খুন ও নৃশংসতা অতঃপর ঘোষণা "আল্লাহই তাদেরকে হত্যা করেছেন": ত্রাস, হত্যা ও হামলার আদেশ – ছয়


লিখেছেন গোলাপ
ইসলামের ইতিহাসের সর্বপ্রথম রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষটি সংঘটিত হয় বদর প্রান্তে। এই যুদ্ধের কারণ ও প্রেক্ষাপট, অধিকাংশ কুরাইশ গোত্র ও নেতৃবৃন্দের আক্রমণাত্মক সংঘর্ষে অনীহা ও তার কারণ এবং অনিচ্ছা সত্ত্বেও কুরাইশরা আবু-জেহেলের পীড়াপীড়িতে মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের নাখালায় তাঁদের নিরীহ বাণিজ্য কাফেলায় হামলা, মালামাল লুণ্ঠন, আরোহীকে খুন ও বন্দীর প্রতিবাদে পরিশেষে কীরূপে এই যুদ্ধে জড়িত হয়েছিলেন, তার আলোচনা আগের চারটি পর্বে করা হয়েছে। মুহাম্মদের নেতৃত্বে সেদিন তাঁর অনুসারীরা তাঁদেরই নিকট-আত্মীয়, বন্ধু-বান্ধব ও পাড়া-প্রতিবেশীদের পানিবঞ্চিত তৃষ্ণার্ত-পিপাসিত অবস্থায় প্রচণ্ড নিষ্ঠুরতায় কীরূপে খুন করেছিলেন, তার বিস্তারিত আলোচনাও আগের পর্বে করা হয়েছে। মুহাম্মদ ও তাঁর সহচরদের সেদিনের সেই নিষ্ঠুরতার শিকার হয়েছিলেন ১৪০ জন কুরাইশ। ৭০ জন কুরাইশকে নৃশংসভাবে করা হয় খুন ও ৭০ জনকে বন্দী। [1]

কুরাইশদের খুন করার পর তাঁদের মৃতদেহগুলো মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা প্রচণ্ড অবমাননা ও অশ্রদ্ধায় একে একে বদরের এক নোংরা শুকনো গর্তে নিক্ষেপ করেন

আদি ও বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকরা সেই সকল ঘটনার বর্ণনা অত্যন্ত প্রাঞ্জল ভাষায় লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন। কিছু উদাহরণ:

উমাইয়া বিন খালাফের লাশ:

‘ইয়াজিদ বিন রুমান < উরওয়া বিন আল-জুবায়ের < আয়েশা হইতে বর্ণিত, শেষ উক্ত জন আমাকে (মুহাম্মদ ইবনে ইশাক) বলেছেন:

যখন আল্লাহর নবী লাশগুলো গর্তে ফেলে দেয়ার আদেশ জারি করেছিলেন, উমাইয়া বিন খালাফের লাশ ছাড়া আর সবার লাশই গর্তে নিক্ষেপ করা হয়েছিল। বর্মের ভিতরে তার লাশটি ফুলে এমনভাবে ভর্তি হয়ে গিয়েছিল যে নড়া চড়া করার সময় তাঁর বিভিন্ন অংশ খসে পড়ছিল। তাই তাঁর লাশটি যেখানে ছিল, সেখানেই রেখে তাঁরা মাটি ও পাথর চাপা দিয়েছিলেন। যখন লাশ গুলো গর্তে ফেলা হচ্ছিল তখন আল্লাহর নবী দাঁড়িয়ে যান এবং বলেন, "হে গর্ত-বাসী, আল্লাহর হুমকি যে সত্য, তা কি তোমরা উপলব্ধি করছো? কারণ আমি উপলব্ধি করছি যে, আমার আল্লাহ যা প্রতিজ্ঞা করেছে, তা সত্য।" তাঁর অনুসারীরা জিজ্ঞাসা করেন, "আপনি কি মরা মানুষের সাথে কথা বলছেন?" তিনি জবাবে বলেন, তারা জানে যে, আল্লাহর প্রতিজ্ঞা সত্য। ---মুসলমানেরা জিজ্ঞেস করে, "হে আল্লাহর নবী, আপনি কি গলিত লাশদের সম্বোধন করছেন?" তিনি বলেন, "তোমাদের শ্রবণ শক্তি তাদের [গলিত লাশের] শ্রবণ শক্তির চেয়ে উত্তম নয়; কিন্তু তারা আমার কথার জবাব দিতে পারে না।"

ওতবা বিন রাবিয়ার লাশ:

‘যখন আল্লাহর নবী লাশগুলো গর্তে ফেলে দেয়ার আদেশ জারি করলেন, [আবু হুদেইফার পিতা] ওতবা বিন রাবেয়ার লাশ গর্তে টেনে নিয়ে আসা হয়েছিল। আমাকে [ইবনে ইশাক] বলা হয়েছে যে, আল্লাহর নবী ওতবার ছেলে আবু হুদেইফা বিন ওতবার মুখের দিকে দৃষ্টিপাত করেন, ছেলেটির মুখটি ছিল বিমর্ষ ও ছলছলে।

তিনি [নবী] বলেন, "আবু হুদেইফা, তোমার আব্বার এই অবস্থাদৃষ্টে সম্ভবতঃ তুমি কিছুটা  বিষণ্ণতা অনুভব করছো", অথবা এ জাতীয় কোন বাক্য। তিনি [আবু হুদাইফা] বলেন, "না। আমার আব্বার ব্যাপারে আমার কোনো সংশয় নাই, সে মৃত। আমি জানতাম যে, আমার আব্বা ছিলেন একজন জ্ঞানী, সুশিক্ষিত ও ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি, তাই আমি আশা করেছিলাম যে, তিনি ইসলামে দীক্ষিত হবেন। তাঁর এই পরিণতি এবং অবিশ্বাসী অবস্থায় তাঁর মৃত্যুবরণ হওয়ায় আমি মনঃক্ষুণ্ণ।" আল্লাহর নবী তাঁকে আশীর্বাদ করেন এবং তাঁর সাথে সদয় ভাবে কথা বলেন’। [2] [3] [4]

>>> পাঠক, এই সেই ওতবা বিন রাবিয়ার ছেলে আবু হুদেইফা বিন ওতবা, যিনি বদর যুদ্ধে শুধু তাঁর পিতাকেই হারাননি, হারিয়েছেন তাঁর চাচা সেইবা বিন রাবিয়া এবং ভাই আল-ওয়ালিদ বিন ওতবাকেও। এই সেই ওতবা বিন রাবিয়ার ছেলে আবু হুদেইফা যিনি মুহাম্মদের পক্ষপাতদুষ্ট আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চারণ করেছিলেন, "আমাদেরকে খুন করতে হবে আমাদের পিতাকে, পুত্রকে, ভাইকে এবং পরিবার-পরিজনদেরকে, কিন্তু আব্বাসকে দিতে হবে ছেড়ে?” --- পরিণতিতে উমর ইবনে খাত্তাব আবু হুদেইফাকে খুন করার হুমকি দিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন, "আমি তার গর্দান নেব!" এই ঘটনার পর আবু হুদেইফা এতই ভীত সন্ত্রস্ত থাকতেন যে, তিনি প্রায়ই বলতেন, সেদিনের সেই উক্তির পর তিনি নিজেকে কখনোই নিরাপদ বোধ করতেন না! [পর্ব ৩১-৩২)]  সুতরাং, এমত পরিস্থিতিতে আবু হুদেইফা একই দিনে নিজের বাবা, চাচা ও ভাইয়ের নৃশংস খুন হবার পর যতই বিষণ্ণ হোন না কেন, তাঁদের করুণ মৃত্যুতে যত মনঃকষ্টই পান না কেন,  তা  প্রকাশ করে আবার ও মৃত্যু-ঝুঁকির বলি হতে যে চাইবেন না, তা বলাই বাহুল্য।

সহি বুখারি: ভলিউম ৫, বই ৫৯, নং ৩১৪

‘আবু তালহা হইতে বর্ণিত:
বদর যুদ্ধের দিন আল্লাহর নবী চব্বিশ জন কুরাইশ নেতৃবৃন্দের লাশ বদরের এক নোংরা শুকনো গর্তে নিক্ষেপ করার আদেশ জারী করেন’।---- [5]

নিত্য নবীরে স্মরি – ১২৮


পাঠিয়েছেন দাঁড়িপাল্লা


ইস্টার নিয়ে বিস্তর বিভ্রান্তি


যে কোনও ধর্মগ্রন্থ মানেই পরস্পরবিরোধী বাণীর খনি। এই যেমন, বাইবেল (শব্দটিতে এ-কারের বদলে আ-কার বসাতে গিয়েও নিজেকে সামলে নিলাম) নামের ঐশী কিতাবে মাত্র ৪৩৯ খানা পরস্পরবিরোধিতা আবিষ্কার করা গেছে। উৎসাহীরা এই তালিকা সম্বলিত দেড় মেগার পিডিএফ ফাইল ডাউনলোড করে নিতে পারেন।

বাইবেলের নিউ টেস্টামেন্টে সর্বমোট বইয়ের সংখ্যা সাতাশ। তার মধ্যে চারজন লেখকের (মথি, মার্ক, লুক, জন) রচিত চারখানা বইয়ে বর্ণিত হয়েছে যিশুর জীবন, মৃত্যু ও পুনরুত্থানের গালগল্প। সেগুলোকে বলা হয় গসপেল (গসিপ বললে সঠিক হতো), যার অর্থ - শুভ সংবাদ। বাংলা বাইবেলে এই বইগুলোর নাম - মথি লিখিত সুসমাচার, লুক লিখিত সুসমাচার (ধর্মকারীর সিরিজ 'লুক্স লিখিত সুসমাচার'-এর নামকরণের রহস্য অনেকের কাছে উন্মোচিত হলো নিশ্চয়ই)... ইত্যাদি।


তো এই চার লেখকের দেয়া অনেক তথ্যই বিস্তর বিভ্রান্তির জন্ম দেয়। এখন যেহেতু ইস্টারের মৌসুম, তাই এসবে ইস্টার অর্থাৎ মৃত্যুর পরে যিশুর আবার জীবিত হবার ঘটনা সংক্রান্ত তথ্যভিন্নতা বিষয়ে চমৎকার একটি নিবন্ধে চোখ বুলিয়ে নিন। বিশদ পড়ার বিশেষ প্রয়োজন নেই, শুধু নিবন্ধান্তে উল্লেখিত মাত্র ১৭ টি 'তথ্যবৈচিত্র্য' লক্ষণীয়।

গরুপূজারি গাধাগুলো - ৫৮




লুক্স লিখিত সুসমাচার - ৪২


লিখেছেন লুক্স

৩৮১.
চিন্তা কইরা দেখলাম-আমি শফী হুজুরের পক্ষে; তিনি বুজুর্গ মানুষ, সত্যি কথাই বলেছেন। এতো বড় হুজুর তো আর বানাইয়া বানাইয়া মিথ্যা কথা বলতে পারেন না। তাছাড়া তিনি নাস্তিকগো সামান্য কল্লা-ই তো চাইছেন, চোখ তো আর চান নাই। 

শফী হুজুর ভুল কথা বলেছেন, বাংলা ভাই আর শায়েখ রহমান ঠিক পথে ছিলেন না, বিন লাদেন ইসলামের শত্রু ছিলেন - এসব মিথ্যা কথা বইলা মডারেটগো মতো ইসলামরে বিকৃত করার বদনাম মাথায় নিতে পারবো না। হাতের কাছেই কোরান-হাদিস; খামোখা শফী হুজুর, বাংলা ভাই আর বিন লাদেনগো দোষ দিয়া লাভ কী? যতো দোষ মধ্যযুগে আরবের গুহায় বইস্যা লেখা ঐ একখান বইয়ের। ঐ কচুর বইখান ব্যান কইরা দিলেই তো ঝামেলা শেষ হইয়া যায়।

৩৮২.
হিন্দুদের ঘরবাড়ী পোড়ানোতে মুসলমানদের মায়াকান্না আমার সহ্য হয় না, যেখানে ইসলামই এ কাজের অনুমতি দিয়েছে।

৩৮৩.
এই বইটি পড়লে জানতে পারবেন:
- কোন নবী টানা চল্লিশ দিন জীবিত কবরে ঘুমাইয়া ছিলেন, কিন্ত নামাজ কাযা করেন নাই।
- কোন নবী মাছের পেটে থেকে পুরা রমজান মাস আল্লাহর জিকির করেছিলেন। 
- কোন নবী টানা ২৫ বছর কিছু না খেয়ে আল্লাহর মোনাজাতে লিপ্ত ছিলেন।
- আরো জানতে পারবেন, কোন নবী ধ্যান করতে করতে পাথরের মতো শক্ত হয়ে গেছিলেন, আর ১০০ বছর পর ধ্যান ভাইঙ্গা লাফ দিয়া উঠিয়া দাড়াইলেন।

মাদ্রাসা শিক্ষকদের লেখা এই বইগুলো প্রকাশ্যে বিক্রি হয়। মাইক হাঁকিয়ে বিক্রি হয়। মানুষ কেনে, আর পড়ে পাগলও হয়। এই বইগুলো আর লেখকদের বিরুদ্ধে সরকারের কোনো আইন নেই, পুলিশের কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই, সচেতন মানুষের কোনো বাধাও নেই।

অথচ আপনি কোরানের অপবিজ্ঞান, অসঙ্গতি আর কুসংস্কারের বিরুদ্ধে আধুনিক বৈজ্ঞানিক সমাধান দিয়ে একটি বই লিখুন, আমি নিশ্চিত সরকার আপনার বইটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করবে, পুলিশ আপনাকে পেটাবে আর জনগণ আপনাকে দেশ ছাড়া করবে।

৩৮৪.
আসলে নতুন জ্ঞান-বিজ্ঞান আর যুক্তির সামনে ভাববাদী ও ধর্মীও গোষ্ঠিগুলির হার অনিবার্য।

৩৮৫.
- আর যারা অবিশ্বাস করে আর আমাদের নিদর্শনসমুহকে মিথ্যারোপ করে, তারা দোজখবাসী। (কোরান ৫:১০)
- তার (অবিশ্বাসী) জন্য এই দুনিয়াতে রয়েছে লাঞ্ছনা, আর কিয়ামতের দিনে আমরা তাকে আস্বাদন করাব জ্বলা-পোড়ার শাস্তি। (কোরান ২২:৯)
- যারা আমাদের নির্দেশাবলীতে অবিশ্বাস করে, নিশ্চই তাদের আমরা অচিরে আগুনে প্রবেশ করাবো। যতবার তাদের চামড়া পুরোপুরি পুড়ে যাবে ততবার আমরা সেগুলো বদলে দেব তার পরবর্তে অন্য চামড়া দিয়ে যাতে তারা শাস্তি আস্বাদন করতে পারে। নিঃসন্দেহে আল্লাহ হচ্ছেন মহাশক্তিশালী, পরমজ্ঞ্যানী। (কোরান  ৪:৪৫)

হুমকি এই প্রকাণ্ড মিথ্যাকে একটা নাটকীয় গুরুত্ব প্রদান করে। আঘাতটা এতই তীব্র যে, একজন এ সম্পর্কে নির্বিকার থাকতে পারে না। একজন মানুষ কীভাবে এতটা নিশ্চিত হতে পারে যে, ঈশ্বর অবিশ্বাসীদের শাস্তি দেবেন? অথবা একজন মানুষ কীভাবে এতজনকে হত্যা করতে পারে শুধুমাত্র তাকে অবিশ্বাস করার জন্য?