১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০১৬

ভিডিও লিংকিন পার্ক

১. মুছলিমদের অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে গড়গড় করে অবিরল মিথ্যে কথা বলে তাদের ভেতরে বিপুল জনপ্রিয়তা লাভ করা জোকার নালায়েকের অজস্র মিথ্যাচারের একটি ফাসঁ করা হয়েছে বাংলা সাবটাইটেলযুক্ত এই ভিডিওতে। বলে রাখা দরকার, ভিডিওটিতে বানিয়েছে এক ধর্মপ্রাণ খ্রিষ্টান।

২. "মুছলিমদের পাঁচটি আবালীয় বিশ্বাস" - মডারেট মুছলিমের সঙ্গে ত্যাঁদোড় নাস্তিকের কথোপকথনের আদলে বানানো প্রায় ১৭ মিনিট দীর্ঘ ভিডিও। পরম উপভোগ্য। 

৩. সমস্ত ধর্মীয় কিতাবই অগণন পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে ঠাসা বলে নাস্তিকদের সঙ্গে বিতর্কে বিশ্বাসীরা বড়ো বেকায়দায় পড়ে বলে তাদের উদ্ধার করতে বাজারে এসেছে নতুন পন্থা: "নাস্তিকদের মতো অপ্রয়োজনীয় উপাদানকে সমাজ থেকে ছেঁটে ফেলতে ভগবানেশ্বরাল্যা ইচ্ছে করে ঐশী কিতাবগুলোতে পরস্পরবিরোধী বাণী জুড়ে দিয়েছে।" 

৪. "বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সমস্ত জ্ঞানের অতি-অতি ক্ষুদ্র একটি অংশ আপনার দখলে, অতএব আপনার ক্ষুদ্র জ্ঞানের বাইরের অতিকায় পরিসরে ঈশ্বরের অস্তিত্ব নিশ্চয়ই থাকতে পারে" - এমন আস্তিকীয় দাবিটি কেন আকাটমূর্খতার পরিচয়বাহী, তা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে প্রমাণ করে দেয়া হয়েছে এই ভিডিওতে। 

৫. ইছলাম যেহেতু একটি সহিংস, উগ্র ও ঘৃণাপূর্ণ ভাবাদর্শ, তাই সুস্থচিন্তাক্ষম প্রতিটি মানুষেরই ইছলামবিদ্বেষী বা নিদেনপক্ষে ইছলামবিরোধী না হওয়াটাই অস্বাভাবিক। তবে ইছলামবিদ্বেষ ও মুছলিমবিদ্বেষ কিন্তু এক নয়। প্যাট্রিক কন্ডেলের অনবদ্য বক্তব্যের ভিডিও

৬. মুছলিম বিগ্যানী প্রমাণ করছে, পৃথিবী স্থির এবং মানুষ কখনও চাঁদে যায়নি

৭. "তুমি কাঁঠালপাতার রং দেখোনি" - বাংলা হা-হা-হামদ।

৮. দশ মিনিটের শর্ট ফিল্ম - Farid in the West. বাংলায় বলা যেতে পারে - ইহুদি-নাছারাদের দেশে ফরিদ। 

প্রক্সি ব্যবহারকারীদের জন্য ভিডিওগুলোর লিংক:
১. https://youtu.be/5w8q4GJP_uc          ৫. https://youtu.be/jIaGWURONRU
২. https://youtu.be/2SRx7Fhu5Do         ৬. https://youtu.be/s4PbPbPKJIQ
৩. https://youtu.be/cf5dJEHH49o          ৭. https://youtu.be/EiROkoJt8OU
৪. https://youtu.be/0uaDvQJSQlY          ৮. https://youtu.be/hMP_qaPRlEo

কোলাজলজ্জাহীন


মূর্খাকীর্ণ দেশ আমাদের

লিখেছেন জর্জ মিয়া

কিছুদিন আগে একটা ইহুদি-নাসারাদের দূতাবাসে গিয়েছিলাম এক কাজে। সেখানকার এক কর্মকর্তার সাথে আমার বেশ খানিক সময় ধরে আলাপ হয়েছিল। যিনি ঐ দেশের ভিসা প্রসেসিংটা দেখেন। আলাপের এক পর্যায়ে তিনি আমাকে ধর্মীয় জ্ঞান দেয়া শুরু করেলেন। শুরুটা এমন ছিলো, "আমরা বেঁচে আছি, বেঁচে থাকাটা সাময়িক। কিন্তু মৃত্যুপরবর্তী জীবন অনাদি। সুতরাং সেই অনন্তকালের জন্য আমাদের নামাজ-কালাম পড়াটা বাধ্যতামূলক।"

তিনি আমাকে জিজ্ঞাসিলেন, নামাজ-টামাজ পড়ি কি না। জবাবে যা সত্য, তাই বলে দিলাম - একেবারেই পড়ি না। এ কথার পৃষ্ঠে তিনি আমাকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন যে,  হেদায়েতের মালিক স্বয়ং আল্যা। আমিও তাঁর কথায় সায় দিলাম এই বলে যে, তিনি না হেদায়েত দিলে আপনি বা আমি কেউই কাউকে ধর্মে টানতে অক্ষম। এ কথার পরেই তিনি বলেছিলেন, সেই অনন্ত কাল কী করে আমাদের থাকবে, যদি না আমরা উক্ত কালের জন্য কিছু কাজ না করি?

জবাবে আমি তাকে বলেছিলাম, "আপনি মনে করে দেখুন, পৃথিবী নামক এই ছোট্ট গ্রহে আসার আগ মুহুর্তের কিছু আপনার স্মরণে আছে কি?" তিনি বললেন, নেই। এটা মেমোরি থেকে তাঁর আল্যা ডিলিট করে দিয়েছেন। আমি তাকে আবারও প্রশ্ন ছুড়ে দিলাম, "মৃত্যুপরবর্তী সময়ে আপনার এই ইহজাগতিক কোনো স্মৃতি মনে থাকবে কি?" তিনি বললেন যে, থাকবে।

আবারও প্রশ্ন করলাম, "আপনি পৃথিবীতে আসার আগের কোনো স্মৃতি মনে করতে পারছেন না কোনভাবেই। সেখানে এই জীবনের পরে আপনার বর্তমান স্মৃতি কী করে ধরে রাখবেন? তার কোন ক্লু দেখাতে পারবেন কি?" তিনি এবারে নিশ্চুপ রইলেন।

এবারে আমি তাকে পুনরায় বললাম, "পরকাল বলতে আদৌ কিছু আছে কি না, সেটা আগে জানা দরকার। আপনি স্বীয় ধর্মীয় গ্রন্থসমূহ ব্যতীত অন্য কোথাও এই পরকাল সংক্রান্ত কোনো তথ্যই কাউকে দেখাতে পারবেন না।" কিছুক্ষণ নীরব থেকে তিনি আবারও বলতে শুরু করলেন, "বিজ্ঞানীরা এখনকার মানুষের গড় আয়ু ধরে বলে দেন একটা নির্দিষ্ট সংখ্যা, যা বেশিও হতে পারে, আবার কমও হতে পারে। কিন্তু আল্যা যার মৃত্যু যখন নির্ধারণ করে রেখেছেন, ঠিক তখনই তা ঘটবে।"

আবারো পাল্টা প্রশ্ন করলাম, "আপনার আল্যা কি আপনার কিংবা কোনো মানুষের মৃত্যু কখন ঘটবে, সেটা জানিয়ে দেন?" জবাবে তিনি আমাকে বললেন, না, এটা সম্ভব না। তখন বললাম, "বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক সংস্থা মানুষের আয়ু বাড়ানো নিয়ে কাজ করছেন। বিভিন্ন জার্নালে তার আশানুরূপ ফলাফলও প্রকাশ পাচ্ছে। এখন যদি বিজ্ঞানীরা মানুষের গড় আয়ু সত্যিই অনেক বাড়িয়ে দিতে পারেন, সেখানে আল্যার ক্ষমতা কী টিকে থাকবে? আর তাছাড়া আপনি যে-দেশের হয়ে কাজ করছেন, সে দেশের বেশিরভাগ মানুষই তো ধর্মহীন।"

এরপরে ভদ্রলোক আমার সাথে আর কথা বাড়ালেন না। শুধুমাত্র বললেন, "ভাই, ধর্ম বিশ্বাস করলে মানসিক প্রশান্তি আসে। নানা রকম অন্যায় থেকে বিরত থাকা যায়।" আমি বললাম, "যদি আপনি মানসিক প্রশান্তির জন্য ধর্মপালন করে থাকেন, তবে সেটাকে আপনার নিজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখাটা বাঞ্ছনীয়। আর  দিক থেকে আপনার ধর্মের জন্ম যে-দেশে, সেই সৌদি আরবের অন্যায়-পাপাচারের সাথে এই দূতাবাসের দেশের তুলনা করে দেখুন, পার্থক্যটা এখানে একটা স্পষ্ট মোটাদাগে দেখা যাবে পরিষ্কার।"

আমি আসলে বুঝি না, এমন ধর্মান্ধ মানুষগুলো কোন মুখে এসব জায়গায় চাকরি করতে পারে! 

প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে শিক্ষিত আপনি যতই হন, যতগুলো ডিগ্রি আপনার থাকুক না কেন, যতক্ষন আপনি অন্ধ বিশ্বাসকে ভেঙে বাস্তব ও প্রমাণিত সত্যকে স্বীকার করতে না পারছেন, ঠিক ততক্ষন পর্যন্ত আপনি একটা গণ্ডমুর্খ! আর এমন মুর্খে ছয়লাব আমাদের দেশ।

দোজখবাসের বৈধ কারণ

১২ ফেব্রুয়ারী, ২০১৬

বৃত্তের বচন - ০১

লিখেছেন সমকোণী বৃত্ত

১.
- অর্থ, শ্রম ও সাধনা সবই একসাথে কীভাবে জলে যায়?
- মূর্তিপূজা করার মাধ্যমে।

২.
ছোটবেলায় যখন বই খোলা রেখেই খেলতে যেতাম, মা তখন খুব বকা দিতেন আর বলতেন, আর কখনোই যেন বই খোলা রেখে চলে না যাই। কারণটা ছিল বই খোলা রাখলে নাকি বই শয়তানে পড়ে। 

তাই আজ আমি কুরান, বাইবেল, বেদ সবগুলোকে সারাদিন ধরে খুলে রেখেছি, যাতে শয়তান এসে সব পড়তে পারে।

ওরে শয়তান, আর কতদিন শয়তান হয়ে থাকবি? এবার তো একটু হেদায়েত প্রাপ্ত হ...

৩.
কেউ খারাপ কিছু করলে তার দায়ভার 'ধর্ম' না নিলেও কেউ যখন ভাল কিছু করে তার কৃতিত্ব 'ধর্ম' ঠিকই নিয়ে নেয়।

আমাদের আত্মীয়েরা – ৮৯

আমরা বানরেরই বংশধর, হাওয়ার পোলা নই।

ধর্মকারীর এই সিরিজে এ যাবত প্রকাশিত সমস্ত ছবির ভেতর থেকে আমার দৃষ্টিতে সবচেয়ে মনছোঁয়া সাতটি ছবির সংকলন। সবগুলো দেখতে নিচের খুদে ছবিগুলোয় একের পর এক ক্লিক করুন।

হার-না-মানা ডারwin

আজ ডারউইন দিবস। তাঁর জন্মদিনেই। ধর্মতত্ত্বের মূল ধারণাকে, বিশেষ করে আব্রাহাম্মক ধর্মগুলোয় (ইহুদি, খ্রিষ্ট, ইছলাম) বর্ণিত সৃষ্টিতত্ত্ববাদকে, একেবারেই ভুয়া ও হাস্যস্পদ করে তোলার পেছনে চার্লস ডারউইনের চেয়ে বেশি অবদান রাখেনি আর কেউই। ১৮৫৯ সালে তাঁর পর্যবেক্ষণ-লব্ধ তত্ত্ব আজ নির্ভুল প্রমাণিত হয়ে ভগবানেশ্বরাল্যাকে অপ্রয়োজনীয় করে তুলেছে। বিবর্তন এখন এতোটাই অকাট্য ও প্রামাণ্য সত্য যে, এতে কোনও ভুল বের করে যে-কেউ নোবেল পাবার যোগ্যতা অর্জন করে ফেলতে পারবে। রিচার্ড ডকিন্স তো বলেই দিয়েছেন, বিবর্তনকে মিথ্যে প্রমাণ করা খুবই সহজ - মাটির তলায় পাওয়া ফসিলগুলোর কালানুক্রমিকে সামান্যতম গড়বড় পেলেই বিবর্তন বিষয়ক সমস্ত দাবি ধ্বসে পড়বে।

অথচ বিবর্তনবিরোধী বিবিধ ধর্মবাজ ও তাদের অনুসারীরা এই সহজ কাজটিও করতে পারেনি। পারেনি ধর্মীয় বিগ্যানীরাও। কারণ কাজটি অসম্ভব এবং এদের দৌড় তাদের উপাসনালয় পর্যন্তই।

ডারউইন দিবসে চারটি চমৎকার পোস্টার (আকারে অতিকায় বলে ব্লগে পোস্ট করা গেল না) এবং তাঁকে উদ্দেশ্য করে ব্রিটিশ গ্রুপ Chumbawamba-এর গাওয়া মনোহর লিরিকস-এর একটি হাসিখুশি গান শোনা (ভিডিওতে দেখার কিছুই নেই) যাক:


ভিডিও লিংক: https://youtu.be/HUZimSEpZ0U

Chumbawamba - Charlie

All of nature in its place by hand of the designer
Comes our Charlie spins the world from here to Asia Minor
In between the Platypus and perfect Aphrodite
Charlie come with opposing thumb to question the Almighty

Over the river and over the sea through holy storm and thunder
Steer a course for a brave new world of common sense and wonder

See the dancing President, the congressman and teacher
Jumpin' to the music of the wealthy Midwest preacher
Charlie come with a brand new dance get on the floor and follow
Find yourself a partner and we'll swing into tomorrow

Over the river and over the sea through holy storm and thunder
Steer a course for a brave new world of common sense and wonder

Armed with truth we're stepping out come join the worldwide party
Charge your glass and face the world we'll drink a toast to Charlie

Over the river and over the sea through holy storm and thunder
Steer a course for a brave new world of common sense and wonder.

হারাম-ই-ইছলাম

পাঠিয়েছেন সাঈদুর রহমান

১১ ফেব্রুয়ারী, ২০১৬

ইছলাম ত্যাগের কারণসমূহ - ২০

ব্রিটেনের কাউন্সিল অভ এক্স-মুসলিম নামের সংগঠনের উদ্যোগে #ExMuslimBecause নামে টুইটারে একটি প্রচারণা অত্যন্ত জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। প্রাক্তন মুছলিমরা উপস্থাপন করছে ইছলাম ত্যাগের বিবিধ কারণ। অতি দীর্ঘ ও ক্রমবর্ধমান এই কারণ-তালিকা থেকে কিছু সরস ও সিরিয়াস কারণ অনুবাদ করে প্রকাশ করা হচ্ছে ধারাবাহিকভাবে। এতে যুক্ত করা হচ্ছে/হবে ধর্মকারীর ঠিকানায় পাঠানো লেখা/ছবি/ভিডিওও।

পর্ব ১ > পর্ব ২ > পর্ব ৩ > পর্ব ৪ > পর্ব ৫ > পর্ব ৬ > পর্ব ৭ > পর্ব ৮ > পর্ব ৯ > পর্ব ১০ > পর্ব ১১ > পর্ব ১২ > পর্ব ১৩ > পর্ব ১৪ > পর্ব ১৫ > পর্ব ১৬ > পর্ব ১৭ > পর্ব ১৮ > পর্ব ১৯

Yazeed: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ আমি এমন কোনও নবীর অনুসারী হতে পারি না, যে এক ইহুদি মেয়ের স্বামী, পিতা ও ভাইকে তার চোখের সামনে হত্যা করে সেই একই দিনে সেই মেয়েকে ধর্ষণ করেছে।

AtheistInHijab: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ আমি স্বাভাবিক জীবন চেয়েছিলাম। চেয়েছিলাম উপযুক্ত পোশাক পরে স্কুলের নাচের অনুষ্ঠানে যেতে। চেয়েছিলাম আমার চুলে বাতাসের স্পর্শ অনুভব করতে, আমার চামড়ায় রোদ লাগাতে। চেয়েছিলাম স্বাধীনভাবে ভালোবাসতে।

সোহরাব: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ আমাদের দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষের রাজাকারতোষণ ও বিকৃত পাকিপ্রীতির পেছনে একমাত্র কারণ ইসলাম।

Hazem Farraj: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ আমি শিশুবিবাহ, জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণ, জিজিয়া কর, ব্ল্যাসফেমি আইন ও বৈষম্যে বিশ্বাস করি না।

PakistaniProtest: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ ইসলাম একটি জঙ্গিবাদী ধর্ম এবং আমাদের দেশে অশান্তির প্রধান কারণ ইসলামী জঙ্গিরা।

Pink life: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ আমি জানতে পেরেছি, মুহাম্মদ হত্যা করেছিল Alnasar Bin Alharth-কে (এক বুদ্ধিজীবী), কারণ তাঁর সঙ্গে যুক্তিতে না পেরে অপদস্থ হতো সে।

Imran Said: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ আতঙ্কজাগানিয়া বিপুল সংখ্যক মুছলিম মনে করে, ইছলামত্যাগী ও ব্ল্যাসফেমারদের হত্যা করাই উচিত।

Elyzcheva: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ যে-কিতাব বলে, আমার জন্ম হয়েছে পুরুষের পঞ্জরাস্থি থেকে ও সাপের কথায় প্রলুব্ধ হতে, সেই কিতাব পড়ার চেয়ে টেলিস্কোপ দিয়ে আকাশ দেখা উত্তম।

CaptCaustic: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ মানুষের মুখওয়ালা উড়ন্ত ঘোড়া, ফেরেশতা, জ্বিন... হাহাহা... বেজায় মজাদার!

Sina: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ আল্যা বলেছে মুশরিকদের সঙ্গে চুক্তি করতে এবং চুক্তি শেষ হয়ে যাবার পর তাদের হত্যা করতে।

প্রকৃত মূত্রমনারা - ০১

অবাস্তব, ভিত্তিহীন ও যুক্তিরহিত কথা বলায় মমিনদের জুড়ি নেই। এই যেমন 'মুক্তমনা' শব্দটিকে তারা ব্যঙ্গ করে 'মূত্রমনা' বলে থাকে, যদিও বিন্দুমাত্র কারণ নেই এর পেছনে। মুক্তমনাদের মূত্রপ্রীতির কথা কখনও শোনা যায় না। তাই বলে মূত্রমনা বলে কেউ নেই, তা কিন্তু নয়।

বর্তমান সিরিজে হাতে-কলমে প্রমাণ করা হবে, প্রকৃত মূত্রমনা কারা। এই যেমন, ইছলামের নবী উটের প্রস্রাব মমিনদের জন্য হালাল করে দিয়ে তা পান করার নির্দেশনাও দিয়েছে। তাইলে কী খাড়াইল? কারা আসলে মূত্রমনা?

ভিডিও লিংক: https://youtu.be/bRoQPYVJsuw

নীরব নাস্তিকতা নয় আর

লিখেছেন লেখক অন্তরালে

আজকাল খুব শুনতে পাই এই কথাটা: "আপনি আপনার নাস্তিকতা নিয়ে থাকুন না, ভাই! আমি আমার ধর্ম নিয়ে থাকি। শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান। খামাখা আপনারা ধর্মের পিছনে লেগে, তার নানা অসামঞ্জস্য খুঁজে ধার্মিকদের মনে কষ্ট দেন কেন? তারা তো আপনাদের পেছনে লাগতে যায় না! ধর্ম হলো বিশ্বাসের ব্যাপার - যে যার মত নিজের বিশ্বাস নিয়ে থাকলে ক্ষতি কী? দুনিয়াতে ধর্ম ছাড়াও আরো হাজারো সমস্যা আছে, সেগুলো নিয়ে কথা বলুন।"

এটা মোটামুটি উদারপন্থী মডারেট ধার্মিকের বয়ান। তবে তার চেয়ে যারা একটু কম উদার, তাঁরা বলেন: "ভাই, আপনারা ধর্ম নিয়ে লিখলে ধার্মিকেরা অনুভূতিতে আঘাত পায়। কাজেই আপনারা এইসব লেখালেখি বন্ধ করেন, নিজের নাস্তিকতা নিয়ে নিজেরা থাকেন। দেখেননি, আগের দিনে লালন শাহ, বেগম রোকেয়া, কবি নজরুল, আরজ মাতুব্বর কীভাবে নাস্তিকতা করে গেছেন? তাদেরকে কি কেউ খারাপ বলে, কিংবা চাপাতি নিয়ে কোপাতে যায়? তাদেরকে কেউ উগ্র নাস্তিক বলে? বলে না।"

আমি অবাক হয়ে শুনি তাদের কথা। তাদের ভাষ্য মতে, আমাকে নীরব নাস্তিক হয়ে যেতে হবে, আমার নাস্তিকতা আমার ঘরের ভেতরে তুলে রেখে বাইরে থেকে তালা দিয়ে রাখতে হবে, যেন কেউ দেখতে না পায়, কিংবা কারো অনুভূতি আহত না হয়। যারা কয়েক মিলেনিয়াম ধরে প্রাচীন ধ্যান-ধারণা আজকের দুনিয়ায় চর্চা করছে, যারা মসজিদে দিনে পাঁচবার আজান দিয়ে কিংবা মন্দিরে বারো মাসে চোদ্দবার ঢোল পিটিয়ে সবাইকে দাওয়াত দিয়ে সে কাজ করতে পারবে, আর আমি মানবজাতির প্রগতির বাহন বিজ্ঞান ও দর্শনের আলোকে সেগুলোকে ভ্রান্ত মনে করি বলে আমাকে চুপ থাকতে হবে। যে ২+২ = ৫ বলে বেড়াচ্ছে, এবং তা দিয়ে সমাজে নানা সমস্যা তৈরি করে বেড়াচ্ছে, সে সরবে তা বলে বেড়াবে, আর আমি ২+২ = ৪ বললে তাতে ওদের অনুভূতি আহত হবে! ধর্ম এবং ঈশ্বর আধুনিক বিজ্ঞানের কাছে একটি ব্যর্থ অনুকল্প। দুনিয়া অনেকদুর এগিয়েছে। এখনো আমরা যদি কাউকে কুসংস্কারে আবদ্ধ দেখি, অন্ধবিশ্বাসে আবদ্ধ দেখি, প্রাচীন অতিপ্রাকৃত ভিত্তিহীন ঈশ্বরের আরাধনায় ব্যস্ত দেখি, আমি কি আমার ভাবনাগুলোকে আমার নিজের দেয়ালে, নিজের পাতায়, নিজের আকাশেও প্রকাশ করতে পারব না?


কেউ কেউ বলবেন, ধর্মকে আহত না করে কিংবা ধার্মিকদেরকে আহত না করে আপনাদের মতগুলো প্রকাশ করুন। কিন্তু যখন দেখি, এই সব অন্ধবিশ্বাস আর কুসংস্কার মানুষের জীবনকে, সমাজকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে, পেছনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে এবং সহিংসতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে, তখনো কি আমরা চুপ থাকব? ওরা যখন বাহাত্তুরের সেক্যুলার বাংলাদেশকে, কিংবা বাংলাদেশের স্বাধীনতার একটা প্রধান স্তম্ভ - ধর্মনিরপেক্ষতাকে জলাঞ্জলি দিয়ে ধর্মভিত্তিক তথা চাপাতিভিত্তিক প্রজাতন্ত্র বানিয়ে ফেলবে, তখন আমরা তাতে বাধা দেব না? ওরা যখন সভ্যতার সূতিকাগার টাইগ্রীস-ইউফেটিস বিধৌত মেসোপটেমিয়াকে হাবিয়া দোজখ বানিয়ে ফেলবে কল্পিত মহাজনের নামে, তখনো কি আমরা মুখে কুলুপ এঁটে বসে থাকব? ধর্মের কারণে ওসামা বিন লাদেন আমেরিকার টুইন টাওয়ারে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করে, বাংলাদেশে মসজিদ-মন্দির-প্যাগোডা ভাঙা হয়, ব্লগারদেরকে হত্যা করা হচ্ছে দিনের আলোতে, তারপরেও আমরা, সত্য জানা সত্ত্বেও, চুপ করে থাকব? নিজের ভাবনাগুলো নিজের মাথায় আবদ্ধ করে রেখে 'ভদ্র' নাস্তিকের তকমা জোটাব? ধর্মবিশ্বাসের কারণে আজ জার্মানীতে এক পাকিস্তানী বাবা তার উনিশ বছরের মেয়েকে হত্যা করেছে, কারণ সে তার বয়ফ্রেন্ডের সাথে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়েছিল। ধর্মবিশ্বাসের কারণে ব্রিটেনের বা অস্ট্রেলিয়ার তরুণ মুসলমান ছেলেরা সিরিয়ায় জঙ্গীবাহিনীতে যোগ দিচ্ছে। ধর্মবিশ্বাসের কারণে কর্ণাটকে মুক্তচিন্তক ও গবেষক অধ্যাপক কুলবার্গি খুন হয়ে যান, খুন হয়ে যান ভাষাতত্ত্ববিদ সাহিত্যিক হুমায়ুন আজাদ। ধর্মবিশ্বাসের কারণে বাংলাদেশের তরুন নাফিস নিউইয়র্কে বোমা হাতে ধরা পড়ে। ধর্মবিশ্বাসের কারণে বাংলার হাজারো মানুষ হজ্জ্বের নামে সৌদি রাজতন্ত্রকে সোনার মার্সিডিজ কেনার তহবিল যোগান দিয়ে যাচ্ছে। কল্পিত এক শয়তানকে পাথর ছুঁড়ে মারতে গিয়ে সহযাত্রীদের পদতলে পিষ্ট হয়ে মরছে হাজারে হাজারে। ধর্মের নামে ময়মনসিংহে-এলাহাবাদে জাকাত/পূণ্যের আশায় মানুষেরা একে-অপরকে পদদলিত করে প্রাচীন দেবতাদের পীঠস্থান কাবায় পদদলিত হয়ে মরে হাজারে হাজার মানুষ। ধর্মবিশ্বাসের কারণে পাকিস্তানে, আফগানিস্তানে মেয়েরা শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়, বঞ্চিত হয় জীবনের নানা অধিকার থেকে। ধর্মবিশ্বাসীদের কারণে দেশের অনেক মুক্তচিন্তককে দেশছাড়া হতে হয়েছে ও হচ্ছে। তবুও এই ভুল বিশ্বাসে বিশ্বাসীরা জনসমক্ষে তাদের বিশ্বাসের চর্চা করে যাবে, আর সচেতন বিজ্ঞানমনস্ক মানুষেরা তাদের ভাবনাকে সিন্দুকে পুরে রাখবে?

চেয়ে চেয়ে দেখলাম

পূর্ণাকারে দেখতে ছবির ওপরে ক্লিক করতে হবে

১০ ফেব্রুয়ারী, ২০১৬

লওহে মাহফুজের সন্ধানে: ক্যাটম্যান সিরিজ - ১২

লিখেছেন ক্যাটম্যান

মুক্তচিন্তা চর্চা, প্রচার ও প্রসারের কারণে ধর্মান্ধ মৌলবাদী জঙ্গীগোষ্ঠীর নৃশংস হামলার শিকার হুমায়ুন আজাদ, রাজিব হায়দার, অভিজিৎ রায়, ওয়াশিকুর রহমান বাবু, অনন্ত বিজয় দাশ, নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় নিলয় ও ফয়সল আরেফিন দীপন সহ নিহত ও আহত সকল মুক্তচিন্তকের স্মরণে এই লেখাটি অপরিমেয় ভালোবাসার স্মারক স্বরূপ নিবেদন করছি।


লক্ষণীয় বিষয় হলো এই যে, পরোক্ষভাবে মূসার পরমেশ্বর পুনরায় স্বীয় নিরাপত্তা বিষয়ক ভীতি প্রকাশ করেছেন এখানে এবং মূসাকে এবারও প্রথমবারের ন্যায় কঠোর গোপনীয়তা অবলম্বনের নির্দেশ প্রদান করেছেন। মূলত মূসা তার পরিকল্পিত পরমেশ্বরের অনুপস্থিতি আড়াল করতে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে স্বীয় ঈশ্বরের ভূমিকায় কঠোর গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা বজায় রাখার আদেশ জারি করেছেন। এতে করে ইস্রায়েলের জনগণ অতি গোপনীয়তা বজায় রাখার বিষয়টিকে যেন মূসার প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড আড়াল করার অপপ্রয়াস বিবেচনা না করে ঐশ্বরিক আদেশ বাস্তবায়নের বাধ্যবাধকতা হিসেবে বিবেচনা করেন।

দ্বিতীয়বার প্রস্তরফলক প্রদানের বিষয়ে বাইবেলের ‘দ্বিতীয় বিবরণে’ বলা হয়েছে:
সেসময় প্রভু আমাকে বললেন, তুমি প্রথমগুলোর মত দু’খানা প্রস্তরফলক কেটে আমার কাছে পর্বতে উঠে এসো, এবং কাঠের একটি মঞ্জুষা তৈরি কর। যে প্রথম প্রস্তরগুলো তুমি ভেঙে দিলে, সেগুলোতে যে যে বাণী লেখা ছিল, তা আমি এই দুই প্রস্তরফলকে লিখব, পরে তুমি তা সেই মঞ্জুষাতে রাখবে। [দ্বিতীয় বিবরণ ১০:১-২]
তবে এ বিষয়ে বাইবেলের বর্ণনায় একটি প্রকট স্ববিরোধিতা লক্ষণীয়। ওপরোক্ত শ্লোকসমূহে আমরা দেখতে পাই, মূসাকে পরমেশ্বর পুনরায় যে-দু'টি প্রস্তরফলক প্রদান করবেন, তা নিজ হাতে লিখে দেবেন মর্মে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন। কিন্তু এ বিষয়ে যাত্রাপুস্তক ও দ্বিতীয় বিবরণের বর্ণনায় ভিন্নতা রয়েছে। দ্বিতীয় বিবরণে বর্ণনা করা হয়েছে:
তাই আমি বাবলা কাঠের একটি মঞ্জুষা তৈরি করলাম, এবং প্রথমগুলোর মত দু’খানা প্রস্তরফলক কেটে সেই দু’খানা প্রস্তরফলক হাতে করে পর্বতে উঠলাম। প্রভু জনসমাবেশের দিনে পর্বতে আগুনের মধ্য থেকে যে দশ বাণী তোমাদের জন্য জারি করেছিলেন, তিনি ওই দু’খানা প্রস্তরফলকে আগে যা লিখেছিলেন, তা লিখলেন। পরে তা আমাকে দিলেন। আমি মুখ ফিরিয়ে পর্বত থেকে নেমে সেই দু’খানা প্রস্তরফলক আমার তৈরি করা সেই মঞ্জুষাতে রাখলাম, আর সেসময় থেকে তা সেইখানে রয়েছে— যেমন প্রভু আমাকে আজ্ঞা দিলেন। [দ্বিতীয় বিবরণ ১০:৩-৫]
বাইবেলের উক্ত বর্ণনায় দেখা যায়, পরমেশ্বর নিজ হাতে লেখা দু'টি প্রস্তরফলক মূসাকে প্রদান করেছেন। কিন্তু যাত্রাপুস্তকের বর্ণনায় তা স্বীকার করা হয়নি। যাত্রাপুস্তকের বর্ণনানুযায়ী উক্ত প্রস্তরফলক দু'টি ছিল মূসার নিজ হাতে লেখা। এ বিষয়ে যাত্রাপুস্তকের বর্ণনা নিম্নরূপ:
প্রভু মোশীকে আরও বললেন, ‘তুমি এই সকল বাণী লিখে রাখ, কারণ আমি এই সকল বাণী অনুসারে তোমার ও ইস্রায়েলের সঙ্গে সন্ধি স্থাপন করেছি।’ সেসময়ে মোশী চল্লিশদিন চল্লিশরাত সেখানে প্রভুর সঙ্গে থাকলেন - রুটি খেলেন না, জল পান করলেন না। তিনি সেই দু’টো প্রস্তরে সন্ধির বাণীগুলো অর্থাৎ দশ বাণী লিখে রাখলেন। যখন মোশী পর্বত থেকে নেমে এলেন - তিনি পর্বত থেকে নেমে আসার সময়ে তাঁর হাতে সেই দু’টো সাক্ষ্যপ্রস্তর ছিল - তখন প্রভুর সঙ্গে কথা বলেছিলেন বিধায় তাঁর মুখের চামড়া যে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল, এ বিষয়ে তিনি সচেতন ছিলেন না। [যাত্রাপুস্তক ৩৪:২৭-২৯]
বস্তুত প্রস্তরফলক দু'টির উভয় সংস্করণই যে মূসার নিজ হাতে তৈরি করা ছিল, তা বুঝতে আমাদের বেশি বেগ পেতে হয় না। কারণ মূসা প্রথমবার যখন দুটি প্রস্তরফলক নিয়ে ইস্রায়েলের জনগণের মাঝে ফিরে এসেছিলেন, সেই ঘটনায় তাকে চল্লিশ দিন চল্লিশ রাত পর্বতচূড়ায় অবস্থান করতে হয়েছিল। বাইবেলের বর্ণনানুযায়ী আমরা জেনেছি, ওই সময় প্রস্তরফলক দু'টি পরমেশ্বর নিজ হাতে লিখে দিয়েছিলেন। এ প্রসঙ্গে বাইবেলে বর্ণিত হয়েছে:
যখন প্রভু সিনাই পর্বতে মোশীর সঙ্গে কথা বলা শেষ করলেন, তখন সাক্ষ্যের সেই দুই ফলক, পরমেশ্বরের আপন আঙুল দিয়ে লেখা সেই দুই প্রস্তরফলক, তাঁকে দিলেন। [যাত্রাপুস্তক ৩১:১৮]
পুনরায় এ বিষয়ে একই পুস্তকের পরের অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে:
তখন মোশী ফিরে পর্বত থেকে নেমে গেলেন, তাঁর হাতে ছিল সাক্ষ্যের সেই দুই প্রস্তরফলক; সেই ফলকের এপিঠে ওপিঠে, দু’পিঠেই লেখা ছিল। প্রস্তরফলক দু’টো পরমেশ্বরেরই নির্মাণকাজ, সেই লেখাও পরমেশ্বরেরই আপন লেখা - ফলকে খোদাই করে লেখা। [যাত্রাপুস্তক ৩২:১৫-১৬]
তবে পরমেশ্বরের নিজ হাতে লেখা প্রস্তরফলক দু’টির প্রথম সংস্করণ পেতে মূসাকে পর্বতচূড়ায় চল্লিশ দিন চল্লিশ রাত অপেক্ষা করতে হয়েছিল। এখন দ্বিতীয়বারের মতো একই বিষয় সম্বলিত দুটি প্রস্তরফলক আনতে গিয়েও মূসাকে পর্বতচূড়ায় চল্লিশদিন চল্লিশরাত অবস্থান করতে হয়েছে। আর যাত্রাপুস্তকের বর্ণনানুযায়ী, প্রস্তরফলক দু'টির এই দ্বিতীয় সংস্করণ মূসার নিজ হাতে লেখা। পরমেশ্বরের নিজ হাতে লেখা দু'টি প্রস্তরফলকের প্রথম সংস্করণ আনতে গিয়ে পর্বতচূড়ায় মূসাকে যদি চল্লিশ দিন চল্লিশ রাত অবস্থান করতে হয়, সেক্ষেত্রে একই বিষয় সম্বলিত দু'টি প্রস্তরফলকের দ্বিতীয় সংস্করণ মূসার নিজ হাতে লিখে আনতে চল্লিশ দিন চল্লিশ রাতের তুলনায় আরও অধিক সময় পর্বতচূড়ায় অবস্থান করাটা মূসার জন্য যুক্তিযুক্ত হত। কারণ প্রস্তরফলকে পরমেশ্বরের লিপিবদ্ধকরণ ক্ষমতা ও মূসার লিপিবদ্ধকরণ ক্ষমতা একই মানবিশিষ্ট হওয়ার কথা নয়। সামান্য হলেও তফাৎ থাকা সমীচীন ছিল। কিন্তু তা না হয়ে প্রস্তরফলক দু'টির উভয় সংস্করণ আনতে গিয়ে মূসার ব্যয় হয় চল্লিশ দিন চল্লিশ রাতের একই সময় পর্ব। আর সেই কারণে আমাদের সন্দেহ এই মর্মে যথেষ্ট যৌক্তিক ভিত্তি পায় যে, মূসার নিজ হাতে লিখে আনা প্রস্তরফলক দু'টির দ্বিতীয় সংস্করণের ন্যায় প্রস্তরফলক দু'টির প্রথম সংস্করণও মূসার নিজ হাতে লেখা ছিল।

হা-হা-হাদিস – ১৬৫

কতো রসময় কথা গুপ্ত আছে হাদিসে!

Abu Huraira reported Allah's Messenger (may peace be upon him) as saying: None of you should drink while standing; and if anyone forgets, he must vomit.
Ibn Abbas reported: I served.(water of) Zamzam to Allah's Messenger (may peace be upon him), and he drank it while standing.

ইনসেস্ট-লিপ্ত বিভিন্ন ধর্মের দেব-দেবীরা - ২

লিখেছেন সূফি বরষণ

হিন্দু ধর্মে ইনসেস্ট:

এবার দেখি, পুরাণ কী বলে।
ব্রহ্মা তার কন্যা স্বরস্বতির রুপে মুগ্ধ হয়ে তার সাথে সঙ্গম ইচ্ছা প্রকাশ করলেন। স্বরস্বতি তার পিতার হাত থেকে বাচার জন্য ভুমির চারদিকে ছুটে বেড়াতে লাগলেন কিন্তু ব্রহ্মার হাত থেকে বাচতে পারলেন না। তারা স্বামী-স্ত্রী রুপে ১০০ বছর বাস করলেন এবং সয়ম্ভুমারু ও শতরুপা নামক এক ছেলে ও এক মেয়ের জন্ম দিলেন। সয়ম্ভুমারু ও শতরুপাও স্বামী স্ত্রী রুপে বসবাস করতে লাগলেন। (Aitreay Brahman III : 33 // Satapatha Brahman 1 : 4 : 7 : 1ff // Matsy Puran III : 32ff // Bhagabati Puran III : 12 : 28ff)
আবার,অহল্যা,গৌতম মুনরি স্ত্রী,সদ্য সড়বাতা (গোসল) এবং আর্দ্র (ভেজা) বস্ত্র পরিহিতা অবস্থায় আশ্রমে প্রত্যাবর্তন কালে পথিমধ্যে গৌতম শিষ্য দেবরাজ ইন্দ্রের সাথে তার সাক্ষাৎ ঘটে। আর্দ্র বস্ত্রের মিথ্যা আবরণকে ভেদ করে উদগত যৌবনা অহল্যার রূপলাবণ্য বিশেষ আকর্ষণীয় হয়ে ফুটে উঠায় ইন্দ্রদেবের পক্ষে ধৈর্য ধারণ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে, তিনি গুরুপত্নী অহল্যার সতীত্ব হরণ করেন। ত্রিকালজ্ঞ গৌতম মুনির কাছে একথা অজ্ঞাত থাকে না। তার অভিশাপে অহল্যা প্রস্তরে পরিণত হয়। আর ইন্দ্রদেবের সারা দেহে সহস্র যোনির উদ্ভব ঘটে। সুদীর্ঘকাল পরে ত্রেতাযুগে ঈশ্বরের অবতার রূপে শ্রীরাম চন্দ্র আবির্ভূত হন, তার পদস্পর্শে অহল্যার পাষাণত্ব অপনোদিত হয়। (পঞ্চ পুরাণ, ষষ্ঠ খণ্ড, ৬৯০ পৃষ্ঠা, মহাভারত, কৃত্তীবাসী রামায়ণের আদিকাণ্ডের ৬৫১ পৃষ্ঠা) 

এবার আরও কিছু দেব-দেবীর যৌনতার বর্ণনা।

১. যম ও যমী, যমজ ভাই-বোন। সূর্যদেবের ঔরসে ও উষাদেবীর গর্ভে তারা জন্মলাভ করে। যমী একদিন যমকে বলে, "তোমার সহবাসের জন্য আমি অভিলাষিনী, গর্ভাবস্থা হতে তুমি আমার সহচর। বিধাতা মনে মনে চিন্তা করে রেখেছেন যে, তোমার ঔরসে আমার গর্ভে আমাদের পিতার এক নাতি জন্মাবে। তুমি পুত্রজন্মদাতা পতির ন্যায় আমার শরীরে প্রবেশ কর।" (ঋকবেদ মন্ডল-৯, সুক্ত ১০) সেই ঘটনাকে স্মরণীয় করে রাখতে হিন্দুরা প্রতি বছর 'ভাইফোঁটা' নামক এক উৎসব পালন করে। ঐদিন যম আর যমীর অনুপ্রেরণায় হিন্দু ছেলেরা তাদের আপন বোনকে নিয়ে কল্পনা করে আর ভাবে, "ইশ! আমার বোনটাও যদি যমীর মত হত..."

২. রাম ও সীতাকে আমরা স্বামী-স্ত্রী হিসেবেই জানি। কিন্তু বৌদ্ধ দশরথ জাতক অনুযায়ী - রাম ও সীতা হল ভাই-বোন, পরে তাদের মধ্যে বিবাহ হয়। "দশরথ জাতক" অনুযায়ী রামের জনক রাজা দশরথ ও জননী রাণী কৌশল্যার মধ্যে ভাই-বোনের সম্পর্ক ছিল, তথাপি তাদের মধ্যে বিয়ে হয়েছিল। ঋগ্বেদ-এ দেখা যায়, দম্ভ নিজ বোন মায়াকে, লোভ নিজ বোন নিবৃত্তিকে, কলি নিজ বোন নিরুক্তিকে বিয়ে করেছিল।

৩. শুধু ভাইবোন নয়, হিন্দু ধর্মে এমনকি মা-ছেলে, পিতা-কন্যার বিয়েতেও কোনো নিষেধ নেই। ঋগ্বেদ-এ উল্লেখ আছে - পূষণ তার বিধবা মাকে বিয়ে করে দ্বিধিষূ অর্থাৎ বিধবার স্বামী হয়েছিল। হিন্দুশাস্ত্র মৎস পুরাণে বর্ণিত আছে - ঈশ্বর ব্রহ্মা নিজ কন্যা শতরূপার প্রতি প্রণয়াশক্ত হন এবং হিন্দুদের আদি মানব মনুর জন্ম হয় তাদের মিলন থেকেই।

৪. পঞ্চপাণ্ডবের নোংরামি সবাই জানেন, তারপরও মনে করিয়ে দেই। পঞ্চপাণ্ডব ছিল পাঁচ ভাই। এক বাজিতে জিতে পাঁচ ভাইয়ের একজন (অর্জুন) দ্রৌপদীকে লাভ করেছিল। দ্রৌপদীকে বাড়ি এনে পাঁচ ভাই মাতা কুন্তিকে আহবান করে বলল, "এসো, দেখে যাও, কী এনেছি।" মাতা কুন্তি না দেখেই উত্তর করল, "যা এনেছিস, পাঁচ ভাই মিলে ভাগ করে খা।" মাতার আদেশ মোতাবেক পাঁচ ভ্রাতাই দ্রৌপদীকে বিয়ে করে ভাগ করে খেয়েছিল।
৫. হিন্দু মেয়েদের আদর্শ হল সীতা। সীতা নাকি সতি নারীর আদর্শ। সেই আদর্শের আসল রূপ দেখুন: “সীতা স্বইচ্ছায় রাবনকে করলেন দেহ দান, আর রাবন সীতাকে করলেন বীর্য দান। তাই সীতার গর্ভে রাবনের বীর্যে দুজন জমজ সন্তানের জন্ম হয় যাদের নাম হলঃ ‘লব’ আর ‘কুশ’।" [রামায়ন ২:১৯-২১]

৬. ইসলামে ৪টা বিয়ে জায়েজ, আর এটা নিয়ে হিন্দুদের সে কী আস্ফালন! অথচ হিন্দুদের দেবতা কৃষ্ণ ১৩০০০ মতান্তরে ১৬০০০ টা বিয়ে করছিলো! এত্তগুলো বিয়ে করেও তার খায়েস মেটেনি, তাই সে মামী রাধিকার দিকেও হাত বাড়িয়েছিল। রাধিকা ধর্ষণের সেই ঘটনাকে স্মরণ করেই আজ গাওয়া হয় "কৃষ্ণ আইলা রাধার কুঞ্জে..."

৭. 'অপবিত্র নারীর উচিত শান্তচিত্তে শিবের (কামরূপের) উপাসনা করা। অতঃপর তার উচিত কোন ব্রাহ্মণের নিকট নিজেকে সমর্পণ করা এরূপ ভেবে যে 'ইনিই কামরূপে যৌনতৃপ্তি লাভের উদ্দেশ্যে এসেছেন।' এবং ঐ আবেদনময়ী নারীর উচিত ব্রাহ্মণের সকল মনঃকামনা পূর্ণ করা। তের মাস যাবৎ তার এই পন্থাতেই ঘরে আগত (যৌনতৃপ্তি লাভের নিমিত্তে) যে কোনো ব্রাহ্মণকে সম্মান দেখানো উচিত আর এতে সম্ভ্রান্ত নারী এমনকি বেশ্যাদের জন্যও কোন পাপ নেই।'' (সূত্রঃ মৎস্য পুরাণ ৭০:৪০-৬০, মহাভারত ৩:২:২৩)

৮. সরস্বতী-পুরাণ বলে, ঊর্বশীকে দেখে স্বমেহন (কবিরাজি বাংলায় হস্তমৈথুন) করতেন ব্রহ্মা। তাঁর শুক্রাণু জমা হত একটি পাত্রে। সেই পাত্রে জন্ম হয় ঋষি অগস্ত্য এবং অগস্ত্য জন্ম দেন সরস্বতীর। এই সূত্র অনুযায়ী, সরস্বতী ব্রহ্মার নাতনি। আবার অন্য সূত্র বলে, ব্রহ্মার শুক্রাণু থেকে সরাসরি জন্ম হয় সরস্বতীর। কিন্তু আত্মজার রূপ দেখে মুগ্ধ হন প্রজাপতি। তিনি তাঁর সঙ্গে যৌনসঙ্গম করতে চান। জন্মদাতার কামনা থেকে বাঁচতে পালিয়ে যান সরস্বতী। কিন্তু শেষ অবধি হার মানতে হয় ব্রহ্মার কামনার কাছে। ব্রহ্মা এবং সরস্বতী স্বামী-স্ত্রীর মতো থাকেন পদ্মফুলে। প্রায় ১০০ বছর ধরে। তাঁদের পুত্রের নাম 'স্বায়ম্ভুব মনু' এবং কন্যা 'শতরূপা'; কিন্তু এরপরেও ব্রহ্মার বিকৃত যৌনকামনা কমেনি। এতে বিদ্যা এবং জ্ঞানের দেবী সরস্বতী অভিশাপ দেন ব্রহ্মাকে। বলেন, দেবতাদের মূলস্রোতে থাকবেন না প্রজাপতি ব্রহ্মা। অর্থাৎ তিনি পূজিত হবেন না। সত্যি, হিন্দু দেবতাদের মূলধারার মধ্যে পড়েন না ব্রহ্মা। তাঁর রাজস্থানের পুষ্কর ছাড়া তাঁর মন্দির এবং অর্চনা বিরল। কূপিত হয়ে সরস্বতী তাঁকে ছেড়ে চলে যান। দেবী থেকে রূপান্তরিত হন নদীতে। অতঃপর তারাও দু'জন দু'জনের সাথে সহবাস করে এবং তাদের মিলনের ফলে ব্রহ্মা দুজন দৌহিত্র ও দুজন দৌহিত্রা লাভ করেন। (মৎস্য পুরাণ ৩:৩২; ভগবত পুরাণ্ ৩:১২-২৮)

হারাম! গুনাহ্!

৯ ফেব্রুয়ারী, ২০১৬

হুদাইবিয়া সন্ধি - ৩: The Devil is in the Detail!: কুরানে বিগ্যান (পর্ব- ১১৩): ত্রাস, হত্যা ও হামলার আদেশ – সাতাশি

লিখেছেন গোলাপ

পর্ব ১ > পর্ব ২ > পর্ব ৩ > পর্ব ৪ > পর্ব ৫ > পর্ব ৬ > পর্ব ৭ > পর্ব ৮ > পর্ব ৯ > পর্ব ১০ > পর্ব ১১ > পর্ব ১২ > পর্ব ১৩ > পর্ব ১৪ > পর্ব ১৫ > পর্ব ১৬ > পর্ব ১৭ > পর্ব ১৮ > পর্ব ১৯ > পর্ব ২০ > পর্ব ২১ > পর্ব ২২ > পর্ব ২৩ > পর্ব ২৪ > পর্ব ২৫ > পর্ব ২৬ > পর্ব ২৭ > পর্ব ২৮ > পর্ব ২৯ > পর্ব ৩০ > পর্ব ৩১ > পর্ব ৩২ > পর্ব ৩৩ > পর্ব ৩৪ > পর্ব ৩৫ > পর্ব ৩৬ > পর্ব ৩৭ > পর্ব ৩৮ > পর্ব ৩৯ পর্ব ৪০ > পর্ব ৪১ পর্ব ৪২ > পর্ব ৪৩ > পর্ব ৪৪ > পর্ব ৪৫ > পর্ব ৪৬ > পর্ব ৪৭ > পর্ব ৪৮ > পর্ব ৪৯ > পর্ব ৫০ > পর্ব ৫১ > পর্ব ৫২ > পর্ব ৫৩ > পর্ব ৫৪ > পর্ব ৫৫ > পর্ব ৫৬ > পর্ব ৫৭ > পর্ব ৫৮ > পর্ব ৫৯ > পর্ব ৬০ > পর্ব ৬১ > পর্ব ৬২ > পর্ব ৬৩ > পর্ব ৬৪ > পর্ব ৬৫ > পর্ব ৬৬ > পর্ব ৬৭ > পর্ব ৬৮ > পর্ব ৬৯ > পর্ব ৭০ > পর্ব ৭১ > পর্ব ৭২ > পর্ব ৭৩ > পর্ব ৭৪ > পর্ব ৭৫ > পর্ব ৭৬ > পর্ব ৭৭ > পর্ব ৭৮ > পর্ব ৭৯ > পর্ব ৮০ > পর্ব ৮১ > পর্ব ৮২ > পর্ব ৮৩ > পর্ব ৮৪ > পর্ব ৮৫ > পর্ব ৮৬ > পর্ব ৮৭ > পর্ব ৮৮ > পর্ব ৮৯ > পর্ব ৯০ > পর্ব ৯১ > পর্ব ৯২ > পর্ব ৯৩ > পর্ব ৯৪ > পর্ব ৯৫ > পর্ব ৯৬ > পর্ব ৯৭ > পর্ব ৯৮ > পর্ব ৯৯ > পর্ব ১০০ > পর্ব ১০১ > পর্ব ১০২ > পর্ব ১০৩ > পর্ব ১০৪ > পর্ব ১০৫ > পর্ব ১০৬ > পর্ব ১০৭ > পর্ব ১০৮ > পর্ব ১০৯ > পর্ব ১১০ > পর্ব ১১১ > পর্ব ১১২

"যে মুহাম্মদ (সাঃ) কে জানে সে ইসলাম জানে, যে তাঁকে জানে না সে ইসলাম জানে না।"

হুদাইবিয়া সন্ধির প্রাক্কালে স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কত জন অনুসারীকে সঙ্গে নিয়ে মক্কার অদূরে হদাইবিয়া নামক স্থানে পৌঁছেছিলেন ও  তাঁরা তাঁদের সঙ্গে কীরূপ অস্ত্রশস্ত্র সঙ্গে এনেছিলেন - তার আলোচনা আগের পর্বে করা হয়েছে। মুহাম্মদের স্বরচিত জবানবন্দি কুরান ও আদি উৎসের বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকদেরই রচিত সিরাত ও হাদিসের বর্ণনায় যে-বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্ট,  তা হলো, মুহাম্মদ প্রকাশ্যে ওমরা পালনের উদ্দেশ্য ঘোষণা দিয়ে যাত্রা শুরু করলেও ন্যূনতম পক্ষে তাঁরা তাঁদের তলোয়ার, তীরধনুক ও যুদ্ধ-ঘোড়া (৪৮:২৫-"তাদের পিষ্ট হয়ে যাওয়ার আশংকা--") সঙ্গে এনেছিলেন।

মুহাম্মদ তাঁর দশ বছরের মদিনা-জীবনে অবিশ্বাসী ব্যক্তি ও জনপদের ওপর যে ৬৫-১০০ টি (সূত্র ভেদে বিভিন্নতা আছে) নৃশংস হামলার সাথে প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন, তার সবগুলোতেই মুহাম্মদ তাঁর আগ্রাসনের দায়ভার বিভিন্ন উপায়ে আক্রান্ত জনপদবাসীর উপর ন্যস্ত করেছিলেন। "তাহারা চুক্তি ভঙ্গ করিয়াছিল", "তাহারা আক্রমণের ষড়যন্ত্র করিয়াছিল", "তাহারা ইসলাম প্রচারে বাধা প্রদান করিয়াছিল", "তাহারা কটূক্তি-সমালোচনা-তাচ্ছিল্য করিয়াছিল" - ইত্যাদি, ইত্যাদি! মুহাম্মদের মৃত্যুর পর তাঁর অনুসারীরা গত ১৪০০ বছর ধরে সেই ধারাবাহিকতা অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে চর্চা করে আসছেন। এ ব্যাপারে তাঁরা এতটাই সফল যে, শুধু ইসলাম-বিশ্বাসীরাই নয়, বহু অমুসলিম জনসাধারণও অনুরূপ ধারণা পোষণ করে থাকেন। [1]

হুদাইবিয়া সন্ধির সময় থেকে মুহাম্মদের মৃত্যু পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য ঘটনা প্রবাহের খতিয়ান:

'হুদাইবিয়া সন্ধি' - মার্চ, ৬২৮ সাল (জিলকদ, হিজরি ৬ সাল) [2]
খায়বার হামলা (যুদ্ধ) - মে, ৬২৮ সাল (মহরম, হিজরি ৯ সাল) [3] [4]
হুদাইবিয়া সন্ধির পর প্রথম হজ - মার্চ-এপ্রিল, ৬২৯ সাল (জিলকদ, হিজরি ৭ সাল)
>> মুহাম্মদ এই হজে অংশগ্রহণ করেন। [5]
মুতার হামলা (যুদ্ধ) - আগস্ট, ৬২৯ সাল (জুমাদিউল আউয়াল, হিজরি ৮ সাল) [6]
'মক্কা বিজয়' - মার্চ, ৬৩০ সাল (জিলকদ, হিজরি ৮ সাল) [7]
হুনায়েন হামলা (যুদ্ধ) - মক্কা বিজয়ের ১২-১৪ দিন পর [8]
তায়েফ আক্রমণ- হুনায়েন হামলার পর সেখান থেকে গিয়ে সরাসরি তায়েফ আক্রমণ [9]
'তাবুকের যুদ্ধ' - অক্টোবর, ৬৩০ সাল (হিজরি ৯ সাল) [10]

মক্কা বিজয়ের পর প্রথম হজ -মার্চ-এপ্রিল, ৬৩১ সাল (জিলকদ-জিলহজ, হিজরি ৯ সাল)
Ø  মুহাম্মদ এই হজে অংশগ্রহণ করেন নাই। এই হজের প্রাক্কালে (কোনো যুদ্ধকালে নয়) মুহাম্মদের নির্দেশে আলী ইবনে আবু তালিব অবিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে “সুরা তওবার” বহু নৃশংস নির্দেশ ঘোষণা করেন (নিম্নে বর্ণিত)! এটিই ছিল অবিশ্বাসী মুশরিকদের সাথে ইসলাম বিশ্বাসীদের সম্মিলিত শেষ হজব্রত পালন; ইসলামী পরিভাষায় যাকে বলা যেতে পারে, "মুশরিকদের (Polytheist) বিদায় হজ!" [11]

মক্কা বিজয়ের পর দ্বিতীয় হজ - মার্চ-এপ্রিল, ৬৩২ (জিলকদ-জিলহজ, ৬৩২ সাল)
Ø  মুশরিকদের বিরুদ্ধে বিজয়ী হবার পর মুহাম্মদের প্রথম ও শেষ হজ ('বিদায় হজ') ও সেখানে তাঁর ভাষণ, ইসলামের ইতিহাসে যা বিদায় হজের ভাষণ নামে বিখ্যাত। আগের বছর হজের সময় মুহাম্মদের নির্দেশে সুরা তওবার নৃশংস নির্দেশ ও তার বাস্তবায়নের কারণে এই হজে শুধু মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরাই অংশগ্রহণ করেন। অমুসলিমদের জন্য তা ছিল নিষিদ্ধ! [12]

মুহাম্মদের শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ - জুন, ৬৩২ সাল।

>>> ইসলামের ইতিহাসে "হুদাইবিয়া সন্ধি" এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ইতিপূর্বে কুরাইশদের বিরুদ্ধে যাবতীয় আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের বৈধতা প্রদানের প্রয়োজনে যেমন মুহাম্মদ দাবি করেছেন যে, তাঁর মক্কায় অবস্থানকালীন সময়ে “তাহারা অকথ্য অত্যাচার চালিয়েছিল”; বনি কেইনুকা গোত্র ও বনি নাদির গোত্রের সমস্ত লোককে তাঁদের শত শত বছরের ভিটেমাটি থেকে প্রায় এক বস্ত্রে (উটের পিঠে বহনযোগ্য পরিমাণ জিনিসপত্র নেয়ার অনুমতি প্রদান) উচ্ছেদ করে তাঁদের সমস্ত সম্পত্তি লুট করার বৈধতা প্রদানের প্রয়োজনে যেমন মুহাম্মদ "তাহারা চুক্তি ভঙ্গ করিয়াছিল" অজুহাতটি হাজির করেছিলেন (পর্ব: ৫২-৫৩); বনি কুরাইজা গোত্রের সমস্ত প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষকে খুন, তাঁদের সমস্ত নারী ও শিশুদের বন্দী করে দাস ও যৌনদাসীতে রূপান্তর এবং তাঁদের সমস্ত সম্পত্তি লুট করার বৈধতা প্রদানের প্রয়োজনে যেমন মুহাম্মদ "তাহারা চুক্তি ভঙ্গ করিয়াছিল" অজুহাতটি হাজির করেছিলেন - ঠিক তেমনিভাবে মুহাম্মদ হুদাইবিয়ার দশ বছরের সন্ধিপত্রে স্বাক্ষর করার পর মাত্র দুই বছরের মাথায় তা ভঙ্গ করে কুরাইশদের বিরুদ্ধে অতর্কিত আগ্রাসী হামলার মাধ্যমে মক্কা বিজয় এর বৈধতা প্রদানের প্রয়োজনে "তাহারা চুক্তি ভঙ্গ করিয়াছিল" অজুহাতটি হাজির করেছিলেন (বিস্তারিত আলোচনা পরবর্তীতে করা হবে)। মুহাম্মদের হামলার বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, কোনোরূপ আগাম ঘোষণা ছাড়াই অবিশ্বাসী জনপদের উপর অতর্কিত হামলা করা! মক্কা বিজয়ও এই বৈশিষ্ট্যের ব্যতিক্রম ছিল না।

কুরাইশ মুশরিকদের (polytheist) বিরুদ্ধে বিজয়ী হবার পর মুহাম্মদ তাঁদের সাথে একত্রে হজব্রত পালন করতে অস্বীকৃতি  প্রকাশ করেন। তাই তিনি এই হজে নিজে অংশগ্রহণ না করে আবু বকরের নেতৃত্বে তাঁর প্রায় ৩০০ জন অনুসারীকে মক্কাবিজয়-পরবর্তী এই প্রথম হজব্রত পালনের জন্য মক্কায় পাঠান। আবু বকর তাঁর দলবল নিয়ে রওনা হবার পর মুহাম্মদ তাঁর চাচাতো ভাই ও জামাতা আলী ইবনে আবু তালিব-কে সুরা তওবার প্রথম ৩০-৪০টি আয়াত (নির্দেশ) সহ হজব্রত পালনের জন্য এই নির্দেশ সহকারে প্রেরণ করেন যে, আলী যেন উপস্থিত ইসলাম বিশ্বাসী ও অবিশ্বাসীদের (মুশরিক) উদ্দেশে তাঁর এই নির্দেশগুলো ঘোষণা করেন। মুহাম্মদের নির্দেশে আলী ইবনে আবু তালিব হিজরি ৯ সালের জিল-হজ মাসের ১০ তারিখে (মার্চ ১৯, ৬৩১ সাল) আরাফার ময়দানে উপস্থিত মুশরিক ও ৩০০ জন মুসলমানদের সামনে সেই নৃশংস নির্দেশগুলো ঘোষণা করেন! [13] [14]

আলী ইবনে আবু তালিব মারফত ঘোষিত মুহাম্মদের সেই নির্দেশগুলোর কিছু নমুনা:

৯:১- “সম্পর্কচ্ছেদ করা হল আল্লাহ ও তাঁর রসূলের পক্ষ থেকে সেই মুশরিকদের সাথে, যাদের সাথে তোমরা চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলে।"

৯:২ – “অতঃপর তোমরা পরিভ্রমণ কর এ দেশে চার মাসকালআর জেনে রেখো, তোমরা আল্লাহকে পরাভূত করতে পারবে না, আর নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফেরদিগকে লাঞ্ছিত করে থাকেন।" 

৯:৩ – “আর মহান হজ্বের দিনে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের পক্ষ থেকে লোকদের প্রতি ঘোষণা করে দেয়া হচ্ছে যে, আল্লাহ মুশরেকদের থেকে দায়িত্ব মুক্ত এবং তাঁর রসূলও। অবশ্য যদি তোমরা তওবা কর, তবে তা, তোমাদের জন্যেও কল্যাণকর, আর যদি মুখ ফেরাও, তবে জেনে রেখো, আল্লাহকে তোমরা পরাভূত করতে পারবে না। আর কাফেরদেরকে মর্মান্তিক শাস্তির সুসংবাদ দাও”। 

৯:৪- “তবে যে মুশরিকদের সাথে তোমরা চুক্তি বদ্ধ, অতপরঃ যারা তোমাদের ব্যাপারে কোন ত্রুটি করেনি এবং তোমাদের বিরুদ্ধে কাউকে সাহায্যও করেনি, তাদের সাথে কৃত চুক্তিকে তাদের দেয়া মেয়াদ পর্যন্ত পূরণ কর। অবশ্যই আল্লাহ সাবধানীদের পছন্দ করেন”। 

৯:৫- “অতঃপর নিষিদ্ধ মাস অতিবাহিত হলে মুশরিকদের হত্যা কর যেখানে তাদের পাও, তাদের বন্দী কর এবং অবরোধ কর। আর প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের সন্ধানে ওঁৎ পেতে বসে থাক। কিন্তু যদি তারা তওবা করে, নামায কায়েম করে, যাকাত আদায় করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয় আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু”।  

৯:৬- “আর মুশরিকদের কেউ যদি তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে, তবে তাকে আশ্রয় দেবে, যাতে সে আল্লাহর কালাম শুনতে পায়, অতঃপর তাকে তার নিরাপদ স্থানে পৌছে দেবে। এটি এজন্যে যে এরা জ্ঞান রাখে না”। 

৯:৭-মুশরিকদের চুক্তি আল্লাহর নিকট ও তাঁর রসূলের নিকট কিরূপে বলবৎ থাকবে। তবে যাদের সাথে তোমরা চুক্তি সম্পাদন করেছ মসজিদুল-হারামের নিকট। অতএব, যে পর্যন্ত তারা তোমাদের জন্যে সরল থাকে, তোমরাও তাদের জন্য সরল থাক। নিঃসন্দেহের আল্লাহ সাবধানীদের পছন্দ করেন”। 

৯:৮-কিরূপে? তারা তোমাদের উপর জয়ী হলে তোমাদের আত্নীয়তার ও অঙ্গীকারের কোন মর্যাদা দেবে না। তারা মুখে তোমাদের সন্তুষ্ট করে, কিন্তু তাদের অন্তরসমূহ তা অস্বীকার করে, আর তাদের অধিকাংশ প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারী”। 

৯:১২ – “আর যদি ভঙ্গ করে তারা তাদের শপথ প্রতিশ্রুতির পর এবং বিদ্রুপ করে তোমাদের দ্বীন সম্পর্কে, তবে কুফর প্রধানদের সাথে যুদ্ধ কর। কারণ, এদের কেন শপথ নেই যাতে তারা ফিরে আসে”।

৯:১৩-১৪- “তোমরা কি সেই দলের সাথে যুদ্ধ করবে না; যারা ভঙ্গ করেছে নিজেদের শপথ এবং সঙ্কল্প নিয়েছে রসূলকে বহিস্কারের? আর এরাই প্রথম তোমাদের সাথে বিবাদের সূত্রপাত করেছে। তোমরা কি তাদের ভয় কর? অথচ তোমাদের ভয়ের অধিকতর যোগ্য হলেন আল্লাহ, যদি তোমরা মুমিন হও। (১৪) যুদ্ধ কর ওদের সাথে, আল্লাহ তোমাদের হস্তে তাদের শাস্তি দেবেন। তাদের লাঞ্ছিত করবেন, তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের জয়ী করবেন এবং মুসলমানদের অন্তরসমূহ শান্ত করবেন”।

৯:১৭-১৮-মুশরিকরা যোগ্যতা রাখে না আল্লাহর মসজিদ আবাদ করার, যখন তারা নিজেরাই নিজেদের কুফরীর স্বীকৃতি দিচ্ছে। এদের আমল বরবাদ হবে এবং এরা আগুনে স্থায়ীভাবে বসবাস করবে। (১৮) নিঃসন্দেহে তারাই আল্লাহর মসজিদ আবাদ করবে যারা ঈমান এনেছে আল্লাহর প্রতি ও শেষ দিনের প্রতি এবং কায়েম করেছে নামায ও আদায় করে যাকাত; আল্লাহ ব্যতীত আর কাউকে ভয় করে না। অতএব, আশা করা যায়, তারা হেদায়েত প্রাপ্তদের অন্তর্ভূক্ত হবে”।          

৯:২৮-২৯ – “হে ঈমানদারগণ! মুশরিকরা তো অপবিত্র। সুতরাং এ বছরের পর তারা যেন মসজিদুল-হারামের নিকট না আসে। আর যদি তোমরা দারিদ্রের আশংকা কর, তবে আল্লাহ চাইলে নিজ করুনায় ভবিষ্যতে তোমাদের অভাবমুক্ত করে দেবেন। নিঃসন্দেহে আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। (২৯) তোমরা যুদ্ধ কর আহলে-কিতাবের ঐ লোকদের সাথে, যারা আল্লাহ ও রোজ হাশরে ঈমান রাখে না, আল্লাহ ও তাঁর রসূল যা হারাম করে দিয়েছেন তা হারাম করে না এবং গ্রহণ করে না সত্য ধর্ম, যতক্ষণ না করজোড়ে তারা জিযিয়া প্রদান করে”।       

>>> সুরা তওবার এই নির্দেশগুলোর বিস্তারিত আলোচনা পরবর্তীতে করা হবে। ইসলামের ইতিহাসে হুদাইবিয়া সন্ধি চুক্তি এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে মক্কা বিজয়ের ১২ মাস পরে মুহাম্মদ তাঁর এই নির্দেশে কুরাইশদের বিরুদ্ধে হুদাইবিয়া চুক্তি ভঙ্গের অজুহাত আবারও উত্থাপন করে তাঁদের বিরুদ্ধে নৃশংস আদেশ জারি করেন। তিনি তাঁর মতবাদে দীক্ষিত হওয়ার জন্য চার মাসের আল্টিমেটাম জারি করেন! সুরা তওবার এই নির্দেশগুলোই হলো তাঁর অনুসারীদের প্রতি মুহাম্মদের সর্বশেষ নির্দেশ-যুক্ত সুরা। নাজিলের সময়ের ক্রমিক মান অনুসার এটি ১১৩ নম্বর সুরা; কুরানের সর্বশেষ সুরা হলো সুরা নছর (বর্তমান কুরানের ১১০ নম্বর) যাতে কোনো নির্দেশ নেই (পর্ব: ১০৫)।

ইসলাম নামক মতবাদের আল-নাসিখ ওয়া আল-মনসুখ (Al-Nasikh wa al-Mansukh) নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তীতে মদিনায় নাযিল-কৃত এসব কঠিন থেকে কঠিনতম আদেশ ও নিষেধ মুহাম্মদের মক্কা ও প্রাথমিক মদিনা জীবনে নাযিলকৃত আপাত সহনশীল আদেশ ও নিষেধকে বাতিল করে দিয়েছে (পর্ব: ২৭)।

ইংরেজিতে একটি প্রবাদ আছে, "The devil is in the detail", যার বাংলা অর্থ এভাবে করা যেতে পারে যে,

চিত্রপঞ্চক - ১৪১

সর্বমোট পাঁচটি ছবি। নিচের খুদে ছবিগুলোয় একের পর এক ক্লিক করুন। প্রক্সি ব্যবহারকারীদের জন্য সরাসরি লিংক:
http://imgur.com/a/7HRft

হারাম-হালালের হাল-হকিকত

মোতার পর লুঙ্গির তলা দিয়া হাত ঢুকাইয়া লিঙ্গের ডগায় ঢিলা-কুলুখ চাইপা ধইরা জনসমক্ষে চল্লিশ কদম হাঁটা ইছলামে হালাল। এছাড়া ইছলামে...

ধর্ষণ হালাল। (কোরান ৩৩:৫১)

গণধর্ষণ হালাল। (কোরান ২৪:১৩)

যৌনদাসী রাখা হালাল। (কোরান ৪:৩, ৪:২৪, ৫:৮৯, ২৩:৫, ৩৩:৫০, ৫৮:৩, ৭০:৩০)

পালিতপুত্রের স্ত্রীকে বিয়ে করা হালাল। (কোরান ৩৩:৩৭)

শিশুকাম হালাল। (বুখারি ৭:৬২:৮৮)

শিশুবিবাহ হালাল। (কোরান ৬৫:৪)

শিরশ্ছেদ হালাল। (কোরান ৪৭:৪, ৮:১২)

চুরি-ডাকাতি-লুটতরাজ হালাল। (কোরান ৮:১, ৮:৫, তফসির পড়ুন)

মিথ্যাচার হালাল। (কোরান ৩:২৮, ১৬:১০৬)

পুরুষের চার বিয়ে হালাল। (কোরান ৪:৩)

স্ত্রীপ্রহার হালাল। (কোরান ৪:৩৪)

কোনও কারণ ছাড়াই কুকরহত্যা হালাল। (বুখারি ৪:৫৪:৫৪০)

ইসলামত্যাগীদের কতল করা হালাল। (কোরান ২:২১৭, ৪:৮৯)

আত্মীয়দের দোজখবাসের অভিশাপ দেয়া হালাল। (কোরান ১১১)

অমুছলিমদের শুয়োর ও বাঁদর বলে গালি দেয়া হালাল। (কোরান ২:৬৫, ২:৬৭, ৫:৬০)

কেউ স্রেফ আপমান করলে তাকে খুন করা হালাল। (কোরান ৩৩:৫৭-৬১)

সন্ত্রাসবাদ হালাল। (কোরান ৮:১২, ৮:৫৯-৬১)

অন্য সব ধর্মকে ঘৃণা করা হালাল। (কোরান ৩:৮৫)

তুচ্ছতম চুরির অপরাধে হাত কেটে ফেলা হালাল। (কোরান ৫:৩৮)

...

তবে ভালোবাসার মানুষকে প্রকাশ্যে চুম্বন করা হারাম।

নিত্য নবীরে স্মরি – ২২৫


৮ ফেব্রুয়ারী, ২০১৬

কোরান কুইজ – ৯১

নিশ্চয়ই মোমিন মুসলমানগণ কোরান সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান রাখেন। বেয়াড়া নাস্তিকগনও নিজেদেরকে কোরান-অজ্ঞ বলেন না কখনও। তাই মুসলিম-নাস্তিক নির্বিশেষে সকলেই অংশ নিতে পারেন কোরানের আয়াতভিত্তিক এই ধাঁধা প্রতিযোগিতায়। এই সিরিজের মাধ্যমেই তাঁরা নিজেদের কোরান-জ্ঞান যাচাই করে নিতে পারবেন। 

প্রশ্ন ১০১: সবকিছু সৃষ্টি করতে আল্যার কতো সময় লেগেছে?

১) ছ'দিন
২) এক মুহূর্ত

উত্তর বেছে নিয়েছেন? এবারে মিলিয়ে দেখুন।
.
.

ইছলামবিরোধী পোস্ট-মন্তব্য নিশ্চিহ্ন করিবার দোয়া

ইছলামী ইতরামি

গত তিন সপ্তাহের সংবাদ-সংকলন:

আইসিস-এর ইছলামী কীর্তি:
১. সিরিয়ায় ৩০০ জন হত্যা ও নারী-শিশুসহ ৪০০ জনকে অপহরণ, ২. একঘেয়েমি কাটাতে হত্যাবৈচিত্র্য - বুলডোজারের নিচে ৯ জন, ৩. জিহাদ ত্যাগ করার উদ্যোগ নেয়ার অভিযোগে ২০ জন সহযোদ্ধার শিরশ্ছেদ, ৪. ইছলামত্যাগের অভিযোগে এক কিশোরের শিরশ্ছেদ, ৫. সিরিয়ায় ৪৫ জন হত্যা, ৬. শিশুকে দিয়ে শিরশ্ছেদ করানো।

অন্যান্য ইছলামী হামলা:
৭. বোকো হারাম ক্যামরুনে - ৩২ জন হত্যা, ৮. বোকো হারাম নাইজেরিয়ায় - ৮৬ জন হত্যা (শিশুদের জীবন্ত পুড়িয়ে মারা), ৯. বোকো হারাম নাইজেরিয়ায় - ২৬ জন খ্রিষ্টান হত্যা, ১০. সিরিয়ায় - ৭১ জন শিয়া মুছলিম হত্যা, ১১. তালিবান ফাকিস্তানের বিশ্ববিদ্যালয়ে - ২০ জন হত্যা, ১২. তালিবান আফগানিস্তানে - ২০ জন হত্যা, ১৩. আল শাবাব কেনিয়ায় - ৩ জন হত্যা, ১৪. চৌদি আজবে জুম্মাবারে মসজিদে - ৩ জন হত্যা

অভিলাষী অভিবাসী:
১৫. জার্মানিতে অভিবাসন-প্রত্যাশী তিনজন মুছলিমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বার্লিনে হামলা চালানোর পরিকল্পনার অভিযোগে। একটা গানে শুনেছিলাম: "আইতে না আইতে ঘরে লাগাইলা আগুন।" ১৬. অস্ট্রিয়ায় অভিবাসন-প্রত্যাশী এক মুছলিম সুইমিং পুলে ধর্ষণ করেছে এক দশ বছর বয়সী বালককে। ১৭. সুইডেনে অভিবাসন-প্রত্যাশী ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে এক মহিলাকে। ১৮. কোলন শহরের অনুষ্ঠিত কার্নিভালের আগে অভিবাসন-প্রত্যাশী মুছলিমদের ভেতরে একটি লিফলেট বিলি করা হয় ধর্ষণ ও যত্রতত্র মূত্র ত্যাগ না করার অনুরোধ জানিয়ে। ১৯. জার্মানিতে অভিবাসন-প্রত্যাশী কিছু মুছলিম শিশুদের সুইমিং পুলে মলত্যাগ করেছে, জাকুজিতে হস্তমৈথুন করেছে, হানা দিয়েছে মেয়েদের পোশাক বদলানোর ঘরে২০. ইছলামী আব্দার: আগামীতে ইছলামী গণযৌনক্রীড়া তাহার্রুশ ঠেকাতে হলে জার্মানিতে অ্যালকোহল বিক্রয় নিষিদ্ধ করতে হবে২১. স্ত্রী বড্ড বেশি 'ইংলিশ' হয়ে যাচ্ছে বলে তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছে ব্রিটেনে অভিবাসন-প্রত্যাশী মুছলিম। ২২. কিশোরীকে যৌননিপীড়নের হাত থেকে বাঁচাতে গিয়ে অভিবাসন-প্রত্যাশী মুছলিমের হাতে নিহত হয়েছে ১৫ বছর বয়সের কিশোর। ২৩. "জার্মান মেয়েরা তো শুধু সেক্সের জন্যই", বলেছে জার্মানিতে অভিবাসন-প্রত্যাশী মুছলিম।

২৪. "খ্রিষ্টান মেয়েদের সৃষ্টি করা হয়েছে শুধু একটি কারণেই - মুছলিম পুরুষদের তৃপ্তি বিধান করতে", মুছলিম মুখনিঃসৃত বাণী।

২৫. ইছলামে অবাধ্য স্ত্রীকে পেটানো হালাল। তবে ৬ বছর বয়সী মেয়েকে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করে নবীর সুন্নত পালন করার খায়েশে বাধা দিলে তার নাকও কেটে নেয়া যেতেই পারে!

২৬. ইছলাম ধর্মে দীক্ষিত ছ'জন নবজিহাদি ফ্রান্সের সুইঙ্গার্স ক্লাবে (swinging-এর অর্থ জেনে নিন) হামলার পরিকল্পনা করেছিল।

২৭. প্রেম করে বাড়ি থেকে পালিয়ে বিয়ে করা তরুণীকে নিজ হাতে হত্যা করা পিতা অত্যন্ত জনপ্রিয় এখন ফাকিস্তানে।

২৮. পার্থিব গেলমানগমনচর্চা তথা বালক ধর্ষণের অভিযোগে ঢাকায় মাদ্রাসা শিক্ষক আটক। এদিকে সিলেটে বলাৎকারের প্রতিবাদ করলে (সাহস কতো!) এক মাদ্রাসার ছাত্রকে খুন করা হয়।

২৯. কোরবানি নামের বীভৎস পশুহত্যা-ঐতিহ্যের সমালোচনা করে খ্যাতনামা মিসরীয় লেখিকা জেলে।


৩১. ব্রিটেনের কোনও কোনও জেলে শতকরা ৪৪ জন মুছলিম, যদিও সে দেশে মুছলিমের সংখ্যা মাত্র ৫ শতাংশ।

৩২. 'শার্লি এব্দো' নামের পত্রিকাটি বিক্রি করা হয় বলে এক সুপারমার্কেট কর্তৃপক্ষকে হুমকি দিয়েছে শান্তিকামী মুছলিম।

৩৩. ব্রিটিশ আইসিস সমর্থক পরিকল্পনা করেছিল পুলিশ ও সৈনিক হত্যার

৩৪. প্যারিসের ডিজনিল্যান্ডে দু'টি আগ্নেয়াস্ত্র, ব্যাগভর্তি গোলাবারুদসহ এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার সঙ্গে সবচেয়ে ভয়ংকর মারণাস্ত্র কোরানও ছিলো।

৩৫. ইছলামে দাবা খেলা নিষিদ্ধ। হাদিসেই (সহি মুসলিম, ২৮:৫৬১২) তা স্পষ্ট করে বলা আছে। তবু চৌদি আজবে আলাদা করে নিষিদ্ধ করা হলো 'সময় অপচয়কারী' ও 'জুয়া খেলায় উৎসাহদায়ী' এই খেলা

৩৬. ক্যাঙ্গারুর থলেতে বিস্ফোরক পুরে ও তার শরীরে আইসিস-এর প্রতীক এঁকে হামলার পরিকল্পনা করেছিল অস্ট্রেলীয় জিহাদি কিশোর।

৩৭. আল্যা মুসলিম পুরুষদের অমুসলিম নারীদের ধর্ষণ করার অনুমতি দিয়েছে, বলেছে মিসরের কায়রোর বিখ্যাত আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামপন্থী নারী অধ্যাপক। তাদের লজ্জা দেয়ার জন্য মহান আল্যা এ অনুমোদন দিয়েছে।

৩৮. সুইসাইড বেল্ট বেঁধে এক আইসিস জিহাদির বেহেশত গমনের খায়েশ রহিত করে দিয়েছে কাফের পুলিশ।


৪০. ইহুদি-নাছারাদের চেয়ে মুছলিমরা বেশি মদ খায় নাকি? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানাচ্ছে, সবচেয়ে বেশি মদ্যপান করে ইছলামের আঁতুর ঘর, নবীজির মাতৃভূমি, পৃথিবীর সবেচেয়ে পবিত্র দেশ চৌদি আজবের বাসিন্দারা! ৯০ শতাংশ মুছলিমের দেশ বাংলাদেশও পিছিয়ে নেই মদ্যপানে! ইয়া মাবুদ! কেয়ামতের আর দেরি কি নাই?

৪১. গত ৩০ দিনে (বর্তমান পোস্টটি ড্রাফট করার মুহূর্তে) ইছলামী ইতরামির সংক্ষিপ্ত খতিয়ান: হামলা ১৪০, হত্যা ১৬৫৮ (দিনে গড়ে ৫৫ জন)।

আরব দেশে নারীর দশা - ১০

ওপরে লেখা: "আন্তর্জাতিক নারী দিবস"

দেয়াল-ক্যালেন্ডারে "৮ মার্চ", টিভি-পর্দায় "আন্তর্জাতিক নারী দিবস"

৭ ফেব্রুয়ারী, ২০১৬

ইছলাম ত্যাগের কারণসমূহ - ১৯

ব্রিটেনের কাউন্সিল অভ এক্স-মুসলিম নামের সংগঠনের উদ্যোগে #ExMuslimBecause নামে টুইটারে একটি প্রচারণা অত্যন্ত জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। প্রাক্তন মুছলিমরা উপস্থাপন করছে ইছলাম ত্যাগের বিবিধ কারণ। অতি দীর্ঘ ও ক্রমবর্ধমান এই কারণ-তালিকা থেকে কিছু সরস ও সিরিয়াস কারণ অনুবাদ করে প্রকাশ করা হচ্ছে ধারাবাহিকভাবে। এতে যুক্ত করা হচ্ছে/হবে ধর্মকারীর ঠিকানায় পাঠানো লেখা/ছবি/ভিডিওও।

পর্ব ১ > পর্ব ২ > পর্ব ৩ > পর্ব ৪ > পর্ব ৫ > পর্ব ৬ > পর্ব ৭ > পর্ব ৮ > পর্ব ৯ > পর্ব ১০ > পর্ব ১১ > পর্ব ১২ > পর্ব ১৩ > পর্ব ১৪ > পর্ব ১৫ > পর্ব ১৬ > পর্ব ১৭ > পর্ব ১৮

Afshin Mehrassa: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ আমি কোরান পড়েছি তিনবার, পড়েছি মোহাম্মদের হাদিসও। এবং এসবে চূড়ান্ত সহিংসতা, হত্যা এমনকি ধর্ষণের আদেশ ছাড়া আর কিছু পাইনি।

Yama: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ কার্টুন আঁকা বা মতপ্রকাশের চেয়ে হত্যা অনেক বেশি আপত্তিকর।

নাজিউল: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ কোরান বুঝতে তাফসির দরকার, অথচ কোরানে বলা আছে, কোরান নাকি সকলের জন্য সহজবোধ্য করে লেখা হয়েছে।

Imad Iddine Habib: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ ইছলামের হারামের তালিকায় ধর্ষণ, দাসপ্রথা, জেনোফোবিয়া, যুদ্ধাপরাধ অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

qudsia iqbal: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ আমাকে জোর করে নামাজ পড়ানো হতো, যদিও আমি চাইতাম না। আমাকে জোর করা হতো, পেটানো হতো। ফলে আমার ভেতরে জমেছে ঘৃণা, ক্রোধ। আমার ব্যক্তিত্ব ধ্বংস হয়ে গেছে চিরতরে।

Ali Asif: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ আমি বিশ্বাস করি না আল্যা বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের স্রষ্টা। সে মুহাম্মদের মগজপ্রসূত।

AgnosticAlias: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ যৌনতার প্রতি ইছলামের দমনমূলক আচরণ।

রাফাত সিরাজ নির্ঝর: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ আমি আরব না হওয়া সত্ত্বেও আমার নাম আরবি ভাষায়। এবং ছোটবেলায় আমার মগজধোলাই করা হয়েছে। ইছলাম - সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদের একটি রূপ।

Ahmed: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ মুহাম্মদ স্রেফ ইহুদিদের গল্প চুরি করে তাতে স্থানীয় সব ধর্ম ও ঐতিহ্য মিশিয়ে ছন্দে ছন্দে কোরান লিখেছে।

Somali Kafir: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ ডাইনোসরের কথা উল্লেখ করার চিন্তা আল্যার মাথায় কখনও আসেনি।