২৯ মার্চ, ২০১৭

ইমানুলের ধর্মকথা - ৩

লিখেছেন ইমানুল হক

৫.
আল্লা আমাক ৪৫ বছরে অনেক কিছু দিয়েসে তার নিয়ামত ইসেবে। এই যেমুন, কয়ডা দিন দরি একডা মাইয়ারে বালা লাইগদাছে। নাম অইলো মজ্জিনা। আমাগো গিরামেই থাহে। খুব বালা লাগে তারে, বয়স বেশি না। মাথ্র ৯ বছর। যহনি সামন দিয়া যায়, তাহাই থাইকতে মুন চায়। তাছাড়া যহন মনে অয়, নবিজির লগে দেহা অইলে সুন্নতি কামের জইন্য তিনি আমাক ক্যামনে জরাই দরে মুলাকাত কইরবে, তাই বেবে কুশিতে দুই চোক আমার বন্দ অই যায়। যাঅক, আবার গিরামে ইমানদার লুক ইসেবে বড়ই নাম ডাক। ফাচ অক্ত নামায পড়ি, ইডা আল্লার রঅমতে আমার সুনামডাও বাড়াইছে। বিয়ার চিন্তা ডুকি গেল মাতায়। কি করি? ঠিক কইল্ল্যাম, মিয়ার বাফের কাছ গটকডারে পাডাইতে অবি। মিয়ার বাপও আমার মতই একজন খাটি মুমিন বান্দা, দাড়ি-টুপি সব সুময়েই থাহে মাতায়। কফালে সুন্নতি দাগ বানাই পেইলছে ইতিমইদ্দে। আমার বয়সি লুক। বিবাহের ফ্রস্তাবডা দিলাম এলাকার হাপেজসাপ কুদ্রতালি হুজুরের মাইদ্দমে। কারণ হেয় আবার সুন্নতি বেফার-সেফার বালা বুজাইতে ফাইরবো মিয়ার বাপেরে। 

আমাগের নবীজি (সাঃ) ও ৫১ বছর বয়সে ৬ বছরের আয়শাক বিয়ে কইচ্ছিলেন। পরে ৯ বছরে গরে উটাই নেন, ছুবানাল্লা। [সুনান আবু দাউদ :: আদব ও শিষ্টাচার অধ্যায় ৪৩, হাদিস ৪৯৩৬ মূসা ইবন ইসমাঈল (র) .... আইশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা যখন মদীনায় আসি, তখন আমার কাছে কয়েকজন মহিলা আসে, আর সে সময় আমি দোলনায় দোল খাচ্ছিলাম। এ সময় আমার মাথার চুল ছোট ছিল। তারা আমাকে নিয়ে গিয়ে সুন্দর রুপে সুসজ্জিত করে রাসূলুল্লাহ (সা)-এর কাছে নিয়ে আসে। এ সময় তিনি আমার সাথে সহবাস করেন, আর তহন আমার বয়স আছিল নয় বছর।] তাছাড়া কুরানে আল্লাতালা গুসোনা দিয়া কইছেন যে, "বিবাহ কর নারীদের মইধ্য থিকা যাকে তোমাগের বালো লাগে, দুই, তিন বা চারটি। আর যদি আশঙ্কা থাহে যে (স্ত্রীদের মাঝে) সুবিচার কইত্তে ফাইরবা না, তাঅলে (মাত্র) একটি (বিবাহ কর)…." – সুরা নিসা ০৩:০৩। 

আরেক বিবিরে কাওয়ানের লাই যতেষ্ট টাহা আল্লায় আমারে দিছে ইনশাল্লায়া। যাঅক, কুদ্রতালি হুজুর দুইদিনেই মিয়ার বাপেরে পডাই পেইল্ল্যেন। আলামদুলিল্ল্যা। বাড়িতে দুই বিবিরেও জানানো ওইলো ফ্রস্তুতি নিতে নতুন বিবির জইন্য। এক নম্বর বিবি যেমুন তেমুন, দুই নম্বর বিবি আবার একটু অল্প সিক্কিত। সে রাগে ফায়ার অই গ্যাছে। সে আমারে কিচুতেই তিন নম্বর বিবাঅ কইত্তে দিবে না। সে আমাক বইল্য বিবাঅ কইত্তে অইলে তাগো পারমিসন লাইগবো। আমিও এদিকে নাচোরবান্দ্যা বিবাঅ করার জইন্য। 

আমাগো নবীজি ককনোই বিয়া কইত্তে কুন বিবির অনুমিত লয় নাই। আমি বুইজলাম [নারী শয়তানের রূপ (Sahih Muslim 8:3240)] তারে ফড়া ফানি কাওয়ান লাইগবো। যাইঅক, তারে এক গড়ে আপাতত তালা মারি রাকি বিয়ার প্রতম রাত্রি বাসর সাইরলাম। আলামদুলিল্লায়া!! আল্লা!

কি যে খুশি লাইগদেসে! ইসলামি, ইসলামি একডা শান্তির বাতাস ফাইচ্ছি অন্তেরের মইদ্দে। আল্লা তুমাক অশেষ ধইন্ন্যবাদ নবীর আদশ্য অক্করে অক্করে ফালনে আরো একদাপ আগাইয়া দেওয়ার লাই। পৃতিবিতে যতদিন বাইচবো, মুসলিম অয়েই বাচবো। আল্লা আমাক আরো বালো তাকার তওপিক দেও। আমিন।

গরুপূজারি গাধাগুলো - ১৮৪

বিশ্বাসের দরজায় করাঘাত!: পর্ব ১৮ – (তোর কী হবে রে, হিমু!)

লিখেছেন নরসুন্দর মানুষ


গাঁও-গেরামের মানুষ আমি, ঢাকা এলেই কেমন জানি দমবন্ধ লাগে! অন্তর্মুখী মানুষ হিসেবে পোশাক-আশাক, লৌকিক অনুষ্ঠান খুব একটা ভালো লাগে না আমার! যাক এসব আত্মপ্রচার; আসল কথায় আসি। ২০০৮ সালের ঘটনা, ঢাকায় দু'দিনের জন্য জরুরি কাজে খালাতো ভাইয়ের বাসায় ছিলাম। শুক্রবার বিকেলে বিছানায় শুয়ে শুয়ে পড়ছিলাম, হঠাৎ খালাতো ভাই ধরে নিয়ে গেলো হুমায়ূন আহমেদের ভক্তদের এক আলোচনা অনুষ্ঠানে! গিয়ে পড়লাম মহা ফাঁপরে; শালার খালাতো ভাইসহ সবাই হলুদ রংয়ের পাঞ্জাবি পরে এসেছে। মাঝখানে আমি কালো একটা টিশার্ট পরে পোকার মত কিলবিল করছি! শেষতক বুঝলাম, এটা হিমু-ভক্তদের মিলনমেলা!

শালার ভাইরে কইলাম: "আমি তো জীবনে হুমায়ূন আহমেদের হ পর্যন্ত পড়ি নাই! আমারে নিয়া আসলি কোন দুঃখে! আর আনলি যখন এই কালো টিশার্ট পরে আসতে দিলি কেন! আগে কইলে আর কিছু না পারি, আমার কাছে গু কালারের একটা টিশার্ট ছিলো, সেটা পরে আসতাম! হলুদ আর গু কালার তো প্রায় কাছাকাছি যায়!"

আলোচনা পর্ব চলছিলো; সবাই গুণগান করছিলেন হুমায়ুন আহমেদের সৃষ্ট চরিত্র হিমুর! অনেকেই আড়চোখে দেখছিলো আমাকে! এর মাঝে একজন মাইকে বলেই ফেললো, “আমাদের মাঝে একজন কালো রঙের ভাই আছেন! তিনি সম্ভবত হিমু, হুমায়ূন আহমেদ আর আজকের অনুষ্ঠান সম্পর্কে না জেনেই চলে এসেছেন! এবার তিনি আমাদের সামনে কিছু বলবেন!" আমি বুঝলাম, আমাকে বাঁশ দেবার চেষ্টা হচ্ছে, মনে মনে বললাম, “আমারে তো চেনো না বান্দরের (হিমুর) দল! বাঁশ আমি উল্টো দেওয়াও জানি!"

ডায়াসে দাঁড়িয়ে:  
"উপস্থিত বন্ধুরা, সকলকে জন্ডিসীয় ‍শুভেচ্ছা! আজকের অনুষ্ঠানে এসে আমার প্রথম উপলব্ধি যেটা হলো: হলুদের আধিক্যে এই রুমের সবার হয়ত জন্ডিস হয়েছে! জন্ডিসের বাংলা অর্থ সম্ভবত 'ন্যবা', সে হিসাবে আপনারা সকলেই আজ ন্যবার রোগী! আমি হুমায়ূন না-পড়া একজন পাঠক, তাই হিমু বা হুমায়ূন নিয়ে বেশি বলা আমার পক্ষে সম্ভব নয়! আপনারদের সকলের তাঁর লেখার প্রতি ভক্তি দেখে সত্যিই মুগ্ধ হচ্ছি! এবং আপনারা তার সৃষ্টি একটি চরিত্রের প্রতি এতটা নেশাগ্রস্ত দেখে অবাকও হচ্ছি! হয়ত উপস্থিত আপনারা প্রায় সবাই মুসলিম ঘরের সন্তান! যদি আপনারা হলুদ রঙের পোশাকের প্রতি নবী মুহাম্মদের মনোভাব জানতেন, তবে হয়ত অনেকেই হলুদ রঙের পোশাক পরে হিমু হতে দ্বিধাগ্রস্ত হতেন! কারণ:

নবী ‍মুহাম্মদ হলুদ পোশাক পরতে নিষেধ করেছেন!
আলী ইবনে আবু তালিব বলেন নবী মুহাম্মদ আমাকে রুকু অবস্থায় কুরআন তিলওয়াত করতে, সোনার অলংকার ব্যবহার করতে এবং হলুদ বর্ণের পোশাক পরিধান করতে নিষেধ করেছেন
সহিহ মুসলিম: হাদিস ৫৩৩১ (ই.ফা. ৫২৬৪, ই.সে. ৫২৭৭)

নবী ‍মুহাম্মদ হলুদ পোশাক জ্বালিয়ে দিতে বলেছেন!
আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণিত: নবী মুহাম্মদ আমার পরনে হলুদ বর্ণের দু'খানা কাপড় দেখলেন । তিনি বললেন: তোমার মা কি তোমাকে এ কাপড় পরিধান করতে বলেছে? আমি বললাম, আমি কি এ দুটো ধুয়ে নেব? তিনি বললেন: তুমি এ দুটো বরং জ্বালিয়ে দাও
সহিহ মুসলিম: হাদিস ৫৩২৯ (ই.ফা. ৫২৬২, ই.সে. ৫২৭৫)

তো: উপস্থিত হিমু ভাইয়েরা, কোনো কিছুর প্রতি ভালো লাগা থাকা ভালো, তবে তা যদি আপনার নিজস্ব মৌলিকতাকে নষ্ট করে, তবে তা অনুকরণ করা সব সময় সুখকর নয় - তা সে যা-ই হোক না কোনো! আপনার মন যখন চায়, যে কোনো রংয়ের পোশাক পরতে পারেন, তবে তা যদি হিমুর নামে আপনার স্বকীয়তাকে নষ্ট করার পর্যায়ে চলে যায়, তবে আমার মত কালো বহিরাগত মানুষ নবী মুহাম্মদের উদাহরণ টেনে একথা বলতেই পারে, তোর কী হবে রে, হলুদ হিমু!... আজকের অনুষ্ঠানে আমার মত উটকো ঝামেলাকে কথা বলতে দেবার জন্য ধন্যবাদ!"

(চলবে)

মনজাগরণ যাদের হয় না


২৮ মার্চ, ২০১৭

নিমো হুজুরের খুতবা - ৩৬

লিখেছেন নীল নিমো

আজকে রাস্তায় এক জাহান্নামি নাস্তিকের সহিত দেখা হয়ে গেল। নাস্তিক দেখলেই মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। কারণ, এরা আমার ওযু নষ্ট করে দেয়।

জাহান্নামি নাস্তিকটা আমাকে দেখে দাঁত কেলিয়ে হাসতে হাসতে বলিল:
- হুজুর, আপনি একজন ইসলামি স্কলার। আমি একজন পাতি নাস্তিক। আপনার কাছে একটি প্রশ্ন ছিল, দেখি, উত্তর দিতে পারেন কিনা।

আমি উত্তর দিলাম:
- ওহে পাতি নাস্তিক, তুই কি প্রশ্ন করতে চাস?

নাস্তিক প্রশ্ন করিল:
- কে সর্বপ্রথম কোরান মজিদেকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে পবিত্র কোরান মজিদের অবমাননা করেছিল?

আমি বল্লাম:
- নাস্তিকরা?

নাস্তিক উত্তর দিল:
- হয় নাই, ভুল উত্তর।

আমার মেজাজ খারাপ হয়ে গেল। বলিলাম:
- তাহলে নিশ্চয়ই ইহুদি, নাসারা, খ্রিষ্টান কিংবা হিন্দুরা।

নাস্তিক বলিল:
- হয় নাই, ভুল উত্তর। মুসলমানরাই সর্বপ্রথম কোরান পুড়িয়েছিল। নবীজির ঘনিষ্টতম সাহাবী, ইসলামের তৃতীয় খলিফা হজরত উসমান (রাঃ) সর্বপ্রথম কোরান মজিদে আগুন দেন। তিনি আগুন দিয়ে কোরান মজিদ পুড়িয়ে ফেলে আসমানি কিতাব কোরানের অবমাননা করেছিলেন।

নাস্তিকের কথা শুনে কোনোমত ওযুটা শক্তমত চেপে ধরে কেটে পড়লাম।

উন্মুখ উল্লুক উম্মতেরা

সৌদি নারীদের সত্যি কাহিনী - ২

মূল: খালেদ ওলীদ
অনুবাদ: আবুল কাশেম

[ভূমিকা: ডিসেম্বর মাসে খালেদ ওলিদের ইসলাম পরিত্যাগের জবানবন্দির অনুবাদ করেছিলাম। তখন লিখেছিলাম, খালেদ আমাকে অনেক ই-মেইলে সৌদি আরাবের ইসলাম সম্পর্কে লিখেছিল। এখানে আমি তার আর একটি লেখা অনুবাদ করে দিলাম। উল্লেখযোগ্য যে খালেদের এই লেখাটি একটা বইতে প্রকাশ হয়েছে। বইটার টাইটেল হলো: Why We Left Islam. - আবুল কাশেম, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১০]

আগের পর্ব

দেখুন, এই সৌদি সমাজে আমার ভগিনীরা একেবারেই অসহায় এবং সীমাহীনভাবে পীড়িত। নিজেদের জীবন নিজের হাতে নিয়ে চালাবার কোনো অধিকার তাদের নেই। ওরা সম্পূর্ণভাবে আমার পিতা, আমার ও অন্যান্য ভাইদের ওপর সর্বদা নির্ভরশীল। ওরা কোনোভাবেই একা বাইরে যেতে পারে না। ওদের কেউ ঘরের বাইরে গেলে একজন পুরুষ, যেমন ভাই অথবা পিতাকে নিয়ে যেতে হবে - তার দেহরক্ষী অথবা সহায় হিসেবে। এমনকি দুর্ঘটনা, হাসপাতাল অথবা অন্য কোনো জরুরি অবস্থাতেও ওদের কেউ ঘরের বাইরে পা ফেলতে পারবে না। বিশ্বাস করুন, ওদের কারও হাসপাতাল যাবার প্রয়োজন হলে আমার ভাইকে ডাকতে হবে। তাকে অন্য শহর থেকে আসতে হবে ৩০০ কিলোমিটার গাড়ি চালিয়ে। সৌদি আরবে মেয়েদের গাড়ি চালানো নিষেধ; আমার বোনেরা গাড়ী চালাতে পারে না, আমার পিতাও গাড়ী চালানো জানেন না। এসব কারণে আমার ভগিনীদের এই সীমাহীন দুর্দশার মাঝে কালাতিপাত করতে হয়। যতই জরুরি বা গুরুত্বপূর্ণ হোক না কেন, ওদেরকে হাসপাতালে নিয়ে যাবার জন্য ওদেরকে ওদের মাহ্‌রামের (আমি, আমার ভাই অথবা পিতা) জন্য অপেক্ষা করতে হবে। এছাড়া ওদের কোনো পথ নাই। এদিকে আমার পিতা কেমন করে ব্যাংকের কার্ড (এ টি এম) ব্যবহার করে টাকা তুলতে হয়, তা জানেন না। তাই আমার কোনো ভগিনী টাকা ওঠাতে চাইলে তার কার্ড কোনো অজ্ঞাত লোকের হাতে তুলে দিতে হবে। নিত্যনৈমিত্তিক জিনিস কিনতে চাইলে টাকা কোনো অজানা পুরুষের হাতে দিতে হবে। সেই লোক তখন যা খুশি তাই দাম বলবে। এভাবে সৌদি মেয়েদের দৈনিক অসীম দুর্দশাপূর্ণ অবস্থার মাঝে জীবন কাটাতে হয়। আমি এখানে মাত্র কয়েকটি উদাহরণ দিলাম। আমি মাঝে মাঝে চিন্তা করি আমার নিজের চাকুরী ছেড়ে দিয়ে ওদের সাহায্য করি।

আপনারা হয়তো বলবেন: ওদেরকে সৌদি আরবের বাইরে কোথাও নিয়ে যাও। কিন্তু ব্যাপারটা এত সহজ নয়। সৌদি মেয়েদের পাসপোর্ট পেতে হলে ওদের আইনী অভিভাবকের লিখিত অনুমতির প্রয়োজন। শুধু পাসপোর্ট পেলেই হবে না; বিদেশে একা যাবার জন্য মেয়েদের তাদের পিতা অথবা তাদের স্বামীর স্বাক্ষরিত বিশেষ কাগজপত্র জোগাড় করতে হবে। আমি নিশ্চিত যে, একজন নিরক্ষর হিসেবে আমার পিতা কস্মিনকালেও আমার বোনদেরকে বিদেশে পাড়ি দেবার অনুমতি দেবেন না।

মাঝে মাঝে আমি চিন্তা করি, কেন আমাদের সমাজের নারীদেরকে এই সীমাহীন উৎপীড়ন সইতে হচ্ছে। আমার বোনেরা তাদের পিতা অথবা ভাইয়ের অনুমতি ব্যতিরেকে কিছুই করতে পারে না। ওরা সর্বদাই ঘরের ভেতরে আছে, টেলিভিশন দেখছে। ওদের জন্য না আছে কোনো খেলাধুলা, না আছে কোনো কাজ, না আছে কোনো বেঁচে থাকার লক্ষ্য। সত্যি বলতে কি, ওরা বিশ্বের বৃহত্তম জেলে বন্দী আছে - সেই জেলখানা হচ্ছে গোটা সৌদি আরব; আর এই দেশ হচ্ছে খাঁটি, সত্যিকার ইসলামের দেশ।

সুসঙ্গত কারণেই হয়ত অনেকে জানতে চাইবেন - সৌদি নারীদের এই অবর্ণনীয় দুর্দশার হেতু কী; কিসের জন্যে এখানকার নারীরা অকথ্য নির্যাতন সহ্য করে যাচ্ছে? অতি সহজেই আমরা নির্বোধ, যুক্তিহীন, অশিক্ষিত ও সেকেলে সৌদি নিয়ম কানুনকে দোষী সাব্যস্ত করতে পারি। কিন্তু একটু চিন্তা করলেই আমরা বুঝতে পারি যে, এসব কিছুরই উৎস হচ্ছে ইসলাম। পরিষ্কারভাবে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, এসবের জন্য একমাত্র ইসলাম দায়ী। ইসলামী আইন কানুন আমাদের নারীদেরকে পরিণত করেছে পুরুষদের সম্পত্তিতে। তাদেরকে দাসত্বে ফেলে দিয়েছে এবং নারী হিসেবে তাদের যে মান, সম্ভ্রম, মর্যাদা ও শ্রদ্ধা আছে, তাও হরণ করে নিয়েছে। সত্যি কথা বলতে কি, ইসলাম আমাদের নারীদের নারীত্বের ভিত্তিমূলে কুঠারাঘাত করে তা ধুলিস্যাৎ করে দিয়েছে।

ইসলাম একজন পিতাকে তার কন্যার ওপর সম্পূর্ণ কর্তৃত্ব দিয়েছে। পিতা কন্যাকে সর্বতোভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে। কন্যাকে যেমনভাবে বিবাহ করানো, তাকে সামাজিক জীবন থেকে সরিয়ে রাখা, এমনকি তাকে মেরে ফেলারও সম্পূর্ণ অধিকার পিতার রয়েছে। আপনারা হয়তো এই জেনে আশ্চর্য হবেন যে, এক সৌদি পিতা যখন খুশি তার কন্যাকে মেরে ফেলতে পারে আইনের তোয়াক্কা না করে। অনুগ্রহপূর্বক জেনে নিন যে, এক সৌদি পিতা তার কন্যাকে মেরে ফেললেও সে পিতা কক্ষনই মৃত্যুদণ্ড পাবে না। এর কারণ হচ্ছে, কন্যা পিতার সম্পত্তি, সে ঐ সম্পত্তি যেভাবে খুশি নিষ্পত্তি করে দিতে পারে - এমনকি মেরে ফেলেও। সৌদি আরবে শরিয়া আইন অনুযায়ী, কোনো পিতা তার কোনো সন্তানকে খুন করলে সরকারের কোনো ক্ষমতা নাই ওই পিতাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা।

ইসলামী আইন অনুযায়ী, পিতার অনুমতি ছাড়া কন্যা বিবাহ করতে পারে না। করলে তা হবে হারাম। সংক্ষিপ্তভাবে বলা যায় যে, ইসলামে পিতা হচ্ছেন একজন পবিত্র, সাধু পুরুষ - একজন সেনাপতি ও এক বদমেজাজী একনায়ক। এমনকি পিতা অশিক্ষিত, নিরক্ষর, মূঢ়, অনৈতিক, অন্যায়কারী ও সন্তানদের প্রতি অবহেলাপূর্ণ হলেও তার সন্তানদের, বিশেষতঃ কন্যাদের, সেই পিতার বিরুদ্ধে করার কিছুই নেই।

আমি এখন কী করতে পারি?

এই প্রশ্নের সোজা উত্তর হবে - আমার করার কিছুই নেই। এই অবস্থার পরিবর্তন করার কোনো ক্ষমতাই আমার নেই। আমি যদি আমার পিতার বিরুদ্ধে মামলা করি, তবে ইসলামি বিচারক আমার পিতাকে হয়তো প্রশ্ন করবে: আপনি আপনার কন্যাদের বিবাহের ব্যবস্থা করেন না কেন? এর উত্তরে আমার পিতা হয়তো উদাসীনভাবে বলবেন: আমার এই মেয়েগুলো আমার অধীনে আছে; এরা আমার সম্পত্তি। এদের জন্যে আমি যদি সুপাত্র জোগাড় না করি, তবে আল্লাহ্‌ আমাকে শাস্তি দিবেন। এর প্রমাণ হিসাবে আমার পিতা হয়তো দেখাবেন যেই সব পাত্র তিনি দেখেছেন, তাদের সবাই ধূমপায়ী। তিনি হয়তো সাক্ষী নিয়ে দেখাবেন ঐসব পাত্ররা মসজিদে অনামাযী। এর বিরুদ্ধে ইসলামি বিচারককে নিশ্চুপ থাকতে হবে। বিচারক কোনোক্রমেই আমার পিতাকে সাজা দিতে পারবে না। বরঞ্চ বিচারক আমাকেই সাজা দেবেন, কেননা আমি আমার পিতার সিদ্ধান্ত মানিনি, এবং আমার পিতাকে সম্মান করিনি।

এখন আমি এইরূপ যন্ত্রণা ও হতাশার মাঝে থেকে ধৈর্য ধরে আমার পিতার মৃত্যুর অপেক্ষা করছি। তিনি মারা যাবার পর আমার ভগিনীদের দায়দায়িত্ব আমারই হাতে আসবে। সরকারীভাবে তাদের মালিকানা আমার হাতে ন্যস্ত হবে। আমরা যেমনভাবে গাড়ি, বাড়ি, ছাগল, উট...ইত্যাদির মালিক হই, সেভাবেই আমিও আমার ভগিনীদের মালিক হব। তারপর আমার ইচ্ছামত আমি তাদের ভাগ্যের নিয়ন্ত্রক হব। আমি ইচ্ছা করলে তাদেরকে স্বর্গে পাঠাতে পারি অথবা নরকেও।

পাঠকবৃন্দ, অনুগ্রহপূর্বক আমার ভগিনীদের জন্য কোনো দুঃখ প্রকাশ করবেন না, এবং তাদের প্রতি করুণাও করবেন না। আপনারা জেনে একটু তৃপ্তি পাবেন যে, তুলনামূলক ভাবে আমার ভগিনীরা অনেক সৌভাগ্যবতী। কেননা ওরা বছরে একবার অথবা দু’বার শপিং কমপ্লেক্সে বেড়াতে যেতে পারে। ওরা সৌন্দর্যচর্চার জন্য মেক আপ ব্যবহার করতে পারে। এমনকি গান সঙ্গীতও শুনতে পারে। তাদের সবচাইতে বড় স্বাধীনতা হচ্ছে, তারা টেলিভিশনের চ্যানেল পরিবর্তন করতে পারে। কেননা বহু সৌদি নারীদের এই অধিকারটুকুও নেই। আপনাদের কাছে এটা বিস্ময়কর হলেও এটাই সত্য।

জানুয়ারী ২৭, ২০০৬

নিত্য নবীরে স্মরি – ২৭৯

২৭ মার্চ, ২০১৭

চিঠি হুমকি - ২: খসরু পারভেজ-এর প্রতিক্রিয়া ও নির্দেশ!: কুরানে বিগ্যান (পর্ব-১৬৩): ত্রাস, হত্যা ও হামলার আদেশ – একশত সাঁইত্রিশ

লিখেছেন গোলাপ

(আগের পর্বগুলোর সূচী এখানে)

স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) দামেস্কের শাসনকর্তা আল মুনধির বিন আল-হারিথ ও পারস্যের শাসনকর্তা 'কিসরার' কাছে যে চিঠি-হুমকি প্রেরণ করেছিলে,ন তার ভাষা কেমন ছিলো, সেই চিঠিগুলো পড়ার পর এই শাসকরা যে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছিলেন, তা জানার পর মুহাম্মদ তাঁদেরকে কীভাবে অভিশাপ বর্ষণ করেছিলেন, তার আলোচনা আগের পর্বে করা হয়েছে।

প্রশ্ন হলো,
"বিনা উস্কানিতে যদি কোনো ব্যক্তি শাসকদের কাছে চিঠি লিখে ঘোষণা দেন যে 'আমার বশ্যতা স্বীকার করো, তাহলে তুমি হবে নিরাপদ', অতঃপর তাঁরা যখন সেই হুমকির বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেন, তখন সেই ব্যক্তিটি তাঁদের কে করেন অভিসম্পাত, তবে এই শাসকদের পক্ষ থেকে ঐ ব্যক্তিটির বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হতে পারে?"

আল-তাবারীর (৮৩৮-৯২৩ খ্রিষ্টাব্দ) অব্যাহত বিস্তারিত বর্ণনা: [1] [2] 

পূর্ব প্রকাশিতের পর:

‘ইয়াযিদ বিন আবি হাবিব হইতে প্রাপ্ত [ইবনে হুমায়েদ <সালামাহ < মুহাম্মদ ইবনে ইশাক <ইয়াযিদ বিন আবি হাবিব (পর্ব-১৬২)] তথ্যের ভিত্তিতে (মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের) অব্যাহত বর্ণনা, তিনি বলেছেন:

---- কিসরা তা পড়ার পর ছিঁড়ে ফেলেন ও বলেন, "আমার গোলাম হয়ে সে আমাকে এভাবে লেখে!" অতঃপর কিসরা ইয়ামেনের গভর্নর বাধান (Badhan) এর কাছে এক চিঠি লেখেন, নির্দেশ,

"তোমার লোকজনদের মধ্য থেকে দুই শক্তিশালী ব্যক্তিকে হিজাজের এই লোকটির কাছে পাঠাও ও তাকে আমার কাছে ধরে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করো।"

অতঃপর বাধান পারস্য অধিপতির আদেশপত্রটি সহ খোররাখুসরাহ (Khurrakhusrah) নামের এক পারস্যবাসীর সাথে বাদাওয়াহ (Babawayh) নামের তার এক পেশাদার কেরানী ও হিসাবরক্ষককে প্রেরণ করেন। তিনি তাদের মারফত আল্লাহর নবীর কাছে এক চিঠি পাঠান, যেখানে তার আদেশ ছিলো এই যে, তিনি যেন এই দুই ব্যক্তির সঙ্গে কিসরার কাছে গিয়ে উপস্থিত হন। তিনি বাদাওয়াহ-কে বলেন, "এই লোকটির এলাকায় যাও, তার সাথে কথা বলো ও তার সম্বন্ধে আমার কাছে রিপোর্ট পেশ করো।"

অতঃপর এ দুই ব্যক্তি যাত্রা শুরু করে। আল-তায়েফে পৌঁছার পর তারা নাখিব অঞ্চলে কিছু লোকের সাক্ষাৎ পায় যারা ছিলেন কুরাইশ বংশোদ্ভূত; তারা তাদেরকে তাঁর সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করে। তারা বলে যে, তিনি মদিনায়। কুরাইশরা এ দুই ব্যক্তির সাক্ষাৎ পেয়ে পুলকিত ও আনন্দিত হয়; তারা একে অপরকে বলে, "আনন্দ করো! রাজার রাজা কিসরা এখন তার শত্রু হয়ে গিয়েছে। তোমরা এই মানুষটির হাত থেকে পরিত্রাণ পেয়েছো।" [3] [4]

এ দুই ব্যক্তি যাত্রা করে ও আল্লাহর নবীর কাছে গিয়ে উপস্থিত হয়। বাদাওয়াহ তাঁকে সম্বোধন করে, বলে: "সম্রাটের সম্রাট ও নৃপতির নৃপতি কিসরা চিঠি মারফত রাজা বাধান-কে এই আদেশ করেছেন যে, তিনি যেন তোমাকে তার কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য তার কোনো লোককে পাঠিয়ে দেন। বাধান আমাকে তোমার কাছে পাঠিয়েছেন, যাতে তুমি আমার সঙ্গে যেতে পারো। যদি তুমি তাই করো, তিনি তোমার সপক্ষে নৃপতির নৃপতি কিসরার কাছে লিখবেন ও তোমাকে তার কাছ থেকে রক্ষা করবেন। যদি তুমি তা অগ্রাহ্য করো, তুমি জানো যে, তিনি কে!  তিনি তোমাকে ধ্বংস করবেন, তোমার লোকদের ধ্বংস করবেন ও তোমার এলাকাগুলো ছারখার করে দেবেন।"

দ্বীনবানের দীন বাণী - ৫৮

মডারেট মুছলিম বা ইছলামের অন্য কোনও ইজ্জতরক্ষক "ইহা ছহীহ ইছলাম নহে" জাতীয় বাণী বর্ষণের আগেই একটি হাদিস জেনে নিন, যাতে ইছলামের নবী বলেছে, "আমি সন্ত্রাসের মাধ্যমে বিজয়ী হয়েছি।" (বুখারি ৫২:২২০)

ইসলামে যা প্রধান

লিখেছেন নরসুন্দর মানুষ

পাঁচ-পাঁচবার নামাজ পড়ি,
তিরিশটা দিন রোজা,
তারপরেও কমছে না তো
আমার পাপের বোঝা!

প্রতি বছর দিচ্ছি জাকাত,
দিচ্ছি বড় দান,
তবুও কেন পাই না অামি
বেহেস্তী সুঘ্রাণ!

তিরিশ পারা কোরান পড়ি
বুঝি বা না বুঝি
বুখারী অার মুসলিমে তাই
সঠিক রাস্তা খুঁজি!

উমরা করি, হজ্জও করি
মক্কা-মদিনা গিয়া,
হালাল বিবি রাখছি ঘরে
বোরখা-হিজাব দিয়া!

মিথ্যা কথা কই না আমি
হালাল কামাই খাই,
তবুও কেন বেহেস্ত যাবার
নিশ্চয়তা নাই!

তবে যদি...

সকল কিছু ফালায় দিয়া
জিহাদ-পথে যাই,
তবেই নাকি হুর-গেলমান
ডিরেক্ট বুকে পাই!

নবীর হাদীস স্পষ্ট বলে,
হও রে আগুয়ান -
তলোয়ারের তলেই অাছে
বেহেস্তী আসমান!

নবী আমার সোনার খনি
তার কথাটাই খাঁটি,
নামাজ পড়ো, যুদ্ধ করো
হও রে পরিপাটি!

যদ্দিন না খোদার শাসন
কায়েম নাহি হয়,
হাতে রাখো অস্ত্র, বুকে -
জিহাদী হৃদয়!

তেল বলো আর সোনাই বলো
অাসল সেটা নয়,
ইসলামেতে জিহাদ প্রধান
সত্য পরিচয়!

মডারেট সুবচন

২৫ মার্চ, ২০১৭

কুদরতিক্রিয়া - ১৩

লিখেছেন গরিব অল্ফ সিক্কিত মাদেসার হুজুর কুদরত আলি

৩১.
কম্ফিটার এর উফরে ডিফ্লমা কইত্তে যাই জীবন ডা শ্যাষ। ইহুদি নাসারা রা যে কেমতে এত জটিল কম্ফিটার বানাইল, বুজি না। এই ডিফ্লমা ফরিক্কার কারনে আজিয়া সুক্কুরবারের জুম্মার নামায ডা ফইয্যন্ত ফইত্তে ফারি নাই। মেহফিলে সুময় দেওয়া ত দুরের কতা, ঠিক মত বাত কাওনের অ টাইম নাই। টাট্টিকানায় গিয়া অবসর ফাইলে পেচবুকে একটু ডুকি আরকি। হে আল্লা, তুমি আরে উডাই নেও, আমি নাস্তেক দের সাতে মুকাবিলা কইত্তে যাই কম্ফিটার সিকতে সিলাম। আর এই ডিফ্লমার খারনে আমি নামাযে ঠিকমত সুময় দিতি ফারি না। সব দুস অই ইহুদি নাসারা নাস্তেক দের।

৩২.
আমরা করতি আসি জিহাদ, আর হালার সরকারে কয় জংগিবাদ।

৩৩.
আজিয়া সকালে জাবেদ আলি সাসার বস্তিতে গিয়া দেকি, সাসারে তার বড় বউ ঝারু দিয়া পিডাইতেছে। আর সাসায় বাচনের লাই তার ছুডু বউ এর কোলে উডি বই রইসে। তাবিজ বেচনের টেকা দিয়া হেতি কিসু ফান বিরি কাইসিল আর ছুডু বউ এর লাগি এক্কান লিপিসটিক কিনি আইনসিল। আর তাতেই বড় বিবি খেপি ঝারু দি পিডাইছে। সারাদিন তাবিজ বেচি মুডে আসি টেকা সাসায় তার বড় বউ এর আতে তুলি দেয়। আর বাকি টেকা দি না জানি কি কি করাসেন, আল্লাই তা বালা জানেন। 

জাবেদ সাসার বড় বউ রে দেকলি ফরে আমার বাংলা সিনেমার বেডি বিলেন রসুন জামিল মেডামের কতা মুনে ফরি যায়। দুইজনে এক্কেরে সেইম টু সেইম। সাসারে কত বুজাই, আজেবাজে টেকা করচ করন চাড়ো। সংসার যকন বড় করস, তকন সব বিবিরে সুমান চুকে দেক। কিন্তু সাসায় কতা সুনে না। ছুডু বিবিরে লুকাইয়া জিলাপি কিনি কাওয়ায়। মাইজ্জা ডা রে এইডা ওইটা কিনি দেয়, আরও কত কি বইলব! নিজের দুসে এই বুড়া বয়সে ঝারুর পিডা কাইলে কার কি করার আচে, কন?

ইছলামী জঙ্গিবাদ ও ইউরোপীয় সুশীলতা

(পূর্ণাকারে দেখতে ছবির ওপরে ক্লিক করতে হবে)

জিহাদের বাস্তবতা

লিখেছেন সাঈদুর রহমান

(লেখাটি লিখেছিলাম ২০১৪ সালের ২৭ শে সেপ্টেম্বর। জিহাদ নিয়ে বুখারী হাদিস থেকে অনেকটা বিশ্লেষণধর্মী এই লেখাটি ছিল মডারেটদের উদ্দেশ্যে।)

কেন জানি মনে হচ্ছে, আইসিসকে অনুসরণ করে আরো কয়েকটি জিহাদী দল ইসলামিক খিলাফত প্রতিষ্ঠা করার জন্য তৎপর হয়ে যেতে পারে। বাংলাদেশও এটার বাহিরে নয়।

জিহাদ নিয়ে কার কী ধারণা, জানা নেই। সবার কাছে হয়তো নিজ নিজ ব্যাখ্যা আছে, যা জিজ্ঞাসা করলে অবশ্যই পাওয়া যাবে। কেউ হয়তো বলবেন, বাবা-মায়ের সেবা করা এক ধরনের জিহাদ। আবার কেউ কেউ বলবেন, নিজেকে শয়তানের কাছ থেকে বাঁচিয়ে রাখাও জিহাদ। তবে হাদিস-গ্রন্থগুলো পড়লে চিত্রটা অন্যরকম লাগে। বুখারী শরীফের জিহাদ অধ্যায় থেকে কয়েকটা হাদিস বলি। হাদিসগুলো মনে রাখবেন। মানুষ কেন জিহাদে যেতে চায়, বুঝে যাবেন। এবং নিজে অবশ্যই হাদিস শরীফ খুলে পড়ে নেবেন।

১. জান্নাত হল তলোয়ারের ছায়ার নিচে। (বুখারি, খণ্ড ৪, বই ৫২, হাদিস ৭৩)।
২. আল্লাহ পাক দুই ধরনের মানুষকে হাসিমুখে বরণ করেন। যারা জিহাদে শহীদ হয় এবং যারা জিহাদে গিয়ে হত্যা করে। (বুখারি, খণ্ড ৪, বই ৫২, হাদিস ৮০)।
৩. একজন জিহাদী সেই ব্যক্তির সমান যিনি রোযা রাখেন এবং ইবাদত করেন। (বুখারি, খণ্ড ৪, বই ৫২, হাদিস ৪৬)।
৪. জিহাদে দুপুর এবং বিকেল কাটানো দুনিয়া এবং দুনিয়ার ভেতর যে কোনো কাজের থেকেও উত্তম। (বুখারি, খণ্ড, ৪, বই ৫২, হাদিস ৫০)।

কল্পনা করুন, এই কয়েকটা হাদিস আপনার সন্তানকে মসজিদ মাদ্রাসায় হুজুর পড়াচ্ছেন। তিনি মুখে সরাসরি বলছেন না, অথচ ওদেরকে মনে মনে জিহাদ করার জন্য উদ্বুদ্ধ করছেন। কেউ হয়তো বলবেন এগুলো জিহাদ নয়, ব্রেইনওয়াশ। আপনাকে বলি, বুখারী শরীফ হাতে নেন। জিহাদ অধ্যায় পড়া শুরু করেন। তারপর সিদ্ধান্ত নিন, কোনটা জিহাদ আর কোনটা নয়। এই অধ্যায়ের ২৪৮ টা হাদিসের মধ্যে ৯৫ শতাংশ হাদিসই শুধুমাত্র যুদ্ধবিগ্রহ, সহিংসতা ও সন্ত্রাস নিয়ে।

এই অধ্যায়ের দুটো অ-সহিংস এবং শান্তিপূর্ণ হাদিস বলি।

৫. ...হে আল্লাহর রাসুল, কোন কোন কাজ আল্লাহর কাছে সর্বশ্রেষ্ঠ। উনি বলেন .. ১. সময়মত আল্লাহকে ইবাদত করা। ২. বাবা মায়ের সেবা করা। ৩. জিহাদে অংশ নেয়া। (বুখারি, খণ্ড ৪, বই ৫২, হাদিস ৪১)।
৬. এক ব্যক্তি নবীজীর কাছে এলেন জিহাদে অংশ নেবার জন্য। উনি তাকে ফিরে যেয়ে মা-বাবার কাছে ফিরে সেবা করতে বললেন। (বুখারি, খণ্ড ৪, বই ৫২, হাদিস ২৪৮)।

অনেকের কাছে হয়ত এগুলোই জিহাদ। এমন হলেই হয়তো ভাল হতো। জিহাদী দল জন্ম নিত না। তবে এগুলো জিহাদ নয়। অনেককেই বলতে শুনি, মানুষ বাকি হাদিসগুলোই মানে না, জিহাদ নিয়ে পড়ে থাকে। তাদের বলি, এভাবে দুনিয়া চলে না। জিহাদীরা আপনার আমার মত ভাবে না। তাদের দিন দুনিয়া কোরআন-হাদিসেই সীমাবদ্ধ। আপনি আমি যেভাবে চারদিক ভেবে মুক্তভাবে চিন্তা করতে পারি, তারা সেটা পারবে না। স্কুল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় পাশ করে ভাল চাকরি এবং সাধারণ জীবন যাপনের চিন্তা আপনার আমার মনে থাকলেও তাদের নেই। আমাদের মত করে ভাবতে পারলে তো আর জিহাদই করত না, ডিগ্রি নিয়ে চাকরির চিন্তা করতো। তাদেরকে কোরআন-হাদিস নিয়েই থাকতে হয়। এগুলোই তাদের জীবন। তাদের চিন্তাচেতনা এগুলো নিয়েই। তাদের মতে বাহিরের জগৎ নষ্ট এবং ইসলাম থেকে অনেক বাহিরে। 

আপনাকেই কয়েকটা প্রশ্ন করি। আপনার কাছেই কোন জগৎ বেশি গুরুত্বপূর্ণ? ইহজগৎ নাকি পরজগৎ? পরজগৎ বলবেন নিশ্চয়ই। জিহাদীদের কাছেও তেমনটাই। পরজগতে আপনাদের সাথে কে থাকবে? আপনার বাবা-মা? ভাই-বোন? স্ত্রী-সন্তান?কেউ না নিশ্চয়ই। সবাইকে তাদের কৃতকর্মের ফলাফলই ভুগতে হবে, তাই না? কেউ এসে তো আপনার গডকে হাতজোড় করে বলতে পারবে না, আমার ছেলেকে মাফ করে দিন। আমার স্বামীকে মাফ করে দিন। নাকি বলবে? যারা জিহাদে নামতে চান, তাদের মনে এমন কথাগুলোই ঘুরপাক খায়। নিজের হিসেব যখন নিজেকেই দিতে হবে, সুতরাং এমন কিছু করতে হবে, যাতে জাহান্নাম এড়ানো যায় এবং জান্নাত পাওয়া যায়। অতএব ৫ নাম্বার হাদিসে উল্লেখিত তিন নাম্বার কাজটিই প্রথম দুটোকে ওভারটেক করে।

প্রথম দুটো কাজ না এড়িয়ে কীভাবে অনেকে এই হাদিস ব্যবহার করে কিভাবে জিহাদে যেতে পারে, এবার সেটা বলি। যাদের বাবা-মা নেই, তাদের জন্য খুব সোজা। অনেকে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়েই জিহাদে যায়। আবার অনেক বাবা-মা-ই তাদের সন্তানকে পুণ্য লাভের আশায় জিহাদে যেতে বাধা দেন না। ছেলে তো আর মেয়েবাজি বা জুয়া খেলতে যাচ্ছে না! আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠা করতেই যাচ্ছে। আবার অনেকে বাবা-মাকে না বলেই চলে যায়। কারণ তারা বোঝে, তাদের বাবা-মা বাধা দেবেন ছেলে হারানোর ভয়ে। কিন্তু কেউ তো আর আল্লাহর ঊর্ধ্বে নয়। বাবা-মা বাধা দিচ্ছেন ইমোশনাল হয়ে। কিন্তু এতে তো আর জান্নাত মিলবে না! জিহাদে গিয়ে মরলে বা মারলেই জান্নাত (১ নাম্বার )।

নিজেকেই প্রশ্ন করুন। আপনার মনের ভেতরে কি নেই, সমাজে ইসলামিক আইন প্রতিষ্ঠা হোক? নিশ্চই আছে। আবার বলবেন, তবে কাউকে মেরে নয়। জনাব, আপনার ইসলামিক আইন প্রতিষ্ঠা হোক, এমনটা চায় মাত্র ১৫০ কোটি মানুষ। আর বাকি ৫৫০ কোটি মানুষ মোটেও এমন চায় না। তারা কেউ হিন্দু, কেউ খ্রিষ্টান, কেউ বৌদ্ধ, আর কেউ নাস্তিক। তারা সবাই চায় তাদের ধর্ম বা মতের ওপর আইন প্রতিষ্ঠা হোক। সবার কাছে সবার ধর্মই সত্য, প্রকৃত গড থেকে আগত। আপনি তাদের কী বলে ডাকেন? কাফির! মুর্তাদ! বিধর্মী! কী, বলেন না? ওরা না থাকলেও তো চলবে, তাই না? আল্লাহর আদেশ মতই রাষ্ট্র চলা চাই। কেউ বাধা দিলে প্রথমে প্রথমে প্রতিবাদ। না মানলে ব্যবস্থা তো আছেই। আপনি হয়তো পিস লাভিং অন্য ব্যবস্থাটা এড়াতে চেষ্টা করবেন। কিন্তু যারা মুখের আগে হাত চালায়, একরোখা, তাদের মাথায় থাকবে ২ নাম্বার হাদিসটা। আর ওদের মারার জন্য নিজে মরে গেলেই কি? জান্নাত তো নিশ্চিত। (হাদিস নাম্বার ৩)।

ওপরের কারণগুলো বুঝিয়ে তারা পিস লাভিং আপনাকেও ব্রেইনওয়াশ করতে পারে। মজার বিষয়, আপনি তাদের ভুলও বলতে পারবেন না। সবকিছুই কোরআন-হাদিস মোতাবেক। তারা যদি আপনাকে প্রশ্ন করে, আপনি কি চান না ইসলামিক খিলাফত প্রতিষ্ঠা হোক? ইসলাম শুধু মানলেই হলো না, খিলাফত প্রতিষ্ঠাও করতে হবে! স্বয়ং সৃষ্টিকর্তার আইন মানতে হবে। আপনি কি কোনো প্রশ্নের উত্তরে "না" বলবেন? বলবেন না। কারণ "না" বললে আপনাকে কাফির মুর্তাদদের দলেই গণ্য করা হবে। এমনকি আপনার প্রাণও যেতে পারে। আপনার নরম মনকে এভাবেই বিষিয়ে তোলা হতে পারে। আপনি হয়তো আপনার চিন্তাচেতনা দিয়ে হযতো তবু এড়িযে যেতে পারবেন, কিন্তু বাচ্চারা? ১৮-২০ বছরের কিশোর-যুবকরা? যারা দিনরাত মাদ্রাসায় পড়ে থাকে, তারা?

লোকে বলে, প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ ভাল। কে, কোন সময় কোন পথে চলে যায়, কেউ জানে না? না হোক আপনার সন্তান, ভাই কিংবা পরিচিত, কেউ জিহাদে যাওয়ার জন্য আপনাকে বললো বা আপনাকে যেতেও দাওয়াত দিলো ওপরের হাদিসগুলা দিয়ে। আপনি কী করবেন, ভেবে দেখেছেন? আপনি জানেন, বাংলাদেশ থেকেও অনেক ভাই-বোন আইসিসকে সমর্থন দিচ্ছে। হয়তো আপনার ছোট ভাই কিংবা বন্ধুও রয়েছে এই তালিকায়। ওদের সাথে জিহাদ নিয়ে খোলাখুলি কথা বলুন। মানবধর্ম শেখান। শুধু মুসলিম-মুসলিম নয়, হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খ্রিষ্টান সবাই যে একই পরিবারের ও পরষ্পর ভাই-ভাই, সেটা শেখান। একত্রে বসবাসে উদ্বুদ্ধ করুন। যখনই দেখবেন, কেউ এসে "এক মুসলমান আরেক মুসলমানের ভাই" বলে অন্য ধর্মের মানুষ থেকে আপনাকে আলাদা করে দিচ্ছে এবং জিহাদে যাওয়ার দাওয়াত দিচ্ছে, বুঝে নেবেন এটা ধর্ম নয়, রাজনীতির খেলা।

আরেকটা জিনিসের পার্থক্য জেনে নিন। ধর্ম পালন এবং ধর্ম প্রতিষ্ঠা - দুটো দুই জিনিস। ধর্ম প্রতিষ্ঠার কাজ ছিল আপনার নবী-রাসুলদের। আপনার দায়িত্ব এগুলো পালন করা। যখনই সেটা প্রতিষ্ঠা করতে যাবেন, তখনই রক্তারক্তি শুরু হবে। স্বয়ং আপনার নবীও এটা এড়াতে পারেননি। সর্বশেষ অনুরোধ, আপনার নেতা যে-ই হোন না কেন, তার কোনো আদেশ মানার আগে নিজের জ্ঞান, চিন্তাচেতনা ও বিবেক ব্যবহার করবেন। এগুলোকে কারো হাতে তুলে দেবেন না।

মোমিনাকে জঙ্গি বানানোর পদ্ধতি


গত কয়েক মাসে বাংলাদেশে নারী জঙ্গিদের তৎপরতার কয়েকটি সংবাদ:
➤ জেএমবির চার নারী জঙ্গি গ্রেফতার ➤ শরীরে বোমা বেঁধে নিয়েছিলেন সীতাকুন্ডে আটক নারী জঙ্গি ➤ ওরা দুর্ধর্ষ নারী জঙ্গি ➤ আজিমপুরের তিন নারী জঙ্গি রিমান্ডে ➤ এবার নারী জঙ্গি! ➤ এবার আত্মঘাতী নারী জঙ্গি ➤ নারী জঙ্গি বলল, 'তাড়াতাড়ি সোয়াত নিয়ে আসো'

২৪ মার্চ, ২০১৭

নিমো হুজুরের খুতবা - ৩৫

লিখেছেন নীল নিমো

গত শুক্রবার বয়ান দিচ্ছিলাম ঠিক এইভাবে:
- জাহান্নামি নাস্তিকরা মনে করে, আল্লাহ নাই, সবকিছু নাকি শূন্য থেকে আপনা-আপনি সৃষ্টি হয়েছে। নাউযুবিল্লাহ। কতটা মাথা খারাপ হলে মানুষ এই কথা বিশ্বাস করতে পারে? নাস্তিকদের আসলেই মাথা খারাপ।

পাশে একজন জাহান্নামি নাস্তিক বসা ছিল, সে উত্তর দিল:
- হুজুর, আপনি কি তাহলে শূন্যতে বিশ্বাস করেন না?

আমি উত্তর দিলাম:
- শূন্য থেকে কোনোকিছু সৃষ্টি হতে পারে না। তাই নাস্তিকদের শূন্য একটি অর্থহীন ধারণা। শূন্য বলে কিছু নাই। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বত্র বিরজমান। সৃষ্টির পূর্বে তিনি ছিলেন, এখনো আছেন।

তখন নাস্তিক হাসতে হাসতে বলিল:
- হুজুর, বর্তমান গণিত শাস্ত্র শূন্যের উপর দাড়িয়ে আছে। ০ থেকে ৯ - এই ১০টি সংখ্যার ভিতরে শূন্য আছে। আপনি যে কোনো গণনা পদ্ধতিই নিন না কেন, বাইনারি, অক্টাল, হেক্সাডেসিম্যাল সবগুলোতেই শূন্য আছে। এই শূন্য না থাকলে কোনোকিছু গণনা করা যেত না, সংখ্যা লেখা যেত না। তার মানে, শূন্য না থাকলে কম্পিউটারও চলত না। এই মহাবিশ্বের সব গণনা শুন্য থেকে শুরু হয়। এই যখন অবস্থা, তাহলে শূন্য ছাড়া কীভাবে সৃষ্টতত্ত্বের হিসাব বা গণনা শুরু করবেন? আস্তিকদের উচিত, আজ থেকে শূন্য সংখ্যাটা ব্যবহার করা বাদ দেওয়া। কারণ আস্তিকরা মনে করে, শূন্য বলে কিছু নাই। শূন্যের জায়গাতে সবসময় আল্লাহপাক ঘাপটি মেরে বসে থাকে।

নাস্তিকের কথা শুনে একটু ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলাম। আমি বলিলাম:
- আমার প্রশ্রাব ধরেছে, আমি একটু টয়লেট গিয়ে পেটের মূত্র ব্লাডারটা খালি করে আসি।

নাস্তিক হাসতে হাসতে বলিল:
- হুজুর, আপনারা আস্তিকরা তো শূন্যতে বিশ্বাস করে না। আপনারা বিশ্বাস করেন, সব জায়গাতে আল্লাহ আছে। পেটের মূত্রথলি কীভাবে খালি বা শূন্য করবেন? মূত্রথলিতে তো আল্লাহ এসে বসে আছে।

দুই কানে আঙুল দিয়ে পায়খানার দোয়া পড়তে পড়তে আমি দ্রুতপায়ে টয়লেটের দিকে এগিয়ে গেলাম:
- আল্লাহুম্মা ইন্নি আওযুবিকা মিনাল খুবুসি ওয়াল খবায়িস।

পল্টিবাজ কোরান - ০৭

হাদীসের প্রথম পাঠ - ০২

লিখেছেন নরসুন্দর মানুষ


মানুষ মুহাম্মদ - নবী মুহাম্মদ

আবু কাশেম মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লা ইবনে আব্দুল মুত্তালিব! ৬১০ সালের শুরুতে মক্কায় এ নামেই পরিচিত ছিলেন মুহাম্মদ, এখন যাকে আমরা ‘নবী মুহাম্মদ’ নামে চিনি। ৬১০ সালের আগষ্ট মাস থেকে এই আজকের দিন পর্যন্ত ‘মানুষ মুহাম্মদ’-এর ওপর নবুয়্যতের যে-পোশাক চাপানো হয়েছে, তারই ফলশ্রুতিতে পৃথিবী আজ দুটি ভাগে বিভক্ত; একদলে আছে মুহাম্মদের অনুসারী মুসলিম, বাকি সমগ্র পৃথিবীর মানুষের পরিচয় অবিশ্বাসী-কাফের নামে!

যেহেতু এই সিরিজটিতে আমরা মানুষ মুহাম্মদ ও নবী মুহাম্মদের ভালো-মন্দের একটি রূপরেখা তুলে ধরবো, তাই প্রথম অধ্যায়ে সব বিষয়ের ছোট-খাট আভাস দেবো। চলুন, প্রথমেই জেনে নিই কেমন ছিলেন এই মানুষটি, চেহারা থেকে শুরু করে মন-মননে, চাল-চলনে।
বুখারী-৭-৭২-৭৯১: মুহাম্মদ-এর চুল মধ্যম ধরনের ছিলো, না একেবারে সোজা লম্বা, না অতি কোঁকড়ানো; আর তা ছিলো দু'কান ও দু'কাঁধের মধ্যবর্তী স্থান পর্যন্ত।
বুখারী-৭-৭২-৭৯৩: মুহাম্মদ-এর মাথা ও দু'পা ছিলো মাংসবহুল। তাঁর আগে ও তাঁর পরে আমি তাঁর মত অপর কাউকে দেখিনি; তাঁর হাতের তালু ছিলো চওড়া।
বুখারী-৪-৫৬-৭৫১: মুহাম্মদ মাঝারি গড়নের ছিলেন। তাঁর উভয় কাঁধের মধ্যবর্তী স্থান প্রশস্ত ছিলো। তাঁর মাথার চুল দুই কানের লতি পর্যন্ত প্রসারিত ছিল। আমি তাঁকে লাল ডোরাকাটা জোড় চাদর পরিহিত অবস্থায় দেখেছি। তাঁর চেয়ে অধিক সুন্দর কাউকে আমি কখনো দেখিনি।
মুহাম্মদ ছিলেন উজ্জ্বল সাদা (ফর্সা) রংয়ের মানুষ, এতটাই সাদা যে, শরীরের রংয়ের জন্য আলাদা করে চেনা যেতো তাকে!
বুখারী-৪-৫৬-৭৬৫: মুহাম্মদ যখন সিজদা করতেন, তখন উভয় বাহুকে শরীর থেকে এমনভাবে পৃথক করে রাখতেন যে, আমরা তার বগল দেখতে পেতাম। অন্য রেওয়াতে আছে, বগলের সাদা শুভ্রতা দেখতে পেতাম।
বুখারী-৯-৯০-৩৪২: খন্দকের যুদ্ধে রাসুলূল্লাহ আমাদের সাথে মাটি উঠাচ্ছিলেন। আমি তাঁকে দেখতে পেলাম, তাঁর পেট মুবারকের সাদা শুভ্রতাকে মাটি আচ্ছাদিত করে ফেলেছে।
বুখারী-১-৩-৬০: একবার আমরা রাসুলুল্লাহ্‌-এর সঙ্গে মসজিদে বসা ছিলাম। তখন এক ব্যক্তি সওয়ার অবস্থায় ঢুকলো। মসজিদে (প্রাঙ্গণে) সে তার উটটি বসিয়ে বেঁধে রাখলো। এরপর সাহাবীদের লক্ষ্য করে বললো: তোমাদের মধ্যে রাসুলুল্লাহ্‌ কে? রাসুলুল্লাহ্‌ তখন তার সামনেই হেলান দিয়ে বসা ছিলেন। আমরা বললাম: এই হেলান দিয়ে বসা ফর্সা রঙের ব্যক্তিই হলেন তিনি।
সাধারণ স্বাভবিক মানুষের মতই মুহাম্মদ কথা না শুনলে রেগে যেতেন, স্বাভাবিকভাবেই নিজের রাগ-ক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ করতে পারতেন না; একজন নেতা হিসেবে অনুসারীদের প্রতি মায়া-অনুশাসন ছিলো প্রাকৃতিকভাবেই।
বুখারী-১-২-১৯: মুহাম্মদ সাহাবীদের যখন কোনো আমলের নির্দেশ দিতেন, তখন তাঁরা যতটুকু সমর্থ্য রাখতেন, ততটুকুই নির্দেশ দিতেন। একবার তাঁরা বললেন: ইয়া রাসুলুল্লাহ্! আমরা তো আপনার মত নই। আল্লাহ্ তাআলা আপনার পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী সকল ত্রুটি মাফ করে দিয়েছেন। একথা শুনে তিনি রাগ করলেন, এমনকি তাঁর চেহারা মুবারকে রাগের চিহ্ন প্রকাশ পাচ্ছিলো। এরপর তিনি বললেন: তোমাদের চাইতে আল্লাহকে আমিই বেশি ভয় করি ও বেশি জানি।
বুখারী-১-৩-৮৭: একবার এক ব্যক্তি বললো: ‘ইয়া রাসুলুল্লাহ্! আমি সালাতে (জামাতে) শামিল হতে পারি না; কারণ অমুক ব্যক্তি আমাদের নিয়ে খুব লম্বা করে সালাত আদায় করেন। (আবু মাসউদ বলেন) আমি রাসুলুল্লাহ্‌-কে কোনো ওয়াজের মজলিসে সেদিনের তুলনায় বেশি রাগান্বিত হতে দেখিনি। (রাগত স্বরে) তিনি বললেন: হে লোক সকল! তোমরা মানুষের মধ্যে বিরক্তির সৃষ্টি করো। অতএব: যে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করবে, সে যেন সংক্ষেপ করে; কারণ তাদের মধ্যে রোগী, দুর্বল ও কর্মব্যস্ত লোক থাকে।
আয়েশা মুহাম্মদের সবচেয়ে প্রিয় স্ত্রীদের একজন ছিলেন; ৫১ বছর বয়সে ৬ বছর বয়সী আয়েশাকে বিয়ে করেন মুহাম্মদ। এই আয়েশা পর্যন্ত ফেরেশতা জিব্রাইলকে দেখার সুযোগ পাননি; অন্যদের তো প্রশ্নই ওঠে না। তার কথা তিনি নিজেই বলেছেন, এসব থেকে আমরা মুহাম্মদের যৌনরুচি আর শিশুকাম-প্রীতির আভাস পেতেই পারি।

হিজাবী হুরি যতো - ৯

২২ মার্চ, ২০১৭

সহি ইছলাম প্রসারণ প্রকল্প

লিখেছেন বেনামী সংস্কারক

সুবানাল্যা, মাশাল্যা... ইছলামই একমাত্র সত্য ধর্ম, শান্তির ধর্ম, আর সেই জন্যই ইছলামের সায়াতলে নাসতেক কাফেররা দিনের পর দিন আশ্রয় গ্রহণ করছে। একদিন পুরো বিশ্ব এভাবেই ইছলামবাজ দিয়ে ভরে যাবে।

এখন দেখা যাক, ইছলাম ধর্মের অনুসারীর সংখ্যা পৃথিবীতে সবচাইতে বেশি যেভাবে:

ধাপ ১:
জোর করে অন্যদের মুসলম্যান বানানো।

যেমন, জেলখানার কলিগ থুক্কু কয়েদিকে জোর করে মুছলিম-হবি-নয়তো-গর্দান-যাবে বলিয়া হুমকি। এছাড়া নেটে হাজার হাজার খবর পাবেন বিশ্বস্ত সূত্রসহ, যেখানে দেখবেন, লোভ দেখিয়ে বা জোর করে ধর্মান্তরিত করা হয়

ধাপ ২:
এর পরে জনসংখ্যা ডেসটিনির হাতের চাইতেও দ্রুতগতিতে বৃদ্ধিকরণ।

যেমন, এবার ইউরোপে প্রভাব বিস্তারের লক্ষে পাঁচটি করে বাচ্চা নিতে বলল এর-দো-আন। জানেন তো, মুছলিমদের সংখ্যাবৃদ্ধির জন্য পালে-পালে বাচ্চা বিয়ানোর জন্য উৎসাহ দেয়া হয় ইছলামে। আর তাছাড়া, ইছলামে জন্মনিয়ন্ত্রণ হারাম তো বটেই।

ধাপ ৩:
সারা পৃথিবীতে শান্তির নজির ছড়িয়ে দিতে গিয়ে শহিদ নতুবা শ্রীঘর (রেফারেন্স চাহিয়া লজ্জা দিবেন না)


বারবার ধাপ ১-৩ এর অনুসরণ।

নিশ্চয়ই মুছলম্যানরা সংখ্যাবৃদ্ধি নিয়ে গর্ব করার অধিকার রাখে।

ক্রুশের বদলে