২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০১৫

অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ড: ফরজ যে-কাজটি ক্কাযা হয়ে ছিলো

শান্তির ধর্মের আসমানী কিতাব কোরান থেকে কয়েকটি শান্তিকামী আয়াত:
আর তাদেরকে হত্যা কর যেখানে পাও সেখানেই
(২:১৯১)
খুব শীঘ্রই আমি কাফেরদের মনে ভীতির সঞ্চার করবো
(৩:১৫১)
যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সাথে সংগ্রাম করে এবং দেশে হাঙ্গামা সৃষ্টি করতে সচেষ্ট হয়, তাদের শাস্তি হচ্ছে এই যে, তাদেরকে হত্যা করা হবে অথবা শূলীতে চড়ানো হবে অথবা তাদের হস্তপদসমূহ বিপরীত দিক থেকে কেটে দেয়া হবে অথবা দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে। এটি হল তাদের জন্য পার্থিব লাঞ্ছনা আর পরকালে তাদের জন্যে রয়েছে কঠোর শাস্তি।
(৫:৩৩)
যুদ্ধ কর ওদের সাথে, আল্লাহ তোমাদের হস্তে তাদের শাস্তি দেবেন। তাদের লাঞ্ছিত করবেন, তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের জয়ী করবেন এবং মুসলমানদের অন্তরসমূহ শান্ত করবেন।
(৯:১৪)
তোমরা যুদ্ধ কর আহলে-কিতাবের ঐ লোকদের সাথে, যারা আল্লাহ ও রোজ হাশরে ঈমান রাখে না, আল্লাহ ও তাঁর রসূল যা হারাম করে দিয়েছেন তা হারাম করে না এবং গ্রহণ করে না সত্য ধর্ম।
(৯:২৯)
হে নবী, কাফেরদের সাথে যুদ্ধ (ইংরেজি অনুবাদে - strive hard) করুন এবং মুনাফেকদের সাথে তাদের সাথে কঠোরতা অবলম্বন করুন।
(৯:৭৩)
হে ঈমানদারগণ, তোমাদের নিকটবর্তী কাফেরদের সাথে যুদ্ধ চালিয়ে যাও এবং তারা তোমাদের মধ্যে কঠোরতা অনুভব করুক আর জেনে রাখ, আল্লাহ মুত্তাকীদের সাথে রয়েছেন।
(৯:১২৩)
আমি কাফেরদের মনে ভীতির সঞ্চার করে দেব। কাজেই গর্দানের উপর আঘাত হান এবং তাদেরকে কাট জোড়ায় জোড়ায়।(৮:১২)
এবার দেখা যাক, কয়েকটি হাদিসে ইছলামের নবী কী বলেছে:
আমি সন্ত্রাসের মাধ্যমে বিজয়ী হয়েছি।(বুখারি ৫২:২২০)
তরবারির ছায়ার নিচে বেহেশত।
(বুখারি ৫২:৭৩)
অবিশ্বাসীকে হত্যা করা আমাদের জন্য একেবারেই ছোট্ট একটি ব্যাপার।
(তাবারি ৯:৬৯)
এ ছাড়া, আল্যা-রসুলকে স্বীকার না করা পর্যন্ত অবিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাবার নির্দেশ দেয়া আছে বুখারী ৮:৩৮৭-এ ও মুসলিম ১:৩৩-এ।

ইবন ইসহাক/হিশাম ৯৯২-এ পাওয়া যাচ্ছে নবীজির নির্দেশনা:
যারা আল্লাহকে অবিশ্বাস করে, তাদেরকে হত্যা করো।
আসুন, এখন ইছলামের ইতিহাস থেকে জেনে নেয়া যাক কয়েকটি ঘটনা:
১. নবী ও তার অনুসারীদের আগ্রাসী নৃশংস সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মৌখিক প্রতিবাদ ও সমালোচনা করেছিলেন বলে ১২০ বছর বয়সী অতি বৃদ্ধ ইহুদী কবি আবু আফাককে নবীর আদেশে হত্যা করে তার অনুসারীরা।
২. আবু আফাক-কে হত্যার পর আসমা-বিনতে মারওয়ান তাঁর বিদ্বেষ প্রকাশ করলে নবীর নির্দেশে রাতের অন্ধকারে ঘুমন্ত নিরস্ত্র এই জননীকে নৃশংসভাবে খুন করে নবীজির এক চ্যালা। ঘাতক যখন এই জননীকে খুন করে, তখন এই হতভাগা মা তাঁর এক সন্তানকে বুকের দুধ পান করাচ্ছিলেন। এই হত্যাকাণ্ডের পর প্রত্যুষে খুনী তার প্রিয় নবী মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহর সাথে একত্রে সকালের নামাজ (ফজর) আদায় করে।
৩. কাব বিন আল-আশরাফ নামের এক ব্যক্তি আল্লাহর নবীর কাজের নিন্দা করা শুরু করেন ও বদর যুদ্ধে যাদেরকে খুন করার পর লাশগুলো গর্তে ফেলে দেওয়া হয়েছিল, তাদের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন কবিতা আবৃতির মাধ্যমে। তাঁকেও নির্দয়ভাবে খুন করে নবীর উম্মতেরা
-----------

অতএব বাংলাস্তান হেফাজতী একাডেমী কর্তৃক আয়োজিত কিতাব মাহফিলের বাইরে অভিজিৎ রায়কে হত্যা করে একাধারে ফরজ ও সুন্নত কি পালন করা হয়নি? নিশ্চয়ই হয়েছে। সত্যিকারের মুছলিমরা তা অবলীলায় স্বীকার করে নিয়েছে।

আর একদল মোmean-minded ও মডারেট মুছলিম মনে মনে তা স্বীকার করলেও মুখে বলেছে, বলছে ও বলবে ভিন্ন কথা:
ইহা ছহীহ ইছলাম নহে। অভিজিৎ রায়ের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ওপরের কোনও আয়াত, হাদিস, বাণী বা ঘটনার কোনও সম্পৃক্ততা নেই। এবং হত্যাকারীরাও এসবের দ্বারা কোনওভাবেই প্রভাবিত বা অনুপ্রাণিত নহে।
ইছলামী ইতরামিগুলোকে ভিন্ন মোড়কে উপস্থাপন করে ইছলামের পিঠ বাঁচানোর ইজারা নেয়া একদল বিপ্লববাজ অবশ্য পরের কথাগুলো বলতে ব্যগ্র হয়ে আছে; এখনও বলেনি, তবে সুযোগ পেলে নিশ্চয়ই বলতো বা বলবে:
এই হত্যাকাণ্ড বস্তুত ইঙ্গ-মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্ত। এটা মূলত সাম্রাজ্যবাদী কর্পোরেট বেনিয়াদের ষড়যন্ত্র, পুঁজিবাদী সমাজব্যবস্থার অনিবার্য ফল, ঔপনিবেশিকতার জের, সামাজিক বৈষম্য ও শ্রেণী সংগ্রামের হ্যানোত্যানো...
লক্ষ্য করা গেছে, প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে অনলাইনে কটু মন্তব্য করলে দক্ষ ও তৎপর গোয়েন্দা বাহিনী তাকে ধরে ফেলে পরদিনই, কিন্তু ইছলামীরা নিজেদের খোমা মোবারক প্রদর্শন করে বছরের পর বছর প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দিয়েও থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে।

ধর্মবাজদের ঘাঁটানোর সাহস আসলে নেই কোনও প্রশাসনেরই। বরং প্রশাসন এদেরই আজ্ঞাবহ।

আমরা কি এই হত্যাকাণ্ডের উপযুক্ত বিচার চাইবো? চেয়ে কী লাভ! মুছলিমদের ধর্মানুভূতিতে আঘাতকারীকে হত্যা করেছে যে ইছলামী বীরেরা, তাদের সঠিক বিচার হবে মদিনা সনদের দেশে? 

হুমায়ুন আজাদ হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়নি দশ বছরেও! থাবা বাবা হত্যাকাণ্ডের বিচারের নামে চলছে নানান টালবাহানা। আর অভিজিৎ রায়? এই হত্যার বিচারের ভবিষ্যৎ হবে আরও শোচনীয়। কারণ ইছলাম-সমালোচনার অপরাধ ছাড়াও তাঁর বিপক্ষে যায় আরও একটি ভয়াবহ তথ্য - তিনি জন্মগতভাবে বহন করতেন হিন্দু-পদবী।

আর সম্ভাব্য বিচার বিষয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা এই যে, নবীর নির্দেশ, ফরজ ও সুন্নত পালনকারী ইছলামী জিহাদিদের উপযুক্ত শাস্তি দিয়ে বিচারকরা নিজেদের পারলৌকিক ইন্দ্রিয়পরায়ণ জীবনযাপনের সম্ভাবনাকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলার মতো নির্বোধ নিশ্চয়ই নন। হুরসঙ্গমসপ্ন তো তাঁদেরও আছে!

-----------

'মুক্তমনা' ব্লগ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অনলাইনে বাংলায় মুক্তবুদ্ধি চর্চার প্রকৃত পথিকৃৎ ছিলেন আপাদমস্তক মানবতাবাদী, যুক্তিমনস্ক ও অত্যন্ত সুলেখক অভিজিৎ রায়। তাঁর কর্মকাণ্ড থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে, তাঁর লেখা বিজ্ঞানমনস্ক ও যুক্তিবাদী অসাধারণ সব রচনা ও বই পড়ে, তাঁর দেখানো পথ অনুসরণ করেই আজ অনলাইনে বাংলায় মুক্তচিন্তার ব্যাপক প্রসার ঘটিয়েছে যুক্তিপথের পথিকেরা। তবে শুরুটা কিন্তু তিনিই করেছিলেন। 

তাঁর এই অপমৃত্যুতে আমরা শোকাহত, স্তম্ভিত, তবে বিচলিত নই। আমরা আরও বেগবান হবো।

২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০১৫

ভাগাভাগি


কুচ্চেন-কুণ্ঠিত কুরান

লিখেছেন Atsuko Ayame

আমি আমার ভাইয়ের পাশে গম্ভীর মুখে দাঁড়িয়ে আছি।

- আমার কথা তোমার বিশ্বাস হচ্ছে না?

- আমারে কি তোর বলদ মনে হয়?

- তোমারে আমার বলদ না, গাভী মনে হয়। সেটা কথা না। কথা হচ্ছে, তুমি কেন আমার কথা বিশ্বাস করতেস না?

পারলে দৃষ্টি দিয়ে আমাকে পুড়িয়ে ভস্ম করে দেয়, সেই ভঙ্গিমায় ভাই আমার দিকে তাকাল।

- তোর মনে হয়, কোরান যে আল্লাহ লিখেছেন, সেটা ১০০% নিশ্চিত নয়?

- সেটাই তুমার মাথায় এতক্ষণ ঢুকানোর চেষ্টা করতেসি।

- থাপড়িয়ে কানাপট্টি লাল কইরা দিমু! যা ভাগ!

- শাট আপ! তোমার কেন মনে হয়, আমার কথা মিথ্যা?

- কারণ কোরান আল্লাহই লিখেছেন!

- তুমি কেম্নে জান?

ভাই প্রকাণ্ড এক দীর্ঘশ্বাস ফেলল।

- আল্লাহ বলসে।

- তুমি বলতে শুনস?

- না।

- তাইলে?

- আমি পড়সি।

- কোথায়?

- কোরানে।

- কোরানে পড়লেই সব কথা সত্যি হয়ে যায়?

- অবশ্যই!

- কেন?

- কারণ আল্লাহ সেটা লিখসেন!

- তুমি লিখতে দেখস?

- না! তবে...

- তাইলে?

- আল্লাহ বলেছেন, তিনি কুরান লিখসেন!

- কোথায়?

- কুরানে।

- আচ্ছা… তিনিই লিখসেন, তার কোনো প্রমাণ আছে?

- তুই কী বলতে চাস!?

- উত্তর দাও আগে।

- কোরানে বলা আছে!

- আচ্ছা… তাইলে কোরান কি তিনি নিজ হাতে মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন?

- না, মহাম্মদ (সঃ) এটা পৌঁছে দিয়েছেন!

- আচ্ছা, মহাম্মদ যে আল্লাহর কাছ থেকেই কুরান পাইসে, এইটা কেউ দেখসে? আল্লাহরে কেউ দেখসে? তার গলা শুনসে?

- না।

- তাইলে? প্রমাণ কী?

হঠাৎ আমার ডানপাশ থেকে কী যেন একটা উড়ে গেল। পরর্বতী ক্ষণেই কানে এল - ঠাস! আর অমনি আমার বাম গালটা চিড়বিড়িয়ে জ্বলে উঠল। আর এর পরে শোনা গেল আরেকটি ঠাস! কিন্তু সেটি আর আমার শোনার সৌভাগ্য হয়নি, কারণ আমিই তখন ‘ঠাস’- অর্থাৎ মাটিতে।

- কোরানকে কোশ্চেন করার কোনো সুযোগ নেই, বুজেছিস, বেজন্মা?


ছহিহ ইছলামি প্লেবয় - ০৭

এই সিরিজের সার্বিক দায়িত্বে আছেন ক্যাটম্যান

ইসলাম অর্থ শান্তি, তাই ইসলাম ধর্মকে শান্তির ধর্ম বলা হয়ে থাকে। ইসলাম ধর্মানুসারীদের জন্য আল্লাহ ও তার রাসূল মুহম্মদ (ছাঃ) দুনিয়া ও আখেরাতে অশেষ শান্তির বন্দোবস্ত করেছেন। অথচ শান্তি খুঁজতে গিয়ে অনেক মুমিন, মুসলমান কুরআন-হাদিস তালাশ না করে ইহুদি-নাসারা কর্তৃক প্রকাশিত প্লেবয় ম্যাগাজিন তালাশ করে থাকেন। তারা ইহুদি-নাসারা কর্তৃক প্রকাশিত প্লেবয় ম্যাগাজিনের পাতায় চোখ বুলিয়ে জান্নাতি মেওয়া ভোগের স্বাদ পেতে চান; কিন্তু ইহুদি-নাসারাদের প্লেবয় ম্যাগাজিন মুসলমানদের জন্য হারাম। কারণ যে-কিতাব বা ম্যাগাজিনে ইসলামি তাহযিব-তমুদ্দুনের লেশমাত্র নেই, তেমন কিতাব বা ম্যাগাজিন মুমিন মুসলমানদের জন্য হালাল হতে পারে না। যেহেতু ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা, সেহেতু ইসলামেই রয়েছে সমস্ত সমস্যার সমাধান। আর তাই মুমিন মুসলমানদের ঈমান রক্ষার্থে ধর্মকারী নিয়ে এল আল-কুরআনের আদর্শভিত্তিক ছহিহ ইসলামি প্লেবয় ম্যাগাজিন। এই ম্যাগাজিনের উদ্দেশ্য মুমিন মুসলমানদের ছহিহ ইসলামি বিনোদন উপহার দেয়া; একই সাথে সেই সব মুমিনা হুরদেরকে পরিচয় করিয়ে দেয়া, যারা জান্নাতে গিয়েও হুরের দায়িত্ব পালন করবেন। 


ছহিহ ইসলামি প্লেবয় ম্যাগাজিনে প্রকাশিত সকল বিষয় সম্পূর্ণরূপে অনৈসলামিক নগ্নতামুক্ত বিধায়, এখানে শুধুই ইসলামি নগ্নতা প্রকাশ পাবে, যা আল-কুরআন দ্বারা স্বীকৃত। 

আল-কুরআনে বলা হয়েছে - "আসমান ও যমিনে যাহা কিছু আছে সব আল্লাহরই এবং সবকিছুকে আল্লাহ পরিবেষ্টন করিয়া রহিয়াছেন" (সূরা নিসাঃ ১২৬ আয়াত); উক্ত আয়াত থেকে আমরা এই শিক্ষা পাই যে, এই ছহিহ ইসলামি প্লেবয় ম্যাগাজিনে প্রকাশিত সকল বিষয় আল্লাহর এবং প্রকাশিত সকল বিষয়কে আল্লাহ পরিবেষ্টন করে আছেন বিধায় কোন বিষয়ের বিরুদ্ধে অনৈসলামিক নগ্নতার অভিযোগ উত্থাপনের সুযোগ নেই। এই ম্যাগাজিনে যেটুকু ইসলামি নগ্নতা প্রকাশ পাবে, সে সম্পর্কে আল-কুরআনে বলা হয়েছে - "তাহারা যেন তাহাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতুষ্পুত্র, ভগ্নিপুত্র, আপন নারীগণ, তাহাদের মালিকানাধীন দাসী, পুরুষদের মধ্যে যৌন কামনা-রহিত পুরুষ এবং নারীদের গোপন অঙ্গ সম্বন্ধে অজ্ঞ বালক ব্যতীত কাহারও নিকট তাহাদের আভরণ প্রকাশ না করে।" (সূরা নূরঃ ৩১ আয়াত )

এই আয়াতের নির্দেশনা অনুযায়ী মুসলিমা নারীগণ তাদের স্বীয় আভরণ স্বামী, পিতা, ভাই, ভাতিজার ন্যায় যৌনকামনারহিত পুরুষ অর্থাৎ নারীর প্রতি ইসলামি নেক দৃষ্টিদানকারী পুরুষ ও অজ্ঞ বালকদের সামনে প্রকাশ করতে পারবেন।

তাই সন্মানিত পাঠকবৃন্দকে ছহিহ ইসলামি আদর্শ অনুসরণের স্বার্থে আল্লাহ প্রদত্ত নির্দেশনা অনুযায়ী অজ্ঞ বালক অথবা যৌনকামনারহিত পুরুষের দৃষ্টিতে এই ম্যাগাজিনে প্রকাশিত সকল বিষয় দেখার অনুরোধ করা যাচ্ছে।



এবং ইছলামী প্লেবয় সেন্টারফোল্ড: তিনটি ছবি (ক্লিক করুন), তবে ইমোটা খিয়াল কৈরা 
+

২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০১৫

নাস্তিক-শব সৎকার নিয়ে আস্তিকীয় আবালতা

লিখেছেন শহীদুজ্জামান সরকার

নাস্তিক মরার পর তার সৎকার কীভাবে করা উচিত?

এই প্রশ্নের উওর অনেকবার দেয়া হয়েছে নানান জায়গায়, তবু কেন যে আবালগুলো বারবার একই প্রশ্ন করে, বুঝি না।

একবার এক বিখ্যাত নাস্তিককে প্রশ্ন করা হয়েছিল:

- আপনি তো প্রচলিত কোনো ধর্ম মানেন না। মরার পর আপনার সৎকার কীভাবে করা উচিত?

- কী আর করবেন, আপনাদের যা ইচ্ছা করিয়েন, এতে কোনো মাথাব্যথা আমার নেই।

- তবুও তো কিছু নিয়ম থাকা চাই? 

- আচ্ছা, জঙ্গলে ফেলে রাখিয়েন।

- হা হা হা.. জঙ্গলে ফেলে রাখলে আপনার এই শরীরটা তো শেয়াল-কুকুরে খেয়ে ফেলবে।

- তাহলে এক কাজ করিয়েন, যেখানে ফেলে রাখবেন, লাশের পাশে একটা লাঠি রাখিয়েন। শেয়াল-কুকুরগুলোকে তাড়ানো যাবে।

- আপনি তো মরা, কী করে লাঠি দিয়ে কুকুর-শেয়াল পেটাবেন, কিছুই করার ক্ষমতা আপনার থাকবে না।

- হা হা হা... যদি আমার মরার পর কিছুই করার না থাকে, তো কুকুর-শেয়াল খেলেই কী, আর না খেলেই বা কী! সেটা ভাবনাটাই তো আমার বোকামী।

নিত্য নবীরে স্মরি – ১৮১

Moo-hammad

'নবীপোন্দন সপ্তাহ' উদযাপনের সময় এঁকেছেন মৃত আত্মা

'নবীপোন্দন সপ্তাহ' উদযাপনের সময় এঁকেছেন Psychlone Collapse

২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০১৫

ফাল দিয়া ওঠা কথা - ৩৮

লিখেছেন ধর্মবিদ দেশী

১১২.
শহীদ মিনারে ফুল দেওয়া পূজা মনে হয়?
হাজারে আসওয়াদে চুম্বন করার সময় মনে হয় না?

১১৩.
একটা ঘৃণাবাদী বই বাতেল হলো, আর অমনি নাস্তেকরা হাউকাউ শুরু করে দিল এমনভাবে, যেন মুসলিমরা বইপ্রেমী না! অথচ মুসলিমরা কতো বড় বইপ্রেমী, তা যদি নাস্তেকরা অনুধাবন করতে পারতো, তাহলে আর এহুদি-নাসারাদের দালালি করতো না। মোকসুদুল মোমেনিন বই, কাশেম বিন আবু বকরের বই, ইসলামী ব্যাংকের চেক বই, সানি লিওনের বই.... মাশাল্লা, মুসলিমরা বই ছাড়া চলতেই পারে না।

অতঃপর নাস্তেকরা কীভাবে মুসলিমদের বইপ্রেমকে অস্বীকার করবে?

১১৪.
নির্বাচন দেন, তাহলে আর আগুন লাগাবো না।
স্বেচ্ছায় সহবত করতে আসেন, তাহলে আর ধর্ষণ করবো না।

১১৫.
আফগান নারী ক্রিকেট দল অনুশীলন করছিল। মৌলবাদীরা বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিল। ফলাফল হিসেবে ক্রিকেট টিম ভেঙে গেল।

জার্মানির কোলন শহরে কার্নিভাল র‍্যালির আয়োজন চলছিল। মৌলবাদী হামলার আশঙ্কা করলো নিরাপত্তা বাহিনী। ফলাফল - র‍্যালি বাতিল করা হল।

মুহাম্মদের জীবনী নিয়ে বই অনুবাদ করলো রোদেলা প্রকাশনী। মৌলবাদীরা হুমকি দিল। ফলাফল - রোদেলা প্রকাশনীর স্টলই বন্ধ।

এদিকে শুনলাম, কোন আরব বেটা পৃথিবীর গোলত্ব ও ঘূর্ণনকে অস্বীকার করেছে। এখন ভয়ে আছি, কবে মৌলবাদীরা হুমকি দেয় আর পৃথিবী ঘোরাঘুরি বাদ দিয়ে চ্যাপ্টা হয়ে বসে যায়! 

১১৬.
ভাগ্য ভাল, এখনো গন্ধ ধারনের প্রযুক্তি উদ্ভাবিত হয় নি।
নাহলে ছাগুর গন্ধে অনলাইনে আসাই যেত না। আর টিভি দেখা যেত না সুশীল শুয়োরদের গন্ধে... 

ঐশী কিতাব রচনার তরিকা


ইছলাম - সর্বোচ্চ বিজ্ঞান

লিখেছেন নিলয় নীল

অনেকেই বলেন সৌদিরা নাকি বৈজ্ঞানিক গবেষণা করে না, আজকে দেবো তাদের গবেষণার প্রমাণ! পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘোরে - এই তথ্যকে ভুল ‘প্রমাণ’ করেছেন সৌদি আরবের এক আলেম। নিজের গবেষণার কথা বলে তিনি দাবি করেছেন, পৃথিবী একটি নিশ্চল বস্তু, এটি নড়তে পারে না। শেখ বানদার আল খাইবারি নামে ওই ব্যক্তির এই ‘আবিষ্কার’ একুশ শতকের বিজ্ঞানকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করার দাবি তুলেছে।

শেখ বানদার আল খাইবারি

সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিজের গবেষণাকর্ম সম্পর্কে বক্তব্য দেন শেখ বানদার। সে সময় এক প্রশ্নের জবাবে তিনি পৃথিবীর নিশ্চলতা সম্পর্কে বলেন। আল আরাবিয়ার এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে হাফিংটন পোস্ট এমন কথাই বলেছে। 

নিজের গবেষণা সম্পর্কে বোঝাতে শেখ বানদার বলেন, পৃথিবী নিশ্চল এবং তা নড়াচড়া করতে পারে না। যদি পৃথিবী নিজের কক্ষপথে ঘুরত, তাহলে বিমান কখনই তার গন্তব্যে পৌঁছাতে পারত না। দেখে নিতে পারেন, ইংরেজি সাবটাইটেলসহ তার বক্তব্য

আরবের এই গবেষক প্রচলিত কোপার্নিকাসের মডেলকে খারিজ করে দিয়েছেন। বিশ্বের কোনো বিজ্ঞানই তার গবেষণার ফলকে অস্বীকার করতে পারবে না বলেও দাবি করেছেন শেখ বানদার। একই সঙ্গে নাসার চাঁদে যাওয়ার বিষয়টি হলিউডের সৃষ্টি বলে তিনি মন্তব্য করেছেন। নাসা বা ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি এই আলেমের আবিষ্কারের ব্যাপারে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি। 

যাইহোক, ইসলামি শরিয়তের প্রকাশ্য দলিলগুলো অকাট্যভাবে প্রমাণ করে যে, পৃথিবী নয়, সূর্যই আসলে পৃথিবীর চতুর্দিকে ঘোরে। এই ঘোরার কারনেই পৃথিবীতে দিবা-রাত্রির আগমন ঘটে। আমাদের হাতে নিম্নোক্ত এই দলিলগুলোর চেয়ে বেশি শক্তিশালী এমন অন্য আর কোনো দলিল নেই, যার মাধ্যমে আমরা সূর্য ঘোরার দলিলগুলোকে ব্যাখ্যা করতে পারি । সূর্য ঘোরার দলিলগুলো হলো:

(فـَااِنَّ اللهَ يـأَتـيِ باِ لشَّـمـس مِن المَـشـرِقِ فَـأتِ بـِهـاَ مِـن المَغرِبِ)
“আল্লাহ তাআ’লা সূর্যকে পূর্ব দিক থেকে উদিত করেন। তুমি পারলে পশ্চিম দিক থেকে উদিত কর।” (সুরা বাকারাঃ ২৫৮) 
সূর্য পূর্বদিক থেকে ওঠার মাধ্যমে প্রকাশ্য দলিল পাওয়া যায় যে, সূর্য পৃথিবীর ওপর পরিভ্রমণ করে বা সূর্য পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে। 

(فَـالـَمَّا رَأي الشـَّمـسَ باَزِغَـةً قَالَ هَـذََا رَبـيِّ هَـذَا أَكـبَـرُ فَـالـَمّـًا أَفَـالـَت قلَ يَاقَـومِ اِنـّي بَــرِيءُُّ مّـِمـاَّ تُـشــرٍكُــونَ (سورة النع)
“অতঃপর যখন সূর্যকে চকচকে অবস্থায় উঠতে দেখলেন তখন বললেন, এটি আমার পালনকর্তা, এটি বৃহত্তর। অতঃপর যখন তা ডুবে গেল, তখন বলল হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা যেসব বিষয়ে শরীক কর আমি ওসব থেকে মুক্ত।” (সুরা আনআ’মঃ ৭৮) 
এখানে নির্ধারণ হয়ে গেল যে, সূর্য অদৃশ্য হয়ে যায়। একথা বলা হয়নি, সূর্য থেকে পৃথিবী ডুবে গেল। পৃথিবী যদি ঘুরতো, তাহলে অবশ্য তা বলা হত।

(وَتَرَي الشَّمسَ اِذَا طَلَعَت تـَتَـزَا وَرُ عَـن كـَهـفِـهـِم ذَاتَ اليـَمِـينِ وَاِذَا غـَرَبـَت تـَقـرِضُهُم ذَاتَ الشـِّــمَـالِ (سورة الكهف :) 
অর্থাৎ- “তুমি সূর্যকে দেখবে, যখন উদিত হয়, তাদের গুহা থেকে পাশ কেটে ডান দিকে চলে যায় এবং যখন অস্ত যায়, তাদের থেকে পাশ কেটে বাম দিকে চলে যায় (সুরা আল-কাহাফঃ ১৭)।” 
পাশ কেটে ডান দিকে বা বাম দিকে চলে যাওয়া প্রমাণ যে, নড়াচড়া সূর্য থেকেই হয়ে থাকে, পৃথিবী থেকে নয়। পৃথিবী যদি নড়াচড়া করত তাহলে অবশ্যই বলা হতো – সূর্য থেকে গুহা পাশ কেটে যায়। উদয় হওয়া এবং অস্ত যাওয়া এখানে সূর্যকে নির্দিষ্ট করে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। এটা থেকেও বোঝা যায় যে, আসলে সূর্যই ঘোরে, পৃথিবী নয়। 

(خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَ الأَرضَ بِالحَقٌّ يُكَـوِّرُ اللَّيلَ علي النَّهَارِ وَيُكَوٍّرُ النَّهارَ علي اللَّيلِ وَ سَخَّارَ الشَّمسَ وَ القَمَرَ كُلُّ يَجرِي لِأَجَلٍ مُسمَّي ألَا هُوَ العَزِيزُ الغَفَّار( سورة الجمار)
অর্থ: “তিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন যথাযথভাবে। তিনি রাত্রিকে দিবস দিয়ে আচ্ছাদিত করেন এবং দিবসকে রাত্রি দিয়ে আচ্ছাদিত করেন এবং সূর্য ও চন্দ্রকে কাজে নিযুক্ত করেছেন। প্রত্যেকেই বিচরণ করে নির্দিষ্ট সময়কাল পর্যন্ত। জেনে রাখুন, তিনি পরাক্রমশালী, ক্ষমাশীল (সুরা যুমারঃ ৫)।” 
আয়াতের মাধ্যমে জানতে পারলাম যে, পৃথিবীর ওপরে দিবা-রাত্রি চলমান রয়েছে। পৃথিবী যদি ঘুরতো, তাহলে বলা হতো, দিবা-রাত্রির ওপর পৃথিবীকে ঘোরানো হচ্ছে। কিন্তু বলা হয়েছে, “সূর্য এবং চন্দ্রের প্রত্যেকেই চলমান।” এ দলিলের মাধ্যমে জানা গেল যে, সুস্পষ্টভাবেই সূর্য ও চন্দ্র এক স্থান থেকে অন্য স্থানে চলাচল করছে। (সংগৃহীত)

সৌদি আলেমের এই সহি আবিষ্কার নিয়ে ইতোমধ্যেই সৌদি আরবে শোরগোল পড়ে গেছে। আপনারা এখন কিসে আস্থা রাখবেন? বিজ্ঞানের বাড়াবাড়ি না সূর্যের ঘোরাঘুরি?

২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০১৫

আদম ও হাওয়ার বাল্যকালের ছবি


ধর্মীয় প্রশ্নের ব্যাঙগানিক উত্তর - ১৬

[ফেইসবুকে একটা মজাদার পেইজ খোলা হয়েছে "ধর্মীয় প্রশ্নের ব্যাঙগানিক উত্তর" নামে। কেউ একজন একটা মজাদার, বিটকেলে বা আপাত নিরীহ প্রশ্ন করছে, আর অমনি অন্যেরা ঝাঁপিয়ে পড়ে সরবরাহ করছে সেটার বৈচিত্র্যময় ব্যাঙগানিক (ব্যঙ্গ + বৈজ্ঞানিক) উত্তর। 

সেই পেইজ থেকে নির্বাচিত প্রশ্নোত্তরের ধারাবাহিক সংকলন প্রশ্নকারী ও উত্তরদাতাদের নামসহ ধর্মকারীতে প্রকাশ করা হবে নিয়মিত। বলে রাখা প্রয়োজন, এই নির্বাচনটি একান্তভাবেই ধর্মপচারকের পছন্দভিত্তিক। ফলে ভালো কোনও প্রশ্নোত্তর আমার চোখ এড়িয়ে যাবার সম্ভাবনা তো আছেই, তবে সবচেয়ে বেশি আছে অন্যদের সঙ্গে মতভেদের সম্ভাবনা। নিজ গুণে (ভাগে, যোগে, বিয়োগে) মাফ কইরা দিয়েন।]

১৫১.
- আল্লাহ কি সেক্সি? (দ্যা কুঁড়ে)
- নাইলে কি নাস্তিকরা হুদাই পুন্দায়! (দাঁড়িপাল্লা ধমাধম)

১৫২.
- নবী খাদিজাকে বিয়ের সময় নাকি ৫০০ দিরহাম দেনমোহর দিয়েছিল। তবে কি দেনমোহর দেওয়ার বিধান ইসলামের আগে থেকেই প্রচলিত ছিল? (বাঙাল মূর্খ চাষা)
- ৫০০ দিরহাম দেনমোহর দিছিল? ওইডা দেনমোহর না, ওইডা নবির ফিক্সড ডিপসিট। (আদিম আজরাইল)
#
- মোহাম্মদের কাছে ৫০০ দিরহাম ছিল? (পুতুল হক)

১৫৩.
- মানুষ নাস্তিক হয় কেন? (দাঁড়িপাল্লা ধমাধম)
- মোসাদের টেকাটুকা পাইতে। (মিনার আহমেদ)

১৫৪.
- পান থেকে চুন খসলেই মমিনরা কল্লা চায় কেন? (শারজিন শরীফ)
- কল্লা ছাড়া মোল্লা হওয়া যায় না বলে! (মাহমুদ রেজা)

১৫৫.
- তিনি খুঁটি ব্যতীত আকাশমন্ডলী সৃষ্টি করেছেন; তোমরা তা দেখছ। তিনি পৃথিবীতে স্থাপন করেছেন পর্বতমালা, যাতে পৃথিবী তোমাদেরকে নিয়ে ঢলে না পড়ে। (সুরা ৩১:১০)
তিনি কেন আকাশে খুঁটি দিলেন না? বাঁশের অভাব ছিল বুঝি? তিনি পৃথিবীকে যদি পর্বত দিয়ে চাপা না দিতেন, তাহলে তো পৃথিবী আমাদের নিয়ে ঢলে পড়ে যেতো। আমরা পড়ে যেতাম পৃথিবী থেকে। আমরা পৃথিবী থেকে পড়ে কোথায় যেতাম? (বিবি খাদিজা)
- সেই পঙ্কিল জলাশয়ে পড়তাম, যেখানে সূর্য অস্ত যায়। (অনুসন্ধানী আবাহন)
#
- বাঁশের খুঁটি দিলে তার কুদরতের কি কোনো মাজেজা থাকতো? (বাঙাল মূর্খ চাষা)

১৫৬.
- স্রষ্টা ছাড়া তো কোও কিছুই তৈরি না হয়....! তাহলে আল্লারে বানাইছে কে? (অ্যাডওয়ার্ড রাহুল)
- আমাদের সক্লের প্রিয় - দ্য ওয়ান অ্যান্ড অনলি মুহাম্মক! (আৎসুকো আয়ামে)

১৫৭.
- আল্লাহ কি মানুষের মতো? (চিরন্তন সত্য)
- দেখতে কেমন, তা কইতারিনা, তবে চিন্তা-ভাবনা আমাগো চাইতেও নিচু মানের। (বাঙাল মূর্খ চাষা)

১৫৮.
- জীবজন্তুর ছবি আঁকা হারাম কিন্তু গাছপালার ছবি আঁকা হারাম নয় - এর কারণ কি এই যে, আল্লাহ ও মুহাম্মদ জানতেন না গাছের জীবন আছে? আচ্ছা রোবটের ছবি আঁকা কি হারাম? মাসালা চাই। (সেক্যুলার ফ্রাইডে)
- ভাইব্রেটর রোবট হলে হারাম নয় আরাম...! (স্টয়িক তূর্য)

১৫৯.
- গজব কি আল্লাহ নিজেই দেন, নাকি সেই কাজে কোনো ফেরেস্তা নিয়োগ করা আছে? (বাঙাল মূর্খ চাষা)
- গজব সেকশনের অবস্থা ভালো না। প্রচুর দুর্নীতি চলে ইদানীং। আগে তো দেখতাম রেগুলার গজব নাজিল হইত, এখন তেমন দেখি না। ঘুষ না দিলে কোত্থাও কিছু হয় না। আমার উপ্রে গজবের অনিয়ম দেইখা আমি গেসিলাম খোঁজ নিতে, যাইয়া দেখি ডেস্কের উপর ঠ্যাং তুইলা ফেরেস্তারা হুরপরীগো কাছ থিকা মিল্কশেক খাইতেসে!! দেখসেন তামশা? (শাহরিয়ার কনক)

১৬০.
- এক কশ্যপ মুনি দেবতা, অসুর, নাগ, অপ্সরা, দৈত্য, দানব পয়দা কইরা ছয়লাব কইরা ফালাইছিলো। হেতের ইতনা যৌনশক্তির রহস্য কী? (অনুসন্ধানী আবাহন)
- কলিকাতা হার্বাল পৌরানিক ভার্সন। (মুফাসা দ্যা গ্রেট)
#
- এই রহস্যের খোঁজ একমাত্র মোহাম্মদ পাইছিল, ইতিহাস স্বাক্ষী। (বাঙাল মূর্খ চাষা)

আগের পর্বগুলো:

গরুপূজারি গাধাগুলো - ১০৭



২২ ফেব্রুয়ারী, ২০১৫

ওহুদ যুদ্ধ – ১৬: নবী-গৌরব ধুলিস্যাৎ!: কুরানে বিগ্যান (পর্ব- ৬৯): ত্রাস, হত্যা ও হামলার আদেশ – তেতাল্লিশ

লিখেছেন গোলাপ

পর্ব ১ > পর্ব ২ > পর্ব ৩ > পর্ব ৪ > পর্ব ৫ > পর্ব ৬ > পর্ব ৭ > পর্ব ৮ > পর্ব ৯ > পর্ব ১০ > পর্ব ১১ > পর্ব ১২ > পর্ব ১৩ > পর্ব ১৪ > পর্ব ১৫ > পর্ব ১৬ > পর্ব ১৭ > পর্ব ১৮ > পর্ব ১৯ > পর্ব ২০ > পর্ব ২১ > পর্ব ২২ > পর্ব ২৩ > পর্ব ২৪ > পর্ব ২৫ > পর্ব ২৬ > পর্ব ২৭ > পর্ব ২৮ > পর্ব ২৯ > পর্ব ৩০ > পর্ব ৩১ > পর্ব ৩২ > পর্ব ৩৩ > পর্ব ৩৪ > পর্ব ৩৫ > পর্ব ৩৬ > পর্ব ৩৭ > পর্ব ৩৮ > পর্ব ৩৯পর্ব ৪০ > পর্ব ৪১ > পর্ব ৪২ > পর্ব ৪৩ > পর্ব ৪৪ > পর্ব ৪৫ > পর্ব ৪৬ > পর্ব ৪৭ > পর্ব ৪৮ > পর্ব ৪৯ > পর্ব ৫০ > পর্ব ৫১ > পর্ব ৫২ > পর্ব ৫৩ > পর্ব ৫৪ > পর্ব ৫৫ > পর্ব ৫৬ > পর্ব ৫৭ > পর্ব ৫৮ > পর্ব ৫৯ > পর্ব ৬০ > পর্ব ৬১ > পর্ব ৬২ > পর্ব ৬৩ > পর্ব ৬৪ > পর্ব ৬৫ > পর্ব ৬৬ > পর্ব ৬৭ > পর্ব ৬৮

কুরাইশ দলপতি আবু সুফিয়ান ইবনে হারব ও তাঁর সৈন্যদল ওহুদ যুদ্ধ শেষে মক্কায় প্রত্যাবর্তনের উদ্দেশ্যে রওনা হবার পরের দিন সকালে স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) তাঁর অনুসারীদের কীরূপে আবু সুফিয়ান ও তাঁর সৈন্যদলের পশ্চাদ্ধাবন করার আদেশ জারি করেছিলেন ও তিনি তাদের সঙ্গে নিয়ে মদিনা থেকে আট মাইল দূরবর্তী 'হামরা আল-আসাদ' পর্যন্ত গমন করেছিলেন, তার আলোচনা আগের পর্বে করা হয়েছে। কুরাইশরা মক্কায় প্রত্যাবর্তনের সময় পথিমধ্যে তাঁদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে "মুসলমানদের সম্পূর্ণ ধ্বংস করার" জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে পুনরায় মদিনায় প্রত্যাবর্তন এবং সেই সিদ্ধান্ত আবারও পরিবর্তন করে তাঁদের মক্কায় প্রত্যাবর্তনের যে উপাখ্যান বর্ণিত হয়েছে, তার সত্যতা কী কারণে প্রশ্নবিদ্ধ, তার আংশিক আলোচনাও আগের পর্বে করা হয়েছে।

ইসলামের একান্ত প্রাথমিক ও মৌলিক শিক্ষার অন্তর্ভুক্ত একটি বিশেষ কারণে ইসলামের সকল ইতিহাস ভীষণ পক্ষপাতদুষ্ট, একপেশে ও মিথ্যাচারে সমৃদ্ধ (পর্ব: ৪৪)! এই পক্ষপাতদুষ্ট ও একপেশে ইতিহাস থেকে সত্যকে আবিষ্কার করা অত্যন্ত দুরূহ, গবেষণাধর্মী ও সময় সাপেক্ষ প্রচেষ্টা। কিন্তু তা কখনোই অর্থহীন নয়। কারণ:

জগতের সকল প্রতিষ্ঠিত ধর্মের ধর্মেশ্বর (ধর্মগ্রন্থে বর্ণিত মানবসৃষ্ট ঈশ্বর) ও তাদের নামে আরোপিত অপবিশ্বাস ও মিথ্যাচার প্রচার ও প্রসারের বাহন মূলত তিনটি:

১) পারিবার/সমাজ আরোপিত শিশুকালের মগজ ধোলাই (Childhood Indoctrination), 
২) শাসক ও যাজক চক্রের পরস্পর নির্ভরতায় (symbiosis) ধর্মেশ্বরের লালন-পালন, ও
৩) অজ্ঞতা (Ignorance)

কোনো ব্যক্তির জন্মের স্থান ও তাঁর শিশুকালের বেড়ে উঠার পরিবেশ ও পরিস্থিতিতে তাঁর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। শাসক-যাজক চক্রের তৎপরতাকে এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সাধারণ লোকের নাগালের বাইরে। অন্যদিকে, অজ্ঞতাকে জ্ঞানের আলোকে আলোকিত করা ও সত্য-সন্ধানের প্রচেষ্টা জগতের সকল মানুষই উদ্যোগী হয়ে করতে পারেন।

ধর্মের অপবিশ্বাস রোধ ও তার করাল গ্রাস থেকে মুক্তির প্রতিষেধক হলো “জ্ঞান (Knowledge)”; আর, যে কোনো জ্ঞান অর্জনের সর্বপ্রথম শর্ত হলো জানার আগ্রহ (Willing to learn); তারপর উদ্যোগ গ্রহণ ও প্রচেষ্টা।

ইন্টারনেট প্রযুক্তির আবিষ্কার, প্রসার ও সহজলভ্যতায় সত্যানুসন্ধান সহজতর। উদ্যোগী পাঠকরা ইচ্ছে করলেই আদি উৎসে গিয়ে (Primary source of Islamic annals) প্রকৃত তথ্য অনায়াসেই জেনে নিতে পারেন।

আজকের পৃথিবীর প্রায় এক-চতুর্থাংশ মানুষ মুসলমান সম্প্রদায়ভুক্ত। এই ১৬০ কোটি মানুষ আজ জ্ঞানে-বিজ্ঞানে, চিন্তা-ভাবনায়, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, শিক্ষা-মর্যাদায় পৃথিবীর সর্বনিম্ন (পর্ব: ১৫); ধর্মের বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে এই পরিস্থিতি থেকে তাঁদের মুক্তি অসম্ভব!

ওহুদ যুদ্ধের ঘটনাবলীর সঙ্গে বদর যুদ্ধকালীন ঘটনা সরাসরি ও বদর যুদ্ধ পরবর্তী ঘটনা পরোক্ষভাবে সম্পর্কযুক্ত। আর বদর যুদ্ধের সাথে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত ঘটনা হলো নাখলা ও নাখলা পূর্ববর্তী অভিযান।

তাই মদিনায় মুহাম্মদের স্বেচ্ছা-নির্বাসনের (হিজরত) পর বদর যুদ্ধ-পূর্ববর্তী, বদর যুদ্ধকালীন ও বদর যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে মুহাম্মদের বাণী ও কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ ব্যতিরেকে ওহুদ যুদ্ধের বিশ্লেষণ সম্ভব নয়। তাই ত্রাস-হত্যা ও হামলার আদেশের গত বিয়াল্লিশটি পর্বের প্রাসঙ্গিক অতি চুম্বক ঘটনাগুলোর দিকে আর একবার মনোনিবেশ করা যাক:

বদর যুদ্ধ-পূর্ববর্তী মুহাম্মদের বাণী ও কর্মকাণ্ড (পর্ব: ২৮-২৯): 

মুহাম্মদ ও তাঁর মক্কাবাসী অনুসারীরা (মুহাজির) তাঁদের মদিনা আগমনের মাস সাতেক পরে জীবিকার প্রয়োজনে রাতের অন্ধকারে বাণিজ্যফেরত নিরীহ কুরাইশ কাফেলার ওপর অতর্কিত হামলা করে তাদের মালামাল লুণ্ঠনের (ডাকাতি) অভিযান শুরু করেন।

পর পর সাতটি ডাকাতি চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর সফলতা আসে অষ্টম বারে, নাখলা নামক স্থানে। কোনো মদিনাবাসী মুহাম্মদ-অনুসারীই (আনসার) এই আটটি হামলার কোনোটিতেই অংশগ্রহণ করেননি।

ওহুদ যুদ্ধের ঠিক চোদ্দ মাস আগে নাখলা অভিযানে মুহাজিররা বাণিজ্যফেরত নিরীহ কুরাইশ পথযাত্রীর মালামাল লুণ্ঠন, একজনকে খুন এবং দু'জনকে বন্দী করে ধরে নিয়ে এসে মুক্তিপণের বিনিময়ে তাঁদের আত্মীয়-স্বজনের কাছে ফেরত দেয়ার মাধ্যমে ইসলামের ইতিহাসের আগ্রাসী ও নৃশংস রক্তাক্ত পথযাত্রার সূচনা করেন (পর্ব:২৯)। 

নিরীহ মানুষকে খুন করা, বন্দী করে ধরে নিয়ে এসে মুক্তিপণ আদায় করা ও তাঁদের মালামাল লুণ্ঠন করে নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নেয়া উপার্জিত অর্থে পার্থিব সচ্ছলতার প্রয়াসকে মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ তাঁর সৃষ্ট স্রষ্টা আল্লাহর ঐশী বাণী অবতারণার মাধ্যমে (২:২১৭) বৈধতা প্রদান করেন।

সর্বজনবিদিত এ সকল গর্হিত আগ্রাসী নৃশংস কর্মকাণ্ড মুহাম্মদের প্রচারিত ইসলাম নামক মতবাদে “মহৎ কর্ম (জেহাদ)" হিসাবে স্থান লাভ করে! 

বদর যুদ্ধকালীন মুহাম্মদের বাণী ও কর্মকাণ্ড (পর্ব: ৩০-৪৩):

নাখলা অভিযানের ঠিক দুই মাস পর, ওহুদ যুদ্ধের ঠিক এক বছর আগে, ইসলামের ইতিহাসের প্রথম বৃহৎ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বদর প্রান্তে সংঘটিত হয় (১৫ই মার্চ ৬২৪ সাল)।

এই যুদ্ধের কারণ হলো, নাখলা ও নাখলা পূর্ববর্তী অভিযানের অনুরূপ হামলায় কুরাইশ দলপতি আবু সুফিয়ান বিন হারবের নেতৃত্বে সিরিয়া থেকে প্রত্যাবর্তনকারী এক বিশাল বাণিজ্য-বহরের ওপর মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরদের অতর্কিত আক্রমণে তাঁদের মালামাল লুণ্ঠন; আরোহীদের খুন, পরাস্ত ও বন্দীর প্রচেষ্টাকে প্রতিহত করার লক্ষ্যে কুরাইশদের প্রতিরক্ষা চেষ্টা। (পর্ব: ৩০)

এই যুদ্ধে মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা প্রচণ্ড নিষ্ঠুরতার ৭২ জন কুরাইশকে (দু'জন বন্দীহত্যা সহ) নৃশংসভাবে করেন খুন ও ৭০ জন কুরাইশকে করেন বন্দী। খুন করার পর চব্বিশ জন কুরাইশ নেতৃবৃন্দের লাশ চরম অশ্রদ্ধায় বদরের এক নোংরা শুকনো গর্তে নিক্ষেপ করা হয়। বন্দীদের নিকটাত্মীয়দের কাছ থেকে সর্ব্বোচ্চ ৪০০০ দেরহাম মুক্তিপণ আদায় করে দেয়া হয় মুক্তি। অন্যদিকে, কুরাইশদের হাতে মোট ১৪ জন মুহাম্মদ অনুসারী হন খুন - ছয় জন মুহাজির ও আট জন আনসার।

বদর যুদ্ধে কুরাইশরা ছিলেন সংখ্যায় ও শক্তিতে মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের তুলনায় অনেক বেশি। কুরাইশদের সংখ্যা ছিল প্রায় ৯৫০ জন আর মুহাম্মদ-অনুসারীদের সংখ্যা ছিল তাঁদের সংখ্যার এক-তৃতীয়াংশেরও কম (প্রায় ৩১৩ জন); তা সত্ত্বেও তাঁরা মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের কাছে অত্যন্ত করুণভাবে পরাজিত হয়েছিলেন! কী কারণে কুরাইশদের এই চরম পরাজয় ঘটেছিল তার বিস্তারিত বিশ্লেষণ পর্ব-৩৪ এ করা হয়েছে।

মুহাম্মদ তাঁর এই সফলতার পেছনের কারণ হিসাবে তাঁর কল্পিত আল্লাহর পরম করুণা ও অলৌকিকত্বের দাবি করেন ও ঘোষণা দেন যে, এই অলৌকিক সফলতায় হলো তাঁর সত্যবাদিতা আর কুরাইশদের মিথ্যাচারের প্রমাণ।

মুহাম্মদ তাঁর এই দাবির সপক্ষে যে সব ঐশী বাণীর অবতারণা করেন তাঁর কিছু নমুনা:

৮:৯ - তোমরা যখন ফরিয়াদ করতে আরম্ভ করেছিলে স্বীয় পরওয়ারদেগারের নিকট, তখন তিনি তোমাদের ফরিয়াদের মঞ্জুরী দান করলেন যে, আমি তোমাদিগকে সাহায্য করব ধারাবহিকভাবে আগত হাজার ফেরেশতার মাধ্যমে।         

৩:১২৩-১২৪ -বস্তুতঃ আল্লাহ বদরের যুদ্ধে তোমাদের সাহায্য করেছেন, অথচ তোমরা ছিলে দুর্বল। কাজেই আল্লাহকে ভয় করতে থাক, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞ হতে পারো। (১২৪) - আপনি যখন বলতে লাগলেন মুমিনগণকে-তোমাদের জন্য কি যথেষ্ট নয় যে, তোমাদের সাহায্যার্থে তোমাদের পালনকর্তা আসমান থেকে অবতীর্ণ তিন হাজার ফেরেশতা পাঠাবেন।

৮:১২- যখন নির্দেশ দান করেন ফেরেশতাদিগকে তোমাদের পরওয়ারদেগার যে, আমি সাথে রয়েছি তোমাদের, সুতরাং তোমরা মুসলমানদের চিত্তসমূহকে ধীরস্থির করে রাখ। আমি কাফেরদের মনে ভীতির সঞ্চার করে দেব। কাজেই গর্দানের উপর আঘাত হান এবং তাদেরকে কাট জোড়ায় জোড়ায়।           

৮:১৭- সুতরাং তোমরা তাদেরকে হত্যা করনি, বরং আল্লাহই তাদেরকে হত্যা করেছেন। আর তুমি মাটির মুষ্ঠি নিক্ষেপ করনি, যখন তা নিক্ষেপ করেছিলে, বরং তা নিক্ষেপ করেছিলেন আল্লাহ স্বয়ং যেন ঈমানদারদের প্রতি এহসান করতে পারেন যথার্থভাবে। নিঃসন্দেহে আল্লাহ শ্রবণকারী; পরিজ্ঞাত।

৮:৪৩-৪৪- আল্লাহ যখন তোমাকে স্বপ্নে সেসব কাফেরের পরিমাণ অল্প করে দেখালেন; বেশী করে দেখালে তোমরা কাপুরুষতা অবলম্বন করতে এবং কাজের বেলায় বিপদ সৃষ্টি করতে। কিন্তু আল্লাহ বাঁচিয়ে দিয়েছেন। তিনি অতি উত্তমভাবেই জানেন; যা কিছু অন্তরে রয়েছে। (৪৪)-আর যখন তোমাদেরকে দেখালেন সে সৈন্যদল মোকাবেলার সময় তোমাদের চোখে অল্প এবং তোমাদেরকে দেখালেন তাদের চোখে বেশী, যাতে আল্লাহ সে কাজ করে নিতে পারেন যা ছিল নির্ধারিত। আর সব কাজই আল্লাহর নিকট গিয়ে পৌছায়।

৮:৫২- --এরা আল্লাহর নির্দেশের প্রতি অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেছে এবং সেজন্য আল্লাহ তা’আলা তাদের পাকড়াও করেছেন তাদেরই পাপের দরুন। নিঃসন্দেহে আল্লাহ মহাশক্তিশালী, কঠিন শাস্তিদাতা।

লুটের মালে (গণিমত) জীবিকা বৃত্তির বৈধতা:

৮:১- আপনার কাছে জিজ্ঞেস করে, গনিমতের হুকুম। বলে দিন, গনিমতের মাল হল আল্লাহর এবং রসূলের।

৮:৪১ - আর এ কথাও জেনে রাখ যে, কোন বস্তু-সামগ্রীর মধ্য থেকে যা কিছু তোমরা গনীমত হিসাবে পাবে, তার এক পঞ্চমাংশ হল আল্লাহর জন্য, রসূলের জন্য, তাঁর নিকটাত্নীয়-স্বজনের জন্য এবং এতীম-অসহায় ও মুসাফিরদের জন্য; --

৮:৬৯- সুতরাং তোমরা খাও গনিমত হিসাবে তোমরা যে পরিচ্ছন্ন ও হালাল বস্তু অর্জন করেছ তা থেকে।

>>> ধারণা করা কঠিন নয়, মুহাম্মদের প্রচারিত এ সকল বাণী বদর যুদ্ধে অপ্রত্যাশিত সাফল্যে উল্লসিত ও গনিমতের মাল উপার্জনে উজ্জীবিত মুহাম্মদ-অনুসারীদের বিশ্বাসকে আরও সুদৃঢ় করে। তাঁরা মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন যে,

“মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ সত্যই আল্লাহর নবী, তাঁর বাণী অবশ্যই সত্য এবং সৃষ্টিকর্তা ‘আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতা বাহিনী’ তাঁদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে যুদ্ধ করেছেন বলেই তাঁরা এই অসম যুদ্ধে অবিশ্বাসী কাফেরদের বিরুদ্ধে জয়ী হতে পেরেছেন।”

বদর যুদ্ধ-পরবর্তী মুহাম্মদের বাণী ও কর্মকাণ্ড (পর্ব: ৪৬-৫১):

বদর যুদ্ধ পরবর্তী সময় থেকে ওহুদ যুদ্ধ কাল পর্যন্ত গত একটি বছরে মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা অতি বৃদ্ধ ইহুদী কবি আবু আফাক কে খুন; পাঁচ সন্তানের জননী আসমা-বিনতে মারওয়ান কে খুন; কাব বিন আল-আশরাফ কে খুন; একজন নিরপরাধ ইহুদিকে খুন এবং সর্বোপরি বনি কেইনুকা গোত্রের সমস্ত লোককে তাঁদের ভিটে-মাটি থেকে উচ্ছেদ করে তাঁদের সমস্ত সম্পত্তি লুট ও ভাগাভাগি বিনা বাধায় সম্পন্ন করেন (বনি নদির গোত্রকে উচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছিল ওহুদ যুদ্ধের পরে)।

অবিশ্বাসী কাফেরদের বিরুদ্ধে মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের উপর্যুপরি একের পর এক এইসব সফলতা মুহাম্মদ অনুসারীদের বিশ্বাসকে আরও সুদৃঢ় করে। তাঁদের অধিকাংশই বোধ করি এই বিশ্বাসে অটল ছিলেন যে, "স্বয়ং আল্লাহ ও তার ফেরেশতাকুল সর্বদাই তাঁদের সাহায্যে নিয়োজিত; তাঁদেরকে পরাজিত করার ক্ষমতা কারও নেই!"

আবদুল্লাহ বিন উবাই সহ যে সব অল্প সংখ্যক মদিনাবাসী মুহাম্মদের বাণী ও কর্মকাণ্ডের প্রত্যক্ষ/পরোক্ষ সমালোচনা বা বিরোধিতা করেন, তাঁদেরকে তাঁরা মুনাফিক রূপে আখ্যায়িত করেন।

তারপর, এই ওহুদ যুদ্ধ! কী ঘটেছিল সেদিন?

এমনই এক পরিস্থিতিতে ইসলামের ইতিহাসের দ্বিতীয় বৃহৎ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ওহুদ যুদ্ধ সংঘটিত হয়। আদি উৎসের বর্ণনায় যে-বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্ট, তা হলো, মক্কাবাসী কুরাইশরা বদর যুদ্ধে তাঁদের প্রিয়জনদের খুন ও অপমানের প্রতিশোধ নিতে এই যুদ্ধের অবতারণা করেন এবং কুরাইশরা যখন মুসলমানদের পেছন দিক থেকে আক্রমণ করে মুহাম্মদের বহু অনুসারীকে করেন খুন, আহত ও পর্যুদস্ত; তখন,

“আকাশ থেকে আল্লাহ তাঁদেরকে রক্ষার জন্য কোন ফেরেশতা প্রেরণ করেননি।”

নিঃসন্দেহে মুহাম্মদ অনুসারীরা তাঁদের বিশ্বাসের ভিত্তিতে এই মনোভাবে অটুট ছিলেন যে, মহান আল্লাহপাক তাঁদের সাহায্য করবেন। কিন্তু, তার কোন আলামত প্রত্যক্ষ না করে নিশ্চিতরূপে তাঁরা হতাশ হয়েছিলেন এবং নবীর প্রতি বিশ্বাস হারিয়েছিলেন। তাই তাঁরা তাঁদের নবীকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ওহুদ প্রান্তে ফেলে রেখে দিকভ্রান্ত অবস্থায় পালিয়ে যান।

যার প্রতিফলন আমরা দেখতে পাই,

আল-তাবারীর (৮৩৮-৯২৩ সাল) বর্ণনায়:

"পলায়নরত লোকেরা যুদ্ধে এতই পরিশ্রান্ত ছিলেন যে, তাঁরা জানতেন না, তাঁরা কী করছেন (পর্ব-৬০)।"  

'সেনারা আল্লাহর' নবীকে পরিত্যক্ত করে পালিয়ে যায়, কিছু লোক সূদুর আল-আ'ওয়াসের নিকটবর্তী আল-মুনাককা পর্যন্ত গমন করে। ওসমান ইবনে আফফান ও তাঁর সাথে ওকবা বিন উসমান এবং সা'দ বিন উসমান নামের দুইজন আনসার আল-আ'ওয়াসের নিকটবর্তী ও মদিনার উপকণ্ঠে অবস্থিত সূদুর আল-জালাব পাহাড় পর্যন্ত গমন করে। তারা সেখানে তিন দিন পর্যন্ত অবস্থান করে ও তারপর আল্লাহর নবীর কাছে ফিরে আসে। তারা দাবি করে যে, তিনি তাদের বলেছেন, "সেই দিন তোমরা দিগদিগন্তে (far and wide) ইতস্তত বিক্ষিপ্ত অবস্থায় ছিলে।"

'মুহাম্মদ নিহত হয়েছেন' এই খবরটি সা'দ বিন উসমানই (আনসার) প্রথম মদিনা-বাসীদের জানিয়েছিলেন। [1]

বেদ্বীনবাণী - ৩০



মুমিন মুসলমানদের জন্য যুক্তি-তর্কে জিতিবার সহি সহজ মাসায়েল

লিখেছেন শ্রোডিঞ্জারের বিড়াল


যথাসম্ভব দুর্বোধ্যভাবে উত্তর প্রদান করিবে। 

"takla basay lekla laka podte kobe kasto hay, tay kao ottor deta padbe na."

বাংলা লিখলে আরবী, বাংলা এবং অদ্ভুত সব মিশ্র জগাখিচুড়ি বাক্য ব্যবহার করে, কঠিন কঠিন শব্দ ব্যবহার করে ভাবগাম্ভীর্যমূলক মনে হয় এমনভাবে উপলব্ধির অযোগ্য সব বাক্য রচনা করিবে। এতে যেসকল মুমিন মুসলমান সাপোর্ট দিতে পড়িতে আসিবে, তাহারা তোমার জবাব পড়িয়া বাহ বাহ সুবহানাল্লাহ বলিবে, কিন্তু বিপক্ষ আগামাথা বুঝিতে পারিবে না।

বিপক্ষ যদি কোরানের এমন আয়াত লইয়া আসে, যেটা তুমি ডিফেন্ড করিতে অক্ষম, তবে বড় করিয়া "ইহা প্রসঙ্গ বুঝিয়া পড়িতে হইবে, কনটেক্সট এর বাইরে এই আয়াত বুঝা যাইবে না" বলিয়া চিৎকার করিবে এবং মনমতো কনটেক্সট হাজির করিবে।

কেউ যদি এমন হাদিস নিয়ে আসে, যার জবাবে কিছু বলা যায় না, তবে ঊক্ত হাদিসকে ওই স্থানেই জাল ঘোষণা করিবে, এবং 'বুখারীও একজন মানুষ ছিলেন তারও ভুল হয়' জাতীয় কথা বলিয়া ত্যাঁনা প্যাঁচাইবে।

যদি কেউ কোরানের আয়াত এবং সেই আয়াতেরই ব্যাখ্যা বা কনটেক্সট-এর হাদিস হাজির করে, যেটির জবাব দিতে তুমি অক্ষম, তবে "কেবলমাত্র আরবিতেই এটা বুঝা সম্ভব, অনুবাদ দিয়া যাচাই করিয়া বোঝা সম্ভব না; আগে আরবী শিখিয়া আসো" বলিয়া বিপক্ষকে আরবি-অজ্ঞতার লজ্জায় ধুলিস্যাৎ করিবে।

কেউ যদি আরবিতেও পারদর্শিতা দেখায়, তবে 'অমুক আয়াত ও হাদিস শুধু নির্দিষ্ট সময়েই প্রযোজ্য ছিল, আজকের দিনের সাথে মিলাইলে হবে না, তৎকালীন পরিস্থিতি বুঝিতে হইবে' জাতীয় কথা বলিয়া বিজয়ের নিশান উড়াইবে।

যখন কোনোরূপ জবাবই দিতে পারিবে না বা কোনোভাবেই পারিয়া ঊঠিতেছ না, তখন Islam is the fastest growing religion and soon it will be proven to the whole world জাতীয় কথা বলিয়া রেডি থাকা ইসলামিক সাইট হইতে গরু রচনা কপি-পেস্ট করিবে।

যখন কেউ প্রমাণ নিয়া আসিবে যে, ইসলাম সর্বাধিক দ্রুত প্রসারণশীল ধর্ম নযহে, তখন ওইসব তথ্যকে ভুয়া, পক্ষপাতিত্বপূর্ণ, এবং খ্রিষ্টান ও ইহুদিদের মিথ্যাচার বলে অভিহিত করিবে।

কোরানের এদিক-সেদিক হইতে ইচ্ছামতো আয়াত কপি-পেস্ট করিবে, যার সহিত বিতর্কের কোনো সম্পর্ক আছে না নাই, সেটা মূখ্য নহে, শুধু সকলে বিভ্রান্ত হইলেই চলিবে। বিভ্রান্ত হওয়া মাত্র বিতর্কের টপিক অন্যদিকে ঘুরাইয়া দিবে।

যদি কখনো একেবারেই কোণঠাসা হইয়া পড়ো, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ, হুমকি, 'খুন কইরা ফালামু, জবাই কইরা দিমু' কিংবা 'তুই জাহান্নামে পুড়বি, জাহান্নামে অমুকভাবে টর্চার হবি' - এইসব বলিয়া 'তোরা ইসলামের যোগ্য না, আল্লাহ তোদের অন্তরে তালা মেরে দিয়েছেন' জাতীয় কথা বলিয়া বিজয় সুনিশ্চিত করিবে।


সর্বদিক হইতে হারিয়া গেলেও 
- নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করিয়া মুসলিম ভাইদের লাইক বন্যায় গোছল করা,
- বোরকা-বিরোধীদের মা বোনদের বেশ্যা, পতিতা, আশ্বিন মাসের কুত্তী - এইসব বলিয়া নারীদের হিজাবের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা, 
- খ্রিষ্টান ধর্মের ভুল বাইর করিয়া 'উহারা ভুল, তাই আমরা সঠিক' জাতীয় দাবী করা,
- টপিক হইতে টপিকে বোরাকের মত লম্ফঝম্ফ করা,
- স্কেপটিকের ভান ধরিয়া উত্তরের দিকে নজর না দিয়া একের পর এক প্রশ্নবানে বিদ্ধ করিয়া ছিন্ন ভিন্ন ব্রাশ ফায়ার করিয়া বিপক্ষকে ক্লান্ত বিরক্ত করার মাধ্যমে ঈমানদন্ডের উচ্চতা প্রতিষ্ঠা করা,
- জাকির নায়েক, মরিচ বুখাইলি জাতীয় লোকদের শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী ও বৈজ্ঞানিক ভেলিডিটির ভিত্তি হিসেবে ধরিয়া তাহারা যা-ই বলেন তা-ই প্রমাণিত বিজ্ঞান হিসেবে ব্যক্ত করা, এবং
- সকল কিছুতেই ইহুদিদের দোষ খুঁজিয়া বাহির করিবার চর্চায় দক্ষতা অর্জন করিতে পারিলেই একজন মুসলিম সকল প্রকার বিতর্কে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সুনিশ্চিতভাবে বিজয়লাভ করিয়া ইসলামের ঝাণ্ডা উন্নীত করিতে পারিবে।

সেই ঝাণ্ডা এতই উঁচু হইবে যে, যুক্তি বা বিজ্ঞানের রকেট উত্তোলন করিয়া বিরোধী দল চাঁদ মঙ্গল বা শনিতে হয়তো বা যাইতে পারিবে, কিন্তু ইসলামের ঝাণ্ডার উচ্চতায় বুরাক ব্যতিত কিছুই, এমনকি তাদের ওইসব রকেটও পৌঁছাইতে পারিবে না।

সবাই বলেন, আমিন...

২১ ফেব্রুয়ারী, ২০১৫

যার যেটা অস্ত্র - ০৬

কলম নামের অস্ত্রের জবাবে কলম ব্যবহার করতে অক্ষম ধর্মবিশ্বাসীরা হাতে তুলে নেয় মারণাস্ত্র। কিন্তু এরা জানে না, ইতিহাসে কখনওই কলমকে স্তব্ধ করা যায়নি।



কব্বর ভাষা বাংলা চাই

লিখেছেন নাস্তিক দস্যু

বাঙালির বাংলা। আমাদের স্বাধীনতার কথা বলতে গেলেই চোখের সামনে ভেসে উঠে ৫২, ৭১, ভেসে উঠে ২১শে ফেব্রুয়ারি, ভেসে উঠে ২৫শে মার্চ। ৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদারদের সাথে রাজাকারেরা মিলে আমাদের মা বোনদের ধর্ষণ করেছিল "আল্লাহু আকবার" ধ্বনি তুলে, খুন করেছিল আমাদের দেশের স্বাধীনতাকামী লক্ষ মানুষসহ অসংখ্য বুদ্ধিজীবীকে। তারা চেয়েছিল উর্দু এবং ইছলাম কায়েম করতে।

বাংলা ভাষার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে ৫২-এর ভাষা আন্দোলন। ৫২-এর এ আন্দোলনে ভাষার জন্য রক্ত ঝরিয়েছেন বাংলা মায়ের বাংলাপ্রেমী সন্তানেরা। রফিক, জব্বার, বরকতেরা ভাষার জন্য বন্দুকের সামনে বুক পেতে দিয়েছিলেন। পৃথিবীর ইতিহাসে আমরাই একমাত্র জাতি, যারা ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছে। এরকম নজির এ বিশ্বে আর কোথাও দেখা যায় না।

কিন্তু দুঃখের বিষয়, কথিত পরকালীন জীবনে আমাদের কথা বলতে হবে আরবিতে। অটোমেটিকভাবে আমাদের মাতৃভাষা নাকি আরবি হয়ে যাবে! আমরা ওখানে মাকে আর "মা" বলে ডাকতে পারব না। ভাষার জন্য আমাদের এই ত্যাগের, এই রক্তের, এই সাহসিকতার কোনো মূল্যই ওখানে থাকবে না।

না না না, এ হতে পারে না। কব্বর ভাষা বাংলা চাই। আমাদের দাবি আল্লাকে মানতেই হবে। আমি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব, আল্লাকে কবরের ভাষা বাংলা করার আহ্বান করছি।

কীভাবে বুঝব, আল্লা আমাদের দাবি মেনেছেন, মানে রাজি হয়েছেন? এখন তো নবী-রাছুল নাই, ওহী আসবে কার কাছে? আমি আল্লাকে একটা বুদ্ধি দিচ্ছি। ইয়া আল্লাহ! তুমি আরশ হৈতে এই দুনিয়ায় এসে আমাদের বলে দিলেই হবে। লুঙ্গি না থাকলে (তুমি তো আবার কাপড়-চোপড় পরিধান করো না) আমাদের সকলের লুঙ্গি কেটে সেলাই করে তোমার জন্য একটা বিশাল লুঙ্গি বানিয়ে দিতে রাজি আছি। তাতেও যদি না হয়, তবে গিব্রাইলের পাখাগুলা ইউজ কৈরতে পারো।

আর যদি আমাদের দাবি না মানো, তবে আখিরাতে হরতাল-অবরোধ দেওয়া হবে। বাঙালি হরতাল-অবরোধ দিলে কিন্তু মহাবিপদ! পুলসিরাত ভেঙে দেওয়া হবে, তোমার আরশ ফুটু করে দেওয়া হবে, বেহেস্তে পেট্রোল বোমা মারা হবে, হুরদের জাহান্নামে ফেলে পোড়ানো হবে, আরো অনেক কিছু করা হবে, যা তুমি এবং তোমার রোবট থুক্কু ফেরেস্তারা সামাল দিতে পারবে না। তাই ভালোয় ভালোয় আমাদের দাবি মেনে নাও। 

কব্বর ভাষা বাংলা চাই! জয় বাংলা!

ইছলামী ইতরামি



২০ ফেব্রুয়ারী, ২০১৫

বকরির ল্যাদানি

লিখেছেন দাঁড়িপাল্লা ধমাধম

# আপনারা যারা দুর্গাপূজোর মণ্ডপে গিয়েছেন, বা টিভি-পত্রিকায় দেখেছেন, তাঁরা অবশ্যই জানেন যে, দুর্গামূর্তির একপাশে থাকে লক্ষী আর কার্তিকের মূর্তি এবং অন্যপাশে থাকে গণেশ আর স্বরস্বতীর মূর্তি… মাঝখানে দুর্গার মূর্তির আকার থাকে বড় এবং দুপাশে অন্য চারটি মুর্তির আকার থাকে ছোট। 

- শহীদ মিনারেও থাকে মোট ৫ টি মিনার, মাঝখানে একটি বড় মিনার ও দুপাশে দুটো করে মোট আরো চারটি ছোট মিনার, কেন?

# হিন্দুরা পূজো শুরু করে নির্দিষ্ট মুহুর্তে, যাকে বলা হয় লগ্ন… পুজোর লগ্ন বিলম্বিত হলে অমঙ্গল বয়ে আসে… 

- একুশে ফেব্রুয়ারিতেও বরাবর রাত ১২টায় শহীদ মিনারে ফুল দেয়া হয়, যতোই কনকনে শীতের রাত হোক না কেন।

# প্রতিমা স্থাপন করা হয় যে উঁচু স্থানে, তার নামই বেদী… 'বেদী' শব্দের আভিধানিক অর্থই হলো ''যজ্ঞ বা পূজোর জন্য প্রস্তুতকৃত উচ্চভূমি''…

- অপরপক্ষে শহীদ মিনারের বেদীতে মাথা ঝুঁকিয়ে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়ে থাকে।

# পূজোর জন্য গাওয়া হয় নির্দিষ্ট স্তুতি বা পাঁচালী… 

- আমি আজ পর্যন্ত শনীদ মিনারে ফুল দেবার সময় ''আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো'' ছাড়া অন্য গান গাইতে শুনিনি।

# পূজোর বেদীতে অর্ঘ্য নিবেদন করার সময় জুতো খুলতে হয়...

- শহীদ মিনারে ফুল দেবার সময়েও খালি পায়ে যেতে হয়।

# আপনারা বিভিন্ন পূজো উপলক্ষে হিন্দুদেরকে ঘরের মেঝে ও দেয়ালে আল্পনা আঁকতে দেখে থাকবেন। এসব আল্পনা আঁকা হয় মঙ্গলসূচক চিহ্ন হিসেবে…

- একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষেও কয়েকদিন ধরে সময় নিয়ে পুরো বেদীতে আল্পনা আঁকা হয়।

চিত্রপঞ্চক - ১১০


পুয়ের্টো রিকোয় মূলত খ্রিষ্টানদের আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে। প্ল্যাকার্ডে লেখা: No Books. Don't damage our kids.  


পাঠিয়েছেন মোকাম্মেল

Glory hole-এর সবচেয়ে প্রচলিত অর্থটি জেনে নিন

নাস্তিকদের কটূক্তির দাঁতভাঙা জবাব - ৫১

লিখেছেন অ বিষ শ্বাসী

আসুন, নাস্তিকদের কটূক্তির বিরুদ্ধে দাঁতভাঙা জবাব দেই...


কটূক্তি ১০১:
গুটিকয়েক জঙ্গি ইসলামের নামে যেসব সন্ত্রাস করে তা কোরান-হাদীস দ্বারাই স্বীকৃত। তাহলে কেন বলা যাবে না জঙ্গিদের কর্মকাণ্ডই ইসলামের প্রকৃত রূপ?

দাঁতভাঙা জবাব:
সিংহভাগ মুসলিমদের সাথে জঙ্গিবাদের সম্পর্ক নেই। সেই তুলনায় স্বল্প সংখ্যক সালাফিদের কর্মকাণ্ড যারা সহি ইসলাম বলে প্রচার করতে চায়, তারা মূলত মৌলবাদের হাতকে শক্ত করে। এরা সালাফি সেক্যুলার। সালাফি মুসলিমদের সাথে এরাই জঙ্গিবাদের জন্য দায়ী।


কটূক্তি ১০২:
উত্তরাধিকার সম্পত্তিতে কন্যার অধিকার থাকলেও অধিকাংশই মুসলিমই তা মান্য করে না। তাহলে কি বলতে হবে উত্তরাধিকার সম্পত্তিতে কন্যাশিশুর অধিকার ইসলামের অংশ নয়?

দাঁত ভাঙা জবাব:
কন্যাশিশু উত্তরাধিকার সম্পত্তিতে হক আছে, তা ইসলাম সম্মত এবং কোরান-হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। যদি একজন মুসলিমও তা পালন না করে, তার জন্য ইসলাম পরিবর্তিত হয়ে যায় না।

দাঁতভাঙা কার্টেসি: বামাতি এবং মডারেট।

[বি.দ্র. কটূক্তির বদলে দাঁত ভাঙা জবাব গুলো আমার নয়। বিভিন্ন সময়ে ভার্চুয়াল মুমিনগণ যে জবাব দিয়েছেন তা কপি করে ছড়িয়ে দিচ্ছি শুধু। আপনারাও সবাই শেয়ার করে নাস্তিকদের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে জবাব দিন, ঈমান পোক্ত করুন...]

১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০১৫

আমার বোরখা-ফেটিশ – ১৩৬



কোরান কেন পোড়ান হলো

লিখেছেন মহা নাস্তিক

আমার একটা প্রশ্ন আছে, যা আমি শেয়ার করতে চাই। আচ্ছা, কোরান কি বিশুদ্ধ অর্থাৎ এটাই কি সেই কোরান যা হজরত মোহাম্মদ দিয়েছিলেন? 

আমার এমন সন্দেহের কারণগুলি নিচে উল্লেখ করলাম:

১. নবীর চার জন শিষ্য ছিলেন যাদেরকে প্রফেট নিজে কোরান উচ্চারণ শিখিয়েছিলেন। তাঁরা হলেন মাসুদ, সালিম, হুদায়ফার মুক্ত দাস, উবে বি কাব আর মুয়াধ বিন জাবাল। এঁরা নিজেরা নিজেদের মত করে কোরানের সংস্করণ বের করেছিলেন। খলিফা ওসমানের আমলে যখন কোরানের অন্য সংস্করণগুলি জ্বালিয়ে দেয়া হয় এবং একটি নতুন কোরান রচনা করা হয়, যা আজকে আমরা পড়ি, তখন এঁরা প্রতিবাদ করেছিলেন। এঁদের মধ্যে মাসুদ বলেছিলেন: আমি কীভাবে এই নতুন কোরান উচ্চারণ করব, "যেখানে আমি নবীর মুখ থেকে মূল কোরান শুনেছি।" প্রশ্ন হলো - এঁরা নতুন কোরান উচ্চারণ করতে চাইলেন না কেন?

২. নতুন কোরান লিখেছিলেন জায়েদ নাম এক তরুণ লেখক। তিনি নবীর মৃত্যুর বহু পরে জন্মেছিলেন। তাঁর লেখা কীভাবে নবীর ব্যক্তিগত শিষ্যদের চাইতে বেশি বিশ্বাসযোগ্য হবে?

৩. নবীর নিজের স্ত্রী হাফসার কাছে মূল কোরানের একটি পাণ্ডুলিপি ছিল। তিনি তা জ্বালাতে দেননি। হাফসার মৃত্যুর পর ওই শেষ কোরানটিও জ্বালিয়ে দেয়া হ। প্রশ্ন হলো - তিনি কেন তাঁর কোরানটি জ্বালাতে দিলেন না? তিনি কি কিছু দেখেছিলেন নতুন কোরানে, যা তিনি মূল কোরানে পাননি? 

৪. কেন খলিফা অসমান চলতি কোরানগুলি জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন? 

এইসব প্রশ্নের উত্তর জানা খুব জরুরি। 

হা-হা-হাদিস – ১২৬

অনুবাদ ও ফটোমাস্তানি: নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক


মন্দিল-খুশি-করা ইলাস্ট্রেশনসহ বাংলায় অনূদিত আরও অসংখ্য মজাদার হাদিসের সংকলনটি যাঁরা এখনও দেখেননি, তাঁরা কতোটা মিস করেছেন, তা ডাউনলোড করে নিয়ে নির্ধারণ করুন।

https://docs.google.com/file/d/0B1lqaonhgir4N3ZCcWk1WTdQdkk/edit?usp=sharing

http://www.nowdownload.ch/dl/da441c35c51a0

ফরম্যাট: পিডিএফ
সাইজ: ১০.৭৪ মেগাবাইট

১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০১৫

মমিনীয় বেইজ্জতী প্রতিরক্ষা পদ্ধতি

লিখেছেন দাঁড়িপাল্লা ধমাধম

# রোদেলা প্রকাশনীর বাংলাবাজারের অফিসে হামলা চালিয়ে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে এদেশের শান্তিপ্রিয় মুসলমানরা। এটা পুরান খবর। (সামান্য একটা সহিহ হাদিস কপি-পেস্ট করে দিলেই যেখানে মমিনরা বেইজ্জতী রাখার জায়গা পায় না, সেখানে মুহাম্মদ তার ২৩ বছরের নবী জীবনে কী কী করেছে, সেগুলো পড়ে তারা আর বেইজ্জতী হতে চায় না।) নতুন খবর হলো বাংলা একাডেমিও বই মেলায় রোদেলা প্রকাশনীর স্টল বন্ধ করে দিয়েছে এই একই অজুহাতে। অজুহাতটা হলো - ইরানের বিখ্যাত লেখক আলি দস্তির ‘নবী মুহাম্মদের ২৩ বছর’ বইটির বাংলা অনুবাদ করেছেন আবুল কাশেম ও সৈকত চৌধুরী এবং বই আকারে প্রকাশ করেছে রোদেলা প্রকাশনী।

# আলি দস্তির মূল বইটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিষিদ্ধ নয়, নিষিদ্ধ নয় বাংলাদেশেও। যে কেউ এর ইংলিশ ভার্শন কিনে পড়তে পারেন। তাহলে বাংলা অনুবাদে সমস্যা কোথায়? অনুবাদে ভুল আছে? তসলিমা নাসরিন কিংবা হুমায়ুন আজাদের বই মমিনরা না পড়েই নিষিদ্ধের দাবি করে, কারণ এনারা ধর্মকর্ম করেন না। তাদের বইয়ে ভুলটা কোথায়, সেটা কোনো মমিন আজ পর্যন্ত বলতে পারল না! ‘নবী মুহাম্মদের ২৩ বছর’ বইটির অনুবাদও কোনো মমিন পড়ে দেখে নাই, পড়ে দেখাতে পারে নাই যে, কোথায় অনুবাদে ভুল আছে। তারপরেও এত ক্যাচাল… কারণ বইটির অনুবাদক দু'জনের কেউও ধর্মকর্ম করেন না। চুলকানিটা এখানেই! আর চুলকানি হবেই বা না কেন! ২/৩ ইঞ্চি বাঁকানো আগা মোটা গোড়া চিকন ঈমানদণ্ডে চুলকানি বেশি - সে আর নতুন করে কী বলব!

# একটা মজার বিষয় - কোরানের বাংলা অনুবাদ করেছে মমিনরা। কেউ সেই অনুবাদ কপি-পেস্ট করলে আবার মমিনরাই বলে - অনুবাদে ভুল আছে! ইসলামের ইতিহাস মুসলমানদেরই লেখা। নাস্তিকরা নতুন করে কোনো কিছু বানিয়ে বলে না। তারা শুধু দেখায় মুসলমানদের নিজেদের বানানো কাহিনীতেই অসঙ্গতি এবং তথ্যে গরমিল। এরকম হয়, কেননা একটা মিথ্যাকে সত্য প্রতিষ্ঠা করতে সেই মিথ্যাকে আগে ঢাকতে হবে। একটা মিথ্যাকে ঢাকতে আরো হাজারটা মিথ্যার দরকার হয়। এভাবে শেষ পর্যন্ত পুরা জিনিসটাই তাসের ঘরের মত পুরা মিথ্যার ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়। তারপর একটা মিথ্যাকে টান দিলে যা হয়… পুরা কাহিনীটাই প্রশ্নবিদ্ধ!

# কয়েকদিন আগে ইসলামের ইতিহাস থেকে হামযা আর নবীর জন্ম কাহিনীর দুইটা লাইন তুলে দিয়ে নাস্তিকরা দেখিয়েছে, তথ্যে গরমিল আছে। সেটা মেকআপ দিতে মমিনরা আরো হাজারটা অযৌক্তিক তথ্যের আমদানি করেছে। কেউ কেউ বলেছে, নবী নাকি তার মায়ের গর্ভে ৪ বছর ছিল! ঈশা নবীর মত নবীও যে আল্যার মাল, সেইটা কইতেই শুধু বাকি রাখছে! আরেকটু চেপে ধরলে তারা এটাও বলবে একদিন... আমি নিশ্চিত!

# যা হোক, আলি দস্তির ‘নবী মুহাম্মদের ২৩ বছর’ বইটিতে লেখক কোথাও নিজ থেকে আগ বাড়িয়ে নবীকে কোনো বিশেষণে ভূষিত করেন নাই। তিনি শুধু ইসলামিক ইতিহাস থেকে তথ্য নিয়ে পর্যালোচনা করেছেন। ঈমানদণ্ডে কী পরিমাণ চুলকানি থাকলে এতেই মমিনরা এত ক্ষিপ্ত হয়ে উঠতে পারে, একটু ভেবে দেখেন!